চট্টগ্রামে ইউসিবি ব্যাংকে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৬ ইউনিট

বরিশাল অফিস:: চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন নন্দনকান রাইফেল ক্লাব ভবনের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকে (ইউসিবি) আগুন লেগেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট। শনিবার (১৬ মার্চ) সন্ধ্যায় ৭টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তবে আগুন কীভাবে লেগেছে তা তাৎক্ষণিকভাবে কেউ বলতে পারেনি।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে খবর আসে নন্দনকান রাইফেল ক্লাব ভবনে আগুন লেগেছে। খবর পেয়ে দ্রুত ৪টি ইউনিট সেখানে পাঠানো হয়। তারা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে। পরে আরও দুটিসহ ইউনিট যোগ করা হয়। রাইফেল ক্লাব ভবনে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) রয়েছে। মূলত ওই ব্যাংকেই আগুন লেগেছে। নিয়ন্ত্রণে মোট ৬টি ইউনিট কাজ করছে।




লালমোহনে নিহত শ্রমিকের পরিবার পেল আর্থিক অনুদান

বরিশাল অফিস:;  ভোলার লালমোহন উপজেলায় নিহত এক শ্রমিকের পরিবারের মাঝে দুই লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়েছে। শনিবার সকালে খান এন্টার প্রাইজের আয়োজনে উপজেলার চরভূতা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খান নিকেতনে এ চেক হস্তান্তর করা হয়।

এছাড়া মাহে রমজান উপলক্ষে প্যারাগন গ্রুপের পক্ষ থেকে শতাধিক অসহায় পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী উপহার দেওয়া হয়েছে। উপহারের খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে ছিল- চাল, আটা, তেল, চিনি, পেঁয়াজ, রসুন, খেজুর, বুট ইত্যাদি।

খাদ্য সামগ্রী বিতরণ ও চেক হস্তান্তর উপলক্ষ্যে চরভূতা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খান নিকেতনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। খান এন্টার প্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী বাহালুল কবির খানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, প্যারাগন গ্রুপের পরিচালক মেহরান রহমান।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হান্নান মিয়া, লালমোহন প্রেস ক্লাব সভাপতি অধ্যক্ষ মো. রুহুল আমিন, চরভূতা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন ও চরভূতা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মারুফ বাহাদুর প্রমুখ।




ধাক্কা ছাড়া চলে না বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বিআরটিসির বাস

বরিশাল অফিস::  বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিআরটিসি বাসগুলো নাজেহাল অবস্থা।কখনো কখনো বাস নিজে থেকে চালু হয়না। বিআরটিসি বাস চালু করতে দিতে হয় ধাক্কা। কাগজে কলমে ফিটনেস থাকলেও বাস্তবে ভিন্নতর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) বাসগুলো।তবে কয়েকটি বাস ফিটনেস রয়েছে।বেহালদশা বিআরটিসি বাসগুলোর।সবচেয়ে খারাপ অবস্থা বরিশাল ক্লাবের এক নম্বর রুটের চার, পাঁচ ও ছয় নম্বর বাস।

গত ৫ মার্চ বরিশাল ক্লাব এক নম্বর রুটের পাঁচ নম্বর বাস ধাক্কা দিয়ে চালু করতে হয়।ধাক্কা দেওয়ার একটি ভিডিও রয়েছে এই প্রতিবেদকের কাছে।সেখানে দেখা যায়, কয়েকজন শিক্ষার্থীরা মিলে বাসটি চালু করতে দিচ্ছেন ধাক্কা। এমন দৃশ্য প্রায় দেখা যায় বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

গত বৃহস্পতিবার ১৪ মার্চে বরিশাল ক্লাব থেকে বেলা ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসার কথা বিআরটিসি ৫ নম্বর বাসটি।বিপত্তি বাধে ইঞ্জিন চালু নিয়ে।পরে শিক্ষার্থীরা বাসটি ধাক্কা দিয়ে চালু করে।

এরআগে অর্থাৎ ২০২২ সালে বিআরটিসির একতল ও দ্বিতল বাসের ফিটনেস নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়।পরে বাসের চেহারা পরিবর্তন হলেও ভীতরগত সমস্যার পরিবর্তন হয়নি। ফলে, বিপাকে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। কারণ অনেকের ক্লাস ও পরীক্ষার সময় নিয়ে থাকতে হয় সংশয়।বরিশালের নতুল্লাবাদের তিন নম্বর রুটে সাত, আট, নয়, দশ ও এগারো নম্বর দ্বিতল বাস চলে। এ রুটের বাসের কিছুটা সমস্যা থাকলেও তা কাটিয়ে উঠেছে।তবে বর্ষার সময়ে দ্বিতল বাসে বৃষ্টির পানি ফুটো দিয়ে ভীতরে প্রবেশ করতে দেখা যেত।নতুন করে পরিবহণ পুলে তিনটি বাস যুক্ত হলেও রয়েছে পরিবহণ সংকট। এদিকে চালকের স্বল্পতা ও পরিবহণ সংকটের কথাও জানায় শিক্ষার্থীরা।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের সহকারী প্রকৌশলী (ট্রান্সপোর্ট) মো. জাহিদ হাসান জানান, বিআরটিসি বাসগুলো ভাড়া নেওয়া।চালক ও মেরামত সবকিছু বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্পোরেশন দেখে। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজস্ব বাস আছে মোট ২২ টি।তারমধ্যে ৫২ সিটের বড় বাস ৬টি। আর বিআরটিসি দ্বিতল বাস ৭৫ আসনের ৭টি ও ৫২ আসনের তিনটি বাস রয়েছে।যেগুলো বিআরটিসিদের কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাস থাকার কথা ৩৫ টি, সেখানে রয়েছে ২২ টি। করোনাকালীন সময়ে ব্যয় সংকোচ নীতির কারণে বাসগুলো ক্রয় করা সম্ভব হয়নি।তবে পরবর্তীতে কয়েকটি বাস পরিবহণ পুলে যুক্ত হয়েছে। এছাড়া পরিবহনের ঘাটতি মেটাতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি) থেকে চুক্তি অনুযায়ী দ্বিতল বাস ও বড় বাস প্রয়োজনমতো নিয়ে থাকে কর্তৃপক্ষ।

পরিবহন পুলের তথ্য অনুযায়ী শিক্ষার্থী অনুপাতে বাস সংখ্যা পর্যাপ্ত হলেও শিক্ষার্থী ও চালকরা বলছেন ভিন্ন কথা। নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক একাধিক চালক জানান, দিনের শেষের দিকের ট্রিপগুলোতে গাড়ি ওভারলোড হয়ে যায়। ফলে গাড়ি চালাতেও বেশ ভোগ পোহাতে হয় আমাগো। ২৮ সিটের মিনিবাসে যখন ৫৬ থেকে ৫৮ জন উঠে তখন অনেক সতর্ক হয়ে ড্রাইভিং করতে হয়।নতুন বাজার রুটের তো আরো করুণ দশা।অনেকে বাসের মধ্যে জায়গা না পেয়ে উঠতেই পারেনা।ঝুলে ঝুলে যায় শিক্ষার্থীরা।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাসিবুল হাসান শোভন জানান, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। আমরা না হয় বাসটা একটু ঠেলেই দিলাম। ফিটনেসবিহীন এই বাস বন্ধের দিনে পার্টটাইম কাজ করে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে চলার সময় ঠেলা বা ধাক্কা দেওয়া লাগে! আবার ঠেলে কারা? যারা এই বাসে ওঠার জন্য মুদ্রা বিনিময় করে। যাইহোক, এই বিআরটিসি বাসগুলো মেরামত বা পরিবর্তন করা জরুরি। নাহলে ব্রিজের ঢালে যেকোন সময় ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, ২২টি বাসের বিপরীতে ১০ হাজার শিক্ষার্থী কোনভাবেই পর্যাপ্ত না। আবার শিক্ষক-কর্মকর্তারাও সেবা পাচ্ছে এই ২২ টি বাসের অন্তর্ভুক্ত বাস দিয়েই।যদিও কিছুটা সংকট কাটিয়ে উঠেছে।নতুন বাস যুক্ত হয়েছে। তবে বিআরটিসি বাসগুলোর দিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া উচিত। কারণ এটা এক-একটা লক্কর ঝক্কর বাস। শুধু আমতলা থেকে যেতে ২০ মিনিট লাগে। শিক্ষার্থীদের সময়ের তো কোন মূল্য নেই।দুর্ঘটনা ঘটার আগেই বাসগুলো মেরামত বা পরিবর্তন করা জরুরি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পরিবহনের কাজে নিয়োজিত বড় বাস ‘ধানসিঁড়ি’ দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। সেটি মেরামতে দৃশ্যমান কোন উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি।বিআরটিসি বাসের পরিবর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজস্ব বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি করার কথাও জানায় তারা।

ধানসিঁড়ি বাস ও মেরামতের ব্যাপারে পরিবহন পুলের একটি সূত্র বলছে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) থেকে আমাদের প্রতিবছর গাড়ি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এক লক্ষ টাকা বাজেট দেয়া হয়। আর ‘ধানসিঁড়ি’ বাসের অবস্থা একটু বেশি খারাপ। এটি মেরামত করতে যে অর্থের প্রয়োজন তা নতুন একটি বাস ক্রয় করা সম্ভব। গাড়িটির ইঞ্জিন ভালো আছে।তবে ইউজিসিকে দুইবার চিঠি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ধানসিঁড়ি বাসের অর্থের বরাদ্দ আসলে সেটি দ্রুত মেরামত করা সম্ভব। নবনিযুক্ত উপাচার্য মহোদয় রুটিন দায়িত্বের সময় ‘জয়ন্তী’ বাস পরিবহণ পুলে যুক্ত করেন। তারপরেও আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাস বৃদ্ধি করার স্বার্থে ইউজিসিকে একাধিকবার জানানো হয়েছে।

বিআরটিসি বাসের ব্যাপারে পরিবহন পুলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজার মো. মেহেদী হাসান বলেন, বিআরটিসি বাসগুলো ভাড়ায় নিয়ে চালায় আমরা। প্রতিমাসে তাদেরকে টাকা দিতে হয়। ধাক্কা দিয়ে বাস চালু করতে হয় এমন বিষয় সম্প্রতি আমার জানা নেই। কেউ জানাইনি আমাকে।তবে একমাস আগে আমাকে অবগত করেছিলো। আমি তখন বিআরটিসিদের সাথে যোগাযোগ করেছি যাতে এটি সমাধান করা যায়।আর এখন আপনার থেকে জানলাম।আমি বিষয়টি তাদেরকে অবহিত করে সমাধান করার জন্য বলবো।




বরিশালে চলন্ত বাস থেকে ফেলে দেওয়া সেই প্রবাসীর মৃত্যু

বরিশাল অফিস:: বরিশালের গৌরনদীতে চলন্ত বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া বাসযাত্রী সৌদিপ্রবাসী কালু সরদার (৪৬) মারা গেছেন।

ঢাকায় টানা ১৪ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার (১৫ মার্চ) সকালে মারা যান তিনি। নিহতের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত কালু বরিশালের গৌরনদী উপজেলার পিঙ্গলাকাঠী গ্রামের সেকেন্দার আলী সরদারের ছেলে।

নিহতের স্ত্রী নাজনীন বেগম জানান, তার স্বামী ৫/৬ মাস আগে সৌদি আরব থেকে দেশে এসেছিলেন। তিনিসহ চাচাতো ভাই সাইদুল ও কবির গত ১ মার্চ বরিশাল বাস টার্মিনাল থেকে গৌরনদীর উদ্দেশ্যে বেপারী পরিবহনের একটি বাসে উঠে। বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে কালুকে ফেলে দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে টানা ১৪ দিন চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় শুক্রবার ভোরে কালু মৃত্যুবরণ করেন।

ঘটনার সময় সঙ্গে থাকা কালুর শ্যালক মো. সাইদুল বলেন, তারা তিনজন বেপারী পরিবহনের বাসে গৌরনদীর উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ভাড়া নিয়ে বাসে তাদের সঙ্গে সুপারভাইজার, হেলপার ও চালকের তর্কাতর্কি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদীর কটকস্থল এলাকায় ভগ্নিপতি কালু সরদারকে হেলপার ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। পরে তাদের ভুরঘাটা কাউন্টারে নিয়ে নামিয়ে দেওয়া হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গৌরনদী হাইওয়ে থানার এসআই কামরুজ্জামান জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য জোর চেষ্টা চলছে।




পিরোজপুরে ১৭৬ কলা গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা

বরিশাল অফিস::  পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলায় এক চাষির বাগানের ১৭৬টি কলা গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। কেটে ফেলা ওই সব গাছে কলা ধরেছে। ভুক্তভোগী ওই কৃষকের নাম আব্দুস কুদ্দুস হাওলাদার। তিনি উপজেলার দড়িরচার বারৈখালী গ্রমের

ভুক্তভোগী আব্দুস কুদ্দুস জানান, তিনি তার বাড়ি থেকে দুই কিলোমিটার দূরে কৃষি জমিতে সাগর ও সবরিসহ উন্নত জাতের কলা চাষ করেন। চলতি মৌসুমে ওই সব কলা গাছে কলা ধরেছে। কিছু কলা বিক্রিও করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, শনিবার (১৬ মার্চ) সকালে পার্শ্ববর্তী চাষি ফোনে কলা গাছ কেটে ফেলার খবর জানান। তার ফোন পেয়ে কলা ক্ষেতে গিয়ে দেখেন, কলা গাছগুলো মাঝখান থেকে কেটে ফেলা হয়েছে। কলা চাষই তার সারা বছরের আয়ের একমাত্র উৎস।

ভুক্তভোগী চাষি ছেলে মুনান হাওলাদার জানান, সকালে ক্ষেতে গিয়ে বাবা কলা গাছ কাটা দেখে মর্মাহত হয়েছেন। কলা গাছের সঙ্গে এমন শত্রুতার বিচার চান তিনি।

এ ব্যাপারে ইন্দুরকানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, ভুক্তভোগী কৃষক অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।




পটুয়াখালীতে দেশীয় অস্ত্রসহ তিন ডাকাত গ্রেপ্তার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ডাকাতি প্রস্তুতিকালে তিন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৫ মার্চ) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার টিয়াখালী ইউপির নাচনাপাড়া গ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এ সময় একটি রামদা, একটি চাপাতি, একটি ড্যাগার, একটি লোহার শাপল, হ্যাসকো ব্লেড সহ ইঞ্জিন চালিত একটি কাঠের নৌকা উদ্ধার করা হয়।

আটকরা হলেন- মো. জামাল আকন (৪৫), মো. শানু হাওলাদার (৬০) ও মো. হানিফ হাওলাদার (৪৯)।

জানা যায়, তিনজনই পেশাদার ডাকাত দলের সদস্য। এদের মধ্যে জামাল আকনের বাড়ি কলাপাড়া উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের চুঙ্গাপাশা গ্রামে, শানু হাওলাদার ও হানিফ হাওলাদারের বাড়ি পটুয়াখালীর লাউকাঠি গ্রামে।

এ ঘটনায় কলাপাড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

কলাপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আলী আহম্মেদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (১৬ মার্চ) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।




৬ মাসেও পুনর্নির্মাণ হয়নি ইন্দুরকানীতে ভেঙে পড়া ব্রিজ, মানুষের দুর্ভোগ

বরিশাল অফিস:: পিরোজপরের ইন্দুরকানীর ঘোষেরহাট বাজার সংলগ্ন খালের ওপর গার্ডার ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় গত ছয় মাস ধরে ইন্দুরকানী-বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পরেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আমজাদ হোসেন বলেন, গত ছয় মাস ধরে ওই ব্রিজের পূর্ব পাশের অংশ ভেঙে পড়ে থাকলেও কোনো সংস্কার করার উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ব্রিজের মালামাল এখনও খালের মধ্যে পড়ে থাকায় খাল থেকে নৌকা, ট্রলারসহ কোনো ধরনের নৌযান চলাচল করতে পারছে না।

তিনি আরও বলেন, ঘোষেরহাট বাজারে জেলাসহ উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী বাগেরহাটের মােড়লগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার ক্রেতা-বিক্রেতা তাদের বিভিন্ন মালামাল ক্রয় ও বিক্রি করতে এখানে আসেন। ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় সড়ক ও নৌপথে চলাচল বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানায়, ২০০১ সালে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। সিডরে বিধ্বস্ত হওয়ার পরেও স্থানীয়ভাবে সংস্কার করে ওই ব্রিজ দিয়ে চলাচল করা হতো। সরকারিভাবে মেরামত না করার কারণে এটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। ভেঙে যাওয়ার পরে স্থানীয় লোকজন স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করেন। ব্রিজটি দিয়ে মোড়েলগঞ্জ উপজেলার চরহোগলাবুনিয়া, হোগলাবুনিয়া, বাড়ৈখালী, খেজুরতলাসহ বিভিন্ন রুটের চলাচলের একমাত্র পথ। এখানে দৈনিক হাজার হাজার ইজিবাইক, রিকশা, মোটরসাইকেল চলাচল করে। ব্রিজটি বাজারের পার্শ্বে হওয়ায় এটি ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জনসাধারণের চলাচলে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় শহিদুল আলম জানান, ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় ছোট ছেলে-মেয়েদের বিদ্যালয় যেতে অনেক সমস্যা হচ্ছে। ব্রিজটি না থাকার কারণে মালামাল নেওয়ার জন্য প্রায় ১০ কিলোমিটার ঘুরে এসে বাজার করতে হয় ।

বাজার কমিটির সভাপতি মাকিত শিকদাক জানায়, ব্রিজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় অতিশীঘ্রই এটি পুনর্নির্মাণ করা প্রয়োজন। ৯৫ ফুট দৈর্ঘ্যের ব্রিজটি স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে সংস্কার করা সম্ভব নয়।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. মাসুদ করীম ইমন তালুকদার বলেন, এ বিষয়ে বার বার উপজেলা পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে জানানো হলেও সংস্কার বা পুনঃনির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। ফলে স্থানীয়দের চলাচলে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী লায়লা মিথুন জানায়, গ্রামীণ অবকাঠামো রাস্তার মাথায় ব্রিজটি হওয়ায় কোনো প্রকল্পই পুনর্নির্মাণ বা সংস্কার করার জন্য বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হয়নি। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। জরুরি ভিত্তিতে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। ব্রিজটি স্থানীয়ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।




মেঘনা নদীর তীর থেকে আ.লীগ নেতার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

বরিশাল অফিস :: বরিশাল জেলার হিজলায় মেঘনা নদীর তীর থেকে জামাল মাঝি (৬০) নামে এক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৬ মার্চ) দুপুরে হিজলা উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়নের পালপাড়া এলাকার নদী তীরের একটি সয়াবিন ক্ষেত থেকে এ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন,বরিশাল হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুবাইর জানান, বেলা ১২টার দিকে পালপাড়া ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনা এখনো কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। এ ঘটনা তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিহত জামাল মাঝি পালপাড়া গ্রামের মৃত কাদের মাঝির ছেলে। সে উপজেলার ৬ নম্বর ধুলখোলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর পালপাড়া ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। এছাড়াও বরিশাল-৪(হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথের অনুসারী।

 




প্রেমের টানে নবম শ্রেণি পড়ুয়া ভাগ্নিকে নিয়ে পালিয়েছে আপন খালু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম সরদারের ছেলে খাজুরা গ্রামের বাসিন্দা ইউনুস সরদার (৩১) দুই কন্যা সন্তানসহ স্ত্রী রাবেয়াকে রেখে নতুন সংসার গড়তে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া আপন ভাগ্নিকে নিয়ে বাড়ি ছেড়েছে।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি এনজিও থেকে লোন নিয়ে ওই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে পালিয়ে যান খালু ইউনুস। পরবর্তীতে উভয় পরিবার জানতে পারে যে, তারা বিয়ে করেছেন। কিন্তু বাড়ি ছাড়ার ১ মাস পার হলেও কোথায় আছেন সেই হদিস মেলেনি এখনো।

ইউনুস সরদারের দুই সন্তানের একজনের বয়স ৩ মাস। অন্যজনের বয়স ৯ বছর, তবে শিশুটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন।

এদিকে দুই সন্তান ও স্ত্রীকে ফেলে যাওয়ায় তাঁদের কাটছে দুর্বিষহ জীবন। ইউনুস চলে যাওয়ায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছে তার স্ত্রী রাবেয়া আক্তার। দুই সন্তানের ক্ষুধার যন্ত্রণা, সামাজিক বঞ্চনা এবং ঋণে জর্জরিত পরিবারটি পাওনাদারদের চাপে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে তাঁরা। ভাগ্নিকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার কারণে একদিকে আর্থিক সংকটে একেবারে খারাপ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে, অন্যদিকে সামাজিক ভাবে একটি ঘৃণার কাজ করেছে যে কারণে মানুষ নানা কথা বলছে ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকার পাশাপাশি বসবাস করে আসছে ইউনুস ও ওই মেয়ের পরিবার। দীর্ঘদিন একইস্থানে থাকায় তাঁদের মধ্যে খালু – ভাগ্নি সম্পর্ক হলেও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টিকটকে তাঁদের নিয়মিত যোগাযোগ হতো। যা নিয়ে দুই পরিবারের মাঝে অনেক সময় কথা কাটাকাটিও হতো।

ইউনুস সরদারের স্ত্রী রাবেয়া আক্তার জানান, আমার এক মেয়ে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন, আর এক মেয়ের বয়স তিন মাস মাত্র। এনজিও থেকে ২ লক্ষ টাকা ঋণ নেয়া। এনজিওর লোকেরা প্রতিদিন আসে টাকার জন্য, আমার সন্তানদের খাবারের জন্য ঘরে পানি ছাড়া কিছুই নেই। আমার ছোট ভাই দিনমজুরি কাজ করে গত এক মাস যাবত ভাই আমার কাছে থাকে তার ইনকামের টাকায় আমরা খাই। মাঝে মাঝে না খেয়ে থাকে আশেপাশের লোকজন কিছু খাবার দেয়। আপনারা একটু তাকে খুঁজে বের করে আমার পরিবারটাকে বাঁচান। না হয় আমার আত্মহত্যা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না। আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ দেশের যে প্রান্তে হোক ওদেরকে দেখলে ধরিয়ে দেবেন।

পালিয়ে যাওয়া ওই শিক্ষার্থীর মা জানান, আমার মেয়ে দাদাবাড়ি যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছে। পরে ওর দাদা বাড়িতে না পৌঁছালে আমরা খোঁজাখুজি করে জানতে পারি আমার বোনের স্বামীর সাথে পালিয়েছে। এরপরে আমরা থানায় জানিয়েছি। থানা থেকে পুলিশ এসে উভয় পরিবারের সঙ্গে কথা বলে গেছে।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন তালুকদার জানান, বিষয়টি আমি অবগত নই, জানার চেষ্টা করছি। তবে লিখিত অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




পটুয়াখালীতে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৪ তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন উপলক্ষে পটুয়াখালীতে চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও বঙ্গবন্ধু বিষয়ক সংগীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৬ মার্চ) বেলা ১১ টায় জেলা প্রশাসন ও শিশু একাডেমীর আয়োজনে শিশু একাডেমী মিলনায়তনে চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও বঙ্গবন্ধু বিষয়ক সংগীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

ক খ গ তিনটি বিভাগে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা এসব প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন।

রোববার বেলা সাড়ে ১১ টায় ডিসি স্কয়ারে দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান করা হবে।