নিরাপত্তাহীনতায় শতবর্ষী বরিশাল সদর হাসপাতাল, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে চিকিৎসা সেবা

দক্ষিণাঞ্চলের প্রথম সরকারি ও বেসরকারি সদর হাসপাতাল হিসেবে খ্যাত শতাধিক বছরের পুরোনো বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল আজ নানা সংকটে ধুঁকছে। নেই সীমানা প্রাচীর, প্রধান ফটক অচল প্রায় ৩–৪ বছর ধরে, নেই প্রহরী কিংবা নৈশপ্রহরী। ফলে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন চিকিৎসক, স্টাফ এমনকি রোগীরাও।

হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগ বর্তমানে চলছে ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো ভবনে। এর মধ্যে একটি ভবনে বহির্বিভাগ, অপরটিতে জরুরি বিভাগ পরিচালিত হচ্ছে। বহু বছরের অতিঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনগুলো যেকোনো সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে।

এদিকে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট নতুন ইনডোর ভবনের নির্মাণকাজ চলছে, তবে কাজ কবে শেষ হবে তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং জেলা সিভিল সার্জন আশা করছেন, নতুন ভবন চালু হলে সেবার মান কিছুটা উন্নত হবে। তবে দীর্ঘ শত বছরে এই প্রতিষ্ঠানে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি, অথচ বরিশাল নগরী ও আশপাশের বিশাল জনগোষ্ঠীর বড় অংশ সরকারি এই হাসপাতালে চিকিৎসার ওপর নির্ভরশীল।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, “এখানে নৈশপ্রহরী নেই, এমনকি কোনো পদও নেই। নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছি। কয়েকদিন আগে চোর চক্র একটি ভবন থেকে তার কাটতে গিয়ে ধরা পড়ে। ডাক্তার-স্টাফ থেকে শুরু করে রোগী ও স্বজনদেরও মোবাইল-টাকা চুরির ঘটনা ঘটে, কিন্তু নিরাপত্তাহীনতার কারণে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না।” তিনি আরও বলেন, চারপাশের ছোট দেয়াল উঁচু করা এবং প্রধান গেটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জরুরি।

হাসপাতালের একাধিক স্টাফও অভিযোগ করেছেন, পুরোনো ভবনে পানি পড়া, স্টাফ কোয়ার্টারে অব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন সমস্যায় সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সাবেক স্টাফ জহিরুল ইসলাম জানান, ভবনগুলো মেরামত হলেও অনেক জায়গায় সমস্যা রয়ে গেছে।

বরিশাল বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ বলেন, “চিকিৎসক ও কর্মী সংকট সর্বত্রই রয়েছে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মাণ শেষ হলে পরিস্থিতি উন্নত হবে।”

বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. এস. এম. মনজুর-এ-এলাহী বলেন, “সদর হাসপাতালের ভবন ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যার বিষয়টি জানা আছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিলে সমস্যার সমাধান সম্ভব।”

এ অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণাঞ্চলের জনগণের সেবায় নিয়োজিত এ হাসপাতালের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার জরুরি পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভাঙ্গায় টানা তৃতীয় দিনের মতো মহাসড়ক অবরোধ, অচল যোগাযোগ ব্যবস্থা

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাসের প্রতিবাদে টানা তৃতীয় দিনের মতো মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করছেন এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে এ অবরোধ শুরু হয়। এতে রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ কার্যত অচল হয়ে পড়ে।

হাইওয়ে পুলিশ জানায়, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে হামিরদী ইউনিয়নের মনসুরাবাদ এলাকায় ৬০–৭০ জন এবং আলগী ইউনিয়নের সুয়াদি এলাকায় প্রায় ১২০ জন স্থানীয় বাসিন্দা মহাসড়কে বসে বিক্ষোভ শুরু করেন। অন্যদিকে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হামিরদী ইউনিয়নের পুখুরিয়া, হামিরদী ও নওয়াপাড়া এলাকায় শতাধিক মানুষ গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করেন। ফলে শত শত যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক ও মাইক্রোবাস আটকা পড়ে যায়। একই সময়ে ভাঙ্গা গোলচত্বরে বিক্ষোভকারীরা অবস্থান নিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

আন্দোলনকারীরা বলেন, আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-৪ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফরিদপুর-২ আসনে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তারা স্লোগান দেন, “ভাঙ্গা থাকবে ভাঙ্গাতেই”। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রোকিবুজ্জামান বলেন, “ভোর থেকেই কয়েকশ মানুষ মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছে। তারা পরিষ্কার জানিয়েছে, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাস্তা ছাড়বে না। এত বড় জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ করা পুলিশের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

অবরোধের কারণে ঢাকামুখী ও খুলনা-বরিশালগামী যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যসহ জরুরি সেবাও ব্যাহত হচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বাকসু নির্বাচনের দাবিতে বিএম কলেজে শিক্ষার্থীদের মতবিনিময় সভা

বরিশাল সরকারি বিএম কলেজে ছাত্র সংসদ (বাকসু) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ও পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ প্রণয়নের দাবিতে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কলেজ ক্যাফেটেরিয়ায় আয়োজিত এ সভায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারাও অংশ নেন।

শিক্ষার্থীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি ও সমস্যা সমাধানের কোনো সুনির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্ম নেই। ছোট বা বড় যেকোনো সমস্যার সমাধানে আন্দোলনই এখন একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে ২২টি বিষয়ে অধ্যয়নরত প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর একাডেমিক ক্ষতির পাশাপাশি পড়তে হচ্ছে নানা ভোগান্তিতে।

তারা আরও উল্লেখ করেন, সম্প্রতি ডাকসু নির্বাচন হওয়ায় নতুন করে আশাবাদী হয়েছেন বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাঁদের মতে, ছাত্র সংসদ নির্বাচন এখন সময়ের দাবি, যা কলেজ প্রশাসনের কাছে শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো তুলে ধরতে এবং দ্রুত সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।

কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং খুব শিগগিরই বাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পরিবহন সংকটে বিপাকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) তীব্র পরিবহন ও জনবল সংকটে ধুঁকছে। প্রায় ১০ হাজার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীর যাতায়াতের জন্য বর্তমানে মাত্র ২৪টি বাস থাকলেও চালক রয়েছেন মাত্র ১১ জন এবং হেল্পার ৮ জন। সীমিত পরিবহন ব্যবস্থা, জরাজীর্ণ যানবাহন ও লোকবল ঘাটতিতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুল সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পাস থেকে স্থায়ীভাবে ৩টি রুট এবং নতুন করে যুক্ত হওয়া আরও ৩টি রুটে প্রতিদিন ২৪টি বাস চলাচল করে। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাস ১৩টি, ভাড়ায় নেওয়া বিআরটিসির ডাবল ডেকার ৮টি ও একতলা বাস ৩টি। তবে ধানসিঁড়ি বাস দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, চলন্ত বাস নষ্ট হয়ে যাওয়া, ঠেলে চালু করতে হওয়া কিংবা ছাদের ফাঁটল দিয়ে পানি পড়ার মতো সমস্যায় প্রায়ই পড়তে হচ্ছে। আবাসিক সুবিধাবঞ্চিত ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন শহর থেকে যাতায়াত করতে হয়, ফলে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

পরিবহন পুল সূত্র আরও জানায়, ইউজিসির পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১১ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ৩৫টি গাড়ি কেনার কথা থাকলেও বর্তমানে রয়েছে মাত্র ২৫টি যানবাহন। এর মধ্যে ১৩টি বাস, ৫টি মাইক্রোবাস, ২টি জিপ, ১টি কার, ১টি অ্যাম্বুলেন্স ও ৩টি মোটরসাইকেল। ২০২০ সালের পর আর কোনো নতুন বাস পাওয়া যায়নি। যদিও নতুন পরিবহন ক্রয়ের জন্য ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে, তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার কারণে নতুন বাস কেনা সম্ভব হয়নি।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী অমিয় মণ্ডল বলেন, “পর্যাপ্ত ও নিরাপদ পরিবহন প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মৌলিক অধিকার। অথচ সীমিত বাসের কারণে প্রতিদিন কষ্ট করতে হচ্ছে। আমরা চাই রেগুলার রুটে যেন কেউ দাঁড়িয়ে যাতায়াত না করে এবং নতুন রুটে নড়বড়ে বাস ব্যবহার না হয়। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।”

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ইমন হাওলাদার বলেন, “বাসের সংখ্যা কম থাকায় অনেক সময় অটো বা পিকআপে যাতায়াত করতে হয়। যদি পটুয়াখালীসহ নিকটবর্তী জেলা শহরে বাস চালু করা হয়, তাহলে অনেক শিক্ষার্থী আরও সহজে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে।”

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চালক বলেন, “ওভারলোডের কারণে অনেক সময় ২৮ সিটের মিনিবাসে ৫৬–৫৮ জন যাত্রী বহন করতে হয়। এতে ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়।” তাদের মতে, বর্তমান পরিবহন সচল রাখতে কমপক্ষে ৩০ জন চালক প্রয়োজন।

পরিবহন পুলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহিদ হাসান জানান, “বিআরটিসি বাসগুলো ভাড়া করা, সেগুলোর চালক ও মেরামতের দায়িত্ব বিআরটিসির। তবে সংকট মোকাবিলায় সমন্বয় করে কাজ চলছে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল বলেন, “শিক্ষার্থীদের দাবির অনেকটাই পূরণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে একটি নতুন বিআরটিসি বাস যুক্ত হয়েছে, আরও দুটি শিগগিরই যুক্ত হবে। পাশাপাশি তিনটি দূরপাল্লার রুট চালু করা হয়েছে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




মুলাদী কলেজে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষে আহত ২৫

বরিশালের মুলাদী সরকারি কলেজে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

শিবিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি চলছিল। এ উপলক্ষে জেলা ও উপজেলা শিবির নেতারা মুলাদী কলেজে গেলে ছাত্রদল তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে প্রায় ১৫–২০ জন আহত হন। গুরুতর আহত ৬ জনকে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে সংগঠনটি।

অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে মুলাদী উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন ঢালী বলেন, “ডাকসু নির্বাচনের পর থেকে কলেজে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে শিবির। তারা বিএনপি নেতা তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করলে আমাদের কলেজ শাখার সভাপতি প্রতিবাদ জানায়। এরপর তাকে কলেজ থেকে বের করে দেওয়ার সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। তখনই শিবির আমাদের ওপর হামলা চালায়।” তিনি দাবি করেন, সংঘর্ষে ছাত্রদলেরও ৭–৮ জন কর্মী আহত হয়েছেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

এদিকে মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম জানান, “প্রাথমিকভাবে দুই ছাত্রের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি থেকে ঘটনাটি শুরু হয়। পরে শিক্ষকরা মীমাংসা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।”

ঘটনার পর কলেজ এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




প্রেমের টানে কারাগারে যুবক, জামিনে মুক্তির জন্য ভিক্ষা করছেন মা

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় প্রেমঘটিত ঘটনায় দায়ের হওয়া অপহরণ মামলায় যুবক মাজাহারুল ইসলাম (২১) কারাগারে রয়েছেন। এদিকে ছেলেকে মুক্ত করতে আদালত চত্বরসহ বিভিন্ন জায়গায় ভিক্ষা করছেন তাঁর অসহায় মা মাহিনুর বেগম। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বাবুগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ভুতেরদিয়া গ্রামের আকনবাড়ি ও পাশের হাওলাদারবাড়ির মামাতো-ফুফাতো ভাইবোন মাজাহারুল ইসলাম ও কিশোরীর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কয়েক মাস আগে প্রেমের টানে তারা পালিয়ে যায়। এরপর কিশোরীর মা আছিয়া বেগম বাদী হয়ে বাবুগঞ্জ থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ তদন্ত করে বরিশাল নগরীর পলাশপুর এলাকা থেকে প্রেমিক যুগলকে উদ্ধার করে। পরে আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক কিশোরীকে তার মায়ের জিম্মায় এবং মাজাহারুলকে অপহরণের অভিযোগে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মফিজুর রহমান জানান, “মামলাটির তদন্তে উঠে এসেছে—তারা প্রেমের টানে পালিয়ে গিয়েছিল। তবে আইনগতভাবে কিশোরীর বয়স অপ্রাপ্ত হওয়ায় অপহরণ মামলা দায়ের হয়েছে।”

অন্যদিকে মাজাহারুলের মা মাহিনুর বেগম জানান, স্বামী অনেক আগে সংসার ছেড়ে চলে গেছেন। পরিবারের দায়িত্ব একাই সামলাচ্ছেন। অসুস্থতার কারণে কাজ করতে পারেন না। তাঁর ছেলে ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য। বর্তমানে ছেলেকে মুক্ত করতে ভিক্ষা করে অর্থ সংগ্রহ করছেন তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “উকিলের কাছে ভিক্ষার টাকাই দিচ্ছি, কিন্তু ছেলেকে জামিনে বের করতে পারছি না। অনেকেই পরামর্শ দিচ্ছে শেষ সম্বল পাঁচ শতক জমি বিক্রি করে দিতে। কিন্তু তাতে আমার মাথা গোঁজার ঠাঁই থাকবে না।”

ভিকটিম কিশোরী আদালতে জানিয়েছে, তাকে জোর করে নির্যাতন করা হয়নি, বরং দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এমনকি যে বাড়িতে তারা অবস্থান করেছিল, সেখানকার মালিক ময়না বেগমও বলেন, “মেয়েটিকে কখনো জোরপূর্বক আটক মনে হয়নি। চাইলে সে বেরিয়ে যেতে পারত।”

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, দরিদ্র মা মাহিনুর বেগমের আর্তনাদ মানবিক দিক থেকে বিবেচনা করা প্রয়োজন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




গৌরনদীতে ২০ পরিবারের চলাচলের পথে পাকা দেয়াল, এলাকায় উত্তেজনা

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার তিকাসার গ্রামে প্রায় ২০টি পরিবারের চলাচলের একমাত্র রাস্তার ওপর পাকা দেয়াল নির্মাণ নিয়ে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে এ ঘটনা ঘটার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা জানান, পাইকবাড়ি সংলগ্ন ওই রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার একমাত্র চলাচলের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। স্থানীয় পরিবারগুলো নিজেদের অর্থায়নে একাধিকবার রাস্তাটি সংস্কার করেছে। এমনকি সম্প্রতি গৌরনদী পৌরসভা থেকেও রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলে প্রবাসী কামাল সরদারের পরিবারের সদস্যরা তাতে বাধা দেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান, মাওলানা নুরুজ্জামান ও দেলোয়ার হোসেনসহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে থানার ওসি উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে রাস্তাটি ব্যবহারের অনুমতি দেন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত অমান্য করে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কামাল সরদার শ্রমিক দিয়ে রাস্তায় দেয়াল তোলার কাজ শুরু করেন।

প্রতিবাদ করায় স্থানীয়দের ওপর ভাড়াটে লোক দিয়ে হামলা চালানো এবং মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এতে এলাকার পরিবারগুলো কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি ঘিরে গ্রামে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, যে কোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।

অভিযুক্ত প্রবাসী কামাল সরদার দাবি করেছেন, তিনি নিজের ক্রয়কৃত জমির ওপর দেয়াল নির্মাণ করছেন এবং হুমকির অভিযোগ সঠিক নয়।

গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “ওই এলাকার লোকজনের অভিযোগের ভিত্তিতে কিছুদিন আগে প্রবাসী পরিবারকে রাস্তা বন্ধ না করার কথা জানানো হয়েছিল। তবে সর্বশেষ কী ঘটেছে, সে বিষয়ে আমার কাছে তথ্য নেই।”

এদিকে স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে ২০টি পরিবারের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা যায়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নেপালের দায়িত্ব নিতে আলোচনায় যারা

চন্দ্রদ্বীপডেক্স:নেপালের সংবিধানবিশেষজ্ঞ ভিমার্জুন আচার্য বলেন, আমাদের সামনে এমন একটি পরিস্থিতি এসেছে, যার জন্য আমরা প্রস্তুত ছিলাম না। কেবল সর্বদলীয় আলোচনার মাধ্যমে এর একটি সমাধান বের করা সম্ভব। কিন্তু এর জন্য আগে বিক্ষোভের অবসান হতে হবে এবং স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। মানুষের জীবন ও অধিকারের সুরক্ষা জরুরি।

অনেকের মতো ভিমার্জুন আচার্যও মনে করেন, ১০ বছর আগে রচিত নেপালের বর্তমান সংবিধান কার্যত এখন অকার্যকর। অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাই এখন পরবর্তী পদক্ষেপ হওয়া উচিত।

সে ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কে অলির জায়গা নিতে চলেছেন? সবচেয়ে কঠিন প্রশ্ন এখন এটা। কারণ, নেপালের রাস্তায় বিক্ষোভের যে ঝড় বয়ে গেছে, সে ঝড়ে সব দলের নেতারাই রোষের লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন।

নেপালের সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি সরকারের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তরুণদের এ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।

এবং জেন-জির বিভিন্ন দলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন।অন্তর্বর্তী সরকারের সম্ভাব্য প্রধান হিসেবে কার্কি অথবা তার পূর্বসূরি কল্যাণ শ্রেষ্ঠার নাম শোনা যাচ্ছে। তাদের দুজনের বয়সই ৭০ পেরিয়ে গেছে এবং আলোচনায় বালেন্দ্র শাহ রয়েছেন।

যদিও অনেকে ইতিমধ্যে বলতে শুরু করেছেন, এই দুজনের যে কাউকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান করা হলে ৩০ বছরের কম বয়সিদের এ আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়ে যাবে।

অলির কট্টর সমালোচক বালেন শাহ জনসমক্ষেই তাকে বারবার দুর্নীতিবাজ বলেছেন। তিনিও জেন-জিদের এ বিক্ষোভে সমর্থন দিয়েছেন।

আরও একটি নাম জোরেসোরে উচ্চারিত হচ্ছে। তিনি হলেন কাঠমুন্ডুর  মেয়র বালেন শাহ। তার বয়স ৩৫ বছর। তিনি স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে লেখাপড়া করেছেন এবং একজন রেপার।

অলি সরকারের পতনের পর জেন-জিরা বালেন শাহকে দেশের নেতৃত্বে আসার অনুরোধ করেছিল বলে শোনা যাচ্ছে। কিন্তু তিনি তরুণদের ওই আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং তরুণদেরই সরকার পরিচালনায় আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে নেপালের সেনাবাহিনী জনগণ ও জেন-জি বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার, শান্তি বজায় রাখার এবং ব্যক্তিগত ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছে।

সেনাবাহিনী থেকে আরও বলা হয়েছে, নাগরিকদের জীবন ও মর্যাদা রক্ষা করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে তারা শান্তি ও পারস্পরিক ঐক্যের মাধ্যমে দেশে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করার ইঙ্গিতও দিয়েছে।




ইউক্রেনে শান্তিরক্ষায় অংশ নিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি নিরসনে জাতিসংঘের উদ্যোগে ইউক্রেনে বাফার জোন গঠিত হলে বাংলাদেশ সেখানে শান্তিরক্ষায় অংশ নিতে প্রস্তুত থাকবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তৌহিদ হোসেন বলেন, “এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে জাতিসংঘ। আমরা আশা করি রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে শিগগির যুদ্ধবিরতি হবে। যদি জাতিসংঘ কোনো রোল নেয় এবং শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানো প্রয়োজন হয়, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আমরা অবশ্যই অংশগ্রহণে আগ্রহী থাকব।”

উল্লেখ্য, সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে ইউক্রেনে একটি বাফার জোন তৈরির পরিকল্পনা চলছে। ন্যাটোতে অন্তর্ভুক্ত নয় এমন দেশের সেনাদের সেখানে মোতায়েন করার প্রস্তাব রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনবিসি জানিয়েছে, সৌদি আরব ও বাংলাদেশের সেনাদের শান্তিরক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ডাকসু নির্বাচনের প্রভাব জাতীয় নির্বাচনে পড়বে: মাসুদ সাঈদী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ইসলামী ছাত্র শিবিরের নিরঙ্কুশ বিজয় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও প্রভাব ফেলবে বলে মন্তব্য করেছেন পিরোজপুর-১ আসনে জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাসুদ সাঈদী

বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পিরোজপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, “মানুষকে ভয় দেখিয়ে নয়, বরং ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমেই শিবির বিজয়ী হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা চাকসু, রাকসু, জাকসু এবং জাতীয় নির্বাচনেও প্রতিফলিত হবে।”

মাসুদ সাঈদী আরও বলেন, “আমি ইন্দুরকানী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলাম এমন সময়ে, যখন আমার বাবা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার বিচার চলছিল। যদি তিনি অন্যায় করে থাকতেন, তবে জনগণ আমাকে ভোট দিত না। কিন্তু জনগণ বিপুল ভোটে আমাকে জয়ী করেছে। ইনশাআল্লাহ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ আবারও আমাকে বিজয়ী করবে।”

পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, “এই প্রক্রিয়ায় গঠিত সরকার কোনোভাবেই ফ্যাসিস্ট হতে পারবে না। আমরা ১৯৭১-এর চেতনায় বিশ্বাসী, যা শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রতীক। সেই ধারাবাহিকতায় ২৪ জুলাইয়ের আন্দোলনও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা লুটপাট, দখলদারিত্ব বা টেন্ডারবাজির রাজনীতি করি না। ভবিষ্যতে সরকার গঠন করলে এ ধরনের অপকর্ম কাউকেই করতে দেওয়া হবে না।”

সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে সুরার সদস্য ও জেলা আমীর অধ্যক্ষ তাফাজ্জল হোসাইন ফরিদ। এসময় জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মো. জহিরুল হক, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুর রাজ্জাকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫