উজিরপুরে ঘের নিয়ে আ’লীগের ২ গ্রুপের দ্বন্দ্ব, লুটের অভিযোগ

বরিশাল অফিস::  বরিশালের উজিরপুর উপজেলা সাতলা ইউনিয়নের পশ্চিম সাতলা গ্রামে ঘের নিয়ে দ্বন্দ্বে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির গ্রুপের দ্বন্দ্বের জেরে গভীর রাতের তাণ্ডব চালিয়েছে। এ সময় ছয়টি পানি শেচ পাম্পে অগ্নি সংযোগসহ কোটি টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা আসাদ হাওলাদারের নেতৃত্বে ৪০-৫০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল ১৭ আগস্ট রাত আনুমানিক ৩টার দিকে রুবেল বালির খামার প্রজেক্টে তাণ্ডব চালিয়ে ছয়টি শেচ পাম্পে ও একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারসহ প্রায় এক কোটি টাকার মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়।

এ সময় সন্ত্রাসীরা ২ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ইদ্রিস হাওলাদারের মুরগির খামারের তাণ্ডব চালিয়ে মুরগি ও মাছের খাবারসহ প্রায় এক কোটি টাকার মালামাল লুটপাত করে ট্রলারযোগে স্থলপথে পালিয়ে যায়। সন্ত্রাসীরা মাইক্রবাসযোগে পালানোর সময় স্থানীয়রা ধাওয়া করে মাইক্রোবাসটি আটক করে। পরে উজিরপুর থানা পুলিশ মাইক্রোবাসটি জব্দ করে।

২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ইদ্রিস হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, ‘পশ্চিম সাতলা মৌজা হইতে পাকা রাস্তা পর্যন্ত স্থানীয় জনগণ ও খামার মালিকদের মুরগি ও মাছের খাদ্য আনার জন্য ব্যক্তি উদ্যোগে রাস্তা তৈরির কাজ শুরু হয় গত এক মাস ধরে। এতে এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সন্ত্রাসী আসাদ, ইলিয়াস কিবরিয়া, রাসেল, জুয়েল, সোহেল, মশিউর খলি, রায়হান ও শামীমসহ ৪০-৫০ জনের একদল সন্ত্রাসী ট্রলারযোগে আমার প্রজেক্টে ঢুকে আমার খামারের গুদাম লুট করে মাছ ও মুরগির খাবার নিয়ে যায়। শেচ পাম্পের পাইপ কুপিয়ে খণ্ড-বিখণ্ড করে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে।

এ বিষয়ে সাতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ খাইরুল বাসার লিটন মিয়া বলেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: শাহিন হাওলাদার চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে শুধুমাত্র ঘেরটি দখলে রাখার উদ্দেশে জনস্বার্থে ব্যক্তি উদ্যোগে নির্মিত রাস্তাটি না হওয়ার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন। একইসাথে তার ইন্ধনে সন্ত্রাসী আসাদ বাহিনী দিয়ে রাতে এই তাণ্ডব ঘটিয়েছে।

ওই উপজেলা ওয়ার্কার্স পার্টি সভাপতি মো: ফয়জুল হক বালী ফারাহীন বলেন, সাতলা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিন হাওলাদার অবৈধভাবে ঘেরটি দখল করার উদ্দেশে জনস্বার্থে নিজ জমিতে নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত রাস্তাটি বন্ধ করার অপচেষ্টা করছেন। যাতে রাস্তাটি হতে না পারে সে কারণে রাতে তাণ্ডব চালিয়ে শেচ পাম্প ও পাইপে অগ্নিসংযোগ করেন।

গভীর রাতের তাণ্ডবের বিষয় অভিযুক্ত মো: আসাদ হালদারকে বারবার ফোন দিলেও তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি।

ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: শাহীনের হাওলাদার বলেন, অগ্নি সংযোগ ও তাণ্ডবের বিষয়ে আমি জড়িত না। মূল বিষয় হলো ঘেরটি জোর দখল করে বিগত বছরগুলোতে কৃষকদের ঠকিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। পরে কৃষকদের নিয়ে ঘেরটি আমরা গত বছর মাছ চাষ শুরু করলে কৃষকরা লাভবান হয়। এতে সভাপতি মহোদয়ের গ্রুপ ঈর্ষান্বিত হয়ে ঘেরের মাঝ থেকে পরিকল্পিতভাবে রাস্তার নাম করে ঘের দখলের চেষ্টা চালাচ্ছ।

উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জাফর আহমেদ জানান, ঘটনার স্থল পরিদর্শন করে আলামত হিসেবে একটি মাইক্রোবাস জব্দ করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।




পিরোজপুরে খসে পড়ছে পলেস্তারা-টিনের চালায় ছিদ্র, ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান

বরিশাল অফিস:: ৩৮ বছর আগে তৈরি করা হয় পাঁচ কক্ষের একটি টিনশেড ভবনের বিদ্যালয়। এরপর থেকে বিদ্যালয়টিতে কোনো মেরামতের কাজ হয়নি। বিদ্যালয়ের টিনশেড ভবনের দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে, বিভিন্নস্থানে ধরেছে ফাটল। টিনে জং ধরে চালায় অসংখ্য ছিদ্র হয়েছে। এসব শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পড়তে হয় বিপাকে।

পিরোজপুর সদর উপজেলার ৫ নম্বর জুজখোলা বড়বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এমনি চিত্র চোখে পড়ে। জরাজীর্ণ হওয়ায় কমেছে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যাও।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৮৫ সালে পিরোজপুর সদর উপজেলার জুজখোলা গ্রামে একটি টিনশেড ভবন নির্মাণ করে ৫ নম্বর জুজখোলা বড়বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। টিনশেড ভবন হওয়ায় প্রতিবছর টিনের চালার মেরামত করার প্রয়োজন হলেও প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়টিতে তেমন বড় কোনো মেরামত করা হয়নি। ২০২০-২১ সালে ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়। সেই টাকা দিয়ে বিদ্যালয়ের সামনে দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি কাচা মাটির কাঠের ঘর নির্মাণ করা হয়। পুরানো জরাজীর্ণ ভবনের চারটি কক্ষ ও কাঠের ঘরে দুটি কক্ষে পাঠদান করা হয় তবে আতঙ্কে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাসিনা খানম বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের ভবনটি ১৯৮৫ সালে নির্মাণ করা হয়। ২০১৯ সালে এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি তার আগে থেকেই বিদ্যালয়ের ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে আছে। ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের এ ভবনে পাঠদান করতে হচ্ছে। আমাদের বিদ্যালয়ের ছয়টি শ্রেণিকক্ষ প্রয়োজন, রয়েছে চারটি। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে টিন ও কাঠ দিয়ে দুটি কক্ষ তৈরি করে সেখানে পাঠদান করতে হচ্ছে। বৃষ্টি হলে পাকা ভবনের টিনের ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে। কাঁচাঘরে বর্ষাকালে স্যাঁতসেতে হয়ে যায়। ২০১৯ সালে বিদ্যালয়ে ১৭৫ জন শিক্ষার্থী ছিল এখন তা কমে ১৩৫ এর নিচে নেমে গেছে।

পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আবির হাসান বলে, বিদ্যালয়ের ভবনটি পুরানো হয়ে গেছে। জানালা ভেঙে পড়ছে। টিনের চালে জং ধরে ছিদ্র হয়ে গেছে। বৃষ্টিতে পানি পড়ে ক্লাস করা যায় না।

বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. নাজমুল হাসান হাওলাদার বলেন, ভবনটি জরাজীর্ণ হওয়ায় পাঠদান করতে বিভিন্ন সমস্যা হচ্ছে। তাছাড়া জরাজীর্ণ ভবন হওয়ায় প্রতিবছরই শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে।

এ বিষয়ে পিরোজপুর সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, জুজখোলা বড়বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি পাঠদানের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। ওই বিদ্যালয়টির নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

পিরোজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কুমারেশ চন্দ্র গাছি বলেন, জুজখোলা বড়বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি সহ জেলার ১৮৪টি ঝুঁকিপূর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের তালিকা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বরাদ্দ পেলে বিদ্যালয়গুলোর জন্য নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে।




পবিপ্রবিতে বঙ্গবন্ধু’র জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস-২০২৪’র দিনব্যাপী কর্মসূচি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ১০৪ তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস-২০২৪ পালিত হচ্ছে।

রবিবার(১৭ মার্চ) সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়।

দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ৯টা ৩০মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা চত্ত্বরে বঙ্গবন্ধু’র আবক্ষ ভাস্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত ও ট্রেজারার প্রফেসর মোহাম্মদ আলী।

সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে স্বাধীনতা চত্বর থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একাডেমিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়।

সকাল ১০টায় কৃষি অনুষদের কনফারেন্স কক্ষে বঙ্গবন্ধু’র জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস-২০২৪ উদযাপন কমিটির সভাপতি প্রফেসর এ বি এম মাহবুব মোর্শেদ খান’র সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত,বিশেষ অতিথি হিসেবে ট্রেজারার প্রফেসর মোহাম্মদ আলী উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত বলেন, বঙ্গবন্ধু শুধু বাঙালি নয় পুরো বিশ্বে নেতৃত্বের দৃষ্টান্তে অবধারিত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবনের বেশিরভাগ সময়ই লড়াই-সংগ্রাম, কারাবরণের মধ্য দিয়ে কাটিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা গঠন করে যেতে পারেননি, কিন্তু তাঁরই সুযোগ্য কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা বিশ্বের কাছে উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশকে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক- শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা- কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

একই সময়ে পবিপ্রবি পরিচালিত সৃজনী বিদ্যানিকেতনে প্রামান্য চিত্র প্রদর্শণী এবং শিশু কিশোরদের জন্য রচনা,উপস্থিত বক্তৃতা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়াও যোহরের নামাজের পর পবিপ্রবির কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া-মোনাজাত এবং দুপুর ১২টায় কেন্দ্রীয় মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।

 




পিরোজপুরে ৭০ হাজার পরিবারকে ইফতার সামগ্রী দিচ্ছেন উপজেলা চেয়ারম্যান

বরিশাল অফিস:: পবিত্র মাহে রমজানে বিনামূল্যে ইফতার পাচ্ছে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার ৭০ হাজার পরিবার। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মিরাজুল ইসলাম প্রতিষ্ঠিত মিরাজুল ইসলাম ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এসব ইফতার সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে।

গত এক সপ্তাহ ধরে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে স্বেচ্ছাসেবকরা ৭০ হাজার পরিবারের জন্য ইফতার সামগ্রী প্যাকেট করেছেন। বুধবার রমজানের দ্বিতীয় দিন থেকে বিতরণ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ছোলা, চিড়া, মুড়ি, দুধ, সেমাই, তেল ও মসলাসহ ১৩ ধরনের খাদ্যসামগ্রী রয়েছে। এমন উদ্যোগে খুশি স্থানীয়রা।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা থেকে হোল্ডিং নম্বর সংগ্রহ করে প্রতিটি পরিবার বাছাই করা হয়েছে। এছাড়া একটি হোল্ডিং নম্বরে একাধিক পরিবার থাকলে তাদেরও দেওয়া হবে ইফতার সামগ্রী। এর আগে করোনাকালীন এমন উদ্যোগ নিয়েছিল ফাউন্ডেশনটি।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিরাজুল ইসলাম বলেন, এবার ইফতার বিতরণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে উপজেলা ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ ও ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ১০ হাজার কর্মী কাজ করছেন। আশা করছি, সব পরিবারের মাঝে ইফতার পৌঁছে দিতে পারবো আমরা।

২০১৫ সাল থেকে আর্তমানবতার সেবায় এই সংগঠন কাজ করছে জানিয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক এহসাম হাওলাদার বলেন, ফাউন্ডেশনটি মানুষের বিপদ-আপদে বন্ধু হিসেবে পাশে থাকছে। যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ সবসময় সবার পাশে দাঁড়াচ্ছে। ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। স্বেচ্ছাসেবকরা টিমওয়ার্কের মাধ্যমে এবার উপজেলার ৭০ হাজার পরিবারে ইফতার পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছেন।




পিরোজপুরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ১৩ গরু লুট

বরিশাল অফিস::  পিরোজপুরে আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ১৩টি গরু লুট করেছে ডাকাতদল। রোববার (১৭ মার্চ) ভোর ৪টার দিকে সদর উপজেলার শিকদার মল্লিক ইউনিয়নের জুজখোলা গ্রামের রিয়াজ হাওলাদারের খামারের ১৩টি গরু লুট হয়।

ভুক্তভোগী রিয়াজ জানান, ১৪-১৫ জনের একটি ডাকাত দল ভোরে তার বাড়ির গোয়াল ঘরে গরু লুট করতে আসে। এসময় শব্দ পেয়ে তিনি ঘর থেকে বের হলে ডাকাত দল তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গোয়াল ঘরে থাকা বিদেশি জাতের ১৩টি গরু লুট করে ট্রাকে করে নিয়ে যায়। গরুগুলোর মধ্যে সাতটি দিনে প্রায় দুই মণ করে দুধ দিত। আর বাকি ছয়টি ষাঁড় গরু ও বকনা বাছুর। গরুগুলোর আনুমানিক দাম প্রায় ২২ লাখ টাকা।

ওই ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. সরদার কামরুজ্জামান চান বলেন, খবর পেয়ে রিয়াজের খামারে গিয়েছিলাম। গরুগুলো বিদেশি জাতের। ওই গরুই ছিল ওই খামারির একমাত্র আয়ের উৎস।

এ ব্যাপারে পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশিকুজ্জামান বলেন, এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে খবর শুনে বাগেরহাটের কচুয়া ও সদর থানার উদ্যোগে লুট হওয়া গরু উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।




ঝালকাঠিতে বাজার থেকে হঠাৎ মুরগি উধাও

বরিশাল অফিস:: জেলার বাজার থেকে হঠাৎই মুরগি উধাও। নির্ধারিত দামে বিক্রির সরকারি নির্দেশনার পর বিক্রেতারা সব মুরগি সরিয়ে নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ক্রেতারা বলছেন, পবিত্র রমজানের মধ্যে এটি অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়। সরকারকে বিব্রত করে আগের বাড়তি দামে মুরগি বিক্রির জন্যই এ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বাজারে কোনো ধরনের মুরগি নেই। দোকানের খাঁচা মুরগিশূন্য। ক্রেতারা দোকানের সামনে দিয়ে ঘুরে ঘুরে চলে যাচ্ছেন।

জেলা প্রশাসকের বাজার মনিটরিং টিমের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা ইতোমধ্যে মুরগির দোকানগুলোতে গিয়ে সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রির নির্দেশনা দিয়েছেন। এরপরই বিক্রেতারা বিক্রি বন্ধ করে দেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় বিক্রেতা শামীম, মাসুদসহ আরও কয়েকজনে জানান, পাইকারি বিক্রেতাদের কাছ থেকে যে দামে মুরগি তারা কেনেন, তার চেয়ে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশিতে বিক্রি করতে হয়। সরকারি নির্দেশনা মানলে তাদের লোকসান হবে। এ কারণেই তারা মুরগি বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন।

তারা জানান, বর্তমানে পাইকারি বিক্রেতাদের কাছ থেকে তাদের ২০০ টাকা কেজি দরে ব্রয়লার এবং ২৮৫ টাকারও বেশি দামে লেয়ার ও সোনালি মুরগি কিনতে হচ্ছে।

অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খামারিরা জানান, তারা ডিলার ছাড়া মুরগি বিক্রি করতে পারেন না। ডিলাররা মুরগি নিয়ে পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন। ডিলারদের কাছ থেকে পাইকারি বিক্রেতারা কিনে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোনো খামারি যখন খামার শুরু করেন, তখন ডিলাররা তার পুঁজি সংকটের সুযোগ নিয়ে মুরগির বাচ্চা সরবরাহ করেন। বাচ্চা পরিণত হওয়ার পর খামারিরা নির্দিষ্ট ডিলার ছাড়া মুরগি বিক্রি করতে পারেন না।




লালমোহনে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস পালিত

বরিশাল অফিস::  ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ধরে, আনবো হাসি সবার ঘরে’এই প্রতিপাদ্যে ভোলার লালমোহন উপজেলায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৪তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস পালিত হয়েছে।

রোববার সকালে দিবসটি উপলক্ষ্যে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে অবস্থিত জাতির জনকের ম্যুরালে উপজেলা প্রশাসন, সরকারি বিভিন্ন দফতর, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করা হয়।

পরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তৌহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ভোলা-৩ আসনের এমপি নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন।

এ সময় তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মেছেন বলেই বাঙালি জাতি পেয়েছে স্বাধীন রাষ্ট্র। তিনি ছিলেন বিশ্বের শোষিত মানুষের কণ্ঠস্বর। তিনি চিরকাল অমর হয়ে থাকবেন বাঙালি জাতির হৃদয়ে।

অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন লালমোহন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইমরান মাহমুদ ডালিম, লালমোহন সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. বাবুল আকতার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. তৈয়বুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম হাওলাদার এবং ওসি এসএম মাহবুব উল আলম প্রমুখ।




পটুয়াখালীতে ইয়াবা সেবনের ভিডিও শেয়ার করায় যুবককে ইউপি সদস্যের হুমকি

বরিশাল অফিস:: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় এক যুবকের ইয়াবা সেবনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করায় মো. রাসেল আকন নামে এক যুবককে স্থানীয় ইউপি সদস্য নিজ হাতে পিটুনি দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ইউপি সদস্য সাইদুর রহমান ওরফে লিখন বাউফল উপজেলার নাজিরপুর তাতেরকাঠী ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।

একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা রাসেল আকন জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২ টার দিকে তিনি তার আইডিতে এবং নাজিরপুর ইউনিয়ন নামে একটি ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে সবুজ সিকদার নামে এক যুবকের ইয়াবা সেবনের ভিডিও শেয়ার করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ইউপি সদস্য সাইদুর রহমান তাকে অশালীন ভাষায় গালাগাল এবং নিজ হাতে পিটুনি দেওয়ার হুমকি দিয়ে কমেন্ট করেন। যার স্ক্রিনশট তার এক স্বজনের মাধ্যমে সাংবাদিক ও বাউফল থানার ওসির এর কাছে সংরক্ষিত আছে। বর্তমানে তিনি নিরপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবুজ সিকদার নামে এক যুবকের ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল হয়। সবুজের বাড়ি উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বাকলা তাতেরকাঠী গ্রামে। সবুজ ইউপি সদস্য সাইদুর রহমানের অনুসারী। মাদক সেবনের ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সবুজ কিছুদিন গা ঢাকা দেন।

স্থানীয়রা জানান, সবুজ একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। সবুজ দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা করছেন। এ বিষয়ে ইউপি সদস্য সাইদুর রহমান হুমকি দেওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সবুজ তার অনুসারী। একই বিষয়ে বারবার পোস্ট করায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওই কমেন্ট করেছেন।

বাউফল থানার ওসি শোনিত কুমার গায়েন জানান, ইয়াবা সেবনের ভিডিও তার নজরে আসার পর পুলিশ কয়েক দফায় সবুজকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়েছেন। মাদক সেবনকারী ও মাদক ব্যবসায়ীর পক্ষালম্বন করে কাউকে হুমকি দেওয়া হলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।




সুযোগ পেলে আধুনিক ও স্মার্ট সদর উপজেলা গড়তে চাই : এসএম জাকির হোসেন

বরিশাল অফিস:: বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ বাজারে গণসংযোগ করেছেন সদর উপজেলা নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী এসএম জাকির হোসেন।

রবিবার (১৭মার্চ) বিকেলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সাথে কুশলবিনিময়কালে সকলকে নিয়ে বরিশাল সদরের উন্নয়নে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন এসএম জাকির হোসেন।

বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থী এস এম জাকির হোসেন এ সময় বলেন, জনপ্রতিনিধিদের সাথে যদি জনগণের দূরত্ব বেড়ে যায় তাহলে উন্নয়ন সম্ভব না। আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি আমি সাধারণ মানুষের জনপ্রতিনিধি হবো। মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, কিশোরগ্যাংমুক্ত আধুনিক ও স্মার্ট সদর উপজেলা গড়বো।

সাধারণ মানুষের সাথে কুশল বিনিময় কালে শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান মুন্না, আওয়ামী লীগ নেতা আবু আল মাসুদ মামুন, বরিশাল মহানগর ১৬ নং ওয়ার্ড যুবলীগের আহবায়ক জুয়েল রাফি, শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য রিয়াজ উদ্দিন খান (স্বপন), নারী ইউপি সদস্য কাজল বেগম, দেলোয়ার হোসেন হাওলাদার সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা উপস্থিত ছিলেন।




ঝালকাঠিতে উৎপাদনে ঘাটতি, চাহিদা মেটাচ্ছে পাহাড়ি পান

বরিশাল অফিস:: গ্রামীণ জনপদের সকল আচার অনুষ্ঠানে সব ধরনের আপ্যায়নের শেষে পান-সুপারির আপ্যায়নের জুড়ি নেই। আপ্যায়নের আয়োজন ও ধরন যেভাবে থাকুক সবশেষে পান-সুপারির আপ্যায়ন ঐতিহ্য বহন করে। সামাজিক অনুষ্ঠানে আপ্যায়ন পূর্ণতা পায় পান-সুপারির মাধ্যমে। অনেক মানুষ নিয়মিত পান খেয়ে থাকেন। তবে বর্তমানে বাজারে পানের দাম চড়া।

ঝালকাঠি জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে ৮০টি (স্থানীয়ভাবে ‘এক বিরা’ হিসেবে পরিচিত) পান ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ চারমাস আগেও বাজারে যা ছিল ১৮০ থেকে ২২০ টাকার মধ্যে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন না হওয়ায় ঘাটতি মেটাচ্ছে রাজশাহীসহ পাহাড়ি এলাকার পান।

সম্প্রতি পান বাজারে ঘুরে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা রাজশাহীসহ পাহাড়ি এলাকার থেকে আনা পানই বিক্রি করছেন। একটু পুরু ধরনের এসব পানের রং স্বাভাবিক সবুজের চেয়ে একটু লালচে বর্ণের।

বিক্রেতা হামিদুর রহমান ও মো. ওসমান জানান, তিন মাসে আগেও চাষিরা পানের দাম পাননি। তবে এখন বাজারে পানের দাম বাড়ছে। উৎপাদন কম হওয়ায় দাম বাড়ছে বলে মনে করছেন তারা।

সদর উপজেলার ছত্রকান্দা গ্রামের চাষি সাব্বির আহমদ জানান, ৬০ শতক জমিতে পান চাষে সব মিলিয়ে তার প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বরজে পানের উৎপাদন প্রথমদিকে ভালো হলেও শীত মৌসুম আসার সঙ্গে সঙ্গেই উৎপাদন অনেকটাই কমে যায়। বৃষ্টি হলে আবার নতুন পানের ভালো ফলন শুরু হবে, তখনও এমন দাম থাকলে ভালো মুনাফা হবে বলে আশা করেন তিনি।

চাষিরা জানান, প্রতি একর জমিতে পাঁচ-ছয়টি পানের বরজ করা যায়। এক একর জমিতে পান চাষ করতে খরচ হয় তিন থেকে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা। বছরে প্রতি একর জমিতে উৎপাদিত পান বিক্রি হয় গড়ে প্রায় ২০ লাখ টাকায়। এতে খরচ বাদ দিয়ে চাষিদের ১২ থেকে ১৬ লাখ টাকার মতো মুনাফা থাকে। কিন্তু গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে উৎপাদন না থাকায় তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। বর্তমান বাজারের দাম অব্যাহত থাকলে তারা প্রচুর লাভ করতে পারবেন।

এদিকে, ঝালকাঠি জেলার পানচাষিরা পড়েছেন আরেক বিপর্যয়ের মুখে। অজ্ঞাত রোগ এবং শীত দীর্ঘায়িত হওয়ায় পানের পাতা নতুন করে গজাচ্ছে না। পুরো দক্ষিণাঞ্চলের পানচাষিদেরই এমন অবস্থা বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে। ফলে চলতি মৌসুমে জেলার চাষিরা হেক্টর প্রতি ৫ থেকে ৬ লাখ টাকারও বেশি লোকসান দিয়েছেন।

কৃষি বিভাগের পরামর্শ মতো কীটনাশক দেওয়ার পরেও পাতা ঝরার পরে বৃষ্টি না থাকায় নতুন করে পান পাতা আসছে না। চাষিদের দাবি, অজ্ঞাত কারণে পান পাতা ঝরেপড়া রোগে ঘূর্ণিঝড় সিডরের চেয়েও বেশি ক্ষতি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঝালকাঠি জেলায় বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে পানের চাষ হচ্ছে এবং প্রতিনিয়তই তা সম্প্রসারিত হচ্ছে। ৪-৫ মাস আগেও ঝালকাঠির পান দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোর চাহিদা পূরণ করে রাজধানী এবং উত্তরাঞ্চলে সরবরাহ করা হতো। কিন্তু পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় এখন উল্টো রাজশাহীসহ অন্যসব পাহাড়ি এলাকায় উৎপাদিত পান চড়া দামে কিনে আনতে হচ্ছে। এ কারণে পানের বাজারেও আগুন লাগার মতো অবস্থা হয়েছে।

ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম জানান, শীত মৌসুমে পান পাতা ঝরে যায়। আবহাওয়া পরিবর্তন হলে আবার পানের পাতা নতুন করে গজায়। বসন্তকাল শুরু হয়ে একমাস অতিবাহিত হলেও বৃষ্টি না হওয়ায় নতুন পাতা গজাচ্ছে না। বৃষ্টি হলেই নতুন পাতা আসবে। তাহলেই পানের সংকট থেকে উত্তোরণ পাওয়া যাবে। বাজারে পানের সরবরাহ বাড়লেই দাম কমবে।