রাফায় স্থল অভিযান আন্তর্জাতিক ‘চাপ’ মানবেন না নেতানিয়াহু

 চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  রাফায় স্থল অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক চাপ মানবেন না ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অনেক দেশই রাফায় স্থল অভিযানের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সতর্ক করছে ইসরায়েলকে।

কিন্তু নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, দক্ষিণ গাজার রাফায় পরিকল্পিত স্থল অভিযান চালানো হবে। ফলে আরও বহু বেসামরিক ফিলিস্তিনি প্রাণ হারাতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেছেন, বাস্তব লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত কোনো চাপ আমাদের থামাতে পারবে না। এসব লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে, হামাসের হাতে জিম্মিদের মুক্তি, হামাস মুক্তি গাজা ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যাতে আর কোনো হুমকি গাজায় না থাকে তার নিশ্চিয়তা।

আর এই সব নিশ্চয়তার জন্যই আমরা রাফায় অভিযান চালাবো। গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকরের ইস্যুতে দোহায় যখন আলোচনা শুরু হবে, তখন এ ধরনের মন্তব্য এল ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে।

গত ৭ অক্টোবরের পর থেকে গাজায় হামলা চালাচ্ছে দলখদার বাহিনী। এতে নিহত হয়েছেন ৩১ হাজারের বেশি। আহত হয়েছেন প্রায় ৭৪ হাজার।

এদিকে নেতানিয়াহুর পদত্যাগ দাবি করে বিক্ষোভ করছেন হাজার হাজার ইসরায়েলি। বড় বড় শহরগুলোতে শনিবার বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, নেতানিয়াহুকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে।

গাজায় ইসরায়েলি সরকার যেভাবে যুদ্ধ পরিচালনা করছে সে বিষয়ে দেশটির সাধারণ জনগণ বেশ ক্ষুব্ধ। এছাড়া গাজায় হামাসের হাতে জিম্মিদের মুক্তির বিষয়েও ইসরায়েলি সরকারের ব্যর্থতায় দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা




পুতিনের নিরঙ্কুশ বিজয়: ‘এ জয় রাশিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে ‘

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : টানা তিন দিনের নির্বাচন শেষে রেকর্ড সংখ্যক ভোট পেয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথে বিশাল জয় পেয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন। প্রাথমিক ফলাফলের তথ্যে দেখা যায়, পুতিন প্রায় ৮৮ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। খবর রয়টার্সের।

রোববার (১৭ মার্চ) বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, সোভিয়েত ইউনিয়ন পরবর্তী যুগে এটি রেকর্ড। এতে করে ৭১ বছর বয়সী রাশিয়ার এই নেতার আরও ছয় বছর ক্ষমতায় থাকা পাকাপোক্ত হল। ১৯৯৯ সাল থেকে তিনি ক্ষমতায় রয়েছেন।

ভোটের দিন দেশটির বিভিন্ন অংশে পুতিন বিরোধী বিক্ষোভের মধ্যেও তার অন্য তিন প্রতিযোগীর কারও ভোটের হার দুই অঙ্কের কোটায় পৌঁছেনি। তারা কেউ ৪ শতাংশের বেশি ভোট পাননি।

শুক্রবার শুরু হওয়া ভোটের প্রাথমিক ফলাফল রোববার প্রকাশ করা হয়। বুথ ফেরত সমীক্ষার বরাতেও পুতিন বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন বলে জানিয়েছিল রয়টার্স।

পরে প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৩০ শতাংশ ভোট পড়েছে। এর মধ্যে পুতিন ৮৭ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে নিরঙ্কুশভাবে বিজয়ী হন। এতে করে ২০০ বছরের মধ্যে পুতিন রাশিয়ার সবচেয়ে বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা নেতা হতে যাচ্ছেন। এরমধ্যে দিয়ে জোসেফ স্ট্যালিনকেও ছাড়িয়ে যাবেন।

টানা দু’বারের বেশি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দাঁড়ানোর জন্য ২০২১ সালেই আইন পরিবর্তন করেছিলেন পুতিন। এবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হলে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবেন পুতিন।




ঝালকাঠিতে ডিজিটাল ব্যানারের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে রংতুলির জাদুকররা

এস এল টি তুহিন,বরিশাল :: রং আর তুলির ছোঁয়ায় নতুন এক ভাষার জন্ম দেন শিল্পীরা। রংতুলির খেলার মাঝে খুঁজে নেন নিজের আনন্দ। নিজ এবং পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্বটাও তুলে দেন এই রংতুলির হাতেই। এভাবেই জীবন চলে চারু শিল্পীদের।

তবে শিল্পে প্রযুক্তির ছোঁয়া পাল্টে দিচ্ছে এসব শিল্পীদের জীবনযাত্রা। আগে জাতীয় বা স্থানীয় নিবার্চনে ব্যানার ফেস্টুন, সিনেমার পোস্টার তৈরি নিয়ে যারা অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করতেন আজ তারাই কাজের অভাবে নিজ পেশা ত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছেন। ঝালকাঠি জেলায় এক সময় রংতুলির আঁচড়ে ব্যানার বা সাইনবোর্ড লিখে জীবিকা নির্বাহ করতেন প্রায় অর্ধশতাধিকের বেশি শৌখিন বা পেশাজীবী শিল্পীরা। আধুনিক যুগে ডিজিটাল নির্ভর কর্মক্ষেত্রে সাইনবোর্ড বা ব্যানার লিখন কাজের ব্যাপক চাহিদায় কদর কমেছে মূলধারার চারু শিল্পীদের।

ঝালকাঠি জেলায় বর্তমানে কয়েকজন নামে মাত্র টিকে আছেন। শহরে চলতে গেলে আগে বাসের গায়ে, ট্রাকের গায়ে, রিক্সার গায়ে, ট্রাক, বিলবোর্ড কিংবা দেয়ালের গায়ে শিল্পীর হাতে আঁকা মনের মাধুরি মেশানো হরেক রকম ছবি চোখে পড়ত। সিনেমা হলগুলোর সামনে সিনেমার দৃশ্য আঁকা হতো শিল্পীর রং তুলিতে। বিভিন্ন সভা সমাবেশে কাপড়ের ওপর হাতের লেখা সেই নিপুণ ব্যানার এখন অতীত হয়ে গেছে। এক সময় যাদের রংতুলির আঁচড়ে নানা ধরনের ব্যানারের লেখা শোভা পেত শহরের সড়কের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড থেকে শুরু দেয়ালিকায় শোভা পেত রাজনৈতিক ও সামাজিক বার্তা তারা আজ হারিয়ে যেতে বসেছেন। এসব স্থানে তাকালে এখন আর দেখা মেলে না এসব শিল্পের। যান্ত্রিকতার এই যুগে হারিয়ে যাচ্ছে রং আর তুলির কারুকাজ ও শিল্পীরা। এখন অল্প টাকায় স্বল্প সময়ে প্যানাপ্লেক্সের (ফেস্টুন) তৈরি বিভিন্ন ধরনে ব্যানার পাওয়া যাচ্ছে। আবার ক্রেতাকে আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা ঝুঁকছেন ডিজিটাল ব্যানারে দিকে।

চারুশিল্পের উপর গুরুত্ব দিয়ে সরকার ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত চারুকারু শিক্ষার জন্য জুড়ে দিয়েছে বিষয়ভিত্তিক পাঠ্যবই। তবে শিক্ষার্থীরা এ শিক্ষা অর্জন করে ভবিৎষতে কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগের স্থানের অভাবে এ বিষয়ে আগ্রহ হারাচ্ছেন। কমে যাচ্ছে রং-তুলি দিয়ে করা চারু শিল্পের কাজের ব্যাপকতা।

শহর ছাড়িয়ে এখন গ্রামেও ডিজিটাল ব্যানার প্রসার লাভ করেছে। তাই জীবিকা নির্বাহের প্রতিযোগিতায় রং-তুলি ছেড়ে শিল্পীরা ঝুঁকে পড়ছেন অন্য পেশায়। তারপরও যারা এ পেশা আঁকড়ে ধরে আছেন তারাও ভালো অবস্থানে নেই। দেয়ালে কাপড় টানিয়ে ব্যানার লিখন, লঞ্চ স্টিমারে ও প্রতিষ্ঠানে দেয়াল লিখন কাজের পরিবর্তে দেখা যাচ্ছে ডিজিটাল ব্যানার।

ঝালকাঠির রাজাপুর সদরের বিশ্বাস বাড়ি এলাকার অঞ্জন মিস্ত্রী। উচ্চ শিক্ষিত হাসিখুশি একজন মানুষ। পরিবারের ছয়জনের মধ্যে তিনি একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ছোটবেলা থেকেই তার শিল্পী মন নিয়ে বেড়ে ওঠা। মঞ্চ অভিনয় আর আর্টের ওপরে ছিল তার খুবই দুর্বলতা। তিনি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও নিয়েছেন প্রশিক্ষণ। এক সময় সংসারের ভার তার কাঁধে পরতেই শখের বসে করা শিল্পটাকেই নিয়ে নিলেন পেশা হিসেবে। এরপর তিনি রাজাপুর উপজেলার ডাকবাংলো মোড়ের ভাড়ার দোকানে দীর্ঘ ২৭ বছরের বেশি সময় ধরে এই শিল্পকে সঙ্গী করে চলেছেন। একটা সময় তিনি নিজ উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকেও ব্যানার, সাইনবোর্ড, ফেস্টুন লেখা, ছবি আঁকা, বাঁধাই, ওয়ালমেট বাঁধাইসহ বিভিন্ন কাজ করেছেন তার রং-তুলি ছোঁয়ায়। তার ছোট টিনের ঘরটিতে সর্বদা মানুষের ভিড় লেগে থাকত। তিনি হাসিমুখে রং-তুলির মিলনে কাপড়, কাঠ, টিনের বুকে, দেয়ালের গায়ে ফুটিয়ে তুলতেন গ্রাহকের মনের ভাষা।

কিন্তু এখন অঞ্জন মিস্ত্রীর মুখেও নেই আর আগের মতো হাসি। দোকানেও নেই আগের মতো গ্রাহকের ভিড়। এখন তার দোকানের সামনে গেলে দেখা যায় অঞ্জন মিস্ত্রী মন মরা হয়ে দোকানে বসে আছে। এ যেন বয়স থাকতেও অবসরে যেতে বাধ্য করার মতো। গায়ে নেই আগের মত বাহারি পোশাক। হাতে নেই তার কাজ, তবুও মাথার উপরে রয়েছে সংসারের চাপ।

কথা হয় রাজাপুর উপজেলার শিল্পী অঞ্জন মিস্ত্রীর সঙ্গে। তিনি বলেন, আমাদের বর্তমান পরিস্থিতি যেমন আছে আর আমরা যাদের অনুপ্রেরণায় এই শিল্পের হাল ধরেছি সেটা যদি তারা জানতেন তাহলে হয়তো তারাও এই শিল্পের প্রসার ঘটাতেন না। এই শিল্প বর্তমানে ডিজিটাল হয়ে গছে। আর শিল্পীরা কোন রক্ত মাংসের মানুষ নয়। তারা উন্নত দেশের লোহার তৈরি যন্ত্র। তাদের কাছে মানুষ যেমন করে চায় সে তেমন করেই মানুষের প্রয়োজন মেটায়। আমাদের সকল কাজ এখন ওই যন্ত্রের দখলে। তাই এখন আমাদের জীবন কাঁটছে অর্ধাহারে, অনাহারে। আমি শিল্পী মানুষ তাই শুধু এই কাজটাই শিখেছি। এটাই পারি এছাড়া আর কিছু পারি না। বয়সের কালে লেখাপড়া শেষ করে চাকরির পেছনে ছুটিনি। এই শিল্পের পিছনে ছুটছি। এখন আর এই বয়সে চাকরি করার সুযোগ নেই। আমার মতো দেশে সব শিল্পীদের বর্তমানে একই অবস্থা।

কথা হয় ঝালকাঠি শহরের শিল্পী জয়দেব মালাকর জয়ের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমি একজন চিত্রশিল্পী। কাজ করি দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে। বিভিন্ন স্কুল-কলেজে-মাদরাসায় বিভিন্ন রকমের ছবি আঁকা ও লেখার কাজ করে দিনযাপন করতাম। তবে ডিজিটাল প্লাস্টিকের তৈরি ব্যানার আসার কারণে এখন আর কেউ আমাদের কাছ থেকে কাজ করায় না। যার ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে খুবই কষ্টে দিন কাটছে। এতগুলো বছর এই পেশায় নিয়োজিত থেকে শেষ বয়সে এসে অন্য কোনো পেশায় যেতে পারছি না অর্থভাবে। তাই সকলের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ। আপনারা ডিজিটাল প্লাস্টিকের ব্যানার বর্জন করুন। এতে পরিবেশ দূষণ হয়, স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ায়।

কথা হয় কাঁঠালিয়া উপজেলার বৈশাখী আর্টের গান্ধী হাওলাদারের সঙ্গে। তিনি বলেন, ১৯৯৫ সাল থেকে এই শিল্পে নিয়োজিত।এক সময় নির্বাচন, সরকারি অফিস-আদালতের সাইনবোর্ড ব্যানার আমিই লিখতাম। প্রতিনিয়ত সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একটানা কাজ করতাম। আগে বিভিন্ন দিবসসহ নানান সামাজিক ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে কাজের অর্ডারে গভীর রাত পর্যন্তও কাজ করতে হতো। এখন সর্বত্র ডিজিটাল ব্যানারের প্রভাবে সাইনবোর্ড, ব্যানার লিখনের কাজ তেমন একটা আসে না বললেই চলে। তবে এখনো পথেঘাটে দেয়াল, লঞ্চ-স্টিমারসহ বিদ্যালয়ের দেয়াল লিখনের কাজের কিছুটা চাহিদা থাকায় এই পেশাটা আকড়ে বেঁচে আছে।

শিল্পি ইউনুচ আলী হাওলাদার বলেন, আমি নলছিটিতে অনেক আগ থেকেই আর্ট পেশার সাথে জরিত মূলত বিভিন্ন দোকানের সাইনবোর্ড ও ব্যানার লিখতাম। তবে এখন কাজের সংখ্যা খুবই কম এখন সবাই তিন থেকে চারশ টাকার মধ্যে একটা প্যানাপ্লেক্সের ব্যানার লিখে এনে সহজেই দোকানের সামনে সাটিয়ে দিচ্ছেন। ঠিক একই কাজ আমাদের দিয়ে করাতে রং ও মজুরিসহ কম করে হলেও একহাজার টাকা দিতে হবে। তাই অনেকেই খরচ ও সময় বাঁচানোর জন্য আমাদের দিয়ে কাজ করাচ্ছেন না। যদিও আমাদের রং দিয়ে তৈরি কাজের স্থায়িত্ব অনেক বেশি ও পরিবেশবান্ধব। আর প্যানাপ্লেক্সের তৈরি সাইনবোর্ড ও ব্যানারে যে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার হয় তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং এর স্থায়িত্বও তুলনামূলক কম। সবমিলিয়ে আমাদের আর্ট শিল্পিদের খারাপ সময় যাচ্ছে। তাই এই পেশার সাথে জরিত মানুষের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে।

কাঁঠালিয়া সদর ফাজিল মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক নুর-ই-আলাম ছিদ্দিকী বলেন, বর্তমানে আধুনিক যুগে ডিজিটাল নির্ভর কর্মক্ষেত্রে ডিজিটাল সাইনবোর্ড বা ব্যানার লিখন কাজের ব্যাপক চাহিদায় মূল ধারার চারু শিল্পীদের কদর কমেছে।

নলছিটি উপজেলার মোবাইল ব্যবসায়ী নয়ন হোসেন বলেন, আমি আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল সাইনবোর্ড ব্যবহার করি। তাতে আমার খরচ বেশি পরে এবং বিদ্যুৎ বিলও গুণতে হয়। তবে এটা রং তুলি দিয়ে তৈরি কাজের চেয়ে অনেক চকচকে তাই সহজেই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তাই এটা ব্যবহারকেই ব্যবসায়ীরা এখন বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন।

প্রভাষক আমির হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীরা এ শিক্ষা অর্জন করে ভবিৎষতে কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগের স্থান না দেখে চারু শিল্পের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। এজন্য ক্রমেই বিলুপ্তি হয়ে পড়ছে দেশের গ্রাম বাংলার পথে প্রান্তরে চারু শিল্পীদের কারুকাজ।

সাংস্কৃতিক কমী মাইনুল ইসলাম সুজন বলেন, রং-তুলির শিল্পীরা বাঙালি ঐহিত্যের ধারক ও বাহক। বর্তমানে তারা এই পেশায় নিজেদের টিকিয়ে রাখতে পারছেন না। তারা শুধু ব্যানার-ফেস্টুন তৈরি না বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাঙালির কৃষ্টি কালচারকেও রং-তুলির মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতেন। প্যানাপ্লেক্স দিয়ে যেসব জিনিস তৈরি করা হচ্ছে সেগুলো পরিবেশ ও মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকরও বটে। তাই সরকারের উচিত এসব শিল্পীদের টিকিয়ে রাখতে প্যানাপ্লেক্সের তৈরি ব্যানার ফেস্টুনের ব্যবহার সীমিত করা বা পুরোপুরি নিষিদ্ধ করে দেওয়া।

ঝালকাঠির সামাজিক সংগঠন ইয়ুথ অ্যাকশন সোসাইটির (ইয়াস) সাংগঠনিক সম্পাদক সাব্বির হোসেন রানা বলেন, একটা সময় বিভিন্ন সভা সমাবেশে চারু শিল্পীদের হাতে লেখা ব্যানার ব্যবহার করতেন মানুষ। এখন আর তাদের দিয়ে কেউ লেখালেখির কাজ করাতে চান না। তাই তাদের এখন দুর্দিন যাচ্ছে। তাদের নিয়ে ভাবার সময় হয়েছে।




নাজিরপুরে সীমানা পিলার বিক্রির সময় আটক ৫

বরিশাল অফিস:; পিরোজপুরের নাজিরপুরে বিশেষ অভিযানে সীমানা পিলারসহ (ম্যাগনেট) ৫ জনকে আটক করেছে নাজিরপুর থানা পুলিশ। রোববার (১৭ মার্চ) ভোরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কাঁটাবুনিয়া গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়।

নাজিরপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম হাওলাদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আটককৃতরা হলেন উপজেলার শাঁখারীকাঠী ইউনিয়নের হোগলাবুনিয়া গ্রামের হাশেম ফকিরের ছেলে টুকু ফকির (৫৫), পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার মহর আলী মোল্লার ছেলে জাহাঙ্গির আলম মোল্লা (৩৫), একই জেলার ভাঙ্গুরা উপজেলার মন্ডতোষ ইউনিয়নের বোয়ালমারী গ্রামের আলহাজ মোকছেদ পোরামানিকের ছেলে ফিরোজ আহম্মেদ পোরামানিক (৪৪), পাবনা সদর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের মৃত জহুরুল হকের ছেলে ও পাবনা জেলার ওষুধ প্রশাসন অফিসের অফিস সহকারী আব্দুল মতিন মিয়া (৫২) এবং সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপারা উপজেলার সদর ইউনিয়নের বজরাপুর গ্রামের মৃত আক্তারুজ্জামান পোরামানিকের ছেলে আবু সাঈদ পোরামানিক (৪৫)।

নাজিরপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম হাওলাদার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই দিন ভোররাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সীমানা পিলার বেচাকেনার সময় পিলারসহ ৫ জনকে আটক করা হয়। এ ব্যাপারে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।




ঝালকাঠিতে স্বর্ণালি আভা ছড়াচ্ছে আমের মুকুল

বরিশাল অফিস:: ঝালকাঠিতে যদিও আমের ফলন কম তারপরও গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে আমের মুকুল। প্রায় সব জায়গায় চোখে পড়ছে মুকুলে ছেয়ে যাওয়া অসংখ্য আম গাছগুলো। এভাবে ফাগুনে গাছে-গাছে প্রস্ফূটিত আমের মুকুল সর্বত্র ছড়াচ্ছে স্বর্ণালি আভা।

এসেছে ঋতুরাজ বসন্ত। আগুন ঝরা ফাগুনে গাছে গাছে জেগে উঠছে সবুজ পাতা। প্রকৃতির পালা বদলে সারা দেশের ন্যায় ঝলকাঠির প্রতিটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আমগাছগুলোতে মুকুলের মিষ্টি সুবাসে মৌ মৌ করছে প্রকৃতি।

 

আম বাগানের মালিকরা বলছেন, মাঘের মাঝামাঝিতে গাছে মুকুল দেখে তারা বুঝেছেন, আমের মৌসুম এসে গেছে। গাছগুলোর যত্ন নিতে পরিশ্রম শুরু করে দিয়েছেন। ভালো ফলনের আশায় গাছে পরিচর্যায় এখনো ব্যস্ত তারা। সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকাজুড়ে ছোট গাছ কিংবা বড় গাছেও দেখা মিলেছে মুকুল ও প্রায় সব জাতের আমগাছেই মুকুল এসেছে। যার সৌন্দর্য চোখ জুড়ানো। আমগাছের শাখাগুলো ভরা উজ্জ্বল সোনালি মুকুল যেন আকাশের বুকে ডানা মেলে দিয়েছে।

ঝালকাঠি জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক ইসরাত জাহান মিলি জানান, জেলায় এ বছর ২৫০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। ফজলী, রুপালি, হিমসাগর, ব্যানানা, কাঁচা মিঠা, লকনা, আশ্বিনাসহ দেশীয় প্রজাতির নানা জাতের আম চাষ হয়েছে। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর ঝালকাঠিতে আমের বাম্পার ফলন হবে।

নলছিটিত উপজেলার আম চাষি মিন্টু মৃধা ও ছাইফুল ইসলাম পৃথক পৃথকভাবে জানান, এ বছর তাদের বাগানে প্রচুর পরিমাণে আমের মুকুল ধরেছে। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে তারা লক্ষাধিক টাকা লাভবান হবেন। ঝালকাঠির জেলায় মুকুলে ছেয়ে যাওয়া আমগাছগুলো আলাদা শোভা ছড়িয়েছে। সবুজ পাতার কিনার ছাঁপিয়ে ওঠা মুকুলের সোনালি রেণু যেন ফুলশয্যা সাজিয়ে স্বাগত জানিয়েছে বসন্তকে।




ঝালকাঠিতে সরকারি খালে পরিবারিক সেতু নির্মাণ

বরিশাল অফিস:: ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার বড়ইয়া ইউনিয়নের চল্লিশ কাহনিয়া গ্রামে সরকারি খালের ওপর একটি পরিবারের স্বার্থে ব্যক্তি উদ্যোগে সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। ব্যক্তি অর্থে নির্মাণাধীন সেতুটি অত্যন্ত নাজুক হওয়ায় ভবিষ্যতের জন্য ঝুঁকি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা।

ঝুঁকিপুর্ণ ও অপরিকল্পিত সেতু নির্মাণ বন্ধের জন্য স্থানীয় গ্রামবাসী রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সরকার দপ্তর (এলজিইডি) রাজাপুর উপজেলা শাখায় পৃথক দুটি লিখিত আবেদনপত্র দাখিল করেছেন।

এলাকাবাসীর পক্ষে চল্লিশ কাহনিয়া গ্রামের মো. দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মামুনুর রশীদ নোমানী স্বাক্ষরিত ওই আবেদনপত্রে রয়েছে, ‘অভ্যন্তরীণ জলপথ ও তীরভূমিতে স্থাপনাদি নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা অনুযায়ী নৌপথে সেতু নির্মাণ করতে হলে বিআইডব্লিউটিএর ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও রাজাপুরে সরকারি খালে আইন অমান্য করে এলজিইডি, পানি উন্নয়ন বোর্ড, পরিবেশ অধিদপ্তর, বিআইডব্লিউটিএর প্রত্যায়ন ছাড়াই ব্যক্তি উদ্যোগে একটি সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। সেতুটি অপরিকল্পিত ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ভবিষ্যতে সেতু ভেঙে প্রাণহানির আশঙ্কাও রয়েছে। এ ছাড়া অপরিকল্পিতভাবে সেতুটি নির্মাণ শেষে খালের পানি চলাচলে বাঁধার সৃষ্টি হবে। আটকে যাবে মাঝারি আকারের নৌযান চলাচল। ক্ষতি হবে প্রান্তিক কৃষকদের।’

অভিযোগকারী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ‘চল্লিশ কাহনিয়া গ্রামের মৃত আতাহার আলীর ছেলে সাইদুল ও কামরুল মিলে সেতুটি নির্মাণ করেছেন। সেতুটি নির্মাণ হলে সরকারি অর্থে খালটি খননের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। কমে যাবে খালের নাব্যতা।

ঝালকাঠি বারের সদস্য অ্যাডভোকেট মানিক আচার্য বলেন, এলজিইডি, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, পানি সম্পদ পরিকল্পনা প্রতিষ্ঠান (ডব্লিউএআরপিও) পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া সরকারি খালে সেতু নির্মাণ সম্পূর্ণ অবৈধ এবং একটি ফৌজধারী অপরাধ। তবে সেতু নির্মাণকারী সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা নিজেদের টাকা দিয়ে নিজেদের খালে সেতু বানাইতেছি, তাতে সরকারের ক্ষতির কোনো কারণ দেখছি না। তাই অনুমোদনের প্রয়োজন মনে করিনি।’

এ ব্যাপারে এলজিইডির উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার বলেন, ‘আমরা সরেজমিনে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।’

রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, আবেদন পেয়ে থানাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।




ঝালকাঠিতে বন বিভাগের অবহেলা: নষ্ট হচ্ছে শত শত গাছ

বরিশাল অফিস:: ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার খাজুরতলা থেকে শিমুলতলা জুরকাঠি সড়ক নির্মাণে দুই পাশের সারি সারি গাছগুলো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এক্সকেভেটর দিয়ে উপড়ে ফেলেছেন। ফলে রাস্তার দুই ধারে পড়ে থাকা গাছগুলো রোদ–বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে। গাছগুলো বিক্রি না হওয়ায় নষ্ট হচ্ছে প্রায় অর্ধকোটি টাকার সরকারি সম্পদ।

জানা গেছে, রাস্তা নির্মাণে গত বছরের মার্চে গাছ অপসারণের জন্য বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল বরাবর চিঠি দেন নলছিটি উপজেলা প্রকৌশলী। বনবিভাগ ৪১৪টি ছোটবড় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ মার্কিং করেন। যথা সময়ে গাছগুলো না সরানোর কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এক্সকেভেটর দিয়ে গাছগুলো উপড়ে রাস্তার পাশে ফেলে রাখেন। বর্তমানে সেগুলো রাস্তার পাশে জমিতে ও খালে পড়ে নষ্ট হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা এ সম্পর্কে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বন বিভাগের গাফিলতির কারণে এভাবেই শতশত গাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এগুলো যদি এখনো উদ্ধার করে তাদের হেফাজতে নেয় তাহলে কিছুটা হলেও রক্ষা পাবে। এভাবে সরকারি কোটি টাকা সম্পদ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তা আমরা মানতে পারছি না।

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. সহিদ উদ্দিন বলেন, এলজিইডি থেকে আমাদের একটি চিঠি দিয়েছে। চিঠি দেওয়ার ১ থেকে দেড় মাসের মধ্যে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেছে। কিন্তু গাছ মার্কিং করে হিসাব করে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বরাবর রিপোর্ট দেওয়া লাগবে। এরপর টেন্ডার হয়ে গাছগুলো অপসারণ করা হবে। কিন্তু সেই সময় আমাদের না দিয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেছে। এ বিষয়ে আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবগত করেছি। কারণ গাছ টেন্ডার দেওয়ার ক্ষমতা আমার নাই। আমি বারবার তাদের চিঠি দিয়েছি। গাছগুলো সংগ্রহ করতে অনেক খরচের ব্যাপার। আমাদের যদি সরকারি বাজেট দেন তাহলে গাছগুলো সংগ্রহ করতে পারবো।

এ বিষয়ে নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, উপজেলা বন কর্মকর্তাকে দ্রুত সমাধানের জন্য বলা হয়েছে। এর আগে যে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) ছিলেন উনি নাই নতুন যে এসেছেন তার মাধ্যমে সমাধান হতে পারে।




পটুয়াখালীতে পলো দিয়ে মাছ ধরার উৎসব

বরিশাল অফিস::  পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলের নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর, জলাশয়, ডোবা ও বিল-ঝিলে পানি কমে যাওয়ার ফলে পলো দিয়ে মাছ শিকারের মহা উৎসব। বিভিন্ন বয়সের মানুষ এতে অংশ নেয়। চরহোসনাবাদ খালে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় থেকেই পেশাদার ও অপেশাদার জেলেরা মাছ ধরার পলো নিয়ে খালে ঝাপিয়ে পড়েছে।

জানা যায়, উপজেলার মাছের ক্ষেত্র হিসাবে পরিচিত আলীপুরা, বাঁশবাড়িয়া, রনগোপালদী, চরবোরহান, দশমিনা, বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নসহ চরাঞ্চল এখন মাছ শূন্য হয়ে গেছে। উল্লিখিত এলাকায় বোয়াল, মাগুর, শিং, কৈ, টেংরা, শোল, টাকি, পুটি, গজার, চাপিলা, খৈইলশা, পাবদা, আইড়, চিংড়ি, মলা, বাইন, বেলে সহ অর্ধ শতাধিক প্রজাতির মাছ প্রায় বিলুপ্ত হওয়ার পথে রয়েছে। বিশেষ করে নদীর মাছ হিসাবে পরিচিত পোয়া, ইলিশ,আইড়, রিটা যার দেখা এখন অনেকটা ভাগ্যের ব্যাপার।

মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সর্বত্র নিষিদ্ধ ঘোষিত জালের অবাধ ব্যবহার, কৃষি জমিতে সার ও কীটনাশকের ব্যাপক ব্যবহার, বর্ষাকালে প্রজনন মৌসুমে ডিমওয়ালা মা মাছ সহ পোনা নিধন, শুষ্ক মৌসুমে মাছ ধরার প্রবণতা এবং মাছের বিচরণ ক্ষেত্র কমে যাওয়াসহ প্রভৃতি কারণে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ফসল হিসাবে পরিচিত মৎস্য সম্পদ আজ বিলুপ্ত হতে চলছে।

এছাড়া মাছের প্রজনন মৌসুম ও পোনা মাছের বৃদ্ধিকালীন সময় অবাধে ছোট-বড় মাছ ধরা এবং মৎস্য আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় মৎস্য সম্পদ দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। বিগত ২০বছর আগে গ্রামাঞ্চলে সর্বত্র দেশী প্রজাতির মাছ পাওয়া গেলেও এখন আর সেই অবস্থা নেই। চাষকৃত মাছের কাছে দেশী প্রজাতির মাছ টিকতে না পেরে হারিয়ে যাচ্ছে। মাছ না থাকায় পলো উৎসব এখন আর আগের মত জমছে না।

উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের চরহোসনাবাদ গ্রামের রাকিব হোসেন ও বাঁশবাড়িয়া গ্রামের হারুন, লাল মিয়া এবং সেলিম হোসেন বলেন, তাদের বাড়ির পাশেই বিশাল বড় বিল। বর্ষা মৌসুমে টানাজাল পেতে বিল থেকে মাছ ধরেন। বিলের জল কোমর কিংবা হাঁটু সমান নেমে এলে গ্রামের মানুষ দলবেঁধে পলো নিয়ে মাছ ধরতে নেমে পড়েন। এ সময় আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের শত শত মানুষ আসেন।

তিনি আরও বলেন, সব দেশি প্রজাতির মাছ। অতি সুস্বাদু। পলো বাওয়ার দিন একেক জন গড়ে ৫ থেকে ১০ কেজি মাছ ধরেন। পেশাদার শিকারিরা আধা মণ থেকে এক মণ মাছ শিকার করেন।

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো মাছ ধরায় কেউ বাধা দেয় না। গ্রামের মানুষেরা দলে দলে এসে বিলের পারে বসেন। গল্পগুজব করেন। এরপর সবাই একসঙ্গে নেমে পড়েন। ছোটবেলা থেকে দেখে আসছেন, পলো দিয়ে মাছ ধরার বিরাট এ উৎসব হয়।

উপজেলা সদর ইউনিয়নের এইচ এম ফোরকান বলেন, এক সময় তাদের এলাকার বিলে প্রচুর মাছ ধরা পড়ত। বড় বড় বোয়াল, রুই, কাতলা পলোর নিচে আটকা পড়ত। তখন পাশের পলোওয়ালাও মাছটা তুলতে সহযোগিতায় এগিয়ে আসতেন। মাছ নিয়ে বাড়ি ফেরার দৃশ্যও ছিল অতি চমৎকার। প্রায় সবাই কোনো না কোনো পেয়ে আছি।

এবিষয়ে দশমিনা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহাবুব আলম তালুকদার বলেন, নদীর পানি মিষ্টি। বর্ষা মৌসুমে এই পানি খাল বিলে প্রবেশ করে বিধায় এখানে প্রচুর দেশি প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। তবে এক শ্রেণির কৃষক নদীতে পাট পচান এবং ফসলি জমিতে বিষ দেন। এ কারণে প্রাকৃতিক মাছের প্রজনন ক্ষমতা কমে গেছে।

দেশি মাছের প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রতিটি খাল, বিলসহ জলাশয়ে মাছের অভয়াশ্রম নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক মাছের প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ রক্ষার্থে স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নানা ধরনের কর্মসূচি হাতে নেয়া হবে।




মেঘনা নদীতে বালু উত্তোলনকারীদের হামলায় ৬ গ্রামবাসী আহত

বরিশাল অফিস:: হিজলায় মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের হামলায় সাবেক ইউপি সদস্যসহ অন্তত ৬ জন আহত হয়েছে। রোববার দুপুরে গ্রামবাসীরা প্রতিবাদ করলে বালু উত্তোলকারীরা হামলা করেছে বলে স্থানীয় ইউপি সদস্য, পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

হামলায় আহতরা হলো-হিজলা গৌরব্দী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ধনু মাঝি, তার ভাই বারেক মাঝি, শহীদুল শেখ, বেল্লাল হোসেন, জসিম মাঝি ও রাকিব মাঝি।

হিজলা গৌরব্দী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জাহের আকন জানান, মেঘনা নদীর শাওড়া-সৈয়দখালীর ১০০ একর বালু মহল ইজারা দেয়া হয়েছে। কিন্তু ইজারা নেয়া প্রতিষ্ঠান হাসান-হোসেন এন্টারপ্রাইজের মালিক রুবেল মিয়া হিজলা-গৌরব্দী ইউনিয়নের ভাঙ্গন প্রবন ওরাকল এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করে।

রোববার ২৭ টি বলগেট নিয়ে বালু উত্তোলনের সময় স্থানীয় গ্রামবাসীরা ট্রলার নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিষেধ করে। তখন বালু কাটা বলগেট থেকে গ্রামবাসীদের উপর হামলা করা হয়। তারা এলোপাতারিভাবে ইট ও পাথর নিক্ষেপ করে। এতে অন্তত ১৪/১৫ জন গ্রামবাসী আহত হয়। এর মধ্যে ৬ জন রক্তাক্ত জখম হয়েছে। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

হিজলা নৌ-পুলিশের পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম বলেন, মেঘনা নদীর ওরাকুল মাছ ঘাট এলাকায় বালু উত্তোলনকারীদের সাথে গ্রামবাসীদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে শুনেছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে তাদের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুদীপ্ত কুমার সিংহ বলেন, স্থানীয় ইউপি সদস্যগন ও গ্রামবাসীরা অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করতে গিয়েছিলো। তখন তাদের উপর পাথর নিক্ষেপ করে। এতে ৬ জন আহত হয়েছে। আমরা গিয়ে বালু উত্তোলনকারীদের পায়নি। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।




বরিশালে ৩ লাখ ৯১ হাজার হেক্টরে বোরো আবাদ সম্পন্ন

বরিশাল অফিস:: কয়েক দফার ‘কোল্ড ইনজুরী’ সহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ কাটিয়ে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে এযাবতকালের সর্বাধিক প্রায় ৩ লাখ ৯১ হাজার হেক্টরে বোরো আবাদ সম্পন্ন করলেন বরিশাল কৃষি অঞ্চলের কৃষকরা। যা ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৬২৫ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৮ হাজার হেক্টর বেশী। ফলে সমাপ্তপ্রায় রবি মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলে বোরো ধান থেকে যে প্রায় ১৭ লাখ ৬৮ হাজার টন চাল পাবার লক্ষ্য স্থির করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়, নির্বিঘেœ ঘরে তুলতে পারলে উৎপাদন ১৮ লাখ টনের মাইলফলক ছুঁতে পারে বলে আশা করছেন মাঠ পর্যায়ের কৃষিবীদরা। গত ১৫ মার্চ ছিল বোরো আবাদের শেষ দিন।

চলতি রবি মৌসুমে দফায় দফায় মৃদু থেকে মাঝারী শৈত্য প্রবাহে ‘কোল্ড ইনজুরী’র শিকার হলেও কৃষষকরা নানা লাগসই প্রযুক্তি অনুসরণ করে বেশীরভাগ বোরো বীজতলা রক্ষা করতে সক্ষম হন। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশী বীজতলা তৈরীর ফলে সব প্রাকৃতিক দুর্যোগ কাটিয়ে ১৫ মার্চের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত বোরো আবাদ সম্পন্ন করেছেন কৃষকরা।

যেকোন প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবার আগে বিপর্যয়ের শিকার হয় বরিশাল অঞ্চলের কৃষি সহ খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি। অথচ কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে কৃষির কোন বিকল্প নেই। অপরদিকে সার ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি কৃষক ও কৃষি অর্থনীতির জন্য ইতোমধ্যে যথেষ্ট নাজুক পরিস্থিতি তৈরী করেছে। দু,বছর আগে রবি মৌসুমেই ডিজেলে প্রায় ৩০ ভাগ মূল্য বৃদ্ধি বোরো আবাদ ও উৎপাদনে নতুন সংকট তৈরী করে। এরপরে দু দফায় সারের মূল্যবৃদ্ধিও নতুন সংকট তৈরী করেছে।

চলতি রবি মৌসুমে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি মাত্র ৭৫ পয়সা হ্রাস করা হলেও তা বোরো সেচাবাদে তেমন কোন ইতিবাচক প্রভাব ফেলছেনা। সার,বীজ, সেচব্যায় ও কৃষি শ্রমিকদের মজুরী বৃদ্ধির ফলে এবারো বরিশাল অঞ্চলে এক মণ বোরো ধানের উৎপাদন ব্যায় হাজার টাকা অতিক্রম করবে বলে মনে করছেন কৃষিবীদরা। বিগত রবি মৌসুমে ধান কাটার পরে বিক্রী করে উৎপাদন ব্যায় তুলতে পারেননি সংখ্যাগরিষ্ঠ কৃষক।

কারণ দেনার দায়ে এঅঞ্চলের বেশীরভাগ কৃষকদের মাঠে থেকেই মাড়াই করে ধান বিক্রী করতে হয়। ফলে আগাম এ ধান বিক্রীতে ফড়িয়াদের সিদ্ধান্তকে মেনে নেওয়ার কোন বিকল্প থাকছেনা।

অপরদিকে এবারো বরিশাল অঞ্চলে ৩.৮৪ লাখ হেক্টরে সেচাবাদকৃত বোরো ধানের অন্তত ৭৫ ভাগ সেচ ব্যবস্থাই ডিজেল চালিত পাম্পের ওপর নির্ভরশীল। ফলে সারা দেশের তুলনায় বরিশাল অঞ্চলে বোরো উৎপাদন ব্যায় অন্তত ২৫ ভাগ বেশী। দেশে সেচাবাদে ব্যবহৃত বিদ্যুতের ওপর ২০০২ সাল থেকে সরকার ২০ ভাগ ভর্তুকি দিলেও ডিজেলের ক্ষেত্রে তা এখনো অনুপস্থিত। মিল মালিকদের নিয়োজিত ফড়িয়া সিন্ডিকেটের কারণে এ অঞ্চলে ধানের দামে কৃষকের ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে না।

সেচ ব্যায় সারা বিশে^র মধ্যে বেশী হওয়ায় উৎপাদন ব্যায়ের তুলনায় ধানের দাম কম হওয়ায় কৃষকদের জীবনমানের কোন উন্নতি হচ্ছেনা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী আমাদের দেশে সেচ ব্যায় এখনো ধান উৎপদন ব্যায়ের প্রায় ২৮-৩০%। অথচ আমাদের নিকট প্রতিবেশী ভারতের মরুময় পাঞ্জাবে সেচ ব্যায় মোট উৎপাদন ব্যায়ের মাত্র ১৩%। যা থাইল্যান্ডে ৮% ও ভিয়েতনামে মাত্র ৬% ।

অপরদিকে প্রতিবছরই খরিপ-১, খরিপ-২ ও রবি মৌসুমে ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াশ’,‘অশণি’ ও ‘সিত্রাং’এর মত ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে লড়াই করেই ধান সহ সব ফসল উৎপাদন করতে হচ্ছে কৃষিযোদ্ধাদের। এমনকি গত অক্টোবরে বঙ্গোপসাগর থেকে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’র পরে নভেম্বরে আরেক ঝড় ‘মিধিলি’ দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান দানাদার খাদ্য ফসল আমনের উৎপাদনে যথেষ্ট বিরূপ প্রভাব ফেলে। এর আগে ঘূর্ণিঝড় ‘মোখার চোখ রাঙানীতেও আতংকে ছিল বরিশাল অঞ্চলের কৃষকরা।

একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ কৃষকদের ক্ষতির সাথে দু:শ্চিন্তাকে বৃদ্ধি করে চললেও বরিশাল কৃষি অঞ্চলে এবার ৩টি মৌসুমে দানাদার খাদ্য ফসল উৎপাদন ৫০ লাখ টন অতিক্রম করবে বলে আশাবাদী মাঠ পর্যায়ের কৃষিবীদরা। ইতোমধ্যে ১.৬০ লাখ টন উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রায় ৬০ হাজার হেক্টরে গমের কর্তণও শুরু হয়েছে। আউশের আবাদও শুরু হয়েছে। ফলে প্রায় ১৪ লাখ টন খাদ্য উদ্বৃত্ত এ অঞ্চলে এবার নির্বিঘেœ বোরো ধান ঘরে উঠলে খাদ্য উদ্বৃত্তের পরিমান আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদী মাঠ পর্যায়ের কৃষিবীদরা।

বিগত খরিপ-২ মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলে ৮ লাখ ৬৯ হাজার ৫৯৩ হেক্টরে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে কৃষি যোদ্ধারা ৮ লাখ ৮০ হাজার ৮৪৫ হেক্টরে আমন আবাদ সম্পন্ন করেন। যা ছিল লক্ষ্যমাত্রার প্রায় সাড়ে ১১ হাজার হেক্টর অতিরিক্ত। তবে বঙ্গোপসাগর থেকে ধেয়ে আসা একের পর এক ঘূর্ণিঝড় বারবারই বিপর্যয় ডেকে আনলেও সব বাঁধা অতিক্রম করে বিগত মৌসুমে এ অঞ্চলে প্রায় ২৩ লাখ টন আমন চাল ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছেন বরিশালের কৃষকরা। যা ছিল লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৭০ হাজার টন অতিরিক্ত।

সমাপ্ত প্রায় রবি মৌসুমে দেশে ৫০ লাখ ৪০ হাজার ৪শ হেক্টরে বোরো আবাদ লক্ষমাত্রা অতিক্রম করায় ২ কোটি ২২ লাখ ৬৭ হাজার টন চাল উৎপাদনে দৃড় আশাবাদী কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর-ডিএই সহ কৃষি মন্ত্রণালয়। যা হবে এযাবতকালের সর্বোচ্চ।