কণ্ঠশিল্পী খালিদ মারা গেছেন

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : ‘হয়নি যাবারও বেলা’, ‘সরলতার প্রতিমা’, ‘আবার দেখা হবে’র মতো অসংখ্য জনপ্রিয় গানের কণ্ঠশিল্পী খালিদ মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার (১৮ মার্চ) রাজধানীর পান্থপথের কমফোর্ট হাসপাতালে মারা যান তিনি। গীতিকবি ও সুরকার প্রিন্স মাহমুদ সংবাদ মাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

দীর্ঘ মিউজিক ক্যারিয়ারে খুব বেশি গান না করলেও সমসাময়িক শিল্পীদের তুলনায় প্রায় সব গানেই জনপ্রিয়তা পেয়েছেন খালিদ।

কোনো কারণেই ফেরানো গেল না তাকে’, ‘যদি হিমালয় হয়ে দুঃখ আসে’, ‘যতটা মেঘ হলে বৃষ্টি নামে’, ‘মনে তো পড়ে মন কেঁদেছিল’র মতো অনেক জনপ্রিয় গান রয়েছে খালিদের।




পিরোজপুরে সুপারি পাচার মামলায় চেয়ারম্যান কারাগারে

চন্দ্রদীপ নিউজ: পিরোজপুরে সুপারি পাচারের মামলায় শাহজাহান হাওলাদার (৬০) নামের এক চেয়ারম্যানকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

সোমবার (১৮ মার্চ) দুপুরে পিরোজপুরের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মাসুম বিল্লাহ তাকে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তিনি জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা ও উপজেলার তুষখালী ইউপি চেয়ারম্যান।

মামলার বরাতে জানা গেছে, গত ২৪ জানুয়ারি পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলা থেকে দেড় কোটি টাকার সুপারিসহ তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়। জব্দ করা এসব পণ্য ভারতে পাচারের উদ্দেশে বহন করা হচ্ছিল। এ সময় ট্রলারে থাকা মঠবাড়িয়া উপজেলার তুষখালি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শাহজাহান হাওলাদার পালিয়ে যান। তবে গ্রেফতার হন মঠবাড়িয়া উপজেলার তুষখালী এলাকার সেকেন্দার মাঝির ছেলে মো. হারুন মাঝি (৬০), একই এলাকার আব্দুল খালেক হাওলাদারে ছেলে অলি হাওলাদার (২৮) এবং মো. ফয়েজ হকের ছেলে নূর নবী মাঝি (৩২)। এ ঘটনায় পুলিশ শাহজাহান হাওলাদারসহ চার জনের নাম উল্লেখ করে স্থানীয় থানায় মামলা করেন।

এ ঘটনায় তখন শাহজাহান হাওলাদার উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন নেন। এ সময়ের মধ্যে তাকে পান নিম্ন আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। আজ তার জামিনের আবেদনের শুনানি শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠান।




পিরোজপুরে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে দুজন নিহত

বরিশাল অফিস::  পিরোজপুর সদর উপজেলায় দুইটি মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে দুই আরোহী নিহত হয়েছেন। সোমবার (১৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার পাড়েরহাট সড়কের মল্লিকবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের আরও দুই আরোহী গুরুতর আহত হয়েছেন।

পিরোজপুর সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসিকুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলেন- পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার উমেদপুর এলাকার মালেক শেখের ছেলে মো. হাসিব শেখ (২৬) ও ঝালকাঠির কাঠালিয়া এলাকার নুর মোহাম্মাদের ছেলে মাসুম বিল্লাহ (৫০)। আহতরা হলেন- পাড়েরহাট ইউনিয়নের বাদুরা এলাকার নুরু মিয়া এবং ইন্দুরকানী উপজেলার টগড়া এলাকার আরিফ হোসেন। তাদের দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের পাড়েরহাট সড়কের মল্লিকবাড়ি স্ট্যান্ড এলাকার সড়কে পিরোজপুর থেকে একটি মোটরসাইকেল পাড়েরহাটের দিকে যাচ্ছিল। অন্যদিকে অপর একটি মোটরসাইকেল ইন্দুরকানী থেকে পিরোজপুরের দিকে আসছিল। মল্লিকবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে একজন পথচারীকে সাইড দিতে গিয়ে মোটরসাইকেল দুটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। পরে স্থানীয়রা দুই মোটরসাইকেলের চারজন আরোহীকে উদ্ধার করে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক স্বাগত হালদার জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় দুজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। আহত দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

পিরোজপুর সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসিকুজ্জামান  বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।




কীর্তনখোলায় লঞ্চের পাখায় কাটা পড়ে নিখোঁজ জেলের পা উদ্ধার

বরিশাল অফিস::  কীর্তনখোলা নদীতে বরিশাল নৌ-বন্দরের পন্টুনে থামানো লঞ্চের পাখায় আটকেপড়া জাল ছাড়াতে গিয়ে কাটা পড়ে এক জেলে নিখোঁজ হয়েছেন।

সোমবার (১৮ মার্চ) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে সদর নৌ-থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল জলিল জানান।

নিখোঁজ জেলের একটি কাটা পা উদ্ধার করা হয়েছে। শরীরের অন্যান্য অংশ উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা তল্লাশি করছেন।

নিখোঁজ ওই জেলে হলো-আবেদ আলী (৩০) বরিশাল নগরের রসুলপুর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সোহরাব সর্দারের ছেলে। সে বেঁদে সম্প্রদায়ের জেলে। নিখোঁজ জেলে আবেদ তিনমাস বয়সী কন্যার জনক।

জেলে আবেদের স্ত্রী রুমা জানান, স্বামী, সে ও ভাগিনা ইয়াসিনকে নিয়ে কীর্তনখোলা নদীর নৌ-বন্দর এলাকায় জাল ফেলেন। স্রোতের টানে জাল গিয়ে নৌ-বন্দরে থাকা বরিশাল-ঢাকা রুটের এমভি পারাবাত-১১ লঞ্চের ইঞ্জিনের পাখায় আটকে যায়। লঞ্চের পেছনে থাকা এক কর্মচারীকে বলে পাখা থেকে জাল ছাড়াতে যায় স্বামী আবেদ। জাল ছাড়ানোর সময় ইঞ্জিন চালু দেয়। তখন কর্মচারীদের বললেও তারা বলে তাদের করার কিছু নেই।

বরিশাল সদর নৌ-থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল জলিল বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে লঞ্চের পাখায় কাটা পড়ে জেলে আবেদ নিহত হয়েছেন। পাখায় কাটা পড়া একটি পা উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি অংশ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। নৌপুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও বিআইডব্লিউটিএ যৌথভাবে তল্লাশি করছে।

ওসি জলিল বলেন, উদ্ধার করার পর পরিবারের সিদ্বান্ত অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পারাবাত লঞ্চের সুপারভাইজার মো. সেলিম জানান, লঞ্চের নিচে একজন জেলে জাল ছাড়াতে গিয়েছে কেউ বিষয়টি জানায়নি। ঘাটে লঞ্চ সরানোর জন্য ইঞ্জিন চালু করে। দুর্ভাগ্যক্রমে এ ঘটনা ঘটেছে। চিৎকার শুনে বিষয়টি জানতে পেরে ইঞ্জিন বন্ধ করা হয়েছে।

বরিশাল নৌ-বন্দর কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, খবর শুনে ফায়ার সার্ভিস ও নৌপুলিশ পাঠানো হয়েছে। তারা উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। উদ্ধারের পর পরবর্তী সিদ্বান্ত নেওয়া হবে।




বরিশালের স্বাস্থ্য কার্ড দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ

বরিশাল অফিস:: বরিশালের আগৈলঝাড়ায় স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচির (এসএসকে) স্বাস্থ্য কার্ড দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, গত ডিসেম্বর মাসের ২৬ তারিখে দারিদ্র সীমার নিচে বসবাসকারী পরিবারের নিবন্ধন ও তালিকাভুক্তি সম্পন্ন করতে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ১০ জন ফিল্ড অ্যাসিস্টেন্ট নিয়োগ দেয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি (এসএসকে)।
আর তাদের বিরুদ্ধেই উপজেলার দারিদ্র সীমার নিচে বসবাসকারী পরিবারের তথ্য সংগ্রহ ও স্বাস্থ্য কার্ড দেওয়ার নামে ৫০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি উপজেলার দক্ষিণ শিহিপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়েও স্থানীয় সাংবদিকরা বিষয়টি অবগত হন। স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচির ফিল্ড অ্যাসিস্টেন্ট সৈকত মধু ও কবিতা খানম বিভিন্ন পরিবারের কাছ থেকে স্বাস্থ্য কার্ড দেওয়ার নাম করে ৫০ টাকা নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

তখন ফিল্ড অ্যাসিস্টেন্ট সৈকত মধু ও কবিতা খানমকে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা জানান, বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য নেওয়ার কারণে ওই টাকা নেওয়া হয়েছে।

আর স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচির (এসএসকে) সুপারভাইজার সাইদুল ইসলাম সাগর জানান, কোনো পরিবারের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। তারা যেসব পরিবারের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে তাদের ডেকে সেই টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বখতিয়ার আল মামুন জানান, সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার নিমিত্তে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচির (এসএসকে) আওতায় বিভিন্ন পরিবারকে স্বাস্থ্য কার্ড দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, আগৈলঝাড়ায় ৯ হাজার ৪ শত ৬৩টি পরিবারকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচির (এসএসকে) স্বাস্থ্য কার্ড দেওয়ার কথা রয়েছে।




বরিশালকে সর্বোচ্চ পেনশন স্কিমের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি

বরিশাল অফিস:: বরিশাল জেলায় প্রথমবারের মতো জেলার সব ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সর্বজনীন পেনশন স্কিম বাস্তবায়ন বিষয়ক মতবিনিময় সভা হয়েছে।

সোমবার (১৮ মার্চ) বেলা ১২টায় জেলা প্রশাসন বরিশালের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সম্মেলন কক্ষে জেলার সব ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) উদ্যোক্তাদের সঙ্গে এ সভা হয়।

বরিশালে জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মনদীপ ঘরাই, ১০ উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা ও ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) উদ্যোক্তারা।

শুরুতে সর্বজনীন পেনশন স্কিম নিয়ে ভিডিও ডকুমেন্টারি ও পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। পরে উন্মুক্ত আলোচনা শেষে সংক্ষিপ্ত এক আলোচনায় অতিথিরা সর্বজনীন পেনশন স্কিমের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরে আলোচনা করেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক বরিশাল শহিদুল ইসলাম বলেন, সর্বজনীন পেনশন স্কিম বাস্তবায়নে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) উদ্যোক্তাগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাদেরকে এ পেনশন স্কিম বাস্তবায়নে শুভেচ্ছা দূত হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় উদ্যোক্তারা জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বরিশাল জেলাকে সর্বোচ্চ পেনশন স্কিমের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

গত ১৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি এমনভাবে করা হচ্ছে যাতে দেশের ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী সব নাগরিকই এ ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারবেন এবং ৬০ বছর বয়স থেকে তারা আজীবন পেনশন পাবেন। শুরুর দিকে চিন্তা না থাকলেও পরে ৫০ বছরের বেশি বয়সীদেরও পেনশন কর্মসূচির আওতায় রাখার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। তারা টানা ১০ বছর চাঁদা দেওয়ার পরই পেনশন সুবিধা পাবেন। আপাতত চার শ্রেণির জনগোষ্ঠীর জন্য চার ধরনের পেনশন কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে।

এগুলো হচ্ছে- প্রগতি, সুরক্ষা, সমতা ও প্রবাসী। এর মধ্যে বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের জন্য ‘প্রগতি’, স্বকর্মে নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য ‘সুরক্ষা’, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ‘প্রবাসী’ এবং দেশের নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য ‘সমতা’ শীর্ষক কর্মসূচি চালু করা হবে।

‘প্রগতি’ ও ‘সুরক্ষা’ কর্মসূচির আওতায় মাসিক চাঁদার হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। ‘প্রবাসী’ কর্মসূচিতে মাসিক চাঁদার হার ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। ‘সমতা’ কর্মসূচিতে মাসিক চাঁদা ৫০০ টাকা। এ কর্মসূচিতে সমপরিমাণ অর্থাৎ ৫০০ টাকা করে চাঁদা দেবে সরকার।




রাতের আঁধারে কীর্তনখোলা নদী থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ

বরিশাল অফিস::  রাতের আঁধারে বরিশালের কীর্তনখোলা নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে।

দিনের বেলায় ওই চক্রের ড্রেজারগুলো বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়ার লামচরী প্রান্তসহ বিভিন্ন খালের মুখে ভেড়ানো থাকে। আর রাত গভীর হলেই শুরু হয় বালু উত্তোলন। এদিকে অব্যাহত বালু উত্তোলনের ফলে ভাঙনের কবলে পড়েছে নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর লামচরীর কীর্তনখোলা নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করছে ওই চক্রটি। তারা প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে পরদিন সকাল ৭টা পর্যন্ত বালু উত্তোলন করেন। এতে নদী ভাঙনের হুমকির মুখে পড়ছেন উত্তর লামচরী, মধ্য লামচরী ও চরকান্দার বিস্তীর্ণ জনপদের বাসিন্দারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, প্রতিবাদ করে কোনো লাভ নেই। ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় এসব ড্রেজার চলে। আর মধ্যরাতে প্রতিবাদ করতে গেলে প্রাণও হারাতে হতে পারে। তার চেয়ে ভালো নদী ভাঙনের অপেক্ষায় থাকা, আর ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া।

এ বিষয়ে বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহাবুব উল্লাহ মজুমদার বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত অভিযান চালাচ্ছি। গত রাতেও অন্য একটি জায়গায় অভিযান চালিয়ে দুইটি ড্রেজার জব্দ করা হয়েছে।




বরিশালে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখার দায়ে চার ব্যবসায়ীকে জরিমানা

 বরিশাল অফিস:: বরিশালের গৌরনদীর টরকী বন্দরের চারটি ওষুধের দোকানে অভিযান চালিয়ে ২২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (১৮ মার্চ) দুপুরে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এ অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানে সরকার মেডিকেল হলকে ১০ হাজার, শুভ মেডিকেলকে পাঁচ হাজার, জীবন মেডিকেলকে পাঁচ হাজার ও আনোয়ারা মেডিকেল হলকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বরিশালের উপ-পরিচালক অপূর্ব অধিকার। এ সময় সহকারী পরিচালক ইন্দ্রানী দাস, উপজেলা সেনেটারি ইন্সপেক্টর শংকর কুমার উপস্থিত ছিলেন।




বাউফলে দুটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ, ১ ব্যক্তির কারাদণ্ড, ১ লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ১ ব্যক্তির কারাদণ্ডসহ ১ লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার সকাল নয়টা থেকে বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত এ অভিযান পরিচালনা করেছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক কুমার কুন্ডু।

অভিযানে অবৈধভাবে করাতকল চালানোর দায়ে উপজেলার নওমালা ইউনিয়নের ভাঙাব্রিজ এলাকায় মো. হানিফ চৌকিদার (৬০) নামে এক ব্যক্তির দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং অবৈধ করাতকল বন্ধ করে দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

একই আদালত আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের মিল ঘর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. শাহাবুদ্দিন নামে এক ব্যক্তির অবৈধ করাতকল বন্ধ করে ওই করাতকলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন।

অবৈধভাবে পুকুর থেকে বালু উত্তোলনের দায়ে সাবুপুরা এলাকায় মো. সোহেল (৩৫) ও মো. গোলাম মোস্তফা (৪৫) নামে দুই ব্যক্তির প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক কুমার কুন্ডু।




কেজিতে তরমুজ বিক্রি হয় জানে না চাষি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

ঢাকা শহরে তরমুজের কেজি ৭০-৮০ টাকা। রমজানে চাহিদা থাকায় দাম অনেকটা বাড়তি। তবে প্রান্তিক কৃষকের অনেকে জানেনই না, তরমুজ কেজি দরে বিক্রি হয়। তারা পিস হিসেবে বিক্রি করেন। এরপর যতবার তরমুজ হাত বদল হয় ততবারই দাম বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে ভোক্তার কাছে এসে ঠেকে কেজিতে। যার দাম কৃষকের কাছে অকল্পনীয়।

দেশে তরমুজ চাষে সুনাম রয়েছে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার। দেশের বাজারে সরবরাহকৃত তরমুজের বড় একটি অংশ আসে এই এক উপজেলা থেকে। উপজেলার প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে তরমুজ চাষ, ব্যবসা, বহনের সঙ্গে জড়িত।

উপজেলার কয়েকজন প্রান্তিক তরমুজ চাষিরা জানিয়েছে, রাজধানী ঢাকাকে তরমুজ কেজিতে বিক্রি হয়—এ সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নেই। তারা শুরু থেকেই তরমুজ পিস হিসেবে বেচা-কেনা করে আসছেন। ঢাকায় তরমুজের কেজি কত সে সম্পর্কে কেউ কেউ সংবাদ মাধ্যম থেকে জানলেও অনেকের অজানা।

তরমুজ চাষিরা জানিয়েছেন, দুইভাবে তরমুজ বিক্রি করেন তারা। প্রথমত ক্ষেত চুক্তি, এতে পুরো ক্ষেতের তরমুজ অনুমান করে একসঙ্গে বিক্রি করে দেওয়া হয় ব্যবসায়ীদের কাছে। এতে মূল চাষির ব্যয়ের সঙ্গে লাভ ধরে দাম নির্ধারণ করে তারা। বিক্রির পর ব্যবসায়ীরা তাদের সময়-সুযোগ অনুযায়ী ক্ষেত থেকে তরমুজ নিয়ে যান।
দ্বিতীয়ত, ক্ষেত থেকে তরমুজ কেটে শ হিসেবে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়। এ ক্ষেত্রে ওজন ও আকার অনুযায়ী ক্যটাগরি নির্ধারণ করা হয়।

তরমুজ চাষি শাখাওয়াত, সিরাজসহ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, আনুমানিক পাঁচ কেজি ওজনের একটি তরমুজ তারা ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করেন। এদিকে ঢাকায় ৮০ টাকা কেজি হলে তরমুজটির দাম হয় ৪০০ টাকা। মধ্যসত্বভোগী ব্যবসায়ীরাই এই লাভ করছেন। প্রান্তিক চাষিরা সামান্য লাভেই তরমুজ বিক্রি করছেন।
তাদের দাবি, শহরে দাম এতো বেশি হলে তরমুজের বাজারে বিরুপ প্রতিক্রীয়া হবে। যার প্রভাব পড়বে ক্ষেতের তরমুজে। ভোক্তা তরমুজ কেনা বন্ধ বা কমিয়ে দিলে মাঠে অবিক্রিত তরমুজ নষ্ট হবে বলে ধারণা তাদের। অথবা লসে বিক্রি করতে হবে চাষিদের।

উপজেলার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৭ থেকে ১০ কেজির একটি তরমুজ পিস হিসেবে সর্বোচ্চ ২৭০ টাকা দরে বিক্রি করছেন চাষিরা। আর ছোট তরমুজ (পাঁচ কেজির নিচে) ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে চাষিদের কাছ থেকে কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজিতে কিনছেন ব্যবসায়ীরা।
রাঙ্গাবালী থেকে তরমুজ ট্রলারে নেওয়া হয় গলাচিপা উপজেলায়। এতে প্রতি পিস তরমুজে খরচ হয় পাঁচ টাকা। সেখান থেকে ট্রাকে করে ঢাকায় নেওয়া হয় তরমুজ।

আড়ৎদার, ব্যবসায়ী, ট্রাকচালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একটি বড় ট্রাকে বড় সাইজের (৭-১০ কেজি) ২৫০০ পিসের মতো তরমুজ ধরে। আর তরমুজ মাঝারি ও ছোট মিলে তিন থেক সাড়ে তিন হাজার তরমুজ নেওয়া যায়। এতে ট্রাক প্রতি খরচ হয় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। এতে গড়ে তরমুজ প্রতি প্রায় ১০০ টাকা খরচ হয় বলে জানিয়েছেন তারা।

ট্রাকচালক ইমরান শেখ বলেন, ‘আমাদের তেল এবং টোল খরচেই চলে যায় টাকা। এর বাইরেও টুকটাক খরচ আছে। পথে বিভিন্ন জায়গায় নামে-বেনামে টাকা তোলা হয়। সব মিলিয়ে মালিকের তেমন কিছু থাকে না।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এই মৌসুমে রাঙ্গাবালী উপজেলায় ইতোমধ্যে পাঁচ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে তরমুজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল সাড়ে আট হাজার হেক্টর জমি। লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং অনুকূলে পরিবেশ থাকলে সাড়ে ৫০০ কোটি টাকার তরমুজ উৎপাদনের আশা ব্যক্ত করেছিল কৃষি বিভাগ। তবে পোকার আক্রমন এবং রোগের কারণে প্রায় ৩৫ হেক্টরের মত তরমুজের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেক্ষেত্রে উৎপাদন ও আবাদ কম হওয়ায় ৩৫০ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হবে ধারণা।
উপজেলার কাউখালী এলাকায় প্রায় ১৩ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ করেছেন ছোট বাইশদিয়ার চাষি মিথেল হাওলাদার। শুরুতেই জমি সমস্যায় তার প্রায় ৩ হেক্টর জমির গাছ মরে গেছে। সব সমস্যার পরেও যা ফলন হয়েছে তাতেও লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

মিথেল হাওলাদার বলেন, ‘তরমুজ চাষে কখনও কপাল খোলে কখনও পথে বসতে হয়। তবুও আমরা থেমে থাকি না। এবার উৎপাদন খরচ অনেক বেশি তবুও লাভের আশায় আছি। কিন্তু শুনেছি ঢাকায় তরমুজ কেজি হিসেবে বিক্রি হয়, দামও অনেক। তরমুজকে যদি মানুষের সাধ্যের বাইরে নিয়ে যায় ব্যবসায়ীরা তবে এর ওপর থেকে ভোক্তা মুখ ফিরিয়ে নেবে। এতে বড় ক্ষতি হবে আমাদের। মাঠের তরমুজ নিয়ে পথে বসতে হবে আমাদের।’

দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রাঙ্গাবালীতে আসা আড়ৎদার ও তাদের প্রতিনিধিদের দাবি, তারা ঠিক দামে বিক্রি করলেও কারসাজি হয় খুচরা বাজারে। এ সম্পর্কে কিছুই জানেন না তারা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘প্রতি হেক্টর জমিতে প্রায় ২৫-৩০ টন তরমুজ হয়ে থাকে। কৃষকরা তরমুজ পিস হিসাবে বা সমগ্র ক্ষেতের তরমুজ একত্রে বিক্রি করে দেয়। সেক্ষেত্রে দেখা যায় প্রতি কেজি তরমুজের দাম ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত সর্বোচ্চ দাম কৃষক পায়। কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীরা পিস হিসেবে ক্রয়কৃত তরমুজ ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে থাকে। এর চাপ পড়ে ভোক্তাদের ওপর।’