গলাচিপা পৌর শহরে ভোক্তার অভিযান, ৯ হাজার টাকা জরিমানা।

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌর শহরে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযানে পাঁচটি দোকানে নয় হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ১০ টা থেকে দুপুর পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করেন ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর পটুয়াখালীর সহকারী পরিচালক মো:  শাহ শোহাইব মিয়া ও সেনেটারি ইন্সপেক্টর শুভঙ্কর চন্দ্র দাস।

অভিযানে মূল্য তালিকা না থাকা, মেয়াদ উত্তীর্ণ ও নকল প্রোডাক্ট রাখার দায়ে ৫ টি দোকানে জরিমানা করা হয়। এ সময় শেখর কসমেটিকস ৩ হাজার টাকা, লামিয়া কসমেটিকস এক হাজার ৫শত টাকা, বিসমিল্লাহ পোল্ট্রি এক হাজার ৫শত টাকা, মিম স্টোর্স ফলের দোকান দুই হাজার টাকা, ও রফিকুল ইসলাম বীজ ভাণ্ডারে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান শেষে মোঃ শাহ শোহাইব মিয়া জানান, রমজানে দ্রব্যমূল্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান চলছে। মঙ্গলবার গলাচিপা পৌর শহরের বিভিন্ন দোকানে অভিযান পরিচালনা করে ব্যবসায়ীদের সতর্ক ও জরিমানা করা হয়।

 




বাউফলে সড়কের নির্মাণকাজে ধীরগতি: ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নাজিরপুর- তাতেরকাঠী ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে উপজেলার সদরের য়োগাযোগের প্রধান সড়কের নির্মাণ কাজে ধীরগতি ও নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সড়কে খোয়া ফেলে রাখায় চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন ওই ইউনিয়নের হাজারো মানুষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পল্লী সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় এলজিইডি ২০২২-২০২৩ইং অর্থ বছরে দরপত্রের মাধ্যমে দুই কিলোমিটার সড়কের কাজের দায়িত্ব দেন পটুয়াখালীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতারা এন্টারপ্রাইজকে। কাজের মূল্য নির্ধারন করা হয়েছে ৯২ লাখ ৪ হাজার ৩৭৫ টাকা। ওই অর্থ বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা। 

কিন্তু সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির অধিকাংশ জায়গায় কার্পেটিং উঠে মাটি বের হয়ে আছে। এরই মধ্যে ইটের খোয়া বিছিয়ে রাখা হয়েছে। মোটরসাইকেল কিংবা অন্য কোনো যানবাহন ওই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় ধুলোয় সব লালচে হয়ে যায়। আশপাশের গাছপালাও লালচে হয়ে গেছে। সড়কটির এক পাশ থেকে আরেক পাশে পানি নামার জন্য মোল্লা বাড়ি ও দেওয়ান বাড়ির মাঝখানে একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মাণের ছয় মাস যেতে না যেতেই কালভার্টটির মাঝখানের ঢালাইয়ের পাথর উঠে যাচ্ছে। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ও সিমেন্টের পরিমান কম দেওয়ায় এমনটি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন আবুল বশার নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা।

সড়কটির পাশে রয়েছে নাজিরপুর ছোট ডালিমা সরকারি প্রাথমমিক বিদ্যালয়, নাজিরপুর ছোট ডালিমা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ধানদী কামিল মাদ্রাসা, ধানদী নুরানী মাদ্রাসা ও ধানদী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ধানদী বাজার। প্রতিদিন ওই সড়কটি দিয়ে পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ তিন হাজারেরও বেশি মানুষ যাতায়াত করে। দীর্ঘদিন খোয়া ফেলে রাখায় ওই প্রতিষ্ঠান গুলোর শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের শেষ নেই।

নাজিরপুর ছোট ডালিমা সরকারি প্রাথমমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসা. নাজমা বেগম বলেন, সড়কের পাশেই তাঁর বিদ্যালয়টি। খোয়ার ধুলার কারণে শ্রেণিকক্ষে শিশু শিক্ষার্থীদের পাঠদান বিঘ্নিত হচ্ছে। এ কারণে পানি ছিটিয়ে পাঠদান করাতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মিজানুর রহমান বলেন, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ সঠিক না। একটু আর্থিক সমস্যার কারণে কাজটি শেষ করতে বিলম্ব হয়েছে। আগামি এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ শুরু এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করা হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. মানিক হোসেন বলেন, ‘তিনি সদ্য যোগদান করেছেন। বিষয়টি তার জানা নেই। আজকেই ঠিকাদারকে লিখিত ভাবে দ্রুত কাজ শেষ করার তাগিদ দেওয়া হবে। এর ব্যতয় হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 




বরিশালের মেঘনায় অভিযানে ২ কোটি টাকার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্

বরিশাল অফিস:;  বরিশালের মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫০ লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। আজ (১৯) মার্চ মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে হিজলা উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম।

তিনি জানান, নৌ পুলিশ, থানা পুলিশের সহযোগীতায় বরিশালের হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা মৎস্য দপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন মেঘনা নদীতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।

অবিযানে প্রায় ৫০ লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করে তা পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে। আর ওইসব জালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা বলেও জানান তিনি।




ভোলায় নদী দখল করে মাছের ঘের

বরিশাল অফিস:: ভোলা সদর উপজেলার চরসামাইয়া ও ভেলুমিয়া ইউনিয়েনর মধ্যে প্রবাহিত জাঙ্গালিয়া নদীর দৈর্ঘ প্রায় ১৫ কিলোমিটার। এ নদীর বেশ কয়েকটি স্থানে বাঁধ দিয়ে দখল করে মাছের ঘের নির্মাণ করেছেন কয়েকজন প্রভাবশালী। কৃষকসহ স্থানীয়দের শঙ্কা, এতে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাবে। শুকনো মৌসুমে নদীর পানি সেচ কাজে ব্যবহার করা যাবে না। আর বৃষ্টি হলেই দেখা দেবে জলাবদ্ধতা। এতে ভোগান্তি পোহাতে হবে তাদের।

সরেজমিন দেখা গেছে, পশ্চিম চরকালি মৌজার শান্তিরহাট ব্রিজের দক্ষিণ পাশে নৌযান চলালচল ও কৃষির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ জাঙ্গালিয়া নদীটি দখলে উৎসবে মেতেছে ভূমিদস্যুরা। খননযন্ত্র দিয়ে মাটি কেটে নদীর মধ্যেই ঘের নির্মাণকাজ করছে। এ কাজে জড়িত প্রভাবশালী মাকসুদ মাতাব্বর, ইয়াছিন শনি ও ইসমাইল। তারা শনি পাঁচটি ঘের নির্মাণ করেছেন। প্রতিটি ঘেরে ৮ থেকে ১০ একর করে জমি রয়েছে। ব্রিজের উত্তর পাশে হাজি কামাল নামের আরেকজন দুটি ঘের নির্মাণ করেছে। যার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। কামালের পাশেই গত বছর মো. জাফর নামের অপর এক প্রভাবশালী নদীর মধ্যে ঘের নির্মাণ করে মাছ চাষ করেছেন। গত বছর দুটি ঘের নির্মাণ করা হয়।

প্রকাশ্যে নদী ভরাটের কাজ চললেও দখলমুক্ত করতে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না স্থানীয় প্রশাসন। এদিকে মাটি কেটে ১২ থেকে ১৬ ফুট উঁচু বাঁধ দেওয়ায় নদীর পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া বাঁধের সঙ্গে পলি জমে নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে, যা পরবর্তী সময়ে ভমিদস্যুরা নিজেদের জমি হিসেবে দখল করে নিচ্ছে। এতে ধানসহ চাষাবাদ হুমকির মধ্যে পড়ার আশঙ্কা করছেন রফিজুল ইসলাম, মো. হোসেন, আবদুল হকসহ অনেকে। তাদের অভিযোগ, নদী দখল করা বা নদীর পড়ে এমন ঘের নির্মাণ সম্পূর্ণ বেআইনি। এভাবে নদীতে বাঁধ দেওয়ায় নাব্য সংকট দেখা দেবে। যার প্রভাব পড়বে প্রকৃতি ও কৃষিতে।

এ বিষয়ে মাকসুদ মাতব্বর জানান, সেকমা ও বাঘমারা মৌজায় নদীর পাড়ে তিনি চারটি ঘের নির্মাণ করছেন। বন্দোবস্ত নেওয়া জমির মালিকদের কাছ থেকে তিনি চুক্তিপত্রের মাধ্যমে এসব জমি ইজারা নিয়ে মাছের খামার করছেন। তবে এ-সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তিনি। আরেক দখলদার ইয়াছিন শনি জানান, ভাই ইসমাইলসহ তারা নদীর পাড়ের ৯৫ শতাংশ জমি কিনেছেন। আর ৫৫ শতাংশ জমি লগ্নি নিয়ে মাছের ঘের করছেন। তবে নদী দখলের বিষয়টি তারা এড়িয়ে যান। তিনি কেনা জমির দলিল দেখাতে পারেননি।

প্রকৃতি ও কৃষি রক্ষায় নদী দখলমুক্ত রাখার ওপর গুরুত্ব অপরিসীম জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান। তিনি বলেন, নদী-খাল হচ্ছে এলাকার প্রাণ। এ পানির কারণে প্রকৃতি ও কৃষি রক্ষা পায়। নদী দখল করলে কৃষি ও নাব্য সংকট দেখা দেবে, যা ওই এলাকার জন্য খুবই ক্ষতিকারক।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আলী সুজা বলেন, নদী দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে সত্যতা পেলে দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে নদীর জায়গা কোনো অবস্থাতেই বন্দোবস্তযোগ্য নয়। ব্যক্তিমালিকানায় রেকর্ড হওয়ারও সুযোগ নেই বলে জানান এ কর্মকর্তা।




স্বাধীনতার ৫৪ বছরে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি নিয়ে বরিশালে সভা

বরিশাল অফিস::  স্বাধীনতার ৫৪ বছরে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির সমীকরণ নিয়ে ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ শাখা উন্মুক্ত আলোচনা সভা করেছে।

সোমবার (১৮ মার্চ) দুপুরে কলেজের কবি জীবনানন্দ দাশ চত্বরে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল কলেজ শাখার উদ্যোগে এ সভা হয়। গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল ব্রজমোহন কলেজ শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক তন্ময় মিত্রের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব হুজাইফা রহমানের সঞ্চালনা সভা হয়।

বক্তৃতা দেন, লেখক মুস্তাফিজুর রহমান, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুজয় শুভ, বরিশাল জেলা শাখার সংগঠক রাকিব মাহমুদ, ব্রজমোহন কলেজ শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সুজয় সরকার প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রধান উদ্দেশ্য ছিলো সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায় বিচারের স্বাধীন ভূখণ্ড আজও তৈরি হয়নি। ফলে আজ আমাদেরকে শপথ নিতে হবে মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা বাংলাদেশ নির্মাণের।

বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার অর্ধ শকতেরও বেশি সময় পরও শোষনহীন সাম্যের সমাজ তৈরি হয়নি। মুক্তিযুদ্ধকালীন পরাধীন দেশের নিপীড়িত মানুষের দেখা স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেছে। নাগরিকের ন্যূনতম গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। ভোটাধিকার থেকে শুরু করে মত প্রকাশের স্বাধীনতা অধরাই থেকে গেছে আজও। বিচারহীনতার সংস্কৃতি জেকে বসেছে গোটা দেশের ঘাড়ের ওপর। নিপীড়কের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে দেশ। আমাদের শাসকেরা গত ৫০ বছরে স্বাধীনতাকামী মানুষদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।

বক্তারা আরও বলেন, একটা স্বাধীন ভূখণ্ড আমরা পেয়েছি। কিন্তু প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো আমাদেরকে মর্যাদার চোখে দেখবে এতটুকু নিশ্চিত করার মত পররাষ্ট্র নীতি আমরা তৈরী করতে পারিনি। সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াই করে একটা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ নির্মাণের জন্য আমাদের সূর্য সন্তানেরা জীবন দিয়েছিলেন। কিন্তু সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি আমরা কোনোভাবেই রক্ষা করতে সমর্থ হয়নি। কারণ শাসকেরা বারে বারে এই সাম্প্রদায়িক সুড়সুড়িকে ব্যবহার করে রাষ্ট্র ক্ষমতা নিশ্চিত করেছে।




স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্যে ববি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

বরিশাল অফিস:; বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী দেবশ্রী রায় আত্মহত্যা করেছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক শাহাদাত হোসেন আত্মহত্যার তথ্য নিশ্চিত করেছেন৷

রোববার (১৭ মার্চ) বিকালে খুলনায় তার স্বামীর বাড়িতে আত্মহত্যা করেন বলে তার সহপাঠীরা নিশ্চিত করেছেন। দেবশ্রীর গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার তালা থানায়৷

আত্মহত্যার কারণ জানতে চাইলে নামপ্রকাশ না করার শর্তে এক সহপাঠী জানান, স্বামীর সঙ্গে হাতের বালা কিনে দেওয়া নিয়ে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়, তার জন্য আত্মহত্যার পথ বেঁছে নিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি।

ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক শাহাদাত হোসেন বলেন, তার বাবার সাথে কথা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর তার লাশ গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে তাদের ক্লাস প্রতিনিধি (সিআর) আমাকে জানিয়েছে পারিবারিক কলহের কারণে সে আত্মহত্যা করেছে।




স্ত্রী হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত স্বামী গ্রেফতার

বরিশাল অফিস:: ১৪ বছরেরও বেশি সময় পালিয়ে থাকার পর স্ত্রী হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত প্রধান আসামি নজরুল ইসলাম (৫৩) র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছে।

পিরোজপুর জেলা সদরের কৃষ্ণচূড়া এলাকা থেকে সোমবার দিবাগত রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে র‌্যাব-৮ এর মিডিয়া সেল।

২০০৯ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিরোজপুরের ধূলিয়ারী কদমতলা গ্রামের একটি ডোবা থেকে অজ্ঞাতনামা হিসেবে নজরুলের স্ত্রী নাসিমার (২০) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। সেই মামলায় নজরুলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও বিশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন আদালত।

ঘটনার পর থেকেই নজরুল পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেন আদালত। নজরুল পিরোজপুর জেলার সদরের চলিশা এলাকার মৃত জাবেদ আলী খানের ছেলে।

র‌্যাব জানায়, গত ২০০৯ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিরোজপুর সদর থানাধীন ধূলিয়ারী কদমতলা গ্রামের একটি ডোবা থেকে অজ্ঞাতনামা নারীর হাত-পা বাধা অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সেই ঘটনায় থানা পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্তে বের হয়ে আসে অজ্ঞাতনামা নারী হচ্ছে সাজাপ্রাপ্ত নজরুল ইসলামের স্ত্রী নাসিমা (২০)। এ ঘটনায় নজরুলের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় আদালত থাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

র‌্যাব আরও জানায়, র‌্যাব-৮ ছায়াতদন্ত করে এবং আধুনিক তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দণ্ডপ্রাপ্তের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করে পিরোজপুর সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।




কলাপাড়ায় তরমুজ ক্ষেতে পাইকারদের হুমড়ি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম ইবাদতের মাস পবিত্র মাহে রমজান। তবে তেজদীপ্ত রোদেলা আবহাওয়ায় সংযমী হতে একটু বেশিই ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন রোজদাররা। ফলে দিন শেষে ইফতারিতে পিপাসা মেটাতে হরেক রকম অয়োজন করে থাকেন অনেকেই। এর মধ্যে জনপ্রিয়তার তালিকায় অন্যতম হচ্ছে জিভে জল আনা রসালো তরমুজ।

তবে সম্প্রতি রোজাকে কেন্দ্র করে এর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ক্ষেতে গিয়ে ইফতারির এই অনুষঙ্গের খোঁজ করছেন বড় ক্রেতারা। ফলে তরমুজ চাষিদের মাঠে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন পাইকাররা।

চলমান মাহে রমজানে মিষ্টি স্বাদের রসালো তরমুজের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। তাই পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিস্তীর্ণ তরমুজ আবাদের মাঠজুড়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। আর তরমুজ মৌসুমেই রমজান থাকায় বেশ দামও হাঁকাতে পারছেন চাষিরা। তবে দূর-দূরান্ত থেকে আগত পাইকারদের ভিড়ে এক প্রকার তরমুজশূণ্য স্থানীয় বাজারগুলো।

সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, রোদের তীব্রতা উপেক্ষা করে চাষিদের ক্ষেত থেকেই তরমুজ ট্রাকে তুলে নিচ্ছেন পাইকাররা। আর অর্থের বিনিময়ে এই কাজে সহায়তা করছেন স্থানীয় শ্রমিকরা।

উপজেলার টিয়াখালী ইউপির দক্ষিণ টিয়াখালী গ্রামের তরমুজ ক্ষেতে কথা হয় চাষি রুহুল গাজীর সঙ্গে। তিনি জানান, তিনটি ক্ষেতে মোট ৪১ একর জমিতে বিট ফ্যামিলি এবং ড্রাগন প্রজাতির তরমুজ চাষ করেছেন তিনি। এই মৌসুমে উৎপাদন ব্যয় বাবদ দৈনিক ১০ জন শ্রমিক দিয়ে ৪৬ লাখ টাকা খরচ করেছেন এই চাষি। ফলে সাড়ে চার মাসে ঘাম ঝরানো সঠিক পরিচর্যায় পরিপক্ক ফসল পেয়েছেন তিনি। এখন তিনটি ক্ষেত বিক্রি করেছেন ৭১ লাখ টাকায়। কোনো রোগবালাই না থাকায় রমজানের মধ্যে বেশ বাজার মূল্য পেয়েছেন বলে জানান এই উদ্যোক্তা।

ভোলা থেকে এই চাষির তরমুজ কিনতে আসা পাইকার মাসুম বিল্লাহ জানান, ৪৬ লাখ টাকায় রুহুল গাজীর ২৫ একরের একটি ক্ষেত কিনেছেন তিনি। আরো চাহিদা থাকলেও তরমুজ সঙ্কটে নিতে পারেননি। তবে শ্রমিক ও পরিবহন খরচ বাদ দিয়েও ৬ লাখ টাকা লাভ হবে তার।

এছাড়া রসালো এই মৌসুমি ফল কিনতে আগত পাইকাররা বিভিন্ন কৃষকের ক্ষেতে হন্যে হয়ে ঘুরছেন বলে জানান বিনিয়োগকারী।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় ১৩শ ২৩ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ করেছেন চাষিরা। তবে এর মধ্যে ধানখালী, বালীয়াতলী ও টিয়াখালীতে সবচেয়ে বেশি তরমুজের ফলন হয়েছে।

এবছর কৃষকরা ভালো দাম পাওয়ার পাশাপাশি তরমুজ চাষে স্থানীয় সরকারের লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে বলেও জানান তিনি।

 




সাগরে নিখোঁজ ২৫ জেলের সন্ধান আজো মেলেনি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

চার মাস আগের ঝড়ের ঘটনা, পেটের তাগিদে গভীর সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ঘূর্ণিঝড় মিধিলির ঝড়ের কবলে নিখোঁজ হয় পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ২৫ জেলে। যাদের সন্ধান আজো মেলেনি। এখন পরিবারের আকুতি-নিখোঁজ জেলেদের ভাগ্যে কি ঘটেছে? তা জানতে চান তারা।

জানা গেছে, গভীর বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে গত বছরের ১৭ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় মিধিলির কবলে পড়ে নিখোঁজ হয় ২৫ জেলে। ঘটনার চার মাস হয়ে গেলেও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ জেলেদের মধ্যে তিন বোনের তিন ছেলে রয়েছে।
তারা হলেন- উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামের জিসান, নয়াভাঙ্গুনি গ্রামের তামিম ও কামরুল।
ওই ইউনিয়নের কাউখালী গ্রামের বাসিন্দা হাসান জোমাদ্দারের ট্রলারে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন তিন খালাতো ভাই। কিন্তু ঝড়ের পর বাড়ি ফেরা হয়নি তাদের। তাই দিশেহারা তাদের পরিবার।

নিখোঁজ তিন জেলের মামা শিহাব উদ্দিন বলেন, ‘প্রশাসনকে জানিয়েছি। আমরা ট্রলার নিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি। ওরা বেঁচে আছে নাকি নাই তাও জানতে পারছি না।’

শুধু এ তিন জেলে পরিবারের এমন হতাশা নয়-বাকি ২২ জেলে পরিবারের ভাষ্যও এক।

তারা বলছেন, ‘বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। সুন্দরবন, মংলায় খোঁজাখুঁজি ছাড়াও ভারতেও খোঁজ নেয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো কিছুতেই তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।’

সংশ্লিষ্টদের তথ্যানুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় মিধিলির পর থেকে নিখোঁজ হয় উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কাউখালী গ্রামের বাসিন্দা হাসান জোমাদ্দারের ট্রলারের জিসান, তামিম, কামরুলসহ আটজন জেলে, মৌডুবী ইউনিয়নের কাজিকান্দা দিদার মৃধার ট্রলারের আটজন জেলে এবং একই এলাকার হিমু হাওলাদারের মালিকানাধীন ট্রলারের ৯ জন জেলে।

উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কোড়ালিয়া মৎস্য সমিতির সভাপতি জহির উদ্দিন হাওলাদার বলেন, ‘জেলেদের নিখোঁজের বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করেছি। সুন্দরবন, মংলা এবং ভারতের বর্ডারেও ট্রলার নিয়ে খোঁজাখুঁজি করেছি। কিন্তু কোথাও তাদের কোনো সন্ধান পাইনি আমরা।’

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘নিখোঁজদের বিষয়ে আমরা এখনও কোনো তথ্য পাইনি। তাদের সন্ধানে আমাদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। কোস্টগার্ড বিষয়টি অবগত রয়েছে।




অবহেলায় বিলুপ্তির পথে গ্রাম-গঞ্জে জন্মানো ভাটিফুল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীর জেলার বিভিন্ন উপজেলার গ্রাম-গঞ্জে রাস্তার পাশে, জঙ্গলে জন্মানো বনজুঁই বা ভাটিফুল সহজেই মানুষের নজর কাড়ে।

ঋতুরাজ বসন্তের শুরু থেকেই ঝোপ-ঝাড়ে, জঙ্গলে, রাস্তার ধারে নিজের সুন্দর রূপ ছড়িয়ে থাকে ভাটিফুল। ভাঁট গ্রাম বাংলার চিরচেনা বনফুল।

স্থানভেদে এটির নাম ভাটি ফুল, ঘেটু ফুল, ভাত ফুল, ঘণ্টাকর্ণ থাকলেও এ অঞ্চলে ‘ভাটি ফুল’ নামেই পরিচিত।

সনাতন ধর্মালম্বীরা ভাটি পূজায় এই ফুল ব্যবহার করে থাকে। এর বৈজ্ঞানিক নাম ক্লোরোডেনড্রাম ভিসকোসাম, ভারবেনাসেই গণের এই ফুল ল্যামিয়াসেই পরিবারভুক্ত। এটি ইনফরচুনাটাম প্রজাতির এবং বাংলাদেশের আদি ফুল। ভাটিফুল দেশজ গুল্মজাতীয় বুনোফুল। ছোট আকৃতির নরম শাখা প্রশাখা বিশিষ্ট ঝোপ জাতীয় গাছে তোড়ার মতো ভাটিফুল ফোটে।

ফুলের রং সাদা। পাঁচটি পাপড়ি। প্রতিটি ফুলের অভ্যন্তরে বেগুনি রঙের ঢেউ যেন ব্রাশ দিয়ে টেনে দেয়া হয়েছে। তার মধ্যে সাদা বেশ দীর্ঘ কয়েকটি মঞ্জরি। রাতে ভাটিফুল গন্ধ ছড়ায়। ভাটিফুল ঔষধি উদ্ভিদ। এর পাতা কবিরাজরা অ্যাজমা, টিউমার ও সাপের কামড়ের প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার করে থাকে।

এছাড়া গ্রামাঞ্চলের মানুষেরা জ্বর, চর্মরোগ ও বিছার হুল ফোটানোতে এর পাতা, ফুল, ফল ও মূল ভেষজ হিসেবে ব্যবহার করেন। জেলার গ্রামাঞ্চলের সর্বত্রই ভাটিফুলের কম বেশি দেখা মেলে। তবে অচাষকৃত বহু বিলুপ্ত উদ্ভিদের মতোন ভাটিফুলও বিলুপ্তির পথে।