পটুয়াখালী প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নে মৎস্য ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার সকালে উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের বুড়াগৌরাঙ্গ নদী পাড়ে চাল বিতরণের সময় এই অনিয়ম করা হয়।
এর আগে রোববার চরবেষ্টিত এলাকায় মৎস্য ভিজিএফ চাল বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
অভিযোগ রয়েছে ইউএনও’র সামনেই ৮০ কেজির চাল ৭৫ কেজি করে বিতরণ করেছেন ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আক্কাস। এ ছাড়াও নানাবিধ খরচের কথা বলে মাস্টার রোলের ৩ হাজার ২৮ জেলে থেকে ৫শ’ থেকে ১ হাজার করে টাকা উত্তোলন করেন স্ব স্ব ওয়ার্ডের মেম্বার ও প্যানেল চেয়ারম্যান।
জানা যায়, জাটকা আহরণে বিরত থাকা জেলেদের জীবিকা নির্বাহের জন্য দুই মাসে ৮০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে। সেক্ষেত্রে চরমোন্তাজ ইউনিয়নে ৩ হাজার ২৮ জেলের অনুকূলে ২৪২ দশমিক ২৪০ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু নিয়মানুযায়ী সে পথে না হেঁটে চাল বিতরণের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতাদের ম্যানেজ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চাল বিতরণ করা হয়।
সরজমিন দেখা যায়, পরিদর্শক (ট্যাগ অফিসার) ছাড়াই চাল বিতরণ করছেন প্যানেল চেয়ারম্যান। নিয়মানুযায়ী মাস্টার রোলে কার্ডধারী জেলে স্বাক্ষর অথবা আঙ্গুলের ছাপ প্রদান করে ৮০ কেজি চাল বুঝিয়ে দেয়ার কথা থাকলেও সেই নিয়মের তোয়াক্কা না করে নিজেদের তৈরিকৃত টোকেন বা হাতে লেখা স্লিপের মাধ্যমে চাল দিচ্ছেন প্যানেল চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা।
মাস্টার রোলে একজন ব্যক্তিকে দিয়ে একাধিক আঙ্গুলের ছাপ রেখে যে যার মতো করে চাল বিতরণের নামে হরিলুট করছেন। এর ফলে চাল পাননি প্রকৃত অনেক জেলে।
এ ছাড়াও এদিন চাল আনতে গিয়ে স্থানীয় নেতাদের হামলার শিকার হয়েছেন জেলে কার্ডধারী মো. খলিল নামের এক জেলে। তিনি ওই ইউনিয়নের বাইলাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
চাল দেয়ায় অনিয়মের কথা রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমানকে অবহিত করলেও যথাসময়ে ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।
জেলেরা জানায়, চাল দেয়ার কথা বলে কার্ডপ্রতি ৫০০-১০০০ করে টাকা নিয়েছে ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান। যারা টাকা দেয়নি তাদের চাল দেয়া হয়নি। আমরা ৭৫ কেজি করে চাল পাইছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক জেলে বলেন, ‘চাল দিবে ৮০ কেজি এজন্য ৫০০ টাকা খরচ দিছি। কিন্তু এহন দেহি চাল দিছে ৬০ কেজি। বিষয়টি মৎস্য অফিসের স্যারকে বলছি, তিনি বলেছেন, আরও চাল ও ওই ৫০০ টাকা এনে দেবে।
তবে প্রকাশ্যে এসব অনিয়মের বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন জেলেরা।
আরেক জেলে জানান, তার কাছ থেকে খরচ বাবদ ১০০০ টাকা নিয়েছেন মেম্বার। কিন্তু চাল দিয়েছেন মাত্র ৫০ কেজি।
অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান মো. আক্কাস জানান, ‘৭৫ কেজি করে চাল দিতেছি’। ৬০ কেজি করে চাল দেয়া হয় কেন? প্রশ্নোত্তরে তিনি বলেন, ‘তবে হয়কি একজন ওই তালিকায় নাম নেই কিন্তু এমন কায়দায় আউরা (বায়না) দেয় গরিব মানুষ তখন আর করার নাই কিছু হেরপর হয়তো মেম্বাররা ওই ৬০ কেজি করে কিছু চাল দিতে পারে।’ তবে টাকা নেয়ার কথা তিনি জানেন না বলে জানান। পরিবহন খরচের জন্য ৫ কেজি করে চাল কম দেয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
এদিকে চরমোন্তাজ ইউনিয়নের নিয়মিত চেয়ারম্যান একে শামসুদ্দিন আবু মিয়া অসুস্থতাজনিত কারণে ছুটিতে আছেন বলে জানা যায়।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বিষয়টি দেখছি বলে জানান।