ভোলায় ১৬৫ টাকায় পুলিশের চাকরি পেলেন ৪৫ তরুণ-তরুণী

বরিশাল অফিস:: ভোলায় ১৬৫ টাকা খরচ করে পুলিশে চাকরি পেলেন ৪৫ জন তরুণ-তরুণী। ট্রেইনি রিক্রুট পুলিশ কনস্টেবল (টিআরসি) পদে কোনো ঘুষ, সুপারিশ ও হয়রানি ছাড়াই চাকরি পেয়েছেন তাঁরা।

পাঁচ ধাপে যাচাই-বাছাই ও পরীক্ষা শেষে গতকাল শনিবার রাতে ভোলা জেলা পুলিশ লাইনসে এ পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহিদুজ্জামান বিপিএম।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে কনস্টেবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই পদের জন্য মোট ২ হাজার ২৫ জন আবেদন করেন। শারীরিক পরীক্ষা শেষে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন ৪৮৩ জন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১০১ জন মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৪৫ জন চাকরি পান। পাঁচজনকে অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। ফল ঘোষণার পর নিয়োগপ্রাপ্তদের ফুল দিয়ে বরণ করেন পুলিশ সুপার মো. মাহিদুজ্জামান।

মাত্র ১৬৫ টাকা আবেদন ফি দিয়ে পুলিশে চাকরি পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন উত্তীর্ণ তরুণ-তরুণীরা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দেশের জন্য কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন তাঁরা।

জেলা পুলিশ সুপার মো. মাহিদুজ্জামান বিপিএম বলেন, ‘ভোলাবাসীকে আশ্বস্ত করেছিলাম একটি স্বচ্ছ নিয়োগ উপহার দেব। আমরা আমাদের কথা রেখেছি। শতভাগ স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রক্রিয়ায় মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে।’




কাউখালীতে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

বরিশাল অফিস::  পিরোজপুরের কাউখালীতে নানাবাড়ি বেড়াতে এসে খালের পানিতে ডুবে লামিয়া আক্তার (৬) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৫মার্চ) দুপুরে উপজেলার শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের শিয়ালকাঠী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

লামিয়া একই গ্রামের রমজান আলী হাওলাদারের মেয়ে। স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহিন হোসেন আকন সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

স্থানীয় ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, লামিয়া তার মায়ের সাথে শিয়ালকাঠী গ্রামে তার নানা মো: রস্তুম আলী মল্লিকের বাড়িতে বেড়াতে আসে। সোমবার দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে ওই বাড়ি ও শিয়ালকাঠী ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন খালের ঘাটে কয়েকজন খেলার সাথীদের নিয়ে গোসল করতে নামে সে। পরে লামিয়াকে না দেখে তার সঙ্গীরা বাড়ির লোকজনকে জানালে তারা খালে নেমে আশপাশের বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। পরে শিশুটির কোনো সন্ধান না পেয়ে কাউখালী ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে তারা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে খালে খোঁজাখুঁজি করে বিকেল ৪টার দিকে একই স্থানে খালের ঘাটের কাছে লামিয়াকে পানিতে থেকে উদ্ধার করে।

এ সময় ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা শিশুটিকে উদ্ধার করে কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার মাহবুব শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।




ইন্দুরকানীতে জীবন চলে খালের পানিতে

বরিশাল অফিস:: পাশের খাল দিয়ে বালতি ভরে পানি উঠিয়ে রান্না আবার সেই পানিতে ফিটকারি দিয়ে পান করতে দেয়া হয় পিরোজপুরের ইন্দুরকানীর হাট-বাজারের শত শত খাবার হোটেল ও রেষ্টুরেন্টে। অথচ বাজারের দু’পাশের শতাধিক আবাসিক ভবনের পয়নিস্কাসনের সংযোগ এই খালের সাথেই। বছরের পর বছর ধরে এভাবেই চলে আসলেও এর যেন কোনো উন্নতি নেই। পানির দেশ ইন্দুরকানীতে চারদিকে পানিতে থৈ-থৈ করলেও এখানে নিরাপদ খাবার পানির নামমাত্র সুবিধাটুকুও নাই। পানির দেশে খাবার পানি নাই এ কথা কেহ বিশ্বাসও করতে চাইবে না।

ইন্দুরকানী উপজেলায় লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। এখানকার ৯০ শতাংশ মানুষ খাল ও পুকুরের পানির উপর নির্ভরশীল। উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের মধ্যে পাড়েরহাট ইউনিয়নের চারটি গ্রামে কিছু গভীর নলকূপ স্থাপন করা গেলেও বাকি চারটি ইউনিয়নের কোথাও গভীর নলকূপ স্থাপন সম্ভব হয়নি। উপজেলায় নয় শতাধিক অগভীর নলকূপ থাকলেও তার অধিকাংশেই আয়রন ও আর্সেনিকযুক্ত। ফলে তা ব্যবহার অনুপযোগী।

এদিকে, ইন্দুরকানীতে বর্ষা মৌসুমে খাবার পানি হিসেবে বৃষ্টির পানি ব্যবহার করা গেলেও শুকনা মৌসুমে খাবার পানির জন্য হাহাকার পড়ে যায়। বালিপাড়া ও চন্ডিপুর ইউনিয়নের নদী ও খালের পানি বেশি লবণাক্ত। বড় কোনো পুকুর নাই। ছোট ছোট পুকুরে শুকনো মৌসুমে ব্যাঙের পোনা কিল বিল করে। তখন এসব পানি এতটা দূষিত হয় যে পান করা তো দূরের কথা ধোওয়া মোছার কাজেও ব্যবহার অনুপযোগী।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের তথ্য মতে, এ উপজেলায় ২৭৬টি গভীর ও ৯৩৬টি অগভীর নলকূপ রয়েছে। সোলার পিএসএফ চারটি, RO প্লান্ট রিভার্স ওসমসিস প্লান্ট (Reverse Osmosis Plant) চারটি এবং আশ্রয়ন প্রকল্পের ৬৫১টি-সহ রেইন ওয়াটার হার্ভেষ্টার আছে ১ হাজার ১৮৬টি। যা চাহিদার তুলনায় যৎ সামান্য।

ইন্দুরকানী উপজেলা সদরের বাসিন্দা ও বাজারের ব্যবসায়ী সাদিকুল ইসলাম বলেন, ‘ইন্দুরকানীতে খাবার পানির তীব্র সঙ্কট। আমাদের পানি কিনে পান করতে হয়। বাজারের হোটেল ও রেষ্টুরেন্টগুলোতে খালের পানিতে রান্না করে আবার খালের পানিই খাওয়ায়। অথচ এই খালের দু’পাশে শত শত ভবনের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা খালের সাথেই রয়েছে।’

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী শিমুল বড়াল বলেন, ‘ইন্দুরকানীতে খাবার পানির সঙ্কট আছে। উপজেলার একটি ইউনিয়নের কিছু অংশে গভীর নলকূপ বসে, অন্য কোথাও বসে না। আবার অগভীর নলকূপগুলোর পানিতে আয়রন। আবার কোন কোন এলাকায় আর্সেনিকের মাত্রা বেশি। অনেকেই ঠান্ডার কারণে বৃষ্টির পানি পান করতে পারে না। খালের পানিতে ফিটকারী দিলে ভাসমান অপদ্রব্য দূর হয় এবং জীবাণু মারা গেলেও তা কিন্ত পানিতেই থেকে যায়। তাছাড়া ফিটকারী পানির লবণাক্ততা এবং রাসায়নিক পদার্থ দূর করতে পারে না। তাই ফিটকারী দেয়া পানি নিরাপদ না।’

বড়াল আরো বলেন, ‘শিগগিরই আরো ২ হাজার পরিবারের মাঝে রেইন ওয়াটার হার্ভেষ্টার বিতরণ এবং ১০টি RO প্লান্ট নির্মাণের কাজ প্রক্রিয়াধীন। আশা করি, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ এ উপজেলায় খাবার পানির সঙ্কট অনেকটা কমে যাবে।’




ভোলায় ব্রিজের ওপর সাঁকো দিয়ে চলাচল!

বরিশাল অফিস:: লোহা আর ইট-সিমেন্টের তৈরি ব্রিজ। অথচ ওই ব্রিজের উপরই সুপারি গাছ দিয়ে বানানো হয়েছে সাঁকো। হাতল হিসেবে দেওয়া হয়েছে লম্বা বাঁশের লাঠি। অদ্ভুত এ চিত্র ভোলার লালমোহন উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর কালমা এলাকার হাচন আলী খালের ওপরের ব্রিজটির।

জানা যায়, ২০০১ সালের দিকে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের কয়েক বছর পর থেকে ধীরে ধীরে জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে ব্রিজটি। গত প্রায় পাঁচ বছর আগে ব্রিজটির মাঝখান দিয়ে কয়েকটি গর্তের সৃষ্টি হয়। এরপরও মেরামত না করায় আরও জরাজীর্ণ হয়ে যায় ব্রিজটি। যার ফলে গত দুই বছর আগে হঠাৎ করেই মাঝখান থেকে ধসে খালের মধ্যে পড়ে যায় ব্রিজের অধিকাংশ স্থান।

এরপর স্থানীয়রা তাদের চলাচলের স্বার্থে ধসে পড়া ওই অংশের ওপর সুপারি গাছ ও হাতল হিসেবে বাঁশ দিয়ে সাঁকো নির্মাণ করে কোনোরকমে চলাচল করছেন। এতে করে দুর্ভোগে পড়েছেন আশপাশের কয়েকটি এলাকার অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ।

উত্তর কালমা এলাকার গৃহিণী ঊষা রাণী মণ্ডল বলেন, ব্রিজটি দিয়ে নারীদের চলাচলে খুবই কষ্ট হচ্ছে। তবুও প্রয়োজনের তাগিদে মৃত্যু ভয় উপেক্ষা করেই এই ব্রিজের ওপর দিয়ে চলতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে শিশুদের। এই এলাকার অর্ধশত শিশু ব্রিজটি পার হয়ে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়তে যায়। কখন যেন দুর্ঘটনার কবলে পড়ে শিশুরা, এমন উৎকণ্ঠায় থাকেন অভিভাবকরা।

ওই এলাকার মনোরঞ্জন কবিরাজ জানান, দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটির খুবই বেহাল দশা। তবুও প্রয়োজন সারতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজটির ওপর দিয়ে চলতে হচ্ছে। এই চলাচলে এলাকাবাসীর দুর্ভোগের শেষ নেই। ব্রিজটি এখন আর মেরামতের অবস্থায় নেই, এখানে এখন নতুন ব্রিজ নির্মাণ করতে হবে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে যদি নতুন ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া না হয় তাহলে ব্রিজের পুরো অংশই খালের মধ্যে ধসে পড়বে। এতে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে মানুষের চলাচল।

সবুজ মণ্ডল নামে ওই এলাকার এক যুবক বলেন, এখান দিয়ে আগে অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করত। ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় এখন সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এই ব্রিজের ওপর দিয়ে এখন মানুষ চলতেই সমস্যা। এখনো আশপাশের অন্তত কয়েকটি গ্রামের অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই জরাজীর্ণ ও বেহাল ব্রিজটির ওপর দিয়ে চলাচল করছেন। আমরা এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জরুরিভাবে এখানে নতুন ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।

কালমা ইউপি চেয়ারম্যান মো. আকতার হোসেন জানান, ব্রিজটির মাঝখান দিয়ে ধসে যাওয়ায় ওই এলাকাসহ আশপাশের অনেক মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। মানুষজনের এ দুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যে দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই স্থানে নতুন করে একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন ব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন।

এ বিষয়ে এলজিইডির লালমোহন উপজেলা প্রকৌশলী রাজীব সাহা বলেন, ওই ব্রিজটিসহ উপজেলায় আরও বেশ কয়েকটি ব্রিজ বেহাল ও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আমরা ওইসব ব্রিজগুলো পুনর্নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। প্রস্তাবটি পাস হলে এবং বরাদ্দ পেলে বেহাল ও জরাজীর্ণ ব্রিজগুলো পুনর্নির্মাণ করা হবে।




বরিশালে সরিষা ফুলের মধুতে লাভবান চাষিরা

বরিশাল অফিস:: মাঠের পর মাঠ সরিষা ক্ষেত। মধু চাষিরাও ব্যস্ত ক্ষেত থেকে মধু সংগ্রহে। বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার প্রায় সব ফসলের মাঠেই দেখা গেছে এমন চিত্র। এসব মাঠ থেকে মধু চাষিরা খাঁচা পদ্ধতিতে মৌমাছির মাধ্যমে মধু সংগ্রহে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। এতে অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হচ্ছে সরিষা চাষি ও মৌচাষি দুজনেই।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, সরিষা ক্ষেতের পাশে মধু চাষের কারণে পরাগায়ন ঘটছে ফসলের। এতে সরিষারও ফলন ২৫ শতাংশ বেড়ে যায়। সরিষা ক্ষেত থেকে মধু সংগ্রহ লাভজনক ব্যবসা হিসেবে দেখা দিয়েছে। মধু বিক্রি করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন তারা।

জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার রাকুদিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, এ বছরই জেলায় প্রথম এত বড় পরিসরে সরিষা আবাদ হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে মধু চাষ করছেন এক খামারি। টাঙ্গাইল জেলা থেকে খবর পেয়ে সরিষা ক্ষেতের পাশে করেছেন মধু সংগ্রহের খামার।

টাঙ্গাইল থেকে আসা মধু চাষি মো. আয়নাল হক  বলেন, ‘১০৫টি বাক্সে ৮ শতাধিক চাক বসিয়েছি। এখান থেকে এরই মধ্যে ১৫ দিনে ৭ মণ মধু আহরণ করেছি। বাকি সময়টাতে আরও ৫ মণ মধু আহরণের আশা করছি। প্রতি কেজি মধু ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। স্থানীয়রা ও আশপাশের এলাকার লোকজন সরাসরি ক্ষেত থেকে মধু কিনে নিচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের চাহিদা মিটিয়ে এই মধু দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঠাচ্ছি।’

মধু কিনতে আসা সাব্বির বলেন, ‘এভাবে কখনো মধু আহরণ দেখিনি। সরাসরি মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করে মেশিনের মাধ্যমে তা প্রস্তুত করে দিচ্ছেন। এখানে ভেজালের কোনো সুযোগ নেই। তাই নিজের চোখে দেখে মধু কিনে নিয়ে যাচ্ছি।’

আরেক ক্রেতা জুবায়ের বলেন, ‘সরাসরি ক্ষেত থেকে সংগ্রহ করা মধু নিচ্ছি। এখানে কোনো ভেজাল করার মতো কিছু নেই। সবকিছু চোখের সামনেই দেখছি। তাই নির্দ্বিধায় কিনে নিচ্ছি। এছাড়া দামও অন্যান্য জায়গার তুলনায় কম।’

উপজেলার রাকুদিয়া গ্রামের কৃষক এনায়েত করিম বলেন, ‘শুধু এই গ্রাম নয়, উপজেলার সব গ্রামেই শত একর জমিতে হলুদের সমারোহ। আবাদ ভালো দেখে মাঠের পর মাঠ সরিষার আবাদ। কোনো মাঠে হলুদ ফুলে ভরে গেছে আবার কোনোটায় সরিষার দানা চলে এসেছে। ক্ষেতের পাশেই মধু চাষের কারণে প্রতিবারের চেয়ে এবার ২০ শতাংশ ফলন বেশি হয়েছে।’

আরেক কৃষক টিটু বলেন, ‘এবার পুরো মাঠজুড়ে বিনা সরিষা-১১ আবাদ করেছেন। প্রতি বছর এর আবাদ সীমিত হলেও এ বছর বিনা সরিষা-১১ এর ফলন আশা জাগিয়েছে লাভবান হওয়ার। তাছাড়া এ বছর ক্ষেতের পাশেই মধু চাষ শুরু করায় ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে। অল্প জীবনকালের এই সরিষা আবাদে খুশি কৃষকরা।’

বরিশাল বিনা উপকেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. ছয়েমা খাতুন বলেন, ‘মৌমাছি বসন্তের সময়টুকুতে ফুলের মৌ-রস সংগ্রহ করতে গিয়ে পরাগায়ন ঘটায়। এতে আবাদ যেমন বেড়েছে, তেমনই অর্থনৈতিকভাবে দুজনই লাভবান হচ্ছেন। জেলায় এ বছর ৫০০ হেক্টর জমিতে বিনা সরিষা-১১ এর আবাদ হয়েছে। প্রতি একরে ১৫-১৬ মণ সরিষা পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।




বরিশালে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারকে সন্মাননা প্রদান

বরিশাল অফিস:: গণহত্যা দিবস ও মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারকে সন্মাননা প্রদান করা হয়েছে। এর আগে সোমবার বেলা সাড়ে বারোটার দিকে ইউনিটির মিলনায়তনে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে চিত্রাংকন প্রতিযোগী অনুষ্ঠিত হয়।

চিত্রাংকন প্রতিযোগীতা শেষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউনিটির সভাপতি নজরুল বিশ্বাস। সাবেক সভাপতি সুশান্ত ঘোষের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন মিথুন সাহা। বক্তব্য রাখেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক ও সন্মাননা প্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা অজয় দাশগুপ্ত, বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রদীপ কুমার ঘোষ পুতুল।

সবশেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শহীদ কুমুদ বন্ধু রায় চৌধুরী নাটু বাবুর সহধর্মিনী ছায়া রায় চৌধুরীর হাতে সন্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়েছে। পরে চিত্রাংকন প্রতিযোগীতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরন করা হয়।




নাজিরপুরে মাংস খেয়ে তাবলীগ জামাতের ১৬ মুসল্লী অসুস্থ

বরিশাল অফিস:: পিরোজপুরের নাজিরপুরে গরুর গোস্ত খেয়ে তাবলীগ জামাতে আসা একই মসজিদের ১৬ মুসল্লি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এদের মধ্যে গুরুতর অসুস্থ ৭ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ভাইজোড়া নামক স্থানের একটি মসজিদে।

অসুস্থদের সোমবার (২৫মার্চ) সকালে ও এর আগে রবিবার রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অসুস্থ মুসল্লী সকলেরই নোয়াখালী জেলার বসুরহাট ও শ্যানবাগ উপজেলা থেকে আসা তাবলীগ জামাতের সদস্য বলে তারা জানিয়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন- আব্দুর রব (৭৫), আবুল খায়ের (৬০), আজাহার আলী (৬২), আলী আকবর(১৮), হাসান (১৯), শাহাদাৎ (১৭), আব্দুর রহমান (৮০) ওই তাবলীগ জামাতে থাকা মামুন অর রশিদ জানান, তারা গত শনিবার উপজেলার মাটিভাঙ্গা বাজার থেকে গরুর গোস্ত কিনে এনেছেন।

ওই গোস্ত পরের দিন রবিবার ভোর রাতে পাক করে খান। এতে করে ওই দিন দুপুর থেকে পালাক্রমে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থরা প্রথমে পাতলা পায়খানা ও বমিসহ পরে জ¦রে আক্রান্ত হন। এভাবে তিনি ছাড়া অন্য সকলেই কম বেশী আক্রান্ত হয়েছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার উজ্জল মন্ডল জানান, তাদের খাবারে বিষ ক্রিয়া থেকে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। তবে অসুস্থদের সকলেই ঝুঁকি মুক্ত।




তালতলীতে হত-দরিদ্রদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ

বরিশঅল অফিস:: বরগুনার তালতলীতে উপজেলা নাগরিক সমাজ সংগঠনের উদ্যোগে ২০টি হত-দরিদ্র পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (২৫ মার্চ) উপজেলার নাগরিক সমাজের অস্থায়ী কার্যালয়ে এ ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। ইফতার সামগ্রী বিতরনে উপস্থিত ছিলেন, নাগরিক সমাজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান রেজবি উল কবির জোমাদ্দার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিফাত আনোয়ার তুমপা।

নাগরিক সমাজের সাধারণ সম্পাদক প্রধান শিক্ষক অবঃ আবু ছিদ্দিক, তালতলী প্রেসক্লাব সভাপতি মো. খাইরুল ইসলামসহ নাগরিক সমাজের সদস্যবৃন্দ। নাগরিক সমাজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান রেজবি উল কবির জোমাদ্দার বলেন, প্রতি বছর পবিত্র রমজান উপলক্ষে গ্রামের অসহায় দরিদ্র মানুষকে পারিবারিক ভাবে ইফতার সামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় এই বছরেও ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। সারাদিন রোজা রেখে গ্রামের দরিদ্র পরিবারগুলো যাতে শান্তিতে ইফতার করতে পারে সে জন্য আমাদের নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।




নদী রক্ষায় রাজনৈতিক নেতাদের আন্তরিক হতে হবে: বরিশালে সভায় বক্তারা

বরিশাল অফিস:: দেশের নদী সম্পদ ও খাল বিল রক্ষার জন্য সবার আগে রাজনৈতিক নেতাদের আন্তরিক হতে হবে। বিশেষ করে স্ব স্ব এলাকার সংসদ সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে কথা নয়; বাস্তব কাজের মাধ্যমে একটি সুষ্ট পরিকল্পনার ওয়াদা গ্রহণ করতে হবে। নতুবা কোনদিনও নদী রক্ষা করা যাবে না। “নদ-নদী সুরক্ষায় প্রতিবন্ধকতা ও উত্তরণের উপায় ঃ প্রেক্ষিত বরিশাল” শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেছেন।

বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষে সোমবার  নগরীর পুলিশ লাইন সড়কের স্যালিব্রেশন পয়েন্ট কনফারেন্স হলে সভার আয়োজন করেন উন্নয়ন সংস্থা রীচ টু আনরীচড (রান)। সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) জেলা সভাপতি গাজী জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে ও রান-এর নির্বাহী পরিচালক রফিকুল আলমের সঞ্চলনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শাহ্ মোঃ রফিকুল ইসলাম।

বক্তব্য রাখেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জাকির শাহরিয়ার, কেমিষ্ট মোঃ গোলাম কিবরিয়া, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা মোঃ ইকবাল ফারুক, সাংবাদিক জসিম উদ্দিন, বিধান সরকার, জেলা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পূস্প রানী চক্রবর্তী, নারী নেত্রী অধ্যাপক টুনু রানী কর্মকার, মুক্তিযোদ্ধা ইসরাইল পন্ডিত প্রমুখ।




শেবাচিমে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ প্রয়োগে শিশু অসুস্থের অভিযোগ

বরিশাল অফিস:: বরিশালে দেড় মাসের এক শিশুর দেহে ফার্মেসি থেকে আনা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ প্রয়োগ করায় অসুস্থ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আর শিশুটি বর্তমানে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, ফার্মেসী থেকে ওষুধ আনার পর নার্সরা ওষুধের মেয়াদ আছে বললেও পরে জানতে পারেন সেগুলোতে মেয়াদ ছিলোনা। তবে অভিযোগ মানতে নারাজ দায়িত্বরত নার্স ও ফার্মেসীর কর্মচারিরা। এরই মধ্যে এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তর ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প্রমান পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তারা।

জানাগেছে, পিরোজপুর জেলার স্বরুপকাঠী উপজেলার পূর্ব সোহাগদল এলাকার বাসিন্দা টেইলার্স কর্মচারী মিরাজের সাথে ৪ বছর আগে বিয়ে হয় একই এলাকার তাসলিমা বেগমের সাথে। দেড় মাসের আয়ান এই দম্পতির প্রথম সন্তান।

আয়ানের পরিবার জানায়, গত ৮ মার্চ জ্বর নিয়ে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয় শিশু আয়ান। চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আল্ট্রাপাইম (৫শ এমজি) ইনজেকশন দিতে বললে হাসপাতালের সামনের ফর্মেসী থেকে ওষুধ কিনে আনা হয়। নিয়ম মেনে প্রতিদিন দুইবেলা সেই ইনজেকশন পুশ করেন হাসপাতালের নার্সরা। তবে ৮টি ইনজেকশন দেয়ার পর আয়ানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিষয়টি ঘেঁটে জানা যায় ৩ টি ইনজেকশনের মেয়াদ ছিলোনা।

স্বজনদের দাবি, শিশুটির দেহে ওই ৩ টি মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশন ৬ বার প্রয়োগ করা হয়েছে। ফলে আয়ান এখন নতুন করে আবার অসুস্থ। হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স রোজিনা বেগম বলেন, সবকিছু চেক করে দেয়া হয়েছে। পুশ করার সময় কোন ওষুদের মেয়াদোত্তীর্ণ ছিলোনা। আর মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি হয়না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ফার্মেসীর স্টাফরা।

অভিযোগ পেয়ে ইয়ামিন মেডিকেল হলে অভিযান পরিচালনা করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তর। এ সময় নির্ধারিত মূল্য কেটে অধিক দামে ওষুধ বিক্রির প্রমান পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক অপূর্ব অধিকারী। আয়ানের বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানান তিনি। বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি করা হয়েছে