আধিপত্য বিস্তার নিয়ে হাতবোমার বিস্ফোরণে নিহত ১

বরিশাল অফিস:: বরিশালের মুলাদী উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নে হাজী ও আকন পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় হাতবোমার বিস্ফোরণে একজন নিহত হয়েছেন । বুধবার (২৭ মার্চ) সকালে বাটামারা ইউনিয়নের টুমচর গ্রামের জোড়া ব্রিজ এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে ।

নিহত মোদাচ্ছের সিকদার টুমচর গ্রামের মৃত মোসলেম সিকদারের ছেলে। তাঁর মৃত্যু নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রয়েছে। আকন পক্ষের দাবি, হাজী পক্ষের হাতবোমা হামলায় আহত হয়ে মোদাচ্ছের মারা গেছেন।

আর হাজী পক্ষের লোকজনের দাবি, মোদাচ্ছের সিকদার কালকিনি উপজেলার পৈন্তারচর এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে বসে হাতবোমা বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণে আহত হয়ে মারা গেছেন। আকন পক্ষের লোকজন বুধবার ভোরে এলাকায় প্রবেশের সময় হাজী পক্ষের লোকজন প্রতিহত করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় বলে জানান স্থানীয়রা। এ ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানায়, চলতি বছর ৩ জানুয়ারি বাটামারা ইউনিয়নের টুমচর গ্রামের হাজী পক্ষের রুবেল শাহ হত্যার ঘটনায় ৪৫ জনের নামে মামলা হলে আকন পক্ষের লোকজন এলাকা ছেড়ে চলে যায়। এরপর ওই এলাকায় হাজী পক্ষের আধিপত্য চলছে। রুবেল শাহ হত্যা মামলার আকন পক্ষের বেশ কিছু আসামি ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের বিভিন্ন তারিখে উচ্চ আদালত ও নিম্ন আদালত থেকে জামিন নিয়ে বুধবার ভোররাতে এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করেন।

সংবাদ পেয়ে হাজী পক্ষের লোকজন আজিজ ডাক্তারের বাড়ির কাছে জোড়া ব্রিজ এলাকায় অবস্থান নেয় এবং তাদের প্রতিহত করে। এ সময় উভয় পক্ষ ব্যাপক হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। মূহুর্মুহু হাতবোমার বিস্ফোরণে টুমচর ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে জাগরনী ফাঁড়ি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।

নিহত মোদাচ্ছের সিকদারের চাচাতো ভাই দাদন সিকদার জানান, বুধবার ভোররাতে মোদাচ্ছের ও অন্যরা নিজেদের বাড়ির উদ্দেশ্যে টুমচর এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করেন। টুমচরের জোড়া ব্রিজের কাছে পৌঁছালে সুলতান সরদারের নেতৃত্বে ৫০-৬০ জন লোক হামলা চালায় এবং আতঙ্ক ছড়াতে হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। বিস্ফোরণে মোদাচ্ছের সিকদারের দুই হাত ও মুখমণ্ডল ঝলসে যায় এ ছাড়া আরো অনেকে আহত হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে মোদাচ্ছের সিকদার মারা যান। আহতদের কালকিনি ও মাদারীপুরের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বাটামারা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) মো. মিন্টু জানান, হাজী ও আকন পক্ষের আধিপত্যের দ্বন্দ্বে হাতবোমার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে হাজী পক্ষের তরিকুল ইসলাম পলাশ হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন,রুবেল শাহ হত্যা মামলার আসামিরা বুধবার ভোররাতে টুমচর এলাকায় ঢুকে বাড়িঘর ভাঙচুর করে। ওই সময় স্থানীয় লোকজন ডাকাত সন্দেহে তাদের ধাওয়া করলে তারা গুলি করে এবং হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে কালকিনির নতুন আন্ডারচর এলাকায় অবস্থান নেয়। সেখানে হাতবোমা বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণে মোদাচ্ছের সিকদার, হারুন ঢালী ও দাদন ঢালী আহত হয়েছেন বলে শুনেছি।

বরিশাল মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকারিয়া গুলি ও হাতবোমা বিস্ফোরণের বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, মুলাদী উপজেলার মধ্যে হাতবোমা বিস্ফোরণে কারও মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া যায়নি। তবে কালকিনি উপজেলায় বিস্ফোরণে এক ব্যক্তির খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




জমি দখলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় রাতের আধারে এক অসহায় পরিবারের জমিতে ঘর তুলে বেড়া দিয়ে কলাগাছ লাগিয়ে জবর দখল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

টিয়াখালী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের কাছেম আলী স্কুল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটেছে। এমনকি গভীর রাতে বালু দিয়ে ওই জমি ভরাট করা হয়েছে।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে কলাপাড়া প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার তৈহিদুর রহমান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য দুলাল চন্দ্র হালদার।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি বিষয়ক কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২ নং টিয়াখালী ইউনিয়নের ১ নং নাচনাপাড়া ওয়ার্ডের খেপুপাড়া মৌজার ৬ নং জেল এল এসএ খতিয়ানের দাগ নম্বও ৫৩৭এর ১৯৮৩ ও ৮৪ সালে এক একর ৩২ শতাংশ জমি হাল বিএস করিয়ে আমরা দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে পৈত্রিক সূত্রে ভোগদখল করে আসছি। গত ১৮ মার্চ স্থানীয় ভূমিদস্যু রুহুল আমিন, ইব্রাহিম, রাসেল, আলামিনসহ তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী রাতের আধারে সেই জমিতে ঘর তুলে কলা গাছ লাগিয়ে বেড়া দিয়ে দখল নেয়ার চেষ্টা চালায়। বাধা দিতে গেলে তার সন্ত্রাসী বাহিনী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হত্যা ও জখমের ভয় দেখায়। পরবর্তীতে কলাপাড়া থানা পুলিশের সহায়তায় তাদের কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়। তারা সম্পূর্ণ জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে জমিটি দখলে নেয়ার চেষ্টা করছে।

অভিযুক্ত রুহুল আমিন বলেন, ক্রয় সূত্রে আমি এই জমির মালিক। প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র আছে।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলি আহম্মেদ বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরো পড়ুন : চর বিজয় যেন লাল কাঁকড়া আর অতিথি পাখির নির্ভরযোগ্য সাম্রাজ্য



পটুয়াখালীতে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি বিষয়ক কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার উপজেলার টিয়াখালীতে তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় সূর্যমুখী চাষ ও বাজারজাতকরন বিষয়ক কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৭ মার্চ) বেলা বারোটায় পশ্চিম টিয়াখালী গ্রামে এ মাঠ দিবসের আয়োজন করে আর্ন্তজার্তিক ধান ইনস্টিউট (ইরি)।

ইরি’র এআরডিও (এগ্রিকালচারাল রিচার্স এন্ড ডেভলপমেন্ট অফিসার) মানিক দেবনাথ সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিধি ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরাফাত হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি গবেষনা ইনস্টিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. খাইরুল বাশার।

আরো পড়ুন : চর বিজয় যেন লাল কাঁকড়া আর অতিথি পাখির নির্ভরযোগ্য সাম্রাজ্য

বক্তারা, গুনগত ও মানসম্পন্ন তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন বাড়ানোসহ পতিত জমিকে চাষের আওতায় আনার পরামর্শ দেন। স্বল্প মেয়াদী ধান চাষের পাশাপাশি তেল জাতীয় ফসল সূর্যমুখী, বাদাম, সরিষাসহ অন্যান্য ফসল চাষের জন্য উসাহিত করেন।

এসময় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল প্রদর্শনসহ ফসল চাষের আর্থিক সুবিধার বিষয় তুলে ধরেন।, ফসল চাষে বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে সমাধানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

উত্তর ঠিয়াখালী গ্রামের কৃষক জামাল হাওলাদার বলেন, আমন ধানের পরে এসব জমি পতিত পড়ে থাকত। ইরির পরামর্শ ও সহযোগিতায় সেই জমিতে বাদাম, সরিষা, আলু চাষ করেছি। এখন সূর্যমুখী ফসল ঘরে তোলার অপেক্ষায়।

একই গ্রামের কৃষক খলিল মৃধা, সাইফুল ইসলাম বলেন, ধান চাষ করে সংসারে নুন আনতে পানতা ফুরাতো। এখন বারো মাস সবজি চাষে আর্থিক সাবলম্বীতা ফিরে পাচ্ছি।

আরো পড়ুন : বাউফলে পুরোনো মরিচা পড়া লোহা দিয়ে ব্রিজ নির্মাণের অভিযোগ

আর্ন্তজার্তিক ধান ইনস্টিউট (ইরি) এগ্রিকালচারাল রিচার্স এন্ড ডেভলপমেন্ট অফিসার) মানিক দেবনাথ বলেন, পটুয়াখালী জেলার মাঠিতে লবনাক্ততা বেশি। তাই ফসলের সঠিক জাত ও সময় নির্বাচন করে কৃষকদের চাষের উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। এরমাধ্যমে এক ফসলী এসব জি কে চার ফসলে রূপান্তর করা হচ্ছে।




গাজার পরিস্থিতি নারকীয় : জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় আরও বেশি মানবিক সাহায্য পাঠানো প্রয়োজন। আর এর জন্য খুলে দিতে হবে সীমান্ত। এমনই দাবি করেছেন জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক।




ইসরায়েলে মুহুর্মুহু রকেট নিক্ষেপ হিজবুল্লাহর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : সীমান্ত-লাগোয়া ইসরায়েলের কিরিয়াত শোমোনা শহরে মুহুর্মুহু রকেট হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। দক্ষিণ লেবাননের একটি গ্রামে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলার জবাবে বুধবার ভোরের দিকে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।



চর বিজয় যেন লাল কাঁকড়া আর অতিথি পাখির নির্ভরযোগ্য সাম্রাজ্য

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি ও সূর্য উদয়ের বেলা ভূমি সাগর কন্যা কুয়াকাটা। আর এই কুয়াকাটার সমুদ্রের বুকে জেগে উঠেছে যেন আর একটি নতুন বাংলাদেশ।

মৌসুম জুড়েই হাজার হাজার অতিথি পাখির নিরলস উড়ে বেড়ানো এবং পুরো চর বিজয়ের সৈকত জুড়ে লাখ লাখ লাল কাকড়ার অবাধ ছুটে চলা এই সমুদ্রের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে কয়েক গুণ। আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে এমন সুন্দর দৃশ্য উপভোগ করাই তো প্রকৃতি প্রেমী মানুষের মনের বড় প্রশান্তি।

কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের মাঝে জেগে ওঠা চর বিজয় দ্বীপটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে হাজার হাজার প্রকৃতি প্রেমী পর্যটকরা ছুটে যান এই দ্বীপে। শীত মৌসুম এলেই যেমন বাংলাদেশে বাড়ে পর্যটকদের ভ্রমণ। ঠিক তেমনি সুদূর সাইবেরিয়া থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে লাখ লাখ অতিথি পাখি ছুটে চলে আসে বাংলাদেশে। এরই পাশাপাশি লাল কাকড়ার অভয়ারণ্য কেন্দ্র নামে পরিচিত চর বিজয় যেন তাদের নির্ভরযোগ্য বাসস্থান। আর এত সব সৌন্দর্য একসঙ্গে উপভোগ করতেই কুয়াকাটায় আগত পর্যটকরা প্রতিনিয়ত ছুটে যাচ্ছেন চর বিজয়ের প্রান্তে।

২০১৭ সালে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে ২০ কিলোমিটার গভীরে ৫ হাজার একর আয়তন নিয়ে জেগে ওঠে চর বিজয় নামের এই দ্বীপটি। শীত মৌসুম এলে এই দ্বীপটি জেগে ওঠে কিন্তু বর্ষা মৌসুমে আবার পানির নিচে ডুবে যায়। তবে জেলেদের কাছে এটি হাইরের চর নামেই পরিচিত।

এটির অবস্থান মূলত বঙ্গোপসাগরের কুয়াকাটা সংলগ্ন সৈকত হতে প্রায় ২০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে এবং পায়রা বন্দর থেকে ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে সমুদ্রের বুকে অবস্থিত।

ঢাকা থেকে কুয়াকাটা বেড়াতে আসা ব্যবসায়ী ফরহাদ হোসাইন বলেন, কুয়াকাটায় আমি এই প্রথমবার ভ্রমণে এসেছি। কুয়াকাটা সত্যিই খুব সুন্দর জায়গা। তবে কুয়াকাটায় সমুদ্রের বুকে জেগে ওঠা চর বিজয় সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না। কিন্তুু এখানে এসে সত্যিই মুগ্ধ হয়ে গেছি, চারদিকে বিশাল সমুদ্রের মাঝখানে একটি দ্বীপ আর সেই দ্বীপে এত পরিমাণ অতিথি পাখি ও লাল কাঁকড়া দেখে প্রাণ জুড়িয়ে গেছে। আমি আবারও আসতে চাই এখানে পরিবার নিয়ে।

ঢাকা থেকে কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা অন্য এক ব্যবসায়ী মনিরুল হক লোটাস বলেন, চর বিজয়ে নামার পর আমি এখানকার পরিবেশ দেখে মুগ্ধ হয়ে গেছি। এত পরিমাণ লাল কাকরা আর অতিথি পাখি দেখলে যে কেউ মুগ্ধ হবে এটাই স্বাভাবিক। কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের জন্য চর বিজয় একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে। এটি হতে পারে আরেকটি সেন্ট মার্টিন তবে অতিথি পাখি ও লাল কাকড়া নিধন থেকে বিরত থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বন বিভাগের পক্ষ থেকে এই দ্বীপে এখন পর্যাপ্ত গাছ লাগানো দরকার, যাতে করে পাখিদের নির্ভয় যোগ্য বাসস্থান তৈরি হয়। এবং আমরা যারা এই দ্বীপে ভ্রমণ করতে আসবো তারা যেন কোন ধরনের প্লাস্টিক বর্জ ফেলে এই দ্বীপের সৌন্দর্য নষ্ট না করি।

আরো পড়ুন : বাউফলে পুরোনো মরিচা পড়া লোহা দিয়ে ব্রিজ নির্মাণের অভিযোগ

এ বিষয় ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টেয়াক) প্রসিডেন্ট রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, পর্যটকদের কাছে সূর্য উদয়-অস্তের বেলভূমি সাগরকন্যা এমনিতে অনেক জনপ্রিয়। এর মধ্যে চর বিজয় ২০১৭ সাল থেকে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। এই চরের পাখি আর লাল কাকড়ার সমাগমে আকৃষ্ট হয় সব শ্রেণির পর্যটকরা। চর বিজয় ভবিষ্যতে সেন্টমার্টিনের মতো জনপ্রিয়তা পাবে বলে মনে করি।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিওনের পুলিশ সুপার আনসার উদ্দিন বলেন, সমুদ্রের বুকে জেগে ওঠা চরটির নাম দেওয়া হয়েছে চর বিজয়। ২০১৭ সালে সমুদ্রের বুকে জেগে ওঠা এ চরটি এখন খুবই জনপ্রিয় পর্যটকও স্থানীয়দের কাছে।সেখানে প্রতিনিয়ত ভিড় করে শত শত পর্যটক। মূলত লাল কাঁকড়া ও অতিথি পাখির সমাগম দেখতেই পর্যটকরা ভিড় করেন সেখানে। টুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে সকল পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কাজ করছি আমরা।

আরো পড়ুন : কলাপাড়ায় উচ্ছেদ আতঙ্কে ভূমিহীন ১৩৬ পরিবার : পায়রাবন্দরের সড়ক নির্মাণ শুরু



বাউফলে পুরোনো মরিচা পড়া লোহা দিয়ে ব্রিজ নির্মাণের অভিযোগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

চন্দ্রপাড়া খালের ওপর ব্রিজের কাজ করা হচ্ছে পুরোনো মরিচা পড়া মালামাল দিয়ে।

পটুয়াখালীর বাউফলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় ৬২ লাখ ৩৭ হাজার ৯৫০ টাকা ব্যয়ে একটি আয়রন ব্রিজের নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে পুরোনো ও মরিচা পড়া মালামাল দিয়ে।
নতুন মালামাল দিয়ে ওই ব্রিজের নির্মাণ কাজ করা কথা থাকলেও তা না করে পুরোনো মরিচা পড়া লোহার পিলার ও ভীমে রং দিয়ে তা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এর ফলে নির্মাণাধীন এই ব্রিজের স্থায়ীত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের সুলতানাবাদ- চন্দ্রপাড়া সড়কে চন্দ্রপাড়া খালের ওপর এ আয়রন ব্রিজ নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলে আয়রন ব্রিজ পুনঃনির্মাণ প্রকল্পের আওতায় চন্দ্রপাড়া খালের ওপর ২৭ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩.৭ মিটার প্রস্থের একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে ব্যয় ধরা হয় ৬২ লাখ ৩৭ হাজার ৯৫০ টাকা। পটুয়াখালীর মেসার্স রোজা অ্যান্ড সাওম এন্টারপ্রাইজ এ নির্মাণ কাজ করছে। ২০২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়া হলেও কাজ শুরু হয়েছে ৭-৮ দিন আগে।

আরো পড়ুন :দুমকিতে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া এক প্রতারক গ্রেপ্তার

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৬-৭ জন শ্রমিক সেখানে ব্রিজের কাজ করছেন। তারা পুরোনো মরিচা পড়া লোহার পিলার কোনও ধরনের যন্ত্রপাতির সাহায্য ছাড়াই নৌকার ওপর ভর করে কাদা-মাটিতে পুতছেন।

এদিকে নিয়ম অনুযায়ী কাজ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ রয়েছে, এ ব্রিজের নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয়দের যাতায়তের জন্য বিকল্প একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করতে ৪৩ হাজার ৮১৩ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও দায়সারা ভাবে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। তাও আবার নড়েবড়ে। যা দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পথচারীরা।

সুলতানাবাদ গ্রামের বাসিন্দা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ব্রিজ নির্মাণের নামে সরকারি বরাদ্দ লুটপাট চলছে। বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করতে পুরোনো মরিচা পড়া লোহার পিলার, ভীম ও এঙ্গেল ব্যবহার করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রোজা অ্যান্ড সাওম এন্টারপ্রাইজের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সাব-ঠিকাদার অরবিন্দু দাস বলেন, কাজ ঠিকমতো হচ্ছে। কোনো অনিয়ম হচ্ছে না।

নির্মাণ কাজের তদারকি কর্মকর্তা উপ-সহকারী প্রকৌশলী এবিএম হুমায়ন কবির বলেন, নতুন পোস্ট পাওয়া যায় না বিধায় পুরোনো পোস্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে বাকি সব নতুন।
অবশ্য ভীমসহ অন্য অন্য মালামালও পুরোনো ও রং করা বলে প্রশ্ন করা হলেও তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

এ বিষয়ে উপজলো প্রকৌশলী মো. মানিক হোসেন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরো পড়ুন : কলাপাড়ায় উচ্ছেদ আতঙ্কে ভূমিহীন ১৩৬ পরিবার : পায়রাবন্দরের সড়ক নির্মাণ শুরু



পরিবারের কেউ বেঁচে নেই, চলে গেল বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দগ্ধ সোনিয়াও

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : মৌলভীবাজারের জুড়ীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দগ্ধ শিশু সোনিয়া সুলতানাও (৮) মারা গেছে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে একমাত্র সোনিয়াই বেঁচে ছিল। এ নিয়ে একই পরিবারের মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ জনে।

বুধবার (২৭ মার্চ) ভোরের দিকে সোনিয়ার মৃত্যু হয়।  সোনিয়া গোয়ালবাড়ী উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়তো।

মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) বিদ্যুৎস্পৃষ্টে সোনিয়ার বাবা-মা ও তিন ভাইবোনও মারা যান। সোনিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার মামা আব্দুল আজিজ।

তিনি বলেন, সোনিয়াকে প্রথমে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার শরীরের ২৫ শতাংশ পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। উন্নত চিকিৎসার জন্য মঙ্গলবার রাতে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরই সে মারা যায়।

ঢাকায় সোনিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা পূর্ব গোয়ালবাড়ীর বাসিন্দা এস এম জাকির বলেন, সোনিয়াকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে আসি। সিলেট থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়ার পর আজ ভোর ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।




নেতানিয়াহুকে ‘আল্লাহর কাছে পাঠানো’র হুমকি, তুর্কি দূতকে তলব

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ‘আল্লাহর কাছে পাঠিয়ে দেব’ বলে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার জেরে তেল আবিবে নিযুক্ত তুরস্ক দূতাবাসের এক শীর্ষ কূটনীতিককে তলব করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ।




হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর ম্যাচে ৮৯ রানেই অলআউট বাংলাদেশ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডে ম্যাচ হেরে হোয়াইটওয়াশের লজ্জার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দল। এরপর আজ বুধবার শেষ ওয়ানডেতে মাত্র ৮৯ রানে অলআউট হয়ে গেছে নিগার সুলতানার দল।

শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে রানের খাতা খোলার আগেই প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ৪ বল খেলে ০ রানে ফেরেন ওপেনার সুমাইয়া আক্তার। আরেক ওপেনার ফারজানা হক করেন ৫ রান।

অধিনায়ক নিগার সুলতানা ম্যাচ ধরার চেষ্টা করছিলেন। সতীর্থদের কাছ থেকে সাড়া না পাওয়ায় তিনিও বেশিদূর এগুতে পারেননি। ফিরেছেন ৩৯ বলে ১৬ রান করে। বাংলাদেশের ইনিংসে এটিই সর্বোচ্চ।

এছাড়া ১০ রান করে নেন স্বর্ণা আক্তার ও সুলতানা খাতুন। আর ১৪ বলে ১৫ রান করে অপরাজিত ছিলেন সর্বশেষ ব্যাটার মারুফা আক্তার।

এদিন ডাক মেরে ফিরেছেন ফাহিমা খাতুন আর নাহিদা আক্তারও। বাকিদের কেউ আর দুই অংকের ঘর স্পর্শ করতে পারেননি।

 

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৩টি করে উইকেট নেন কিম গ্র্যাথ ও অ্যাশলে গার্ডনার।