পটুয়াখালীতে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে শ্রমিক লীগ সভাপতির সংবাদ সম্মেলন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও লতাচাপলি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আনসার উদ্দিন মোল্লার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জেলার মহিপুর থানা শ্রমিকলীগের সভাপতি আবুল কালাম ফরাজী।

বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টায় কুয়াকাটা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় মো. আবুল কালাম ফরাজী লিখিত বক্তব্য বলেন, আমি জাতীয় শ্রমিক লীগ মহিপুর থানা শাখার সভাপতি হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছি। আমার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কোন অপরাধনীতি করি নাই। কিন্তু আপনারা জানেন, লতাচাপলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক যিনি উপজেলা আওয়ামী লীগ কর্তৃক বহিষ্কারের সুপারিশ প্রাপ্ত এবং লতাচাপলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব আনসার উদ্দিন মোল্লা গত ২৫ মার্চ আলিপুরস্থ বাসভবনে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মনগড়া তথ্য উপস্থাপন করেছেন। ২৪ মার্চ গভীর রাতে তার বাসভবনে হামলা হয়েছে এমন দাবি করে আমি ও আমার লোকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। আমি যতটুকু খোঁজখবর নিয়ে জেনেছি যে তার বাসভবনের হামলার ঘটনা সম্পূর্ণ সাজানো নাটক। আমি ও আমার লোকজনকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার চক্রান্তে এমন নাটক সাজানো হয়েছে।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীর বাউফলে লঞ্চ চলাচল বন্ধ, বিপাকে যাত্রীরা 

তিনি আরো বলেন, গত ২৭ মার্চ মহিপুর থানায় জিআর ৩৪/২৪ নং একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলার বাদী জোলেখা বেগম ও তার পরিবারের সদস্যরা যারা আনছার উদ্দিন মোল্লা সকল অপকর্মের সহযোগী ও অনুসারী। দায়েরকৃত মামলায় আমাকে সহ আমার রাজনৈতিক সহকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করেছে। দায়েরকৃত মিথ্যা মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের মধ্য দিয়ে প্রত্যাহারের দাবি করছি।

আবুল কালাম ফরাজী বলেন, মামলার এজাহারে উল্লিখিত ঘটনার সাথে আমিও আমার লোকজনের কোন সম্পৃক্ততা নাই। আমি ও আমার লোকজন প্রত্যাক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততা ছিল না মর্মে দূঢ়ভাবে আপনাদের মাধ্যমে জানাতে চাই। আনসার উদ্দিন মোল্লা ইউনিয়নের অপরাধনীতির মূল হোতা এবং মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে মামলা-মোকদ্দমা দায়ের করতে পারদর্শী বলেও মন্তব্য করেন।




পটুয়াখালীর বাউফলে লঞ্চ চলাচল বন্ধ, বিপাকে যাত্রীরা 

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া লঞ্চঘাট থেকে ১৫ দিন ধরে ঢাকাগামী ও ঢাকা থেকে বাউফলগামী লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন লঞ্চ মালিকেরা। এতে বাউফল ও দশমিনা উপজেলার সাধারণ যাত্রী, ব্যবসায়ী, ঘাট ইজারাদার ও শ্রমিকেরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় কর্মব্যস্ত ঘাটগুলোতে শুনশান নিরবতা বিরাজ করছেন। নেই কোনো হাক-ডাক। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন শ্রমিকেরা। অসল সময় কাটাচ্ছেন ইজারাদারেরা।

লঞ্চঘাট ইজারাদার ও শ্রমিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কালাইয়া, নিমদী, নুরাইপুর ও ধুলিয়া লঞ্চঘাট থেকে প্রায় ৫০ বছর ধরে ঢাকার সঙ্গে নৌপথে লঞ্চ চলাচল করে। বাউফল এবং দশমিনা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার যাত্রী যাতায়াত ও ব্যবসায়ীরা কম খরচে নিরাপদে পণ্য পরিবহন করে থাকেন। ঘাটগুলোতে প্রায় অর্ধশত শ্রমিক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পদ্মা সেতু চালুর পর যাত্রী সংখ্যা কিছু কমেছে। তারপরেও ৩০০ থেকে ৩৫০ যাত্রী নিয়মিত যাতায়াত করেন।

তবে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কোনো নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই হঠাৎ করে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেন লঞ্চ মালিকেরা। টানা ৭ দিন বন্ধ থাকে লঞ্চ। এরপর ১৬ দিন চলাচল করার পর আবারও বন্ধ করে দেওয়া হয়। সর্বশেষ গত ১৮ মার্চ কালাইয়া ঘাট থেকে এমভি বন্ধন-৫ ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেলে আর কোনো লঞ্চ ঢাকা থেকে আসেনি। সেই থেকে এখন পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে।

মো. আনোয়ার নামে এক যাত্রী বলেন, আমার বাবা অসুস্থ। ঢাকাতে নিয়মিত চিকিৎসকের চেকআপে নিতে হয়। লঞ্চ বন্ধ থাকায় খুব ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। অ্যাম্বুলেন্সে নিতে ব্যয় বেশি। দুঘর্টনার ঝুঁকি আছেই।

আরো পড়ুন : বাউফলে তেঁতুলিয়া নদীতে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি

সোহরাব নামে আরেক যাত্রী বলেন, স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে লঞ্চে ঢাকা যাত্রা আরামদায়ক ও নিরাপদ। লঞ্চ বন্ধ থাকায় গাড়িতে যেতে হচ্ছে। এতে ব্যয়ও বাড়ছে। জার্নি করতেও কষ্ট হচ্ছে।

ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরা মানুষের ইদযাত্রা নিরাপদ সহজ ও সুন্দর করতে শীঘ্রই লঞ্চ চালুর দাবি যাত্রীদের। ঢাকা থেকে মুদি, পোশাক, ইলেকট্রনিকস, ফলসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহন করা হত।
একই সঙ্গে বাউফল থেকে মাছসহ বিভিন্ন কৃষি পণ্য কম খরচে ঢাকায় পরিবহন করা হত। লঞ্চ বন্ধ থাকায় বিকল্প পথে পণ্য পরিবহনে ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

কালাইয়া বন্দরের পোশাক ব্যবসায়ী মো. সুমন বলেন, সামনে ঈদ। ইতোমধ্যে ঈদের বেচাকেনা বাড়ছে। ঢাকা থেকে লঞ্চে পোশাক আনা সহজ ও পরিবহন খরচ কম। লঞ্চ বন্ধ থাকায় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

পৌর শহরের ইলেকট্রনিকস ব্যবসায়ী শংকর সাহা বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে ঢাকা থেকে লঞ্চে মালামাল পরিবহন করে আসছি। ঢাকা থেকে লঞ্চে তুলে দিলে পরের দিন দোকানে পৌঁছে দেয় ঘাট শ্রমিকেরা। লঞ্চ বন্ধ থাকায় গাড়িতে মালামাল আনতে হয়। অনকে সময় গাড়ির ঝাঁকুনিতে মালামাল নষ্ট হয়ে যায়।

লঞ্চ বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমিকেরা অর্থ সংকটে মানবতর জীবনযাপন করছেন তারা।

কালাইয়া ঘাটের শ্রমিক সরদার মো. কালু বলেন, লঞ্চ বন্ধ, তাই কাজও বন্ধ। এতে আমার সংসার চলাতে কষ্ট হচ্ছে।

কালাইয়া লঞ্চঘাট ইজারাদার মো. শামিম হোসেন বলেন, লঞ্চ বন্ধ থাকায় ঘাট স্টাফ নিয়ে লোকসানের মুখে পড়েছি। প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার টাকার লোকসান হচ্ছে।

নিমদী, নুরাইপুর ও ধুলিয়া ঘাটেও একই অবস্থা। এসব ঘাটের ইজারাদারেরা বলেন, বছরের পর বছর কোটি কোটি টাকা লাভ করে নিয়েছেন লঞ্চ মালিকেরা। এখন যাত্রী কম থাকায় তারা লঞ্চ বন্ধ করে দিয়েছেন। এটা হতে পারে না। এ বিষয়ে সরকারের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে সাশ্রয়ী মূল্যে দুধ, ডিম, মাংস বিক্রয় শুরু

এই রুটে চলাচলকারী এমভি ইগল লঞ্চের সুপারভাইজার মো. বাদশা মিয়া বলেন, ঈগল-৮ যান্ত্রিক ত্রুটি ও ঈগল-৫ সংস্কার কাজ চলায় বন্ধ রয়েছে। কাজ শেষ হলেই লাইনে ফিরবে।

আর এমভি বন্ধন-৫ লঞ্চের সুপারভাইজার মো. সজল ও এমভি সাব্বির-২ লঞ্চের সুপারভাইজার সুমন বলেন, যাত্রী কম। যে যাত্রী হয় তাতে মালিকের লস হয়। তাই লঞ্চ বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে ঈদের আগে চালু হবে। কিন্তু ঠিক কবে চালু হবে তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না তারা।

পটুয়াখালী নদী বন্দরের পরিবহন পরিদর্শক দিনেশ কুমার সাহা বলেন, লঞ্চ চলাচল বন্ধ আছে এটা সত্য, কেন বন্ধ আছে সেটা আমি জানি না, এ ব্যাপারে আমরা আফিসকে জানিয়েছি। লঞ্চ চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।




বরিশালে যুব শ্রমিক লীগে ৭১ বিশিষ্ট কমিটি গঠন।

বরিশাল অফিস:: বরিশালে প্রথমবারের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অঙ্গ সহযোগী সংগঠন যুব শ্রমিক লীগের এ্যাডঃ নিয়াজ মাহমুদ খানকে সভাপতি ও এ্যাডঃ জসিম উদ্দিন নকীবকে সাধারন সম্পাদক করে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বুধবার (২৭) মার্চ জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নুর কুতুব আলম মান্নানের স্বাক্ষরিত কপি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে যুব শ্রমিক লীগের আহবায়ক আব্দুল হালিম ও সদস্য সচিব এ.কে.এম রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এছাড়া যুব শ্রমিক লীগে ১৪ জন সহ সভাপতি ও ৬জনকে যুগ্ম সাধারন সম্পাদক এবং
৫জনকে সহ সাধারন সম্পাদক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক,সহ সাংগঠনিক সম্পাদক,
প্রচার প্রকাশনা সম্পাদক,দপ্তর সম্পাদক,অর্থ বিষয়ক সম্পাদক সহ ৭১ বিশিষ্ট কমিটি
গঠন করা হয়েছে।




বরিশালে সাংবাদিক বনাম যুবলীগ, কে হাসবেন শেষ হাসি

বরিশাল অফিস:: ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী প্রথম ধাপের নির্বাচনের দিন যতোই ঘনিয়ে আসছে ততোই বিভাগীয় শহর বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনী মাঠ সরগরম হয়ে উঠেছে। রমজানের মধ্যেই এ উপজেলায় স্বম্ভাব্য দুইজন প্রার্থী দিনরাত একাকার করে মাঠে গণসংযোগ থেকে শুরু করে নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করার কাজ করছেন।

তবে এখনও বিএনপিসহ অন্যান্য দলের কোন প্রার্থীর নাম শোনা যায়নি। এমনকি বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান পূর্ণরায় প্রার্থী হবেন কিনা সে বিষয়েও কোন স্পর্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন থেকে মর্যাদাপূর্ণ এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে এককভাবে মাঠ দখল করে রেখেছিলেন শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা এসএম জাকির হোসেন। বিগত প্রায় চার মাস ধরে তিনি উপজেলার প্রতিটি গ্রাম, পাড়া ও মহল্লার বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে গণসংযোগ করে আসছেন।

বিভিন্ন সভায় সাংবাদিক এসএম জাকির হোসেন বলেছেন, আমার কাছে ধনী-গরীবের কোন ভেদাভেদ নেই। সদর উপজেলার প্রতিটি মানুষ আমার কাছে সমান। আমি সকলের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চাই। তিনি আরও বলেন, আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে, বরিশাল সদর উপজেলাকে আধুনিক ও স্মার্ট উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলবো।

সূত্রমতে, অতিসম্প্রতি একই উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে কোমড় বেঁধে মাঠে নেমে গণসংযোগ শুরু করেছেন মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব মাহমুদুল হক খান মামুন। সচেতন বরিশালবাসীর মতে, শেষপর্যন্ত কে হচ্ছেন মর্যাদাপূর্ণ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী। সাংবাদিক নেতা নাকি যুবলীগ নেতা, কে হাসবেন শেষ হাসি, সেই হিসেবে মেলাতে ঈদ-উল ফিতর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

 




বাউফলে তেঁতুলিয়া নদীতে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বাউফলে বছরের পর বছর ধরে ভাঙছে তেঁতুলিয়া নদীর দুপাড়। এতে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। অথচ এই ভাঙনকবলিত এলাকা থেকেই প্রভাবশালীরা দেদারে বালু ও মাটি কেটে ব্যবসা করছেন। আর এ কারণে ভাঙনের মাত্রা বেড়েছে কয়েক গুণ।

চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরব্যারেট এলাকায় তেঁতুলিয়া নদীর তলদেশ থেকে আইনকানুনের তোয়াক্কা না করে বালু তুলছেন কয়েক প্রভাবশালী। অপরদিকে ধুলিয়া ইউনিয়নের বাসুদেবপাশা এলাকায় দীর্ঘদিন থেকে ফসলি জমির টপসয়েল কেটে ইটভাটায় সরবরাহ করছেন স্থানীয় কয়েক প্রভাবশালী।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে সাশ্রয়ী মূল্যে দুধ, ডিম, মাংস বিক্রয় শুরু

সূত্র জানায়, তেঁতুলিয়া নদীর চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন, নাজিরপুর ইউনিয়নের ধানদী, নিমদী, কচুয়া ও ধুলিয়া ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। যার কারণে এসব এলাকার বালুমহাল ইজারা বন্ধ রয়েছে। শুধু বাউফল-দশমিনা সীমান্তবর্তী বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর ডুবোচরে বালুমহাল ইজারা দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে তেঁতুলিয়া নদীর কোনো পয়েন্টে বালুমহাল নেই। বালুমহাল না থাকার পরেও চরব্যারেট এলাকা থেকে প্রকাশ্য দিবালোকে বাণিজ্যিকভাবে বালু তোলা হচ্ছে।

একাধিক ব্যক্তি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বালু তুলছেন ভোলার বোরহানউদ্দিনের প্রভাবশালী নেতা। বিশালাকৃতির ৩টি ড্রেজার দিয়ে ২৪ ঘণ্টা ধরে এ কাজ করছেন তার লোকেরা। আর অবৈধভাবে তোলা বালু বিক্রির লাভের একটি অংশ পাচ্ছেন বাউফলের কয়েক প্রভাবশালী নেতা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ৩টি ড্রেজার দিয়ে অবিরত বালু তোলার কাজ চলছে। এ সময় তেঁতুলিয়ার চরব্যারেট এলাকার কয়েক কিলোমিটারজুড়ে অপেক্ষায় রয়েছে সারি সারি বালু পরিবহণের বাল্কহেড (জাহাজ)।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, ডেকে নিয়ে প্রেমিককে খুন করেন স্বামী

এ বিষয় অভিযুক্ত মোসারেফ হোসেন বলেন, বালু তোলার সঙ্গে তিনি জড়িত নন।

ইউএনও মো. বশির গাজী বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকায় মাটি ও বালু কাটার সুযোগ নেই। শিগগিরই অভিযান চালিয়ে মাটি ও বালু কাটা বন্ধ করা হবে।




বরিশাল এবায়দুল্লাহ জামে মসজিদে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৩ ইউনিট

বরিশাল অফিস:: বরিশাল সদরে চকবাজার এলাকায় এবায়দুল্লাহ জামে মসজিদে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট কাজ করছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে এর দুর্ঘটনা ঘটে।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ও পুলিশের একাধিক টিম ও স্থানীয় সাধারণ জনগণ কাজ করছে।




পটুয়াখালীতে সাশ্রয়ী মূল্যে দুধ, ডিম, মাংস বিক্রয় শুরু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : পবিত্র রমজান উপলক্ষে প্রাণিজ আমিষ নিম্ন আয়ের জনগণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে ন্যায্যমূল্যে গরুর মাংস, দুধ ও ডিম বিক্রি কার্যক্রম শুরু  হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মো: নূর কুতুবুল আলম।

এখান থেকে গ্রাহক প্রতি কেজি গরুর মাংস ৬৫০ টাকা, ১ লিটার দুধ ৬৫ টাকা ও এক ডজন ডিম ১১০ টাকা হারে ক্রয় করতে পারবে।

এদিকে সুলভ মূল্যে মাংস, দুধ ও ডিম কিনতে পেরে সাধারাণ মানুষ তাদের স্বস্তির কথা জানিয়েছে।

অটোচালক আবুল বাশার জানান, ৬৫০ টাকা করে ২ কেজি গরুর মাংস কিনতে পেরে আমি খুবই খুশি।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, ডেকে নিয়ে প্রেমিককে খুন করেন স্বামী

ন্যায্যমূল্যে দুধ, ডিম এবং গরুর মাংস কিনতে আসা আমান উল্লাহ জানান, রমজান ছাড়াও মাসে কমপক্ষে দুইবারও যদি এই কার্যক্রম চালু রাখে তাহলে আমরা একটু হলেও স্বস্তি পেতাম।

গৃহীনি বুশরা বেগম জানান, প্রতিটি ডিমের দাম ৯ টাকা শুনে নিতে এলাম। সরকারকে ধন্যবাদ জানাই আমাদের কম দামে দুধ, ডিম দেওয়ার জন্য।

পটুয়াখালী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো: ফজলুল হক সরদার জানান, সরাসরি স্থানীয় খামারিদের সম্পৃক্ততায় এই কার্যক্রম। আমাদের দেশে রমজান আসলেই দ্রব্যমূল্যের দাম নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষ অসুবিধায় পড়েন। রমজানে আমিষের ঘাটতি পূরণ করতে পারেন না। সেই বিবেচনায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জেলা প্রশাসক এবং জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছি।

আরো পড়ুন : ১৯ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে পবিপ্রবি



১৯ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে পবিপ্রবি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) ১৯ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে।

শুক্রবার (২৯ মার্চ) থেকে ১৯ দিনের ছুটি কার্যকর হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত’র অনুমোদনক্রমে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. সন্তোষ কুমার বসু স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পবিত্র জুমাতুল বিদা, শব-ই-কদর, ঈদ-উল-ফিতর এবং বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আগামী ২৯ মার্চ হতে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসসহ সকল শিক্ষা ও প্রশাসনিক বিভাগসমূহের অফিস কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, ডেকে নিয়ে প্রেমিককে খুন করেন স্বামী

প্রভোস্ট কাউন্সিলের সুপারিশ অনুযায়ী ২৯ মার্চ বিকাল ৫ টা হতে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সকল আবাসিক হলসমূহ বন্ধ থাকবে এবং ১৬ এপ্রিল সকাল ৬ টায় আবাসিক হলসমূহ খুলে দেওয়া হবে।

বন্ধকালীন ছাত্র-ছাত্রীদেরকে হলে অবস্থান না করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। এছাড়াও জররি বিভাগ/ শাখাসমূহ যথারীতি খোলা থাকবে এবং উক্ত বিভাগ/শাখাসমূহে রোস্টার ভিত্তিতে ১জন কর্মকর্তা ও ১জন কর্মচারী দায়িত্ব পালন করবেন।




ভোলায় কমেছে আলুর আবাদ, বিকল্প ফসল আবাদে ঝুঁকছে কৃষক

বরিশাল অফিস:: উপকূলীয় দ্বীপ জেলা ভোলায় গত কয়েক বছর ধরে ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে আলুর আবাদ। এ বছরেও তার ব্যাতিক্রম হয়নি।

প্রতিকূল আবহাওয়া, সার ও বীজের মূল্য বৃদ্ধি যেন লাগাম টেনে ধরেছে আলু চাষাবাদে। ধার দেনা করে যতটুকুই চাষ করছে কৃষক তাতেও ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার আশংকা চাষিদের। মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি, বৈরী আবহাওয়া ও প্রতিবছর লোকসানের ভয়ে উৎসাহ হারিয়ে আলুর আবাদ থেকে সরে এসেছে অনেক কৃষক। বিকল্প ফসল হিসেবে গম ও সরিষা আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠেছে তারা।

জেলায় গত বছর ৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে ১ লাখ ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হলেও এ বছর ৩ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে ৯৯ হাজার মেট্রিক টন আলু উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।

পূর্ব ইলিশার কৃষক মো. শফিক বলেন, গত বছর তিনি ৩ একর জমিতে আলুর আবাদ করেছিলাম। অসময়ে বৃষ্টির কারণে আলুতে ব্যপক লোকসান হয়। এ বছর আলুর আবাদ না করার পক্ষেই ছিলাম। তারপরও এক একর জমিতে আলুর আবাদ করেছিলাম। বাকি জমিতে গমের আবাদ করেছি। এরপরও যতটুকু জমিতে আলু আবাদ করেছি তার ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে চিন্তিত।

এদিকে একই এলাকার কৃষক কবির মাঝি বলেন, ধার দেনা করে পুঁজি খাটিয়ে প্রতিবছরই আলু চাষে লোকসানের সম্মুখীন হতে হয় আমাদের। অন্যদিকে সার ও বীজের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আলু চাষ করতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাই এবছর এসব কারণে আলুর বিকল্প ফসল হিসেবে সরিষা ও গমের আবাদ করেছি।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী গত ৪ বছরের ব্যবধানে জেলায় আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ২৩৫ হেক্টর পর্যন্ত কমেছে। এতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা এবং অর্জনও কমেছে কিছুটা।

জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. হাসান ওয়ারেসুল কবির বলেন, আলুর বীজ বপনের সময় মাটিতে জো না থাকা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও প্রতিকূল পরিবেশকে ভোলায় আলু উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে দেখছি।

তিনি আরও বলেন, কৃষকদেরকে সার্বিক সহযোগিতা ও বিকল্প ফসল উৎপাদনের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে কৃষি বিভাগ। এতে আলুর আবাদ কমলেও বিকল্প ফসল হিসেবে গম ও সরিষার আবাদ জেলায় বৃদ্ধি পেয়েছে।




বরিশালে পঞ্চদশ শতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী মসজিদের সংস্কার কাজ এগিয়ে চলছে

বরিশাল অফিস:: আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে জেলার প্রায় শত বছরেরও প্রাচীন ইতিহাসের নিদর্শন এবং ঐতিহ্যবাহী সব কয়টি মসজিদের সংস্কার ও ধোয়া-মোছার কাজ এগিয়ে চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলার দশটি উপজেলার প্রায় সব কয়টি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন মসজিদের সংস্কার কাজ কম-বেশি এগিয়ে চলছে। উল্লেখ্যযোগ্য মসজিদগুলোর মধ্যে যথাক্রমে, সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের মিয়াবাড়ি মসজিদ প্রাচীন স্থাপত্য শৈলীর অন্যতম আকর্ষণ। মুঘল আমলে নির্মিত বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন মসজিদ এটি। ধারণা করা হয়, ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে দ্বিতল মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। কারুকার্য ম-িত মসজিদটির নিচে রয়েছে ছয় দরজা বিশিষ্ট কক্ষ। অবশ্য দ্বিতীয় তলায় মূল মসজিদের আসল সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে।

এ অংশ জুড়ে রয়েছে চমৎকার সব নকশার কাজ। মূল মসজিদের রয়েছে তিনটি দরজা। মসজিদটিতে রয়েছে আটটি বড় মিনার। বড় মিনারগুলোর মধ্যে রয়েছে ছোট আরও ১২টি মিনার। মসজিদের মাঝখানে রয়েছে তিনটি গম্বুজ। সবচেয়ে বড় গম্বুজটির ভেতরের অংশে রয়েছে দৃষ্টি-নন্দন কারুকার্য। সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় ওঠার পর বসার খোলা জায়গা রাখা হয়েছে। মসজিদের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে দুটি দিঘী রয়েছে, যা মসজিদের সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তুলেছে। প্রায়ই দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা প্রাচীন মসজিদটি দেখতে আসেন।

এছাড়াও, জেলার গৌরনদী পৌর এলাকার বড় কসবা এলাকায় অবস্থিত নয় গম্বুজ বিশিষ্ট ঐতিহ্যবাহী ‘আল্লাহর মসজিদ।’ ধারনা করা হয় পঞ্চদশ শতাব্দীর মাঝা মাঝি সময়ে খান জাহান (র.) আমলে মসজিদটি নির্মিণ করা হয়। মসজিদটি এখন প্রাচীন কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মসজিদটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে ১১.৬৮ মিটার। অর্থাৎ ৩৮ ফুট করে। মসজিদের দেয়ালগুলো প্রায় ২.১৮ মিটার বা ৭ ফুট চওড়া। পাতলা ইট ও চুন-সুরকি দিয়ে নির্মিত এ মসজিদটিতে বর্তমানে পূর্ব দেয়ালে ৩টি, উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে ১টি করে মোট ৫ টি শিখরাকার সরু উঁচু খিলান বিশিষ্ট প্রবেশ পথ রয়েছে। প্রবেশ পথের খিলানের উপরের প্যানেলে কিছু ফুল ও ডায়মন্ড অলংকরন করা হয়েছে। পাশাপাশি ছাদে সর্বমোট ৯ টি গম্বুজ রয়েছে। এছাড়াও মসজিদের অভ্যন্তরে ৪টি পাথরের স্তম্ভ রয়েছে ও পশ্চিম দেয়ালে ৩টি মিহরাব রয়েছে। মাঝখানের মিহরাবটি আকারে বড়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানায়, সুলতানী আমলে পোড়া মাটি দিয়ে তৈরি ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক কমলাপুর জামে মসজিদ। জেলার গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামে অবস্থিত প্রতœতত্ত্ব অধিদফতরের নিয়ন্ত্রণাধীন তিন গম্বুজ বিশিষ্ট আয়তাকার এ মসজিদটি সতেরো শতকের শেষের দিকে নির্মাণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ১.৮৩ মিটার বা ছয় ফুট পুরু দেয়াল বিশিষ্ট মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণ দিকে ১৭.২২ মিটার বা ৫৬ ফুট দৈর্ঘ্য এবং পূর্ব-পশ্চিম দিকে ৮.০৮ মিটার বা ২৬ ফুট দৈর্ঘ্য। মসজিটির দেয়ালগুলোতে বহু খাঁজ বিশিষ্ট খিলান যুক্ত প্রবেশ পথ রয়েছে। পূর্ব দিকে তিনটি এবং উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে একটি করে মোট দুইটিসহ সর্বমোট পাঁচটি প্রবেশ পথ রয়েছে। পূর্ব পাশে মসজিদের মধ্য ভাগের প্রবেশ পথটি বাকিগুলোর থেকে বড় হওয়ায় এটিকে প্রধান ফটক হিসেবেই ব্যবহার করা হয়। মসজিদের কিবলার (সামনে) দিকে তিনটি অর্ধ অষ্টভুজ মিহরাব রয়েছে।

অপরদিকে, নসরত গাজীর মসজিদ বরিশাল জেলার অবস্থিত একটি প্রাচীন মসজিদ ও প্রতœতাত্ত্বিক স্থাপনা। মসজিদটি নাসির উদ্দিন নুসরাত শাহ-এর সময় কালে নির্মাণ করা হয়। এটি বাকেরগঞ্জ উপজেলার শিয়ালগুনি গ্রামে অবস্থিত। মসজিদটি বর্তমানে প্রতœতত্ত্ব বিভাগের সুরক্ষার অধীনে রয়েছে। অনুমান করা হয় ১৫১৯ সালে এ নসরত গাজী নামে এক ব্যক্তি শিয়ালগুনি গ্রামে মসজিদটি নির্মাণ করেন। তাই আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে এ ঐতিহ্যবাহী মসজিদগুলোর সংস্কার করছেন পৃথক ভাবে মসজিদ স্থানীয় জনতা. কমিটির সদস্যরা ও প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর। এরই ফলোশ্রুতিতে ঐতিহ্যবাহী মসজিদগুলো হয়ে উঠছে দৃষ্টি-নন্দন। এছাড়াও রয়েছে মুঘল আমলে জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর এলাকায় ১৯ শতকের প্রথম ভাগে উলানিয়া দিরিী পাড়ে ১টি দোতলা ভবন ও তিন গম্বুজ বিশিষ্ট ১টি মসজিদ। যা বর্তমানে উলানিয়া মসজিদ নামে পরিচিত।

এ বিষয়ে জেলার সদর উপজেলা রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আহম্মদ শাহরিয়ার বাবু বলেন, ইউনিয়নের মিয়াবাড়ি মসজিদ প্রাচীন স্থাপত্য শৈলীর অন্যতম আকর্ষণ। এ স্থাপত্যটি সংরক্ষণে পরিষদের পক্ষ থেকে সকল প্রকার সহযোগিতা করা হচ্ছে। এবং তা ভবিষ্যতেও অভ্যাহত থাকবে।

এ প্রসঙ্গে আলাপকালে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো: গোলাম ফেরদৌস বলেন, এসব ঐতিহ্যবাহী গুরুত্বপূর্ণ পুরাকীর্তি মসজিদগুলোর অধিকাংশই কালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রাচীন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আজো টিকে আছে, যা প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে সমধিক পরিচিত। এসব প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শনের অনুসন্ধান, খনন, সংস্কার, সংরক্ষণ, প্রদর্শন এবং গবেষণার মাধ্যমে ইতিহাস পুনরুদ্ধারের কাজে প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর পর্যায়ক্রমে কাজ করে যাচ্ছে।