বাউফলে এসআইয়ের বিরুদ্ধে শিশু শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ

পটুয়াখালীর বাউফলে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শিশু শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে আহত শিশুটি বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। ভুক্তভোগী হামিম (১০) উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের ছয়হিস্যা গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্র জানায়, খেলার ছলে হামিম মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিল। এসময় বাউফল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদুর রহমান তার কাছ থেকে মোবাইলটি কেড়ে নেন এবং কানে একাধিকবার চড় মারেন। এতে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে।
শিশুর বাবা কবির মোল্লা জানান, “পুলিশের ভয়ে আমরা বিষয়টি প্রথমে গোপন রাখি। তবে শনিবার রাতে ছেলের প্রচণ্ড কান ব্যথা শুরু হলে হাসপাতালে নিয়ে আসতে বাধ্য হই।”
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, মারধরের পর এসআই শিশুটিকে পুলিশের গাড়িতে তুলতে চাইলে স্থানীয়রা বাধা দেন। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই মাসুদুর রহমান বলেন, “জমাজমি সংক্রান্ত একটি ঘটনায় সেখানে গিয়েছিলাম। তখন শিশুটি আমাদের ভিডিও করছিল। আমি কেবল ফোনটি নিয়েছি, মারধরের অভিযোগ সঠিক নয়।”
তবে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকতারুজ্জামান সরকার সাংবাদিকদের জানান, “ঘটনার বিষয়ে এসআই মাসুদুর রহমানের সঙ্গে কথা হয়েছে। সে স্বীকার করেছে, শিশুটির মাথা ধরে মোবাইল ফোন নিয়েছে।”
বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নুরজাহান বলেন, “শিশুটির কানে আঘাতজনিত ব্যথা রয়েছে। তাকে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।”
ঘটনাটি প্রকাশিত হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হলেও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম








