জনসেবার ব্রত নিয়েই আমি উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি- এসএম জাকির হোসেন

বরিশাল অফিস:: মানুষেল জন্য কাজ করাও এক ধরনের এবাদত বলে মন্তব্য করেছেন, বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ও শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন।

তিনি বলেন, ‘জনসেবার ব্রত নিয়েই আমি উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। কারণ একজন জনপ্রতিনিধিই পারে খুব সহজভাবে বৃহৎ জনগোষ্ঠির সেবা এবং উন্নয়ন করতে। মন্ত্রী-এমপিদের কাছে দাবি জনগণের পক্ষে দাবি জানাতে পারে।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের মঙ্গলহাটা মৌচাক বাজারে গণসংযেগ ও স্থানীয়দের সাথে কুশল বিনিময়কালে মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য এসএম জাকির হোসেন এ কথা বলেন।

এর আগে ইউনিয়নের মঙ্গলহাটা মৌচাক বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদে স্থানীয়দের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন এসএম জাকির হোসেন।

গণসংযোগ ও ইফতার অনুষ্ঠানে রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের সদস্য মো. আবু নাঈম আকন, এসএম জাকির হোসেনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক আবুয়াল মাসুদ মামুন, ১৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের আহ্বায়ক জুয়েল রাফিসহ স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

গণসংযোগকালে চেয়ারম্যান প্রার্থী এসএম জাকির হোসেন আরও বলেন, ‘আমি প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না। আমি কাজ করে দেখাতে চাই। সদর উপজেলায় আগে কী হয়েছে আমি জানি না। তবে কথা দিচ্ছি, আমি নির্বাচিত হলে বরিশাল সদর উপজেলাকে স্মার্ট উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলবো। সদর উপজেলা হবে সারা দেশের উন্নয়নের মডেল।

তিনি বলেন, ‘আল্লাহ্ আমাকে অনেক দিয়েছেন। নতুন করে আমার চাওয়ার কিছুই নেই। জীবনের শেষ নি.শ্বাস পর্যন্ত আমি জনগণের সেবা করতে চাই। আপনারা আমাকে সেই সুযোগটুকু সৃষ্টি করে দিন। আমি কথা দিচ্ছি, জনগণের সেবক এবং বন্ধু হয়ে উপজেলাবাসীর পাশে থাকবো।

এর আগে শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে চরকাউয়া ইউনিয়নের চরআইচা ইউনিয়নের মোল্লা বাড়ির পারভেজ মোল্লার বাবা মাসুদ মোল্লার মৃত্যুর সংবাদ শুনে তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে ছুটে যান এসএম জাকির হোসেন। এসময় সমাজসেবক সুরুজ মোল্লা, ইউপি সদস্য সাইদুল আলম লিটন উপস্থিত ছিলেন।

বিকেল ৪টায় নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যান সংলগ্ন ইউরো কনভেনশন হলে বরিশাল উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এবং সদর উপজেলা নারী উদ্যোক্তাদের আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী এসএম জাকির হোসেন।

উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি বিলকিস আহমেদ লিলি’র সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট আবুয়াল মাসুদ মামুন, প্রকৌলশী সাহেদ বিল্লাহ, ১৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের আহ্বায়ক জুয়েল রাফি।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নারী উদ্যোক্তা সুমাইয়া জিসান। এসময় নারী উদ্যোক্তারা আসন্ন সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী এসএম জাকির হোসেনের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।

এরপর বিকেলে ইউরো কনভেনশন হলো ‘মোগো সুন্দর বরিশাল সোসাইটি’ আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এসএম জাকির হোসেন। ইফতার পূর্বক আলোচনা সভায় গ্রুপের সকল সদস্যদের দোয়া এবং সমর্থন প্রত্যাশা করে বক্তব্য দেন তিনি।




পটুয়াখালীতে আগুনে ভস্মীভূত ২৩ মাছের আড়ত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর সবচেয়ে বড় মৎস্য বন্দর মহিপুরে আগুন লেগে অন্তত ২৩টি মাছের আড়ত পুড়ে গেছে।

শুক্রবার (৬ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে জাপান মৎস্য আড়ত থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

মহিপুর মৎস্য আড়ত মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ রাজা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ।

কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার ইলিয়াস হোসাইন বলেন, সড়ক সরু হওয়ার কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা দেরি হলেও পাশেই নদী থাকায় খুব কম সময়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি জানার কাজ চলছে।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালী জেলায় ২ হাজার কোটি টাকার তরমুজ উৎপাদন

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, আমি ঘটনাস্থলে এসেছি। ক্ষয়ক্ষয়ি জানতে উপজেলা প্রশাসন থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ক্ষতিক্ষগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে টিন এবং নগদ অর্থ সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।




পটুয়াখালী জেলায় ২ হাজার কোটি টাকার তরমুজ উৎপাদন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে ২৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে সাড়ে ছয় লাখ মেট্রিক টন তরমুজ উৎপাদন হয়েছে। এসব তরমুজের বাজার মূল্য দুই হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে দাবি করছেন জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।

উৎপাদিত এসব তরমুজ উচ্চমূল্যে বিক্রি করতে পেরে খুশি কৃষক। গত বছরের বৃষ্টিতে তরমুজ চাষের ক্ষতি পুষিয়ে এবার লাভবান চাষিরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ তরমুজ ক্ষেত। চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে তরমুজ। ক্ষেত থেকে তরমুজ তুলে জড়ো করে রেখেছেন বিক্রির জন্য। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাপারীরা তরমুজ কিনতে ক্ষেতে গিয়ে চাষিদের সঙ্গে দরদাম করে কিনে নিচ্ছেন। এই তরমুজ ট্রাক-ট্রলি ও ট্রলারে বোঝাই করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন শ্রমিকরা। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই ক্ষেত থেকে তুলে বাজারজাতে ব্যস্ততা দেখা গেছে চাষিদের মাঝেও।
এসব দৃশ্য দেখা গেছে পটুয়াখালীর গলাচিপা, দশমিনা, কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলার তরমুজ ক্ষেতে।

আরো পড়ুন : কলাপাড়ায় ষড়যন্ত্রে দিশেহারা আ.লীগ সভাপতি, মামলা দিয়ে হয়রানি

চাষিরা জানান, জেলার গলাচিপা ও রাঙ্গাবালীতে প্রচুর তরমুজ চাষ হয়েছে। তবে বরি মৌসুমে অল্প সময়ে তরমুজ আবাদ ও লাভজনক হওয়ায় পটুয়াখালীর চাষিদের মধ্যে আগ্রহ অনেক বেড়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানিয়েছে, এ বছর জেলায় ২৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে গলাচিপা উপজেলায়। এ উপজেলায় ৮ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে রসালো ফলটির চাষ হয়েছে। এ ছাড়াও রাঙ্গাবালীতে ৬ হাজার ৩৫০ হেক্টর, বাউফলে ৩ হাজার ৫২০ হেক্টর, কলাপাড়ায় ১ হাজার ৭৫০ হেক্টর, দশমিনায় ১ হাজার ৭২০ হেক্টর, সদর উপজেলায় ৮০৫ হেক্টর, দুমকি উপজেলায় ৩৫০ হেক্টর ও মির্জাগঞ্জ উপজেলায় ১৫৫ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। উৎপাদিত এসব তরমুজ বাজারে বিক্রি দুই হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।




প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পেলেন বরিশালে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা

বরিশাল অফিস :প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ঈদ উপহার পেলেন আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা বরিশালের জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের সাপানিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের মাঝে শুক্রবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে খাদ্য সামগ্রী উপহার তুলে দেন বরিশাল জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বটিশাল অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মনদীপ ঘরাই, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহাবুব উল্লাহ মজুমদারসহ জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনারবৃন্দরা।

এ সময় তারা সাপানিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩০ টি পরিবারের মাঝে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর খাদ্য সামগ্রী উপহার তুলে দেন। পাশাপাশি বাসিন্দাদের বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ খবর নেন।


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপকার উপকারভোগী বরিশাল সাপানিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা নাজমা বেগম বার্তা২৪.কমকে জানান,স্বামী হারুন হাং গাছ কাটার শ্রমিক। তাদের গ্রামের বাড়ি মুলাদী উপজেলায়। নদী ভাঙনে তারা ভিটেমাটি হারায়। কর্মের তাগিদে বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের তালতলী বাজারে ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস করত। তাদের তিনটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। গাছ কাটার কাজ করে হারুন যে কয় টাকা উপার্জন করত তা দিয়ে ঘর ভাড়া এবং সংসার চালিয়ে তিনটি সন্তানের পড়াশোনার খরচ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ত। একসময় মেয়েদের লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। ঠিক তখনই প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণের জমিসহ ঘর উপহার পেয়ে এখন তাদের ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়। এখন তাদের আর ঘর ভাড়া দিতে হয় না। ঘর ভাড়ার টাকা দিয়ে এখন সন্তানদের পড়াশোনা করাতে পারছেন। নিজের আঙ্গিনায় নিজের জমিতে বিভিন্ন শাক সবজির চাষ করছেন। পান্তু এখন স্বাবলম্বী নারী আশ্রয়ণে ঘর পেয়ে এখন তারা সুখে-শান্তিতে বসবাস করছে।

এ সময় বরিশাল জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের অসহায় হতদরিদ্রদের জন্য জেলা প্রশাসনের ঈদ উপহার দেওয়া হচ্ছে। এ কার্যক্রম জেলার সকল উপজেলায় অব্যাহত থাকবে।

 




কলাপাড়ায় ষড়যন্ত্রে দিশেহারা আ.লীগ সভাপতি, মামলা দিয়ে হয়রানি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ার মহিপুরে জামায়াত নেতা ও ধর্ষণ মামলার আসামি আবু হানিফের মিথ্যা মামলা ও ষড়যন্ত্রে দিশেহারা হয়ে পড়েছে মহিপুর আওয়ামী লীগ সভাপতি মালেক আকন ও এলাকার দরিদ্র মানুষেরা। তার অবৈধ একাধিক ব্যবসা নির্বিঘ্নে করতে ও পাওনা টাকা না দেয়ার ফন্দি হিসেবে তাদের গ্রামছাড়া করতে এ মামলা দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মহিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতারা।

আজ (শুক্রবার) সকাল ১১টায় কলাপাড়া প্রেসক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুর রহমান মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন মহিপুর আওয়ামী লীগ সভাপতি মালেক আকন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, জামায়াত নেতা আবু হানিফ, ইউনুস সিকদার ও ইউনুস হাওলাদার দীর্ঘদিন একসাথে জমি ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসা করতেন। তাদের মধ্যে আর্থিক লেনদেন নিয়ে ঝামেলার সৃষ্টি হয়। এবিষয়ে মাননীয় ত্রাণ ব্যবস্থাপনা ও দূর্যোগ প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের নিকট একটি অভিযোগ আসে। তিনি স্থানীয় মহিপুর সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দের কাছে বিষয়টি সমাধানের নির্দেশ প্রদান করেন। মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশে বিষয়টি সমাধানের জন্য আবু হানিফসহ সকলকে ডাকলে আবু হানিফ কিছুদিনের সময় চেয়ে চলে যায়। পরবর্তীতে তিনি আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে হামলা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ করে মামলা করে।

আরো পড়ুন : সারা বছরই মুখর থাকে ইয়ার উদ্দীন দরবার

মহিপুর আওয়ামী লীগ সভাপতি মালেক আকন বলেন, কারিতাস ভবনের পাশে যে বিল্ডিং নির্মানের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার কথা সে বলেছে তার মালিক আবু হানিফ নয়। ভবনের নির্মান কাজ চলমান রয়েছে। এ  ভবনের মালিক ইব্রাহীমের কোন অভিযোগ নেই। রাইচ মিল ও তেলের মিল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এটা সম্পূর্ন মিথ্যা। এ প্রতিষ্ঠানের মালিক ইউনুস সিকদারের কোন অভিযোগ নেই। অথচ এসব মিথ্যা মনগড়া তথ্য দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে চাদাবাজি মামলা দায়ের করেছে।

আরো পড়ুন : ঢাকা-গলাচিপা নৌ-রুটে ১ বছর পর লঞ্চ চলাচল শুরু

তিনি আরো বলেন, আবু হানিফ ছাত্র জীবনে ইসলামি ছাত্র শিবিরের সদস্য থেকে পরবর্তীতে জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত। সরকার বিরোধী অপতৎপরতায় লিপ্ত থেকে একের পর এক মিথ্যা ভিত্তিহীন নাটকীয় কাহিনীর অবতারনা করে মামলা মোকদ্দমা দিয়ে মানুষকে হয়রানি করে আসছে। ইতিপূর্বে তিনি একটি ধর্ষন মামলায় এক মাস জেলহাজত বাস করেন। তার রয়েছে একাধিক অবৈধ ব্যবসা। মহিপুর বাজারে তার আবাসিক হোটেল থেকেই এসব ব্যবসা পরিচালনা করা হয়। এর প্রতিবাদ ও জামায়াত নেতা আবু হানিফের শাস্তি দাবি করেন মহিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতারা।




ঢাকা-গলাচিপা নৌ-রুটে ১ বছর পর লঞ্চ চলাচল শুরু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় পর ঈদ উপলক্ষে ঢাকা-গলাচিপা নৌ-রুটে লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে। ঈদ সার্ভিস ছাড়া সবসময়ই এই রুটে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রাখার দাবি স্থানীয়দের।

শুক্রবার ঢাকা থেকে বাগেরহাট-২ লঞ্চ ছেড়ে আসার মধ্যে দিয়ে এই সার্ভিস শুরু হয়। এই সার্ভিসে যুক্ত হবে সাত্তার খান-১ লঞ্চ।

লঞ্চ মালিক সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালীর লোহালিয়া ব্রিজের কাজ চলার কারণে এই রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। এছাড়া পদ্মা সেতুর চালুর কারণে যাত্রীরা সড়ক পথে বেশি যাতায়াত করছে। যাত্রী সঙ্কটে এক বছর আগে থেকে ঢাকা-গলাচিপা রুটে লঞ্চ সার্ভিস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়ে।

আরো পড়ুন : সারা বছরই মুখর থাকে ইয়ার উদ্দীন দরবার

নৌ-পরিবহন যৌথ মালিকানা প্রতিনিধি মো: মজিবুর রহমান জানান, লঞ্চ বন্ধ থাকায় মালিক ও কর্মচারী আর্থিকভাবে সমস্যায় রয়েছে। লঞ্চঘাট কেন্দ্রিক ৫০ জন শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তাদের পরিবারে ঈদের আনন্দ নেই বললেই চলে।

পটুয়াখালীর নদী বন্দরের উপ-পরিচালক মো: মামুনুর রশিদ বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে দো-তলা লঞ্চের সার্ভিসের কথা শুনেছি। লঞ্চের এ রুটটি বন্ধ হওয়ার কারণ গলাচিপা – ঢাকা গ্রীন লাইনের বাস সার্ভিস চালু ।’




সারা বছরই মুখর থাকে ইয়ার উদ্দীন দরবার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : দেশের দক্ষিণাঞ্চলের যতগুলো পুণ্যভূমি আছে, তার মধ্যে অন্যতম পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার ইয়ার উদ্দীন খলিফা (র.)-এর দরবার শরিফ। সারা বছরই এই দরবার মুখর থাকে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর পদচারণে। তাদের কেউ আসেন দান কিংবা মানতের মাধ্যমে নেক মনোবাসনা পূরণের জন্য আবার কেউ আসেন স্রষ্টার নৈকট্য লাভের জন্য। পীর-মুরিদহীন ব্যতিক্রমী এই দরবারে শুধু বার্ষিক ওয়াজ-মাহফিলেই লাখো মানুষের সমাগম হয়।

মির্জাগঞ্জ দরবারে আসা দেশের বিভিন্ন স্থানের মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের যতগুলো দরবার বা পুণ্যভূমি আছে, তার প্রতিটিতেই একজন করে পীর থাকেন। থাকেন অসংখ্য মুরিদ বা অনুসারীও। বংশপরম্পরায় পরিবারের বড় ছেলেই পীর নির্বাচিত হন এসব দরবারে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম মির্জাগঞ্জ দরবার শরিফ। এই মাজারে কোনো পীর নেই, কোনো মুরিদও নেই। এ ছাড়া ধর্মীয় সব রীতিনীতি মেনেই চলে এ মাজারের সব কার্যক্রম। তাই দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও এ মাজারের সুনাম রয়েছে।

আরো পড়ুন : গুঠিয়া মসজিদের সৌন্দর্যে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইয়ার উদ্দীন খলিফা (র.)-এর প্রকৃত নাম হচ্ছে ইয়ার উদ্দীন খান। বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবার নাম সরাই খান। যুবক বয়সেই তার স্ত্রী ও একমাত্র ছেলে মৃত্যুবরণ করেন।

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় এসে প্রথমে মুদি ও মনোহরি পণ্য বিক্রি শুরু করেন ইয়ার উদ্দিন। এতে তাকে সাহায্য করতেন গগন মল্লিক নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি। এরপর পেশা পরিবর্তন করে পাঞ্জাবি ও টুপি সেলাই করে জীবিকা নির্বাহ শুরু করেন তিনি। এ কারণে স্থানীয়রা তাকে খলিফা উপাধি দেন। জীবিকা নির্বাহের কাজের পেছনে তিনি স্বল্প সময় ব্যয় করতেন। দিন ও রাতের সিংহভাগ সময় তিনি নামাজ ও পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ইবাদতের মগ্ন থাকতেন।

ইয়ার উদ্দীন খলিফা (র.) একজন সজ্জন ও বিনয়ী মানুষ ছিলেন। তিনি সব মানুষকে অত্যন্ত বিশ্বাস করতেন। তাই তার দোকানের কোনো পণ্য তিনি পরিমাপ করে ক্রেতাদের দিতেন না। ক্রেতারাই পরিমাপ করে পণ্য নিয়ে দাম দিয়ে যেতেন। তবে ইয়ার উদ্দীন খলিফা কবে জন্মগ্রহণ করেন ও কবে মির্জাগঞ্জে আসেন এবং কবে মৃত্যুবরণ তা নির্দিষ্ট করে জানাতে পারেননি কেউই। তবে স্থানীয়দের ধারণা, ১৯২০ সালের দিকে ইয়ার উদ্দীন খলিফা (র.) মির্জাগঞ্জ আসেন এবং ১৯৩০ অথবা ১৯৩৫ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

ইয়ার উদ্দীন খলিফা (র.)-এর দরবারে প্রতিবছর ২৪ ও ২৫ ফাল্গুন দুদিনব্যাপী বার্ষিক ওয়াজ-মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে লাখো মানুষের সমাগম হয়। এ ছাড়া প্রতিদিন এই পুণ্যভূমি দর্শন ও মাজার জিয়ারত করতে দূরদূরান্ত থেকে শত শত মানুষের আগমন ঘটে।

খুলনার পাইকগাছা থেকে চার বন্ধুর সঙ্গে মো. ওমর ফারুক (২৫) এসেছেন মির্জাগঞ্জ মরহুম ইয়ার উদ্দীন খলিফা (র.)-এর দরবারে। তিনি বলেন, এর আগেও আমি একাধিক দরবারে এসেছি। সেসব স্থানে মাহফিলে আসা মুসল্লিদের পীর তাদের মুরিদ বানান। তাদের নিজস্ব কিছু রীতি-রেওয়াজ পালনের নির্দেশনা দেন। কিন্তু এখানে এ রকম কিছু নেই। এখানে শুধু কোরআন ও হাদিসের আলোকে আলোচনাই করা হয়।

তিনি আরও বলেন, অনেক দরবারে দেখেছি, বার্ষিক এসব অনুষ্ঠান কিংবা কোনো অনুষ্ঠান ছাড়াও নারী-পুরুষ মিলেমিশে একাকার হয়। কিন্তু এখানের দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। চাইলেই এখানে নারীরা পুরুষদের স্থানে যেতে পারেন না আর পুরুষরাও নারীদের স্থানে যেতে পারেন না। এসব কারণেই দরবারটি আমার বেশ ভালো লেগেছে। তাই পরবর্তীতেও আমি এখানে আসতে চাই।

বরিশালের উজিরপুর থেকে মানতের একটি গরু নিয়ে এ দরবারে এসেছেন পৌঢ় হামিদ গাজী। তিনি বলেন, নেক মনোবাসনা পূরণে এ দরবারে দানের জন্য যদি কেউ মানত করেন, তাহলে আল্লাহর রহমতে তার মনোবাসনা পূরণ হয়। পারিবারিক একটি সমস্যা সমাধানের জন্য এ দরবারে আমি গরু মানত করেছিলাম। আল্লাহর রহমতে আমার সেই সমস্যা সমাধান হয়েছে। তাই মাহফিলের শেষ দিন আমি মানতের গরু নিয়ে এখানে এসেছি।

টাঙ্গাইল থেকে আসা পৌঢ় আহমদ আলী বলেন, বর্তমানে সিংহভাগ দরবার ধর্মীয় নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নিজস্ব নিয়মনীতিতে পরিচালিত হয়। কিন্তু এই ধরবারে ধর্মীয় রীতিনীতি কঠোরভাবে মেনেই সব কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এখন পর্যন্ত সব ধরনের বিতর্কের ঊর্ধ্বে এই দরবার। তাই কোনো পীর-মুরিদ না থাকার পরও লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা এখানে সমবেত হন আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য।

সাড়ে আট একর জমি নিয়ে মির্জাগঞ্জ উপজেলার পায়রা নদীর তীরে অবস্থিত হজরত ইয়ার উদ্দীন খলিফা (র.)-এর দরবার শরিফ। ইয়ার উদ্দীন খলিফা (র.)-এর মাজারকে কেন্দ্র করে এখানে গড়ে উঠেছে একটি মসজিদ, একটি আলিম মাদরাসা, একটি এতিমখানা, একটি নুরানি মাদরাসা, একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল এবং একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালী থেকে অপহৃত কিশোরী যাত্রাবাড়ীতে উদ্ধার

মাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদ মল্লিক বলেন, আমাদের সমাজে মাজার মানেই গানবাজনাকে বোঝায়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন ইয়ার উদ্দীন খলিফা (র.) মাজার ও দরবার। আমাদের প্রিয় ইসলাম ধর্ম সমর্থন করে না, এমন কোনো কাজ এ মাজার ও দরবারে করা হয় না

তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় সব রীতিনীতি মেনে চলা হয় বলেই এখানের বার্ষিক মাহফিলে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। এ ছাড়া প্রতিদিন এখানে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী শত শত মানুষ আসেন মাজার জিয়ারত করার পাশাপাশি দান ও মানত করতে।




শীর্ষস্থান হারালেন মুস্তাফিজ




মার্কিন নীতিতে পরিবর্তন হতে পারে, নেতানিয়াহুকে হুঁশিয়ারি বাইডেনের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে নির্মূলের লক্ষ্য নিয়ে অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি এই আগ্রাসনে ইতোমধ্যেই ৩৩ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়েছে এবং এর জেরে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে দেশটি।



ভোলায় ভেজাল মসলা তৈরি: ২ কারখানাকে জরিমানা

বরিশাল অফিস:: রং মেশানো ভেজাল হলুদ ও মরিচের গুঁড়া তৈরির অভিযোগে ভোলায় দুই কারখানাকে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

শুক্রবার (৪ মার্চ) সকালে জেলা শহরের খালপাড় সড়কে এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় ভেজাল পণ্য তৈরি অভিযোগে মেসার্স আবির মসলার কারখানাকে ১ লাখ ৫০ হাজার ও মুহিব এন্টারপ্রাইজকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অধিদপ্তর ভোলা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকল্পে মসলার কারখানাগুলোতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।