কেএনএফের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান শুরু

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ব্যাংক ও অস্ত্র লুটকে কেন্দ্র করে পার্বত্য অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে আর্থিক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। এদিকে গতকাল শুক্রবার থেকে ব্যাংক ও অস্ত্র লুটের ঘটনায় জড়িত সশস্ত্র গোষ্ঠী কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে যৌথ বাহিনী। সেনাবাহিনী, র‍্যাব, বিজিবি ও পুলিশ এই অভিযান পরিচালনা করছে। কেএনএফ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। সন্ত্রাসীদের দমনে পাহাড়ে জঙ্গিবিরোধী অভিযানের মত সব ধরনের কৌশল অবলম্বন করা হবে বলে জানিয়েছেন র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম বিভাগের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, কেএনএফের হামলার ঘটনা কিন্তু ছোট কোন ঘটনা নয়। সূদরপ্রসারী হামলার লক্ষ্য হিসাবে এই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে তারা। কেএনএফ বম সম্প্রদায়ভুক্ত। একটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী। এদের সদস্য সংখ্যা খুবই কম। এর আগে র‍্যাব ও যৌথ বাহিনী অভিযানে চালিয়ে তাদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেয়। তারা পাশের দেশে পালিয়ে যায়। তারা বলেন, শান্তি আলোচনার নামে এই কেএনএফের সদস্যরা পাহাড়ে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে। অর্থ আদায়ের এই পরিকল্পনায় শান্তি কমিটির একাধিক সদস্য রয়েছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী অর্থ সংগ্রহের জন্য তারা ব্যাংকে হামলা চালিয়েছে। আগেই এই কেএনএফকে নির্মূল করার দরকার ছিলো। কিন্তু তা করা হয়নি। এই কেএনএফের সঙ্গে মিয়ানমার ও ভারতের মিজোরামসহ কয়েকটি রাজ্যের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর যোগাযোগ রয়েছে। এরা বান্দরবানের দুর্গম এলাকা দিয়ে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এই হামলার ঘটনার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান আজ শনিবার বান্দরবান সফরে আসেন। তার সফরসঙ্গী আছেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, স্বরাষ্ট্র সচিব ও পুলিশের আইজি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বান্দরবানের রুমা ও থানচি এলাকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন।




গাজায় ৬০ শতাংশের বেশি বাড়ি-ঘর ধ্বংস করেছে ইসরায়েল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  গাজায় সংঘাত শেষ হলেও অনেকেই আর নিজেদের বাড়ি-ঘরে ফিরতে পারবেন না। কারণ সেখানকার বেশিরভাগ বাড়ি-ঘর এবং স্থাপনাই ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজার এমন কোনো স্থান নেই যেখানে ইসরায়েলি বাহিনী আগ্রাসন চালায়নি। ফলে সেখানকার কোনো স্থানই এখন আর নিরাপদ নয়। খবর আল জাজিরার।

জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) জানিয়েছে, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর গাজার অনেক মানুষেরই ফিরে যাওয়ার জন্য আর কোনো নিরাপদ স্থান থাকবে না। সেখানকার ৬২ শতাংশ বাড়ি-ঘর ইতোমধ্যেই ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এছাড়া গাজার ৭৫ শতাংশের বেশি জনসংখ্যাই এখন বাস্তুহারা হয়ে পড়েছে। সেখানকার লোকজন এখনও জানেন না যে, সংঘাত কবে শেষ হবে।

প্রায় ৬ মাস ধরে গাজায় তাণ্ডব চালাচ্ছে ইসরায়েল। সেখানকার বাড়ি-ঘর, মসজিদ, হাসপাতালসহ কোনো স্থাপনাই ইসরায়েলি হামলা থেকে বাদ পড়েনি। হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত সেখানে ৩৩ হাজার ৩৭ জন নিহত হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছে আরও ৭৫ হাজার ৬৬৮ জন।

গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলি সীমান্তে প্রবেশ করে আকস্মিক হামলা চালায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এরপরেই গাজায় পাল্টা আক্রমণ শুরু করে ইসরায়েল। সে সময় থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি সৈন্যদের হামলায় প্রতিদিনই সেখানে শত শত ফিলিস্তিনি প্রাণ হারাচ্ছে।

জাতিসংঘ বলছে, গাজায় ৫০ হাজারেরও বেশি শিশু তীব্রভাবে অপুষ্টিতে ভুগছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি বলছে, উত্তর গাজায় দুই বছরের কম বয়সী ৩০ শতাংশ শিশু তীব্রভাবে অপুষ্টিতে ভুগছে। এদিকে ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি রয়েছে দুই হাজারের বেশি শিশু।

গাজায় এখন পর্যন্ত ৩৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই নারী এবং শিশু।
প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, একটি বা দুই পা-ই হারিয়েছে গাজার এক হাজার শিশু।




৬ দিনের ছুটি পেতে যাচ্ছে সংবাদপত্র, ঘোষণা আজ

প্রচলিত রেওয়াজ অনুযায়ী প্রতিবছর ২৯ রমজান থেকে ঈদে তিন দিনের ছুটি ভোগ করেন সংবাদকর্মীরা। রোজা ৩০টি পূর্ণ হলে এই ছুটি চার দিনে পরিণত হয়। সে হিসাবে ৯ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি হওয়ার কথা।

কিন্তু এবার ঈদের ছুটির এক দিন পর ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ হওয়ায় বড় ছুটির ফাঁদে পড়তে যাচ্ছে সংবাদমাধ্যম। এ জন্য ১৩ এপ্রিল বিশেষ ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)।

শনিবার (৬ এপ্রিল) নোয়াবের বৈঠক শেষে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। ফলে ৯ থেকে ১৪ এপ্রিল টানা ৬ দিন ছুটি পেতে পারেন সংবাদকর্মীরা।

সূত্র জানায়, ১৩ এপ্রিল বিশেষ ছুটি ঘোষণার বিষয়ে নোয়াবের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছেন। তাছাড়া এদিন পত্রিকা প্রকাশ হলেও সংবাদপত্র বিপণন সংস্থা সংবাদপত্র হকার্স কল্যাণ বহুমুখী সমিতি তা বিপণনে অপারগতা জানিয়েছে। অন্যদিকে ঈদের ছুটির এক দিন পরই পহেলা বৈশাখের ছুটি থাকায় সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নও (ডিইউজে) নোয়াবের কাছে ১৩ এপ্রিল বিশেষ ছুটি ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছে।

তবে এবার ঈদের ছুটি ৬ দিন হলে এটি অনন্য রেকর্ড হবে। কারণ স্বাধীনতার পর আর কখনো সংবাদমাধ্যম টানা ৬ দিন বন্ধ থাকেনি।

জানতে চাইলে নোয়াবের কোষাধ্যক্ষ ও মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, এবার ঈদের ছুটির মাঝে এক দিনের ব্যবধানে যেহেতু পহেলা বৈশাখ পড়েছে, তাই মাঝের এক দিন বিশেষ ছুটি দেওয়া যায় কি না– তা নিয়ে নোয়াবে আলোচনা হচ্ছে। শনিবার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানা যাবে।




ওয়ান ব্যাংকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন অনলাইনে




গাজায় ত্রাণ প্রবেশের নতুন রুট খোলার ঘোষণা ইসরায়েলের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হুঁশিয়ারি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গাজায় ত্রাণ সরবারের নতুন রুট ঘোষণা করেছে ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা। এক বিবৃতিতে মন্ত্রিসভা জানিয়েছে, এখন থেকে ইসরায়েলের আশদোদ বন্দরে ত্রাণপণ্য খালাস করা হবে এবং ইরেজ সীমান্ত দিয়ে গাজায় পাঠানো হবে ত্রাণ।



হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে মোস্তাফিজহীন চেন্নাইয়ের হার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে হারের স্বাদ নিতে হলো চেন্নাই সুপার কিংসকে। শুক্রবার (৫ এপ্রিল) টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে হায়দ্রাবাদকে ১৬৬ রানের লক্ষ্য দেয় চেন্নাই। জবাব দিতে নেমে ১১ বল এবং ছয় উইকেট হাতে থাকতেই জয় তুলে নেয় হায়দ্রাবাদ।

এই ম্যাচে মোস্তাফিজ ছিলেন না।

জাতীয় দলের ভিসা সংক্রান্ত কাজে দেশে আসায় ম্যাচটিতে তার অনুপস্থিতির পাশাপাশি চেন্নাইয়ে চোটের অস্বস্তির কারণে নতুন করে একাদশ থেকে ছিটকে গেছিলেন আরেক পেসার মাথিশা পাথিরানা। চেন্নাইয়ের জন্য এই দুই ঘটনা কিছুটা ধাক্কাই মনে করা হয়েছিলো।

ব্যাটিংয়ে তেম্ন ধার দেখাতে না পারা চেন্নাইয়ের দেওয়া ১৬৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে উড়ন্ত সূচনা করেন হায়দ্রাবাদের অভিষেক শর্মা। ১২ বলে ৩৭ রানের ঝড়ো একটি ইনিংস খেলেন তিনি।




মহিপুর মৎস্য বন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ২৩ আড়ত পুড়ে ছাই

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর মৎস্য বন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২৩  মাছের আড়ত ভস্মীভূত হয়েছে। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

জাপান নামক একটি মাছের আড়ত থেকে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে মহিপুর মৎস্য আড়ত মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ রাজা জানান।

কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিস ইউনিটের টিম লিডার ইলিয়াস হোসাইন জানান, সড়ক সরু হওয়ায় তাদের ঘটনাস্থলে পোস্টে কিছুটা বিলম্ব হলেও নদী খুব কাছাকাছি থাকায় তুলনামূলক কম সময়েই তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে বলেও তিনি জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দখিনা বাতাস এবং মাছের আড়তগুলোতে থাকা ককসিট, জাল ও দাহ্য পদার্থের কারণে মুহূর্তের মধ্যেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

কলাপাড়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রবিউল ইসলাম বলেন, আমরা উপজেলা প্রশাসন থেকে একটা কমিটি গঠন করব। তারা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান করে দেখবে।

এদিকে মহিপুর মৎস্য বন্দরে  ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান। ঘটনার খবর শুনে শুক্রবার রাতেই তিনি ঢাকা থেকে রওয়ানা হয়েছেন। আজ সকাল ১০টায় তিনি মহিপুরে ক্ষতিগ্রস্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন।




মহিমান্বিত রজনী লাইলাতুল কদর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: মহান আল্লাহ মুসলমানদের জন্য হাজার মাসের চেয়েও উত্তম এমন একটি রাত নির্ধারণ করেছেন, যার নাম ‘লাইলাতুল কদর’। এ রাত এত সম্মানিত যে, এক হাজার মাস ইবাদত করলেও যে সওয়াব হতে পারে, তার চেয়ে লাইলাতুল কদরের ইবাদতের সওয়াব অনেক বেশি। যে বেশির পরিমাণ একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন।

এ রাতকে পাওয়ার জন্য মন ও দেহের প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে। রমজানের শেষ দশক লাইলাতুল কদর তালাশ করা হয়।

লাইলাতুল কদরের ফজিলত বোঝানোর জন্য মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ‘কদর’ নামে আলাদা একটি সুরা নাজিল করেছেন।

একবার নবিজি (সা.) সাহাবিদের সম্মুখে বনি ইসরাইলের জনৈক চারজন লোক সম্পর্কে আলোচনা করলেন যে, তারা দীর্ঘ হায়াত লাভ করে অধিককাল ধরে ইবাদত করেছেন। এ সময়ের মধ্যে তারা একটিও নাফরমানি করেননি।

নবিজি (সা.) এর পবিত্র জবান থেকে এ কথা শুনতে পেরে সাহাবায়ে কেরাম অত্যন্ত বিস্মিত হলেন এবং নিজেদের ব্যাপারে আফসোস করতে লাগলেন। সাহাবায়ে কেরামের এ আফসোসের পরিপ্রেক্ষিতে মহান রাব্বুল আলামিন হজরত জিবরাঈলের (আ.) মাধ্যমে নবিজি (সা.) এর কাছে এমন সময় এ সুরায়ে ‘কদর’ অবতীর্ণ করেন। (তাফসিরে মাজহারি)।

এ রাতের বিরাট মাহাত্ম্য ও অপরিসীম মর্যাদার কারণে রাতটিকে ‘লাইলাতুল কদর’ তথা মহিমান্বিত রাত বলা হয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি একে (কুরআনকে) নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে। লাইলাতুল কদর সম্পর্কে আপনি কী জানেন? লাইলাতুল কদর হলো এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এতে প্রত্যেক কাজের জন্য ফেরেশতারা ও রুহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে। এটি নিরাপত্তা, যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।’ (সুরা আল কাদর : ১-৫)

‘নিশ্চয় আমি তা (কুরআন) এক মোবারক রজনীতে অবতীর্ণ করেছি, নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী। এ রাতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থিরকৃত হয়।’ (সুরা আদ দুখান : ১-৪) এ রাতে পরবর্তী এক বছরের অবধারিত বিধিলিপি ব্যবস্থাপক ও প্রয়োগকারী ফেরেশতাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাতে প্রত্যেক মানুষের বয়স, মৃত্যু, রিজিক, বৃষ্টি ইত্যাদির মেয়াদ ও পরিমাণ নির্দিষ্ট করে তা সংশ্লিষ্ট ফেরেশতাদের লিখে দেওয়া হয়।

নবিজি (সা.) রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতে লাইলাতুল কদর পাওয়ার জন্য ইবাদতের কথা বলেছেন। মুমিন বান্দারা এ রাতটিকে পাওয়ার আশায় মুখিয়ে থাকেন। রমজানের শেষ দশকে তারা ইবাদতের পরিমাণ বাড়িয়ে দেন।

নবিজি (সা.) বলেন, ‘যদি তোমরা কবরকে আলোকময় পেতে চাও, তাহলে লাইলাতুল কদরে জাগ্রত থেকে ইবাদত করো।’ যদি কেউ ইমানের সঙ্গে সাওয়াব লাভের খাঁটি নিয়তে লাইলাতুল কদর কিয়ামুল্লাইল বা তাহাজ্জুদে অতিবাহিত করে, তবে তার পূর্ববর্তী সব গোনাহ ক্ষমা করা হবে।’ (বুখারি)।

লাইলাতুল কদরের ফজিলত অপরিসীম। তাই সারা রাত জাগরণ করে সঠিকভাবে ইবাদত-বন্দেগিতে মনোনিবেশ করা কর্তব্য। বেশি বেশি নফল নামাজ, তাহাজ্জুদ, সালাতুস তাসবিহ, কাজা নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত, দান-সাদকা, জিকির-আসকার, তাসবিহ-তাহলিল, তাওবা-ইসতেগফার, দুয়া-দুরুদসহ নফল আমলের প্রতি মনোযোগী হওয়া একান্ত জরুরি।
হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, আমি একবার নবিজিকে জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি যদি কদরের রাত সম্পর্কে অবহিত হতে পারি, তবে আমি কী করব? তখন রাসুল (সা.) আমাকে এ দোয়া পাঠ করার জন্য বললেন। ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি।’ (তিরমিজি)

যে লোক শবেকদর থেকে বঞ্চিত হয়, সে যেন সমগ্র কল্যাণ থেকে পরিপূর্ণ বঞ্চিত হলো। যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদর পেল, কিন্তু ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে কাটাতে পারল না, তার মতো হতভাগা দুনিয়ায় আর কেউ নেই। কদরের রাতের ইবাদতের সুযোগ যাতে হাতছাড়া হয়ে না যায়, সেজন্য রাসুল (সা.) শেষ দশ দিনের পুরো সময়টাতে ইতেকাফরত থাকতেন। (মুসলিম)।

লাইলাতুল কদরের নির্দিষ্ট কোনো তারিখ নেই। অনেকেই মনে করেন, ২৭ রমজানই লাইলাতুল কদরের নির্দিষ্ট রাত। কারণ নবিজি (সা.) কখনো বলেননি, ২৭ রমজানের রাতই কদরের রাত। তবে ২১ থেকে ২৯ রমজান পর্যন্ত বেজোড় যে কোনো রাতই শবেকদর হতে পারে।

লাইলাতুল কদরের তারিখের ব্যাপারে নবিজি (সা.) বলেন, আমাকে লাইলাতুল কদর দেখানো হয়েছে, অতঃপর আমাকে তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। অতএব তোমরা শেষ দশ রাতের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর খোঁজ করো। (বুখারি)

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা শবেকদরকে রমজানের ৯ রাত বাকি থাকতে অথবা সাত রাত বাকি থাকতে অথবা পাঁচ রাত বাকি থাকতে অথবা তিন রাত বাকি থাকতে অথবা রমজানের শেষ রাতে (অর্থাৎ ২১, ২৩, ২৫, ২৭ বা ২৯ রমজানের রাতে) তালাশ করবে। (তিরমিজি)।

২১ থেকে ২৯ রমজান পর্যন্ত বেজোড় যে কোনো রাতেই শবেকদর হতে পারে। শবেকদরের সম্ভাব্য রাতগুলোর মধ্যে আর মাত্র দুটি রাত আমাদের হাতে রয়েছে। আজ রমজানের ২৭তম রাতে হাজার বছরের চেয়ে দামি সৌভাগ্যের সময়টুকু অর্জনে আমাদের সচেষ্ট হতে হবে।

লাইলাতুল কদরকে নির্দিষ্ট না করার কারণ হচ্ছে, যাতে আমরা কেবল একটি রাত জাগরণ ও কেয়াম করেই ক্ষান্ত না হয়ে যাই এবং সেই রাতের ফজিলতের ওপর নির্ভর করে অন্য রাতের ইবাদত ত্যাগ না করি।

তাই আমাদের উচিত হবে- শেষ দশকের কোনো বেজোড় রাতকেই কম গুরুত্ব না দেওয়া এবং সব বেজোড় রাতেই ইবাদতের মাধ্যমে লাইলাতুল কদর অন্বেষণ করা। আল্লাহর কাছে বেশি পরিমাণে ইহকাল ও পরকালের কল্যাণ কামনা করা। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে এ রাতের বরকত অর্জন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

দেশ ও মুসলিম জাহানের কল্যাণ কামনা প্রধানমন্ত্রীর : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শবেকদর রজনিতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ও মুসলিম জাহানের উত্তরোত্তর উন্নতি, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেছেন।




ঈদে ছুটিতে ঘুরে আসুন সাগরকন্যা কুয়াকাটায়

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল ও বাংলাদেশের একটি উপকূলীয় জেলা। অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত পটুয়াখালী বরিশাল বিভাগের একটি সম্ভাবনাময় জেলা। পর্যটন নগরী কুয়াকাটা এ জেলার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। এখানে রয়েছে একসাথে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার অপরূপ দৃশ্য যা বিশ্বে বিরল। তাই পর্যটকদের কাছে পটুয়াখালী “সাগরকন্যা” নামে পরিচিত। উপজেলা সংখ্যানুসারে পটুয়াখালী বাংলাদেশের একটি“এ”শ্রেণীভুক্ত জেলা। মেঘনা নদীর অববাহিকায় পললভূমি এবং কিছু চরাঞ্চল নিয়ে এই জেলা গঠিত। পটুয়াখালী জেলা শহর একটি পূর্নাঙ্গ প্রশাসনিক অঞ্চল। এই জেলায় বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজসহ আছে প্রচুর সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। পাকিস্তান আমলে ১৯৬৯ সালে পটুয়াখালী মহুকুমাকে একটি জেলায় উন্নীত করা হয়। দেশের সর্ববৃহৎ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, তৃতীয় বৃহৎ সমুদ্র বন্দর পায়রা বন্দর, সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা, দক্ষিণাঞ্চলের সর্বপ্রথম বিশ্ববিদ্যালয় পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শেখ হাসিনা সেনানিবাস সহ এশিয়ার প্রথম পানি জাদুঘর পটুয়াখালী জেলায় অবস্থিত।

তাই এই ঈদের লম্বা ছুটি কিংবা ঝটিকা সফরের জন্য বেছে নেওয়া যেতে পারে পটুয়াখালী।

দর্শনীয় স্থান :

১/ কুয়াকাটা

স্থান :- পটুয়াখালী

কিভাবে যাওয়া যায় :- ঢাকা থেকে সরাসরি একাধিক পরিবহনের গাড়ীতে গাবতলী কিংবা সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে কুয়াকাটায় আসতে পারবেন। এছাড়া যে কোন স্থান থেকে রেন্ট-এ-কার যোগেও আসতে পারেন। লঞ্চের উঠে সকালের মধ্যে পটুয়াখালী কিংবা কলাপাড়া নেমে রেন্ট-এ-কার যোগে বা পটুয়াখালী-কুয়াকাটা রুটের বাসে চড়ে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা পৌঁছাতে পারেন। ঢাকা থেকে উল্লেখিত রুট সমূহের লঞ্চ গুলো বিকাল ৫ থেকে সন্ধ্যা ৭ টার মধ্যে লঞ্চ ঘাট ত্যাগ করে থাকেন।

বিস্তারিত :- অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সাগর কন্যা কুয়াকাটা। একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ওসূর্যাস্ত অবলোকন করার মনোমুগ্ধকর পর্যটন স্পট। বঙ্গোপসাগরের ১৫ কিলোমিটারদৈর্ঘ্যের বিশাল সমুদ্র সৈকত পৃথিবীর বিরল। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষাসহ সকলঋতুতেই মৌসুমী পাখিদের কলরবে মুখোরিত থাকে সমুদ্রতট। একমাত্র কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্রে এসেই প্রকৃতির সৃষ্ট সাগরের নানা রূপ বিভিন্ন ঋতুতে উপভোগ করা সম্ভব। তাইতে দেশ-বিদেশের অসংখ্য পর্যটন পিপাসুরা বছরের বিভিন্ন  ঋতুতে বার বার ছুটে আসে কুয়াকাটায়। কৃত্রিমতার কোন ছাপ নেই এখানে। সে কারণেই পর্যটকরা কুয়াকাটায় এসে প্রকৃতির নিয়মের সাথে নিজের মনকে একাকার করে। প্রকৃতির স্বাদ নিজ উপলব্ধিতে আত্মস্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠে। বিজড়িত দৃশ্য, যা পর্যটকদের আকর্ষণ করে। একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তেরদৃশ্য অবলোকন করা ছাড়াও রাখাইন সম্প্রদায়ের প্রায় দুইশত বছরের পুরানোঐতিহ্য শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহারে প্রতিষ্ঠিত অপতার “গৌতম বুদ্ধের” বিশাল আকৃতির মূর্তিসহ শ্বেত পাথরের নির্মিত ছোট-বড় অসংখ্য মূর্তি রয়েছে। আরাকান রাজ্য থেকে বিতারিত হয়ে আসা রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকেরা তাদের রাজা মং এর নেতৃত্বে সাগর পাড়ি দিয়ে প্রথমে চট্রগ্রাম এবং পরে পটুয়াখালীর এ জঙ্গলাকীর্ণ এলাকায় তাদের বসতি স্থাপন করে। নিজস্ব ঐতিহ্য ও কৃষ্টে গড়ে তোলে নিজেদের আবাসস্থল। তৎকালীন সরকার রাখাইন সম্প্রদায়ের সদস্যদের ওই সময় ৩একর এবং তাদের নিজস্ব পল্লীব জন্যে ১২ একর করে সম্পত্তি প্রদান করেন। এখনও তাদের ঐতিহ্যবাহী কলাপাড়ায় বিদ্যমান আছে।

২/ কুয়াকাটার কুয়া

স্থান :- পটুয়াখালী জেলার কলাপারা উপজেলায়।

কিভাবে যাওয়া যায় :– কুয়াকাটা থেকে ভ্যানে বা পায়ে হেটে ।

বিস্তারিত :- কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের কাছে রাখাইন পল্লী কেরানীপাড়ার শুরুতেই একটা বৌদ্ধ মন্দিরের কাছে রয়েছে প্রাচীন কুপ গুলোর মধ্যে একটি কুপ। তবে বারবার সংস্কারের কারণে এর প্রাচীন রূপটা এখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না। জনশ্রুতি আছে ১৭৮৪ সালে বর্মী রাজা রাখাইনদের মাতৃভূমি আরাকান দখল করলে বহু রাখাইন জায়গাটি ছেড়ে নৌকাযোগে আশ্রয়ের খোঁজে বেড়িয়ে পড়েন। চলতি পথে তারা বঙ্গোপসাগরের তীরে রাঙ্গাবালি দ্বীপের খোঁজ পেয়ে সেখানে বসতি স্থাপন করেন। সাগরের লোনা জল ব্যবহারের অনুপযোগী বলে মিষ্টি পানির জন্য তারা এখানে একটি কূপ খনন করেন। এরপর থেকে জায়গাটি ‘কুয়াকাটা’ নামে পরিচিতি পায়।

৩/ কেরানীপাড়া রাখাইনপল্লী

স্থান :- পটুয়াখালী জেলার কলাপারা উপজেলায়।

কিভাবে যাওয়া যায় :– কুয়াকাটা থেকে বাইকে বা ভ্যানে

বিস্তারিত :- সীমা বৌদ্ধ মন্দির থেকে সামনেই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী রাখাইনদের আবাসস্থল কেরানীপাড়া। এখানকার রাখাইন নারীদের প্রধান কাজ কাপড় বুনন। রাখাইনদের তৈরি শীতের চাদর বেশ আকর্ষণীয়। শীত মৌসুমে পোশাক তৈরির ধুম পড়ে কুয়াকাটার রাখাইন পল্লীগুলোতে। দিন-রাত পরিবারের সবাই মিলে মনের মাধুরী মিশিয়ে তৈরি করে বাহারি ডিজাইন ও নানা রঙের পোশাক। আর এই পোশাক কিনতে ভিড় করে বেড়াতে আসা পর্যটকরা।

৪/ ক্র্যাব আইল্যান্ড

স্থান :- পটুয়াখালী জেলার কলাপারা উপজেলায়।

কিভাবে যাওয়া যায় :– কুয়াকাটা থেকে বাইকে

বিস্তারিত :- কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের পূর্ব দিকে গঙ্গা-মতির জঙ্গল ছাড়িয়ে আরও সামনে গেলে আছে ক্র্যাব আইল্যান্ড বা কাঁকড়ার দ্বীপ। এ জায়গায় আছে লাল কাঁকড়ার বসবাস। নির্জন পরিবেশে দূর থেকে লাল কাঁকড়ার দলের আনাগোনা দেখলে সৈকতে লাল গালিচা পাতা আছে ভেবে ভুল হয়। ভ্রমণ মৌসুমে (অক্টোবর-মার্চ) কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে স্পিড বোটে যাওয়া যায় ক্রাব আইল্যান্ডে।

৫/ গঙ্গা-মতির জঙ্গল

কিভাবে যাওয়া যায় :- কুয়াকাটা থেকে বাইকে বা ভ্যানে

বিস্তারিত :- কুয়াকাটার সমুদ্র সৈকত শেষ হয়েছে পূর্ব দিকে গঙ্গা-মতির খালে। এখান থেকেই শুরু হয়েছে গঙ্গা-মতির জঙ্গল। অনেকে একে গজমতির জঙ্গলও বলে থাকেন। উল্লেখ্য যে, কুয়াকাটা যে অংশ থেকে সূর্যোদয় সবচেয়ে ভালো দেখা যায়, তাহলো এই গঙ্গামতির বাঁক। নানান রকম বৃক্ষরাজি ছাড়াও এ জঙ্গলে রয়েছে বিভিন্ন রকম পাখি, বন মোরগ-মুরগি, বানর ইত্যাদি।

৬/ চর বিজয়

স্থান :- পটুয়াখালী জেলার কলাপারা উপজেলার কুয়াকাটাতে ।

কিভাবে যাওয়া যায় :- কুয়াকাটা থেকে ট্রলারে

বিস্তারিত :- কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এর গঙ্গামতী থেকে দক্ষিণ-পূর্ব কোণে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে গভীর সাগরে জেগে উঠা মনোমুগ্ধকর এক দ্বীপ চর বিজয়। দ্বীপটির আয়তন আনুমানিক ৫ হাজার একর। লাল কাঁকড়া আর হাজারো অতিথি পাখির বিচরণে আকাশ আর চর মিলে একাকার হয়ে থাকে এই দ্বীপ। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে এই চরের নামকরন করা হয় চর বিজয়; যা স্থানীয়দের কাছে হাইরের চর নামেও পরিচিত।

বছরের ৬ মাস জেগে থাকে এই চর। মূলত এ চরে জেলেদের অস্থায়ী বসবাস। চর বিজয়ের চারপাশে জেলেরা মাছ শিকার করেন। তারা তিন মাসের জন্য চরে অস্থায়ী আবাস তৈরী করে মাছের শুঁটকি প্রস্তুত ও বিক্রি করেন। কুয়াকাটা থেকে মাত্র দেড় ঘণ্টায় এই অনিন্দ সুন্দর বিজয় দ্বীপে পৌঁছানো যায়।

৭/ মিশ্রিপাড়া বৌদ্ধ মন্দির

স্থান :- পটুয়াখালী জেলার কলাপারা উপজেলায়।

কিভাবে যাওয়া যায় :- কুয়াকাটা সৈকত থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায় রাখাইনদের একটি গ্রামের নাম মিশ্রিপাড়া।

বিস্তারিত :- কুয়াকাটা সৈকত থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায় রাখাইনদের একটি গ্রামের নাম মিশ্রিপাড়া। এখানে রয়েছে বড় একটি বৌদ্ধ মন্দির। কথিত আছে, এ মন্দিরের ভেতরে রয়েছে উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় বুদ্ধ মূর্তি। এছাড়া এখান থেকে সামান্য দূরে আমখোলা গ্রামে রয়েছে এ অঞ্চলে রাখাইনদের সবচেয়ে বড় বসতি।

৮/ পানি জাদুঘর

স্থান :- কলাপাড়া উপজেলায় কুয়াকাটা-ঢাকা মহাসড়কের পাশে

কিভাবে যাওয়া যায় :- কলাপাড়া উপজেলায় কুয়াকাটা-ঢাকা মহাসড়কের পাশে পাখিমারা নামক  জায়গায়

বিস্তারিত :- নদী ও পানিসম্পদ রক্ষায় জনসচেতনাতা বৃদ্ধের উদ্দেশ্য নিয়ে ২০১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলায় কুয়াকাটা-ঢাকা মহাসড়কের পাশে একটি দ্বিতল ভবনে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম পানি জাদুঘর যাত্রা শুরু করে। একশন এইড নামের এনজিও কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এই জাদুঘরে বাংলাদেশের নদী-কেন্দ্রিক মানুষের জীবন-জীবিকা ও সংস্কৃতি, বাংলাদেশের সকল হারিয়ে যাওয়া ও বর্তমান নদ-নদীর পরিচিতি, ছবি, নদীর ইতিহাস এবং নদীর ভবিষ্যৎ সম্পর্কিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। পানি জাদুঘরে যমুনা, বুড়িগঙ্গা, পদ্মা, আন্ধারমানিক, মেঘনাসহ ৯০ টির অধিক নদীর পানির নমুনা সংরক্ষিত আছে।

৯/ ফাতরার বন

স্থান :- পটুয়াখালী জেলার কলাপারা উপজেলায়।

কিভাবে যাওয়া যায় :- কুয়াকাটা থেকে ট্রলারে।

বিস্তারিত :- আন্ধারমানিক নদীর মোহনার পশ্চিম দিকে রয়েছে সুন্দরবনের শ্বাসমূলীয় বনাঞ্চল, নাম তার ফাতরার বন যা বইয়ের ভাষায় টেংরাগিরি বনাঞ্চল নামেও পরিচিত। ভৌগোলিকভাবে বরগুনা জেলায় বাগানটির অবস্থান থাকলেও কুয়াকাটায় আগত পর্যটকরা বিনোদনের জন্য সেখানে ট্রলার যোগে যাতায়াত করেন। তবে সুন্দরবনের অংশ হলেও এ বনে নেই তেমন কোন হিংস্র প্রাণী। দিনে দুইবার এটি জোয়ার- ভাটায়  প্লাবিত হয়। জোয়ার- ভাটার উপস্থিতির কারণে, বনে সুন্দরি, কেওড়া, বাইন, গোলপাতা সহ দেখা মিলবে আরো বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের। ভাগ্য সহায় হলে দেখা মিলবে অজগর, গোখরা গুই সাপের মতো সরীসৃপের। এছাড়া ছোট বড় বিভিন্ন প্রজাতির পাখির ডাকে বিমোহিত হওয়ার সুযোগতো রয়েছেই। বন মোরগ, বানর আছে এ বনে। কদাচিৎ এ বনে বুনো শুকরেরও দেখা মেলে। কুয়াকাটা থেকে ফাতরার বনে যেতে হবে ইঞ্জিন নৌকাযোগে।

১০/ শুঁটকি পল্লী

স্থান :- পটুয়াখালী জেলার কলাপারা উপজেলায়।

কিভাবে যাওয়া যায় :- কুয়াকাটা থেকে বাইকে।

বিস্তারিত :- কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের ৭ কিলোমিটার পশ্চিম প্রান্তে আছে শুঁটকি পল্লী। এখানে প্রচুর জেলেদের বসবাস। মূলত নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত এখানে চলে শুঁটকি তৈরির কাজ। সমুদ্র থেকে মাছ ধরে এনে সৈকতেই শুঁটকি তৈরি করেন জেলেরা। কম দামে ভালো মানের শুঁটকিও কিনতে পাওয়া যায় এখানে। পর্যটকরা তাজা মাছ কেটে শুঁটকি-জাত করার দৃশ্য দেখতে ভিড় জমায়। অবলোকন করে জেলেদের ইলিশ শিকারে সাগরের ঢেউয়ের সঙ্গে মিতালি করা জীবন জীবিকার যুদ্ধ। দেখতে পায় বেড় জালে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শিকারের অনন্য দৃশ্য।

কোথায় থাকবেন?

থাকার হোটেল, খাবার হোটেল আর দর্শনীয় স্থানগুলো প্রায় একটি নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে অবস্থিত। ৪০০ টাকা থেকে শুরু করে প্রায় ১০ হাজার টাকা মানের অনেক থাকার হোটেল আছে কুয়াকাটা সাগর সৈকতের একদম কাছে। আর খাবার হোটেলগুলোর প্রায় সবগুলোই সৈকত থেকে মাত্র ২-৩ মিনিটের হাঁটা পথ।

আরো পড়ুন : সারা বছরই মুখর থাকে ইয়ার উদ্দীন দরবার



বরিশালে কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টা, যুবক আটক

বরিশাল অফিস:: বরিশালের বাবুগঞ্জে ১৪ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টায় অভিযুক্ত নূরে আলমকে (২৫) আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (০৫ এপ্রিল) বিকালে উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আগরপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সঞ্জিব চন্দ্র শীল।

আটক নূরে আলম ‍উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের আবু বক্করের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাতে ওই কিশোরীর বসতঘরে ঢুকে ধর্ষণচেষ্টা চালায় নূরে আলম। ঘটনাটি পুলিশকে জানালে অভিযান চালিয়ে নূরে আলমকে আটক করা হয়।

বাবুগঞ্জের আগরপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সঞ্জিব চন্দ্র শীল বলেন, অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।