টিভিতে খেলার সূচি




হামাসের সঙ্গে চুক্তির দাবিতে ইসরায়েলে হাজারও মানুষের বিক্ষোভ




স্বাস্থ্যসেবায় অভূতপূর্ব অর্জন বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে




গাজায় ইসরায়েলি বর্বরতা চলছেই, নিহত বেড়ে ৩৩১৩৭

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বর্বর হামলায় আরও ৪৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে করে উপত্যকাটিতে নিহতের মোট সংখ্যা পৌঁছেছে ৩৩ হাজার ১৩৭ জনে।



ইসরায়েল? গাজায় যুদ্ধের ৬ মাস হামাস নির্মূলে কতটা সফল ইসরায়েল?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে চলমান যুদ্ধের ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে। গত ৭ অক্টোবর হামলার পর ইসরায়েলের ১২০০ মানুষকে হত্যা এবং একশ’র বেশি নাগরিককে জিম্মি করে হামাস। এর জবাবে হামাসকে নিঃশেষ করার প্রতিশ্রুতি দেয় ইসরায়েল, যাতে কোনো ধরনের হুমকি তৈরি করতে না পারে।

এসব কিছু ছাপিয়ে উপত্যকায় ক্রমাগত বেড়ে চলেছে মৃতের সংখ্যা। সব দিক থেকেই চাপের মুখে রয়েছে নেতানিয়াহু সরকার। তবে এটা পরিষ্কার যে, হামাসকে নির্মূলে সফল হয়নি ইসরায়েল। কীভাবে যুদ্ধ শেষ হবে বা পরবর্তী সময়ে কী করতে হবে– তা নিয়েও ইসরায়েলের কোনো দৃশ্যমান পরিকল্পনা নেই।

গতকাল শনিবার এক দিনে গাজায় ইসরায়েলের হামলায় আরও ৪৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৬৫ জন। ছয় মাসে মোট ৩৩ হাজার ১৩৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ। এ অবস্থায় একটি যুদ্ধবিরতির দিকে রয়েছে পুরো বিশ্ব।

ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সের (আইডিএফ) বিবৃতিতে দাবি করা হয়, হাজারো হামাস যোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছে। গাজার তলদেশে সুড়ঙ্গের বিশাল নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা হয়েছে, যা হামাস হামলা চালাতে ব্যবহার করতো। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে আইডিএফ বলেছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ১৩ হাজার হামাস যোদ্ধাকে হত্যা করেছে। এই সংখ্যাটি কীভাবে গণনা করেছে তা জানানো হয়নি। যদিও ইসরায়েল প্রতিটা হামাস নেতাকে হত্যার পর তাদের পরিচয় প্রকাশ করে।

গত অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত মোট ১১৩ জনের পরিচয় প্রকাশ করা হয়। তাদের অধিকাংশেই যুদ্ধের প্রথম তিন মাসে নিহত হয়। এ বছরের ২৬ মার্চ হামাসের সামরিক শাখার ডেপুটি কমান্ডার মারওয়ান ইসাকে হত্যার কথা জানায় আইডিএফ। তিনি মোস্ট ওয়ান্টেডদের মধ্যে একজন ছিলেন। তবে হামাস এ তথ্য নিশ্চিত করেনি।

অপর দিকে ইসরায়েলের পরিসংখ্যান অনুসারে, ২৫৩ জনকে গাজায় জিম্মি করা হয়েছিল। এদের মধ্যে ১০৯ জনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। সামরিক অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ৩ জনকে। ১২ জিম্মির মরদেহ  উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন নিজজেদের ভুল অপারেশনে হত্যা করা হয়। বাকি ১২৯ জন জিম্মির মধ্যে ৩৪ জন মারা গেছে বলে ধারণা করছে ইসরায়েল। তবে হামাস বলছে, মৃত জিম্মির সংখ্যা আরও বেশি। আর হামলার ফলে নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ছাড়া আর কোনো কিছু অর্জন করেনি ইসরায়েল।

গতকাল শনিবার সিএনএনের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে। এতে বলা হয়, গাজায় ভয়ানক মানবিক সংকট সত্ত্বেও অব্যাহতভাবে হামাসকে তাড়া করা বৈশ্বিক পর্যায়ে ইসরায়েলকে একঘরে করে দিয়েছে। ইসরায়েলের বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকার সব দিক থেকেই চাপের মুখে রয়েছে। বহু আন্তর্জাতিক সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, ইসরায়েল যা করেছে, তা গণহত্যা বলে গণ্য হতে পারে। ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলোও এখন নেতানিয়াহু সরকারের সমালোচনা করছে। ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ না করতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ওপর চাপ বাড়ছে।

এদিকে হামাস জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে আজ রোববার মিসরের কায়রোতে তারা একটি প্রতিনিধি দল পাঠাবে।

গাজায় ইসরায়েলের হামলার ছয় মাসে ১৯৬ জন ত্রাণকর্মী নিহত হন। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইসরায়েলের কাছ জানতে চান, তাদের কেন হত্যা করা হয়েছে। অবরুদ্ধ উপত্যকার পরিস্থিতি একেবারেই খারাপ। তাঁর প্রত্যাশা, ইসরায়েল গাজায় ত্রাণ সরবরাহে বাধা দেবে না। গত সপ্তাহে তিনটি গাড়িতে হামলা চালিয়ে বিদেশি সাত কর্মীকে হত্যা করে ইসরায়েল। নিহতদের মধ্যে তিনজন ব্রিটিশ, একজন পোলিস, একজন অস্ট্রেলীয়, একজন মার্কিনি ও একজন ফিলিস্তিনি রয়েছেন। এ ঘটনা বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় তোলে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ফোন করে নেতানিয়াহুকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের হুমকি দেন।

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় প্রতি ঘণ্টায় মারা যাচ্ছে প্রায় চার শিশু। গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৪ হাজার ৩৫০ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। যা মোট নিহতের প্রায় ৪৪ ভাগ।

গত শুক্রবার ফিলিস্তিনের বার্ষিক শিশু দিবস উদযাপন উপলক্ষে ফিলিস্তিন কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যানুসারে, গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় প্রতি ঘণ্টায় প্রায় চার শিশু মারা যায়। নিখোঁজদের মোট সংখ্যার অন্তত ৭০ ভাগ নারী এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক ৭ হাজার। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে ১১৭ জন শিশু নিহত এবং ৭২৪ জন আহত হয়েছে।




নানা বর্জ্য স্তূপে ভরে আছে আন্দারমানিকের পাড়

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার প্রধান নদের নাম আন্ধারমানিক নদ। এটি এখন মৃত্যু প্রায়। আন্ধারমানিক নামটি শুনে অনেকেই হয়তো বলবেন অন্ধকারে আবার মানিক হয় কী করে! অবাক হওয়ার মতো হলেও এ এলাকায় মানুষের জীবন যাত্রায় নদটি এক কালে ‘মানিক’ ছড়িয়েছে। নিজের বুকের পলি মাটি ও পানি দিয়ে ফলিয়েছে সোনালি ফসল। বুকে আগলে রাখছে সাদা সোনা খ্যাত রুপালি ইলিশ।

কিন্তু পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ আন্দারমানিক এখন দখল ও বর্জ্যরে চাপে বিপর্যস্ত। কলাপাড়ায় এর পাড় জুড়ে ফেলে দেয়া ছেঁড়া কার্টন কাগজ, প্লাস্টিকের বোতল ও পলিথিন বর্জ্যরে স্তূপ। ঝড়ঝঞ্ঝা আর বাতাসে সেগুলো গিয়ে মিশছে নদের বুকে। বিনষ্ট হচ্ছে আশপাশের পরিবেশ, ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য ও ভরাট হচ্ছে তার বুক। বহমান নদের এমন পরিণতির জন্য তীরবর্তী ব্যবসায়ীদের দায়ী করছেন অনেকে। আবার সঙ্কট কাটাতে কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় অভিযোগ উঠছে পরিবেশ অধিদফতরের বিরুদ্ধে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডে (পাউবো) তথ্য মতে, আন্ধারমানিক নদের পানি প্রবাহের দৈর্ঘ্য ৩৯ কিলোমিটার ও গড় প্রস্থ ৩৩০ মিটার। এই নদীর গভীরতা ১৫ মিটার। এখন অবশ্য প্রতি বছর অন্তত পাঁচ ফুট করে কমে যাচ্ছে নদের প্রস্থ। নদটির দুই পাড়ে পলি জমে ভরাট হয়ে যাচ্ছে।

আরো পড়ুন : ঈদকে ঘিরে সাজছে সমুদ্রকণ্যা কুয়াকাটা, চলছে সড়ক উন্নয়ন

সরেজমিন দেখা গেছে, মাছ বাজার, কাঁচা বাজার, কলাপট্টি, লঞ্চ ঘাট, হ্যালিপোর্ট, ব্রিজের প্রবেশ মুখ এলাকায় নদের তীরের অবস্থা একেবারেই বেহাল। হোটেল-রেস্তেরাঁর পচা ও উচ্ছিষ্ট খাবারসহ নানা ধরনের বর্জ্য নিয়মিত ফেলা হচ্ছে নদের পাড়ে। নদের তীরে ফেলা এসব বর্জ্য গড়িয়ে গড়িয়ে পানিতে পড়ছে। এসব ক্ষতিকর বর্জ্য প্রকাশ্যে ফেলা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বিশেষ করে নদের তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা ব্যবসা প্রতিতষ্ঠান গুলোর কারণেই এ ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছে নদটি।

কাঁচা বাজারে নদীর পাড়েই হোটেল দোকান। এর চারপাশে স্তূপ হয়ে আছে নানা রকমের বর্জ্য। ভাগাড়ের মতো পরিবেশ সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, কাগজের কার্টন, ডাবের খোসাসহ নানা ধরনের ফেলনা সামগ্রী। শুধু কাঁচা বাজারই না, নদের পাড় ঘেঁষে থাকা অধিকাংশ মুদি ও স্টেশনারি দোকান, ওয়ার্কশপ, মিল-কারখানাগুলোর ময়লা-আবর্জনাও ফেলা হচ্ছে পাড়ে। বহুতল ভবনসহ টিনশেড স্থাপনা তোলা হয়েছে আন্ধারমানিকের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে। সবচেয়ে বেশি স্থাপনা তোলা হয়েছে আন্ধারমানিকের উত্তর পাড়ে। নদের পাড় ঘেঁষে গড়ে ওঠা অন্তত ১০টি ইটভাটার ময়লাও ফেলা হচ্ছে আন্দারমানিকের বুকে।

পৌরশহর এলাকার নাচনাপাড়া ফেরিঘাট থেকে ফিশারি পর্যন্ত আন্ধারমানিকের তীরসহ নদের পাড় দখল করে তোলা হয়েছে এসব স্থাপনা। আন্ধারমানিকের পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় ইতোমধ্যে অন্তত সাতটি সুইস সংযুক্ত খাল ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। পলি পড়ে এবং নতুন চর জেগে ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ নদের প্রায় ২৫ কিলোমিটারই স্থায়ীভাবে শুকিয়ে গেছে।
আন্ধারমানিকের পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় শহরের মধ্যভাগ দিয়ে প্রবাহিত চিংগড়িয়া খালটির অস্তিত্বও আজ বিপন্ন প্রায়। এ কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় পৌর এলাকায়। এ ছাড়া কচুপাত্রা নদীর প্রবেশ মুখে দেয়া হয়েছে বাঁধ। আর পাঙ্গাশিয়ার সংযোগ স্থলটিও ভরাট প্রায়।

আরো পড়ুন : আগুন থেকে নিজের জানমাল রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে – ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

পরিবেশকর্মী মেজবা উদ্দিন মান্নু বলেন, আমাদের এই নদ এক সময় সৌন্দর্যে ও রূপেগুণে পূর্ণ ছিল। সেই সৌন্দর্যে এখন জং ধরেছে। বিষয় গুলো নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। সবাই সচেতন না হলে নদ ও নদের পাড়ের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাবে।

কলাপাড়ায় প্রবীণ সাংবাদিক শামসু আলম আক্ষেপ করে বলেন, ভয়াবহ নাব্যতা সঙ্কটে আন্ধারমানিক নদের অববাহিকায় নেমে এসেছে পরিবেশ বিপর্যয়। কৃষি আবাদেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। তাই দুই পাড়ের মানুষের প্রাণের দাবি অতি দ্রুত নদটিকে ড্রেজিং করে এর পানি প্রবাহ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হোক। আন্ধারমানিক আমাদের ঐতিহ্য। স্থানীয় সমাজ ও সংস্কৃতির সাথে জড়িত। এটি রক্ষা করতেই হবে। নদটি রক্ষার পাশাপাশি নদের চর পড়ে ভরাট অংশ যাতে কেউ দখল করতে না পারে সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ারও যৌক্তিকতা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, পরিবেশ রক্ষার্থে আমি পৌরসভার সাথে আলাপ করে একটি প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিতে চেষ্টা করব।




ঈদকে ঘিরে সাজছে সমুদ্রকণ্যা কুয়াকাটা, চলছে সড়ক উন্নয়ন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পদ্মাসেতুর দ্বার খুলে দেওয়ার পর থেকে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায় পর্যটক বেড়েছে কয়েকগুণ। টানা ছুটির দিনগুলোতে কুয়াকাটায় এসে ভিড় জমান পর্যটকরা।
কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের হয়রানি রোধে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশসহ স্থানীয় প্রশাসন পৃথক সভা করেছে। পর্যটকের সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে নেওয়া হয়েছে নানামুখী পদক্ষেপ।

পর্যটকদের বরণে সাজসজ্জায় নতুনত্বের ছোঁয়া লেগেছে আবাসিক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে। তবে ঈদে পর্যটকের বেশ সাড়া পাচ্ছেন প্রথম সারির হোটেল গুলো। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির হোটেলগুলোতে এখনও কোনো বুকিংয়ের খোঁজ পাওয়া যায়নি। এতে হতাশা ব্যক্ত করলেও ঈদের টানা ছুটিতে রমযানের লোকসান কেটে ওঠার স্বপ্ন বুনছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

আরো পড়ুন : দুমকিতে অচেনা যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে। যার ধারাবাহিকতায় কুয়াকাটা পর্যটক কেন্দ্রকে ঘিরে পৌরসভা গঠন করা হয়েছে। দেশ তথা বিশ্বের অন্যতম নান্দনিক দৃশ্যের এক তীর্থস্থান কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। যেখানে একই স্থানে দাঁড়িয়ে দেখা যায় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের বিরল দৃশ্য। কুয়াকাটা সৈকতে আগত পর্যটকদের আধুনিক সেবাদান এবং চিত্ত বিনোদনে চলছে সৈকত এলাকায় উন্নয়ন অবকাঠামো। পৌর এলাকায় পর্যটক চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোকে প্রশস্তকরণসহ বাকি থাকা কিছু কাচা রাস্তা পাকা করার কাজ চলমান রয়েছে। এর ফলে কুয়াকাটায় ভ্রমণে আগত পর্যটকের পৌর শহরের মূল কেন্দ্রে ভোগান্তি পোহাতে হবে না বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিন দেখা গেছে, পর্যটক যাতায়াতের প্রধান সড়কে ভোগান্তি নিরসনে কুয়াকাটা রাখাইন মহিলা মার্কেট সংলগ্ন একটি পার্শ্ব রাস্তা নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে যা ঈদের আগেই সম্পন্ন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অপরদিকে পর্যটক চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রশস্তকরণসহ ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা হচ্ছে যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে ধারণাতীত উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ। সৈকতের মূল কেন্দ্র থেকে পূর্বে জাতীয় উদ্যান ফটক পর্যন্ত দৃষ্টিনন্দন লেক ও পার্কসহ বিনোদনের নানা মাত্রা যোগ করতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ পরিকল্পনা।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

কুয়াকাটা পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, কোস্টাল টাউন প্রকল্পের আওতায় ২শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য প্রকল্প ব্যয়ে আরও ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে কুয়াকাটা পৌরসভা। এই প্রকল্পের আওতায় যে সকল পরিকল্পনা রয়েছে তা বাস্তবায়ন হলে কুয়াকাটা পাল্টে যাবে, হয়ে উঠবে আন্তর্জাতিক মানের সমুদ্র সৈকত। এমনটাই জানিয়েছেন কুয়াকাটা পৌর মেয়র আনোয়ার হাওলাদার।

এদিকে পর্যটকের সেবা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে প্রশাসন। কুয়াকাটায় চলমান বছরে পর্যটন মৌসুম শুরুর আগেই প্রায় অর্ধশতাধিক আবাসিক হোটেল ও রিসোর্ট চালু হওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে করে বিশেষ দিনগুলোতে আগত পর্যটকের আর আবাসন সংকট দেখা দিবেনা। এছাড়াও নিরলস কাজ করছে আবাসিক হোটেল-মোটেল কর্তৃপক্ষ।

তারা বলছেন, কুয়াকাটায় পর্যটকদের সেবায় প্রস্তুত রয়েছে কুয়াকাটা।




আগুন থেকে নিজের জানমাল রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে – ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান বলেছেন, আমাদের অসচেতনতা ও দায়িত্ববোধের অভাবেই সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলো ঘটছে। তাই আগুন থেকে নিজেদের জানমাল রক্ষায় সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।

রোববার (৬ এপ্রিল) রাতে পটুয়াখালীর বৃহৎ মৎস্য বন্দর মহিপুরে আগুনে পুড়ে যাওয়া ২৯টি মৎস্য আড়ত শনিবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে পরিদর্শন শেষে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে তাৎক্ষণিক সরকারি সহায়তা বিতরণকালে এ কথা বলেন তিনি।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী ৮ মাত্রার ভূমিকম্প সহনীয় ভবন ছাড়া কাউকে ভবন নির্মাণে অনুমতি না দেওয়ার আহ্বান জানান।

এছাড়া মহিপুরে একটি ফায়ার স্টেশন নির্মাণের আশ্বাস দেন তিনি। পরে আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে টিন ও নগদ অর্থ সহায়তা দেন প্রতিমন্ত্রী।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

এ সময় কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিউল ইসলাম, কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মোতালেব তালুকদার, জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ সৈয়দ নাসির, উপজেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি ডা. শহিদুল ইসলাম বিশ্বাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মঞ্জুরুল আলম, কুয়াকাটা পৌর মেয়র আনোয়ার হাওলাদার, মহিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি আ. মালেক আকন, মহিপুর মৎস্য আড়ত সমবায় সমিতির সভাপতি মো. দিদার উদ্দিন আহম্মেদ মাসুম, মহিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম হাওলাদার, থানা যুবলীগ আহ্বায়ক মিজানুর রহমান বুলেট আকনসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




পটুয়াখালীতে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত তাওরিন আহমেদ (২০) উপজেলা ডাকুয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বড়চত্রা গ্রামের মাহাতাব হাওলাদারের ছেলে।

তার চাচা জালাল হাওলাদার জানান, তাওরিন ঢাকার উত্তরায় একটি কলেজের স্নাতকের শিক্ষার্থী ছিলেন। কিছুদিন আগে তিনি পরিবারের কাছে মোটরসাইকেলে কেনার জন্য বায়না ধরেন। পরে শুক্রবার বাবা-মা চিকিৎসার জন্য বাড়ির বাইরে থাকার সুযোগে তিনি আত্মহত্যা করেন। আমরা ধারণা করছি, সে অভিমানেই এমন কাজ করেছে। শনিবার সকালে বাড়ি ফিরে বাবা-মাসহ স্বজনরা ডাকাডাকি করে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।

জালাল হাওলাদার আরও জানান, তাওরিন মাদকাসক্ত ছিলেন। প্রায় দুই বছর আগে তাদে মাদক নিরাময় কেন্দ্রেও পাঠানো হয়েছিলো।

আরো পড়ুন : দুমকিতে অচেনা যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

এদিকে ঘটনার দিনগত রাত দুইটার দিকে তাওরিন তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘ভালো থেকো আব্বু-আম্মু। তোমাদের অনেক কষ্ট দিছি, তার জন্য আমাকে ক্ষমা করে দিও প্লিজ। তোমাদের আর কষ্ট দিতে চাইনা আমি তাই তোমাদের ছেড়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে যাচ্ছি, ভালো থেকো। তোমরা আমাকে ক্ষমা করে দিও তোমাদের কষ্ট দেওয়ার জন্য।’

গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদাউস আলম খান জানান, মরদেহ পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে। একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।




দুমকিতে অচেনা যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দুমকিতে লোহালিয়া নদীতে ভাসমান যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে, তার পরিচয় জানা যায়নি।

শনিবার দুপুরে দুমকি থানা পুলিশের একটি দল মুরাদিয়া ইউনিয়নের রাস্তার মাথা লঞ্চঘাটের কাছের লোহালিয়া নদী থেকে ২৩ থেকে ২৪ বছর বয়সী ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে। এসময় তার পরনে ছিলো ফুলপ্যান্ট ও গেঞ্জি।

আরো পড়ুন : গলাচিপায় ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব

মুরাদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সিকদার জানান, শনিবার সকালের দিকে মরদেহটি ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হান্নান জানান, ওই যুবকের পরিচয় মেলেনি। পুলিশ ফিঙ্গারপ্রিন্টসহ অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখছে।