বেলজিয়ামের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে ভোলায় মসজিদ নির্মাণ

বরিশাল অফিস::  প্রাচীন ঐতিহ্যের নিদর্শন হিসেবে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো দৃষ্টিনন্দন বোরহানউদ্দিন চৌধুরীবাড়ি জামে মসজিদ। বেলজিয়াম থেকে কলকাতা হয়ে আনা হয়েছিল মসজিদটির নির্মাণসামগ্রী। ভারতের কলকাতা থেকে আসা শ্রমিকরা ৩ থেকে ৪ বছরে মসজিদটি নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেন।

১৮৬০ সালে মসজিদটি নির্মাণ করেন তৎকালীন জমিদার বোরহানউদ্দিন চৌধুরী। তার নামানুসারেই মসজিদটির নামকরণ হয়েছে। শুধু মসজিদ নয়, জমিদার বোরহানউদ্দিনের নামে নামকরণ করা হয়েছে বোরহানউদ্দিন উপজেলারও।

প্রাচীন ও দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদটি ভোলার বোরহানউদ্দিন সদর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দক্ষিণে বোরহানউদ্দিন-দরুন বাজার মূল সড়কের পাশে রামকেশব গ্রামে অবস্থিত। প্রায় ১ একর ৪০ শতাংশ জমির উপর নির্মিত মসজিদটির পশ্চিম পাশে রয়েছে ঘাট বাঁধানো পুকুর।

কারুকার্য খচিত চারটি লোহার পিলারের বারান্দা পেরিয়ে মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখা মিলবে বাদামি রঙের তিনটি কাঠের দরজা। মসজিদের মধ্যে উত্তর ও দক্ষিণ পাশে রয়েছে আরও দুটি জানালা। যা নির্মাণের পর থেকে এখনো একই রকম বিবর্ণহীন। ওপরে লোহার বিম। তার উপরে চুন, সুরকি ও পাথরের ঢালাই।
বেলজিয়ামের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে বাংলাদেশে মসজিদ নির্মাণ

যেভাবে নির্মিত হলো মসজিদে নববী:;

মসজিদের দক্ষিণ পাশে খোলা মাঠ। তৎকালীন সময়ে মসজিদের পূর্ব পাশে ছিল তিনটি কাচারি। যেখানে পথিকরা আশ্রয় নিতেন। কালের বিবর্তনে তা হারিয়ে গেলেও সম্প্রতি সেখানে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য বিশ্রামাগার এবং সাধারণ মুসল্লিরের জন্য ওজু ও গোসলখানা করা হয়েছে।

চৌধুরী বাড়ির প্রবীণ ব্যক্তি ও মসজিদের নিয়মিত তত্ত্বাবধায়ক মাহাবুব আলম চৌধুরী জানান, কারুকার্য খচিত মসজিদটি নির্মাণের জন্য শ্বেতপাথর, লোহার বিম, চুন সুরকি, দরজা-জানালার কাঠসহ সব নির্মাণসামগ্রী বেলজিয়াম থেকে আনা হয়েছিল।

বোরহানউদ্দিন চৌধুরীর ছিল তিন ছেলে। তার সব সম্পত্তি চার ভাগ করে তিন ভাগ সন্তানদের মধ্যে আর এক ভাগ ওয়াকফ্ স্টেট করে মসজিদের জন্য রেখে যান। মসজিদের জন্য তার রেখে যাওয়া সম্পত্তির অনেক জমি তেতুলিয়া নদীর ভাঙ্নে বিলীন হয়ে যায় এবং সরকারি খাসজমিতে পরিণত হয়। বর্তমানে ১২ একর জমি রয়েছে। সেই জমির আয় দিয়েই মসজিদের আনুষঙ্গিক কাজ ও খরচ করা হয়।

মসজিদের ইমাম মাওলানা নুরুজ্জামান জানান, দূর-দূরান্ত থেকে অনেকে এই মসজিদটি দেখতে আসেন এবং মসজিদে নামাজ আদায় করেন। মসজিদ মাঠে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার জামায়াতও অনুষ্ঠিত হয়।

মসজিদের বর্তমান মোতাওয়াল্লি শামিম আহমেদ নোমান চৌধুরী জানান, ইতিমধ্যে মসজিদটির বেশ কয়েকবার সংস্কারকাজ করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৩ সালের শেষের দিকে ব্যক্তিগত অনুদান থেকে তিনি মসজিদটির রং ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেন।

প্রাচীন এই মসজিদটি নির্মাতা জমিদার বোরহানউদ্দিন চৌধুরী ১৯১৩ সালের ৪ মে মারা যান। মসজিদের পাশেই তাকে কবরস্থ করা হয়েছে।




স্বামীকে বাঁচাতে একাই লড়ছেন ৭০ বছরের বরগুনার পিয়ারা বেগম

বরিশাল অফিস:: এক বছর আগে মিনি স্ট্রোক করা পিয়ারা বেগমের সব থাকতেও যেন কিছুই নেই। বার্ধক্যজনিত নানা রোগে শয্যাশায়ী হয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন স্বামী আব্দুল মালেক। তার চিকিৎসার খরচ যোগাতে একাই লড়ছেন ৭০ বছর বয়সী পিয়ারা বেগম।

বরগুনা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের শহীদ স্মৃতি সড়কের বরিয়ালপাড়া এলাকায় বসবাস করেন পিয়ারা বেগম। প্রায় ৩০ বছর আগে তার স্বামী আব্দুল মালেক পৌরসভার ঝাড়ুদার হিসেবে নিযুক্ত হন। স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে সংসারের অতিরিক্ত খরচ বহন করতে রাতে রাস্তা ঝাড়ু দেওয়ার পাশাপাশি দিনের বেলায় বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও দোকানে পানি দেওয়ার কাজও করতেন তিনি। পরবর্তীতে সংসারের হাল ধরতে স্বামীর সঙ্গে পিয়ারা বেগমও যুক্ত হন কাজে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে তিনিও পৌরসভার রাস্তা ঝাড়ু দেওয়ার কাজ কাজ করছেন।

দীর্ঘ বছর কাজ করে মালেক এখন বয়সের ভারে অসুস্থ হয়ে ৬ মাস ধরে শয্যাশায়ী। আগের মতো আর চোখেও দেখেন না তিনি। পিয়ারা বেগমও একবার স্ট্রোক করে বেঁচে ফিরে চলছেন লাঠি ভর দিয়ে। ছেলে-মেয়েরা ব্যস্ত তাদের যে যার সংসার নিয়ে। এক টাকাও খরচ দেন না বাবা-মায়ের সংসারে। স্বামী ও নিজের চিকিৎসা খরচ এবং তিন বেলা খেয়ে-পরে বেঁচে থাকতে বাধ্য হয়ে রাতে ঝাড়ু হাতে লাঠি ভর দিয়ে রাস্তায় নামছেন পিয়ারা। তবে যে টাকা বেতন পান তা দিয়ে একজনের ওষুধ কিনতেই হিমশিম খেতে হয় তাকে। অনেক সময় টাকা না থাকায় ১৫ দিনেও ওষুধ জোটে না তাদের।

সরেজমিনে বরগুনা পৌর শহরের বাজার রোড এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রাস্তায় মানুষের ব্যস্তাতা কমার পরেই লাঠি ভর দিয়ে রাস্তা ঝাড়ু দিতে নেমে পড়েছেন পিয়ারা বেগম। ঠিকমতো চোখে না দেখায় চশমা পড়ে কাজ করছেন তিনি। এছাড়াও একটু কাজ করেই হাঁপিয়েও উঠছেন তিনি। শরীর না চাইলেও তিন বেলা খাবার জোটাতে, নিজের ও স্বামীর চিকিৎসার খরচ যোগাতে কাজ করে যাচ্ছেন পিয়ারা বেগম।

কাজের সুবাদে প্রতিদিন রাতে বাড়ি ফেরা সাইদুল শিকদার নামে এক এনজিও কর্মী বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই পিয়ারা খালাকে রাস্তা ঝাড়ু দিতে দেখি। তার যে অবস্থা তাতে এই বয়সে এখন তার পক্ষে এ কাজ করা সম্ভব না। তার স্বামী সেও অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে আছে। ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে তিনি এ কাজ করেন। অন্য কোনো কাজ করতে না পারায় শুধু ঝাড়ু দিয়ে পৌরসভা থেকে যে টাকা পান তা দিয়ে তাদের চলে না।

পৌরসভার বাজার রোড এলাকার দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ী সুকুমার দত্ত বলেন, আমি ছোটবেলা থেকে তার স্বামী ও তাকে রাস্তা ঝাড়ু দিতে দেখি। তার স্বামী অসুস্থ তিনিও অসুস্থ, কেউই এখন ঠিকমতো চোখেও দেখেন না।

পিয়ারা বেগমের তিন ছেলের মধ্যে জাকির এখন বাবার পরিবর্তে যুক্ত হয়েছেন পৌরসভার রাস্তা ঝাড়ু দেওয়ার কাজে। এছাড়াও তিনি দিনের বেলায় শ্রমিকের কাজ করে মাসে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় করেন। তার আয়ের এক টাকাও দিচ্ছেন না বৃদ্ধ মা-বাবাকে। ঈদের সময়ে মা-ছেলে দুজনে মিলে যে সব রাস্তা ঝাড়ু দিয়েছেন সেখানকার ব্যবসায়ীরা খুশি হয়ে যে টাকা বকশিস দিয়েছেন তাও ভাগ করে নিয়েছেন সমান ভাগে। অপরদিকে অন্য দুই ছেলের মধ্যে বাদল কাজ করেন শ্রমিকের, আর জাফর নামে আরেক ছেলে কাজ করেন বালুর জাহাজে। তারাও যে যার সংসার নিয়ে ব্যস্ত।

বৃদ্ধ বাবা-মাকে কোনো খরচ না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে ছেলেদের মধ্যে জাকির বলেন, পৌরসভায় কাজ করে যে বেতন পাই তা দিয়ে আমাদেরই খরচ হয় না। ছেলে-মেয়ে তারপরে মা-বাবার জন্য কীভাবে কী করব তা বুঝি না।

অসহায় পিয়ারা বেগম অসহায়ত্বের বর্ণনা দিয়ে বলেন, আমার এই বয়সে রাস্তায় ঝাড়ু দিয়ে খেতে হয়। আমার স্বামীকে কীভাবে খাওয়াব? তার ওষুধ কিনতে পারি না। মানুষের কাছে টাক চাইয়া যা পাই তা দিয়ে ওষুধ কিনে স্বামীকে খাওয়াই আবার আমি নিজেও খাই। কিন্তু সবাই তো আর সব সময় টাকা দেয় না। কেউ ১৫ দিন বা ১ মাস পরে কিছু টাকা দেয় তা দিয়ে কিছুই হয় না। কোনো কোনো দিন খাবার জোটাতে না পেরে না খেয়ে থাকতে হয়। নিয়মিত ওষুধ না খাওয়ায় আমার স্বামী ও আমি দুজনেই এখন আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছি। ছেলে-মেয়েরা যে টাকা আয় করে তা দিয়ে নিজেরাই চলতে পারে না আমাদেরকে তারা টাকা দেবে কীভাবে। তিন বেলা খাবার জোটাতেই আমার কষ্ট হয়। ঈদের সময় যে একটু সেমাই রান্না করে স্বামীকে খাওয়াব তাও আমি পারি না।

বরগুনা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. সাইদুর রহমান সজীব বলেন, পিয়ারা বেগমকে পৌরসভার বেতন ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করা হয়। পৌরসভার ভিজিএফসহ বরাদ্দকৃত চাল দিয়েও তাকে সহযোগিতা করা হয়। অসহায় পিয়ারা বেগমকে সহযোগিতা করতে পৌরসভার পাশাপাশি সমাজে যারা বিত্তশালী ও সামর্থ্যবান রয়েছেন তাদেরকেও তিনি এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম মিঞা বলেন, অসহায় অনেকেই আমাদের কাছে আসেন না। এ কারণে অনেকের তথ্য আমরা পাই না। পিয়ারা বেগমের সব তথ্য পেলে এবং তিনি যদি উপজেলা প্রশাসনের কোনো ধরনের সহযোগিতা ও বরাদ্দকৃত ভাতা না পেয়ে থাকেন তাহলে তাকে তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়াও যদি প্রয়োজন হয় আমাদের অপ্রত্যাশিত আয়ের মাধ্যমে পিয়ারা বেগমকে প্রতি মাসে কিছু পরিমাণ আর্থিক সহযোগিতা দেয়ার চেষ্টা করব।




বরিশালে বৃদ্ধাশ্রমে ঈদের পোশাক ও খাবার বিতরণ

বরিশাল অফিস:: বরিশালে বৃদ্ধাশ্রমের ৫৯ নিবাসীকে ঈদের পোশাক ও খাবার তুলে দিয়েছেন জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম।

এর আগে সুবিধাবঞ্চিত ৫০ শিশুকে নতুন পোশাক বিতরণ করেন বিভাগীয় কমিশনার শওকত আলী। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সোমবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে নগরীর কাউনিয়ার একটি বৃদ্ধাশ্রমে ও সার্কিট হাউস সম্মেলনকক্ষে শিশুদের পোশাক বিতরণ করা হয়।

এ সময় জেলা প্রশাসক বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দাদের খোঁজ-খবর নেন। এর আগে শিশুদের মধ্যে ঈদের পোশাক বিতরণ করেন বিভাগীয় কমিশনার।

এ সময় জেলা প্রশাসকসহ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মনদীপ ঘরাই, বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহাবুব উল্লাহ মজুমদার, সহকারী কমিশনার সদর (ভূমি) আবদুল মতিন খান উপস্থিত ছিলেন।




ঈদ ঘিরে প্রস্তুত বরিশালের বিনোদনকেন্দ্র

বরিশাল অফিস:: ঈদকে কেন্দ্র করে বরিশালের বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জার কার্যক্রম। অতিরিক্ত দর্শনার্থীর চাপ সামাল দিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে খণ্ডকালীন কর্মী। সোমবার (৮ এপ্রিল) নগরীর বিনোদনকেন্দ্রগুলো ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে যায়, নগরীর কীর্তনখোলা নদী তীরের ত্রিশ গোডাউন, মুক্তিযোদ্ধা পার্ক, চৌমাথা লেকের পাড়, প্লানেট ওয়ার্ল্ড শিশু পার্ক, বঙ্গবন্ধু উদ্যান, আমানতগঞ্জ পার্কসহ একাধিক বিনোদনকেন্দ্রে চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ।

পাশাপাশি রং-তুলির আচড়ে সাজানো হয়েছে সরকারি-বেসরকারি বিনোদনকেন্দ্রগুলো। ঈদকে কেন্দ্র এসব বিনোদনকেন্দ্রে সপ্তাহব্যাপী থাকবে উপচেপড়া ভিড়।




চাঁদ দেখা যায়নি, সৌদি আরবে ঈদ বুধবার

বরিশাল অফিস:: সৌদি আরবে ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখা যায়নি। তাই দেশটিতে ঈদ উদযাপিত হবে বুধবার (১০ এপ্রিল)।
খবর গালফ নিউজের।

গালফ নিউজ জানায়, সৌদি আরব ঘোষণা দিয়েছে, মঙ্গলবার হবে রমজানের শেষ দিন। শাওয়াল মাসের প্রথম দিন বুধবার ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।

এর আগে সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট ২৯ রমজান সোমবার সন্ধ্যায় মুসলিমদের শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার আহ্বান জানিয়েছিল। তবে এদিন চাঁদ দেখা যায়নি।

হারামাইন এক্স হ্যান্ডলে এক টুইটে জানিয়েছে, সৌদি আরবে চাঁদ দেখা যায়নি। ঈদুল ফিতর ১০ এপ্রিল, বুধবার উদযাপিত হবে।

রমজানের শেষে নতুন চাঁদ ওঠার মাধ্যমে শাওয়াল মাসের শুরু হয়। এ মাসের প্রথম দিন ঈদুল ফিতর হিসেবে উদযাপন করেন মুসলমান ধর্মাবলম্বীরা।

চন্দ্র বছর অনুযায়ী, রমজান ১২ মাসের মধ্যে নবম মাস। এ মাস শেষ হওয়ার পর ঈদ উদযাপিত হয়।

এদিকে ঈদের তারিখ ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া। রমজান শেষে আগামী বুধবার (১০ এপ্রিল) শাওয়াল মাসের প্রথম দিন দেশটিতে ঈদ উদযাপিত হবে।




ঝালকাঠিতে সবজি বিক্রির টাকায় মসজিদ করলেন হারুন

বরিশাল অফিস :: গত ৩০ বছর ধরে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ভ্যান গাড়িতে সবজি বিক্রি করেন হারুন অর রশীদ হাওলাদার (৬৮)। সবজি বিক্রির টাকায় চলে তার ৬ সদস্যের সংসার। সব খরচ বাদ দিয়ে সঞ্চিত অর্থ দিয়ে হজে যাওয়া ইচ্ছা ছিল তার। কিন্তু, সেই ইচ্ছা থেকে সরে আসেন হারুন। এলাকাবাসীর নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করতে এবং বেশি সওয়াব পাওয়ার আশায় সঞ্চিত অর্থ দিয়ে তিনি নির্মাণ করেছেন একটি মসজিদ।

ঝালকাঠি সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের রামপুর এলাকার মৃত মেনাজ উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে হারুন অর রশিদ হাওলাদার। নিজ এলাকায় মসজিদ নির্মাণ করে সবার কাছে প্রশংসিত হয়েছেন তিনি।

হারুন অর রশিদ হাওলাদার বলেন, সবজি বিক্রি করে সংসার চালানোর পাশাপাশি অল্প অল্প করে টাকা সঞ্চয় করি। পরে ওই আড়াই লাখ টাকা এবং সঙ্গে আরো কিছু টাকা যোগ করে রামপুর এলাকায় নিজের জমিতে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছি।

তিনি আরও বলেন, আমার এলাকা এবং আশেপাশের অনেক গ্রামে কোনো মসজিদ নেই। ফলে আমাদের বাউকাঠি বাজারে গিয়ে নামাজ পড়তে হয়। অনেক সময় ঝড় বৃষ্টিতে এখানকার মুসল্লিদের নামাজ পড়তে যেতে কষ্ট হয়। এই মসজিদটি নির্মাণের কারণে আমাদের এখানকার মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের কষ্ট কমে যাবে।

হারুন অর রশিদ হাওলাদার বলেন, শুরু থেকে এই মসজিদ নির্মাণে কারো সহযোগিতা নেওয়া হয়নি। এখনো অনেক কাজ বাকি রয়েছে যেমন- মসজিদের টাইলস, অজুখানা, ঘাটলা, ফ্যান, মাইক, মসজিদের সামনে একটা বারান্দা, হুজুরের থাকার জন্য একটা কক্ষ। যদি কেউ সহযোগিতা করেন তাহলে বাকি কাজগুলো করতে পারবো।

মসজিদের মুসল্লি জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমাদের আশেপাশে কোনো মসজিদ ছিলো না। যে মসজিদ আছে সেখানে যেতে এবং ফিরে আসতে ২০ টাকার বেশি খরচ লাগে। হারুন ভাই আমাদের এখানে মসজিদ করায় আমাদের নামাজ পড়তে যেতে কষ্ট হবে না।আমরা তার জন্য দোয়া করি।

ঝালকাঠি ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল কাইউম বলেন, বিষয়টি আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। একজন সবজি বিক্রেতা মসজিদ নির্মাণ করেছেন আসলেই এটি একটি ভালো উদ্যোগ। আমরা তার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।




বরিশালে মির্জাগঞ্জে ৩৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন কয়েক হাজার গ্রাহক

বরিশাল অফিস:: পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে ৩৫ ঘণ্টায়ও বিদ্যুৎ পাননি কয়েক হাজার গ্রাহক। গতকাল রোববার বেলা ১১টা থেকে আজ সোমবার রাত ১০টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিহীন এ সব গ্রাহকেরা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকাবাসী।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, রোববার বেলা ১১ টার দিকে ঝড়ের কারণে গাছের ডালপালা ভেঙে বিদ্যুতের লাইনের ওপরে পড়ে। এরপর কাঁঠালতলি কেন্দ্রের ইনচার্জ মো.আল-আমিন ও লাইনম্যান সম্রাট গ্রাহকদের গাছের ডালপালা পরিষ্কার করতে বলেন।

সোমবার সকালে এলাকাবাসী বিদ্যুতের লাইনে পড়ে থাকা গাছপালা সরিয়ে ফেলেন। এরপর কাঁঠালতলি অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জকে লাইনটি চালু করার জন্য অনুরোধ করে এলাকাবাসী। ১০ ঘণ্টা সময় পার হলেও তিনি ওই লাইনগুলো চালু করেননি।

মাধবখালি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মুন্সিরহাট বাজারসহ কিসমত ঝাটিবুনিয়া, বাজিতা চতুর্থ খন্ড ও মাধবখালী গ্রামে অনেকগুলো গ্রাহক রয়েছে। ঝড়ের পরে বিদ্যুৎ বিভাগের কোনো লোকজন এখন পর্যন্ত এখানে আসেনি।

https://www.chandradipnews24.com/2024/04/26091/

কাঁঠালতলি অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ আমাদেরকে ডাল কেটে সরিয়ে দিতে বলেন। আমরা নিজেরা লোকজন দিয়ে ডাল-পালা সরিয়ে দিলেও এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ দেয়নি। অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. আল আমিনের সাহেবের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি গ্রাহকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন।

এ বিষয়ে কাঁঠালতলি অভিযোগ কেন্দ্রের ইনর্চাজ মো. আল আমিন হোসেন বলেন, ‘ওই এলাকার গ্রাহকেরা নিজেরাই ডালপালা কেটে সরিয়ে দিয়েছেন। আমি অনেক দূরে আছি। রাতে লাইনটি চালু করা হবে।’

মির্জাগঞ্জ সাব জোনাল অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘ওই লাইনে যাতে দ্রুত সংযোগ দেওয়া হয় সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গ্রাহকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করলে বিষয়টি আমি দেখব।’




কাউখালীতে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

বরিশাল অফিস:: পিরোজপুরের কাউখালীতে পানিতে ডুবে রুবাইয়া (৩) নামে এক শিশুর মৃত্যু। সোমবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

রুবাইয়া উপজেলার কাউখালী সদর ইউনিয়নের দাসেরকাঠী গ্রামের চাউল ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম এর মেয়ে।

জানা যায়, সোমবার বিকেলে সবার অগোচরে বাড়ির পাশে দাসের কাঠি খালে পড়ে যায় রুবাইয়া। অনেক খোঁজাখুঁজির পর বাচ্চাটিকে খালের পাশে ভাসতে দেখে উদ্ধার করে কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কাউখালী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান মৃত্যুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।




লালমোহনে বজ্রপাতে নিহতের পরিবার পেল আর্থিক অনুদান

বরিশাল অফিস:: ভোলার লালমোহন উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের প্রভাবে বজ্রপাতে নিহত মো. বাচ্চুর পরিবারকে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে ভোলা-৩ আসনের এমপি নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন, লালমোহন উপজেলা প্রশাসন ও কোস্ট ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে মোট অর্ধলাখ টাকা অনুদান হিসেবে নিহত বাচ্চুর বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরমধ্যে এমপি শাওনের পক্ষে ২০ হাজার, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার এবং কোস্ট ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়।

নিহত বাচ্চু উপজেলার চরভূতা ইউনিয়নের লেঙুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

অনুদান পেয়ে নিহত বাচ্চুর স্ত্রী মোসা. বেগম জানান, আমার স্বামী বজ্রপাতে মারা গেছেন। তিনিই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। তার মৃত্যুর পর ছোট ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছি। তবে স্বামীর মৃত্যুতে মোট পঞ্চাশ হাজার টাকা পেয়েছি। এসব অর্থ দিয়ে কিছুদিন একটু ভালোভাবে চলতে পারবো।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- লালমোহন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তৌহিদুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম হাওলাদার, ভাইস চেয়ারম্যান আবুল হাসান রিমন, কোস্ট ফাউন্ডেশনের আঞ্চলিক কর্মসূচি সমন্বয়কারী মো. আইয়ুব আলী এবং সহকারী পরিচালক মোসা. রাশিদা বেগম প্রমুখ।




বরিশালে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

বরিশাল অফিস::  বরিশালের উজিরপুরে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী আব্দুস সালাম সেরনিয়াবাদ নামে এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। সোমবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুস সালাম উপজেলার দক্ষিণ সাতলা গ্রামের হাজি মোহাম্মদ মোবারক সেরনিয়াবাদের ছেলে।

জানা যায়, আব্দুল সালাম সেরনিয়াবাদ সোমবার সকাল ৬ টার দিকে তার নিজ বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে একতা বাজারে নিজস্ব ফিডের দোকানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে বিশারকান্দি ফজলুল হক বিশ্বাসের বাড়ির উত্তর পাশের পাকা রাস্তার ওপর পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।

এতে আব্দুল সালাম সেরনিয়াবাদ মোটরসাইকেল থেকে ছিঁটকে পড়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম হয় এবং ঘটনাস্থলে মারা যান তিনি।

উজিরপুর মডেল থানার ওসি মো. জাফর আহম্মেদ জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।