ইসরায়েলকে হুঁশিয়ারি মিসর-ফ্রান্স-জর্ডানের




চীন কেন এত সোনা কিনছে?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রচুর পরিমাণে সোনা কিনছে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধের পাশাপাশি চীনের এ পদক্ষেপের কারণে বিশ্বব্যাপী সোনার দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এ সপ্তাহে প্রথমবারের মতো মূল্যবান এ ধাতুটির দাম ২ হাজার ২১২ ইউরো ছাড়িয়েছে।

বিনিয়োগকারীরা বৈশ্বিক অস্থিরতা ও মূল্যস্ফীতির সময় সোনাকে একটি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করেন। তাই করোনা পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত মূল্যস্ফীতি, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনে চলমান সংঘাত সোনার সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধিতে সাহায্য করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক পিপলস ব্যাংক অব চায়নার (পিবিসি) এই পদক্ষেপে উন্নয়নশীল অন্যান্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোও প্রভাবিত হয়েছে। তারাও সোনার রিজার্ভ বাড়াতে আগ্রহী হয়ে উঠছে।

কী করছে চীন?
ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের মতে, পিবিসি সবশেষ ১৬ মাস ধরে তার সোনার রিজার্ভ বাড়িয়েছে। ২০২৩ সালে অন্যান্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর তুলনায় পিবিসি অনেক বেশি সোনা কিনেছে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে চীন ২২৫ মেট্রিক টন সোনা কিনেছে, যা বিশ্বের অন্য সব দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কেনা ১ হাজার ৩৭ টনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ।

এই মুহূর্তে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে প্রায় ২ হাজার ২৫৭ টন সোনা মজুত রয়েছে। পিবিসির পাশাপাশি, চীনের সাধারণ নাগরিকরাও সোনার মুদ্রা, বার ও গহনা কিনছেন।

 ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের প্রধান মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজিস্ট জন রিড ব্লুমবার্গ টিভিকে বলেন, বছরের শুরু থেকেই আমরা চীনকে বিপুল পরিমাণ সোনা কিনতে দেখেছি। চীনের অভ্যন্তরীণ সাংহাই গোল্ড এক্সচেঞ্জে রেকর্ড পরিমাণ বেচাকেনা দেখেছি।

এত সোনা কেনার কারণ কী?
চীন বিশ্বের অন্য দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যের জন্য মার্কিন ডলারের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। বিশ্বের সংরক্ষিত মুদ্রা হিসেবে বেশিরভাগ পণ্যের দাম ডলারে নির্ধারিত হয় এবং বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি বাণিজ্যে ব্যবহৃত হয় এই মুদ্রাটি।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য গত ৩০ বছরে চীন বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করেছে, যার বেশিরভাগই ডলার।

একই পরিস্থিতি ব্রিকস (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন এবং দক্ষিণ আফ্রিকা) গোষ্ঠীর অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ দেশগুলোর অর্থনীতি ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করতে প্রস্তুত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




পটুয়াখালীতে পচা নাড়ার ঘরে বসবাস বৃদ্ধা আয়েশা বিবির

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পচনধরা নাড়া উপরে পলিথিনি মোড়ানো দোচালা কাচা ঘর। ঘরটির সামনের অংশে কোনো রকম কাঠের বেড়া থাকলেও পেছন অংশে সিমেন্টের ব্যাগ দিয়ে সাঁটানো। বৃষ্টি কিংবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে গেলেই ঘরটি ভেঙে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। তবুও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ঘরেই বসবাস করছেন বৃদ্ধা আয়শাবিবি (৭০)।

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের হরিদ্রাখালী গ্রামের বাসিন্দা তিনি। আয়েশা বিবির সংসারের কর্তা মারা গেছেন প্রায় ২০ বছর হয়ে গেল। এরপর থেকেই শুরু হয় সংসারে টানাপোড়ন। দুই মেয়ে আর এক ছেলে থাকলেও কেউ খোঁজ নেন না। পাশের বাড়িতে গৃহস্থলি কাজে সহায়তা করে ডাল-ভাত খেয়ে কোনো রকম জীবন যাপন করছেন তিনি। এত টানাপোড়নের পড়েও নিরুপায় হয়ে একটি ঘরের জন্য ঘুরেছেন জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে। সবাই শুনেছেন জীবনের করুণ চিত্র। কিন্তু দু’হাত ভরে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়নি কেউ। অথচ এ উপজেলায় সরকারের দেয়া বিনামূল্যের ঘর পেয়েছেন প্রায় দুই হাজার অসচ্ছ্বল মানুষ। সে সময়েও বৃদ্ধা আয়েশা নজরে পড়েনি কারো।

আরো পড়ুন : বাউফলে ৭শতাধিক পরিবারের ঈদের আনন্দ কেড়ে নিয়েছে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়

আক্ষেপ নিয়ে তিনি সাংবাদিকদের জানান, সরকারি ঘরের জন্য টাকা চেয়েছিল। আমি দিতে পারিনি। তাই ভাগ্য অনুকূলে আসেনি।

সরেজমিনে কথা হয় আয়শা বিবির প্রতিবেশীদের সাথে। তারাও একই কথার সাথে সুর মিলিয়ে বললেন, যারা টাকা দিয়েছে তারা সরকারি ঘর পেয়েছে। অথচ বয়স্ক এই মানুষ ঘর, কাপড় ও খাবারের জন্য প্রতিনিয়ত কষ্ট করে থাকে। আমরা প্রতিবেশীরা যখন যা পারি তাকে দিয়ে টেনে রাখি। কিন্তু তিনি লোকলজ্জার ভয়ে অনেক সময় না খেয়েই দিনপার করেন। ছেলে-মেয়ে থাকলেও তারা খোঁজ নেন না। স্বামীর যে ভিটে রয়েছে সেখানে ছাপড়া দিয়েই বসবাস করছে। তার এমন কষ্ট আমাদেরও ব্যথিত করে। বৃদ্ধার পাশে খুঁটি হয়ে সহায়তা নিয়ে কেউ একজন আসুক এমনটি প্রত্যাশা তাদের।

অশ্রুঝরা নয়নে বৃদ্ধা আয়শা বলেন, ‘কেমনে ঘর তুলব বাবা? মানুষের বাড়ি কাজ করে খাই। বৃষ্টি নামলে ঘরে থাকা যায় না। ঘরের আসবাবপত্র অন্যের বাড়িতে রাখছি। অনেক সময় মানুষের বাড়িতে ঘুমাই। ঘরের জন্য নাম নেছে। দুইবার কইরা কাগজপত্র সব জমা দিছি ইউনিয়ন পরিষদে। কিন্তু ঘর পাই নাই। টাকা চায় হেরা।
আমার জন্য একটা ঘর ব্যবস্থা কইরা দিলে ভালো হয়। মরার আগে ভালো একটা ঘরে ঘুমাইতে চাই।

আরো পড়ুন : ঈদের আনন্দ নেই পটুয়াখারীর জেলে পল্লীতে

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, আপাতত ঘর সংস্কারের জন্য টিন ও নগদ টাকা দিবো। এরপরে সরকারি ঘর এলে তাকে দেয়া হবে।




বাউফলে ৭শতাধিক পরিবারের ঈদের আনন্দ কেড়ে নিয়েছে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলে গতরবিবার (৭মার্চ) সকাল ১০ টা ৩৫ মিনিট স্থায়ী কাল বৈশাখী ঝড়ে ৬শতাধিক বসত ঘর আংশিক এবং শতাধিক বসত ঘর সম্পুর্ন বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে ভুক্তোভোগী পরিবার গুলো। অর্ধশত নারী- পুরুষ আহত হওয়ার পাশাপাশি ঘটেছে একাধিক প্রাণহানীর ঘটনা।

এখনো নিখোঁজ রয়েছে উপজেলার চন্দ্রদীপ ইউনিয়নের বাসিন্দা ইসমাইল রাঢ়ী নামে ১জেলে।

আরো পড়ুন : ঈদের আনন্দ নেই পটুয়াখারীর জেলে পল্লীতে

দু’দিন পরেই মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল ফিতর। এর মধ্যে আকস্মিক ঝড়ে তছনছ হয়ে গেছে ৭শতাধিক পরিবারের ঈদ উৎসব। আকস্মিক ঝড়ে রাতুল (১৬) নামে এক কিশোর, সুফিয়া বেগম (৮৫) নামে এক নারী এবং ইব্রাহিম ফরাজি (৫০) নামে এক জেলে নিহত হয়েছেন। নিহত রাতুল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রায় তাঁতের কাঠি গ্রামের জহির সিকদারের ছেলে। সুফিয়া বেগম উপজেলার দাশপাড়া ইউনিয়নের চরআলগী গ্রামের মৃত আহম্মেদ প্যাদার স্ত্রী। নিহত ইব্রাহিম উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরওয়াডেল গ্রামের খানকা বাজার এলাকার বাসিন্দা মো: মন্নান ফরাজীর সেজো (৩য়) ছেলে।

নিহতের পরিবারগুলোতে চলছে শোকের মাতম। এদিকে নাজিরপুর ইউনিয়নের নিমদী গ্রামের বেল্লাল কবিরাজের স্ত্রী মোসাঃ কুলসুম বেগম (৩৫) গাছের চাপায় মারা গেছে।

বাউফল পৌর এলাকার ৭নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সত্তোরর্ধো বিধবা ফুলভানুর ১৪ জনের সংসার। সবাইকে নিয়ে এক ঘরে বসবাস করতেন তিনি। গত রবিবারের কাল বৈশাখী ঝড়ে গাছ পড়ে সম্পূর্ন ঘর বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। এতে ছেলে, পুত্রবধু, নাতি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ফুলভানু বেগম। ফুলভানুর পুত্রবধু মানজিলা বেগম জানান, ঘর ভেঙ্গে যাওয়ায় রাতে খোলা জায়গায় থেকেছেন। ঘরে খাবার না থাকায় ছোট ছোট বাচ্ছা এবং বৃদ্ধ শাশুড়িকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।
তিনি আরো জানান, সাহরী না খেয়ে তারা আজকে রোজা থেকেছেন। দ্রুত সরকারি সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের পূর্ব কালাইয়া এলাকার মো: আবদুল জলিলের ঘরটি ঝড়ে উড়িয়ে নিয়ে গেছে। এখন ভিটিতে ২টি চৌকি ছাড়া খাবার,কাপড় কোন কিছুই অবশিষ্ট নেই। স্ত্রী এবং ৩বছরের শিশু পুত্র নিয়ে মানবেতর অবস্থায় রয়েছেন জলিল।    মো: আবদুল জলিল জানান, গতকাল থেকে এখন পর্যন্ত আমরা না খেয়ে আছি। ৩ বছরের ছেলেটার জন্য বেশি কষ্ট হচ্ছে।
সরকারি সহযোগিতা না পেলে নতুন ঘড় তোলা আমার পক্ষে সম্ভব হবে না।

আরো পড়ুন : বর্ণিল সাজে সাগরকন্যা কুয়াকাটা

পৌর শহরের ৭নং ওয়ার্ড শান্তিবাগ এলাকার যুগিবাড়ীর সুধাংশ চন্দ্র দেবনাথের বসত ঘড় সম্পূর্ন ভেঙ্গে যায়। সুধাংশ তার পবিবারের সদস্যদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। অর্থিক অনটনের কারনে ঘর মেরামর করতে পারছেনা সুধাংশ।

এবিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বশির গাজি বলেন, আমরা প্রাথমিক ভাবে ৭শ’র মতো ঘরের তথ্য পেয়েছি এর মধ্যে ৬শতাধিক ঘড় আংশিক এবং শতাধিক ঘড় সম্পূর্ন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা চলমান রয়েছে। ২হাজার প্যাকেট শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হবে। নতুন ঘড় নির্মানের ক্ষেত্রে নগদ টাকা, ঢেউটিন ছাড়াও প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।




ঈদের আনন্দ নেই পটুয়াখারীর জেলে পল্লীতে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: এক মাসের বেশি সময় মাছ ধরা বন্ধ। তাই সম্পূর্ণ কর্মহীন পটুয়াখালী তেতুলিয়া নদীতে মাছ শিকারী জেলেরা। বেকার এসব জেলেদের দিন কাটছে খেয়ে না খেয়ে। এ অবস্থায় এবারের ঈদ যেন জেলে পরিবারের কাছে এসেছে খুশির বদলে দুঃখ নিয়ে।

সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় জেলে দম্পতি মিলন সরদার ও লিপি বেগমের সঙ্গে। এসময় মিলন সরদার জানান, পটুয়াখালীর তেতুলিয়া নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন তারা। কিন্তু সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘ এক মাস ধরে মাছ ধরা বন্ধ। এদিকে জেলে নিবন্ধন না থাকায় সরকারি কোন সহায়তাও পাননা তারা। এ কারণে দুই শিশু সন্তান নিয়ে তাদের দিন কাটছে খুবই কষ্টে।

আরো পড়ুন : বর্ণিল সাজে সাগরকন্যা কুয়াকাটা

তাদের মতো একই অবস্থা তেতুলিয়া নদীতে মাছ শিকারী হাজার হাজার জেলের। তাদের দিন কাটছে  খেয়ে না খেয়ে। এ অবস্থায় ঈদের আনন্দ নেই জেলে পল্লীতে। পকেটে টাকা না থাকায় সন্তানের নতুন পোশাক কিনে দিতে না পেরে  ঈদ যেন অনেক জেলে বাবার কাছে এসেছে অনেকটা বঞ্চনা নিয়ে। কর্মহীন জেলেদের জন্য  সরকারের পক্ষ থেকে সামান্য কিছু খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হলেও, নিবন্ধন না থাকায় তা থেকেও বঞ্চিত হন অনেক জেলে।

রাঙ্গাবালী উপজেলা সামুদ্রিক মৎস্য কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন জানান, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে সব ধরনের মাছ শিকার, পরিবহন, বাজারজাত বন্ধ থাকে। একারণে নিবন্ধিত বেকার জেলেদের মাঝে ৮০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। ইলিশসহ সব ধরনের মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশের ৬ অভায়শ্রমে মার্চ- এপ্রিল দুই মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে ভোলার ভেদুরীয়া থেকে পটুয়াখালীর তেতুলীয়া নদীর একশো কিলোমিটার এলাকা।




আমাদের এখনও বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি : বুবলী

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পর নায়িকা শবনম বুবলীকে বিয়ে করেন শাকিব খান। বুবলীর দাবি, ২০১৮ সালের ২০ জুলাই শাকিবকে বিয়ে করেন তিনি। এরপর ২০২০ সালের ২১ মার্চ তাদের প্রথম সন্তানের জন্ম।




মোজাম্বিকে ফেরিডুবিতে নিহত ছাড়াল ১০০, নিখোঁজ আরও ২০




ঈদ কবে জানা যাবে সন্ধ্যায়

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর বুধ নাকি বৃহস্পতিবার উদযাপিত হবে তা জানা যাবে আজ সন্ধ্যায়। ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারণে সন্ধ্যায় সভায় বসছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। এদিকে চাঁদ দেখা না যাওয়ায় সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে বুধবার (১০ এপ্রিল) ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।

বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে (বাদ মাগরিব) এ সভা হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি ও ধর্মমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান। সোমবার (৮ এপ্রিল) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সভায় ১৪৪৫ হিজরি সনের শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা করে ঈদুল ফিতর উদযাপনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। একমাস রমজানের রোজা শেষে শাওয়াল মাসের ১ তারিখে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়।

 মঙ্গলবার দেশের আকাশে শাওয়ালের চাঁদ দেখা গেলে পরের দিন বুধবার (১০ এপ্রিল) ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। আর বাংলাদেশের কোথাও চাঁদ দেখা না গেলে বুধবার রমজান মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে। সেক্ষেত্রে ঈদ উদযাপিত হবে বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল)।

বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা ০২-২২৩৩৮১৭২৫, ০২-৪১০৫০৯১২, ০২-৪১০৫০৯১৬ ও ০২-৪১০৫০৯১৭ টেলিফোন নম্বরে ফোন করে এবং ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭ ও ০২-৯৫৫৫৯৫১ নম্বরে ফ্যাক্স করে বা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) বা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) জানানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।




নিষেধাজ্ঞা সঠিকভাবে পালন হওয়ায় ধরা পড়ছে ইলিশের ঝাঁক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: সাগরে জাল ফেললেই উঠে আসছিল জেলিফিশ। এ কারণে জেলেরা মাছ ধরা কার্যত বন্ধই রেখেছিলেন। তবে এখন জেলিফিশের উপদ্রব কমে গেছে। জেলেদের জালেও ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ।

গত এক সপ্তাহে পটুয়াখালীর আলীপুর ও মহীপুরে কমপক্ষে দুই-তিন হাজার মণ ইলিশ বেচাকেনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আড়তদাররা।

মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা পালন করার সুফল পাচ্ছেন জেলেরা।

আরো পড়ুন : বর্ণিল সাজে সাগরকন্যা কুয়াকাটা

সরজমিনে দেখা গেছে, মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ায় জেলেপল্লী ও কলাপাড়া উপজেলার দুটি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র আলীপুর এবং মহিপুরে ফিরেছে কর্মব্যস্ততা। গত এক সপ্তাহে কমপক্ষে দুই হাজার মণ ইলিশ মাছ বেচাকেনা হয়েছে। গত শনিবার সকালে এফবি আল্লাহর দয়া-১ নামের একটি ট্রলার ১৫০ মণ ইলিশ নিয়ে আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে নোঙর করে। ওই ট্রলারে পর্যাপ্ত বরফ না থাকায় ২০ মণ ইলিশ মাছ যায়। বাকি ১৩০ মণ ইলিশ নিলামে ৪০ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়।

মহিপুর মৎস্য আড়ত ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ রাজা বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে সমুদ্রে ইলিশের পাশাপাশি অন্যান্য সামুদ্রিক মাছও পাওয়া যাচ্ছে। ঈদের আগমুহূর্তে জেলেদের জালে মাছ ধরা পড়ায় জেলে পল্লীতে কর্মব্যস্ততা বেড়েছে।’

এ ব্যাপারে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা সঠিকভাবে পালন হওয়ায় আগের চেয়ে সব ধরনের মাছের উৎপাদন বেড়েছে। সরকারি বিধিনিষেধ মানার সুফল পাচ্ছেন উপকূলের জেলেরা। বর্তমানে সমুদ্রে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। আশা করছি, এবার বর্ষা মৌসুমে আরো বেশি ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছ ধরা পড়বে।’




বর্ণিল সাজে সাগরকন্যা কুয়াকাটা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ঈদুল ফিতর ও পহেলা বৈশাখের ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হবে সূর্যোদয় সূর্যাস্তের বেলাভূমি ‘সাগরকন্যা’ কুয়াকাটায়। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর ব্যাপকভাবে পর্যটন দেখা গেছে কুয়াকাটায়। তাই এবারের ঈদে ব্যবসা-বাণিজ্য গতি পাবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। এরই মধ্যে ৬০ শতাংশ হোটেল মোটেল কক্ষ বুকিং হয়েছে বলে হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পর্যটকদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও সেবা দিতে প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পৌর কর্তৃপক্ষ।

খুশির ছোঁয়া লেগেছে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের, ইতিমধ্যেই পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাজিয়ে নিচ্ছে আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁ , বেচাকেনার জন্য তৈরি রয়েছে রাখাইন মহিলা মার্কেট, ঝিনুক মার্কেট, বার্মিজ আচার, কাঁকড়া ফ্রাই, পর্যটকদের ছবি তোলার জন্য প্রস্তুত ক্যামেরাম্যান সহ, চটপটি ফুচকার দোকানে দেখা গেছে মানুষের আনাগোনা, কুয়াকাটা দর্শনীয় স্থানগুলো ভ্রমণ করাতে প্রস্তুত , মোটরসাইকেল ড্রাইভার, অটোরিকশা চালক,কুয়াকাটা থেকে সমুদ্রপথে বিভিন্ন দ্বীপ ও বনাঞ্চল ভ্রমণ করানোর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ট্যুরিস্ট বোট,স্পিড বোট এবং ওয়াটার বাইক ।

আরো পড়ুন : দুমকিতে রাস্তা সংস্কার বন্ধ দুবছর

কুয়াকাটা সৈকতের জিরো পয়েন্ট থেকে পূর্ব ও পশ্চিমে মনোমুগ্ধকর ১৮ কিলোমিটার বেলাভূমি রয়েছে। পর্যটকরা এখানকার ট্যুরিজম পার্ক , জাতীয় উদ্যান (ইকোপার্ক), শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহার, সীমা বৌদ্ধ বিহার ঘুরে দেখেন। এ ছাড়া কুয়াকাটার পশ্চিমে সমুদ্র পথে ফাতরার বন, সোনাকাটা ফকিরহাট ( ইকোপার্ক),লাল কাঁকড়ার চর, লেম্বুর বন, শুটকি পল্লী ও ভ্রমণপিপাসুদের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকে।

আচার বিক্রেতা মো. জহির রায়হান বলেন, নানা ধরনের দেশি বিদেশি আচার ও চকলেট উঠেয়েছি দোকানে। টানা ছুটিতে কুয়াকাটায় হাজারো পর্যটকদের আনাগোনা থাকবে। তাদের হাতে আমরা বাহারী স্বাদের আচার ও চকলেট বিক্রি করব। দামে মানে ও গুনে আমরা পর্যটকদের কথা মাথায় রাখি বরাবরই।

অভিজাত আবাসিক সিকদার রিসোর্ট এন্ড ভিলার্স এবং ওসান ভিউ হোটেল এন্ড কনভেনশন এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মো. আল-আমীন খান বলেন, আমাদের এখন পর্যন্ত ৫০ শতাংশ অগ্রীম বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিক্ষণই পর্যটকরা ফোনে খোঁজ খবর নিচ্ছে। আশাবাদী শতভাগ রুম বুক হয়ে যাবে। আমরা পর্যটকদের জন্য স্পেশাল ডিসকাউন্ট রেখেছি।

হোটেল মোটেল ওনার্স অসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরিফ বলেন, আমরা আশাবাদী পবিত্র ঈদুল ফিতর ও পহেলা বৈশাখের ছুটিকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটায় অনেক ট্যুরিস্টের আগমন হবে।আবার আগের মত প্রাণ খুঁজে পাবে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত, হাসি ফুটবে সকল ব্যবসায়ীদের মনে। হোটেল মোটেল গুলোতে ৬০% এর মত আগাম বুকিং হয়েছে।

কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “ঈদ পরবর্তী সময়ে কুয়াকাটায় পর্যটকদের ভিড় বাড়বে এমন ধারণা মাথায় রেখেই আমরা প্রস্তুতি সভা করেছি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের একটি দল সার্বক্ষণিক মাঠে থাকবে। চিকিৎসক দল, ফায়ার সাভির্স অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সদসরাও তৈরি রয়েছে।

টুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ বলেন, কুয়াকাটায় ঘুরতে আসা সকল পর্যটকদের সেবা দেওয়া ও আইনি সহায়তা দেওয়া আমাদের কর্তব্য। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কুয়াকাটায় অনেক পর্যটক আসবে তাই আমরা অনেক নিরাপত্তাব্যবস্থা করেছি। সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সাদা পোশাকে আমাদের সদস্যরা টহলে থাকবেন। আশা করছি আমরা পর্যটকদের শতভাগ নিরাপত্তা দিতে পারব।