সদরঘাটে লঞ্চের দড়ি ছিঁড়ে নিহত ৫

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: রাজধানীর সদরঘাটে লঞ্চে ওঠা নামার দড়ি ছিঁড়ে নারী ও শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজনের অবস্থা গুরুতর। নিহতদের মরদেহ মিডফোর্ড হাসপাতালে রাখা আছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠিন করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলের দিকে এমভি তাশরিফ পরিবহনকে ধাক্কা দেয় এমভি ফারহান নামে অপর একটি লঞ্চ। এ সময় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

তবে তাৎক্ষণিকভাবে নারী-শিশুসহ নিহত পাঁচজনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। লঞ্চে ওঠা-নামার দড়ি ছিঁড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীসহ সদরঘাট লঞ্চঘাটের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ১১ নম্বর পন্টুনের সামনে এমভি তাশরিফ-৪ ও এমভি পূবালী-১ নামে দুটি লঞ্চ রশি দিয়ে পন্টুনে বাঁধা ছিল। লঞ্চ দুটির মাঝখান দিয়ে ফারহান নামের আরেকটি লঞ্চ ঢুকানোর সময় এমভি তাসরিফ-৪ লঞ্চের রশি ছিঁড়ে গেলে পাঁচজন যাত্রী লঞ্চে উঠার সময় গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে তাদের মৃত্যু হয়।




চিড়িয়াখানায় হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে কিশোরের মৃত্যু

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : জাতীয় চিড়িয়াখানায় হাতির পায়ের নিচে পিষ্ট হয়ে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) চিড়িয়াখানায় হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে ওই কিশোরের মৃত্যু হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ঈদের দিনে চিড়িয়াখানায় মানুষের ঢল নেমেছে। প্রতিদিনের মতোই হাতি দিয়ে ফুটবল খেলা দেখানো হচ্ছিল। কিছু সময় খেলাধুলার পর হঠাৎ করে হাতিটি বিগড়ে যায়। বিগড়ে গিয়ে সামনে একটি কিশোরকে শুঁড় দিয়ে ধরে আছাড় মারে। এতে ঘটনাস্থলেই ওই কিশোরের মৃত্যু হয়।

নিহত ওই কিশোরের নাম জাহিদ (১৭)। তার গ্রামের বাড়ি কুলাউড়ায়। তার বাবার নাম আজাদ আলী। জাহিদের বাবা আক্রমণকারী হাতির মাহুত।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. রফিকুল ইসলাম তালুকদার। তিনি বলেন, সকালের দিকে হাতির মাহুত আজাদ আলী তার ছেলে জাহিদকে নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় পাঁচটি হাতির একটি জাহিদকে আক্রমণ করে এবং পায়ের নিচে পিষ্ট করলে জাহিদ গুরুতর আহত হন। কিন্তু হাতির মাহুত আজাদ আলী বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে নিয়ে কুলাউড়া চলে যায়।




দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ঈদের প্রধান জামাত ষাটগম্বুজ মসজিদে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : বাগেরহাটের বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগুম্বুজ মসজিদে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারও ষাটগুম্বুজ মসজিদে তিনটি জামাতে প্রায় অর্ধলাখ দেশি-বিদেশি ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেন।

আজ বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) চারস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে সকাল সাড়ে ৭টায় প্রথম জামাতে ইমামতি করেন বাগেরহাট কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল কালাম শেখ।

ষাটগুম্বুজ মসজিদে ঈদুল ফিতরের প্রথম জামায়াতে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খালিদ হোসেনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

এরপর সকাল ৮টায় দ্বিতীয় ও সাড়ে ৮টায় ঈদের তৃতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

হযরত খানজাহান (রহ:)-এর অমর সৃষ্টি সাড়ে ৬০০ বছরের পূর্বে নির্মিত ষাটগুম্বুজ মসজিদে এবারের তিনটি ঈদের জামাতে মসজিদের ভেতর ছাড়াও বাইরের দুটি প্যান্ডেলে প্রায় অর্ধলাখ দেশি-বিদেশি ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেন। ঈদের নামাজ শেষে দেশ-জাতি ও মুসলিম উম্মার শান্তি-অগ্রগতি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। নামাজ শেষে মুসল্লিরা এক অন্যের সঙ্গে কোলাকুলি করেন।




দিনাজপুরে অনুষ্ঠিত হলো দেশের সর্ববৃহৎ ঈদ জামাত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে দেশের সর্ববৃহৎ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ৯টায় প্রায় সাত লাখ মুসল্লির অংশগ্রহণে ঈদের এ জামাত শুরু হয় বলে জানান আয়োজকরা।

ঐতিহাসিক এ ঈদের জামাতে অংশ নিতে সদর উপজেলা ছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের কয়েকটি জেলার মুসল্লিরা আসেন। জামাতে ইমামতি করেন দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতাল জামে মসজিদের ইমাম শামসুল হক কাসেমি।

বৃহৎ এ জামাতকে ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছিল কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। সিসিটিভি ক্যামেরার পাশাপাশি ছিল কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি। মাঠের আশপাশে র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশ, আনসার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য সদস্যরাও তৎপর ছিলেন।

নামাজ শেষে ঈদগাহ মাঠের সমন্বয়ক, পৃষ্ঠপোষক ও জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম বলেন, আয়তনের দিক দিয়ে এটি উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় ঈদগাহ মাঠ। এর আয়তন প্রায় ২২ একর। এবার দিনাজপুর জেলাসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলার প্রায় ছয় লাখ মুসল্লি এখানে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন।

তিনি আরও বলেন, মাননীয়  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্থায়নে এ মাঠের সুন্দর মিনারটি নির্মিত হয়েছে। ভবিষ্যতে এটিকে আরও সুন্দর করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান ঈদগাহ মাঠের এ সমন্বয়ক।

এর আগে দেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হতো কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায়। এখন দিনাজপুরের ৫২ গম্বুজের ঈদগাহ মাঠে সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।




ঝড়ে বিধ্বস্ত কলেজ পরিদর্শন করলেন এমপি রুহুল আমিন হাওলাদার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি  :: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় ৭ এপ্রিল মাত্র ১০ মিনিটের কালবৈশাখী ঝড়ে বিধ্বস্ত হওয়া কদমতলা কলেজ পরিদর্শন করেছেন পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার।

বুধবার দুপুর ২টায় কলেজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ঘূর্ণিঝড়কে কেন্দ্র করে এলাকা দেখে গেলাম এবং কলেজটি নিজের দেখা প্রয়োজন ছিল। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কলেজটি পাকা ভবন নির্মাণ ও এমপিওভুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত

কলেজ প্রতিষ্ঠাতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রামীণ এলাকায় এরকম একটি কলেজ হওয়া দুঃসাধ্য ব্যাপার। এ এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কলেজটি ব্যাপক ভূমিকা রেখে চলছে।

তিনি আরও বলেন, কলেজটি এমপিওভুক্ত করার জন্য প্রয়োজনে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব; প্রধানমন্ত্রীর কাছেও অনুরোধ করব। এটা নিঃসন্দেহে এই কলেজের শিক্ষক ও স্টাফদের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ড. হারুন অর রশীদ হাওলাদার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহিন মাহমুদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আকন সেলিম, জাতীয় পার্টির সভাপতি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাসুদ আল মামুন, আয় লেবুখালী ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম তুহিন, দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারেক মোহাম্মদ হান্নান প্রমুখ।




পটুয়াখালীতে ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) সকাল আট টায় পটুয়াখালী পৌরসভা নিয়ন্ত্রিত কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জেলার সবচেয়ে বড় এ জামাতে ঈদগাহের ভিতরে ও বাইরে মিলে প্রায় ২০ হাজার মুসুল্লি একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন।

বড় জামে মসজিদের পেশ ইমাম আলহাজ্ব মাওলানা আবু সাঈদ জামাতে ইমামতি করেন।

আরো পড়ুন : এলো খুশির ঈদ, ঘরে ঘরে আনন্দ

ঈদের নামাজের জামাতে পৌর মেয়র মহিউদ্দিন আহম্মেদ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ভিপি আব্দুল মান্নান মুসুল্লিদের সাথে নামাজ আদায় করেন।

নামাজ শেষে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে মডেল মসজিদের পাশে অস্থায়ী ঈদগাহে মুসুল্লিদের সাথে নামাজ আদায় করেন জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন, পুলিশ সুপার মোঃ শহীদুল্লাহ, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলমগীর হোসেন।

এছাড়া জেলা প্রশাসক ঈদগাহ, মির্জাগঞ্জ ইয়ার উদ্দিন খলিফার দরবার শরিফ সহ জেলার ৫১১টি ঈদগাহ এবং ১৭৪১টি মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঈদগাহ সহ পুরো পটুয়াখালী শহরকে সুসজ্জিত করায় পৌর কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান মুসুল্লিরা।




কুয়াকাটায় আড়াই লাখ পর্যটক আগমনের আশা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পবিত্র ঈদুল ফিতর ও পহেলা বৈশাখের ছুটিতে আড়াই লাখ পর্যটক আগমনের আশা করছেন কুয়াকাটার পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। ইতোমধ্যে বুকিং হয়েছে ৮০ শতাংশ হোটেল মোটেলের কক্ষ। তাই নতুন করে সাজানো হয়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

এদিকে রমজানে একমাস পর্যটকশূন্য থাকায় সৈকতের প্রকৃতি তার নিজস্ব রুপে সেজেছে। ঈদের পরে আগত পর্যটকরা এ মনভোলানো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, চারদিকে সুনসান নিরবতা। ফাঁকা পড়ে আছে সৈকতে পাতা বেঞ্চিসহ ভাসমান দোকান। তবে ব্যস্ত সময় পার করছে ব্যবসায়ীরা। কেউ তাদের ভাসমান দোকান নতুন করে তৈরি করেছেন। কেউ রং তুলির আঁচড়ে সাজিয়েছেন। কেউবা আবার ধোয়া মোছা করছেন। শুধু সৈকতের ভাসমান দোকানই নয়, নতুন করে প্রতিষ্ঠান সাজাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন হোটেল মোটেলসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট সব ব্যবসায়ীরাই।

আরো পডুন : সেই বৃদ্ধার ঘরে ঈদ উপহার পাঠালেন ইউপি চেয়ারম্যান

কুয়াকাটা সৈকতের বেঞ্চ ব্যবসায়ী নুরুল হক জানান, একমাস পর্যটকশূন্য ছিলো কুয়াকাটা। আমরাও বাড়িতে অলস সময় কাটিয়েছি। এখানে আমার যে বেঞ্চ ছিলো এসে দেখি কয়েকটির রং জলে গেছে। তাই নতুন করে রং করছি।

সৈকতে আচার ব্যবসায়ী মোকলেছ মিয়া জানান, আমার মূলত ভাসমান দোকান। কয়েকটি কাঠ ছুটে গেছে। তাই নতুন করে কাঠ লাগিয়েছি। আশা করছি ঈদে কুয়াকাটায় লাখ লাখ পর্যটক আসবে। এবং আমরা এই এক মাসে যে লোকসানে পড়েছি তা কাটিয়ে উঠতে পারবো।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েসন অফ কুয়াকাটার (টোয়াক) সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম জানান, এবছর ঈদের সঙ্গে পহেলা বৈশাখেরও ছুটি রয়েছে। তাই আমরা আশা করছি আজ ঈদের দিন থেকেই পর্যটকে মুখরিত হয়ে উঠবে কুয়াকাটা। আড়াই লাখ পর্যটক আগমনের আশা করছি আমরা। সেভাবেই সাড়া পাচ্ছি। ইতোমধ্যে ফাইভ স্টার মানের হোটেল মোটেলগুলো শতভাগ বুকিং হয়ে গেছে। এছাড়া অন্যান্য হোটেল মোটেলের ৮০ ভাগ কক্ষ বুকিং হয়েছে। আশা করছি ঈদের আগে সকল হোটেল মোটেল বুকিং হয়ে যাবে।

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ জানান, ঈদে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করছি পর্যটকরা নির্বিঘ্নে তাদের ভ্রমণ উপভোগ করতে পারবেন।




এলো খুশির ঈদ, ঘরে ঘরে আনন্দ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : এক মাস সিয়াম সাধনার পর বৃহস্পতিবার সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন দেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। এরই মধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে ঈদের আবহ। ঈদের আগের রাতে রেডিও-টেলিভিশনে বেজে চলেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী সেই গান, ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশীর ঈদ…।’

ইসলামের ধর্মীয় বিধান অনুসরণ করা হয় সাধারণত হিজরি বর্ষপঞ্জির চান্দ্র মাসের হিসাবে। সেই মোতাবেক এবার রমজান মাসের সিয়াম সাধনা শুরু হয়েছিল খ্রিষ্টীয় দিনপঞ্জির গত ১২ মার্চ মঙ্গলবার। ২৯ রমজান মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি বৈঠকে বসে। তবে ওই দিন বাংলাদেশের আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে ৩০ রমজান পূর্ণ করে বৃহস্পতিবার ঈদুল ফিতর উদ্যাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়।




ইসরায়েলকে শাস্তি দেওয়া হবে: খামেনি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেছেন, সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইরানি কনস্যুলেটে হামলা চালানোর জন্য ইহুদিবাদী ইসরায়েলকে শাস্তি দেওয়া হবে।

তিনি বুধবার (১০ এপ্রিল) তেহরানের গ্রান্ড মোসাল্লা বা জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে এই হুমকি দিয়েছেন।

গত ১ এপ্রিল দামেস্কের ইরান দূতাবাস সংলগ্ন কনস্যুলেট ভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি এ হুমকি দেন।

আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, ইহুদিবাদী সরকার আরেকটি ভুল করেছে এবং তারা দামেস্কের ইরানি কনুস্যলেটে হামলা চালিয়েছে। কোনো দেশের কনস্যুলেটসহ অন্যান্য কূটনৈতিক মিশন ওই দেশের ভূখণ্ড বলে বিবেচিত হয়। তারা যখন আমাদের কনস্যুলেটে হামলা চালিয়েছে তখন মূলত তারা আমাদের ভূখণ্ডে হামলা চালিয়েছে।

এরপর তিনি সুস্পষ্ট ঘোষণা দেন, ইহুদিবাদী ইসরায়েলকে শাস্তি পেতে হবে এবং শাস্তি দেওয়া হবে।

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের গত ছয় মাসের ভয়াবহ গণহত্যা ও অপরাধযজ্ঞের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, এ ঘটনায় কথিত পশ্চিমা সভ্যতার নষ্ট ও ভ্রষ্ট প্রকৃতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, পশ্চিমা সরকারগুলো কথিত পশ্চিমা সভ্যতার নষ্ট চরিত্র প্রকাশ করে দিয়েছে। বিগত ছয় মাসে গাজার ঘটনায় পশ্চিমা সরকারগুলো বিশ্ববাসীর চোখের সামনে তাদের প্রকৃত চরিত্র তুলে ধরেছে। তারা মায়ের কোলে থাকা সন্তানদের ও হাসপাতালে থাকা রোগীদের হত্যা করেছে। ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সঙ্গে পেরে না উঠে তারা বয়স্ক ব্যক্তি, নারী ও শিশুসহ ত্রিশ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করেছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, যারা কর্কশ কণ্ঠে এতদিন বিশ্ববাসীর কানের কাছে মানবাধিকার রক্ষার কথা বলে এসেছে তারা আজ কোথায়? গাজাবাসীকে কি মানুষ মনে হয় না? তাদের কি কোনো অধিকার থাকতে নেই?

আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, পশ্চিমা সরকারগুলো বহুকাল ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে ইসরায়েলকে সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে এসেছে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গণেও এই সরকারকে সব ধরনের কূটনৈতিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, তাদের উচিত ছিল গাজা বিপর্যয়ে ইহুদিবাদী ইসরায়েলকে প্রতিহত করা। কিন্তু তারা তাদের কর্তব্য পালন করেনি। কাউকে কাউকে মৌখিকভাবে গাজাবাসীর পক্ষে কথা বলতে শোনা গেছে, কিন্তু বাস্তবে তারা শুধু যে গাজাবাসীকে রক্ষা করতে পারেনি তাই নয় বরং উল্টো তাদেরকে হত্যা করার কাজে সহযোগিতা করেছে। এই কাজে দাম্ভিক ও নিষ্ঠুর যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন সবার চেয়ে এগিয়ে ছিল।

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ঈদের নামাজের খুতবায় দেশের জনগণসহ গোটা মুসলিম উম্মাহকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানান ও মুসলিম বিশ্বের সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করেন।

সূত্র: পার্সটুডে, প্রেসটিভি




ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা রাষ্ট্রপতির

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশে ও প্রবাসে বসবাসকারী সব বাংলাদেশিসহ বিশ্ববাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন। ১১ এপ্রিল পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এই শুভেচ্ছা জানান।

মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা ও সংযম পালনের পর অপার খুশি আর আনন্দের বার্তা নিয়ে আমাদের মাঝে সমাগত হয় পবিত্র ঈদুল ফিতর।’

ঈদুল ফিতরের শিক্ষা সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক, গড়ে উঠুক সমৃদ্ধ বাংলাদেশে প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, ঈদের এই আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে সবার মাঝে, গ্রামগঞ্জে, সারা বাংলায়, সারা বিশ্বে। এদিন সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এক কাতারে শামিল হন এবং ঈদের আনন্দকে ভাগাভাগি করে নেন। ঈদ সবার মধ্যে গড়ে তোলে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি আর ঐক্যের বন্ধন।

মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ইসলাম শান্তি ও কল্যাণের ধর্ম। এখানে হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানির স্থান নেই। মানবিক মূল্যবোধ, সাম্য ও পারস্পরিক সহাবস্থান এবং পরমতসহিষ্ণুতাসহ বিশ্বজনীন কল্যাণকে ইসলাম ধারণ করে। ইসলামের এই সুমহান বার্তা ও আদর্শ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী নানাবিধ সংকটের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দাভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও এ মন্দার প্রভাব দৃশ্যমান। ফলে সমাজের দরিদ্র জনগোষ্ঠী স্বাভাবিক জীবনধারণে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।

এমতাবস্থায়, আমি সমাজের সচ্ছল ব্যক্তিদের প্রতি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি, যেন ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই ঈদের আনন্দ সমানভাবে উপভোগ করতে পারে।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি মানবতার মুক্তির দিশারি হিসেবে ইসলামের মর্মার্থ ও শাশ্বত বাণী ছড়িয়ে পড়ুক সর্বত্র, বিশ্ব ভরে উঠুক শান্তি আর সৌহার্দ্যে-পবিত্র ঈদুল ফিতরে এমন প্রত্যাশা করেন।