পটুয়াখালীতে পহেলা বৈশাখ ১৪৩১ নানা আয়োজনে পালিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: আবহমান কাল থেকে বাঙালি জাতি নিজস্ব ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, রীতি- নীতি ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করে আসছে। এর সঙ্গে রয়েছে বাংলাদেশের সব ধর্ম, বর্ণ ও গোষ্ঠীর নিবিড় সম্পর্ক। পহেলা বৈশাখ সব শ্রেণি, পেশা ও বয়সের মানুষের মাঝে নতুন প্রাণের সঞ্চার ঘটায়। নববর্ষের প্রেরণায় মানুষে মানুষে গড়ে ওঠে সাম্য, সৌহার্দ ও সম্প্রীতি। তাই পহেলা বৈশাখ বরণে পটুয়াখালীতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে আলপনা অংকন করছেন একঝাঁক তরুণ-তরুণী। মঙ্গল শোভাযাত্রা, পান্তা ভোজ, দেশীয় খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনাসহ বিভিন্ন আয়োজন রয়েছে পহেলা বৈশাখ ঘিরে।

অন্যদিকে বৈশাখে নতুন সাজে স্বজ্জিতশিশু-কিশোর, তরুণ- তরুণীসহ সব বয়সী মানুষের উপচেপড়া ভিড় চোখে পড়ার মতো।

আরো পড়ুন : ভাতিজার দায়ের কোপে প্রাণ গেল চাচার

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের অনুষ্ঠানমালায় পহেলা বৈশাখের প্রথম প্রহরে রবিবার (১৪ এপ্রিল) পিডিএস মাঠ থেকে জেলা প্রশাসক নূর কুতুবুল আলম এর নেতৃত্বে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়ে ডিসি স্কয়ার মাঠে গিয়ে শেষ হয়।

এছাড়া সকাল সাতটায় শহীদ আলাউ‌দ্দিন শিশুপা‌র্কে প্রদীপ প্রজলন, প্রভা‌তি সাংস্কৃ‌তিক অনুষ্ঠান ও মঙ্গল শোভাযাত্রা করে দ‌খিনা খেলাঘর আসর।

সকাল সাড়ে আটটায় লোকজ মেলার শুভ উদ্বোধন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ হয় ডিসি স্কয়ারে।

রবিবার (১৪ এপ্রিল) থেকে ২০ এপ্রিল প্রতিদিন বিকাল চারটা হতে রাত ৯ টা পর্যন্ত লোকজ মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

লোকজন মেলার সমা‌প্তির দিন অর্থাৎ ২০এ‌প্রিল বিকাল তিনটায় ১লা বৈশাখ উপল‌ক্ষে পটুয়াখালী ব্রীজ থে‌কে পটুয়াখালী লঞ্চঘাট পর্যন্ত নৌকা বাইচ প্রতি‌যো‌গিতা অনু‌ষ্ঠিত হ‌বে।

জেলা প্রশাসক নূর কুতুবুল আলম বলেন, অতীতের গনি, দুঃখ, জরা মুছে অসুন্দর ও অশুভকে পেছনে ফেলে নতুন কেতন উড়িয়ে বাংলা নববর্ষ-১৪৩১ সবার জীবনে আরো সমৃদ্ধি বয়ে আনবে। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে সবক্ষেত্রে দেশ নব উদ্যোমে আরও এগিয়ে যাবে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা, বাণিজ্য, অর্থনীতিসহ সর্বক্ষেত্রে অভূতপূর্ব অগ্রগতি ও সাফল্য অর্জন করে বিশ্ববাসীর কাছে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। সাফল্য, উন্নয়ন ও অগ্রগতির এই ধারা নতুন বছরেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে দেশী প্রজাতির ছোট বড় মাছ বিলুপ্ত হতে চলছে

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম প্রিন্স বলেন, বৈশাখী মেলাসহ বিভিন্ন ইভেন্ট নিয়ে আমরা বাংলা নববর্ষ বরণ করতে প্রস্তুতি নিয়েছি। সাত দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান রয়েছে।

জেলা প্রশাসক নূর কুতুবুল আলম আরো বলেন, বাংলা নববর্ষের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাস। বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হচ্ছে উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ উদ্যাপন। বাংলা নববর্ষ ১৪৩১ কে আনন্দমুখর পরিবেশে বরণ করে নেয়ার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন,পটুয়াখালী। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনটির মতোই সুখে শান্তিতে কাটুক সবার জীবনের প্রতিটি দিন। হাসি আর আনন্দে নতুন বছর হয়ে উঠুক অমলিন, হয়ে উঠুক ভীষণ সুন্দর, বাংলা নববর্ষ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের সকল আয়োজনে সকলের উপস্থিতি কামনা করেন।

পুলিশ সুপার সাইদুল ইসলাম, বিপিএম, পিপিএম বলেন, বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ পহেলা বৈশাখ। এই দিনটিকে ঘিরে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার।




আজ টিভিতে যেসব খেলা দেখবে




ইরানের নজিরবিহীন হামলা, ইসরায়েলজুড়ে ব্যাপক বিস্ফোরণ-আতঙ্




জলদস্যুদের হাতে জিম্মি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ ও ২৩ নাবিক মুক্ত




আজ পয়লা বৈশাখ : স্বাগত ১৪৩১

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: সময়ের চাকা আরও এক পাক ঘুরে এল। বাংলা বর্ষপঞ্জিতে আজ রোববার শুরু হলো ১৪৩১ সনের দিন গণনা। বাঙালির জীবনে বৈশাখ মাসের এই প্রথম দিনটি কেবল বর্ষ শুরুর সূচনা দিনেই সীমিত নয়। নতুন বছরের নতুন দিনটি উদ্‌যাপিত হয় সবচেয়ে বড় উৎসবের উপলক্ষ হিসেবে। ঋতুভিত্তিক এই অসাম্প্রদায়িক উৎসবে অংশ নেন দেশের ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, ধনী, নির্ধন–নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ।

দিনে দিনে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিস্তার ঘটেছে বৈশাখী উৎসবের। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাংলাভাষী মানুষও সেসব দেশে তাঁদের সামর্থ্য অনুযায়ী পয়লা বৈশাখে নববর্ষ উদ্‌যাপনের উৎসব আয়োজন করছেন। ফলে পয়লা বৈশাখের এই উৎসব হয়ে উঠেছে বাঙালির জাতিসত্তা ও সংস্কৃতি উদ্‌যাপনের এক বিপুল বর্ণাঢ্য মহোৎসব।

নতুন বছর মানেই একটি নতুন সম্ভাবনা। নতুন বছরে, নতুন দিনের এই উদ্‌যাপনে পুরোনো বছরের ব্যর্থতার গ্লানি, অক্ষমতার আক্ষেপ কাটিয়ে নতুন উদ্যমে দেশ, জাতি, সমাজ ও ব্যক্তিজীবনের সমৃদ্ধি অর্জনের প্রেরণাও থাকবে। প্রত্যয় থাকবে সব প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে প্রগতির পথে দৃপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে যাওয়ার।

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বরাবরের মতোই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তাঁরা দেশবাসীকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন।




ইসরায়েল আক্রমণে ইরানের সঙ্গে যোগ দিল হিজবুল্লাহ-হুথিরা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ইসরায়েল আক্রমণে ইরানের সঙ্গে যোগ দিয়েছে ইরানপন্থী সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ এবং হুথি বিদ্রোহীরা। খবর টাইমস অফ ইসরায়েলের।

হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, গোলান হাইটসে ইসরায়েলি সেনা ঘাঁটিতে লেবানন থেকে কয়েক ডজন রকেট দিয়ে হামলা করেছে তারা।

নিরাপত্তা সংস্থা অ্যামব্রে বলেছে, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে ইসরায়েলে একাধিক মানববিহীন স্বয়ংক্রিয় ড্রোন নিক্ষেপ করেছে।

এদিকে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে শতাধিক ড্রোন দিয়ে হামলা শুরু করেছে ইরান। ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডের বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সে দেশের গণমাধ্যম৷ হামলা মোকাবিলায় প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ইসরায়েল৷

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার ইসরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে কয়েক ডজন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে তারা। ‘ট্রু প্রোমিজ’ নামে অভিযানের আওতায় এসব ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।

এই প্রথম ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে সরাসরি ইরান হামলা চালালো। এই হামলার লক্ষ্যবস্তু কী তা এখনও স্পষ্ট নয়। তার কিছুক্ষণ পর ইরান ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপেরও দাবি করেছে। তবে সবগুলো হামলা ব্যর্থ করে দেওয়ার দাবি করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী।

ইসরায়েলের আকাশে বিমান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে৷ হোয়াইট হাউস ইসরায়েলের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিবৃতি দিয়েছে৷ এই হামলাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। মিশর, জর্ডান, লেবানন, ইরাকসহ সবগুলো দেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।




ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে শতাধিক ড্রোন ছুড়েছে তেহরান

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : অবশেষে ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার ইসরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে শতাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। ‘ট্রু প্রমিজ’ নামে অভিযানের আওতায় এসব ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।

ইসরায়েলের অপরাধের শাস্তি দিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড।

ইরানের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকেও এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানায়, তেহরান ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে প্রথম দফা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইসরায়েলের একেবারে ভেতরের লক্ষ্যবস্তু নিশানা করে এসব ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।

ইরানের এ হামলার পরপরই লেবানন, জর্ডান ও ইরাক তাদের আকাশ পথ বন্ধ করে দিয়েছে। ইরান ও ইসরায়েলও সামরিক উড়োজাহাজ বাদে বাকি সব উড়োজাহাজের জন্য তাদের আকাশপথ বন্ধ করে দিয়েছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) একজন মুখপাত্র ইরান থেকে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ড্রোন নিক্ষেপ করার কথা জানিয়েছেন। নিক্ষেপ করা ড্রোনগুলো ইসরায়েলে পৌঁছাতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কিছুক্ষণ আগে ইরান তাদের সীমান্ত থেকে ইসরায়েলের দিকে ইউএভি (আনম্যান্ড এরিয়েল ভেহিকল) নিক্ষেপ করেছে। আইডিএফ উচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।

ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও প্রস্তুত রয়েছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের বিমানবাহিনীর জঙ্গি বিমান এবং ইসরায়েলের নৌবাহিনীর নৌযানগুলোও নিজেদের সুরক্ষায় নিয়োজিত রয়েছে।

ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ইরানের ড্রোন নিক্ষেপের পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, যেকোনো পরিস্থিতির জন্য সেনাবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।

নেতানিয়াহু বলেন, আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত আছি। আর সেটা আত্মরক্ষা ও আক্রমণ-উভয় দিক দিয়েই। ইসরায়েল রাষ্ট্র শক্তিশালী। আইডিএফ শক্তিশালী। দেশের জনগণ শক্তিশালী।

গত ১ এপ্রিল সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইরানের কনস্যুলেটে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যা করে ইসরায়েল। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন জেনারেলসহ ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের সাতজন সদস্য রয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ডের বদলা নিতে ইসরায়েলে হামলা চালানো হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিল ইরান।




জাহাজসহ মুক্ত জিম্মি ২৩ নাবিক

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ৩১ দিন পর অক্ষত অবস্থায় মুক্তি পেলেন সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা বাংলাদেশি ২৩ নাবিক ও জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ। শনিবার বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪টার দিকে মুক্তিপণের ডলারভর্তি তিনটি ব্যাগ জলদস্যুদের হাতে পৌঁছালে নাবিকসহ জাহাজটিকে মুক্ত করা হয়।

জাহাজের মালিকপক্ষ কেএসআরএম গ্রুপের মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, কিছুক্ষণ আগে জাহাজটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ২৩ নাবিকই অক্ষত অবস্থায় আমরা ফেরত পেয়েছি। পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।

গত ১২ মার্চ ২৩ নাবিকসহ বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ জিম্মি করেছিল সোমালিয়ার জলদস্যুরা। তাদেরকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয় সরকার ও মালিকপক্ষ থেকে। কিন্তু বারবার সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। অবশেষে শনিবার মুক্তিপণের মাধ্যমে জাহাজসহ ২৩ নাবিককে অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে নৌ পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, সোমালিয়ায় জলদস্যুর কবলে পড়া বাংলাদেশি ২৩ নাবিককে ঈদের আগে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তাদেরকে উদ্ধারের তৎপরতা চলছে। বিষয়টি আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। আশা করি, অল্প কিছুদিনের মধ্যে তাদের সুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনতে পারব। চেষ্টা করেছিলাম তাদের ঈদের আগে ফিরিয়ে আনতে। কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। জলদস্যুরা কিছু একটা পাওয়ার জন্য জিম্মি করেছে নাবিকদের। কিন্তু তাদের কত টাকা দিতে হবে এটা বলা যাচ্ছে না।




বরগুনায় বাবার অপেক্ষায় তিন বছরের সালমান!

বরিশাল অফিস :: বাবার আদর, স্নেহ আর ভালোবাসা সব কিছুই তার বোঝার বাকি নেই; আর ঈদের নতুন জামা কাপড়ের কথা তো বলা বাহুল্য। বয়স তিন বছর পেরিয়েছে সালমানের। অনেক কিছুই বুঝতে শুরু করেছে। আজ বাবা নেই। কি হয়েছে বাবার, তা না বুঝতে পারলেও বাবা যে কাছে নেই তা বুঝতে পেরেছে। অবুঝ শিশু সালমানের এমন অজানা আর্তনাদে আশপাশের অনেক পরিবারকেই অবাক করছে। এই শিশু বোঝাতে চায় বাবা আসবে, নতুন জামা নিয়ে, বাবার হাত ধরেই ঈদগাহে যাবে।

মো. ইউসুফ, হাস্যোজ্জ্বল ব্যক্তি। এলাকায় ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত। চাকরি করতেন কিন্ডার গার্টেনে। পাশাপাশি মাছ ধরা ট্রলার ছিলো তার। সখের বসে নিজের ট্রলারে জেলেদের সঙ্গে সাগরে গিয়েছিলেন। কে জানতো এই যাওয়াই যে শেষ যাওয়া কেউ বুঝতে পারেনি। আর ফিরে আসবে না পরিবারের কেউ কল্পনাও করেনি।

ইউসুফ সাগরে যাওয়ার দিন ঘুমের ঘরে ছোট সন্তান সালমানের দুই গালে চুমু দিয়ে চলে যান জীবিকার সন্ধানে সাগরে। কিন্তু সালমানকে দেওয়া বাবার এই আদর যে শেষ আদর হবে তা কি কে বুঝতে পেরেছিল।

সখের বসে প্রথম সাগরে যাওয়ার সময় স্ত্রী শারমিন আক্তারকে বলে গিয়েছিলেন- সাগর থেকে এসে মেয়ে সুমাইয়া আক্তারের (৮) বার্ষিক পরীক্ষায় জামা কিনে দিবে। কিন্তু সে আশাও পূরণ হলো‌ না। বিষাদে পরিণত হয়েছে সেই আশা ।

২০২৩ সালের ১৭ নভেম্বর সাগরে ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে নিখোঁজ হন বরগুনার ২৫ জেলে। এরমধ্যে পাথরঘাটার ১১ জন। নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন- এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের আবুল কালাম, মো. জাফর মিয়া, মজিবুর রহমান, ইউসুফ মিয়া, ছত্তার হাওলাদার, নাদিম, বেল্লাল ও ইয়াছিন মিয়া। এফবি তামান্না ট্রলারের আউয়াল বিশ্বাস, সফিকুল ইসলাম, মো. ফারুক, আব্দুল খালেক, মো. নান্টু মিয়া, মো. মাহতাব, সিদ্দিক মৃধা, কালু মিয়া, মো. মনির হোসেন, সহিদুল ইসলাম, মো. সুবাহান খাঁ, মো. ইউনুস সর্দার, মো. খলিল, আব্দুর রব, মো. আল আমিন, মো. লিটন, মো. কালাম।

সরেজমিনে পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নে বড় টেংরা গ্রামের জেলে পল্লীতে গিয়ে দেখা গেছে স্বজন হারা আর্তনাদ। সাড়ে চার মাস অতিবাহিত হলেও আজ পর্যন্ত সন্ধান মেলেনি। পাথরঘাটার ১১ পরিবারেই এমন আর্তনাদ।

কথা হয় নিখোঁজ ইউসুফের স্ত্রী শারমিন আক্তারের সঙ্গে। শেষ কথা কি হয়েছে জিজ্ঞেস করা মাত্রই ফ্যাল ফ্যাল করে কেঁদে দিলেন। বলেন, মাইয়া-পোলা দুইডা সারাদিন বাবার কথা জিগায় কিছু কইতে পারি না। সামনে ঈদ, ওগো জামা কাপড় দিতে পারি নাই।

তিনি আরো বলেন, যখনই বাবার কথা মনে পড়ে তখনই নিজের খেয়ালেই আকাশে দিকে হাত দুটো উঁচু করে বাবাকে ডাকছে, ‘বাবা, বাবা, আব্বা, আব্বা’। বাবার কথা জিজ্ঞেস করতেই কান্না শুরু করে সালমান। বলে আমার আব্বারে আইন্না দাও, আব্বায় ঈদের নতুন জামা লইয়া আয় না ক্যান- এসব কথা বলে মায়ের কাছে বার বার প্রশ্ন করছে নিখোঁজ ইউসুফ আলীর তিন বছরের ছেলে সালমান। কিন্তু কী জবাব দেবে অসহায় মা শারমিন আক্তার। শুধু মুখ লুকিয়ে কাঁদছেন তিনি।

শারমিন আক্তার জানান, ঘরে ভাত রান্দার (রান্না করার) কিছু নাই। ক্যামনে দিন কাটে, তা আল্লায় জানে। ঈদ তো দূরের কথা, আমার স্বামী কোথায় আছে, সেই খবরও এখনো কেউ আইন্না (এনে) দিল না।

ইউসুফের ছোট ভাই ইয়াকুব আলী বলেন, অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি আজও ভাইকে পাইনি। জীবিত আছে না মারা গেছে তাও বুঝতে পারছি না। ভাইয়ের দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকাতে পারি না, বাবা হারা সন্তানের আর্তনাদ, শান্তনা দেওয়ার মতো সাধ্য নেই। অপরদিকে সন্তানহারা বাবা মাও সন্তানের আশার অপেক্ষা প্রহর গুনছে। পথপানে চেয়ে থাকে এই বুঝি‌ বড় ছেলে ইউসুফ আসছে।

উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও গবেষক শফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, কারো সন্তান, কারো বাবা, কারো জোড়ের ভাই হারানোর আর্তনাদ উপকূলের মানুষের সব সময়েই। প্রতিনিয়ত এখানকার মানুষের স্বজন হারা কষ্ট নিয়ে বাস করছে। এমন জীবিকার কাজ করছে যে, সাগরে যতবার যাওয়া, ততবার চির বিদায় নেয়ার মতো।‌ শেষ যাওয়া মনে করেই জেলেরা পরিবারের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, জিডিপিতে মৎস্য খাতের অবদান প্রশংসনীয়, এতো অবদান সত্ত্বেও উপকূলের জেলেদের নিয়ে কেউ ভাবছে না, ভাবার সময়ও নেই। উপকূলীয় অঞ্চলের জীবন-জীবিকা, উপকূলের সম্পদ, জলবায়ু, পরিবেশসহ জেলেদের নিরাপত্তা নিয়ে উপকূলীয় উন্নয়ন বোর্ড এবং উপকূল মন্ত্রণালয়ের দাবি করছি।

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. রোকনুজ্জামান খান বলেন, উপকূলের জীবন-জীবিকা, জেলেদের নিয়ে এখন ভাবার সময় এসেছে। প্রতিনিয়ত পরিবার হারাচ্ছে উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে। সবশেষ নিখোঁজ পরিবারে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঈদকে সামনে রেখে কিছু সহায়তা দেওয়া হয়েছে।




বরিশালে প্রতিপক্ষের হামলায় গর্ভবতী নারীসহ আহত ৩

বরিশাল অফিস:: ভোলার লালমোহন উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনার জেরে এক গর্ভবতী নারীসহ ৩ জনকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের দেবিরচর এলাকার মেলকার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- ওই বাড়ির রোমান মেলকারের গর্ভবতী স্ত্রী বৃষ্টি, দাদি বিবিজা খাতুন ও চাচি নাহার বেগম।

তারা বর্তমানে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রফিক মেলকারের ছেলে রোমান মেলকার অভিযোগ করে বলেন, বদরপুরের গত ইউপি নির্বাচনে একই বাড়ির শাহাবুদ্দিন মেলকার ইউপি সদস্য পদে নির্বাচন করে হেরে যান। আমরা তারই সমর্থক ছিলাম। কিন্তু ভোটে হেরে যাওয়ার পর আমাদেরকে দোষারোপ করতে থাকেন শাহাবুদ্দিন মেলকার। তারই জের ধরে তুচ্ছ যেকোনো ঘটনায় আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন শাহাবুদ্দিন মেলকার ও তার পরিবারের লোকজন। তিনি আরো বলেন, বৃহস্পতিবার ঈদের দিন শাহাবুদ্দিন মেলকারদের সঙ্গে অন্য একটি পক্ষের মারামারি হয়।

শুক্রবার আমাদের ঘরে পরিবারের লোকজন (বৃষ্টি, বিবিজা খাতুন ও নাহার বেগম) একে অপরের সঙ্গে কথা বলছিলেন এবং হাসাহাসি করছিলেন। বিষয়টিকে উপহাস ভেবে শাহাবুদ্দিন মেলকারের ভাই জিয়া মেলকার ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তারই জের ধরে জিয়া মেলকার, তার ভাই ফরিদ, শাহাবুদ্দিন, খোকন, ভাতিজা সুজন, হৃদয় ও স্থানীয় রাকিবসহ আরো কয়েকজন মিলে ঘরে থাকা মহিলাদের ওপর লাঠি এবং দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে আমার গর্ভবতী স্ত্রী বৃষ্টি, দাদি বিবিজা খাতুন ও চাচি নাহার বেগম গুরুতর আহত হন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহাবুদ্দিন মেলকারের ভাই ফরিদ মেলকার জানান, আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না।

এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। লালমোহন থানার ওসি এসএম মাহবুব উল আলম বলেন, মারামারির ঘটনায় কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি আছেন বলে শুনেছি। এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে মারামারির সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশ দেখে মোটরসাইকেল রেখে কয়েকজন পালিয়ে যায়। পরে তিনটি মোটরসাইকেল থানায় আনা হয়েছে। অভিযোগ পেলে এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।