শহীদ জিয়া দেশে প্রথম গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছেন : রহমাতুল্লাহ

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বরিশাল-৫ (সদর) আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই দেশে প্রথম গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন।

সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রহমাতুল্লাহ বলেন, “১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পর জনগণের মূল আকাঙ্ক্ষা ভঙ্গ করেছিলেন শেখ মুজিব। কিন্তু রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে জিয়াউর রহমান গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।”

তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যম ছাড়া প্রকৃত গণতন্ত্র সম্ভব নয়। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা না থাকলে রাষ্ট্র কখনোই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ডাকসু ও জাকসু নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, “এটি ছিল প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে প্রথম নির্বাচন হয়েও তারা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পারেনি। ফলে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে জনগণের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।”

তিনি জাতীয় নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে হলে সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। অন্যথায় গণতন্ত্র ও দেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেন।

দলের মনোনয়ন প্রসঙ্গে রহমাতুল্লাহ বলেন, “দল যাকে মনোনয়ন দেবে, বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে তার পক্ষেই কাজ করবে।”

মতবিনিময় সভায় বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম খসরু, সহ-সভাপতি জাকির হোসেন, সিনিয়র সাংবাদিক নুরুল আলম ফরিদ, কমল সেন গুপ্ত, সাইফুর রহমান মিরনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ইন্দুরকানীতে পারিবারিক কলহে কলেজ ছাত্রের আত্মহত্যা

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে পারিবারিক কলহের জেরে মেহেদী হাসান (১৭) নামের এক কলেজ ছাত্র আত্মহত্যা করেছে। রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মেহেদী হাসান পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি দক্ষিণ ইন্দুরকানী গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক মনোমালিন্যের পর মেহেদী বিষপান করে। দ্রুত তাকে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মারুফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কলেজ ছাত্র মেহেদীর আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে। তার মৃত্যু খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা খুলনার সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ গ্রহণ করবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ঢাকায় গ্রেপ্তার পটুয়াখালীর সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মনির খান ও স্ত্রী সালমা জাহান

পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মনির খান এবং তার স্ত্রী, কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সালমা জাহানকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর মিন্টু রোড এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

সোমবার সকালে পটুয়াখালী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো. জসিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মনির খান দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। ৫ আগস্টের ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে ঢাকাসহ পটুয়াখালীতে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে তার স্ত্রী সালমা জাহানের নামে কোনো মামলা নেই।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রবিবার সন্ধ্যায় ঢাকার বাসা থেকে আত্মীয়ের বাসায় যাচ্ছিলেন মনির খান ও সালমা জাহান। মিন্টু রোডে পৌঁছালে হঠাৎ ডিবি পুলিশের একটি দল তাদের আটকে ফেলে। পরে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে ঢাকার পল্টন থানায় দায়ের করা একটি মামলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়।

এ বিষয়ে ওসি মো. জসিম উদ্দিন আরও জানান, কয়েক মাস আগে সালমা জাহান চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করে স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় বসবাস করছিলেন। রবিবার রাতে ডিএমপির ডিবি পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তারা ঢাকার ডিবি কার্যালয়ে রয়েছেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে হঠাৎ এই গ্রেপ্তারের খবরে আলোচনার ঝড় উঠেছে। বিশেষ করে দলীয় নেতা-কর্মীরা বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ইসলামি জোট গঠনের আহ্বান ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স:অবশেষে মনে হয় ঘুম ভাংগলো  ইসলামি বিশ্বের ,কাতারের রাজধানী দোহায় ইসরায়েলি হামলার পর ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে একটি রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।

আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আল-সুদানি কাতারে ইসরায়েলি বোমা হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির লঙ্ঘন এবং উপসাগরীয় অঞ্চল ও কাতারের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসলামি দেশগুলোর যৌথ প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠনে কোনো বাধা নেই। তিনি আরও বলেন, “আমাদের হাতে এমন অনেক উপায় আছে যার মাধ্যমে এই আগ্রাসনের মোকাবিলা করা সম্ভব, যা কাতারে থেমে থাকবে না।”

এদিকে, শাফাক নিউজকে একটি সরকারি সূত্র জানায়, আল-সুদানি ১৪-১৫ সেপ্টেম্বর দোহায় অনুষ্ঠিতব্য আরব-ইসলামি সম্মেলনে ইরাকের প্রতিনিধিত্ব করবেন। এতে সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমাদ আল-শারাআ এবং অন্যান্য আরব নেতারাও অংশ নেবেন।

ইসরায়েল এই বিমান হামলা চালায় হামাসের রাজনৈতিক নেতাদের লক্ষ্য করে, যারা কাতারে অবস্থান করছিলেন।

এই হামলায় হামাসের ঊর্ধ্বতন আলোচকরা লক্ষ্যবস্তু হন এবং ছয়জন শহীদ হন, যাদের মধ্যে ছিলেন হামাস নেতা খালিল আল-হাইয়ার ছেলে হুমাম আল-হাইয়া। ইসরায়েল হায়োম-এর তথ্য মতে, দোহায় হামাসের অফিসে হামলার আগে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারকে অবহিত করেছিল।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কাতারে ইসরায়েলি বিমান হামলার নিন্দা জানিয়েছে। কাতারেই হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে গাজা যুদ্ধ অবসানে পরোক্ষ আলোচনা চলছিল।

এই বিমান হামলার বিরুদ্ধে জাতিসংঘ, আরব লীগ এবং অঞ্চলজুড়ে বিভিন্ন দেশ কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ হামলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং কাতারের সার্বভৌমত্ব পুনরায় নিশ্চিত করে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস একে “মারাত্মক লঙ্ঘন” বলে অভিহিত করেন। আরব লীগের প্রধান আহমেদ আবুল গেইত হামলাকে “বিপজ্জনক উত্তেজনা” বলে মন্তব্য করেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরান, ওমান, আলজেরিয়া, জর্ডান, কুয়েত, মিশর, তুরস্ক ও লেবানন—সবাই এই হামলার তীব্র নিন্দা জানায় এবং সতর্ক করে দেয় যে, এই আগ্রাসন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে।

ফিলিস্তিনের বিভিন্ন দলও হামলার নিন্দা জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এটিকে “ভ্রাতৃপ্রতিম কাতারের ওপর হামলা” বলে অভিহিত করেন, আর ইসলামিক জিহাদ আন্দোলন একে “অপরাধমূলক কাজ” বলে অভিহিত করে, যা দোহা’র মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করার লক্ষ্যে চালানো হয়েছে।




পদ্মা সেতুতে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন সিস্টেম (ইটিসি)চালুর উদ্দ্যোগ আর লাইনে দাঁড়িয়ে টোল দিতে হবে না

চন্দ্রদ্বীপনিউজ:বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম পদ্মা সেতুর টোলে যুক্ত হতে যাচ্ছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। যা ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) সিস্টেম নামে পরিচিত। এখন থেকে আর টোল গেটের সামনে থেমে লাইন ধরার প্রয়োজন নেই। গাড়ি চলন্ত অবস্থাতেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে যাবে টোল।

আজ সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা থেকে পরীক্ষামূলকভাবে এই নন-স্টপ ইটিসি সিস্টেম চালু হবে।

ইটিসি ব্যবহারের জন্য প্রথমে ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের ‘ট্যাপ’ অ্যাপে যেতে হবে। এরপর ‘ডি-টোল’ অপশনে গিয়ে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও রিচার্জ সম্পন্ন করতে হবে। এরপর পদ্মা সেতুর নির্ধারিত ‘আরএফআইডি বুথে’ গিয়ে একবারের জন্য ট্যাগ চেক ও রেজিস্ট্রেশন করলেই কার্যক্রম শেষ।

এরপর ব্যবহারকারীরা কমপক্ষে ৩০ কিলোমিটার/ঘণ্টা গতিতে ইটিসি লেন দিয়ে চলাচল করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত টোল কেটে নেওয়া হবে তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে। ভবিষ্যতে ট্যাপ অ্যাপ ছাড়াও অন্যান্য ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাপের সঙ্গে এই সেবা যুক্ত করার কাজ করছে আইসিটি বিভাগের এটুআই প্রকল্প। এটি দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত পরিচালক শেখ ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, নন-স্টপ ইটিসি সোমবার দুপুর ২টা থেকে লাইভ পাইলটিং আকারে চালু হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ১০ থেকে ১৫ দিন এই লাইভ পাইলটিং চলবে। এরপর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী এটি চূড়ান্তভাবে ঘোষণা দিয়ে স্থায়ীভাবে চালু করা হবে। আমরা একে ‘লাইভ পাইলটিং’ বললেও ব্যবহারকারীরা তাদের গাড়ি নিয়ে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় লেন ব্যবহার করে নন-স্টপ পারাপারের সুযোগ পাবেন। এর জন্য ‘ট্রাস্ট অ্যান্ড পে (TAP)’ অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে। ব্যাংকে একাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক নয়। অ্যাপে ক্রেডিট কার্ডসহ বিভিন্ন পদ্ধতিতে রিচার্জ করার সুযোগ থাকবে।

 




ড. ইউনূসের নির্বাচনের তারিখ ‘বৈধ নয়’: মুফতি ফয়জুল করীম

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, সংস্কার ও দৃশ্যমান বিচার ছাড়া নির্বাচন করলেই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. ইউনূসকে জনগণের কাছে দায়ত্রস্ত হতে হবে। তিনি একই সঙ্গে ড. ইউনূস একপক্ষীয়ভাবে যা ঘোষণা করেছেন তা বৈধ নয় বলে মন্তব্য করেন।

রোববার বরিশাল টাউন হল চত্বরে জেলা ও মহানগর শাখার আয়োজিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, “তিনটি প্রতিশ্রুতি ছিল—সংস্কার, বিচার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। সংস্কার ছাড়া কোনো নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না।” তিনি আগেই জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করেন।

মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, যদি নির্বাচনের পদ্ধতি হিসেবে সংখ্যানুপাতিক (প্রোপোরশনাল রেপ্রেজেন্টেশন — পিআর) পদ্ধতি নয়, তবে দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতা রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। তিনি পিআর পদ্ধতির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, এই পদ্ধতিতে কালো টাকা ও পেশিশক্তির দৌরাত্ম্য কমে যাবে এবং সব রাজনৈতিক দলকে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে।

এছাড়াও তিনি বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে সংবিধানবিরোধী বলায় উষ্মা প্রকাশ করেন এবং ১৯৭২ সালের সংবিধান জনগণের কল্যাণে ব্যর্থ হওয়ায় সংবিধান পরিবর্তন ও সংস্কারের দাবি উত্থাপন করেন। মুফতি ফয়জুল করীম আরও বলেন, “বিশ্বের ৯১টিরও বেশি দেশ পিআর পদ্ধতি অনুসরণ করে সুফল পাচ্ছে; বিশেষত স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোতে এই পদ্ধতি পুরোপুরি কার্যকর।”

গণসমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন মুফতি সৈয়দ এছহাক মুহাম্মাদ আবুল খায়ের, মাওলানা মুহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম, মাওলানা মুহাম্মাদ নেছার উদ্দিন, মাওলানা কাজী মামুনুর রশীদ খান ইউসুফী ও রাসেল সরদার মেহেদী।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আমতলীতে নারী ইউপি সদস্যের ঘর থেকে ৬৪ বস্তা সার জব্দ

বরগুনার আমতলী উপজেলায় এক নারী ইউপি সদস্যের ঘর থেকে অবৈধভাবে মজুদ রাখা ৬৪ বস্তা সার জব্দ করেছে পুলিশ। রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

জানা যায়, ওই ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য হেনা বুলবুলির ঘরে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে সার মজুদ রাখার অভিযোগ ছিল। স্থানীয় কৃষকরা জানান, তিনি তার স্বামী মজনু চৌকিদার ও ছেলে হাসান চৌকিদারের মাধ্যমে বাজারে অতিরিক্ত দামে এসব সার বিক্রি করে আসছিলেন। সম্প্রতি ২৫০ বস্তা সার সংগ্রহ করে বাড়িতে মজুদ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যে গত কয়েক দিনে ৮৬ বস্তা বিক্রি হয়ে গেছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমতলী থানা পুলিশ উপজেলা কৃষি বিভাগের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তার ঘর থেকে ৪১ বস্তা ইউরিয়া ও ২৩ বস্তা টিএসপি ও এমওপি সার জব্দ করে।

আমতলী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, হেনা বুলবুলির স্বামী বা ছেলের নামে সার বিক্রির কোনো লাইসেন্স নেই। ফলে তাদের কার্যক্রম পুরোপুরি অবৈধ।

অভিযানে অংশ নেওয়া উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, জব্দ করা সার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান জানান, এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে।

আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রাসেল বলেন, অবৈধভাবে সার মজুদ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. রোকনুজ্জামান খান বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। অবৈধভাবে সার বিক্রি করে কৃষকদের ক্ষতির সুযোগ দেওয়া হবে না।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




রাঙ্গাবালীতে ঘুষ ফেরতের দাবিতে ভূমি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা কাজী মো. জাহিদুল ইসলামকে ঘুষ ফেরতের দাবিতে অবরুদ্ধ করেন ভুক্তভোগীরা।

রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় আধঘণ্টা ধরে অন্তত ১৫–২০ জন ভুক্তভোগী তাকে অফিসে আটকে রাখেন। পরে উপজেলা সার্ভেয়ার মো. আনসার উদ্দীন ও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. জাকির হোসাইন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজীব দাশ পুরকায়স্থের নির্দেশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় কয়েকজন লিখিত অভিযোগও জমা দেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, খাস জমির বন্দোবস্ত, ভেকু গাড়ি আটকের ছাড়পত্র, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর, হোল্ডিং অনুমোদন, মিউটেশন, এমনকি সরকারি খাল–পুকুর ইজারাসহ নানা কাজে জাহিদুল ইসলাম নিয়মিত ঘুষ দাবি করতেন। তার দালালদের মাধ্যমে টাকা নিতে বাধ্য করা হতো এবং টাকা না দিলে ভোগান্তির শিকার হতে হতো।

সরকারি কলেজের অফিস সহায়ক মো. বেল্লাল হোসেন বলেন, “একটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে কষ্ট করে ১৫ হাজার টাকা দিয়েছি।”

ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের মিজানুর রহমান জানান, “আমার জমি খাস খতিয়ানে নেওয়ার ভয় দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। শেষমেশ ১৪ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হই।”

স্থানীয় গোলাম রাব্বি অভিযোগ করে বলেন, “নতুন ভেকু কিনলে আমার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেয় এবং খাস জমির বন্দোবস্তের জন্য আরও ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দাবি করে।”

ভেকু গাড়ির মালিক সোহরাব মৃধা বলেন, “ইউএনওর নাম ব্যবহার করে আমার গাড়ির চাবি আটকানো হয়। পরে ৫০ হাজার টাকা দিলে চাবি ফেরত দেওয়া হয়।”

অভিযুক্ত কর্মকর্তা কাজী মো. জাহিদুল ইসলামের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. জাকির হোসাইন বলেন, “লোকজনের অভিযোগ ছিল জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে লেনদেনের বিষয়ে। বিষয়টি এসিল্যান্ডকে জানানো হয়েছে।”

উপজেলা সার্ভেয়ার মো. আনসার উদ্দীন জানান, “বিভিন্ন সময় টাকা নেওয়ার অভিযোগ পেয়েছি। এসিল্যান্ডকে জানিয়েছি, তিনি এলে ব্যবস্থা নেবেন।”

রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজীব দাশ পুরকায়স্থ বলেন, “লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাসুদ উল আলম বলেন, “ঘটনা সম্পর্কে শুনেছি। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




আল্লামা সাঈদীর হত্যার বিচার হবে ভোটের মাধ্যমে: মাসুদ সাঈদী

পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও শহীদ আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে, সাবেক ইন্দুরকানী উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী বলেছেন, তাঁর পিতা আল্লামা সাঈদীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে, এবং দেশের জনগণ এই হত্যার ন্যায্য বিচার চাইছে। তিনি বলেন, বিচার হবে ইসলামের বিজয় ও দাঁড়ি-পাল্লায় ভোটের মাধ্যমে।

রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে দিনব্যাপী পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নে গণসংযোগ, মতবিনিময় ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মাসুদ সাঈদী আরও বলেন, তাঁর পিতা সংসদ সদস্য থাকাকালীন সময়ে ১৯৯৬-২০০১ সালে আওয়ামী শাসনামলে সরকার সমর্থন না দেওয়ায় যথেষ্ট উন্নয়নমূলক কাজ করতে পারেননি। তবে ২০০১-২০০৬ সালে চারদলীয় ঐক্যজোটের আমলে পিরোজপুর সদর, নাজিরপুর ও জিয়ানগর উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছিলেন। এই সময় উপজেলা পূর্ণাঙ্গ রূপান্তর, ব্রিজ, হাসপাতাল, রাস্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সকল স্তরে উন্নয়নের কাজ বাস্তবায়ন করেন।

তিনি নিজেকে সবসময় দুর্নীতিমুক্ত ও আদর্শ ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং নিজে কখনো স্বজনপ্রীতি বা ব্যক্তিগত লাভের চিন্তা করেননি। মাসুদ সাঈদী জানান, তিনি নিজেও পিতার ন্যায়নীতির পদাঙ্ক অনুসরণ করে সৎভাবে জীবনযাপন করছেন।

মাসুদ সাঈদী নির্বাচনী প্রচারণায় বলেন, চন্ডিপুর, সন্ন্যাসী ও কলারন খেয়া ঘাটে রাস্তা ও অবকাঠামোর বেহাল দশা চোখে পড়ে। এ এলাকায় কাঁচা ও নিম্নমানের রাস্তা এখনও রয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন, জনগণ তাঁকে দাঁড়ি-পাল্লায় ভোট দিলে পিতার অসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হবেন।

চন্ডিপুর ইউনিয়নে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ইন্দুরকানী উপজেলা জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি তৌহিদুর রহমান রাতুল, চন্ডিপুর ইউনিয়ন জামায়াতে আমির মাওলানা সরোয়ার হোসেন মোল্লা, উপজেলা ছাত্রশিবির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম, সেক্রেটারি কে. এম. রাহাতুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বাউফলে এসআইয়ের বিরুদ্ধে শিশু শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ

পটুয়াখালীর বাউফলে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শিশু শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে আহত শিশুটি বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। ভুক্তভোগী হামিম (১০) উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের ছয়হিস্যা গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

স্থানীয় সূত্র জানায়, খেলার ছলে হামিম মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিল। এসময় বাউফল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদুর রহমান তার কাছ থেকে মোবাইলটি কেড়ে নেন এবং কানে একাধিকবার চড় মারেন। এতে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে।

শিশুর বাবা কবির মোল্লা জানান, “পুলিশের ভয়ে আমরা বিষয়টি প্রথমে গোপন রাখি। তবে শনিবার রাতে ছেলের প্রচণ্ড কান ব্যথা শুরু হলে হাসপাতালে নিয়ে আসতে বাধ্য হই।”

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, মারধরের পর এসআই শিশুটিকে পুলিশের গাড়িতে তুলতে চাইলে স্থানীয়রা বাধা দেন। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই মাসুদুর রহমান বলেন, “জমাজমি সংক্রান্ত একটি ঘটনায় সেখানে গিয়েছিলাম। তখন শিশুটি আমাদের ভিডিও করছিল। আমি কেবল ফোনটি নিয়েছি, মারধরের অভিযোগ সঠিক নয়।”

তবে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকতারুজ্জামান সরকার সাংবাদিকদের জানান, “ঘটনার বিষয়ে এসআই মাসুদুর রহমানের সঙ্গে কথা হয়েছে। সে স্বীকার করেছে, শিশুটির মাথা ধরে মোবাইল ফোন নিয়েছে।”

বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নুরজাহান বলেন, “শিশুটির কানে আঘাতজনিত ব্যথা রয়েছে। তাকে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।”

ঘটনাটি প্রকাশিত হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হলেও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম