বরিশালে মৌসুমের তাপদাহে দিনমজুর শ্রমিকরা ক্লান্ত

বরিশাল অফিস : মৃদু তাপদাহ বিরাজ করছে বরিশালে। শনিবার বরিশালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ ৩৯.০ ডিগ্রিী সেলসিয়াস। তীব্র তাপদাহে অতীষ্ট প্রাণীকূল।

বিশেষ করে দৈনিক খেটে খাওয়া দিনমজুররা পড়েছেন বিপাকে। আগামী এক সপ্তাহ এই অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন তারা।

গত কয়েকদিনের তাপপ্রবাহে বরিশালের জনজীবন বিপন্ন। দিনের বেলা সূর্যের তাপে অতীষ্ট প্রানীকূল। অতি প্রয়োজন ছাড়া প্রখর রোদ মাথায় নিয়ে ঘরের বাইরে বের হতে চান না সাধারণ মানুষ। পেটের দায়ে কাজে নেমে হাঁসফাঁস অবস্থা দিনমজুরদের।


রিক্সাচালক আবুল হোসেন বলেন, রদ্দুরে গাড়ি চালাইতে পারতে আছি না। ২০-৩০ টাহার ভাড়া খাইট্টা ছাওয়ায় (ছায়া) বইয়া থাহি কি করমু।

কাঠুরে লোকমান মিয়া বলেন, গরমে কাজকাম করতে পারি না। ৬টা কোপ দেলে হেরপর থাহালাগে বইয়া। আগে মাল কাটতাম (লাকড়ি) ১০ থেকে ১৫ মণ। এহন ৫-৬ মনের বেশী কাটতে পারেন না।

বৃদ্ধ রহম আলী বলেন, বাইরে নামলে ছাতি মাথায় দিয়া হাটি। গাছতলায় গাছতলায় থাহি। গরমে টেকতে পারি না। মনে হয় জানডা বাইরাইয়া গেলো।

অপরদিকে নগরীর মুক্তিযোদ্ধা পার্ক সংলগ্ম কির্তনখোলা নদীতে দুরান্ত শিশুরা সহ বৃদ্ধরা নদীতে নেমে ঞন্টার পর ঘন্টা সময় ধরে গোসলের নামে শরীরটাকে শিতল করার চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

এছাড়া পার্কে যারা একটু শিতল হতে এসেছে তারাও বেঞ্চে বসে সময় পাড় করছে আবার কেহ কেহ ঘুমিয়ে শরীররকে শিতল করছে। এদিকে একটি বেসরকারী সংগঠনের পক্ষ থেকে নগরের পথচারীদের মাঝে স্যালাইনযুক্ত ঠান্ডা পানি সরবরাহের মাধ্যমে সেবা দিয়ে যাচ্ছে।


বরিশাল আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক মো.মাযহারুল ইসলাম জানান, গত বছরের চেয়ে এবার অন্তত ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা বেড়েছে। বর্তমানে মৃদু তাপ প্রবাহ চলছে। শনিবার বরিশালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ৩৯.০ ডিগ্রী সেলসিয়াস। যা
চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড। আজ কিছুটা তাপমাত্রা কমে এসেছে রবিবার বেলা তিনটা পর্যন্ত ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়ার্স অব্যাহত রয়েছে। যা আগামী এক সপ্তাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন তিনি।

 




ইয়াবা সেবনে বাধা: বৃদ্ধাকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার ২

বরিশাল অফিস :: বরিশালের বাকেরগঞ্জে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় বৃদ্ধা রিজিয়া বেগমকে (৬০) ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২০ এপ্রিল) দিবাগত রাতে বাকেরগঞ্জের মধ্যকাটাদিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

রোববার (২১ এপ্রিল) জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার ওয়াহিদুল ইসলাম।

গ্রেফতার যুবকরা হলেন— বাকেরগঞ্জের মধ্যকাটাদিয়া গ্রামের মৃত আইউব আলীর ছেলে মো. ফয়সাল (৩৫) ও একই এলাকার মৃত কালাম হাওলাদার কালুর ছেলে লালচাঁন (৩২)।

পুলিশ জানায়, অন্তত ৭ মাস আগে অভিযুক্তরা গলায় কাপড় পেঁচিয়ে হত্যা করে বৃদ্ধার বসতঘরে লাশ মাটি চাপা দিয়ে রাখে। বৃদ্ধার একমাত্র ছেলে রাসেল গাজী চাকরির সুবাদে স্ত্রী নিয়ে ঢাকায় থাকার সুবাদে ৬ মাস আগে সবশেষ মায়ের সঙ্গে কথা হয় বলে জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলন পুলিশ সুপার ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়নের মধ্য কাটাদিয়া গ্রামের মৃত জয়নাল গাজীর স্ত্রী রিজিয়া একাই বসবাস করতেন। প্রায় সাত মাস পূর্বে নিখোঁজ হন রিজিয়া বেগম। গত ১৩ এপ্রিল রাতে বৃদ্ধার ছেলে ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আসলে ঘরের ভিতরে কবর সাদৃশ্য মাটির স্তূপ দেখে পুলিশে খবর দেয়। এরপর আদালতের নির্দেশে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ বরিশাল শেরে বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় ১৩ এপ্রিল রিজিয়ার ভাই হাওলাদার মাসুদ অজ্ঞাত আসামি করে বাকেরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার সূত্র ধরে তদন্তে নামে বরিশাল জেলা পুলিশ।

পুলিশ সুপার ওয়াহিদু ইসলাম আরও বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার করে এ ঘটনায় জড়িত দু’জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতার দুই যুবক বৃদ্ধার বসতঘরের পাশেই ইয়াবা সেবন করতো। ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় ঘটনার দিন অর্থাৎ প্রায় সাত মাস আগে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটায় ফয়সাল ও লালচাঁন। এরপর বৃদ্ধার ঘরেই মাটি খুঁড়ে লাশ চাপা দেয় তারা। গ্রেফতার দু’জনই মাদকসেবী। তাদের আদালতের মাধ্যমে রোববার কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।

এ বিষয়ে নিহতের ছেলে রাসেল গাজী জানান, আমি ও আমার স্ত্রী চাকরির জন্য ঢাকাতে থাকি। সর্বশেষ ছয় মাস আমার মায়ের সঙ্গে কথা হয়। এরপর আর আমাদের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না। এবার রোজার ঈদে বাড়িতে এসে দেখি মায়ের বসতঘর তালাবদ্ধ। তারপর ঘরের একাংশ ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে দেখি মেঝেতে একটি অংশ লেপ ও কাঠের গুঁড়ির কিছু অংশ দিয়ে ঢেকে রাখা। এতে আমার সন্দেহ হলে তা সরিয়ে কবর সাদৃশ্য কিছু দেখতে পাই। পরে আমরা মাটি খুঁড়ে আমার মায়ের লাশের সন্ধান পাই।

 




৫৬ ডিগ্রি পর্যন্ত তাপমাত্রা বিশ্বের যে স্থানে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  তীব্র গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ। দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এখন পর্যন্ত ৪২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস যশোরে ছিল ২০ এপ্রিল। আবহাওয়া অফিস জানাচ্ছে এই তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলেও অনুভূত হচ্ছে ৪০ এর উপরে। নানা ভাবে মানুষ গরম থেকে নিজেদের রক্ষা করার চেষ্টা করছে।

তবে জানেন কি, বিশ্বের এমন কিছু স্থান রয়েছে যেখানে তাপমাত্রা ৫৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ১২৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছে যায়? আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এ সবই গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের জন্য হচ্ছে। কিন্তু বিশ্বের উষ্ণতম স্থানগুলোর কথা ভাবলে এই গরম কিছুই নয়। আসুন এমনই কয়েকটি জায়গার কথা জেনে নেওয়া যাক-

ফার্নেস ক্রিক, ডেথ ভ্যালি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
নামেই ফার্নেস। এখানে এলে যে ভাজাপোড়া হতে হবে বোঝাই যাচ্ছে। যাইহোক, অনেকে এই অঞ্চলকে ডেথ ভ্যালি বা মৃত্যু উপত্যকাও বলেন। ১৯১৩ সালের হিসেব অনুযায়ী এখানকার তাওমাত্রা ৫৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ১৩৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট। হাড় কাঁপানো শুষ্ক বাতাস ফার্নেস ক্রিকের বৈশিষ্ট।

ডাল্লোল, ইথিওপিয়া
শুধু গরম নয়, ডাল্লোল এক অন্য জগত। লবণাক্ত ভূমি এবং সালফিউরিক হট স্প্রিংস এখানকার বৈশিষ্ট। ডালোল জনবসতিপূর্ণ স্থান।

কেবিলি তিউনিশিয়া
সাহারা মরুভূমিতে অবস্থিত কেবিলি জ্বলন্ত তাপমাত্রা এবং খেজুর গাছের জন্য বিখ্যাত। এখানকার গড় তাপমাত্রা ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ১৩১ ডিগ্রি ফারেনহাইটকেও ছাড়িয়ে যায়।

লুট মরুভূমি ও আহভাজ, ইরান
বিশাল লুট মরুভূমির সর্বকালের উষ্ণ তাপমাত্রার রেকর্ড রয়েছে। এর ডাকনাম ‘দশত-ই-লুট’। এছাড়া দক্ষিণ পশ্চিম ইরানের প্রধান শহর আহভাজ। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং চিরন্তন চেতনার ধারা বহমান। সাধারণ তাপমাত্রা ৫৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়।

তুর্বাত, পাকিস্তান
বেলুচিস্তানের একটি জায়গার নাম তুর্বাত। গ্রীষ্মকালে ৫৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১২৮.৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট) তাপমাত্রা থাকে। তবে তীব্র গরমেও দিব্যি কাটান এখানকার বাসিন্দারা।

মিত্রিবাহ, কুয়েত
এই প্রত্যন্ত অঞ্চলেই এশিয়ার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ২০১৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, এখানকার গড় তাপমাত্রা ৫৩.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ১২৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট।

তিরাত তজভি, ইজরায়েল
জর্ডন উপত্যকায় অবস্থিত এই অঞ্চলের তাপমাত্রা গ্রীষ্মকালে ৫৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১২৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট) ছাড়িয়ে যায়। আশ্চর্যের বিষয় হল, তিরাত তজভি কৃষি প্রধান অঞ্চল। চরম তাপমাত্রাতেও দিব্যি ফসল ফলান এখানকার কৃষকরা।

মেক্সিকালি, মেক্সিকো
সোনোরান মরুভূমিতে অবস্থিত মেক্সিকালির বাসিন্দারা ৫২ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১২৫.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট) তাপমাত্রায় সহ্য করেন। মেক্সিকান সংস্কৃতি এবং মরুভূমির জন্য পর্যটকদের প্রিয় এই শহর।

আল জাজিরা বর্ডার গেট, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি
এটা ছোট ফাঁড়ি। সীমান্ত পারাপার করেন মানুষ। ২০২২ সালের হিসাব অনুযায়ী এখানকার গড় তাপমাত্রা ৫২.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ১২৫.৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট।

সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট




ইসরায়েলি সেনা ইউনিটের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র




ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ৩০

বরিশাল  অফিস :: মাদারীপুরে জেলার রাজৈরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যাত্রীবাহী দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন উভয় বাসের অন্তত ৩০ জন যাত্রী।

রোববার (২১ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে রাজৈর উপজেলার আলমদস্তা বড় ব্রিজ এলাকার মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, বরিশাল থেকে ছেড়ে আসা হানিফ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস রাজধানীর ঢাকার দিকে যাচ্ছিল।

বাসটি রাজৈর উপজেলার আলমদস্তা বড় ব্রিজ এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা বরিশালগামী কাজী পরিবহনের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় বাসের কমপেক্ষ ৩০ জন যাত্রী আহত হন।

পরে স্থানীয় লোকজন আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। মুখোমুখি সংঘর্ষে বাস দুটির চালক আটকা পড়ে।
পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
প্রত্যক্ষদর্শী টুটুল বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তি বলেন, দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের পরে বাস দুটির চালক ভেতরে আটকা পড়ে যায়। পরে বাসের সামনের অংশ কেটে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা।

আহত এক যাত্রী মারুফ হাসান বলেন, কাজী পরিবহনের যাত্রী আমি। ভুরঘাটা নামার কথা ছিল আমার। বাসটি ভালোই চলছিল। আমি মাঝামাঝি সিটে বসা। হঠাৎ সামনে থেকে হানিফ পরিবহনের বাসটি এসে গাড়ির সামনে লাগিয়ে দিলো। পরে বিকট শব্দ আর ঝাঁকিতে বাসে থাকা সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়ে। আমি সিট থেকে পড়ে গেয়েছিলাম। অল্পের মধ্যে বেঁচে গেছি।

রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান হাওলাদার বলেন, দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে বেশি কিছু যাত্রী আহত হয়েছেন। তবে নিহতের খবর পাওয়া যায়নি। বাস দুটির চালক ভেতরে আটকা পড়েছিল। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় আমরা তাদের উদ্ধার করি।

দুর্ঘটনার পরে মহাসড়কের উভয়পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরেই পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করলে ফের যান চলাচল শুরু হয় জানান ওসি।




দাবদাহ : এবার ইংরেজি মাধ্যম স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ




হিটস্ট্রোক থেকে বাঁচতে যা করবেন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  গত কয়েক দিন ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এতে রীতিমতো বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। রাজধানী ঢাকায় ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। আগামী দিনে এই তাপপ্রবাহ আরও বাড়বে বলে সতর্ক করে দিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর। অসহনীয় এই গরমে ঘরে-বাইরের কাজ সামলে সুস্থ থাকাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকে। এ সময় সবচেয়ে বেশি ভয় হিটস্ট্রোক বা সানস্ট্রোকের। তবে হিটস্ট্রোক হওয়ার আগে পূর্বাভাস পাওয়া যায়। সর্তক হতে হয় সে সময়েই।



বাউফলে চিঠি লিখে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলে বিষপানে মোসা. মৌসুমী আক্তার (১৭) নামে এক শিক্ষার্থী বিষপান করে আত্মহত্যা করেছে। শনিবার সকাল ৯টার দিকে কনকদিয়া ইউনিয়নের আমিরাবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মৌসুমী ওই গ্রামের মো. নিজাম উদ্দিন গাজীর মেয়ে এবং কনকদিয়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনির ছাত্রী ছিলেন।

জানা গেছে, শনিবার সকালে মৌসুমীর মা-বাবা দু’জনই মুগডাল তুলতে বাড়ির পাশে ক্ষেতে গিয়েছিলেন। এই সুযোগে মেয়ে মৌসুমী বিষপান করে। পরে মুমূর্ষ অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আরো পড়ুন : মামলা থেকে বাঁচতে নবজাতক রেখে চলে আসি – সানজিদা

মৃত্যুর আগে মৌসুমী একটি চিঠি লিখে রেখে গিয়েছেন। প্রেম সংক্রান্ত কারণে মৌসুমী বিষপান করে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা।

মৌসুমীর ফুফু মোসা. পিয়ারা বেগম জানান, আত্মহত্যার পূর্বে মৌসুমী একটি চিঠি রেখে গেছে। তাতে কি লেখা রয়েছে আমরা জানিনা। চিঠিটি পড়ার আগেই পুলিশ আমাদের কাছ থেকে নিয়ে গেছেন।

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. আতিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করে পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ সময় একটি চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে। ওই চিঠিতে কি লেখা রয়েছে তা তদন্তের স্বার্থে এই মুহুর্তে বলা যাচ্ছে না। তবে প্রেম-ভালবাসা জনিত কারণে মৌসুমী আত্মহত্যা করে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।




মামলা থেকে বাঁচতে নবজাতক রেখে চলে আসি – সানজিদা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: দুমকিতে ‘সন্তান ভূমিষ্ঠের ৫ ঘণ্টা পরই নবজাতককে হাসপাতালে রেখে মায়ের পলায়ন’ শীর্ষক সংবাদের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সানজিদা আক্তার পপি নামে এক গৃহবধূ।

শনিবার সকালে দুমকি প্রেস ক্লাবের হলরুমে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।  এতে উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোজাম্মেল হাওলাদারের মেয়ে গৃহবধূ সানজিদা আক্তার পপি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, হাসপাতাল থেকে সন্তান রেখে আমি পালিয়ে আসিনি বরং কোনো উপায় খুঁজে না পেয়ে মার্ডার কেস থেকে রেহাই পেতে আমার ননদের কাছে নবজাতককে বুঝিয়ে দিয়ে আমি বাড়ি চলে আসি। যদি ওই অসুস্থ সন্তান আমার কাছে রাখি এবং পরবর্তীতে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে তাহলে আমার স্বামী আমার পরিবারসহ সবাইকে সন্তান হত্যা মামলা দেবে। তাই আমি বাধ্য হয়ে সন্তান রেখে চলে আসি।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা

পপি আক্তার আরও বলেন, পারিবারিকভাবে দুবছর আগে একই উপজেলার দুমকি সাতানী গ্রামের আ. রব হাওলাদারের ছেলে আল আমীনের (৩০) সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের পরপরই স্বামী আল আমীন তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু সোহেলের বোনের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়ায়। এ নিয়ে শুরু থেকেই আমাদের মধ্যে তীব্র দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে প্রতিনিয়ত আমার ওপর আল আমীন শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। এনিয়ে বেশ কয়েকবার থানা পুলিশসহ সালিশ বৈঠকও হয়েছে। তাতে আমার ওপর নির্যাতন কমেনি। আমার গর্ভে সন্তান আসলে স্বামী টের পেয়ে একাধিকবার নষ্ট করার চেষ্টা করে। তাই আমি বাপের বাড়ি চলে আসি। যখন আমি আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা তখন আল আমীন নেওয়ার কথা বলে দুমকি বাজারে আমার পেটে একাধিকবার লাথি কিল-ঘুসি মারে- যাতে আমার সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে আমার বাবা-মা আমাকে দুমকি হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার পটুয়াখালী রেফার করেন। সেখানে নরমাল ডেলিভারিতে আমার কন্যা সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। পরবর্তীতে হাসপাতাল থেকে আমাকে ছাড়পত্র দিলে আমি অসুস্থ বাচ্চা আমার ননদের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে বাড়ি চলে আসি।

অভিযোগের বিষয়ে আল আমীন বলেন, সব মিথ্যা।  উলটো সানজিদা ও তার পরিবার আমার সন্তান নষ্ট করতে চেয়েছে।  না পেরে রাগে ক্ষোভে ৫ ঘণ্টার মাথায় হাসপাতালে সন্তান রেখে পালিয়ে যায় সানজিদা। আমার বন্ধু সোহেলের বোনের সঙ্গে পরকীয়ার বিষয়টি একদম ভিত্তিহীন। আমার সম্মানহানি করার উদ্দেশ্যে এগুলো বলে বেড়াচ্ছে।




প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ফল প্রকাশ, পাস ২৩ হাজার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে তৃতীয় ধাপে ঢাকা-চট্টগ্রাম বিভাগের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২৩ হাজার ৫৭ জন প্রার্থী।

রোববার (২১ এপ্রিল) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান তুহিনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।