মৌসুমের শেষ দিকে ইলিশের দাম আবারও চড়লো

মৌসুমের শেষ প্রান্তে এসে আবারও বাড়ল ইলিশের দাম। বরিশাল ও পাথরঘাটার মোকামগুলোতে পাইকারি ও খুচরা বাজারে এক কেজি ইলিশের দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। এর প্রধান কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা উল্লেখ করছেন ভারতে ইলিশ রপ্তানি এবং বাজারে সরবরাহ ঘাটতি।
গতকাল (১৭ সেপ্টেম্বর) বরিশাল নগরীর পোর্ট রোড মোকামে দেখা গেছে, ৬০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের ইলিশ প্রায় পুরোপুরি কিনে নিচ্ছেন রপ্তানিকারকরা। ফলে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ হচ্ছে মূলত ৫০০ গ্রামের নিচে ছোট আকারের ইলিশ। ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি পাইকারি দর দাঁড়িয়েছে প্রায় ২,০০০ টাকা। এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ২,২৫০ টাকায়। অন্যদিকে ছোট ইলিশ (প্রায় তিনটিতে এক কেজি) পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ১,০৫০ টাকা এবং চারটিতে এক কেজি আকারের ইলিশ মিলছে ৭৫০ টাকায়। খুচরা বাজারে এসবের দাম আরও ১০০-১৫০ টাকা বেশি।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, রপ্তানির অনুমোদন পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো তিন-চার দিন ধরেই ইলিশ মজুত শুরু করেছে। বরিশাল মোকামে মাহিমা এন্টারপ্রাইজ, নাহিয়ান এন্টারপ্রাইজ, তানিসা এন্টারপ্রাইজ ও এ আর এন্টারপ্রাইজ রপ্তানি অনুমতি পেয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও প্রতিনিধিরা ইলিশ কিনে রাখছেন। ফলে বাজারে সংকট আরও প্রকট হচ্ছে।
অন্যদিকে দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ মাছের মোকাম বরগুনার পাথরঘাটায় পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। এখানে গত দুদিনের তুলনায় প্রতিমণ ইলিশের দাম প্রায় ১০ হাজার টাকা কমেছে। কারণ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা একজোট হয়ে দাম নিয়ন্ত্রণ করছেন। তবে বাজারে ইলিশের সরবরাহ অত্যন্ত সীমিত।
পাবনার সেভেন স্টার ফিশ প্রসেসিং করপোরেশনের প্রতিনিধি কামাল হোসেন স্বীকার করেছেন, আগেভাগেই তারা প্রায় পাঁচ টন ইলিশ কিনে মজুত করেছেন। এর একটি বড় অংশ ইতোমধ্যেই বেনাপোলে পৌঁছেছে এবং রপ্তানির অপেক্ষায় রয়েছে।
মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় সিনিয়র সহকারী পরিচালক জহিরুল ইসলাম আকন্দ জানান, এ বছর ইলিশ আহরণ স্বাভাবিকের তুলনায় কম হয়েছে। সেই কারণেই মৌসুমের শুরু থেকেই দাম অস্বাভাবিক ছিল। তিনি আরও জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও মা ইলিশের প্রজনন নিরাপদ রাখতে আশ্বিন মাসে অমাবস্যা ও পূর্ণিমার মাঝামাঝি ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি হবে। সে হিসাবে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই ইলিশ ধরার মৌসুম শেষ হয়ে যাবে।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫








