নোয়াখালীর চৌমুহনীর মসজিদ মার্কেটে আগুন, অর্ধশত দোকান ক্ষতিগ্রস্ত

বরিশাল অফিস:: নোয়াখালীর বৃহত্তর বাণিজ্যকেন্দ্র চৌমুহনীর বাদামতলা রোডের মসজিদ মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে প্রায় অর্ধশত দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিট কাজ করেছে।

রোববার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়।

আগুনে ওই মার্কেটের কাপড়, স্বর্ণ, কসমেটিক্স, কুটির শিল্প ও সুতার দোকান পুড়ে গেছে। তবে আগুনের উৎস এবং কয়টি দোকান পুড়েছে তা জানা যায়নি।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে হঠাৎ মসজিদ মার্কেটের ভিতর থেকে প্রথমে ধোঁয়া দেখতে পান তারা। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে ব্যবসায়ীরা মালামাল সরানোর এবং আশপাশ থেকে পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে চৌমুহনী ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে প্রথমে একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে আসে, পরে আগুনের ভয়াবহতা দেখে মাইজদী, সোনাইমুড়ি, সেনবাগ ও ফেনী জেলার দাগনভূঞা ফায়ার স্টেশন থেকে ৭টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। পাশাপাশি বেগমগঞ্জ থানার পুলিশ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। প্রায় ৩ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

নোয়াখালী জেলা ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. ফরিদ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ৫টি ফায়ার স্টেশনের ৭টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে। প্রায় ৩ ঘন্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে কি কি দোকান ও কয়টি দোকান পুড়েছে এবং কিভাবে আগুনের সূত্রপাত তা এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।




পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালে একসঙ্গে ভিড়বে তিন জাহাজ

বরিশাল অফিস::পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনাল চালু হতে যাচ্ছে আগামী জুনে। এটি চালু হলে, একসঙ্গে ভিড়তে পারবে তিনটি জাহাজ। বন্দরের প্রথম টার্মিনাল চালুর পরই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে বন্দরটির বাণিজ্যিক যাত্রা। ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের সঙ্গে পায়রা বন্দরের সরাসরি সংযোগ স্থাপনে চলছে আন্দারমানিক সেতুর নির্মাণ কাজও।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নে ২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর পায়রা বন্দরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়। এর তিন বছর পর ২০১৬ সালের ১৩ই আগস্ট সমুদ্র বন্দরটিতে প্রথমবার কন্টেইনার জাহাজ খালাসের মাধ্যমে শুরু হয় বন্দরের কার্যক্রম।

প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এ বন্দরে মোট ৬টি জেটি থাকবে, যার মধ্যে ৬০০ মিটার প্রথম জেটির কাজ প্রায় শেষের পথে। এ বছরের মাঝামাঝিতে জেটিটি চালু হলে ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের তিনটি জাহাজ একসঙ্গে ল্যান্ডিং করতে পারবে। বন্দর কার্যক্রম সহজ করতে আন্দার মানিক নদীর উপর ১ হাজার ১২০ মিটার দীর্ঘ সেতুও নির্মাণ করা হচ্ছে।

পায়রা বন্দরের সহকারী প্রকৌশলী মোহাইমিনুল হক চৌধুরী বলেন, অন্য দুটো পোর্টে তেমন একটা জায়গা না থাকার কারণে তারা এক্সটেন্ড করতে পারছে না। কিন্তু আমাদের এখানে যথেষ্ট জায়গা আছে। যখনই আমাদের চাহিদা আসবে, আমরা বন্দর এক্সটেন্ড করতে পারবো। এছাড়া আরেকটি বড় বিষয় হলো, আমাদের যে চ্যানেলটা আছে, এটা সোজা চ্যানেল। এখানে দৈর্ঘ্যের কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। যেকোনো দৈর্ঘ্যের জাহাজই এখানে আসতে পারবে।

৫০ বছরের পরিকল্পনাকে সামনে রেখে বন্দরটি আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পায়রা বন্দরের প্রকৌশল ও উন্নয়ন বিভাগের সদস্য কমডোর রাজিব ত্রিপুরা বলেন, এটা অন্যান্য পোর্টগুলোর তুলনায় অনেক বেশি আধুনিক হিসেবে এবং আমাদের যে জাতীয় চাহিদা সেটির সঙ্গে মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ব্যবসা বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

বন্দর চেয়ারম্যান রিয়াল এডমিরাল আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী বলেন, প্রযুক্তির মাধ্যমে জাহাজ ল্যান্ডিংসহ সব সুবিধা থাকছে বলেই এটি হচ্ছে দেশের একমাত্র স্মার্ট সমুদ্র বন্দর।

তিনি বলেন, যারা শিপ হ্যান্ডলার, যারা জাহাজ মালিক তারা এই পোর্টের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে যদি সংশ্লিষ্ট হয় এবং তারা যদি এগিয়ে আসেন তাহলে এই পোর্টের কর্মক্ষমতা ও রেভিন্যু আর্নিং অনেক বেশি আসবে।

এরই মধ্যে এই বন্দরে ৪০০টিরও বেশি বিদেশি জাহাজসহ মোট আড়াই হাজার জাহাজ ভিড়েছে। গত ৩ বছরে রাজস্ব আয় প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা।




বেতাগীতে নারীসহ ৩ জনকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ

বরিশাল অফিস:: বরগুনা জেলার বেতাগী করুনা গ্রামে জমি দখলের জের ধরে একই পরিবারের ৩ জনকে হত্যার চেষ্টায় এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে প্রতিপক্ষরা। এসময় ঘর ভাঙচুর নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয় তারা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) বেলা ১১ টায় করুনা গ্রামের আকন বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা হলো ওই গ্রামের বাসিন্দা সুলতান আকন তার স্ত্রী তানিয়া আক্তার ও সমন্ধি রিপন আকন। বর্তমানে তারা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে

আহত সুলতান বলেন, তার ৩০ শতাংশ জমি পার্শ্ববর্তী তৌহিদ ও তার সহযোগী সেন্টু, নান্টু,নিজাম, মিরাজ, শামীম,নুরুল হক, নুরজাহান,শাহনাজ, ও রিনা সহ কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে দখলের পায়েতারা করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার সকালে তারা জোরপূর্বক সুলতানের জমির কয়েকটি গাছ কেটে নেয়। এ সময় তানিয়া কে ঘরে একা পেয়ে তৌহিদসহ অন্যন্যরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র ও লাঠি সোটা দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে। তার ডাক চিৎকার শুনে সুলতান ও রিপন ঘটনাস্তলে গেলে তাদেরকেও কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে।

পরে স্থানীয়রা আহতদের কে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানের চিকিৎসকরা তাদেরকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে আহতদের স্বজনরা জানান।

অনলাইন ডেস্ক :–




উজিরপুরে মাদক বিক্রিতে বাধা দেয়ায় নারী সহ ৯ জনকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ

বরিশাল অফিস::  উজিরপুর উপজেলার হারতা ইউনিয়নে মাদক ব্যবসায় বাধা দেয়ায় ৩ দফা হামলা চালিয়ে নারীসহ একই পরিবারের ৯ জনকে হত্যার চেষ্টায় এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে মাদক ব্যবসায়ীরা।

শনিবার (২০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯ টায় জামির বাড়ি গ্রামের ভজনের খালের পার ও বিপুলের দোকানের সামনে সহ ৩ দফায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা হলো,সুনীল দেওরি, অসীম দেয়রি,শুবোধ দেওরি, অনিল দেওরি, কমল দেওরি, নান্টু হালদার,শোফালি মন্ডল, মানব দেওরি ও তাপস দেওরি। আহতদের মধ্যে সুনীল, অসীম, সুবোধ, অনিল, ও কমলিনি শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি।

আহত সুনীল জানান, ঘটনার দিন শনিবার সকালে স্থানীয় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী দেব বিশ্বাস,সজীব বিশ্বাস, নিখিল বালা,নিঝুম বালা,স্বজল বিশ্বাস,লিটন বাড়ৈ,সুভাষ পার, সবুজ বৈরাগী,শৈশব বিশ্বাস, সুরেশ পার, ও সন্দেশ বিশ্বাস সহ অজ্ঞাত আরো কয়েকজন মাদক ব‍্যাবসায়ী কলা গাছের ভেতরে ইয়াবা,গাঁজা ও হিরোইন সহ বিভিন্ন রকমের মাদক রেখে বিক্রি ও সেবন করে।

এ সময় সুনীল বাধা প্রদান করে। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে দেব সহ অন্যান্যরা ভজনের খালের পাশে তাকে বেধড়ক মারধর করে। পরে সে সেখান থেকে বিপুলের দোকানের সামনে গেলে সেখানে তারা সুনীলকে হত্যার উদ্দেশ্যে রামদা এবং চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। তার ডাক চিৎকার শুনে অসীম, সুবোধ, অনিল,কমোলিনি,নান্টু, শেফালী,মানব,ও তাপস ঘটনাস্থলে গেলে তাদেরকেও কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে।

পরে তৃতীয়বার তাদের ওপর হামলা চালায়। পরে স্থানীয়রা আহতদের মধ্যে সুনীল, অসীম, সুবোধ, অনিল ও কমলিনিকে উজিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানের চিকিৎসকরা তাদের অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।

তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, তাদের অত্যাচারে গ্রামবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে আহতদের স্বজনরা জানান।

অনলাইন ডেস্ক:–




ভোলায় ইডেনের ছাত্রীর ৫ দিন ধরে অনশন,পালিয়েছে প্রেমিক

বরিশাল অফিস:: ভোলার চরফ্যাশনে মিজানুর রহমান তৈয়ব নামের এক প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে ৫ দিন যাবত অনশন করছেন ঢাকা মিরপুর-১০ থেকে আসা ইডেন কলেজের এক ছাত্রী। প্রেমিকার উপস্থিতি টের পেয়ে পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়েছে প্রেমিক।

জানা যায়, প্রেমিক মিজানুর রহমান তৈয়ব উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়ন ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোজাম্মেল হাওলাদারের ছেলে। তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনা শেষ করে চাকরির জন্য ঢাকায় থাকতেন। চাকরির এক পরীক্ষার হলে এই তরুণীর সঙ্গে পরিচয় হয় মিজানের। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক।

দীর্ঘদিন যাবত প্রেম ও পরে প্রেমিকাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করেন মিজান। তিন মাস পূর্বে তিতাস গ্যাস কোম্পানিতে চাকরি হয় তার। চাকরির পর থেকে ভুক্তভোগী তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিন্ন করে তার মোবাইল নম্বর, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জার ব্লক করে দেয়। কোনোভাবে যোগাযোগ করতে না পেরে তরুণী গত ১৭ এপ্রিল প্রেমিকের বাড়িতে এসে অনশন শুরু করেন।

ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, আমি অনার্স-মাস্টার্স পাশ করে ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি করছি। মিজানের চাকরির পূর্বে তার প্রতি মাসের খরচ আমার থেকে নিয়েছে। আমি ওকে বিশ্বাস করে নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে ভালো রাখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় মিজান আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। আমাদের সম্পর্ক অস্বীকার করছে।

তরুণী আরও বলেন, আমি বিয়ের দাবিতে মিজানের বাড়িতে এসেছি। আমাদের বিয়ে না হলে আমি লাশ হয়ে এই বাড়ি থেকে যাব। মিজানের বাবা ও বড়ভাই বলেন, আমরা মেয়েকে নিরাপদে আমাদের বাসায় রেখেছি। মিজান পালিয়ে আছে। তার সব মোবাইল নম্বর বন্ধ করে রেখেছে। আশা করি অল্প সময়ের মধ্যে তাকে এনে বিয়ের ব্যবস্থা করা হবে।

ওমরপুর ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে আমি খবর পেয়ে সেই বাড়িতে গিয়েছি। মেয়ে ও ছেলের পরিবারের বক্তব্য শুনেছি। মিজানকে এনে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করতে তার পরিবারকে কঠোরভাবে বলা হয়েছে।

চরফ্যাশন থাকান ওসি সাখাওয়াত হোসেন জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নওরিন হক বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দিয়েছেন। চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম অনশনকারী তরুণীকে মিজানের বাবার জিম্মায় রেখেছেন।




শিক্ষক নিয়োগের ফলে ত্রুটি, সংশোধিত ফল রাত ১২টার পর




শিক্ষিকার সঙ্গে পরকীয়া, সেই শিক্ষক স্ট্যান্ড রিলিজ

বরিশাল অফিস :: গত ১৯ এপ্রিল শুক্রবার ‘মঠবাড়িয়ায় দুই শিক্ষকের অপসারণ দাবি’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর বিতর্কিত সেই শিক্ষক মো. মাইনুল ইসলামকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। এক শিক্ষিকার সঙ্গে তার পরকীয়ার সম্পর্ক রয়েছে। সম্প্রতি তারা বিয়েও করেছেন বলে জানা গেছে। তবে সহকারী শিক্ষিকা স্বপদে বহাল রয়েছেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মু. সাঈদুর রহমান স্বপন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মাইনুল ইসলামকে ৫২নং মধ্য মিঠাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। শিক্ষিকা তামান্না নুসরাতের বিষয়টিও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

মাইনুল ইসলাম পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার ৫৬নং মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (পাঠশালা) প্রধান শিক্ষক ছিলেন। একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকার সঙ্গে কয়েক বছর ধরে পরকীয়ার পর সম্প্রতি তারা বিয়ে করেছেন।

শিক্ষক মো. মাইনুল ইসলামকে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের হোতা আখ্যা দিয়ে এবং এ দুই শিক্ষকের পরকীয়ার পরে বিয়ের ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে তাদের অপসারণের দাবিতে গত ১৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দুপুরে মঠবাড়িয়া কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার সম্মুখ সড়কে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অভিভাবক ও এলাকাবাসীর আয়োজনে এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার দেড় শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।

এ সময় অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কলামিস্ট নূর হোসাইন মোল্লার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন- অভিভাবক প্রভাষক মো. ফারুক হোসেন, শিক্ষক নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা শাহ আলম দুলাল, অভিভাবক সালমা বেগম, সাংবাদিক মো. শাহজাহান মিয়া প্রমুখ।

এদিকে সহকারী শিক্ষিকা স্বপদে বহাল থাকায় ক্ষোভে ফেটে যাচ্ছেন অভিভাবকরা। এই শিক্ষিকার মোবাইল ফোনটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. মাইনুল ইসলাম জানান, সহকারী শিক্ষিকাকে বৈধ ও আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত আমাকে মেনে নিতেই হবে।




ভোলায় কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ায় স্ত্রীকে তালাক!

বরিশাল অফিস:: ভোলায় বাপ্তা গ্রামে ৯নং ওয়ার্ডে কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ায় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসাশিক্ষক মো. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি নির্যাতন করায় স্বামীর বিচার দাবি করেছেন স্ত্রী উম্মে হাফছা।

ভোলা প্রেস ক্লাবে রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে উম্মে হাফছা তার পিতা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন, মা বিবি মরিয়মের উপস্থিতিতে নির্যাতনের কাহিনী তুলে ধরেন।

উম্মে হাফছার স্বামী মিজানুর রহমান হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক। বাড়ি বাপ্তা কলঘাট এলাকায়।

২০২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পারিবারিক মতে মিজানুর রহমানের সঙ্গে হাফছার বিয়ে হয়। ৯ মাস আগে জন্ম নেয় কন্যাসন্তান মাহেরা রহমান। কন্যাসন্তান জন্ম নেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। শুরু হয় নতুনমাত্রায় নির্যাতন। মাদ্রাসা করার কথা বলে দাবি করেন ২ লাখ টাকা। ৭০ হাজার টাকা নেওয়ার পরও হাফছাকে পাঠিয়ে দেন বাবার বাড়ি। ৯ এপ্রিল ডাকযোগে তালাকনামা পাঠান।

এ বিষয়ে হাফছা বেগম লিগ্যাল এইডে অভিযোগ করলে স্বামী মিজানুর রহমান আর এমন কাজ করবে না বলে অঙ্গীকার করেন; কিন্তু আদালত থেকে বেড় হয়ে ফের আগের ভূমিকা ধারণ করেন বলে জানান হাফছা। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বিপ্লব মোল্লা সালিশি বৈঠক ডাকলে ওই বৈঠক উপস্থিত হন না মিজান।

মিজানুর রহমান অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার স্ত্রী কথা শোনে না।

হাফছার মা বিবি মরিয়ম বেগম জানান, অনেক স্বপ্ন নিয়ে মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলাম। প্রায়ই মেয়ের ওপর নির্যাতন করা হয়। এখন ৯ মাসের শিশু কন্যাকে নিয়ে হাফছা কোথায় যাবে।




কাঁঠালিয়ায় হিট স্টোকে ব্যবসায়ীর মৃত্যু

বরিশাল অফিস :: ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় মো: আফজাল হোসেন তালুকদার (৪০) নামের এক ডেকরেটার ব্যবসায়ী হিট স্টোকে মারা গেছেন।

নিবার (২০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পশ্চিম আউরা গ্রামে তার ইন্তেকাল হয়। স্থানীয় ডা. দিলিপ চন্দ্র হাওলাদার হিট স্টোকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত মো: আফজাল হোসেন তালুকদার পশ্চিম আউরা গ্রামের মৃত্যু মো: আনোয়ার হোসেন তালুকদারের ছেলে। তিনি কাঁঠালিয়া শহরে ডেকরেটার ব্যাবসায়ী ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, মা, দুই ভাই চারবোন রেখে গেছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো: বাদল মাহমুদ বলেন, রোববার (২২ এপ্রিল) সকাল ৯টার সময় নিজ বাড়িতে জানাজা নামাজ শেষে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

আজও কাঁঠালিয়ার উপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। প্রখর রোদে আর ভ্যাপসা গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।




দশমিনায় নদীতে ভেসে আসা যুবকের পরিচয় সনাক্ত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: দশমিনায় তেতুলিয়া নদীর তীরে ভেসে আসা সেই অজ্ঞাত যুবকের পরিচয় জেলার সিআইডি কতৃক ফিঙ্গারপ্রিন্ট এর মাধ্যমে লাশের সানক্ত করা হয়েছে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি দেখে  লাশ  সনাক্ত করেছেন মামা সবুজ হোসেন।

যুবকের নাম আল আমিন (৩৪) তিনি চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর থানার আনন্দবাজার এলাকার জি এম রহমান মঞ্জু ছেলে। মৃত্যু আল আমিন বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা থানার পঞ্চবটি এলাকায় বসবাস করতেন, সে পেশায় একজন ট্রাক ড্রাইভার ছিলেন।

অজ্ঞাত লাশের সনাক্তকারি মামা সবুজ হোসেন জানান, আমি দীর্ঘ ১৫ বছর ঢাকার নারায়নগঞ্জ ফতুল্লা পঞ্চবটি থাকি। আল-আমিন আমার ভাইগনা ওর মা,বাবা, ভাই-বোন কোহই নাই সেই থেকে এখানে আমার সাথে থেকে বিভিন্ন সময় গাড়ি চালাইতো। আমি বিগত ৪-৫ মাস আগে একটি ট্রাক ক্রয় করি( ঢাকা মেট্রো ট -০৫১৩৯), সেই থেকে ভাইগাই ট্রাক চালায়।

আরো পড়ুন : বাউফলে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৮ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল

গত ১৭ এপ্রিল রাতে আমার সাথে কথা হয় ১৩ টন রড নিয়ে বরিশাল যাই। তার পর ১৮ এপ্রিল রাত ১১ টায় কথা হয় বলে আমি বরিশাল কালিশুরি আছি। তার পর আর কথা হয়নি। পরে ফোন বন্ধ পাই অনেক জায়গায় খোজ করে  গতকাল  আামকে একজন লাাশের ছবি দেখায়। আমি দশমিনা নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে যোগাযোগ করি। ২১ এপ্রিল সকালে পটুয়াখালী মর্গে এসে দেখি ওই লাশ আমার ভাইগনা আল-আমিন এর। আমার ভাইগনার সাথে একজন হাসান নামের হেলপার ছিলো ওর বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার হবে। হাসানকে প্রধান আসামি করে দশমিনা থানায় একটি হত্যা মামলা দাখিল করি।

এর আগে দশমিনা উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের পাতারচর গ্রামের তেঁতুলিয়া নদীর তীর থেকে (২০ এপ্রিল) শনিবার সকাল সাড়ে ৭ টায় হাত গামছা দিয়ে বাঁধা অজ্ঞাত ওই যুবকের  লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

দশমিনা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম মজুমদার  জানান, অজ্ঞাত পরিচয়ের লাশের সঠিক পরিচয় পটুয়াখালী সিআইডি টিম ফিঙ্গারপ্রিন্ট এর মাধ্যমে সনাক্ত করা হয়েছে। সোস্যালমিডিয়ার মাধ্যমে দেখে আজ সকালে পটুয়াখালী মর্গে এসে তার মামা মোঃ সবুজ লাশের সনাক্ত করেন। ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে বরিশাল বাকেরগঞ্জ উপজেলার বোয়ালিয়া হাউওয়ে থেকে। আল-আমিনের মামা মোঃ সবুজ বাদী হয়ে দশমিনা থানায় একজনকে আসামি করে একটি হত্যামামলা দায়ের করেন। হেলপার হাসানের পরিচয় সনাক্ত করন ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।