তীব্র দাবদাহে কুয়াকাটায় হোটেল বুকিং বাতিলের হিড়িক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে নাজেহাল জনজীবন। ঘর থেকে বের হতে পারছেন না সাধারণ মানুষ। শুধু তাই নয় পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় আগত পর্যটকরাও বাতিল করছেন অগ্রিম বুকিং দেওয়া হোটেল-রিসোর্টের কক্ষ। আবার কেউ কেউ কুয়াকাটায় দুই-তিন দিন থাকার জন্য এসে গরমের দাপটে ফিরে যাচ্ছেন একদিন থেকেই। এতে কাঙ্ক্ষিত পর্যটক পাচ্ছেন না পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

আবহাওয়া অফিস বলছে আরও একসপ্তাহে অপরিবর্তিত থাকতে পারে বর্তমান অবস্থার।

আরো পড়ুন : গলাচিপা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র দাখিল

কুয়াকাটায় থাকা বেশ কয়েকটি হোটেলের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঈদ পরবর্তী লম্বা একটি সময় কুয়াকাটাতে পর্যটকদের আগমনে সরগরম থাকে। তবে প্রতি বছরের চেয়ে এই ঈদের পরপরই অসংখ্য পর্যটকদের আগমন থাকলেও হঠাৎ পর্যটকে ভাটা পড়ে। অতিরিক্ত দাবদাহের কারণে আগত পর্যটকরা দ্রুত চলে যাচ্ছেন এবং অগ্রিম বুকিং করা পর্যটকরা পরিবারের শিশু বৃদ্ধদের চিন্তা করে বুকিং বাতিল করছে।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদ জানান, প্রতিটি ঈদের পর আমরা প্রথম সপ্তাহ পুরোপুরি বুকিং পাই, দ্বিতীয় সপ্তাহে ৫০-৭০ শতাংশ বুকিং থাকে এভাবে কমপক্ষে ১৫ দিন আমরা পর্যটকদের সরগরমে ব্যস্ত থাকি। তবে এই ঈদের পর ৩ থেকে ৪ দিন ভালো পর্যটক পেলেও হঠাৎ সেই পর্যটকদের অবস্থা ২০-৩০ শতাংশে নেমে এসেছে। বর্তমানে তাপমাত্রার এমন অবস্থা যে আমাদের নিজেদেরই কষ্ট হয়ে যাচ্ছে, সেখানে পর্যটকদের অবস্থা তো আরো খারাপ।

বরিশাল থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক মো. শাহ আলম জানান, আমি তিন সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে কুয়াকাটায় এসেছি। ২-৩ দিন থাকতে চেয়েছি। কিন্তু আজকে একদিন থাকার পর মনে হচ্ছে কালকে আর থাকা হবে না। কারণ সবাই তো আর এসি রুম নিয়ে থাকতে পারে না। আর বেড়াতে এসে সব জায়গায় ঘোরাঘুরি করব তাও হচ্ছে না। এখনও সৈকতের বালুতে বসে আছি আর আইসক্রিম খাচ্ছি।

হোটেল সমুদ্র বাড়ি রিসোর্টের পরিচালক নজরুল ইসলাম সজিব জানান, আমাদের হোটেলে ঈদের পরে বেশ ভালো অগ্রিম বুকিং পেয়ে থাকি। প্রতি বছর ঈদ পরবর্তী এমন সময় হোটেলের প্রায় ৫০-৬০ শতাংশ কক্ষ বুকিং থাকে। কিন্তু এবছর মাত্র ১০ শতাংশ বুকিং আছে। দুই দিন আগে বুকিং দেওয়া ৪টি রুম আজ বাতিল করেছে।

আরো পড়ুন : পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের বর্জ্যে নষ্ট হচ্ছে সৈকতের পরিবেশ

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) সেক্রেটারি জেনারেল জহিরুল ইসলাম জানান, ঈদ পরবর্তী সময়কে আমরা পর্যটক মৌসুমের একটি বড় সময় ধরে থাকি। তবে এ বছর মৌসুমে পর্যটক আসা শুরু করলেও অতিরিক্ত তাপমাত্রা সবকিছু এলোমেলো করে দিয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র আবহাওয়া পর্যবেক্ষক মো. জিল্লুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। গত কয়েকদিন যাবৎ এর আশপাশে অবস্থান করছে তাপমাত্রা। আরো এক সপ্তাহ এই অবস্থা অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তাই তাপমাত্রা না কমা পর্যন্ত সকলকে সাবধানে থাকার পরামর্শ।




গলাচিপা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র দাখিল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: গলাচিপায় ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান  ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রত্যেকটি পদে ৪জন করে মোট ১২জন মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন। প্রার্থীরা সকলেই আওয়ামী লীগের সমর্থক।

নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, চেয়ারম্যান পদে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মু.শাহিন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মু.শামসুজ্জামান লিকন, বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ওয়ানা মর্জিয়া নিতু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোফাজ্জেল হোসেন মাসুদ।

আরো পড়ুন : কলাপাড়ায় কথিত সাংবাদিকের নামে চাঁদাবাজির মামলা

ভাইস চেয়ারম্যান পদে পটুয়াখালী জেলা কৃষক লীগের সভাপতি মু.নিজামউদ্দীন তালুকদার, ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক ফরিদ আহসান কচিন, পটুয়াখালী জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক রিফাত হাসান, পৌর আওয়ামী লীগের নেতা রেজাউল কবির মোল্লা।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য শিরিন নাহার, সাবেক মহিলা কাউন্সিলর হেলেনা বেগম, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক তহমিনা আক্তার ও মহিলা যুবলীগের  আহবায়ক সাফিয়া বেগম।




বাংলাদেশ-কাতারের বাণিজ্য বাড়াতে জয়েন্ট বিজনেস কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা




এফডিসিতে মারধর : ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম সাংবাদিকদের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (এফডিসি) মারধরের শিকার হওয়ার ঘটনায় শিল্পী সমিতিকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন সাংবাদিকরা। মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) রাতে গণমাধ্যমকর্মীদের একটি প্রতিনিধিদল চলচ্চিত্র সমতির ভেতরে গিয়ে উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন।



কলাপাড়ায় কথিত সাংবাদিকের নামে চাঁদাবাজির মামলা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কথিত সাংবাদিক নাইমুর রহমান নাইমের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী রিপা বেগম বাদী হয়ে কলাপাড়া উপজেলা বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা করেছেন। মামলাটি পটুয়াখালী ডিবি অফিসে তদন্তাধীন রয়েছে।

এছাড়া, এই কথিত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছেন উপজেলার বিভিন্ন স্তরের সাধারণ মানুষ।

অভিযুক্ত নাইমুর রহমান পৌর শহরের নাইয়াপট্টি এলাকার সোনা মিয়ার ছেলে।

আরো পড়ুন : পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের বর্জ্যে নষ্ট হচ্ছে সৈকতের পরিবেশ

মামলার বিবরণে জানা যায়, উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের হাচনাপাড়া ১২ নম্বর আবাসনের বাসিন্দা জাহিদুল বিশ্বাসের সাথে ভুক্তভোগী রিপা বেগম বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ঘর সংসার করতে থাকে। গত ৮ এপ্রিল বিকাল ৫টার দিকে কথিত সাংবাদিক নাইমুর রহমান ও তার কয়েক জন সঙ্গীদের নিয়ে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তাদের এ বিবাহ অবৈধ ও ভুয়া বলে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। অন্যথায় পত্রিকায় ছবিসহ নিউজ ছাপিয়ে দেয়ার ভয়ভীতি দেখায়। তাদের ভয়ে ভুক্তভোগী ও তার স্বামী ২৫ হাজার টাকা প্রদান করেন। কিন্তু অভিযুক্তরা বাকি ৭৫ হাজার টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করে তাদের ভয়ভীতি দেখাতে থাকে। ডাক চিৎকারে স্থানীয় লোক জন ছুটে আসলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবিকৃত টাকা পরিশোধের হুমকি দিয়ে তারা চলে যায়।

আরো পড়ুন : প্রচণ্ড দাবদাহে ১৫০ কিমি হেঁটে কুয়াকাটায় তারা ৩ জন

মামলার বাদী ভুক্তভোগী রিপা বেগম জানান, নাইমুর রহমান ও শামিম মাঝি সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে আমাদের বিবাহকে অবৈধ বলে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। সম্মান হারানোর ভয়ে ২৫ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হই। বাকি ৭৫ হাজার টাকার দাবিতে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। টাকা দিতে না পারায় সে আমাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত সাপেক্ষে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানান তিনি।

লালুয়া ইউনিয়নের সজিব হাওলাদার, মাসুদ ও আব্দুল আজিজসহ একাধিক ভুক্তভোগী নাইমের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবিসহ বিভিন্ন অভিযোগ জানান। এছাড়া অভিযুক্ত নাইম কলাপাড়া থানা পুলিশ, র‌্যাব, আইনজীবী ও পেশাদার সাংবাদিকদের নাম ভাঙিয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিন্ন কৌশলে চাঁদাবাজি করে বলেও অনেকে অভিযোগ করেন।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি তারিকুল ইসলাম খাঁন জানান, নাইম নামের এই ছেলেটি সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এ ইউনিয়নে এসে নিরীহ মানুষদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অবৈধ অর্থ হাতিয়ে নেয়ার একাধিক অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। তাকে আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির দাবি জানান তিনি।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে হিট স্ট্রোকে পুলিশ সদস্যের মৃত্যু

কলাপাড়া প্রেসক্লাব সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির বলেন, আমার জানামতে এ নামের সাংবাদিক কলাপাড়ায় কোন সংগঠনের সাথে জড়িত নেই। চাঁদাবাজি করলে তার কঠিন বিচার হওয়া উচিত।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত নাইমুর রহমান সকল অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে জানান, তারা আমার কাছে চাঁদা দাবি করেছে। আমি তাদের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা করেছি।

কলাপাড়া থানা পুলিশের উপ পরিদর্শক গোলাম মাওলা বলেন, নাইম নামের কোন সাংবাদিককে চিনি না। কলাপাড়া থানা পুলিশের নাম করে কেউ অবৈধ সুযোগ সুবিধা নিলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।




প্রচণ্ড দাবদাহে ১৫০ কিমি হেঁটে কুয়াকাটায় তারা ৩ জন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: প্রেসিডেন্ট রোভার স্কাউট অ্যাওয়ার্ড অর্জনের লক্ষ্যে প্রচণ্ড দাবদাহে ১৫০ কিলোমিটার পথ হেঁটে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা গেল রোভার স্কাউটের তিন সদস্য।

সোমবার দিবাগত রাত ১০টায় রোভার স্কাউটের তিন সদস্য- অনিক কুমার সাহা, মো. অমিত হাসান ও মাসরাফি কুয়াকাটার খানাবাদ ডিগ্রি কলেজে গিয়ে পৌঁছায়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টায় ‘প্লাস্টিক দূষণ সমাধানে, শামিল হই একসঙ্গে’, ‘মাদক পরিহার করি, সুস্থ জীবন গড়ি’, ‘ট্রাফিক আইন মানব, নিরাপদ জীবন গড়ব’- এসব স্লোগানকে সামনে রেখে রোভার স্কাউটের এই তিন সদস্য গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে তারা যাত্রা শুরু করেন।

আরো পড়ুন : পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের বর্জ্যে নষ্ট হচ্ছে সৈকতের পরিবেশ

ওই তিন রোভার স্কাউট সদস্যদের মধ্যে অনিক কুমার সাহা গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী। এছাড়া অমিত হাসান ও মাসরাফি কোটালীপাড়ার শেখ লুৎফর রহমান আদর্শ সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের লেখাপড়া করছেন।

যাত্রাপথে তারা বিভিন্ন শিক্ষা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করেন। একই সঙ্গে স্থানীয়দের বিদ্যুৎ অপচয় কমাতে সচেতনতা, দুর্নীতি রোধ, প্লাস্টিক বর্জন, জলবায়ু রক্ষা, পলিথিনের বিকল্প ব্যবহার বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণায় অংশ নেন।

রোভার টিমের সদস্য অমিত হাসান জানান, ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে দরকার স্মার্ট নাগরিক; কিন্তু বর্তমান যুবসমাজ নেশাসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে গেছে। নিজেদের স্মার্ট নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে ও দক্ষ জনবল তৈরিতে স্কাউট তথা রোভারিংয়ের বিকল্প নেই।




পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের বর্জ্যে নষ্ট হচ্ছে সৈকতের পরিবেশ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বাংলাদেশের অপরূপ সৌন্দর্যের অন্যতম নীলাভূমি সাগরকন্যা কুয়াকাটা। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে কুয়াকাটা যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। প্রতিনিয়ত পর্যটককে টইটম্বুর থাকছে এ সৈকত। কিন্তু কিছু অসচেতন আর উদাসীন পর্যটক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে শুরু করে বিভিন্ন ময়লা ফেলে বিনষ্ট করছে সৈকতের পরিবেশ।

পৌর কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন বলছে পর্যাপ্ত ডাস্টবিন থাকলেও তা ব্যবহার করছে না কিছু পর্যটক ও ব্যবসায়ী।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব, অনুসন্ধানে আইইডিসিআর টিম

২৩ এপ্রিল বিকেলে কুয়াকাটা সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ঘুরে দেখা যায়, সৈকতের বিভিন্ন জায়গায় ময়লার ভাগাড় বানিয়ে রাখা হয়েছে। মশা মাছি আর দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে পুরো সৈকত জুড়ে। এতে বিপাকে পড়েছে সচেতন ও উচ্চাভিলাসী পর্যটকরা। সৈকতের মূল পয়েন্টটি এভাবে ময়লা আবর্জনা ফেলে রাখায় বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ অনেক পর্যটক।

অধিকাংশ পর্যটক বলছেন, সৈকতের পরিবেশ রক্ষা করতে না পারলে পর্যটক কমবে কুয়াকাটায়।

ঢাকা থেকে কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা পর্যটক আবু তাহের বলেন, আমি আমার স্ত্রী ও ছোট দুই বাচ্চা নিয়ে সৈকত এসে ছাতার নিচে বসলাম কিন্তু পিছনেই কি পরিমাণ ময়লা তা আপনারা দেখতে পাচ্ছেন। এই যদি হয় কুয়াকাটা সৈকতের পরিবেশ তাহলে ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে দুর্গন্ধের মধ্যে কীভাবে বসব। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সৈকতের পরিবেশ রক্ষা করার জন্য এখনই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি ।

চিপস খেতে খেতে সৈকতে নামছিলেন দুজন পর্যটক, খাওয়া শেষ হতে না হতেই চিপসের খালি প্যাকেট দুটি ফেলে দেয় সৈকতে। এভাবে সৈকতে ময়লা ফেলা ঠিক হয়েছে কিনা জানতে চাইলে এ পর্যটক বলেন, সবাই তো ফেলছে আমরা ফেললে সমস্যা কি। কোনো সচেতন মানুষের এরকম কাজ করা ঠিক কিনা জানতে চাইলে তিনি একপর্যায়ে ভুল স্বীকারও করেন। পরিশেষে সৈকতের পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষা করার জন্য সবাইকে অনুরোধও করেন তিনি।

আরো পড়ুন : জাটকা সংরক্ষণ মৌসুমে চাল বিতরণে অনিয়ম

এ বিষয় কথা হয় একাধিক ঝাল মুড়ি, আইসক্রিম, চানাচুর, চাটনি বিক্রেতাসহ একাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর সঙ্গে, তাদের প্রত্যেকের দোকানের আশপাশে ময়লা, পলিথিন, আচারের প্যাকেটসহ নানা ময়লা থাকলেও তারা বলেন আমরা প্রত্যেক দোকানদার ডাস্টবিন ঝুড়ি ব্যবহার করছি। এখন পর্যটকরা তাতে ময়লা না ফেললে আমরা কি করতে পারি। আবার কেউ কেউ বলছেন এই ময়লা আমার দোকানের না। এরকম একাধিক  দায়সারা বক্তব্য দেন তারা।

এ বিষয় বিডি ক্লিন ডটকম কুয়াকাটা শাখার সমন্বয়ক ডা. ইসলাঈল ইমন বলেন, সৈকত বা রাস্তা এইগুলা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা আমাদের সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য। আমরা অনেকেই মনে করি সৈকত রাস্তাঘাট পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা এটা শুধু পৌর কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব, কিন্তু না। ময়লা আবর্জনা ফেলার সময় নির্দিষ্ট ডাস্টবিন ব্যবহার করলেই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে। সেজন্য পর্যটক ও স্থানীয়সহ আমাদের সকলের সচেতন হতে হবে।

এ বিষয় কুয়াকাটা পৌরসভার প্যানেল মেয়র (২) মো. শহিদ দেওয়ান বলেন, আমাদের পৌরসভার একাধিক পরিচ্ছন্ন কর্মী দিনরাত চেষ্টা করছেন সৈকত পরিষ্কার রাখার জন্য। কিন্তু অসচেতন কিছু পর্যটক ও উদাসীন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সৈকত পরিষ্কার রাখা যাচ্ছে না। তবে সৈকতে কেউ প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ে নামতে পারবে না এরকম কোনো প্রচার-প্রচারণা প্রশাসনিকভাবে থাকলে কিছুটা হলেও সৈকতের পরিবেশ রক্ষা করা যেত।




পটুয়াখালীতে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব, অনুসন্ধানে আইইডিসিআর টিম

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী দিন দিন তীব্র হচ্ছে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব। প্রতিবছর এমন ডায়রিয়ার প্রকোপে স্বাস্থ্য বিভাগসহ উদ্বিগ্ন সরকার।

ডায়রিয়ার এ প্রাদুর্ভাব অনুসন্ধানে পটুয়াখালীতে এসে পৌঁছেছেন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাত সদস্যদের প্রতিনিধি দল।

মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার দিলরুবা ইয়াসমিন লিজার নেতৃত্ব প্রতিনিধি দল তাদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেন।

আরো পড়ুন : জাটকা সংরক্ষণ মৌসুমে চাল বিতরণে অনিয়ম

সাত সদস্যের প্রতিনিধি দলে রয়েছেন– আইইডিসিআরের মেডিকেল অফিসার ও প্রতিনিধি দলের দলনেতা ডা. মো. মাইনুল হাসান, আইইডিসিআরের সহকারী অধ্যাপক (এপিডেমিওলজিস্ট) ডা. মো. মুঈদুর রহমান, মেডিকেল এপিডেমিওলজিস্ট ডা. সাদিয়া সুলতানা, ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সুমাইয়া আক্তার সুমাসহ মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা।

প্রতিনিধি দলের দলনেতা ডা. মো. মাইনুল হাসান জানান, আমরা আগামী তিনদিন পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক তথ্য, খাবার পানি ও দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত পানির উৎস, আক্রান্তের সময় ও ধরণ ইত্যাদি বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য ও স্যাম্পল সংগ্রহ করবো। পরে পরীক্ষা নিরীক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত কারণ ও ফলাফল সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে দাখিল করবেন বলেও জানান তিনি।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে হিট স্ট্রোকে পুলিশ সদস্যের মৃত্যু

পটুয়াখালী মেডিকেলের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা বলেন, বর্তমান সময়ে বরিশাল বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী পটুয়াখালীতে। তাই সরকারের পক্ষ থেকে আউটব্রেক ইনভেস্টিগেশন করতে আইইডিসিআর থেকে টিম এসেছেন। আমরা প্রতিনিধি দলকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছি।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়ে জেলায় বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১১০ জন রোগী। গত এক সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭৭৯ জন, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৭০ জন। চলতি বছরের শুরু থেকে ভর্তি হয়েছেন ৫৭৯৪ জন এবং এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৫৩৪৫ জন। এর মধ্যে অর্ধেক আক্রান্ত হয়েছে গত এক মাসে। জেলায় এখনও প্রায় তিন হাজার ব্যাগ আইভি স্যালাইন মজুদ আছে।




জাটকা সংরক্ষণ মৌসুমে চাল বিতরণে অনিয়ম

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: জাটকা সংরক্ষণ মৌসুমে বেকার জেলেদের জন্য বরাবরই সরকারের তরফ থেকে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ বছর পটুয়াখালীর নিবন্ধিত জেলেরা জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে চাল সহায়তা পাওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের চাল বিতরণ করা হয়েছে। তাও আবার নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে অর্ধেক চাল দেওয়া হয়েছে। চাল বিতরণে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তালিকা তৈরিতে সমন্বয়ের অভাব, স্বেচ্ছাচারিতাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ভীষণ ক্ষুব্ধ অধিকারবঞ্চিত প্রকৃত জেলেরা।

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন আল হেলাল তালিকা তৈরি ও বিতরণ ব্যবস্থাপনায় সমস্যা থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, সরকার শ্রেণি অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে চাল বরাদ্দ দেয়। কিন্তু চাল বিতরণের সময় জেলেদের আলাদা শ্রেণিবিভাগ করা সম্ভব হয় না। সে ক্ষেত্রে বরাদ্দের চেয়ে বেশি জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ করতে হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সবার সঙ্গে পরামর্শক্রমেই কাজটি করা হয়। জেলে নয় এমন কিছু লোকের নামও তালিকায় আছে। পেশা পরিবর্তনের কারণে এমনটি হতে পারে। এ জন্য আমরা আবেদন চেয়েছি। আবেদন পাওয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে যারা জেলে নয় আমরা তাদের নাম বাতিল করব। অন্যদিকে যারা নতুন করে এ পেশার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে হিট স্ট্রোকে পুলিশ সদস্যের মৃত্যু

গলাচিপা উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহুরুন্নবী বলেন, গলাচিপা উপজেলায় মোট ২০ হাজার ৮৩৫ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৯ হাজার জেলের নামে ২ মাসের চালের বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বেশি সংখ্যক জেলে বাদ পড়ার বিষয়টি উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির উপদেষ্টা স্থানীয় সংসদ সদস্য এস.এম. শাহাজাদার উপস্থিতিতে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানরা উত্থাপন করলে সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সরকারের বরাদ্দকৃত এই চাল অধিকসংখ্যক জেলেদের মাঝে বণ্টনের সিদ্ধান্ত হয়। সেই সিদ্ধান্তের আলোকে যে জেলে এক মাসের চাল পেয়েছেন তাকে অন্য মাসে বাদ রেখে অন্যদের চাল দেওয়া হয়েছে।
তালিকা হালনাগাদের বিষয়ে তিনি বলেন, ২০২১ সালে জেলেদের তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। আবারও এ তালিকা হালনাগাদ করা হবে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মনিরুল ইসলাম শোভন বলেন, চেয়ারম্যান তার পছন্দের লোক দিয়ে তালিকা করেছেন। আমি যে তালিকা করেছি সেই তালিকা নেননি।

৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দাদন মিয়া বলেন, তালিকা করেন দলের নেতাকর্মীরা। তারা টাকা নিয়ে তাদের পছন্দের লোকের নাম তালিকায় ঢুকিয়েছে। যাদের চাল প্রয়োজন তারা না পেয়ে পেয়েছেন অন্যরা। তালিকায় এমন অনেকের নাম আছে যারা এখন দেশেই থাকেন না। মোটরসাইকেল চালক, ভ্যানচালক, দোকানদার, ফার্মেসির লোকজনও চাল পেয়েছে।

২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কামাল হোসেন বলেন, ২০০৭-২০০৮ সালে যখন ঢালাওভাবে জেলেদের নিবন্ধন হয়েছে তখন অনেকের নাম ঢুকেছে তালিকায়। তাদের অনেকেই এখন পেশা পরিবর্তন করেছে। তাদের দেখেই সবাই অভিযোগ করে যে, ভ্যানচালক অটোচালকরা চাল পায়।

ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ রানা বলেন, উপজেলা সমন্বয় সভায় সিদ্ধান্তের আলোকে সরকারের বরাদ্দকৃত চাল অধিকসংখ্যক জেলেদের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে।

আরো পড়ুন : নির্বাচনে অংশ নেয়ায় দল থেকে বহিস্কার বিএনপি নেতা

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১ হাজার ৮৫৬ জন। চলতি জাটকা সংরক্ষণ মৌসুমে ভিজিএফ বরাদ্দ হয়েছে ৮০৮ জন জেলের নামে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ৮০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা থাকলেও তারা পেয়েছেন ৪০ কেজি করে। তাদের অভিযোগ, তালিকায় নাম ওঠানোর জন্য দিতে হয়েছে উৎকোচ। সখ্যের কারণে অন্যান্য পেশাজীবীরাও চাল পেয়েছেন। অন্যদিকে তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন অনেক প্রকৃত জেলে। তাই যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে নিবন্ধিত তালিকা হালনাগাদ করার দাবি তুলেছেন প্রকৃত জেলেরা।

স্থানীয় জেলে বিল্লাল উদ্দিন নিজের কার্ড দেখিয়ে বলেন, ‘আমি আগে চাউল পাইতাম। এই চেয়ারম্যান তালিকা থেইকা আমার নাম কাইটা দিছে। যারা ভ্যান চালায়, দোকান দেয়, কৃষি কাজ করে তাগো চাউল দেয়। কিন্তু আমি ভোট দেই নাই দেইখা জাইল্লাগিরি করলেও চাউল পাই না।’

মোফাজ্জেল নামের আরেক জেলে বলেন, ‘আশপাশের অনেক ইউনিয়নের জেলেরা ২ মাসে ৮০ কেজি করে চাউল পাইছে। আমরা ক্যান পামু না? চেয়ারম্যান ক্ষমতায় আসার পর আমরা একবারও পুরা চাউল পাই নাই। যারা জেলে না, সাগর চোখেও দেখে নাই, কোনোদিন নদীতেও যায় নাই তারাও চাউল পাইছে। আমাগো চাউল ভাগ কইরা তাগো দিছে।’ আলামিন মোল্লা বলেন, ‘অনেক ওয়ার্ডে কোনো জেলেই নাই। কিন্তু তালিকা কইরা অন্য মানুষের নাম ঢুকাইয়া আমাগো চাউল কম দিয়া তাগো ভাগ কইরা দেয়। আমরা আমাগো ন্যায্য অধিকার চাই।’




বরিশালে হকার উচ্ছেদ বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ

বরিশাল অফিস :: পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ বন্ধের দাবিতে বরিশালে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত।

মঙ্গলবার ( ২৩ এপ্রিল) বরিশাল অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে হকার সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ বন্ধের দাবিতে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন বরিশাল হকার সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক বরুন সাহা। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ বরিশাল জেলা সমন্বয়ক ডাঃ মনীষা চক্রবর্তী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবি বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান সেলিম, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ বরিশাল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কমরেড শাহ আজিজ খোকন, বরিশাল হকার্স সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, সদস্য মামুন,সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের দপ্তর সম্পাদক শহিদুল ইসলাম,সদস্য শহিদুল শেখ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন বরিশালের নাজিরের পোল থেকে সদর রোডের বিভিন্ন জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে তিন শতাধিক হকার সবজি ফল চটপটি ডিম কলা সহ বিভিন্ন পণ্য ফেরি করে তাদের সংসার চালাত। এদের মধ্যে অনেকেই ২৫-৩০ বছর ধরে এসকল ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নির্দেশে প্রশাসনের অভিযানে এইসকল ব্যবসায়ী সদর এলাকায় কোথাও দাঁড়াতে পারছেন না। পুনর্বাসন ছাড়া সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য এভাবে মানুষের পেটে লাথি মেরে কখনোই শান্তি-শৃঙ্খলা আনা সম্ভব নয়। বক্তারা অবিলম্বে পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ বন্ধের দাবি জানান।

বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল শেষে একটি প্রতিনিধি দল বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, বরিশাল জেলা প্রশাসক ও বরিশাল মেট্রোপলিটনের পুলিশ কমিশনার বরাবর পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ বন্ধের দাবিতে স্মারকলিপি পেশ করে।