বাউফলে ডায়রিয়ার প্রকোপ, হাসপাতালে স্যালাইনের সংকটসহ নানা সমস্যা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: তীব্র গরমে হঠাৎই পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এরই জেরে হাসপাতালে দেখা দিয়েছে স্যালাইনের সংকট। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা খরচা করে বাইরে থেকে স্যালাইন কিনতে হচ্ছে রোগী এবং তাদের স্বজনদের।

ধারণ ক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুন বেশি রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বেড সংকট থাকায় বাধ্য হয়ে মেঝেতে ঠাঁই নিচ্ছেন বহু রোগী।

এদিকে, অতিরিক্ত রোগীর চাপে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

আরো পড়ুন : কলাপাড়ায় দখলদার মুক্ত হলো মাছের পাইকারি বাজার

গত সোমবার রাতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়। নাম রিনা, বয়স ৭ বছর। সে উপজেলার মদনপুরা ইউনিয়নের মাঝপাড়া গ্রামের রহিম গাজীর মেয়ে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক মো. মিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘শিশুটি তিন দিন আগে ডায়রিয়ার আক্রান্ত হয়। পরিবারের লোকজন হাসপাতালে না এনে বাড়িতে রাখেন। সোমবার রাতে তার মৃত্যু হয়। মারা যাওয়ার পর তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। যথাসময়ে চিকিৎসা পেলে শিশুটি বেঁচে যেত।’ 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাব বিভাগের দেওয়া তথ্য মতে, মার্চের মাঝামাঝি থেকে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়তে থাকে। গত এক মাসে ৩৮৫ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত সাত দিনে ভর্তি হয়েছেন ৯৬ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

হাসপাতালের বর্হিবিভাগ ও জরুরি বিভাগ থেকে গত সাত দিনে দেড় শতাধিক রোগীর চিকিৎসা নেওয়ার তথ্য পাওয়া গছে। এসব রোগীর প্রায় ৭০ শতাংশই শিশু ও বয়স্ক।

তবে উপজেলায় ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আরও তিনগুণ বেশি বলে দাবি করেছেন একাধিক চিকিৎসক।
তাদের ভাষ্যমতে, হাসপাতালে বেড সংকট থাকায় অনেক রোগী হাসপাতালে আসছেন না। তারা স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও বিভিন্ন চিকিৎসকদের কাছ থেকে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন।

আজ, (বুধবার) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, দ্বিতীয় তলায় শিশু, নারী ও পুরুষ ওয়ার্ডে বেড খালি না থাকায় মেঝেতে অনেকেই বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। মেঝেতেও জায়গা না হওয়ায় এক শিশুসন্তানকে স্যালাইন দেওয়া অবস্থায় কোলে করে দাঁড়িয়ে আছেন এক মা।

উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ থেকে আসা মরিয়ম বেগম (২৬) নামে ওই নারী জানান, সোমবার থেকে তার আড়াই বছরের শিশুসন্তান বারবার পাতলা পায়খানা করছে। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। চিকিৎসক তার সন্তানকে স্যালাইন দেন। তবে হাসপাতালে জায়গা না থাকায় সন্তান নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।

মেঝের নোংরা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে গাদাগাদি করে অবস্থান নিতে হচ্ছে রোগী ও তাদের স্বজনদের। তীব্র গরমে ফ্যান না থাকায় হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন রোগীর স্বজনরা। এতে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন তারা।

সমীর শীল নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, ‘কোনো বেড থালি না থাকায় মেঝেতেই বিছানা পেতে থাকছি। তবে মেঝের চারপাশে নোংরা পরিবেশ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিয়মিত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করছেন। এতে একদিকে দুগর্ন্ধ, অন্য তীব্র গরমে রোগীর অবস্থা আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।’

আরো পড়ুন : বুড়াগৌরাঙ্গ নদের ভাঙন থেকে বাঁচতে শতাধিক পরিবারের আকুতি

হঠাৎ করে উপজেলা জুড়ে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় স্যালাইনের সংকটও দেখা দিয়েছে। সরকারি হাসপাতালে চাহিদার তুলনায় কম স্যালাইন সরবরাহ থাকায় বাইরে থেকে স্যালাইন কিনতে হচ্ছে রোগীদের। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে স্যালাইনের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে চড়া দামে স্যালাইন বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রোগীর স্বজনরা বলছেন, হাসপাতাল থেকে দুই একটি স্যালাইন দেওয়া হয়। বাকি স্যালাইন বাইরে থেকে কিনতে হয়। এতে স্যালাইনের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ফার্মেসি ব্যবসায়ীরা ১০০ টাকার স্যালাইন ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করছেন।

এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন, ‘হাসপাতালে কলেরা স্যালাইন সরবরাহ না থাকায় সংকট দেখা দিয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে ২০০ ব্যাগ স্যালাইন দিয়েছি। তা দিয়েই চিকিৎসা চলছে। আরও ২০০ ব্যাগ অর্ডার দিয়েছি। সংকটের কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা ব্যবস্থা নেবেন।’




স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অধীনে নিয়োগ, নেবে ১৩৯ জন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ছাড়পত্র মোতাবেক সিভিল সার্জনের কার্যালয়, রাজশাহী এর নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানসমূহে রাজস্ব খাতে বিভিন্ন গ্রেডে বিশাল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির আটটি শূন্য পদে ১৩৯ জনকে নিয়োগের জন্য এ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। ২৪ এপ্রিল থেকে আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে। আবেদন করা যাবে আগামী ১৪ মে পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।




কলাপাড়ায় দখলদার মুক্ত হলো মাছের পাইকারি বাজার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: অবশেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে দখলমুক্ত হল পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌরশহরের বাসষ্ট্যান্ড সংলগ্ন বড় পাইকারী মাছের বাজার। দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের রেকর্ডীয় জমি দাবী করে টিয়াখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মশিউর রহমান শিমু মাছ বাজারটি থেকে ভিটি ভাড়ার নামে প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা করে আদায় করতো। এর কিছু অংশ চৌরাস্তা বাসষ্ট্যান্ড জামে মসিজদ পেলেও সরকার এ বাজার থেকে কোন রাজস্ব পেতনা। উপজেলা প্রশাসন পাইকারী মাছ বাজারটি দখলমুক্ত ঘোষনা করে বাজার থেকে আদায়কৃত অর্থ রাজস্ব খাতে জমা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

উপজেলা প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে খুশী স্থানীয় সাধারন মানুষ সহ খুচরা, পাইকারী মাছ বিক্রেতারা। তারা ইউএনও’র এমন সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

জানা গেছে, কলাপাড়া-পটুয়াখালী মহাসড়কের পশ্চিম পাশে অবস্থিত বড় পাইকারী মাছ বাজারে ২৫-৩০টি মাছের আড়ৎ রয়েছে। বাজারটিতে প্রতিদিন ভোররাত থেকে শুরু হয় লক্ষ লক্ষ টাকার নিলামে মাছ বেচা কেনা হয়। শতকরা ৫ টাকা হারে ক্রেতা, বিক্রেতা উভয় পক্ষের কাছ থেকে খাজনার নামে টাকা উত্তোলন করা হতো।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে মাদক অভিযানে গিয়ে ৩ পুলিশ সদস্য আহত

এছাড়া চট প্রতি দিনে ২০০ টাকা। এভাবে প্রতিদিন ৫-১০ হাজার টাকা আদায় করা হতো এ বাজার থেকে, প্রতিমাসে যার অংক দাড়ায় দেড় থেকে তিন লক্ষ টাকা।

সূত্রটি আরও জানায়, মহাসড়কের পাশের মাছ বাজারের ওই জমি সর্বশেষ বিএস জরিপে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন উন্নয়ন বোর্ডের নামে জরিপ হয়। যা এক সময় পাউবো থেকে ব্যক্তি নামে বন্দোবস্ত দাবী করা হলেও আদালত থেকে ঘোষনামূলক ডিক্রী ছাড়া বর্তমানে এর কোন ভিত্তি নেই।

টিয়াখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মশিউর রহমান শিমু বলেন, চৌরাস্তা মাছ বাজারের ওই জমি আমাদের ক্রয়কৃত রেকর্ডীয় জমি। আমরা আইনী মোকাবেলার জন্য আদালতে যাবো।

টিয়াখালী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান সুজন মোল্লা বলেন, মাছ বাজারটি দখলমুক্ত হওয়ায় সাধারন জনগন খুশী। টিয়াখালী ইউনিয়নের জনসাধারনের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই।

কলাপাড়া ইউএনও মো: রবিউল ইসলাম বলেন, উপজেলা প্রশাসন এখন থেকে ওই মাছ বাজার থেকে রাজস্ব আদায় করে সরকারী কোষাগারে জমা দেবে। এতে কেউ বিপত্তির চেষ্টা করলে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বাজার ব্যক্তিগত কিংবা সরকারী জমি যেখানেই হোক না কেন রাজস্ব আদায় করার বৈধতা কেবল সরকারের। তবে সরকারের কাছ থেকে শর্ত সাপেক্ষে ইজারা নিয়ে ব্যক্তি পর্যায়ে খাজনা আদায় করা যেতে পারে।




পটুয়াখালীতে মাদক অভিযানে গিয়ে ৩ পুলিশ সদস্য আহত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে মাদক অভিযানে গিয়ে অস্ত্রের আঘাতে তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নে অভিযান চালাতে গিয়ে এ ঘটনার শিকার হন তারা।

আহতরা হলেন— পটুয়াখালী গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত এএসআই সাইদুর রহমান, কনেস্টবল তানভীর ও মাহাফুজ। যদিও ওই অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী মো. রনি হাওলাদারকে (৩০) আটক করেছেন ডিবি। রনি ওই এলাকার রেজাউল হাওলাদার ওরফে মাসুদের ছেলে। এর আগেও ডিবির একটি অভিযানে রনিকে আটক করা হলেও তিনি হাতকড়া নিয়ে পালিয়ে যান।

আরো পড়ুন : বুড়াগৌরাঙ্গ নদের ভাঙন থেকে বাঁচতে শতাধিক পরিবারের আকুতি

ঘটনার বরাত দিয়ে পটুয়াখালী গোয়েন্দা শাখার ওসি একেএম আজমল হুদা বলেন, দীর্ঘদিন থেকে গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাদক সরবরাহ করছেন রনি। পরিচয় গোপন করে রনির বিরুদ্ধে ডিবির কাছে এমন অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির এসআই সম্বিত রায়ের নেতৃত্বে উল্লেখিত ইউনিয়নে অভিযান চালান তারা।

মঙ্গলবার গভীর রাতে ৩নং ওয়ার্ডস্থ বড়চত্রা এলাকার মো. হাবিবুর রহমানের বাড়ির সামনে রনিকে আটক করে দেহ তল্লাশি চালালে তার শরীর থেকে ৩শ পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়। আটকের পর রনির সঙ্গে থাকা হাতলযুক্ত সুইচ গিয়ার চাকু নিয়ে দায়িত্বরত পুলিশকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে রনি একটি পরিত্যক্ত জলাশয়ে ঝাঁপ দেন। ডিবির সদস্যরাও এ সময় ওই জলাশয়ে ঝাঁপ দিয়ে রনিকে আটক করেন। রনি পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে ধস্তাধস্তিও করেন।




বুড়াগৌরাঙ্গ নদের ভাঙন থেকে বাঁচতে শতাধিক পরিবারের আকুতি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউয়িনের বুড়াগৌরাঙ্গ নদ ঘেঁষা বেড়িবাঁধ এখন ভাঙনের মুখে। ওই ইউনিয়নের বউবাজার থেকে মিটার বাজার পর্যন্ত নির্মিত এ বাঁধটি ভাঙলে নদীগর্ভে বিলীন হবে অসংখ্য ভিটেবাড়ি ও ফসলি জমি।

ভাঙনকবলিত এলাকাবাসীর উদ্যোগে গত সোমবার দুপুরে বউবাজার এলাকার ভাঙনকবলিত বাঁধের ওপর মানববন্ধন করেছেন নদ তীরবর্তী শতাধিক নারী-পুরুষ। 

জানা গেছে, চরমোন্তাজ ইউনিয়নের বউবাজার, হিন্দুগ্রাম, খেয়াঘাট ও দক্ষিণ চরমোন্তাজ গ্রামটিকে রক্ষা কবজ হিসেবে ঘিরে রেখেছে এ বাঁধটি। কিন্তু বর্ষা মৌসুম শুরু না হতেই বাঁধ ভাঙনের মুখে পড়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চার গ্রামের দুই শতাধিক পরিবার।

আরো পড়ুন : অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহে পর্যটকশূন্য কুয়াকাটা

মানববন্ধনে অংশ নেয়া রাসেল খান বলেন, সাগর মোহনাসংলগ্ন বুড়াগৌরাঙ্গ নদের তীরের এ বাঁধ প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রতিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ বাঁধ চার এলাকায় লবণ পানি থেকে ফসল রক্ষাসহ মানুষের জানমাল রক্ষা করে আসছে। কিন্তু প্রতি বছরই নদের তীব্র স্রোতে বাঁধ ভেঙে পড়ছে। তাই জনস্বার্থে পরিকল্পিতভাবে বাঁধটি নির্মাণ প্রয়োজন।’

ভাঙনকবলিত হিন্দুগ্রামের বাসিন্দা মিলন হাওলাদার বলেন, বার বার বাঁধ মেরামত হলেও তা টেকসই হচ্ছে না। তাই ব্লক ফেলে স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণের দাবি আমাদের।’

একই গ্রামের সুরেন সিকদার বলেন, ‘বুড়াগৌরাঙ্গ নদের ভাঙনে তিনবার তাদের বাড়িঘর সরাতে হয়েছে। পৈতৃক সম্পত্তি বলতে এখন তাদের কিছুই নেই। বর্তমানে সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে বাস করছেন তিনি। এখন ভাঙন তাদের দিকে ছুটে আসছে। পুরো বাঁধ ভেঙে গেলে তাদের শেষ আশ্রয়ের ঘরও ভেঙে যাবে। এলাকার লবণ পানিতে ফসলি খেত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ১ মাসে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৩ হাজার

এ ব্যাপারে কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হোসেন জানান, চরমোন্তাজ ইউনিয়নের বউবাজার এলাকায় ৫৫/৪ পোল্ডারের এ বাঁধটি দৈর্ঘ্য সাড়ে ৩২ কিলোমিটার। এর মধ্যে নদীর স্রোতে প্রায় তিন কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থান মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।




অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহে পর্যটকশূন্য কুয়াকাটা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: অস্বাভাবিক তাপমাত্রার কারণে এবং অসহ্য গরমে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে পর্যটনকেন্দ্র সাগরকন্যা কুয়াকাটা। কোথাও নেই পর্যটকদের কোলাহল। সৈকতজুড়ে শুধু ধু ধু বালুচর। দীর্ঘ ১৮ কিলোমিটার সৈকতজুড়ে বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা। দীর্ঘ সরকারি ছুটিতেও মিলছে না পর্যটক।

স্থানীয় ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তারা বলেছেন, অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহের কারণে এবার পর্যটক কমেছে।
প্রতিদিন এখানে অনেক দর্শনার্থীর আগমন ঘটত। সকাল, দুপুর, বিকাল কিংবা গভীর রাত পর্যন্ত পর্যটকদের পদচারণায় সাগরতট থাকত মুখরিত। পর্যটন স্পট গুলোতেও ছিল পর্যটকের উপচেপড়া ভিড়। সাগরের ঢেউ গর্জন করে তীরে আছড়ে পড়ছে। দেখলে মনে হয় যেন এসব মনোরম দৃশ্য দেখার কেউ নেই। কিছু পর্যটক থাকলেও তারা দিনের বেলা হোটেল থেকে বের হচ্ছে না প্রচণ্ড গরমের কারণে। পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো হয়ে পড়েছে একেবারে গ্রাহকহীন। 

এ দিকে কলাপাড়াসহ উপকূলজুড়ে অসহ্য তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বৈদ্যুতিক পাখার বাতাসেও মিলছে না স্বস্তি।

কুয়াকাটা সৈকতে চটপটি বিক্রেতা আলামিন বলেন, ঈদুল ফিতর ও বৈশাখ উপলক্ষে অনেক পর্যটকের ভিড় ছিল। এখন অস্বাভাকি তাপপ্রবাহের কারণে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ১ মাসে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৩ হাজার

হোটেল গ্র্যান্ড সাফা ইনে ম্যানেজার মো: সাইদুর রহমান জানান, প্রচণ্ড গরমের কারণে কুয়াকাটা পর্যটক নেই। বর্তমানে হোটেলের বিদ্যুৎ বিল ও কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ বলেন, গরমে পর্যটক এসে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন। যে কারণে মানুষ এসে টিকতে পারছেন না। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কিছু ট্যুরিস্ট আসছিল এরপর থেকে প্রচণ্ড গরমের কারণে বর্তমানে হোটেল-মোটেলের সিট ফাঁকা রয়েছে। সাগরের পাড়ে এসে মানুষ উত্তাপে টিকতে পারছে না। লবণাক্ত পানিতে শরীর শুষ্ক হয়ে যাচ্ছে।




সিঙ্গেল থেকে ডাবল? ‘প্রয়োজন হলে’ ভেবে দেখবেন জয়া

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : জয়া বলেন, “আমি খুব ভালো আছি, শান্তিতে আছি চারদিক থেকে। এই অবস্থার প্রতি সম্মান রেখেই বলছি আমার আপাতত সংসার জীবন নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই। “

বয়স পেরিয়েছে চল্লিশ, জীবন ভরপুর কাজ-খ্যাতিতে। তবু অভিনেত্রী জয়া আহসানের ব্যক্তিজীবন নিয়ে ভক্ত আর সংবাদকর্মীদের আগ্রহের কমতি নেই।

তাদের জন্য অভিনেত্রীর উত্তর হল, একাকী জীবন থেকে সংসার জীবনে প্রবেশ করার কোনো পরিকল্পনা আপাতত তার নেই।

সম্প্রতি সাভারের লাজপল্লীতে অভিনয় শিল্পী সংঘের আয়োজনে বৈশাখী উৎসবে গিয়েছিলেন জয়া। সেখানে গ্লিটজের সঙ্গে আলাপচারিতায় উঠে আসে জয়ার ব্যক্তিজীবন প্রসঙ্গ।

গ্লিটজকে জয়া বলেন, “আমার এই জীবন আমি খুব উপভোগ করছি। পরিবার তো শুধুমাত্র স্বামী-স্ত্রী বা পার্টনার হলেই হয় না। আরও অনেকেই আছে। আমার মা আছে, বোন আছে, পরিবারে যেসব লোক কাজ করে তারা আছে, আমার পালিত পশু আছে, যাদের সঙ্গে সময় কাটাতে আমি খুবই উপভোগ করি।“

তাহলে কি জীবন এভাবেই কেটে যাবে?

অভিনেত্রীর উত্তর, “যদি কখনো মনে হয় এই সিঙ্গেল জীবন থেকে ডাবল হওয়া প্রয়োজন বা দরকার আছে তাহলে সেটা সময় হলে ভেবে দেখব। এই মুহূর্তে আমার কোনো পরিকল্পনা নেই। আমি খুব ভালো আছি, শান্তিতে আছি চারদিক থেকে। এই অবস্থার প্রতি সম্মান রেখেই বলছি আমার আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই। “

এই বয়সেও চেহারায় তারুণ্য ধরে রাখতে পারার রহস্যটা কী?

জয়া বলেন, “তরুণ কতটা রয়েছি আমি ঠিক জানি না। তবে আমি আমার মত থাকছি। এই সময়টা খুব করে উপভোগ করছি।“

নূরুল আলম আতিক পরিচালিত ‘ডুবসাঁতার’ দিয়ে ২০১০ সালে জয়া নাম লেখান বড় পর্দায়। এর আগে মডেল এবং টেলিভিশন নাটকে পাওয়া যেত তাকে। অবশ্য ২০০৪ সালে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘ব্যাচেলর’ সিনেমায় ছোট একটি চরিত্র তিনি করেছিলেন।

২০১০ সালের পর জয়ার সিনেমা ক্যারিয়ার মূলত গড়ে ওঠে কলকাতায়। অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। কলকাতা ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পেয়েছেন চারবার।

কিছুদিন আগে ঢাকায় মুক্তি পেয়েছে জয়া অভিনীত ‘পেয়ারার সুবাস’। আর কলকাতার হলে এসেছে এ অভিনেত্রীর ‘ভূতপরী’।

জয়া বর্তমানে ব্যস্ত আছেন নির্মাতা আশফাক নিপুণের পরিচালনায় একটি ওয়েব সিরিজ নিয়ে ৷ এটি হবে দেশে জয়ার প্রথম ওয়েব সিরিজ।

এছাড়া কলকাতায় অনিরুদ্ধ রায় চৌধুরীর পরিচালনায় শিগগিরই ‘ডিয়ার মা’ নামে একটি সিনেমার শুটিং শুরু করতে চলেছেন তিনি। আপাতত বলিউডের কোনো কাজ হাতে নেই জয়ার।




গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলের ভেতরে হিজবুল্লার গভীরতম হামলা




মিতুকে আমার ছেলে খুন করেছে, তাকে আপনি মাফ করে দিন’




পটুয়াখালীতে ১ মাসে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৩ হাজার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বৈশাখের খরতাপে মানুষের হাঁসফাঁস অবস্থা। মারাত্মক তাপ প্রবাহের ফলে গরমে জ্বর, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, পক্স, অ্যালার্জির মতো বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। বিশেষ করে, বিভিন্ন জেলায় ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। ফলে দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা পটুয়াখালীতে এবার ডায়রিয়া মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। জেলা-উপজেলাসহ হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর ভিড়। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের তথ্য বলছে, গত জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত জেলায় ৫ হাজার ৬৯৫ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। আগের দিন সকাল ৮টা থেকে গতকাল একই সময় পর্যন্ত ১১৬ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন বিভিন্ন হাসপাতালে। এ নিয়ে এক সপ্তাহে ৭৫৮ জন এবং গত এক মাসে ২ হাজার ৮৫১ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ২৬১ জন।

আরো পড়ুন : তীব্র দাবদাহে কুয়াকাটায় হোটেল বুকিং বাতিলের হিড়িক

গত এক সপ্তাহে আক্রান্তের এ হিসাবে স্থানীয় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এরই মধ্যে বরিশাল বিভাগের মধ্যে পটুয়াখালী ডায়রিয়ার হটস্পটে পরিণত হয়েছে। বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকেও। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও কেন এত বেশি মানুষ ডায়রিয়া আক্রান্ত হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) একটি প্রতিনিধি দল পটুয়াখালী আসছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল এসব তথ্য নিশ্চিত করলেও পটুয়াখালীকে বিভাগে ডায়রিয়ার ‘হটস্পট’ মানতে নারাজ।
গতকাল তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর এ মৌসুমে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ে। বিগত বছরের চেয়ে এবার তাপমাত্রা অস্বাভাবিক। যে কারণে পুরো বিভাগেই ডায়রিয়া আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। তার মধ্যে পটুয়াখালীতে সবচেয়ে বেশি।’ এ পর্যন্ত ডায়রিয়ায় বরিশাল বিভাগে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি দাবি করেন। তবে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে আব্দুস সত্তার ফরাজি (৯০) নামে এক বৃদ্ধ গত রোববার মারা যান। চর বালিয়াতলী গ্রাম থেকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান তিনি। যদিও জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস এম কবির হাসানের দাবি, সত্তার ফরাজি বয়সজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। শুধু ডায়রিয়ায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বিষয়টা এমন নয়।

আরো পড়ুন : গলাচিপা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র দাখিল

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা ২১টি। গতকাল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে বর্তমানে রোগী রয়েছেন ৪৮ জন। শয্যার অতিরিক্ত রোগীদের ঠাঁই হয়েছে মেঝেতে।