ঝালকাঠিতে গাছ থেকে ৫০ টাকায় কেনা ডাব শহরে বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়

বরিশাল অফিস :: তীব্র তাপদাহে অতিষ্ঠ জনজীবন। গরমের দাপটে সবাই অস্থির। পানি স্বল্পতা থেকে বাঁচতে এ সময় এখানে সবারই পছন্দ ডাবের পানি। এ সময় ঝালকাঠির ডাব ট্রাকে করে যাচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বড় বড় শহরে। গাছ থেকে ৫০ টাকায় কেনা ডাব ক্রেতাদের কাছে বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়।

ঝালকাঠিতে ডাবের ১২ মাসই ফলন হয়। তবে গ্রীষ্মকালে চাহিদার কারণে এর সরবরাহও বেশি।

ডাব ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রাজাপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের বারবাকপুর ও শুক্তাগড় ইউনিয়নের নারিকেল বাড়িয়া এলাকায় রয়েছে ডাবের একাধিক মোকাম। প্রত্যন্ত এলাকা থেকে গ্রামে গ্রামে ঘুরে খুচরা ক্রেতারা ডাব কিনে মোকামে নিয়ে পাইকারদের হাতে তুলে দেন। প্রতিটি ডাবের (আকারভেদে) ক্রয়মূল্য ৫০ থেকে ৬৫ টাকা গাছ মালিককে দিতে হয় ।

দেখা যায়, ২/৩ জন মিলে গ্রুপভিত্তিক ডাব ক্রয় করেন। কেউ গাছে উঠেন, কেউ নিচে দাঁড়িয়ে দড়ি দিয়ে ডাব অক্ষত নামাতে সাহায্য করেন। আবার কেউ ডাব নামানোর পরে ছড়ি থেকে অপ্রয়োজনীয় অংশ কেটে পরিস্কার করে এক জায়গায় জমা করেন। সারাদিনের পরিশ্রমের মাঝে নাস্তা, গাড়িভাড়া দিয়ে পাইকারি বিক্রির মোকামে পৌঁছাতে ডাবপ্রতি আরো ৫ টাকা খরচ হয়। এরপরে পাইকারদের কাছেও ডাবের আকারভেদে ৬৫ টাকা থেকে ৮০টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করা হয়।

পাইকার সেই ডাব কিনে ট্রাকে লোড দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বড় বড় শহরগুলোর আড়তে পৌছে দেন। ট্রাকে উঠিয়ে সাজিয়ে গাড়ি ছাড়ার পূর্ব পর্যন্ত প্রক্রিয়া করতে আরো ২/৩জন শ্রমিক কাজ করেন। তাদের বেতন এবং গাড়ির যাবতীয় খরচ শেষে প্রতিটি ডাব আড়তে পৌঁছাতে প্রায় একশ টাকা খরচ হয়।

বাড়ি বাড়ি গিয়ে খুচরা ক্রেতা মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমরা ডাবের আকার অনুযায়ী ৫০ থেকে ৬৫ টাকা দরে প্রতিটি ডাব ক্রয় করি। গাছে ওঠা ও সরবরাহের পরিশ্রম নিয়ে ৬৫ টাকা থেকে ৮০ পর্যন্ত দরে পাইকারদের কাছে বিক্রি করি। পাইকাররা আমাদের কাছ থেকে ডাব কিনে ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যায়।

খুচরা ক্রেতা জাকির ও আবুল হোসেন বলেন, এই রৌদে গ্রামে ঘুরে ঘুরে গাছের মাথায় উঠে ডাব পাড়তে হয়। এতে কি যে কষ্ট হয়, তা যে ওঠে সেই বুঝে। যা কথা বলে বুঝানো যাবে না। এরপর ডাব পেড়ে নামিয়ে হিসেব করে গাছ মালিককে দাম দিয়ে, ক্ষুধার্ত অবস্থায় নাস্তা করে, গাড়ি ভাড়া দিয়ে মোকামে পৌঁছাতে সময়-শ্রম-খরচ যা হয় তাতে ব্যবসা সে অনুযায়ী পাই না। ডাবের পানি ক্রেতার হাতে পৌঁছাতে প্রতিটি ডাবের দাম ১২০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা দাম পড়ে। আর আমরা পাই তার প্রায় অর্ধেক। দুই/তিন হাত বদলের কারণে আমরা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।

পাইকারি ক্রেতা মো. দুলাল হোসেন বলেন, খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে ৬৫ টাকা থেকে ৮০ টাকা দরে ক্রয় করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহীসহ দেশের বড় বড় শহরের আড়তে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত বহন খরচ পথে পথে বিভিন্ন ধরনের রোড খরচ দিয়ে প্রতিটি ডাবে একশ টাকারও বেশি খরচ পড়ে।

আড়তদারদের কাছ থেকে আবার খুচরা বিক্রেতারা কিনে নিয়ে ১২০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা দরে প্রতিটি ডাব বিক্রি করে।

প্রান্তিক পর্যায়ের নারিকেল চাষিদের কাছ থেকে মধ্যস্বত্বভোগীদের হাত হয়ে ক্রেতা পর্যন্ত পৌঁছতে দাম অনেক হলেও মূলত প্রকৃত চাষিরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ চাষিদের।

ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হাসিবুল ইসলাম বলেন, ঝালকাঠি জেলায় ১ হাজার ১শ ৭৭ হেক্টর জমিতে নারিকেলের বাগান রয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৩শ ৯৫ হেক্টর, নলছিটি উপজেলায় ৩শ হেক্টর, রাজাপুর উপজেলায় ২শ ২০ হেক্টর, কাঁঠালিয়া উপজেলায় ২শ ৬২ হেক্টর জমিতে নারিকেল গাছের আবাদ রয়েছে। এতে কয়েক লাখ গাছ রয়েছে। যা এ অঞ্চলের ডাবের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে।




তালতলীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একজনের মৃত্যু

বরিশাল অফিস :: বরগুনার তালতলীতে বৈদ্যুতিক পাখা মেরামত করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে আফজাল মাতুব্বর (৫০) নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) দুপুর ১২ টার দিকে উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের ছোট ভাইজোড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের ছোট ভাইজোড়া গ্রামের ফুল মিয়া মাতুব্বরের ছেলে আফজাল মাতুব্বর প্রচ- গরম থেকে স্বস্তি পেতে শুক্রবার দুপুরে নিজ ঘরের পুরাতন বৈদ্যুতিক পাখা (ফ্যান) মেরামত করছিলেন।

এ সময় অসাবধানতা বশতঃ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে স্বজনরা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।

তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের কর্মরত চিকিৎসক ডা. আইরিন আলোম বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই মারা গেছেন আফজাল মাতুব্বর। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা গেছেন। তালতলী থানার ওসি (তদন্ত) রনজিৎ কুমার সরকার বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছি। পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




পটুয়াখালীতে পথচারীদের পানির বোতল ও স্যালাইন দিচ্ছেন রেড ক্রিসেন্ট

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: তিব্র তাপদাহ থেকে সাধারণ মানুষকে প্রশান্তি দিতে গত কয়েকদিনের মত আজও পথচারীদের মাঝে পানির বোতল ও খবার স্যালাইন বিতরণ করছেন পটুয়াখালী যুব রেড ক্রিসেন্ট এর সদস্যরা।

শুক্রবার বেলা ১১ টা থেকে শহরের সোনালী ব্যাংক মোড়ে সেচ্ছাসেবকরা দিনমজুর, রিকশা চালক সহ তৃষ্ণার্ত মানুষকে পানি খাওয়াচ্ছেন।

আর তিব্র গরমে এই সহযোগীতায় খুশি এই পথে চলাচলকারী মানুষরা।

আরো পড়ুন : বিপুল পরিমাণ শাপলা পাতা-পিতাম্বরী ও হাঙর মাছ জব্দ

যুবরেড ক্রিসেন্ট পটুয়াখালী ইউনিটের যুব প্রধান নাসিম জানান, গত কয়েকদিন থেকেই তারা বিশুদ্ধ পানি ও খাবার স্যালাইন বিতরণের কার্যক্রম চলমান রেখেছেন। তিব্র তাপ দাহকে একটি দূর্যোগ হিসেবেই বিচেনা করে তারা মাঠে কাজ করছেন।

বিশেষ করে বৈশি^ক উষ্ণায়ন সবাইকেই বিপদের মুখে ফেলে দিচ্ছে। আগেও যেমন সকল সংকটে যুব রেড ক্রিসেন্ট এর সেচ্ছাসেবকরা ঝাঁপিয়ে পরেছে, এখনও তারা নিজ উদ্যোগে সাধারন মানুষের পাশে কিছুটা হলেও প্রশান্তি দেয়ার চেষ্টা করছেন। আগামী যে কয়েকদিন তিব্র তাপ দাহ চলমান থাকবে তারা সেই পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলমান রাখবেন বলেও জানান সেচ্ছাসেবী সংগঠনটির যুব প্রধান।

এদিকে রেড ক্রিসেন্ট সদস্যদের পাশপাশি পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগ, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ,পটুয়াখালী বাসী সহ বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা পটুয়াখালী শহরের বিভিন্ন সড়কের পাশে সাধারণ মানুষকে বীনামূল্যে পানি, সরবত ও খাবার স্যালাইন বিতরণ করছেন।




বিপুল পরিমাণ শাপলা পাতা-পিতাম্বরী ও হাঙর মাছ জব্দ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: জেলার মহিপুর থানার নিজামপুরে কোস্টগার্ডের অভিযানে নিষিদ্ধ শাপলা পাতা, পীতাম্বরী ও হাঙর মাছ জব্দ করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে বিসিজি নিজামপুর স্টেশন এ তথ্য জানায়।

কোস্টগার্ড জানান, গত বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোন অধীন বিসিজি স্টেশন নিজামপুর কর্তৃক কন্টিনজেন্ট কমান্ডার আবু রাশেদ সুমনের নেতৃত্বে শিববাড়িয়া নদীতে মহিপুর জননী বরফকল ঘাট সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

আরো পড়ুন : কুয়াকাটায় রহমতের বৃষ্টি পেতে ইসতিসকার নামাজ আদায়

অভিযানে এমভি মা জননী নামের একটি কাঠের ট্রলিং বোট জব্দ করা হয়।

এ সময় বোট থেকে দুই হাজার কেজি শাপলা পাতা মাছ, তিনশত কেজি পীতাম্বরী ও ৪০ কেজি হাঙর মাছ জব্দ করা হয়।

মহিপুরের রেঞ্জ অফিসার আবুল কালাম আজাদ জানান, আমি ও কলাপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার প্রতিনিধি মো. মহসিন রেজার উপস্থিতি নিজামপুর কোস্টগার্ড রাত তিনটার দিকে মাটি চাপা দেয়।




বরিশালে আটক ১০ জেলের জরিমানা

বরিশাল অফিস :: মেঘনা নদীর জেলার হিজলা উপজেলা অংশের মৎস্য অভয়াশ্রমে মাছ ধরার সময় যৌথ অভিযান চালিয়ে ১০ জেলেকে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে মৎস্য অধিদপ্তরের হিজলা উপজেলার সিনিয়র মৎস্য অফিসার মোহাম্মদ আলম জানান, উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর, হিজলা থানা ও নৌ-পুলিশের সদস্যরা বৃহস্পতিবার বিকেলে যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছেন।

পরবর্তীতে আটককৃতদের হিজলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট ইয়াসীন সাদেকের পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালতে ৯ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযানে জব্দকৃত প্রায় ২০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও একটি বেহুন্দী জাল পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে।




বরিশালে আগুনে পুড়ে বৃদ্ধার মৃত্যু

বরিশাল অফিস :: বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলার উদয়কাঠি গ্রামের এক কৃষকের বসতঘরে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে আমিরুন নেছা নামের শতবর্ষী এক নারীর করুন মৃত্যু হয়েছে। তবে কিভাবে ঘরে আগুন লেগেছে সে বিষয়ে কেউ বলতে পারছেন না। ফলে অগ্নিকান্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন নিহত বৃদ্ধার স্বজন ও স্থানীয়রা।

শুক্রবার বিকালে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে উদয়কাঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাহাদ আহমেদ ননী জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে দশটার দিকে কৃষক মোশাররফ হোসেনের বসত ঘরে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। মুহুর্তের মধ্যে ঘরের সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এসময় ঘরের মধ্যে থাকা সবাই দৌঁড়ে বের হতে পারলেও কৃষক মোশাররফ হোসেনের ১২০ বছর বয়সের মা আমিরুন নেছা আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছেন। তবে কিভাবে আগুন লেগেছে সে বিষয়ে কেউ কিছু বলতে পারছেন না।

বরিশাল বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মাইনুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার পূর্বেই বসতঘরসহ বৃদ্ধা পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ওসি আরও বলেন, অগ্নিকান্ডের কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।




বাংলাদেশের উন্নয়নে পাকিস্তান প্রশংসা করে অথচ বিরোধী দল দেখে না

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে পাকিস্তান প্রশংসা করে, অথচ বিরোধী দল উন্নয়ন দেখতে পায় না। তারা দিনের আলোতে রাতের অন্ধকার দেখে। দেশের উন্নয়ন নিয়ে এতটা হীন মনোবৃত্তির পরিচয় তারা দিচ্ছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে তাদের বাস্তবতা বোঝা উচিত।

শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বাংলাদেশের যে উন্নতি ও উচ্চতা… এটা দেখে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ লজ্জিত হন। তখন পূর্ব পাকিস্তানকে তাদের কাছে মনে হতো বোঝা। এখন সে বোঝাই অনেক উন্নয়নে এগিয়ে গেছে। সে উন্নয়ন দেখে তিনি লজ্জিত হন। বিএনপি যতটা অপপ্রচার করে… তাদের শাহবাজ শরিফের বক্তব্য থেকে প্রকৃত সত্য শিক্ষা নেওয়ার অনেক কিছু আছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সারা বিশ্ব যুদ্ধ-সংঘাতে ভয়ংকর পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়েছে। আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, রাশিয়া-ইউক্রেন ও ইসরায়েল-ফিলিস্তিন-হামাস পৃথিবীকে উত্তপ্ত করে রেখেছে। বিশ্ব জনমতকে উপেক্ষা করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু রাফায় আগ্রাসী অভিযান শুরু করেছেন। এই পরিস্থিতিতে আমাদের নেত্রী যুদ্ধের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে চলেছেন। সকল প্রকার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো ও এ যুদ্ধকে না বলার জন্য বিশ্বের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, আফজাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রোকেয়া সুলতানা, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান ও কার্যনির্বাহী সদস্য সাহাবুদ্দিন ফরাজী প্রমুখ।




থাই পিএমও-তে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ আন্তরিক অভ্যর্থনা

 




অনুমোদনহীন বৈশাখী মেলায় ঘোড় দৌড়ে জুয়ার আসর, সংঘর্ষ, আহত ৫

বরিশাল অফিস :: ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার নৈকাঠিতে প্রশাসনের অনুমোদনহীন বৈশাখী মেলায় ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে একাধিক জুয়ার আসরে কয়েক লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। মেলা উপলক্ষে আয়োজিত দর্শনার্থীদের মধ্যে কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে গ্রুপিং নিয়ে সংঘর্ষ হয়েছে।

সংঘর্ষে রাজাপুর সরকারী ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সোহান ও তার সহোদর শোয়েবসহ অন্তত ৮ জন আহত হয়েছে। উপজেলার নৈকাঠি এলাকায় ধানের মাঠে আয়োজিত ৩দিন ব্যাপী মেলার বৃহস্পতিবার বিকেল ৬টার দিকে শুরু হওয়া প্রথম দিনেই এ দুর্ঘটনা ঘটে।

আহত সোহানের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ে (শেবাচিম) হাসপাতালে প্রেরণ করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজাপুর উপজেলার নৈকাঠি চৌমাথা (বাজার) সংলগ্ন ধানের মাঠে ৩ দিনব্যাপী মেলার আয়োজন করে স্থানীয়রা। এ নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে জোরালো প্রচারণাও করা হয়। বিকেল ৪টা থেকেই মেলার স্থলে বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা ভীড় করতে থাকে।

এ সময় উঠতি বয়সী কিশোরদের উপস্থিতি বেশিই বাড়তে থাকে। মেলা উপলক্ষ্যে অদূরেই দুটি জুয়ার আসর বসে। এক দিনেই কয়েকলাখ টাকা লেনদেন হয় এ জুয়ার আসরে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে শুরু হয় ঘোড়ার দৌড় প্রতিযোগিতা। প্রথম রাউন্ড দৌড় শেষেই কিশোরগ্যাংদের মধ্যে গ্রুপিং নিয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।

একপর্যায়ে খোলা মাঠে বিক্ষিপ্তভাবে সংঘর্ষ শুরু হলে মোল্লারহাট এলাকার দোকানদার দুলালের পুত্র সোহান নাকে-মুখে রক্তাক্ত অবস্থায় দাঁড়িয়ে বলে আমার কানে কামড় দিয়ে নিয়ে গেছে। পাশেই এসে শুয়ে পড়ে আহতাবস্থায় আরো কয়েক কিশোর বয়সী ছেলে।

মেলার আয়োজক কমিটি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিবেশ শান্ত করে। আহতদের মধ্যে সোহানের ছোট ভাই শোয়েবও ছিলো। দর্শনার্থী ঘনিষ্ঠজনরা সোহানকে উদ্ধার করে রাজাপুর হাসপাতালে নিয়ে যায়।

রাজাপুর থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতা তো অনেক জায়গায়ই চলে। তবে বৈশাখী মেলা কোথাও চলে না। তাহলে জেলা প্রশাসন থেকে অনুমোদন নিতে হবে। যদি কোথাও জুয়ার আসর বসে তার সুনির্দিষ্ট তথ্যানুসন্ধান করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিশোরগ্যাং সংঘর্ষের ঘটনায় অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানান তিনি।

রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারহানা ইয়াসমিন জানান, কোথাও বৈশাখী মেলা আয়োজনের তথ্য আমার কাছে নেই। জেলা প্রশাসন থেকে যদি অনুমতি নিতো তাহলে আমার নলেজে থাকতো। অবৈধ কোন মেলার আয়োজন হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।




কুয়াকাটায় রহমতের বৃষ্টি পেতে ইসতিসকার নামাজ আদায়

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বৈশাখের শুরুতেই তীব্র তাপদাহ , ঝাঁঝালো রোদ আর অসহ্য গরমে অতিষ্ঠ কুয়াকাটার উপকূলীয় খেটে খাওয়া মানুষ। প্রখর রোদ আর অনাবৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন ফসল। তীব্র এই গরম থেকে পরিত্রাণের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে কুয়াকাটা বঙ্গবন্ধুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠের খোলা আকাশের নিচে ইসতিসকার নামাজ ও দোয়া করেন মুসুল্লিরা। নামাজ শুরুর পূর্বে ইমাম সাহেব সকলকে তার পরনের পোশাক উল্টিয়ে নিতে বলেন।

শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) সকাল ৯টায় নামাজ শেষে অনাবৃষ্টি ও প্রচণ্ড খরা থেকে রেহাই পেতে মহান আল্লাহর কাছে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

আরো পড়ুন : খানাখন্দে ভরা কলাপাড়া-কুয়াকাটা সড়ক

নামাজ ও মোনাজাত পরিচালনা করেন, কুয়াকাটা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সাবেক পেশ ইমাম ও খতিব মাওলানা রফিকুল ইসলাম সরোয়ারি। নামাজ ও দোয়ায় ছাত্র, যুবকসহ শহরের আশপাশের শতশত মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন। তাওবাতুন নাসুহা বা একনিষ্ঠ তাওবার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে রহমতের বৃষ্টি কামনা করে ২ রাকাত নফল নামাজ আদায় করা হয়। মোনাজাতে মুসল্লিরা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং তওবা ও ক্ষমাপ্রার্থনা করেন। এ সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে মুক্তিসহ দেশ ও জাতির কল্যাণে দোয়া করা হয়।

নামাজে অংশ নেওয়া মুসল্লিরা জানান, প্রচণ্ড দাবদাহ ও অনাবৃষ্টির কারণে শুকিয়ে যাচ্ছে মাঠঘাট কৃষিজমি। তীব্র খরায় ফসল উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষক। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন মানুষ। এখন চাষাবাদ করতে পারছি না। তাই আল্লাহর অশেষ রহমতের জন্য এ নামাজ আদায় করা হয়েছে।