ব্যারিষ্টার শাহজাহান ওমর এমপি’র রোগমুক্তি কামনায় দোয়া ও মিলাদ

বরিশাল অফিস :: ঝালকাঠি পিংড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির উদ্যোগে ব্যারিষ্টার শাহজাহান ওমর এমপি’র রোগমুক্তি কামনায় দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৬  এপ্রিল) বাদ আছর পিংড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয় জামে মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন পিংড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবগঠিত ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো: মেহেদী হাসান শাহিন খলিফা। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল কাদের।

এসময় মসজিদের মুসল্লি স্থানীয় মুরব্বি ফজলুল হক খলিফা, যুবনেতা নয়ন খলিফা, জলিল মেম্বর, জাহাঙ্গীর মেম্বর, ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি মীর মো: মোস্তফা, ২নং শুক্তাগড় ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো: বাহাদুর মৃধা,ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি সৈয়দ সুমন, মো: বিপ্লব, বাবুল খলিফাসহ এলাকার অর্ধ শতাধিক মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।

ঝালকাঠি -১ আসনের সংসদ সদ্য ব্যারিষ্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তম হৃদ রোগের চিকিৎসার জন্য ওপেন সার্জারী করাতে ১৭ এপ্রিল লন্ডনে গমন করেছেন। মুসল্লিরা তার আশু রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মোনাজাতে তাঁর সুস্থতা কামনা করেন।




প্রচার-প্রচারণায় ভোটারদের মন জয় করছেন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম

জাকির নেগাবান,বরিশাল :: বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে প্রতিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে কিছুদিন পূর্বে। প্রতিক বরাদ্দের পর থেকেই বেশ সর-গরম সদর উপজেলার নির্বাচনী পরিবেশ। বরিশাল সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থীদের পাশাপাশি ভাইস চেয়ারম্যান পদে বেশ কয়েকজনের নাম শোনা গেলেও বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বরিশাল সিটিকর্পোরেশনের উন্নয়নের রুপকার প্রয়াত মেয়র আলহাজ্ব শওকত হোসেন হিরনের বিশ্বস্ত কর্মী মো: জসিম উদ্দিন ছাড়া মাঠে কারোর’ই তেমন একটা জনপ্রিয়তা নেই বলে মনে করছেন বরিশাল সদর উপজেলাবাসী।

বরিশাল সদর উপজেলার চড়বাড়িয়া ইউনিয়নের স্কুল ছাত্রী আসমা আক্তার জানান, আমাদের ইউনিয়নে বেশ কিছু সমস্যার বিষয়ে আমরা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম ভাইয়ার সাথে কথা বলছি। সে’ও (জসিম উদ্দিন) খুব মনযোগ দিয়ে আমাদের কথাগুলো শুনেছে। আমরা আশা করি তিনি বরিশাল সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে আমাদের এখানে সমস্যা গুলো তার মাধ্যমেই সমাধান করা সম্বব। উপজেলার শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের কলেজ পড়ুয়া ছাত্র ইমরান হোসেন বলেন, ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম উদ্দিন ভাইয়ের নাম আমরা ছোট বেলা থেকেই শুনে আসছি।

শুনেছি, সে অনেক ভালো মানুষ। ভালো মানুষকেই জনপ্রতিনিধি বানানো উচিৎ। তাতে আমাদের’ই লাভ। চরমনাই ইউনিয়নের একটি বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মোখলেছুর রহমান জানান, নির্বাচনে এমন ব্যাক্তিকে ভোট দেওয়া উচিৎ, যিনি সাধারন মানুষের যেকোন বিপদের কথা শুনলেই দ্রুত এগিয়ে আসতে পারেন। বয়স্ক লোক দ্বারা সাধারনত এখন আর সেটা হয়না। জসিম উদ্দিন বয়সে অন্য প্রার্থীদের চেয়ে তরুন ও পরিশ্রমী। আমি দেখেছি, তার (জসিম উদ্দিনের) মধ্যে সাধারন মানুষের জন্য কিছু একটা করার ইচ্ছা ছোট বেলা থেকেই। আমি বিশ্বাস করি জসিম উদ্দিন বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভাইস চেয়ারম্যান হলে বরিশাল সদর উপজেরার চেহারা পাল্টে যাবে।

সব মিলিয়ে বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম উদ্দিনের জয়জয়কার সর্বমহলে।




ভোলার দৌলতখানে বৃষ্টির জন্য ইস্তিস্কার নামাজ আদায়

বরিশাল অফিস :: ভোলার দৌলতখানে তীব্র তাপপ্রবাহে বৃষ্টির জন্য ইস্তিস্কার নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিরা। শুক্রবার বিকাল ৪ টায় দৌলতখান পৌর সভার ৭ নং ওয়ার্ডের কলেজ রোডের অধ্যক্ষ জাকির হোসেন জামে মসজিদ মাঠে এই নামাজ আদায় করেন মুসুল্লিরা। নামাজে ইমামতি করেন অধ্যক্ষ জাকির হোসেন জামে মসজিদের ইমাম মাওঃ মুফতি বেলায়েতুল ইসলাম।

নামাজ আদায় শেষে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন দৌলতখান মডেল মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি রেজাউল করীম বোরহানি। মোনাজাতে তীব্র তাপদাহ থেকে রক্ষায় প্রশান্তি পেতে মহান আল্লাহর দরবারে বৃষ্টির জন্য মোনাজাত করা হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে মুক্তি এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে আল্লাহর কাছে দোয়া মোনাজাত করেন মুসল্লিরা। ইস্তিস্কার নামাজের এই জামাতে আশপাশের এলাকা থেকেও শতাধিক মুসল্লী অংশ নেন।




এফডিসিতে হামলার প্রতিবাদে পিরোজপুর সাংবাদিকদের মানববন্ধন

বরিশাল অফিস :: বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নব-নির্বাচিত কমিটির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদ ও সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে পিরোজপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা।

শুক্রবার সকালে পিরোজপুর শহরের টাউন ক্লাব সড়কে সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও গ্লোবাল টিভির রিপোর্টার জুবায়ের আল মামুনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়। ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধনে হামলায় জড়িত অভিনেতা জয় চৌধুরী, শিবা শানু ও আলেকজান্ডার বো’কে সমিতির সদস্যপদ বাতিলসহ যথাযথ শাস্তির দাবি জানান।

এছাড়াও পাবনায় সংবাদ প্রকাশের জেরে সন্ত্রাসীদের হামলায় পা ভেঙে যাওয়া সাংবাদিক মানিক হোসেনের উপর হামলাকারীদের বিচারের দাবিও জানানো হয়। পিরোজপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও এখন টিভির রিপোর্টার ইমন চৌধুরী বলেন, শিল্পী সমিতির নব-নির্বাচিত কমিটির শপথ গ্রহণ শেষে মঙ্গলবার বিকালে কয়েকজন শিল্পীর নেতৃত্বে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায় এফডিসির কর্মীরা। এ ঘটনায় হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন দৈনিক খবরের কাগজের বিনোদন প্রতিবেদক মিঠুন আল মামুন ও ক্যামেরাম্যান আরমান।

আরমানের মাথায় ৮টি সেলাই পড়েছে। এছাড়াও আরো প্রায় ২০ জন সাংবাদিক ও ক্যামেরাম্যানকে পিঠিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেছেন। আমরা আমাদের সহকর্মীর উপর হামলার কঠিন বিচার দাবি করছি এবং যারা শিল্পীর নামে গুন্ডাগিরি করে তাদের দ্রুত বহিস্কার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি জুবায়ের আল মামুন বলেন, শুধু এফডিসিতে নয় সারাদেশের সাংবাদিকরা আজ নির্যাতিত হচ্ছে। আমরা রাষ্ট্রের কাছে জানতে চাই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা কে দিবে? পাবনায় নকল দুধের কারখানার খবর প্রকাশ করায় সাংবাদিক মানিক হোসেনের পা ভেঙে দিয়েছে সন্ত্রসীরা।

সর্বশেষ শিল্পী নামের কিছু গুন্ডা সাংবাদিকদের উপর হামলা করেছে। আজকাল সাংবাদিকদের পিটালে বা হত্যা করলে কোনো সঠিক বিচার না হওয়ায় আজ সব খানে সাংবাদিকরা নির্যাতিত। এসবের বড় উদাহরণ সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যাকান্ড। আমরা সাংবাদিকরা রাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্তা চাচ্ছি এবং ঢাকা,পাবনা ও গাজীপুরে যেসকল সাংবাদিকরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তাদের বিচারের দাবি জানাচ্ছি।

পিরোজপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ইমন চৌধুরীর সঞ্চালনায় মানব বন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন, সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি ও এশিয়ান টিভির জেলা প্রতিনিধি অমিত হাওলাদার,দপ্তর সম্পাদক ও দৈনিক ভোরের পাতার প্রতিনিধি মোঃ নাছির উদ্দীন, কার্যনির্বাহী সদস্য ও আনন্দ টিভির প্রতিনিধি মোঃ কবির খান,দৈনিক মানবকণ্ঠের প্রতিনিধি নাছিরুল্লাহ আল কাফি,দৈনিক ভোরের ডাকের প্রতিনিধি মোঃ জাকারিয়া ও সাবেক ছাত্রনেতা নাঈমুর রহমান অনিক সহ আরো অনেকে।




আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিশ্ববাজারে পটুয়াখালীর মৃৎ শিল্প

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর মৃৎ শিল্পে এসেছে বৈচিত্র্য। নিত্যপণ্যের বাইরে এখানে তৈরি হচ্ছে হরেক রকম শো-পিস। যা দেশের চাহিদা মিটিয়ে চলে যাচ্ছে বিশ্ব বাজারে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা আর স্বল্প সুদে ঋণ পেলে এই শিল্প আরও এগিয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিল্পীদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ঘুরছে চাকা। দক্ষ হাতের ছোঁয়ায় এটেল মাটির দলা থেকে তৈরি হচ্ছে নানা পণ্য। এমন চিত্র চোখে পড়ে পটুয়াখালীর বাউফলের কুমার পাড়ায়। আগে শুধু গৃহস্থালি নিত্যপণ্য বানানো হলেও আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন বৈচিত্র্য এসেছে এখানকার মৃৎ শিল্পে।

আরো পড়ুন : কুয়াকাটায় রহমতের বৃষ্টি পেতে ইসতিসকার নামাজ আদায়

এখান থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যায় মাটির তৈজসপত্র। এমনকি দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশের বাজারও দখল করছে এ পণ্যগুলো। এতে ভাগ্য বদল হয়েছে এখানকার কুমারদের। 

এ শিল্পে উচ্চ আয়ের হাতছানি থাকলেও উদ্যোক্তাদের রয়েছে পুঁজির অভাব। তাই সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে মৃৎ শিল্পকে অনন্য উচ্চতায় নেয়া সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

আরো পড়ুন : বিপুল পরিমাণ শাপলা পাতা-পিতাম্বরী ও হাঙর মাছ জব্দ

কারিগররা বলেন, মাটি যেন আমরা সহজ পদ্ধতিতে পাইতে পারি, সেটাই সরকারের কাছে আমাদের আকুল আবেদন। যাদের চাহিদা আছে তাদেরকে স্যাম্পল অনুযায়ী দিতে পারলে আরও ভালো হতো। যদি সরকারি আরও সহযোগিতার পাই তাহলে আমরা সঠিকভাবে শিল্পটাকে উপস্থাপন করতে পারবো।

এলাকার কুমারদের আরও দক্ষ করে তুলতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ঋণ সহায়তা দেয়ার কথা জানান এসএমই ফাউন্ডেশনের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম।

তিনি বলেন, ‘রপ্তানি করার ব্যাপারে তাদেরকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি মাত্র ৪ শতাংশ সুদে তাদেরকে ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করে থাকে এসএমই ফাউন্ডেশন।’

বাউফলে মৃৎ মিল্পের ছোট-বড় প্রায় ৮০টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ৫ হাজার মানুষের।




ব্যাংকিং খাতের ব্যর্থতা ঢাকতে সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা




বরিশালে সন্ধ্যা হলে মশা যেভাবে ঘিরে ধরে, মনে হয় উড়িয়ে নিয়ে যাবে

বরিশাল অফিস:: বরিশাল নগরীর উত্তর সাগরদী এলাকায় খলিফা মঞ্জিলের সামনে দাঁড়িয়ে থেকে অবাক হবেন অনেকেই। কেননা বাড়ির দরজায় যখন কেউ মশারি টানিয়ে রাখে তখন অবাক হবারই কথা। মশার যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে বাড়ির প্রবেশ পথের দরজায় টাঙিয়েছেন মশারি। দিন কিংবা রাত সব সময়ই মানুষকে জ্বালাতে হয় মশার কয়েল। এতে মশা না মরলেও কয়েলের ধোয়ায় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন সব শ্রেণি বয়সের মানুষ। বর্তমানে মশার উপদ্রবে দিশেহারা বরিশাল নগরবাসী।

মশা বাহিত নানা রোগের আতঙ্কে দিনাতিপাত করছে তারা। ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে এ ব্যাপারে এখুনি উদ্যোগ নেবার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, কোনোভাবে বাগে আনা যাচ্ছে না ছোট এ পতঙ্গের বিস্তার দিন কিংবা রাত এক মুহূর্ত মশার কয়েল না জ্বালিয়ে থাকতে পারছে না বরিশাল নগরবাসী। তবুও মশার প্রকোপে অতিষ্ঠ সবাই। এ যেন মশা মারতে কামান দাগিয়েও হচ্ছে না রেহাই।

৫৮ দশমিক এক পাঁচ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ নগরীর বাসিন্দাদের তাড়া করছে ডেঙ্গু আতঙ্ক। খাল, নালা, নর্দমা জুরে মশার প্রজনন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। কিন্তু মশক নিধনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে উঠেছে গড়িমসির অভিযোগ। নগরবাসী বলছে, সিটি কর্পোরেশন থেকে যে ওষুধ দেয়া হচ্ছ তাতে মশা মরছেনা। বরং বিভিন্ন ড্রেন ও খালে থাকা তেলাপোকা বাড়িতে ও রাস্তায় এসে মারা যাচ্ছে।

নগরীর রূপতলী হাউজিং এলাকার বাসিন্দা আবুল বাশার বলেন, ছয়তলায় একটি ফ্লাটে স্ত্রী ও দুই ছেলে মেয়ে নিয়ে থাকি। মশার উৎপাত এতই বেশি যে, সন্ধ্যার পর ছেলে মেয়েকে মশারির মধ্যে রাখতে হয়। মশার জ্বালায় বাসায় কোথাও একটানা বসে থাকা যায় না। মশার কামড়ে স্বাভাবিক কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কিন্তু মশা মারতে করপোরেশনের লোকজন স্প্রে করে গেলেও তা কোনো কাজে দিচ্ছে না।

তিনি বলেন, নগরীর অন্য এলাকার তুলনায় এটি নিম্নাঞ্চল। সারা বছরই এ ওয়ার্ডে পানি জমে থাকে। এরমধ্যে নতুন নতুন বহুতল ভবন গড়ে উঠছে। এছাড়া রূপতলী হাউজিং এলাকার পাশেই বাস টার্মিনাল। সেখানে টায়ার ও পরিত্যক্ত টিউব, যন্ত্রপাতি পরিত্যক্ত অবস্থায় প্রায় পড়ে থাকে।

টার্মিনালের রাস্তার দুই পাশের ড্রেন ও নালায় অসংখ্য প্লাস্টিকের কাপ, পানির বোতল, কর্কশিটের বাক্স, ডাবের খোসা, ঠোঙা জমে আছে। এখানে প্রচুর মশা জন্মায়। নতুন বাজার কালী মন্দির গলির বাসিন্দা ফারজানা জানান, নতুন বাজার হলো মশার কারখানা। সন্ধ্যার পর বাইরে বের হলে মশা যেভাবে ঘিরে ধরে, মনে হয় উড়িয়ে নিয়ে যাবে। দিনেও মশা কামড়ায়। ২৪ ঘণ্টা কয়েল জ্বালিয়ে রাখতে হয়। বাচ্চাদের মশারির মধ্যেই রাখতে হয়।

বান্দ রোড এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহমান জানান, আগে দেখতাম সন্ধ্যা হলে মশার উৎপাত শুরু হয়, এখন দিন রাত সমান তালে মশার যন্ত্রণা। তবে সন্ধ্যার পর তা চরমে পৌঁছে। সন্ধ্যার পর কয়েল ছাড়া ঘরে থাকা যায় না।

এ বিষয়ে বরিশাল সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সাবেক সভাপতি শাহ্ সাজেদা বলেন, নগরীর সবখানেই মশার উৎপাত। সিটি করপোরেশনের মশক নিধন কার্যক্রম চললেও মশা কমছে না। মশা নির্মূলে আগাম ব্যবস্থা না নিলে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ৫৮ বর্গ কিলোমিটারের বরিশাল নগরীতে পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। ৩০টি ওয়ার্ডে বিভক্ত এ সিটির মশা নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন মাত্র ১০০ কর্মচারী। আধুনিক সরঞ্জাম বলতে রয়েছে ১০টি ফগার মেশিন। আর রয়েছে ৪৫টির মতো হস্তচালিত স্প্রে। তবে যারা এসব পরিচালনা করছেন, তাদের নেই কোনো দাপ্তরিক প্রশিক্ষণ। ফলে তারা জানেন না কোথায় কোন প্রজাতির মশা রয়েছে। কোন মশার জন্য কী ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। আর কীটনাশক প্রয়োগের মাত্রার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন সীমা কতটুকু।

কিন্তু মশার উপদ্রব বন্ধে সিটি করপোরেশন থেকে নানা উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানান সংশ্লিষ্টরা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বরিশাল সিটি করপোরেশনে মশক নিধনের জন্য কীটনাশক ক্রয় বাবদ প্রস্তাব করা হয় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। আর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বাবদ ৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের মশক নিধনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস জানান, মশক নিধনে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রোগ্রাম নিয়েছি। প্রতিদিন প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি টিম মশার লার্ভা শনাক্তে কাজ করেন। লার্ভা শনাক্ত হলে সেখানে হ্যান্ড স্প্রে ব্যবহার করে লার্ভা ধ্বংস করা হয়।

এছাড়া বিকেলে ফগার মেশিন দিয়ে মশক নিধনে স্প্রে করা হয়। তবে যারা এসব কাজ করছে তারা প্রত্যেকে ২০/২৫ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। তিনি আরও বলেন, এডিস মশার লার্ভা শনাক্তে বরিশালে কোনো ল্যাব নেই। যে কারণে মশার লার্ভা শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। তবে মশার লার্ভা শনাক্তের জন্য বরিশাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে একজন কর্মকর্তা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কর্মকর্তা দেওয়া হয়নি।

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, মশার কামড় থেকে বাঁচাতে ঘরে সবাইকে মশারি ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া বাড়ির আশপাশে যাতে মশার বংশবিস্তার লাভ করতে না পারে এজন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মশক নিধনে কাজ করতে হবে।

 




ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র, গ্রেপ্তার শত শত




তালতলীতে ৮ জনের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা

বরিশাল অফিস :: বরগুনার তালতলীতে আলোচিত আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনার জেরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ছোটবগী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তৌফিকুজ্জামান তনুসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তালতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক মামলাটি করেন।

বৃহস্পতিবার আমতলী উপজেলা জুডিশিয়াল মেজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মো. আরিফুর রহমান মামলাটি আমলে নিয়ে বরগুনা ডিবি পুলিশের ওসিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- তারেকুজ্জামান তারেক, আরিফ হোসেন, যুগান্তর পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার জসিম উদ্দিন সিকদার, কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের শফিকুল ইসলাম ইমন, মিলন গাজী, ছোটবগীর ঠংপাড়া গ্রামের মো. ফারুক ও পচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের তাশরিফ আহমেদ জুয়েল।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২০২২ সালের ১০ অক্টোবর মামলার ১ নম্বর আসামি তৌফিকুজ্জামান তনু তার ফেসবুক আইডির ম্যাসেঞ্জারে একটি আপত্তিকর ভিডিও প্রেরণ করেন। পূর্বকল্পিত সৃজিত ভিডিওটি প্রেরণ করে আসামি তার বড় ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মিন্টুর পক্ষে উপজেলা পরিষদে নির্বাচনে কাজ করতে হবে বলেন। তার ভাইয়ের নির্বাচন না করলে ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি প্রদান করেন এবং বিভিন্ন সময়ে ১ নম্বর আসামি ভিডিও ভাইরাল করার কাণ্ডে পঞ্চাশ লাখ টাকা দাবি করেন। গত ৩ এপ্রিল ২০২৪ বাদী ব্যাংকে যাওয়ার সময় মামলার ২ নম্বর আসামি তাকে তার অফিসে ডেকে নিয়ে একই ঘটনায় পঞ্চাশ লাখ টাকা দাবি করে। এ সময় বাদী টাকা দিতে অস্বীকার করলে তার ব্যাগে থাকা পাঁচ লাখ টাকা ২ নম্বর আসামি জোড়পূর্বক আদায় করেন।

মামলার বাদী আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার বলেন, উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমাকে সমাজে ছোট করার জন্য আসামিরা সিরিজ ভিডিও তৈরি করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে আদালতে পর্নোগ্রাফি আইনের মামলা করেছি।

এ ব্যাপারে আসামি তৌফিকুজ্জামান তনু বলেন, আবদুর রাজ্জাক হাওলাদার নিজের অপরাধ ঢাকতে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে।

বরগুনা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি মো. বশির আলম বলেন, এখনো মামলার নথি পাইনি। নথি পেলে তদন্ত করে প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়া হবে।




বরগুনায় দুই পা-এক হাত বিহীন ছোট্ট সুলতানার বাঁচার লড়াই!

বরিশাল অফিস :: জন্ম থেকেই নেই দুই পা। হাতের ওপর ভর দিয়ে যে চলবে তারও কোনো উপায় নেই। তাও আবার ডান হাত নেই। মুখে হাসি আর মিষ্টি কথার বুলি…। হাসি আর খেলায় মাতলেও শূন্যতা রয়েছে সুলতানার। দুই পা আর এক হাত বিহীন সুলতানার শূন্যতা তো আছেই, এ শূন্যতায় কাঁদছে পরিবার ও প্রতিবেশীরাও।

অন্য শিশুর মতো হাটাচলাও করতে পারছে না। বিছানাই যেন তার একমাত্র ভরসা। অন্য শিশুরা বাড়ির উঠানে লেখায় মেতে উঠলেও ওদের সঙ্গে খেলেত পারছে না। এখন বুঝতে শুরু করেছে সুলতানা। ওর হাত নেই, পা নেই।

বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন এই শিশুর কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা খাদিজা বেগম। বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছোট টেংরা গ্রামের সুলতান মিয়ার মেয়ে সুলতানা। সুলতানার জন্ম ২০২১ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি। অনেক আদর করে বাবার নামের সঙ্গে মিল রেখে শিশুর নাম রেখেছেন সুলতানা।

প্রথম সন্তান সুমনের জন্মের ১৭ বছর পর জন্ম হয় সুলতানার। বাবার আর্থিক সচ্ছলতা না থাকার কারণে এখন দিনমজুরের কাজ করেন সুমন। এক ছেলে ও মেয়ে সুলতানাকে নিয়ে অভাবে কাটে তাদের সংসার।

সুলতানার বাবা সুলতান বলেন, আমাদের কান্না ছাড়াই আর কিছুই নেই। আমাগো শান্তিই হলো কান্না। এখন মেয়েটার বয়স ৩ বছর, দুইটা পা এবং একটি হাত নেই। মেয়েডা চলাফেরা করার জন্য অনেক আশা করে কিন্তু পারে না। সব পোলাপান খেলে, আর ও খেলতে পারে না। আমার সন্তান, আমি কোন জায়গায় ফালাইতে পারমু না। আমি যতদিন আছি, আমিই লালন পালন করমু। কিন্তু বড় হইলে ভবিষ্যতে কে দেখবে?

মা খাদিজা বেগম বলেন, মনুরে আল্লায় এইভাবে বানাইছে, মনুর বয়স এহন ৩ বছর। এখন কথা বলতে পারে, সবাই হাঁটে আর ও হাঁটতে পারে না। বলে মা মুই হাটতে পারি না ক্যা? মোর পাও নাই ক্যা। ওর কথার উত্তরে একটাই বলি ‘তোমারে আল্লায় বানাইছে’। মাঝে মাঝে সুলতানা বলে, মোর হাত-পা অইবে তো, মুই হাঁটতে পারমু? মা… মোর পা অইবে… মুই হাঁটতে পারমু…!

প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর আলম জানান, সুলতানার জন্ম থেকেই খোঁজ রাখছেন প্রতিবেশীরা। তার মা-বাবা তাকে নিয়ে খুব কষ্ট করছেন এবং দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন। সুলতানার কষ্ট দেখে তারও খুব কষ্ট হয়।

সাংবাদিক মির্জা শহিদুল ইসলাম খালেদ বলেন, শিশুর স্বাভাবিক বেঁচে থাকার অধিকার যেমন আছে তেমনি রাষ্ট্রেরও দায়িত্ব রয়েছে। আমরাও তাকে সহযোগিতা করে আসছি।

সাংবাদিক জসিম ও তারিকুল ইসলাম কাজী রাকিব বলেন, সুলতানার জন্মের পরপরই প্রথম আমাদের নজরে আসে। আমরা সেই থেকেই সুলতানার খোঁজ খবর নিচ্ছি এবং যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)মো. রোকনুজ্জামান খান বলেন, আমিও খোঁজখবর নিয়েছি, আসলেই নির্মম। উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল প্রকার সহযোগিতাসহ তার পাশে থাকবে। এরই মধ্যে আমি সমাজসেবা অফিসারের সঙ্গে কথা বলেছি। আশাকরি দ্রুত সময়ের মধ্য তার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ভাতা ব্যবস্থা করা হবে।

সুলতানাকে সাহায্য করতে চাইলে তার বাবার ০১৭১৮-৩৭৪২৩৩ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।