বৃষ্টির জন্য অঝোরে কাঁদলেন দশমিনার মানুষ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: দশমিনায় তীব্র তাপপ্রবাহ থেকে রক্ষা পেতে বৃষ্টির পানি চেয়ে মহান আল্লাহর দরবারে সাহায্য চেয়ে ইসতিসকার নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিরা।

শনিবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ৮ টায় দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়েে মাঠে প্রচন্ড রোদে দাঁড়িয়ে ইসতিসকার বৃষ্টির জন্য নামাজ আদায় করেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরা।

ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের আয়োজনে স্থানীয় বিভিন্ন বয়সী মানুষ অংশগ্রহণ করেন। নামাজ শেষে দুহাত তুলে মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে চোখের পানি ফেলে মহান আল্লাহর নিকট ক্ষমাপ্রার্থনা করে তীব্র তাপদাহ থেকে মুক্তি,ফসল রক্ষা ও বৃষ্টির জন্য দোয়া করেন।

আরো পড়ুন : বৃষ্টি চেয়ে বাউফলে ইসতিসকার সালাত, অংশ নিলেন এমপি আসম ফিরোজ

ইমামতি ও দোয়া পরিচালনা করেন দশমিনা সরকারি মডেল মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা মোঃ রেজাউল করিম।

এসময় নামাজ পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা ছিলেন চরহোসনাবাদ বাজার জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা হুমায়ুন কবির,নলখোলা বাজার জামে মসজিদের ইমাম ও খতি মাওলানা কবির হোসেন।

দশমিনা বাজার বণিক সমিতির সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল হক বলেন, দীর্ঘদিন অনাবৃষ্টির কারণে মানুষ, পশুপাখি গাছপালাসহ সবাই কষ্টে আছে। তাই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে বৃষ্টির জন্য নামাজ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়।

এর আগে নামাজের শুরুতেই ইমাম সাহেব ইসতিসকারের নামাজ সম্পর্কে আলোচনা করে।




বৃষ্টি চেয়ে বাউফলে ইসতিসকার সালাত, অংশ নিলেন এমপি আসম ফিরোজ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফল পাবলিক মাঠে শনিবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ৮টায় বৃষ্টির জন্য ইসতিসকার সালাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সহস্রাধিক মুসুল্লির সঙ্গে জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ আসম ফিরোজ এমপি ইসতিসকার সালাত আদায় করেন।

এ সময় সমবেত মুসুল্লিরা তওবা করে মহান আল্লাহর দরবারে বৃষ্টির জন্য বিশেষ মোনাজাত করেন।

সালাতে ইমামতি করেন শাহী মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা আবদুর রহমান।

আরো পড়ুন : দুমকিতে বৃষ্টি কামনায় ইস্তিকার নামাজ আদায়

খুতবা পাঠ করেন উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের খতিব অধ্যক্ষ ড. মো. হাবিবউল্লাহ এবং মোনাজাত পরিচালনা করেন বাউফল সরকারি কলেজ মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. শাহজাহান।

মুসুল্লিরা জানান, কয়েকদিন ধরে প্রচন্ড তাপদাহে ওষ্ঠাগত প্রাণীকূল। শুক্রবার ডিজিটাল ডিভাইসে বাউফলের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস দেখানো হয়েছে। তাপদাহে কাজে বের হতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। সূর্যের তাপের কারণে মুগডালসহ রবিশস্য তুলতে পারছেন না কৃষকরা।

গরমের কারণে ডায়রিয়াসহ নানা রোগবালাই বেড়ে চলছে।




দুমকিতে বৃষ্টি কামনায় ইস্তিকার নামাজ আদায়

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: তীব্র তাপদাহে পুড়ছে সমগ্র বাংলাদেশ। এই তাপদাহ থেকে পরিত্রাণ পেতে বৃষ্টির কামনায় পটুয়াখালীর দুমকির পাংগাসিয়া নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসা ও পাংগাসিয়া দরবার শরীফের উদ্যোগ বিশেষ ইস্তিকার নামাজ আদায় করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

শনিবার (২৭এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৬টায় এই বিশেষ নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পাংগাসিয়া নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসার মাঠে এ বিশেষ নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এই নামাজের ইমামতি করেন হযরত মাওলানা মুফতি মোঃ ইউসুফ আলী প্রধান মুহাদ্দিস,পাঙ্গাসিয়া নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসা।

আরো পড়ুন : গলাচিপার সু-স্বাদু মুগডাল যাচ্ছে জাপানে

নামাজে অংশ নেওয়া মুসল্লিরা জানান, প্রচণ্ড দাবদাহ ও অনাবৃষ্টির কারণে শুকিয়ে যাচ্ছে মাঠঘাট কৃষিজমি। তীব্র খরায় ফসল উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন মানুষ। রোদের আলোয় কেউ বের হতে পারছে না ঘর থেকে।

দিনমজুর সহ নিম্ন আয়ের মানুষরা পরেছে চরম ভোগান্তিতে। চলমান মৌসুমে চাষাবাদ করতে পারছে না কেউ। তাই আল্লাহর অশেষ রহমতের জন্য এ নামাজ আদায় করা হয়েছে বলে জানান তারা।




গলাচিপার সু-স্বাদু মুগডাল যাচ্ছে জাপানে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বাংলাদেশের পরিবারগুলোর প্রতি দিনের খাদ্য তালিকায় ভাতের পরই ডালের স্থান। এ দেশের প্রায় সব রকমের ডালই চাষ করা হয়। এসবের মধ্যে মুগডাল অন্যতম।

গলাচিপায় মাঠে মাঠে মুগডালের সমারহ। এটি খেতে যেমন সু-স্বাদু, তেমনি চাষ করেও ভালো দাম পাওয়া সম্ভব। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মুগডালের আবাদ হয়ে থাকে। এর মধ্যে পটুয়াখালী, বরগুনা, বরিশাল জেলায় আবাদ বেশি হয়। গলাচিপায় উৎপাদিত ডাল দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানোর পাশাপাশি বিদেশেও রফতানি করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গলাচিপায় মুগডালের আবাদ হয়েছে ১৫ হাজার ৮০০ হেক্টর, ফেলন (পেলেন ডাল) ডাল ৭৭০ হেক্টর ও খেসারী ডাল ৮৫০ হেক্টর। এ বছর ডালের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৪ হাজর ৫০০ হেক্টর। তবে তা ছাড়িয়ে গেছে। কম বেশি ডালের আবাদ করলেও চাষীর সংখ্যা ২২ হাজার ৫০০-এর মতো। বর্তমান সরকার রবি মৌসুমে কৃষি প্রণোদনা হিসেবে গলাচিপা উপজেলার ৩ হাজার ৫০০ চাষীকে বিনামূল্যে জনপ্রতি পাঁচ কেজি করে বীজ মুগডাল বারী-৬, ২০ কেজি করে ড্যাব ও এমওপি সার বিতরণ করা হয়েছে।

আরো পড়ুন : নির্মাণের ১৫ দিনের মধ্যেই ভাঙা হলো ২ লাখ টাকার ঘাটলা

সূত্রে আরো জানা গেছে, এলাকাভেদে মুগের বপন সময়ের তারতম্য দেখা যায়। রবি মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলের জন্য বপনের উত্তম সময় হচ্ছে পৌষ-মাঘ মাস (জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ হতে ফেব্রুয়ারির মধ্য ভাগ)। আষাঢ় মাসে (মধ্য জুন থেকে মধ্য জুলাই) অবিরাম বৃষ্টিতে মুগের ফল পচে যায়। চৈত্র মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে (মধ্য মার্চ) বীজ বপন সম্পন্ন করতে পারলে আষাঢ় মাসের আগেই ফসল সংগ্রহ করা যায় এবং ফল পচনের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হয়। তীব্র তাপদাহের কারণে কৃষক-কৃষাণীরা ডাল তোলার জন্য সূর্য উঠার আগ থেকেই ক্ষেতে কাজ শুরু করে। সূর্যের তাপের তীব্রতার কারণে ক্ষেত থেকে ডাল তোলা সমস্যায় পড়তে হয় কৃষকদের। এছাড়া গাছগুলো ভালোভাবে শুকিয়ে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে বা গরু দিয়ে মাড়াই করে মুগডাল সংগ্রহ করা হয়।

সরেজমিনে গলাচিপা সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কালিকাপুর গ্রামের কৃষক আ: ছালাম মৃধা (৭৩) জানান, তিনি ৬০ শতাংশ জমিতে মুগডাল আবাদ করেছেন। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে ট্রাক্টর বাবদ ২৭০০ টাকা, দৈনিক ৭০০ টাকা মজুরি বাবদ ছয় দিনে ৪২০০ টাকা, সার বাবদ ৪৫০ টাকা, ওষুধ বাবদ ১২২০ টাকা ও বীজ বপন করতে ১০০০ টাকা খরচ হয়েছে। তার উৎপাদিত ডাল হয়েছে দুই মণ। যার বাজার মূল্য ৮৪০০ টাকা। আরো কিছু ডাল ক্ষেতে হতে পারে।’

তিনি আরো জানান, ‘গলাচিপায় বর্তমানে প্রচণ্ড খরা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি না হওয়ার কারণে গরমে ডালের শাখা-প্রশাখা বাড়েনি। পাতা মুচরিয়ে রয়েছে। ফলন এ বছর কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জমিতে উপযোগী পরিবেশ না পাওয়ায় ডালের উৎপাদন কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি হলেই উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছে।’

গলাচিপা উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো: নাহিদ হাসান বলেন, ‘আমাদের এখানে দেশী বা সোনা মুগ, বারি মুগ-০৬ এর চাষ হয়। বারি মুগ-৬ এর হেক্টর প্রতি ফলন ১ থেকে ১.৫ টন। বিগত তিন-চার বছর ধরে এই এলাকার মুগডাল গ্রামীন ইউগ্লোনা কোম্পানির মাধ্যামে জাপান রফতানি হচ্ছে। তীব্র তাপদাহে মুগডালের ফুল শুকিয়ে যাচ্ছে। মাটিতে রসের ঘাটতি দেখা দেয়ায় ডালের আকার ছোট হচ্ছে, ডালের ছড়ার সংখ্যা কম হচ্ছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজু আক্তার জানান, ‘তীব্র তাপদাহে কৃষকরা কিছুটা বিপাকে রয়েছে। তবে ক্ষেতে সেচ দেয়ার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে এলে ফলন বাড়ার সুযোগ রয়েছে।’




যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সাড়া দিয়েছে ইসরায়েল : হামাস




রোববার থেকে খুলছে প্রাথমিক বিদ্যালয়, বন্ধ থাকবে প্রাক-প্রাথমিক




নির্মাণের ১৫ দিনের মধ্যেই ভাঙা হলো ২ লাখ টাকার ঘাটলা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফল পৌর শহরের ৪নং ওয়ার্ডে একটি সরকারি পাকা ঘাটলা নির্মাণের ১৫ দিন পর ভেঙে ফেলা হয়েছে। গত ২২ মার্চ ঘাটলাটি নির্মাণ করা হয় এবং ৮ এপ্রিল তা ভাঙা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে রাজস্ব তহবিল থেকে ২ লাখ টাকা ব্যয়ে বাজার রোডে জনৈক মকবুল তালুকদারের বাসার পিছনে খালে এ ঘাটলা নির্মাণ করা হয়।

জানা গেছে, অপরিকল্পিত ভাবে ঘাটলা নির্মাণ করায় খালের পানি চলাচল বাধাগ্রস্থ হওয়ায় বাউফল পৌরসভার মেয়র জিয়াউল হক জুয়েলের নির্দেশে তা ভেঙে ফেলা হয়। উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব হাওলাদারের ঘনিষ্ট হিসাবে পরিচিত সবুজ ওরফে সবুজ মাস্টারের ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য তার বাসার পিছনে এ ঘাটলাটি নির্মাণ করা হয়। সবুজ মাস্টার মকবুল তালুকদারের ছেলে। এ প্রকল্পের সভাপতি ছিলেন ১,২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডের কাউন্সিলার শিপ্রা দাস। প্রকল্প কমিটিতে মোট ৭ জন সদস্য করা হলেও এর মধ্যে ৬ জন সদস্য কিছুই জানেন না।

আরো পড়ুন : শিশুদের কলরবে মুখরিত পুরো চর

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পাকা ঘাটলা নির্মাণের পর ২ লাখ টাকার বিল তুলে নেয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাজার রোডের এক ব্যবসায়ী বলেন, সবুজ মাস্টারের সাথে উপজেলা চেয়ারম্যানে সম্পর্ক ভালো। তাই ব্যক্তিগত সুবিধার জন্যই তার বাসার পিছনে এ ঘাটলা নির্মাণ করা হয়েছে। আবার কয়েকদিন পর পৌরসভা থেকে ঘাটলাটি ভেঙে দেয়া হয়েছে। এখানে সরকারি টাকার অপচয় করা হয়েছে। এ জন্য প্রকল্প প্রনয়নকারীকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিৎ।

এব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মানিক হোসেন বলেন, আমি সদ্য এ উপজেলা যোগদান করছি। তাই এ বিষয়ে কিছুই জানি না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঘাটলাটি করার আগে যাচাই-বাছাই করে করা উচিৎ ছিল। ঘাটলা কেন করা হলো আর কেন ভাঙা হলো তা আমার মাথায় আসছে না।

কাজে অনিয়মের অভিযোগ
বাউফল পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মঈনুল হক বলেন, খাল দখল করে ঘাটলাটি নির্মাণ করায় পানি চলাচলা বাধা গ্রস্থ হচ্ছিল। তাই ঘাটলাটি ভেঙে ফেলা হয়েছে।




শিশুদের কলরবে মুখরিত পুরো চর

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর কয়েকটি উপজেলা খুবই দুর্গম। যাতায়াতে দুর্গম এসব উপজেলার বেশ কিছু চর আছে, যেখানে পৌঁছানো অনেক কষ্টকর। এই অঞ্চলগুলোর শিক্ষার অবস্থা খুবই নাজুক। পড়ালেখার সুযোগ কম থাকায় শিশুরা অল্প বয়স থেকেই কাজে লেগে যায়।

মা-বাবার মতো এক সময় তারাও ঝুঁকে পড়ে কৃষি কাজ কিংবা মাছ ধরার কাজে। এসব অঞ্চলের বেশির ভাগ মানুষের পেশা মাছ ধরা ও কৃষি কাজ। অনেকেই দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। এই অবস্থায় সন্তানদের কষ্ট করে একটু দূরের স্কুলে পড়ানোর কথা ভাবতেও হয়তো ভয় পায় মানুষগুলো।

প্রকৃতির সঙ্গে নিয়মিত লড়াই করে বেঁচে থাকা এই মানুষদের কথা বিবেচনা করে গলাচিপা, দশমিনা ও রাঙ্গাবালী উপজেলার তিনটি অতি দুর্গম চরে স্কুল করে দিয়েছে দেশের শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপ। যে শিশুরা একসময় স্কুলে যাওয়ার কথা চিন্তাও করত না, তারা এখন নিয়মিত স্কুলে যায়। তাদের কলরবে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো চর। তিনটি চরের বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলে এখন তিন শতাধিক শিশু পড়াশোনা করছে।

আরো পড়ুন : দুমকীতে ২৪টি কেউটে সাপের বাচ্চা হত্যা ও মা সাপ উদ্ধার

তেঁতুলিয়া নদীর কোল ঘেঁষে গলাচিপার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকের চর আগস্তি গ্রাম। গ্রামের বড় একটি অংশের সঙ্গে জুড়ে আছে ঘাসির চর। রাঙ্গাবালী উপজেলা ও গলাচিপা উপজেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় এই অংশটি বেশ অবহেলিত বলা যায়। এখানে তিন শতাধিক পরিবারের বাস। প্রতিদিন জোয়ার-ভাটায় চরে পানি ওঠে।

চর আগস্তির এই গ্রামটি নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরপুর। এক বছর আগেও চরটিতে কৃষকের হাঁকডাক এবং জেলেদের ডাকচিৎকার ছাডা আর কিছুই শোনা যেত না। কিন্তু এই দৃশ্যপট পরিবর্তন হয়ে গেছে ‘বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল’ প্রতিষ্ঠার পরই। বেড়িবাঁধের একটু দূরেই (পশ্চিম পাশে) নির্মাণ করা হয়েছে দক্ষিণ চর আগস্তি মুজিব কেল্লা বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল। সুবজের মাঝে লাল-সাদা ভবনটি প্রতিদিন শতাধিক শিক্ষার্থীর কলরবে মুখরিত থাকে। বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকার মানুষ এসে ঘুরে যায় স্কুলে। দেখে যায় বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলের কার্যক্রম। বিশাল এই চরে সবুজের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল। পিছিয়ে পরা এই গ্রামের শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে স্কুলটি। গ্রামটির বিভিন্ন দিক থেকে ইউনিফর্ম পরে স্কুলে আসা শিক্ষার্থীদের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে এলাকার মানুষ। বিচ্ছিন্ন এই এলাকার শিক্ষার্থীরা এভাবে জামা, প্যান্ট, জুতা, ব্যাগ নিয়ে সেজেগুজে স্কুলে আসবে, এটা যেন তাদের কাছে স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্নকে বাস্তব করেছে বসুন্ধরা গ্রুপ। তাইতো গ্রামের মানুষ সব সময় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতি।

দক্ষিণ চর আগস্তি বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদা, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ সাহিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মীর মো. রেজাউল ইসলাম প্রমুখ পরিদর্শন করেছেন। বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় বসুন্ধরা শুভসংঘের এই উদ্যোগকে তাঁরা স্বাগত জানিয়েছেন। বসুন্ধরা গ্রুপের এমন উদ্যোগুলো আরো বিস্তৃত হোক, এটাই চেয়েছেন সবাই।

তাঁরা বলেছেন, দেশসেরা শিল্প গ্রুপ বসুন্ধরার কল্যাণে উপকৃত হচ্ছে প্রান্তিক অসহায় পরিবার ও তাদের সন্তানরা। বসুন্ধরা গ্রুপ বলেই এমন সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছে। বসুন্ধরা পরিবারের জন্য অনেক অনেক শুভ কামনা।

দক্ষিণ চর আগস্তির ঘাসির চরের কৃষক আলকেস মৃধা বলেন, ‘আমার তিন ছেলে-মেয়ে। বড় মেয়ে বিয়ে দিছি। মাইজ্জা পোলা তৃতীয় শ্রেণিতে দূরের একটা স্কুলে পড়ে। সাড়ে চাইর বছরের একটা ছোট মাইয়া আছে। আমি এই মাইয়াডারে বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলে ভর্তি করামু। বাড়ির ধারে স্কুল, এইডাই আমাগো বড় সুবিধা, যদিও একটা হাক্কা (সাঁকো) পার হইয়া আইতে হইবে। তাতেও সমেস্যা নাই। দূরের চাইয়্যা হাক্কা পারানো সহজ। আমাগো মতো গরিব মাইনসের পোলাপানরে জামা, প্যান্ট, জুতা, ব্যাগসহ লেহাপড়ার সব এমন করে কেউ দেয় নাই। একমাত্র বসুন্ধরাই দিছে। স্কুল শুরু হইলে আমি প্রায়ই আইয়া চাইয়া দেহি আমাগো গেরামের ছোট ছোট পোলাপান একই জামাকাপড়, জুতা, ব্যাগ লইয়া স্কুলে যায়, পরানডা ভইরা যায়। আমার ধারে স্বপ্নের লাহান লাগে।’

আরো পড়ুন : লবনাক্ত জমিতে কোলেস্টেরল মুক্ত তৈলের হাতছানি দিচ্ছে হাইব্রিড সূর্যমুখী

দশমিনার চরবোরহানে বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল। উত্তাল তেঁতুলিয়া নদী পাড়ি দিয়ে ওপারের চরবোরহানে যেতে হয়। যোগাযোগের মাধ্যম মাত্র একটি ট্রলার। তা-ও দিনে একবার যাতায়াত করে। চরটি প্রায় চার দশক আগে জেগে উঠলেও বসতি মাত্র দুই দশক ধরে। নেই কোনো বেড়িবাঁধ। তাই জলোচ্ছ্বাস কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে লড়াই করে বাঁচতে হয় এখানকার বাসিন্দাদের। মৌলিক চাহিদা তো দূরে থাক, স্বাভাবিক জীবনযাত্রাই এখানে কঠিন। চরের বেশির ভাগ পরিবার মাছ ধরা বা কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তাইতো পড়াশোনা তাদের কাছে স্বপ্নের মতো। পরিবারের সঙ্গে কাজ করতে ক্ষেতে বা নৌকায় মাছ ধরতে দেখা যায় সাত-আট বছরের শিশুদের। এসব দেখে এগিয়ে আসেন বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরা। শত প্রতিকূলতাও থামাতে পারেনি শুভসংঘ বন্ধুদের। শিশুদের জন্য বর্ণমালার বই হাতে ছুটে চলা এই উদ্যমী তরুণদের দমিয়ে রাখতে পারেনি উত্তাল নদীও। দরিদ্র পরিবারের কোমলমতি শিশুদের জন্য বসুন্ধরা গ্রুপের আর্থিক সহায়তায় গড়ে তুলেছেন বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এই এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে স্কুলটি। দশমিনার আলিপুর লঞ্চঘাট থেকে উত্তাল তেঁতুলিয়া নদীতে প্রায় এক ঘণ্টা পাড়ি দিতে হয়। পূর্ব পাশে ভোলা জেলা, দক্ষিণে গলাচিপা উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষে চরবোরহান। তেঁতুলিয়া নদীর তীরেই জেগে ওঠা চরবোরহানের আবাসন প্রকল্প এলাকায় টিনের চালের একটি ঘরে ৮০ জন শিশু নিজেদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে অবিরত চেষ্টা চালাচ্ছে। এসব শিশুকে জামা, জুতা, ব্যাগ, শিক্ষা উপকরণ, স্কুলের অবকাঠামো, বৈদ্যুতিক পাখাসহ সব ধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছে বসুন্ধরা গ্রুপ। নতুন জামা, ব্যাগ, জুতা হাতে পেয়ে ঘ্রাণ নিচ্ছে শিশুরা। শিশুদের চোখেমুখে আনন্দের হাসি।

শিক্ষার্থী রুবাইয়ার মা লিপি বেগম বলেন, ‘আমি তো মেয়ের পড়াশোনার কথা চিন্তাই করি নাই। আমাগো ভাগ্য অনেক ভালো, বসুন্ধরা গ্রুপ আমাগো মতো গরিব মাইনসের মাইয়া-পোলার কথা চিন্তা কইররা স্কুল করছে।’

রাঙ্গাবালীর বিচ্ছিন্ন চর ইমারশনে কোনো স্কুল না থাকায় নদী পাড়ি দিয়ে স্কুলে যেতে হতো শিক্ষার্থীদের। পুরো জেলা থেকেই স্থলপথের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন উপজেলা রাঙ্গাবালী। এই উপজেলার একেকটি চরে যেতে পোহাতে হয় নানা দুর্ভোগ। সেই চরগুলো থেকে শিশুরা শিক্ষা নিতে অনেক দূরের পথ পাড়ি দিতে চায় না। মা-বাবারাও শিশুদের এত দূরে দিয়ে পড়ালেখা করাতে চান না। এসব কিছু বিবেচনা করে চর ইমারশনে একটি স্কুল করার সিদ্ধান্ত নেয় বসুন্ধরা শুভসংঘ। স্কুলহীন চর ইমারশন এখন বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলের শিক্ষার্থীদের কলকাকলিতে মুখরিত থাকে। অভিভাবকরাও এখন নিশ্চিন্ত মনে সন্তানদের স্কুলে পাঠান।




টিভিতে যেসব খেলা দেখবেন আজ




বেইজিংয়ে ঐক্য সংলাপে বসছে ফাতাহ-হামাস