বরিশালে শহর রক্ষা বাঁধের ব্লক লুট, আটক এক

সিলেটের সাদা পাথর লুটের ঘটনার রেশ না কাটতেই এবার আলোচনায় এসেছে বরিশালের শহর রক্ষা বাঁধের ব্লক লুট। কীর্তনখোলা নদীতীরের সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মহাবাজ (উলালঘুনী) এলাকায় বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে এ লুটের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় ইঞ্জিনচালিত একটি ট্রলারসহ একজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েকদিন ধরে ওই এলাকায় রাতের আঁধারে ট্রলারযোগে ব্লক চুরি হচ্ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মচারী মিলনসহ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তবে প্রভাবশালীদের ভয়ে এতদিন মুখ খুলতে সাহস পাননি কেউ।

ঘটনার রাতে বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম তারিক সংবাদকর্মীদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে লুটের সময় ট্রলারসহ চালক শাহে আলম হাওলাদারকে আটক করেন। পরে তাকে কাউনিয়া থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আটক শাহে আলম জানান, তিনি রাজিব নামের এক ব্যক্তির ট্রলারের চালক। সোহাগ ও কবির গাজী নামের দু’জন ব্যক্তি তাকে ভাড়ায় নিয়েছিলেন এবং দাবি করেছিলেন, ঠিকাদারের নির্দেশে ব্লকগুলো নেওয়া হচ্ছে। তবে ব্লকের গন্তব্য নিয়ে চালক ও অপর এক ব্যক্তির বক্তব্যে বিরোধ দেখা দেওয়ায় সন্দেহ তৈরি হয়।

স্থানীয়দের মতে, লুট হওয়া ব্লকগুলো ভেঙে পাথর বানিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে শুধু রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্টই হচ্ছে না, বরং শহর রক্ষা বাঁধ দুর্বল হয়ে নগরবাসীর মধ্যে নতুন করে ভাঙন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

কাউনিয়া থানার ওসি মো. নাজমুল নিশাত জানান, আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং মামলার প্রক্রিয়া চলছে। অন্য যারা এ চক্রের সঙ্গে জড়িত তাদেরও শিগগির আইনের আওতায় আনা হবে।

খেলাফত মজলিস, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন মহলের অভিযোগ—এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দায় প্রায়শই অন্য রাজনৈতিক দলের ওপর চাপিয়ে প্রকৃত অপরাধীরা আড়াল হয়ে যায়। এ ঘটনায় স্থানীয়রা জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, কীর্তনখোলা নদীর ভয়াবহ ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে অল্প সময়ের মধ্যে বাঁধের বিভিন্ন অংশ ধসে যাওয়ায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়। এর মধ্যেই ব্লক লুটের ঘটনা নগরবাসীর সেই উদ্বেগকে চরম আতঙ্কে রূপ দিয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




বরিশালে খেলাফত মজলিসের ৫ দফা দাবি ঘোষণা

আওয়ামী লীগসহ দেশের গণতন্ত্রবিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা ও সংসদ নির্বাচনে পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়নসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে খেলাফত মজলিস।

বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় বরিশাল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব দাবি তুলে ধরে দলটির নেতারা। সভায় জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা জুবায়ের গালিব সভাপতিত্ব করেন।

নেতৃবৃন্দ জানান, দেশের সার্বিক সংকট সমাধান, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে খেলাফত মজলিস দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তারা মনে করেন, দাবিগুলো কার্যকর না হলে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।

খেলাফত মজলিসের ৫ দফা দাবি হলো—
১. অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন।
২. আওয়ামী লীগসহ গণতন্ত্রবিরোধী রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা।
৩. আগামী নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি।
৪. জুলাই গণহত্যার বিচার কার্যকর ও দৃশ্যমান করা।
৫. আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উচ্চ কক্ষে পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়ন।

এসময় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল অঞ্চলে দলের প্রার্থীদের নামও ঘোষণা করা হয়। তারা হলেন—

  • বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া): মাওলানা ফজলুল ইসলাম
  • বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর): মাওলানা আনিসুর রহমান
  • বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী): মাওলানা সাইফুল হোসেন
  • বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ): মাওলানা জুবায়ের গালিব
  • বরিশাল-৫ (সদর-দক্ষিণ): মাওলানা ফজলুল হক
  • বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ): মাওলানা মাহমুদুর রহমান

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার ও ন্যায্য সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য এই দাবিগুলো বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ফ্যাসিস আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাসা ভাড়া না দিতে মাইকিং

চন্দ্রদ্বীপনিউজ: বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।তাতে দেখা যায় যে চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাসা বা ফ্ল্যাট ভাড়া না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, লুঙ্গি ও জার্সি পরা এক যুবক সিএনজি অটোরিকশায় মাইকিং করে ঘোষণা দিচ্ছেন— ‘পরিচিত ভাড়াটিয়া না হলে এবং সঠিক কাগজপত্র ছাড়া কাউকে যেন বাসা ভাড়া দেওয়া না হয়।’

তিনি বলেন, ‘ঘর ভাড়া দেওয়ার আগে ভাড়াটিয়ার সব কাগজপত্র থানায় জমা দিতে হবে। একইসঙ্গে তিনি ‘নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের’ কাউকে ভাড়া না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই অভিযোগে কাউকে গ্রেপ্তার করা হলে আশ্রয়দাতা হিসেবে বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘোষণার শেষ অংশে তাকে ‘কর্ণফুলী থানা, সিএমপি’ বলতে শোনা যায়।

এ ঘটনায় সাধারণ ভাড়াটিয়ারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, প্রশাসনের নামে তাদের ওপরও এমন চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তবে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শরীফ বলেন, ‘আমরা কখনো এ ধরনের নির্দেশ দিইনি। এটি ভুলভাবে প্রচার করা হয়েছে। পরবর্তীতে বিষয়টি সংশোধনও করা হয়েছে।




দেশের বিপন্ন প্রজাতির মাছ সংরক্ষণে ‘লাইভ জিন ব্যাংক’ স্থাপন এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ: জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে সরকার দেশে প্রথমবারের মতো ‘লাইভ জিন ব্যাংক’ স্থাপন করেছে। এতে দেশীয় ৬৪ প্রজাতির বিপন্ন মাছ সংরক্ষণ করা হবে।

ময়মনসিংহে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বিএফআরআই) স্থাপিত এই ব্যাংক যেসব দেশীয় প্রজাতির মাছ পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতি ও আবাসস্থল হারানোর বিলুপ্তির পথে, সেসব মাছের জেনেটিক সম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিএফআরআই-এর মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্র জানান, এ পর্যন্ত ৪০টি বিপন্ন মাছের প্রজাতি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৯টি গত দশকের।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই উদ্যোগ সরকারের বৃহত্তর লক্ষ্য- দেশে মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।

জিন ব্যাংকটি আধুনিক প্রজনন প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্থানীয় মাছের দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ নিশ্চিত করবে এবং ইতোমধ্যে কৃষকদের মাঝে এই প্রযুক্তি স্থানান্তরিত হচ্ছে।

ড. অনুরাধা ভদ্র বলেন, স্থানীয় প্রজাতির মাছের সংখ্যা হ্রাস পাওয়ার মূল কারণ হিসেবে প্রাকৃতিক আবাসস্থলের শুকিয়ে যাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন , ফসলের ক্ষেতে অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার  ও অন্যান্য পরিবেশগত ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়েছে।

গত কয়েক বছরে প্রাকৃতিক জলাশয়গুলোতে বিভিন্ন মাছের প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে বা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। এই জিন ব্যাংকের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা বিপন্ন মাছের জার্মপ্লাজম, অর্থাৎ জেনেটিক উপাদান সংরক্ষণ করতে পারছেন এবং নিয়ন্ত্রিত হ্যাচারি পরিবেশে এগুলো প্রজনন করে নদী, হ্রদ ও জলাভূমিতে ছাড়তে পারছেন।

বিএফআরআই-এর সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আশরাফুল আলম জানান, দেশের মিঠা পানির ২৬০টি প্রজাতির মাছের মধ্যে ১৪৩ প্রজাতির ছোট মাছ রয়েছে। এদের মধ্যে ৬৪ প্রজাতিকে বিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, জিন ব্যাংকে মোট ১৪৩ প্রজাতির জার্মপ্লাজম সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয়েছে, যার ৯৮টি ময়মনসিংহে এবং বাকিগুলো নীলফামারীর সৈয়দপুর ফ্রেশওয়াটার সাবস্টেশনে সংরক্ষিত।

বাংলাদেশীদের খাদ্যাভ্যাসে মাছ একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। এটি দেশের বার্ষিক প্রোটিন চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ পূরণ করে। মাছ উচ্চমানের প্রোটিন, প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ভিটামিন এ ও ডি, ফসফরাস, ম্যাগনেশিয়াম, সেলেনিয়াম এবং আয়োডিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানের উৎস।

সহজে হজমযোগ্য প্রোটিন প্রোফাইল থাকার কারণে মাছ গ্রামীণ ও শহুরে দুই অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান হিসেবে রয়ে গেছে।

নীলফামারীর সৈয়দপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের স্বাদুপানি উপকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রশীদুল হাসান পর্যবেক্ষণ করেছেন, কৃষকরা দেশীয় ছোট মাছ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। কারণ এসব মাছ চাষে খরচ কম হয় এবং বাজারে এর মূল্য বেশি। বাংলাদেশী পাবদা মাছ, কৈ মাছ, এবং টেংরা প্রজাতির মাছগুলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পুনরুদ্ধার হয়েছে এবং এখন এসব মাছ ব্যাপকহারে উৎপাদিত হচ্ছে।




উপকূলীয় অঞ্চলে দেশীয় মাছ বিলুপ্তির পথে

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী, গলাচিপা ও বাউফল উপজেলায় ফসলি জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশীয় প্রজাতির মাছের ওপর, যা বিলুপ্তির পথে রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কৃষকরা ফসলের উৎপাদন বাড়াতে অধিক মাত্রায় রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করছেন। বর্ষার সময়ে এই বিষাক্ত পদার্থগুলো বৃষ্টির পানির সঙ্গে নদী, খাল ও পুকুরে মিশে যাচ্ছে। এতে পানির প্রাণবৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে এবং মাছের প্রজনন ও জীবনচক্র ব্যাহত হচ্ছে।

ফসলি জমিতে রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে স্থানীয় মাছ যেমন—পুঁটি, কৈ, শিং, মাগুর, পাবদা, টাকি, চিংরি, বাইম, বেদা, গজার, বেলে মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতি বিলুপ্তির পথে। রাঙ্গাবালী, গলাচিপা ও বাউফল উপজেলার নদীবেষ্টিত এলাকা এখন আগের মতো দেশীয় মাছের জন্য পরিচিত নয়।

স্থানীয় মৎস্যজীবী আবদুল করিম বলেন, “এক সময় খাল-বিল নদী নালায় মাছের প্রাচুর্য ছিল। এখন ফসলি জমিতে হালচাষের পরও দেশীয় মাছ পাওয়া যায় না, প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে।”

কনকদিয়া ইউনিয়নের মৎস্যজীবী কেরামত আলী জানান, “আগে জাল মারলে প্রচুর মাছ ধরা যেত। এখন আর তা সম্ভব নয়। দেশীয় মাছ রক্ষা না করলে এগুলো হারিয়ে যাবে।”

স্থানীয়রা মনে করেন, দেশীয় মাছের সঙ্গে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনধারা, খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। তাই পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দেশীয় মাছের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

বাউফল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কামরুজ্জামান বাচ্চু বলেন, “উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের ঐতিহ্যের সঙ্গে দেশীয় মাছের গভীর সম্পর্ক। সচেতনতা বৃদ্ধি, জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদ ও জলাশয় রক্ষা না করলে দেশীয় মাছ হারিয়ে যাবে।”

রাঙ্গাবালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন জানান, “ফসলি জমিতে রাসায়নিক ও কীটনাশক ব্যবহারের কারণে দেশীয় মাছ বিলুপ্তির পথে। মৎস্য অধিদপ্তর বিভিন্ন সহায়তা ও পরামর্শ দিয়ে মাছ সংরক্ষণে কাজ করছে।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, “অধিক উৎপাদনের আশায় রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে দেশীয় মাছের ক্ষতি হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের জৈব পদ্ধতির মাধ্যমে কীটনাশক কমানোর পরামর্শ দিচ্ছি।”

বাউফল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিলন জানান, “মাটিতে জৈব সার ব্যবহার করে রাসায়নিক কমানো সম্ভব। এটি জমির উর্বরতা বজায় রাখে এবং পরিবেশ রক্ষা করে।”

বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, “দেশীয় মাছ কমে যাওয়ার পেছনে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার, জলাশয়ের সংকট, মৎস্য অভয়াশ্রম কম থাকা, মৎস্য আবাস ভূমির চ্যানেল বন্ধ থাকা, অবৈধ জাল ও কিটনাশক ব্যবহারের মতো কারণ রয়েছে। আমরা কারেন্ট জাল ও চায়না জালের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি। প্রাকৃতিক মাছের উৎপাদন বাড়াতে মৎস্য আইন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।”

স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহল মনে করছে, দেশীয় মাছ সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক জলাশয় রক্ষা না করলে উপকূলীয় অঞ্চলের খাদ্য ও জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত দেশীয় মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




কুয়াকাটায় অশ্লীল ভিডিও কাণ্ডে কনটেন্ট ক্রিয়েটরের জেল

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় নারী পর্যটকদের গোপনে ভিডিও ধারণ ও অশ্লীল মন্তব্য করার দায়ে মো. রুবেল (৩০) নামে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরগুনা সদর উপজেলার বাসিন্দা রুবেল পেশায় মুদি দোকানদার হলেও অবসরে কনটেন্ট তৈরি করতেন। তবে সম্প্রতি সমুদ্রসৈকতে তিনি নারী পর্যটকদের গোসল করার সময় গোপনে ভিডিও ধারণ এবং অশ্লীল কথাবার্তা বলছিলেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় ফটোগ্রাফার আরিফ বলেন, “আমরা দেখি সে মেয়েদের ভিডিও করছে আর খারাপ মন্তব্য করছে। তখনই তাকে ধরে ফেলি।” অপর ফটোগ্রাফার রাসেল জানান, “তার মোবাইল চেক করে অনেক ভিডিও পাওয়া যায়। এরপর আমরা টুরিস্ট পুলিশকে খবর দিই।”

টুরিস্ট পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রুবেলকে মোবাইল ফোনসহ আটক করে। প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের ভিডিও ধারণ করছিলেন। তবে সেসব ভিডিও কোনো ইউটিউব চ্যানেল বা ফেসবুক পেজে প্রকাশের প্রমাণ মেলেনি। স্থানীয়দের ধারণা, তিনি এগুলো অন্য কারো কাছে বিক্রি করতেন বা ভিন্নভাবে ব্যবহার করতেন।

ঘটনায় ক্ষুব্ধ পর্যটকরা বলেন, “এ ধরনের কাজ কুয়াকাটার ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। পর্যটন এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”

কলাপাড়া উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইয়াসিন সাদেক জানান, “রুবেলকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে তাকে এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কুয়াকাটায় এ ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না।”

রায় ঘোষণার পর তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়। প্রশাসনের এ পদক্ষেপে পর্যটক ও স্থানীয়রা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং কুয়াকাটার পর্যটন নিরাপত্তা জোরদারে এমন উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

আল-আমিন



দুমকিতে কচাবুনিয়া নদীর বেড়িবাঁধ রক্ষায় এলাকাবাসীর মানববন্ধন

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের কচাবুনিয়া নদীর পশ্চিমপাড়ে বেড়িবাঁধ রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নদীর পাড়ে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, নদীর ভাঙন দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। নামমাত্র সংস্কার করা হলেও কোনো স্থায়ী বা টেকসই উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে এলাকার মানুষ। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, যদি জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে পুরো সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে এবং কৃষক পরিবারগুলো বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আমিনুল ইসলাম বারেক জানান, নেছারিয়া মাদ্রাসা থেকে পুকুরজানা বাজার পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার পাকা রাস্তা দুই বছর আগে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে বাকি অংশেও ফাটল ধরেছে। সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন যে সড়কটি নির্মাণ হয়েছিল, সেটিও মাত্র ছয় মাসের মাথায় ভেঙে গেছে, কারণ নদীর তীরে কোনো পাইলিং বা সাপোর্টিং কাজ করা হয়নি।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ হাওলাদার, ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম এবং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান বাবুল। বক্তারা দ্রুত বেড়িবাঁধ ও সড়ক রক্ষায় স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব বলেন, “আমরা খুব দ্রুত সরজমিনে গিয়ে সার্ভে করবো। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়দের আশা, প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে নদীর ভাঙন রোধ হবে এবং যোগাযোগব্যবস্থা রক্ষা পাবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দুমকিতে বিএনপি অফিস ভাঙচুর মামলায় মোকলেস মৃধা গ্রেফতার

পটুয়াখালীর দুমকীতে বিশেষ অভিযান “অপারেশন ডেভিল হান্ট” পরিচালনা করে মোঃ মোকলেস মৃধা (৫৫) কে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার মুরাদিয়া বোর্ড অফিস বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

সূত্র জানায়, মোকলেস মৃধা উপজেলার উত্তর মুরাদিয়া গ্রামের ২নং ওয়ার্ডের মৃত আঃ রশিদ মৃধার ছেলে। তার বিরুদ্ধে বিএনপি অফিস ভাঙচুর মামলার অভিযোগ রয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ জাকির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “দুমকি উপজেলা বিএনপি অফিস ভাঙচুর মামলায় মোকলেস মৃধাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে সারাদেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুমকীতে বিএনপি বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। সে সময় উপজেলা বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুরসহ বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর আওয়ামী লীগ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়।

পরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর গত ৭ নভেম্বর মোঃ মোর্তুজা বিল্লাহ বাদী হয়ে দুমকি থানায় মামলাটি দায়ের করেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে সালিশ-বিবাদ থেকে দূরে থাকার নির্দেশ বিএনপি’র

পটুয়াখালী জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের স্থানীয় সালিশ, দাঙ্গা-ফ্যাসাদ বা পক্ষপাতদুষ্ট মধ্যস্থতাকারী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত না হতে কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মজিবুর রহমান টোটন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামী সংগঠন। এ দলের প্রতিটি কর্মী জনগণের আস্থার প্রতীক এবং আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী সৈনিক। দলীয় ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখা ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কোনো নেতাকর্মীকে সালিশ, বিবাদ বা পক্ষপাতদুষ্ট কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সব স্তরের নেতাকর্মীকে রাজনৈতিক কর্মসূচি, সাংগঠনিক দায়িত্ব এবং জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সম্পূর্ণভাবে নিয়োজিত থাকতে হবে। জনগণের সঙ্গে সদাচরণ, ভদ্র ভাষা ব্যবহার এবং মানবিক আচরণের মাধ্যমে আস্থা অর্জন করাই প্রতিটি নেতাকর্মীর দায়িত্ব। জনগণই বিএনপি’র শক্তি এবং আন্দোলনের মূলভিত্তি, তাই তাদের পাশে দাঁড়ানোই হবে অঙ্গীকার।

এছাড়া নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়েছে। এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে নেতাকর্মীসহ সচেতন মহল। তারা মনে করছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত মাঠ পর্যায়ে বিএনপি’র ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ডেঙ্গু পরিস্থিতি কোন অবস্থায় নিয়ন্ত্রনে আনা যাচ্ছে না

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:ডেঙ্গু জ্বরে কাপছে দেশ । গত ১০ দিন যাবৎ ডেঙ্গু জ্বরে ভুগছেন ইউনুছ মিয়া। নরসিংদী সদরের বাসিন্দা তিনি। বয়স ৬৯ বছর। প্রচণ্ড জ্বর নিয়ে শুরুতে স্থানীয় হাসপাতালের চিকিৎসকের পরামর্শ নেন। দিন দিন পরিস্থিতি খারাপ হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে ভর্তি হন ১২ই সেপ্টেম্বর। বর্তমানে হাসপাতালটির ৪০২ ডেঙ্গু ওয়ার্ডের ৫ নম্বর শয্যায় জ্বর নিয়ে কাতরাচ্ছেন তিনি। একই ওয়ার্ডে আরেক ডেঙ্গু রোগী কবির হোসেন ২৬ নম্বর শয্যায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা। ১০২ ডিগ্রির উপরে জ্বর ওঠে। পুরান ঢাকার লালবাগ কেল্লার মোড় এলাকায় তার বাসা। তিনি জানান, রাতে মশারি টানানোর অভ্যাস নেই তার পরিবারের। তার সন্দেহ মশা হয়তো এই সুযোগে কোনো একসময়ে তাকে কামড় দিয়েছে। মেডিসিন ওয়ার্ডের ৬০১-এর বারান্দার মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন ২৭ বছর বয়সী আরেক ডেঙ্গু রোগী হৃদয়। এসেছেন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ব্যাংক কলোনি থেকে। ওয়ার্ডের মূল সিটে তার ঠাঁই হয়নি। তাই তিনি ফ্লোরে থেকে সেবা নিচ্ছেন বলে জানান তার স্বজনরা।

গতকাল সরজমিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, তাদের মতো আরও অনেক ডেঙ্গু রোগী ঢাকার বাইরে থেকে আসছেন। হাসপাতালের চতুর্থতলায় তাদের জন্য ডেঙ্গু ওয়ার্ড করা হয়েছে। ডেঙ্গু ওয়ার্ড ছাড়াও মেডিসিন ওয়ার্ডের সামনে সিঁড়ির গোড়ায় ডেঙ্গু রোগীদের কোনো রকম ঠাঁই হয়েছে। ডেঙ্গু রোগীর কারণে প্রতিদিনই চাপ বাড়ছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। মেডিসিন ৭০১ নম্বর ওয়ার্ডের এক চিকিৎসক জানান, প্রতিদিনই ডেঙ্গু রোগী আসছে তাদের ওয়ার্ডে। রোগীর চাপ থাকায় মূল সিটে জায়গায় না হওয়ায় রোগীদের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

চলতি বছরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ২৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৯৩ জন রোগী। হাসপাতালটিতে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৪১ জন মারা গেছেন। সুস্থ হয়ে বাড়ি গেছেন এক হাজার ৪৮৪ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৬৬৫ রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময় মারা গেছেন একজন। এ বছর সারা দেশে ডেঙ্গুতে ১৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৯ হাজারের বেশি ডেঙ্গু রোগী। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগেই ১১ হাজার ৬৪৫ জন ডেঙ্গু রোগী রয়েছেন। রাজধানীর উত্তর সিটিতে ডেঙ্গু রোগী ৪ হাজার ৪৬ জন, দক্ষিণে ৫ হাজার ৯৮৭ জন, চট্টগ্রামে ৬ হাজার ১২ জন, ঢাকার অন্যান্য জেলায় ৫ হাজার ৬৩৬ জন, খুলনা বিভাগে ২ হাজার ২৩ জন, ময়মনসিংহে ৭৬৫ জন, রাজশাহীতে ২ হাজার ৬৯২ জন, রংপুর বিভাগে ২৭২ জন এবং সিলেটে ১১৪ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে এবার।

ডেঙ্গু রোগীদের জন্য বিশেষ ওয়ার্ড চালুর নির্দেশ: ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের সব সরকারি হাসপাতালে বিশেষ ওয়ার্ড ও নির্দিষ্ট চিকিৎসক টিম গঠনের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মঙ্গলবার জারি করা এক জরুরি প্রজ্ঞাপনে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসানের স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালগুলোতে আলাদা ওয়ার্ড ও চিকিৎসক দল গঠন করা আবশ্যক। এনএস-১ টেস্ট, পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেয়া হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, মেডিসিন, শিশু চিকিৎসকসহ বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি বোর্ড গঠন করতে হবে। সেই বোর্ডের তত্ত্বাবধানে দায়িত্বপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা শুধুমাত্র ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগীদের চিকিৎসা দেবেন। সন্দেহভাজন রোগীদেরও বহির্বিভাগে নির্দিষ্ট কক্ষে পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। হাসপাতাল এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধনের জন্য সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন বা পৌরসভাকে চিঠি দেয়ার নির্দেশও দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি শনিবার সকাল ১০টায় হাসপাতাল পরিচালক ও সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে সমন্বয় সভা আয়োজনের কথা বলা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ রোগী সেবাকে আরও সংগঠিত করবে এবং চিকিৎসার মান উন্নত করবে। একইসঙ্গে ডেঙ্গুজনিত জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি কমাতে সহায়ক হবে।