ফেসবুকে সংবাদ সম্মেলন লাইভ করায় ৩ সাংবাদিকের নামে সাইবার মামলা

বরিশাল অফিস :: বরগুনার পাথরঘাটা প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করায় তিন সাংবাদিকসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আল মামুন নামে এক প্রবাসী থেকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নিয়ে তার চাচাতো ভাই লিটন হাওলাদার এ মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার আসামিরা হলেন – সংবাদ সম্মেলনকারী ভুক্তভোগী আসমা আক্তার, চরদুয়ানী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মজিবর রহমান, জাতীয় দৈনিক আজকের পত্রিকার পাথরঘাটা উপজেলা প্রতিনিধি ও স্থানীয় অনলাইন পোর্টাল পাথরঘাটা নিউজের সম্পাদক তারিকুল ইসলাম ওরফে কাজী রাকিব, দৈনিক কালবেলার পাথরঘাটা প্রতিনিধি আল আমিন ফোরকান, মোহনা টেলিভিশনের পাথরঘাটা প্রতিনিধি সুমন মোল্লা ও অলি উল্লাহ।

রোববার (২৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন পাথরঘাটা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুজ্জামান।

তিনি জানান, গত ৪ এপ্রিল বরিশাল সাইবার ট্রাইবুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তের জন্য আদালত কর্তৃক পাথরঘাটা থানায় পাঠানো হয়েছে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাথরঘাটা প্রেসক্লাবে ওই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সেখানে ভুক্তভোগীর করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী আসমার স্বামী মনিরকে সৌদি আরব নিয়ে প্রবাসী যান আল মামুন। সেই সূত্রে আসমার সঙ্গে মোবাইলফোনে যোগাযোগ হয় মামুনের। পরে মামুন দেশে এসে আসমাকে বিভিন্ন অনৈতিক কাজের প্রস্তাব দেন।

আসমা এ প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তার স্বামী মনিরকে সৌদি আরবে বসে মামুনের লোকজন জিম্মি করে নির্যাতন করে আসমাকে তালাক দিতে চাপ প্রয়োগ করে। পরে মামুন দেশে ফিরে সৌদী আরবে জিম্মি রাখা মনিরকে হত্যা করার হুমকি দেখিয়ে আসমাকে এক মাস আটকে রেখে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে আসমাকে তালাক দিতে মনিরকে দেশে পাঠায় মামুন।
মনির তার স্ত্রী আসমাকে তালাক না দেওয়ায় বিভিন্ন জেলায় মনির ও আসমার বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা দায়ের করায় আল মামুন। এর একটি মামলায় গত ফেব্রুয়ারি মাসে গ্রেপ্তার হয় মনির।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাথরঘাটা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী আসমা। এই সংবাদ সম্মেলনের জের ধরে সাংবাদিকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করান আল মামুন। সে সময় আরও বেশ কয়েকজন সাংবাদিককেও মামলার হুমকি দেওয়া হয়।

এদিকে পাথরঘাটার তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন পাথরঘাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক জাফর ইকবাল ও পাথরঘাটা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি জয় বিশ্বাস ও আরিফ তাওহীদ। তারা শিগগিরই এ মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

পাথরঘাটা প্রেসক্লাবে সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, ভুক্তভোগীরা প্রেসক্লাবে এসে উপস্থিত হয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন । তা সাংবাদিকরা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করবে। যদি সাংবাদিকরা ভুক্তভোগীদের অভিযোগ প্রকাশ করে মামলার শিকার হয় তাহলে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা কোথায়? অতি শিগগিরই সাইবার ট্রাইবুনাল আইন বাতিলসহ এ মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাই।




বরিশালে নদীতে নামছে জেলেরা, ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়ার আশা

বরিশাল অফিস :: দীর্ঘ দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে অভয়াশ্রমে মাছ শিকারের প্রস্তুতি নিয়েছে জেলেরা। যদিও মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২ টার পর থেকে অনেকেই মাছ শিকারে নদীতে নেমেছেন, তবে বেশিরভাগ জেলেই ভোররাত থেকে নদীতে নামার কথা জানিয়েছেন।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় নিবন্ধিত জেলে ৪ লাখ ২৫ হাজার। যার মধ্যে ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৮৯ জেলের চাল দেওয়া হয়েছে। এসময় প্রত্যেক জেলেদের ২৫ কেজি করে মোট ৩৬ হাজার ৮৬২ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।

তবে নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরাই মাছি শিকারে পর্যায়ক্রমে নামবেন বলে জানা গেছে।

বিভাগীয় মৎস্য কর্মকর্তা নৃপেন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, আমাদের অভিযান সফল হওয়ায় ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে বলে আশাবাদী। ছোট ইলিশ মাছকে বেড়ে ওঠার সুযোগ দিতে দক্ষিণাঞ্চলের পাঁচ অভয়াশ্রমে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।

গত ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ৫ লাখ ৭১ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদন হয়েছিল বলে জানিয়ে তিনি বলেন, এবারের ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ হবে।




শ্রমবান্ধব সরকার শ্রমিকের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে: রাষ্ট্রপতি

 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, শিল্প ও শ্রমবান্ধব বর্তমান সরকার শ্রমিকের সার্বিক কল্যাণ সাধন ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। বুধবার মহান মে দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি আরও বলেন, বিশ্বের শ্রমজীবী-কর্মজীবী মেহনতি মানুষের ঐক্য, সংহতি, সংগ্রাম ও বিজয়ের দিন মহান মে দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি উদযাপনের উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই।

মহান মে দিবস- ২০২৪ উপলক্ষে আমি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব শ্রমজীবী মানুষকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্বব্যাপী আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে শ্রমজীবী মানুষের কঠোর পরিশ্রম, ত্যাগ ও ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে শ্রমিকের অধিকার ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত উন্নত-সমৃদ্ধ ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে শ্রমিকের পেশাগত নিরাপত্তা ও সুস্থতা, শ্রমিক-মালিক সুসম্পর্ক, উন্নত কর্মপরিবেশসহ শ্রমিকের সার্বিক অধিকার নিশ্চিতকরণের কোনো বিকল্প নেই। মহান মে দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘শ্রমিক মালিক গড়বো দেশ, স্মার্ট হবে বাংলাদেশ’ যথাযথ ও সময়োপযোগী হয়েছে বলে আমি মনে করি।

তিনি আরও বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শ্রমজীবী ও মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ে সারাজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার পরেই মে দিবসকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে দিনটিতে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকল্পে তিনি মজুরি কমিশন গঠন করেন এবং শ্রমিকদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর ঘোষণা দেন।

 

১৯৭২ সালে জাতির পিতার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে এবং আইএলও’র ৬টি কোর কনভেনশনসহ ২৯টি কনভেনশন অনুসমর্থন করে। শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও অধিকার রক্ষায় যা ছিল এক অনন্য মাইলফলক।

মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি জাতির অর্থনৈতিক মুক্তির স্বপ্ন দেখতেন। তার সেই স্বপ্নপূরণের অন্যতম অনুষঙ্গ শ্রমজীবী মানুষের উন্নয়নে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। শ্রমিক-মালিক সম্প্রীতি ও যৌথ প্রয়াস দেশের উন্নয়নকে আরও বেগবান করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

তিনি বলেন, টেকসই শিল্প ও বাণিজ্য খাত গড়তে বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ, শ্রমিকের একাগ্রতা এবং শ্রমিক-মালিকের পারস্পরিক সৌহাদ্যপূর্ণ সম্পর্ক নিশ্চিত করতে হবে। আমি আশা করি, শ্রমিক ও মালিকের ইতিবাচক ও প্রাগ্রসরমান অংশগ্রহণের মাধ্যমে শ্রমক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা ও উৎপাদনশীলতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, স্বার্থ ও কল্যাণের সঙ্গে মহান মে দিবসের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাদের জীবনমান উন্নয়ন এবং ন্যায্য অধিকার রক্ষায় সকলে স্ব স্ব ক্ষেত্রে ঐকান্তিকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন এ প্রত্যাশা করি।

 




মে দিবসে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহান মে দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব মেহনতি মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। ‘মহান মে দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের শ্রমজীবী ও মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার গৌরবোজ্জ্বল ত্যাগের ঐতিহাসিক দিন ‘মহান মে দিবস-২০২৪’ উপলক্ষে আমি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব মেহনতি মানুষকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘শ্রমিক-মালিক গড়বো দেশ, স্মার্ট হবে বাংলাদেশ’ যথার্থ হয়েছে বলে আমি মনে করি।’

১৮৮৬ সালের পহেলা মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে রক্তাক্ত আন্দোলনে শ্রমিকের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আত্মাহুতি দেওয়া বীর শ্রমিকদের প্রতিও প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন শোষিত, বঞ্চিত ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি ১৯৭২ সালে জাতীয় শ্রম নীতি প্রণয়ন করেন এবং প্রথম মহান মে দিবসকে শ্রমিক সংহতি দিবস হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। জাতির পিতা মে দিবসে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন। তিনি শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে মজুরি কমিশন গঠন করেন এবং নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করেন। ১৯৭২ সালে মহান মে দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। সেই ভাষণে তিনি শ্রমিকদের মজুরির হার বৃদ্ধি এবং যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্দশাগ্রস্ত শ্রমিকদের এডহক সাহায্য প্রদানের ঘোষণা দেন। তিনি পরিত্যক্ত কল-কারখানা জাতীয়করণ করে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করেন। জাতির পিতার উদ্যোগে বাংলাদেশ ১৯৭২ সালের ২২ জুন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সদস্যপদ লাভ করে।

আওয়ামী লীগ সরকার জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে দেশের শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও কল্যাণে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মালিক-শ্রমিকের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সুসম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে নিরাপদ কর্মপরিবেশ, সামাজিক নিরাপত্তা ও শ্রমিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ শ্রম আইন যুগোপযোগী ও আধুনিকায়ন করে ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন-২০১৮’ প্রণয়ন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন খাতে কর্মরত শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়েছে। এই তহবিল থেকে যে কোন শ্রমিক কর্মরত অবস্থায় দুর্ঘটনাজনিত কারণে স্থায়ীভাবে অক্ষম হলে অথবা মৃত্যুবরণ করলে, জরুরি চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহ ও দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসার জন্য এবং শ্রমিকদের সন্তানের উচ্চ শিক্ষার জন্যেও আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন। আমরা রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের সার্বিক কল্যাণে আর্থিক সহায়তা প্রদানে একটি কেন্দ্রীয় তহবিল গঠন করেছি এবং সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছি। এ শিল্পের কর্মহীন এবং দুস্থ শ্রমিকদের সর্বোচ্চ তিন মাসের নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করে চলমান সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে। সব সেক্টরে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বাড়ানো হয়েছে। শ্রমিকদের সামাজিক মর্যাদা, স্বাস্থ্য ও সেইফটি নিশ্চিতকল্পে জাতীয় শ্রমনীতি-২০১২, জাতীয় শিশুশ্রম নিরসন নীতি-২০১০, জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি নীতিমালা-২০১৩, বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা-২০১৫ এবং গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি-২০১৫ প্রণয়ন করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এবং কার্যক্রম আরো সুদৃঢ় হয়েছে। শিল্প-কারখানায় কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন পরিদপ্তরকে অধিদপ্তরে উন্নীত করা হয়েছে। শ্রমিক ও তাদের পরিবারের কল্যাণে বিভিন্ন সেবার সম্প্রসারণ ও জোরদারকরণে আমরা শ্রম পরিদপ্তরকে সম্প্রতি অধিদপ্তরে রূপান্তরিত করেছি। শ্রমিক ভাই-বোনদের যেকোনো সমস্যা সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ, অভিযোগ নিষ্পত্তি ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদানের জন্য সার্বক্ষণিক টোল ফ্রি হেল্প লাইন (১৬৩৫৭) চালু করা হয়েছে। শিল্প কারখানায় বিশেষ করে গার্মেন্টস শিল্পে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যথাযথ পরিদর্শন ও মনিটরিং ব্যবস্থা চলমান।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, মহান মে দিবসের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে শ্রমিক-মালিক পরস্পর সুসম্পর্ক বজায় রেখে জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধিতে নিবেদিত হবেন। মে দিবসের চেতনায় দেশের শ্রমিক-মালিক ঐক্য জোরদার করে শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণ ও দেশের সার্বিক উন্নয়নের মধ্য দিয়ে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ তথা উন্নত-সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলবো; এটাই হোক আমাদের মে দিবসের অঙ্গীকার।’

তিনি ‘মহান মে দিবস-২০২৪’ উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন।




রাফাহতে ইসরায়েলি হামলার বিরুদ্ধে বৈশ্বিক পদক্ষেপ চায় জাতিসংঘ




৪৪তম বিসিএস মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ




মুস্তাফিজদের ম্যাচসহ টিভিতে খেলার সূচি

 




কুয়াকাটা খালের সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নে নকশা কর্মশালা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: উপকূলীয় এলাকার শহর উন্নয়নে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও জলবায়ু প্রতিরোধ (সিটিসিআরপি) প্রকল্পের আওতায় সমন্বিত এবং বাসযোগ্য শহর গড়ে তুলতে পটুয়াখালীর পর্যটন নগরী কুয়াকাটা খালের সৌন্দর্য বর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রায় দুইশ কোটি টাকা প্রকল্পের আওতায় এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক— এডিবির অর্থায়নে এলজিইডি বিভাগ এ কাজ বাস্তবায়ন করবে।

এ লক্ষ্যে জনপ্রতিনিধি, সামাজিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয়দের অংশগ্রহণে সুষ্ঠুভাবে ও সৌন্দর্যের সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে নকশ প্রণয়ন কর্মশালা করেছে এডিবি। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কুয়াকাটায় পর্যটকদের বিনোদনে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় কুয়াকাটা পৌরসভা অডিটোরিয়ামে ‘কুয়াকাটা খালের’ দুই পাড়ের সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিকল্পনা বিষয়ক এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আরো পড়ুন : বিদেশি প্রকৌশলী নির্ভরতা কমাতে পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে কুয়েট শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ

এ সময় পৌরসভার প্যানেল মেয়র মো. মনির শরীফের সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মশালায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের পরিদর্শক মো. মাহফুজ রহমান, প্যানেল মেয়র-২ মো. শহিদ দেওয়ান, কুয়াকাটা বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খলিলুর রহমান, পর্যটন উদ্যোক্তা হাসানুল ইকবাল, কাউন্সিলর তৈয়বুর রহমান, ফজলুল হক খান, আবুল হোসেন ফরাজী, মো. মজিবর রহমান, তুলাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল বারী আজাদ প্রমুখ।

এছাড়াও পৌর এলার প্রতিটি ওয়ার্ডের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার অর্ধশত মানুষ এ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।

কর্মশালায় প্রকল্প বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আরবান ডিজাইনার ও এডিবির কনসালট্যান্ট মোহাম্মদ শামসুজ্জামান।

কর্মশালায় প্রকল্পের ধারণাগত নকশা প্রণয়ন এবং এর বাস্তবায়ন নিয়ে খোলামেলা মতামত গ্রহণ করা হয়। পর্যটকদের বিনোদনে এবং একটি বাসযোগ্য শহর গড়ে তুলতে এডিবির এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় প্রতিনিধিসহ সকল শ্রেনী পেশার মানুষ।

আরো পড়ুন : এনজিওর চাকরি ছেড়ে মাশরুম চাষে সফল পটুয়াখালীর মিলন

কুয়াকাটা খালের সৌন্দর্যবর্ধন করা হলে পর্যটকসহ স্থানীয়দের বিনোদনে নতুন মাত্রা যোগ হবে এমনটাই জানায় কুয়াকাটা পৌর কতৃপক্ষ।

খালের দুই পাড়ের এক্সেস রোড, ফুটব্রিজ, র‌্যাম্প, ওয়াকওয়ে, বোর্ডওয়াক, ৩টি ঘাট, বসার শেড, বোট রাইডিং, মাছ ধরার পয়েন্ট, ফ্লোটিং গার্ডেন, মার্কেট, রেস্তোরাঁ, আলোকসজ্জা, পাবলিক টয়লেট, পানীয় জলের ব্যবস্থা, মানচিত্র, নিরাপত্তা ক্যামেরা, বৃক্ষরোপণ, ঝর্ণা, ফুটব্রিজ, খাল খননসহ বিভিন্ন বিষয়ে স্থান পেয়েছে প্রস্তাবিত এই নকশায়।

জলবায়ু সহনশীল সবুজ অবকাঠামো এবং প্রকৃতিভিত্তিক পর্যটন নগরী গড়ে তুলতে এমন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।




বিদেশি প্রকৌশলী নির্ভরতা কমাতে পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে কুয়েট শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বিদেশি প্রকৌশল নির্ভরতা কমাতে পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষার্থীদের দুই দিনব্যাপী বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে একের পর এক গড়ে উঠছে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। তবে এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বেশিরভাগই বিদেশি প্রকৌশলী নির্ভর। তাই দেশের প্রকৌশলীদের পাওয়ার প্ল্যান্ট ভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড।

চীন ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত যৌথ এ প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে রবি ও সোমবার দুই দিনব্যাপী বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করা হয় পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে। এতে অংশ নেন কুয়েটের তড়িৎ এবং যান্ত্রিক অনুষদের চতুর্থ বর্ষের ৫০ শিক্ষার্থী ও ৬ শিক্ষক।

এসময় পাওয়ার প্ল্যান্টের বয়লার চেম্বার, কয়লার ব্যবহার এবং কয়লা খালাসের জেটিসহ কন্ট্রোল রুমে থাকা বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ঘুরে দেখানো হয় প্রশিক্ষণার্থীদের। শেখানো হয় পাওয়ার প্ল্যান্ট দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাথমিক বিষয়গুলো। সরাসরি পাওয়ার প্ল্যান্ট চালানোর এমন প্রশিক্ষণে অংশ নিতে পেরে খুশি শিক্ষার্থীরা। তবে আগামী দিনেও প্রশিক্ষণের এমন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দাবি তাদের।

আরো পড়ুন : কুয়াকাটার পর্যটন ব্যবসায় দাবদাহের প্রভাব – বাতিল হচ্ছে বুকিং

খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ অনুষদের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জাহানারা বলেন, ‘এতদিন আমরা আসলে বইয়ে পড়েছি। এখন সরাসরি পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের সবকিছু ঘুরে দেখলাম। এখানে এসে নতুন করে অনেক কিছু শিখেছি। যা ভবিষ্যতে আমার কাজে দেবে।’

বাংলাদেশ-চায়না কোম্পানি লিমিটেডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শাহ আবদুল হাসিব বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যাতে তত্ত্বীয় জ্ঞানের পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পর্কিত বাস্তবিক জ্ঞান, ধারণা লাভ করে এবং ভবিষ্যতে আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র ও আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল টেকনোলজি সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে ওঠে; তাই এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। এছাড়া দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে নিজস্ব মানবসম্পদ বিনির্মাণে এ ধরনের কর্মশালা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’




ঝালকাঠিতে মডেল মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করলেন আমির হোসেন আমু

বরিশাল অফিস :: ঝালকাঠি সদর উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে। গত রোববার বিকেলে ঝালকাঠির কীর্ত্তিপাশা মোড় এলাকায় ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে এ মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ১৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে ঝালকাঠি গণপূর্ত বিভাগ মডেল মসজিদটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে।

আরো পড়ুন : পিরোজপুরে যুবলীগের সম্মেলন – এক যুগ পর নতুন নেতৃত্বের আশা

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সরদার মোহাম্মদ শাহ আলম, ঝালকাঠি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খান সাইফুল্লাহ পনির, ঝালকাঠি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মো: মশিউর রহমান, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও পৌর কাউন্সিলর রেজাউল করিম জাকির। এ ছাড়া বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।