বরিশালে ভোক্তার অভিযানে ৯ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

বরিশাল অফিস :: জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ভেজাল বিরোধী অভিযান চালিয়ে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় নয়টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৭ মে) সকালে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালক অপূর্ব অধিকারী, বরিশাল জেলার সহকারী পরিচালক সুমি রানী মিত্র ও ইন্দ্রানী দাস এই অভিযান পরিচালনা করেন।

এ সময় উপজেলা সদরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরির অপরাধে শান্তি রঞ্জন মিষ্টান্ন ভাণ্ডারকে ২ হাজার টাকা, মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়ায় সাকিল ফার্মেসিকে ৩ হাজার টাকা, রায় মেডিকেলকে ৪ হাজার টাকা, প্রমিলা ফার্মেসিকে ৪ হাজার টাকা, পলাশ মেডিকেল হলকে ১ হাজার টাকা, অসীম মেডিসিন হাউজকে ১২ হাজার টাকা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মূল্যে তালিকা না থাকার অপরাধে মুদি দোকানের মালিক মানিক দাসকে ১ হাজার টাকা, মামুন ফল ভাণ্ডারকে ২ হাজার টাকা, দীপক বৈরাগীকে ২ হাজার টাকাসহ নয়টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ৩১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন থানার এসআই মনিরুজ্জামান, উপজেলা স্যানেটারি ইন্সপেক্টর সুকলাল শিকদার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।




বরিশালের লাইসেন্সধারীরাও অস্ত্র বহন-প্রদর্শন করতে পারবে না

বরিশাল অফিস :: উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১০ দিনের জন্য লাইসেন্সধারীকে অস্ত্রসহ চলাচল, অস্ত্র বহন ও প্রদর্শনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয়েছে।

এক গনবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেলের এসআই মো. তানজিল।

তিনি জানান, উপজেলা পরিষদ নির্বাচন প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকায় পুলিশ কমিশনার জিহাদুল কবির-বিপিএম, পিপিএম গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ ২০০৬ এর ২৯ ধারার ক্ষমতাবলে মেট্রোপলিটন এলাকার মধ্যে ৬ মে থেকে ১৫ মে পর্যন্ত অস্ত্রের লাইসেন্সধারীদের অস্ত্রসহ চলাচল, অস্ত্র বহন ও প্রদর্শনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে এ আদেশ নির্বাচনের কাজে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত সকল বাহিনীর সদস্য, বিভিন্ন সরকারি, আধা সরকারি ও বেসরকারি দপ্তর এবং আর্থিক ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত নিরাপত্তা প্রহরীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

অপরদিকে আরেক গণবিজ্ঞপ্তিতে বরিশাল মেট্রোপলিটনের আওতাধীন নির্বাচনী এলাকায় ৬ মে মধ্যরাত ১২ টা থেকে ভোট গ্রহণের পরদিন মধ্যরাত পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর এবং ৭ মে মধ্যরাত ১২ টা থেকে ভোটগ্রহণের দিন মধ্যরাত ১২ টা পর্যন্ত টেক্সিক্যাব, মাইক্রোবাস, পিকআপ, ট্রাক, লঞ্চ ও নির্দিষ্ট রুটে চলাচলকারী ব্যতীত ইঞ্জিন চালিত বোটসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

তবে এ নিষেধাজ্ঞা নির্বাচনে প্রার্থী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও অনুমতি প্রাপ্ত পর্যবেক্ষক এবং নির্বাচনী এজেন্টদের জন্য প্রযোজ্য হবে না। তবে পর্যবেক্ষক ও পোলিং এজেন্টদের যানবাহনে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রদত্ত স্টিকার ব্যবহার করতে হবে।

এছাড়া জাতীয় হাইওয়েগুলোতে এবং গুরুত্বপূর্ণ কতিপয় সংযোগ সড়কের ক্ষেত্রেও এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। তাছাড়া নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত দেশি-বিদেশি সাংবাদিক (পরিচয়পত্র থাকতে হবে) নির্বাচন পর্যবেক্ষক এবং কতিপয় জরুরি কাজ যেমন-অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডাক, টেলিযোগাযোগ ইত্যাদি কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।

এদিকে প্রচার-প্রচারণা শেষে এখন বরিশাল সদর ও বাকেরগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়নগুলো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের নজরদারি ও টহল বৃদ্ধি করেছে। এরই মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় উভয় উপজেলার নির্বাচনী এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

জানা গেছে, বরিশাল সদর উপজেলার ৬৮ কেন্দ্রের মধ্যে ৪৭টিকে গুরুত্বপূর্ণের তালিকায় রেখেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। ভোটের দিন ওই সকল কেন্দ্রে বুথ সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে নিরাপত্তায় পুলিশ, আনসার, ভিডিপি ও গ্রামপুলিশের ১৮ থেকে ১৯ জন সদস্য মোতায়েন করা হবে। সবমিলিয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকায় নির্বাচনে প্রায় ১২০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবেন।

অপরদিকে বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১১৩ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৭৩টি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা পুলিশ। এ উপজেলায় ১৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৮১৪ জন পুলিশ সদস্যসহ অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন থাকবেন।

এদিকে সিনিয়র জেলা রিটার্নিং অফিসার ওয়াহিদুজ্জামান মুন্সী বাংলানিউজকে জানিয়েছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নির্বাচন কেন্দ্রিক সহিংসতা রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগ করবে।

জাল ভোট প্রদানের কোনো সুযোগ থাকবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ভোট কক্ষে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা পরিলক্ষিত হলে পোলিং এজেন্টরা সঙ্গে সঙ্গে প্রিসাইডিং অফিসারকে জানাবেন। তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবেন। শতভাগ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে কোনো প্রার্থীর প্রভাব বিস্তারের সুযোগ থাকবে না বলেও জানান তিনি।




আগৈলঝাড়ায় বেশী ধান উৎপাদনে কৃষকের মুখে হাসি

বরিশাল অফিস :: আগৈলঝাড়ায় চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩ হাজার ১৮০ মেট্টিক টন ধান বেশী উৎপাদনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র মন্ডল জানান, চলতি মৌসুমে ৯ হাজার ৪শ ৪০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষ করেন চাষিরা। এরমধ্যে হাইব্রীড চাষ হয় ৯৩৭০ হেক্টর জমিতে এবং উফসী চাষ হয় ৭০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ছিল ৭২ হাজার ২শ মেট্টিক টন ধান।

তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩ হাজার ১৮০ মেট্টিক টন ধান বেশী উৎপাদন হয়েছে। উপজেলায় এবছর মোট ধান উৎপাদন হয়েছে ৭৫ হাজার ৩শ ৮০ মেট্টিক টন। এ বছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবং জমিতে সেচের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত থাকা এবং খালে পানি সরবরাহ থাকায় কৃষকেরা সময়মতো খেতে সেচ দিতে পেরেছেন। আর এ কারণে তাদের ফসলের উৎপাদনও বেড়েছে।

সুভাষ চন্দ্র মন্ডল আরও জানান, গতকাল সোমবার পর্যন্ত চাষিদের জমির ৮০ভাগ পাকা ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। বাকী ২০ ভাগ ধান চলতি সপ্তাহের মধ্যেই কাটা সম্পন্ন হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। সূত্র মতে, সরকারী প্রনোদনার অংশ হিসেবে বোরো মৌসুমে সরকারের পুণর্বাসন বীজ সহায়তা ও প্রনোদনার আওতায় চাষীরা ধান চাষ করে লাভবান হয়েছে।

কৃষকেরা জানিয়েছেন, এলাকার চাষীদের ধান কাটার জন্য ফরিদপুর, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, রাজবাড়িসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ধান কাটতে শ্রমিকেরা দল বেঁধে আগৈলঝাড়ায় আসে। প্রচন্ড তাপদাহ উপেক্ষা করে ধান কাটায় কৃষকেরা তাদের ধান গোলায় উঠাতে পেরেছে।




বরিশালে পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি স্কুলভবনের নির্মাণকাজ, পাঠদান ব্যাহত

বরিশাল অফিস :: পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়নের কাফিলা রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একতলা বিশিষ্ট নতুন ভবনের নির্মাণকাজ। ১৮ মাসের মধ্যে ভবন নির্মাণকাজ শেষ করার কথা থাকলেও কেবল ছাদ ঢালাই পর্যন্ত আংশিক নির্মাণ শেষ হয় তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে। এরপর গত ১ বছর যাবৎ কোনো কাজ করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ভবন নির্মাণ সম্পন্ন করতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে বারবার ধরনা দিলেও কাজ হচ্ছে না। শ্রেণিকক্ষের সংকটে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।

জানা যায়, ১৯৩৩ সালে কাফিলা রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। বর্তমানে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ২০০ জন। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে এক ভবনের নির্মাণ কার্যাদেশ পায় ঝালকাঠির লিটন এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বিদ্যালয়ের কাজের জন্য প্রায় এক কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০২০ সালে নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। ভবনের কাজ শেষ করার জন্য ১৮ মাস সময় নির্ধারণ করা হলেও পাঁচ বছরেও নির্মাণকাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নির্মাণাধীন বিদ্যালয়ের ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের পর এক বছর যাবৎ কাজ বন্ধ রয়েছে।

সরেজমিন বিদ্যালয়ে দেখা যায়, স্কুলের পুরাতন টিনশেড ঘরে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। সেখানেও রয়েছে শ্রেণিকক্ষের সংকট।

স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, ভবন নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের ইট। পরিমাণ মতো সিমেন্ট ব্যবহার না করায় এখনই বিভিন্ন স্থান থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে। পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি স্কুলভবনের নির্মাণকাজ, পাঠদান ব্যাহত ।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হোসনে য়ারা পারভিন জানান, এক বছর ধরে নতুন ভবনের কাজ বন্ধ আছে। এতে বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকটে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। আর নতুন যে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে তা এখনো ব্যবহারের উপযোগী নয়। বর্তমানে পুরাতন টিনশেড ঘরে ক্লাস নেওয়া হয়। বৃষ্টি আসলে টিনের চাল থেকে পানি পড়ে, তাতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রপাইটার মো. লিটন বলেন, ভবনের বিভিন্ন স্থান থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে, আমিও দেখেছি। করোনা মহামারির সময়ে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হয়। পরে রড-সিমেন্টসহ নির্মাণ সামগ্রীর দাম দিগুণ বেড়ে যায়, যে কারণে কাজ করাতে সমস্যা হয়েছে। জিনিসপত্রের দাম কিছুটা স্বাভাবিক হলে আবার কাজ শুরু হবে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য একাধিক বার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ করেনি। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এখন যেহেতু জেনেছি, শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে দেখব।

উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের মিয়া বলেন, নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করেছে কিনা সরজমিনে খতিয়ে দেখা হবে। ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলেছি, অতিশিগগিরই যদি বিদ্যালয় ভবনের কাজ শুরু না করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




বরিশালে কাজ শেষ না হতেই ৭০ কোটি টাকার সেতুতে ফাটল

বরিশাল অফিস :: বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জে রাঙামাটি নদীর ওপর নির্মাণাধীন গোমা সেতুর পিলারের ওপরের অংশে বড় ধরনের ফাটল দেখা গেছে। প্রায় ৭০ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতুর স্থায়িত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

বরিশালের কাউয়ারচর, দিনারেরপুল-লক্ষীপাশা-পটুয়াখালী জেলা আঞ্চলিক সড়কে বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধল ও চরাদী ইউনিয়নের গোমা পয়েন্টে রাঙ্গামাটি নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ হচ্ছে। উপজেলার মানুষের উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাঙামাটি নদীর ওপর এ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেতু ও সড়ক বিভাগের অধীনে ঠিকাধারি প্রতিষ্ঠান এম খান গ্রুপ সেতুটির কাজ করছে।

২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল জেলা পটুয়াখালী জেলার সঙ্গে আঞ্চলিক সড়কের রাঙ্গামাটি নদীর ওপর নির্মিত সেতুর দৈর্ঘ্য হবে ২৮৩ দশমিক ১৮৮ মিটার। সংশোধিত প্রস্তাবে প্রকল্প ব্যয় দেখানো হয়েছে ৭০ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
কাজ শেষ না হতেই ৭০ কোটি টাকার সেতুতে ফাটল ।

বরিশালের সড়ক ও জনপদের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ মাহমুদ সুমন বলেন, সেতুর পিলারের ফাটল ধরেছে এমন তথ্য আমার জানা ছিল না। আপনার মাধ্যমে এখন জেনেছি। সরজমিনে গিয়ে দেখে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, সেতুর নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। যে কারণে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই পিলারের উপরের অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।




ঝালকাঠির বিষখালী নদীতে হঠাৎ তীব্র ভাঙন

বরিশাল অফিস :: ঝালকাঠির বিষখালী নদীতে আকস্মিক ভাঙন শুরু হয়েছে। ভেঙে পড়ছে নদী-তীরবর্তী এলাকা। হুমকিতে নদীসংলগ্ন বসতভিটা ও ফসলি জমি। শনিবার-রোববার ভাঙনের কবলে পড়ে ধসে পড়েছে মঠবাড়ী ইউনিয়নের মানকী সুন্দর গ্রামের ৩০-৩৫ শতাংশ গাছের বাগান।

বিষখালী নদীর ভাঙনের কবলে নিঃস্ব মানকী সুন্দর গ্রামের মন্টু হাওলাদার জানান, ইতিপূর্বে বিষখালীর গর্ভে পৈতৃক বাগান ভিটা হারিয়ে গেছে। শেষ সম্বল দুটি বাগান ভিটা ছিল তা শনিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ বিষখালী নদীর ভাঙনের কবলে হারিয়ে গেল। নদী ভাঙতে ভাঙতে বসতবাড়ির একেবারে কাছে এসে গেছে।

ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম নিলয় পাশা বলেন, কাঠালিয়া, রাজাপুরসহ ঝালকাঠিতে যত ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ আছে এবং যদি নতুন কোনো বাঁধ দরকার হয় সরেজমিনে তার সার্ভে চলছে। সার্ভে শেষ হলে নতুন প্রকল্প হাতে নিচ্ছি। যেহেতু মেরামত সম্ভব হয় না সব সময়।

মেরামত হয় ১০০ মিটার ২০০ মিটার, তাই বড় পরিসরে ঝালকাঠি জেলায় যত বাঁধ আছে ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্ত এবং যদি নতুন প্রয়োজন হয় সব ধরনের বাঁধ মেরামত ও নির্মাণের জন্য শিগগিরই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাব।




মির্জাগঞ্জে ঘোড়ার দৌড় দেখতে হাজারো মানুষের ঢল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে ও বৈশাখী মেলা উপলক্ষে পটুয়াখালী মির্জাগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ মে) বিকেলে উপজেলার পশ্চিম গাবুয়া স্থানীয় যুব সমাজের আয়োজনে এই ঘোড়া দৌড় দেখতে ওই এলাকায় হাজারো মানুষের ঢল নামে।

তিন বারে ঘোড়ার দৌড় প্রতিযোগীতার প্রথম হয়েছেন উপজেলা সদর সুবিদখালী কলেজ রোড এলাকার অলি আহমেদ।

আরো পড়ুন : বাউফল উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে মত বিনিময় সভা

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকেই চলে মাইকিং যার কারণে দর্শনার্থী সংখ্যা বেড়ে যায়। হাজার হাজার নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী শিশুরা মাঠে জড়ো হতে থাকেন এবং হাজার হাজার দর্শকে কানায় কানায় ভরে যায় মাঠ। এমন আয়োজনে খুশি দর্শনার্থীরা। তবে তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিতব্য উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সকল প্রার্থী ও সমার্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড় দৌড় কালের বিবর্তনে প্রায় হারিয়ে যাচ্ছে। তাই গ্রাম বাংলার এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এই ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। ফলে এখানকার শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সী মানুষের বিনোদনের কোনো কমতি ছিল না। বিভিন্ন এলাকা থেকে নয়টি প্রতিযোগী ঘোড়া নিয়ে অংশ নিয়েছে।

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও চেয়ারম্যান প্রার্থী খান মো: আবু বকর সিদ্দিকী। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন কাকড়াবুনিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো: সেলিম মিয়াসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।




বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় সাবেক মন্ত্রী জাহিদ মালেক




শাকিব-বুবলীর বিয়ে হয়নি, দাবি প্রযোজক ইকবালের




বাউফল উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে মত বিনিময় সভা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ সাধারন নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সাথে মতবিনিময় সভা করেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মোঃ নুর কুতুবুল আলম।

আরো পড়ুন : লেবুখালি হাবিবুল্লাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণ নিয়ে আ’লীগ নেতার বক্তব্যে দুমকীতে তোলপাড়!

আজ (৭ মে) মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় বাউফল উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ বশির গাজীর সভাপতিত্ব অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার মোঃ সাইদুল ইসলাম, পটুয়াখালী জেলা নির্বাচন অফিসার খান আবি শাহানুর, বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শোনিত কুমার গায়েন, বাউফল উপজেলা নির্বাচন অফিসার শাহিন শাহ বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ ও চেয়ারম্যান ভাইস চেয়ারম্যান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীপন উপস্থিত ছিলেন।

আরো পড়ুন : হাসপাতালে স্ত্রীর লাশ রেখে পালিয়ে গেলেন স্বামী

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক নুর কুতুবুল আলম প্রার্থীদেরকে আচরণবিধি মেনে -নির্বাচন পরিচালনার আহ্বান জানান। নির্বাচনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কে নির্বাচন কমিশনের সকল নিয়মকানুন মেনে চলার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে তিনি জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেন।