এই প্রথম ইসরায়েলি বসতকারীদের নিষেধাজ্ঞা দিলো কানাডা




জাবালিয়ায় হামাসের শক্ত ঘাঁটিতে প্রবেশ ইসরায়েলের, অগ্রগতি নেই রাফায়

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: উত্তর গাজার জাবালিয়া শহরের        কেন্দ্রস্থলে হামাসের শক্ত ঘাঁটিতে প্রবেশ করেছে ইসরায়েল।  সেখানে ইসরায়েলি ট্যাংকগুলো ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও অন্যান্য প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। সেগুলোকে লক্ষ্য করে ট্যাংকবিধ্বংসী রকেট এবং বোমা হামলা চালিয়েছেন প্রতিরোধ যোদ্ধারা।

এদিকে, গাজার দক্ষিণে রাফাহ শহরে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। তবে শহরটিতে কোনও অগ্রগতি করতে পারেনি সেনারা। ফিলিস্তিনি বাসিন্দা এবং প্রতিরোধ যোদ্ধাদের বরাতে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।




গাজায় দীর্ঘমেয়াদে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হামাস




ইরানে ২৫০ ‘শয়তানবাদী’ গ্রেপ্তার




যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন ৩০ ব্যাংকের এমডি




দুমকী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন : আচরণ বিধি ভঙ্গের অভিযোগে মোটরসাইকেল প্রার্থীকে জরিমানা করলেন ম্যাজিস্ট্রেট

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: আচরণবিধি লংঘনের অভিযোগে পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মোটরসাইকেল প্রতীকের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হারুন অর রশীদ হাওলাদারকে শুক্রবার দুই দফায় ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন স্থানীয় প্রশাসন ।

প্রথমে উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নে বিধিবহির্ভূতভাবে নির্বাচনী প্রচার চালানোর জন্য আচরণ বিধি তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত ম্যাজিস্ট্রেট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। পরে একই অভিযোগে পাংগাশিয়ার নলদোয়ানিতে অপর এক জনসভায় আরও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

আরো পড়ুন : দুমকি উপজেলা নির্বাচন: মাল্টা কাওসার ও তার কর্মীদের হামলার শিকার ৩ আনারস কর্মী

উল্লেখ্য, এর আগে প্রতীক বরাদ্দের দিন বিকেলে ঢাকা কুয়াকাটা মহাসড়ক বন্ধ করে জনজীবনে ভোগান্তি সৃষ্টির অভিযোগে শোকজ করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক যাদব সরকার। ১৯ তারিখের মধ্যে শোকজের জবাব দেয়ার কথা।




একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি, চলবে তিন ধাপে




দুমকি উপজেলা নির্বাচন: মাল্টা কাওসার ও তার কর্মীদের হামলার শিকার ৩ আনারস কর্মী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: নির্বাচনী মাঠে টিকতে না পেরে বিরোধী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মারধর করার অভিযোগ উঠেছে আসন্ন দুমকী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কাপ-পিরিচ মার্কার প্রার্থী কাওসার আমিন হাওলাদার ওরফে মাল্টা কাওসারের বিরুদ্ধে। গত ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে মুরাদিয়া ইউনিয়নে আনারস মার্কার ৩ কর্মীকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর ভিতর দুজনকেই সরাসরি মাল্টা কাওসার মেরেছেন এমন অভিযোগ ভূক্তভোগীদের।

সরেজমিনে প্রতক্ষদর্শী ও ভূক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আজ দুপুরে মুরাদিয়ার কাবিলওলায় মাল্টা কাওসার তার ১০/১২ জন সহযোগী নিয়ে আনারস মার্কার সর্মথক চরগরবদী গ্রামের মো: খোরশেদ হাওলাদারের ছেলে মো. ঝন্টু হাওলাদার ও আতাহার শরীফের ছেলে আবদুর রাজ্জাককে বেদম মারধর করেন।

মারধরের শিকার আনারসের কর্মী ঝন্টু হাওলাদার জানান, আজ (শুক্রবার) দুপুরে দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাচ্ছিলেন। এমন সময় মাল্টা কাওসারের গাড়ী দেখে তার অটোচালককে থেমে সাইড দিতে বলে। ওপাশে গিয়েই ওকে দেখে মাল্টা কাওসার তার কর্মীদের বলে খা-ন-কীর পোলাগো একেকটাকে ধর, গলা কা-ই-টা ফ্যালা। আমি তখন তাকে ডাক দিলে সে না দাড়িঁয়ে গাড়ী টেনে চলে যায়। আমিও বাড়ির দিকে হাটঁতে থাকি। কিছুক্ষণ পরে দেখি ১০/১২ জন লোক নিয়ে সে আমার কাছে আসে। এর মধ্যে টিপু নামের একটা ছেলে গেঞ্জির কলার ধরে আর মাল্টা কাওসার এই শু-য়ো-রে-র বাচ্চা কী বললি বলেই মারধর শুরু করে। এরপর তার লোকজন আমাকে যে যেভাবে পারে মারতে থাকে। এসময় সাথে থাকা ৫০ হাজার টাকাও তার লোকজন নিয়ে যায়। এরপর মাটিতে ফেলে দিয়ে এলোপাথারি মারতে থাকলে আমার চিৎকারে এলাকার লোকজন এগিয়ে আসলে ছেড়ে দেয়।

ঝন্টুকে বাচাঁতে এলে একই গ্রামের ষাটোর্দ্ধ আবদুর রাজ্জাককেও মারধর করে মাল্টা কাওসার ও তার লোকেরা। মারধরের শিকার ব্যক্তিরা জানান, দুমকী, লেবুখালী ও পাংগাশিয়ার সর্মথকরা মাল্টা কাওসারের সাথে ছিল। এজন্য সবাইকে চিনতে পারেননি। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচনী জনসংযোগকালে আচরণবিধি ভংগ করার অভিযোগে মাল্টা কাওসারের বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা জরিমান করেন আচরণ বিধি ম্যাজিষ্ট্রেট।

এর আগে গতকাল (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় আনারস মার্কার সমর্থক গঞ্জর হোসেন খানের ছেলে মো: ফারুক হোসেন খানকে মারধর করে গুরুতর আহত করে কাপ-পিরিচ মার্কার প্রার্থী কাওসার আমিন হাওলাদারের লোকজন। গুরুতর আহত ফারুক এখন হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

মাল্টা কাওসার এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি না হলেও আনারস মার্কার প্রার্থী মেহেদী হাসান মিজান জানান, নির্বাচনী মাঠে টিকতে না পেরে পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা করছে বিরোধী পক্ষ। তবে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে তিনি স্থানীয় থানাকে বিষয়টি অবহিত করেছেন বলেও তিনি জানান। তিনি এক ফেসবুক লাইভে বিরোধীদের ফাদেঁ পা না দিয়ে সর্মথকদের শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রচার চালানোর জন্য কর্মী সমর্থকদের নির্দেশনা প্রদান করেন।




খারকিভে ‘কঠিন লড়াই’ চলছে: জেলেনস্কি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ইউক্রেনের খারকিভ শহর ঘিরে ‘কঠিন লড়াই’ চলছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেন, পরিস্থিতি ‘অত্যন্ত কঠিন’, তবে তা ‘নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার খারকিভের শীর্ষস্থানীয় সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপের পর জেলেনস্কি এসব কথা বলেন। খবর বিবিসির।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ টেলিগ্রামে জেলেনস্কি লিখেছেন, ‘ইউক্রেনের সেনারা রুশ বাহিনীর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। এলাকাটির বর্তমান পরিস্থিতি ভয়াবহ। সেখানে আমাদের আরও সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে।’

মূলত ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে হামলার শুরুতেই খারকিভ শহরের উপকণ্ঠে পৌঁছে যায় রুশ বাহিনী। তবে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর তীব্র প্রতিরোধের মুখে তারা আবারও সীমান্তে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। নতুন করে খারকিভ সীমান্তে রাশিয়ার আকস্মিক হামলায় কিছুটা হকচকিত হয়ে পড়ে সেনা ও অস্ত্র সংকটে ভুগতে থাকা ইউক্রেনীয় বাহিনী।




শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৪৪তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর ১৯৮১ সালের ১৭ মে দীর্ঘ নির্বাসন জীবন শেষে তিনি বাংলার মাটিতে ফিরে আসেন। এদিন বিকেল সাড়ে ৪টায় ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে তিনি ভারতের রাজধানী দিল্লী থেকে কোলকাতা হয়ে তৎকালীন ঢাকা কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে বিপদগামী একদল সেনা কর্মকর্তার নির্মম বুলেটের আঘাতে ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাকান্ডের মাধ্যমে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে। এসময় বিদেশে থাকায় আল্লাহর অশেষ রহমতে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করে বাঙালি জাতির অস্তিত্বকে বিপন্ন করতে নানামুখী ষড়যন্ত্র শুরু করে ঘাতক গোষ্ঠী।

বাঙালি জাতির জীবনে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসে ঘোর অমানিশার অন্ধকার। ঠিক তেমনি এক ক্রান্তিলগ্নে ১৯৮১ সালের ১৪, ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাঁকে সংগঠনের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। দেশমাতৃকার মুক্তির সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়ার পবিত্র দায়িত্ব অর্পণ করা হয় জাতির পিতার জ্যেষ্ঠ কন্যার হাতে। বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বকে ভয় পায় ঘাতক গোষ্ঠী। খুনি সামরিক জান্তা জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করতে না দেওয়ার জন্য সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
সামরিক শাসকের রক্তচক্ষু ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ১৯৮১ সালের ১৭ মে প্রিয় স্বদেশ ভূমিতে প্রত্যাবর্তন করেন শেখ হাসিনা। দীর্ঘ ৬ বছর নির্বাসিত জীবন শেষে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে ফিরে আসেন তিনি। সেদিন রাজধানী ঢাকা মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ঢাকা শহর মিছিল আর স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া আর প্রচন্ড ঝড়-বৃষ্টিও সেদিন লাখ লাখ মানুষের মিছিলকে গতিরোধ করতে পারেনি। কুর্মিটোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও শেরেবাংলা নগর পরিণত হয় জনসমুদ্রে।

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে এক নজর দেখতে সেদিন সারা বাংলাদেশের মানুষের গন্তব্য ছিল রাজধানী ঢাকা। স্বাধীনতার অমর স্লোগান,  ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয় বাংলার আকাশ-বাতাস। জনতার কণ্ঠে বজ্রনিনাদে ঘোষিত হয়েছিল ‘হাসিনা তোমায় কথা দিলাম পিতৃ হত্যার বদলা নেব’; ‘ঝড়-বৃষ্টি আঁধার রাতে আমরা আছি তোমার সাথে’। ‘শেখ হাসিনার আগমন, শুভেচ্ছায় স্বাগতম’।

দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের দৃঢ় অঙ্গীকার, বঙ্গবন্ধু হত্যা ও জাতীয় চার নেতা হত্যার বিচার, স্বৈরতন্ত্রের চির অবসান ঘটিয়ে জনগণের হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সার্বভৌম সংসদীয় পদ্ধতির শাসন ও সরকার প্রতিষ্ঠার শপথ নিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা।

সে দিন বিকেল সাড়ে চারটায় আকাশে যখন শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানটি দেখা যায় তখন সকল নিয়ন্ত্রণ আর অনুরোধ আবেদন অগ্রাহ্য করে হাজার হাজার মানুষ বিমান বন্দরের ভেতরে ঢুকে যায়। অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই বিমানটি অবতরণ করে। জনতা একেবারেই বিমানের কাছে চলে যায়। বহু চেষ্টার পর জনতার স্রোতকে কিছুটা সরিয়ে ট্রাকটি ককপিটের দরজার একেবারে সামনে নেয়া হয়। এই সময়ে শেখ হাসিনা ভেতর থেকে জনতার উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন।

বেলা ৪টা ৩২ মিনিটে শেখ হাসিনা বিমান থেকে সিঁড়ি দিয়ে ট্রাকে নেমে আসেন। কুর্মিটোলা থেকে শেখ হাসিনার শেরেবাংলা নগরে এসে পৌঁছতে সময় লাগে ৩ ঘন্টা। এই সময় ঝড় বৃষ্টিতে নগর জীবন প্রায় বিপন্ন। রাস্তাঘাট স্বাভাবিক জীবন যখন ব্যাহত তখন সেখানে অপেক্ষা করে কয়েক লাখ মানুষ। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তিনি গণসংবর্ধনা মঞ্চে উপস্থিত হন।

১৯৮১ সালের ১৭ মে ঝড়-বাদল আর জনতার আনন্দাশ্রুতে অবগাহন করে শেরে বাংলা নগরে লাখ লাখ জনতার সংবর্ধনার জবাবে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘সব হারিয়ে আমি আপনাদের মাঝে এসেছি, বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তাঁর আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জাতির পিতার হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে আমি জীবন উৎসর্গ করতে চাই।’
তিনি আরও বলেছিলেন, ‘আমার আর হারাবার কিছুই নেই। পিতা-মাতা, ভাই রাসেলসহ সকলকে হারিয়ে আমি আপনাদের কাছে এসেছি, আমি আপনাদের মাঝেই তাদেরকে ফিরে পেতে চাই। আপনাদের নিয়েই আমি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তা বাস্তবায়ন করে বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চাই। বাঙালি জাতির আর্থ-সামাজিক তথা সার্বিক মুক্তি ছিনিয়ে আনতে চাই।’
মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুদ্ধার এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অভিযাত্রায় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। ১৯৭৫’র ১৫ আগস্টের পর যখন প্রবঞ্চক বিশ্বাসঘাতক খুনি দেশদ্রোহীরা প্রিয় মাতৃভূমিকে ক্ষত-বিক্ষত করে তুলেছিল আমাদের জাতীয় জীবন যখন জাতিদ্রোহীদের অত্যাচারের প্রচন্ড দাবদাহে বিপর্যস্ত তখন শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ছিল শ্রাবণের বারিধারার মতো পাহাড় সমান বাঁধা জয়ের অনন্ত অনুপ্রেরণা। সে দিন বঙ্গবন্ধু কন্যার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে অশ্রু-বারিসিক্ত জন্ম ভূমিতে সঙ্কটজয়ের বীজ রোপিত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ বিনির্মাণের দৃঢ় প্রত্যয়ে প্রদীপ্ত অগ্নি শপথের রৌদ্রালোকে উদ্ভাসিত হয়েছিল বাঙালি জাতি।
ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার নিরবচ্ছিন্ন দীর্ঘ সংগ্রাম শুরু হয়। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে সামরিক জান্তা ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে চলে তাঁর অকুতোভয় সংগ্রাম। জেল-জুলম, অত্যাচার কোনো কিছুই তাঁকে তাঁর পথ থেকে টলাতে পারেনি এক বিন্দু। শত প্রতিকূলতাতেও হতোদ্যম হননি কখনো। বাংলার মানুষের হারিয়ে যাওয়া অধিকার পুনরুদ্ধার করতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি বার বার স্বৈরাচারের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করেছেন। আবির্ভূত হয়েছেন গণতন্ত্রের মানসকন্যা রূপে।
আওয়ামী লীগ সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর দীর্ঘ ৪৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বৈরশাসনের অবসান, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বাঙালির ভাত ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে। খাদ্যে স্বয়ংস্পূর্ণতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর খুনি ও একাত্তরের নরঘাতক মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্য সম্পন্ন এবং রায় কার্যকর করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্ব, যোগ্যতা, নিষ্ঠা, মেধা-মনন, দক্ষতা, সৃজনশীলতা, উদার গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে এক সময় দারিদ্র্য-দুর্ভিক্ষে জর্জরিত যে বাংলাদেশ অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম করতো সেই বাংলাদেশ আজ বিশ্বজয়ের নবতর অভিযাত্রায় এগিয়ে চলছে। বিশ্বসভায় আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ তালাবিহীন ঝুঁড়ির অপবাদ ঘুচিয়ে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে।
রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সততা, মেধা, দক্ষতা ও গুণাবলিতে সমসাময়িক বিশে^র অন্যতম সেরা রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। আপন কর্ম মহিমায় হয়ে উঠেছেন-নব পর্যায়ের বাংলাদেশের নতুন ইতিহাসের নির্মাতা; হিমাদ্রী শিখর সফলতার মূর্ত-স্মারক, উন্নয়নের কান্ডারি। উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশের রূপকার বাঙালির আশা-আকাক্সক্ষার বিশ্বস্ত ঠিকানা, বাঙালির বিশ্বজয়ের স্বপ্ন-সারথি। বিশ্ব রাজনীতির উজ্জ্বলতম প্রভা-আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পিছিয়ে পড়া দেশ-জাতি জনগোষ্ঠীর মুখপাত্র হিসেবে বিশ্বনন্দিত নেতা। বারবার মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসা ‘নীলকণ্ঠ পাখি’ মৃত্যুঞ্জয়ী মুক্তমানবী। তিমির হননের অভিযাত্রী মানবতার মা, আত্মশক্তি-সমৃদ্ধ সত্য-সাধক। প্রগতি-উন্নয়ন শান্তি ও সমৃদ্ধির সুনির্মল-মোহনা। এক কথায় বলতে গেলে সাগর সমান অর্জনে সমৃদ্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কর্মময় জীবন।
শেখ হাসিনার দীর্ঘ ৪৩ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের এই পথচলা কখনোই কুসুমাস্তীর্ণ ছিলনা, ছিল কণ্ঠকাপূর্ণ ও বিপদসংকুল। গণমানুষের মুক্তির লক্ষে আন্দোলন সংগ্রাম করার অপরাধে তাঁকে বারবার ঘাতকদের হামলার শিকার ও কারা নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছে। কিন্তু তিনি বাংলার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে ছিলেন পিতার মতোই অবিচল, দৃঢ় ও সাহসী। জনগণের ভালবাসায় অভিষিক্ত হয়ে টানা তৃতীয় বারসহ চতুর্থ বারের মতো রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়ে তিনি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষের কল্যাণে যুগান্তকারী অবদান রেখে চলেছেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ন্যায় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা যখনই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তখন এদেশের মাটি ও মানুষের কল্যাণে বাস্তবায়ন করেছেন বহুমাত্রিক উদ্যোগ। বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের প্রতি অগাধ প্রেম এবং অক্ষয় ভালোবাসাই হলো তাঁর রাজনৈতিক শক্তি।