পটুয়াখালীতে জলবায়ু সংকটে জারি গানের ভিন্নধর্মী আয়োজন

উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীতে বৈশ্বিক জলবায়ু কার্যক্রম সপ্তাহকে ঘিরে আয়োজিত হলো এক ব্যতিক্রমী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। “প্রকৃতির ডাক: জারি গানে ন্যায় রূপান্তর” শীর্ষক এই আয়োজনের মাধ্যমে জলবায়ু সংকট, উপকূলবাসীর সংগ্রাম এবং টেকসই ভবিষ্যতের বার্তা তুলে ধরা হয়। শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গ্রীন পিস ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির উদ্যোগে, গ্লোবাল প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশের সহযোগিতায় এবং ধুমকেতু ইয়ুথ ফাউন্ডেশনের বাস্তবায়নে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে জারি গানের ছন্দে উঠে আসে উপকূলের নানান সংকটের চিত্র। লবণাক্ত পানির কষ্ট, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ভয়াবহতা, নদীভাঙনের দুঃখ—সবকিছুই লোকগানের সুরে দর্শকদের সামনে ফুটে ওঠে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার, টেকসই উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা এবং ফসিল ফুয়েল নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান সাংস্কৃতিক কর্মীরা।

এ আয়োজনে স্থানীয় শিক্ষার্থী, পরিবেশকর্মী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ মানুষ সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তাদের অভিমত, জারি গানের মতো সহজবোধ্য সাংস্কৃতিক মাধ্যমের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের মতো জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজভাবে পৌঁছে যায়।

অনুষ্ঠানে শুকতারা মহিলা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মাহফুজা ইসলাম বলেন, “উপকূলের মানুষের টিকে থাকার জন্য এখনই উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। তরুণ প্রজন্ম যদি এগিয়ে আসে, তবে এই পরিবর্তন আরও দ্রুত ঘটবে।”

গ্রীন পিস ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক খাইরুল ইসলাম মুন্না জানান, “উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় আমাদের বিকল্প নেই। নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে রূপান্তর না হলে বিপর্যয় ঠেকানো সম্ভব নয়। তরুণদের সম্পৃক্ত করে আমরা নিয়মিত এ ধরনের আয়োজন চালিয়ে যাব, যাতে উপকূল থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ে জলবায়ু ন্যায়ের দাবি আরও জোরালো হয়।”

আয়োজক সংগঠনগুলোর মতে, উপকূলীয় মানুষের টিকে থাকার জন্য ফসিল ফুয়েল বর্জন অপরিহার্য। এই ধরনের সাংস্কৃতিক আন্দোলন শুধু সচেতনতা তৈরি করে না, বরং সমাজে পরিবর্তনের জন্য শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবেও কাজ করে। ভবিষ্যতেও তরুণদের সম্পৃক্ত করে তারা এমন কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অভিযানে কলাপাড়ায় নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ ১

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অভিযানের সময় ধাওয়া খেয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন নুরুল ইসলাম গাজী (৫৫) নামের এক ব্যক্তি। শনিবার সকাল থেকেই নিখোঁজের খবরে আন্ধারমানিক নদীর তীরে জড়ো হয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।

পরিবারের অভিযোগ, শুক্রবার দুপুরে নুরুল ইসলাম পৌর শহরের বাদুরতলী এলাকায় একটি অটোরিকশায় বসে ছিলেন। সে সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মাদকসহ অটোরিকশার চালককে আটক করেন। পরবর্তীতে নুরুল ইসলামের দেহ তল্লাশি চালানো হলেও তার কাছে কিছু পাওয়া যায়নি। তবুও তাকে ধাওয়া করা হয় বলে পরিবারের দাবি।

নিখোঁজের কন্যা রূপা জানান, তার বাবা পরিস্থিতি থেকে আত্মরক্ষার জন্য আন্ধারমানিক নদীতে ঝাঁপ দেন এবং এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল গতকাল বিকাল থেকে নদীতে উদ্ধার অভিযান চালালেও এখনো তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এদিকে অভিযানের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন কলাপাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ইনচার্জ শাহিনুল কবির। তিনি দাবি করেন, তাদের টিম এমন কোনো ধাওয়া বা অভিযানের সঙ্গে জড়িত ছিল না।

ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে পরিবার ও স্বজনরা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, অন্যদিকে নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এলাকাবাসী।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কুয়াকাটায় খাস জমি দখল, পরিবেশ সংকটে

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় দখল ও দূষণের কারণে পর্যটন কেন্দ্রটির প্রাকৃতিক পরিবেশ চরম হুমকির মুখে পড়েছে। সরকারি খাস জমি দখল করে প্রভাবশালী মহল ইতোমধ্যেই নির্মাণ করেছেন প্রায় দুই শতাধিক স্থাপনা। গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে এ দখল কার্যক্রম শুরু হয়, যা দিন দিন আরও বেড়েই চলছে।

সরকারি পর্যটন হলিডে হোমস থেকে শুরু করে কুয়াকাটা চৌরাস্তা পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশ, চৌরাস্তা থেকে সৈকতের জিরো পয়েন্ট, আবার সেখান থেকে পশ্চিম ও পূর্ব দিকের সড়ক সংলগ্ন জায়গা পর্যন্ত দখল হয়ে গেছে। এমনকি সৈকতের জিরো পয়েন্টের পশ্চিম পাশেও নতুন করে দখল ও স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এসব অবৈধ স্থাপনা শুধু সরকারি জমিই নয়, পর্যটকদের স্বাভাবিক চলাচলও বাধাগ্রস্ত করছে।

এদিকে প্রতিনিয়ত গভীর রাতে সৈকতের জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন একাধিক আবাসিক হোটেলের বর্জ্য ও ময়লা পানি সরাসরি ফেলা হচ্ছে সমুদ্রসৈকতে। ফলে দূষণের মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সৈকতের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে। স্থানীয়রা বলছেন, এই অবস্থা চলতে থাকলে কুয়াকাটার পর্যটন শিল্প মারাত্মক সংকটে পড়বে।

এ বিষয়ে কলাপাড়ার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসিন সাদীক জানান, দখলদারদের চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং অচিরেই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পরিবেশ ও পর্যটন রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কুয়াকাটাকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। স্থানীয়রা সরকারের কাছে দখল উচ্ছেদ ও পরিবেশ সুরক্ষায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




নদী যেন এখন লাশ গোপন করার নিরাপথ স্থান

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ:

  •    দেড় বছরে ৭৫০ মরদেহ উদ্ধার
  •     দীর্ঘ সময় পানিতে থাকায় ৩০ শতাংশেরই পরিচয় শনাক্ত সম্ভব হয় না
  •     হত্যার প্রমাণ নষ্টের জন্যই খুনিরা লাশ ফেলে নদীতে

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ । নদী আমাদের প্রানের স্পন্দন  জালের মতো জড়িয়ে থাকা বাংলাদেশের নদীপথগুলো যোগাযোগ ও বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কিন্তু কালের পরিক্রমায় এখন নদীগুলো যেন অপরাধী চক্রের কাছে লাশ ফেলার ‘ডাম্পিং স্টেশন’ হয়ে উঠেছে। গত দেড় বছরে নদী থেকে ৭৫০টি মরদেহ উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অর্থাত্ প্রতি মাসে গড়ে ৪২টি মরদেহ মিলছে নদীতে। এর মধ্যে ৩৯১টির পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার কারণে এসব মরদেহ শনাক্তে সমস্যা দেখা দেয়। মূলত হত্যার পর প্রমাণ লোপাট এবং আইনের চোখ ফাঁকি দিতেই মরদেহগুলো ফেলে দেওয়ার জন্য নদীকে বেছে নিচ্ছে খুনিরা।

গত ২৩ আগস্ট বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী কেরানীগঞ্জের মীরেরবাগ এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় গলায় কালো কাপড় প্যাঁচানো এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের এক ঘণ্টা পরে একই স্থানে ওড়না দিয়ে প্যাঁচানো অবস্থায় এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে নৌ- পুলিশ। একই দিনে মাত্র ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে একই নদী থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক যুবক ও এক যুবতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তে প্রাথমিকভাবে উঠে আসে, হত্যার পর তাদের লাশ ফেলে দেওয়া হয়েছে নদীতে। গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত ২৬ দিনেও তাদের পরিচয় মেলেনি।

পুলিশ জানিয়েছে, আঙুলের ছাপ মুছে যাওয়ায় নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের ভাষ্য, কেউ মরদেহ নিতেও আসেনি। পুলিশ দুই জনের  ডিএনএ সংরক্ষণ করেছে। কেউ মরদেহ শনাক্ত করতে এলে মিলিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন থানায় নিখোঁজ ডায়ারির সঙ্গে তাদের তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।

নৌ-পুলিশের সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোহাগ রানা জানিয়েছেন, সাধারণত পরিচয় জানা সম্ভব না হলে তদন্তে অগ্রগতি হয় না। হত্যার সূত্র খুঁজে পেতে পরিচয় শনাক্ত করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নদী থেকে উদ্ধার মরদেহ শনাক্ত করতে প্রায়ই পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। এটি একটি নিয়মিত চ্যালেঞ্জ।

পুলিশ ও অপরাধতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ গ্রেফতার এড়াতে অপরাধীরা মরদেহ নদীতে ফেলে দেয়। চলতি বছর প্রতি মাসে নৌ-পুলিশ গড়ে ৪৩টি মরদেহ উদ্ধার করেছে। গত বছর প্রতি মাসে এই সংখ্যা ছিল ৩৬টি।

নৌ-পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুসারে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশ জুড়ে অন্তত ৩০১ নারী-পুরুষ ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জে সর্বোচ্চসংখ্যক ৩৪টি মরদেহ পাওয়া গেছে। এর পরের অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। সেখানে ৩২টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে এই সময়ের মধ্যে। এর মধ্যে ২০৯ জনের পরিচয় জানা গেলেও ৯২ জন এখনো অজ্ঞাত। গত বছর নদী থেকে ৪৪০টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছিল, যার মধ্যে ১৪১ জনের পরিচয় এখনো শনাক্ত হয়নি। মরদেহ উদ্ধারের পর এ বছর বিভিন্ন থানায় অন্তত ৪১টি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। গত বছর ৫৩টি মামলা হয়েছিল। নৌ-পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, মরদেহের অবস্থা ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণ সাপেক্ষে সন্দেহজনক মনে হলে তারা হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে হত্যার প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যায় একটি মস্তকহীন মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সহায়তায় আঙুলের ছাপ মিলিয়ে দেখা যায়, নিহত ব্যক্তির নাম হাবিব (২৭)। তিনি সোনারগাঁ উপজেলার মধ্য কাঁচপুর এলাকার বাসিন্দা। এটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। নিহত ব্যক্তির পরিচয় যেন শনাক্ত করা সম্ভব না হয়, সে উদ্দেশ্যে খুনিরা লাশ ফেলে দেওয়ার আগে তার মাথা কেটে অন্যত্র লুকিয়ে রাখে। লাশটি বেশি পচে না যাওয়ায় এবং দ্রুত ভেসে ওঠায় পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। কাঁচপুর নৌ-ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) আব্দুল মাবুদ জানান, হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন তিন জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছিল। তবে এখনো মাথা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

পরিদর্শক মাবুদ আরো বলেন, পানিতে দেহ দ্রুত পচে যায়, প্রমাণ নষ্ট হয়ে যায়। কখনো কখনো মাছের কামড় বা জাহাজের আঘাতে সৃষ্ট ক্ষতের কারণে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ফরেনসিক চিকিত্সকরা বিভ্রান্ত হন। প্রাথমিক তদন্তে হত্যা মনে না হলে লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ সাধারণত অপমৃত্যুর মামলা করে। তদন্তে বা ময়নাতদন্তে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেলে পরে সেটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়, জানান তারা।

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধতত্ত্ব ও পুলিশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ওমর ফারুক জানিয়েছেন,অপরাধীরা প্রমাণ নষ্ট করতে ও আইনের চোখ ফাঁকি দিতে হত্যার পর মরদেহ ফেলার জন্য নদী ও রেলপথ বেছে নেয়। তিনি আরো বলেন, অনেক লাশ পাওয়া যায় যেগুলো অনেক বেশি পচে গেছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে নিহত ব্যক্তির ঠিকানা থেকে অনেক দূরের এলাকায় মরদেহ ফেলে দেয় অপরাধীরা। কখনো কখনো লাশ ভাসতে ভাসতে অনেক দূরে চলে যায়, পরে পরিবার খোঁজ পায় না। ফলে লাশ অজ্ঞাত থেকে যায়। পরিবার ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়।

ঢাকা জেলা নৌ-পুলিশ সুপার (এসপি) আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, যখন আমরা পরিচয় শনাক্ত করতে পারি না এবং দীর্ঘ সময় পরও মামলার অগ্রগতি হয় না, তখন সদর দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে অন্য কোনো সংস্থাকে তদন্তের ভার দেওয়া হয় অথবা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়। তবে, কেউ মরদেহ শনাক্ত করতে এলে মিলিয়ে দেখার জন্য আমরা ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণ করে রাখি।

 




ঢাকার আকাশে ঘুর্নিবাতাসের শিকার বাংলাদেশ বিমান, হাত ভাঙল কেবিন ক্রুর

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ:  আকাশে শান্তির নীড় বাংলাদেশ বিমান । ঢাকার আকাশে  এই শান্তির নীড়ে  এয়ার টার্বুলেন্সের কালো ছায়া হয়ে আছরে পরেছে বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ গায়ে । ৯ সেকেন্ড ধরে স্থায়ী সেই টার্বুলেন্সের তীব্র ঝাঁকুনিতে পড়ে গিয়ে হাত ভেঙেছে এক কেবিন ক্রুর। এ সময় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ালেও তারা নিরাপদে ছিলেন।

শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার কিছু সময় পর বিমানের বিজি ১২৮ ফ্লাইটে এই ঘটনা ঘটে। বোয়িং ৭৩৭ মডেলের উড়োজাহাজটি দুবাই থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় ফিরছিল।

শুক্রবার সকালে বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজের বিজি-১২৮ ফ্লাইটটি দুবাই থেকে চট্টগ্রামে অবতরণ করে। সেখানে যাত্রীরা নেমে যাওয়ার পর ঢাকার যাত্রী ও অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রীদের নিয়ে ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। কেবিন ক্রুরা যাত্রীদের প্রাথমিক সার্ভিস করার মধ্যেই উড়োজাহাজটি ততক্ষণে ঢাকার আকাশে চলে আসে। তখনই উড়োজাহাজে তীব্র ঝাঁকুনি শুরু হয়। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই যাত্রীরা আতঙ্কে কান্না-চিৎকার শুরু করেন। টার্বুলেন্সের মধ্যে পড়ে অন্তত ৯ সেকেন্ড ধরে উড়োজাহাজটি এলোমেলোভাবে ঝাঁকুনি দিতে থাকে।

ওই ফ্লাইটটির পাইলট ছিলেন ক্যাপ্টেন ইন্তেখাব হোসাইন। তিনি বিমানের ডেপুটি চিফ অব ফ্লাইট সেফটি পদেও রয়েছেন। ফ্লাই ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন ফ্লাইট পার্সার রনি। ফ্লাইট স্টুয়ার্ডের দায়িত্বে ছিলেন মিথিলা। ওই ফ্লাইটের যাত্রী ও বিমানকর্মী সূত্রে জানা গেছে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদ অবতরণের পর দুর্ঘটনার শিকার কেবিন ক্রু শাবামা আজমী মিথিলাকে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে (পঙ্গু হাসপাতাল) নিয়ে যাওয়া হয়।

এক্সরে পরীক্ষায় দেখা গেছে, তার বাম হাতের কনুইয়ের ওপরের (বাহু) হাড় ভেঙে অনেকটা আলাদা হয়ে গেছে।




তানজিয়া জামান মিথিলা ”মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ’২০২৫” নির্বাচিত

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ: মডেল ও অভিনেত্রী তানজিয়া জামান মিথিলা মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০২৫-এর মুকুট জিতেছেন । বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার তেজগাঁওয়ের এক  আলো ঝলমল  জমকালো অনুষ্ঠানে তিনি এ পুরস্কার জেতেন । আয়োজকদের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ মিথিলা আগামী নভেম্বরে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ‘মিস ইউনিভার্স ইন্টারন্যাশনালের ৭৪তম প্রতিযোগিতার মঞ্চে বাংলাদেশ থেকে লড়বেন। এমন একটি আয়োজনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার গৌরব অর্জনের সুযোগ পেয়ে আনন্দিত মিথিলা।

মিথিলা শুধু একজন মডেল ও অভিনেত্রীই নন, তিনি বাল্যবিবাহবিরোধী প্রচারণা এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কল্যাণে কাজের জন্যও পরিচিত। ২০২০ সালে তিনি জাতীয় পর্যায়ে এই খেতাব জিতেছিলেন, তবে কোভিড-১৯ বিধিনিষেধের কারণে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেননি। ২০২৫ সালে আবার মুকুট জিতে তিনি ইতিহাস গড়লেন। মিথিলা এই জয় উৎসর্গ করেন তাঁর মাকে। এ সময় মিথিলা বলেন, ‘আজ আমি যা কিছু, তা আমার মায়ের জন্যই সম্ভব হয়েছে। তিনি সব সময় আমার শক্তি ও অনুপ্রেরণা ছিলেন। এই অর্জন যেমন আমার, তেমনি তাঁরও।’

আগামী নভেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক আসরকে সামনে রেখে মিথিলা আরও বলেন, ‘আমি গর্বের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে চাই। মর্যাদা, সাহস ও সম্মানের সঙ্গে দেশের সুনাম রক্ষার চেষ্টা করব আমি। আপনারা সবাই আমার পাশে থাকবেন এবং আমার জন্য দোয়া করবেন।’

 




নাড়ীছেড়া ধনের লাশের অপেক্ষায় চেয়ে থাকতে থাকতে চোখ ঝাপসা অইয়া গেছে, তবু আসতেছে না’

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: ছেলের লাশটা আইন্না দেও। শেষবারের মতোন ছেলেডার মুখ এট্টু দেখতে চাই।‘লাশের অপেক্ষায় চোখ ঝাপসা অইয়া গেছে, তবু আসতেছে না।’ আজ শুক্রবার সকালে কাঁদতে কাঁদতে মুঠোফোনে নিজের আকুতি জানাচ্ছিলেন পারুল বেগম।  সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি হাসপাতালের মর্গে প্রায় এক মাস ধরে তাঁর ছেলে মো. সবুজের (৩৬) লাশ পড়ে আছে। তবে নানা জটিলতায় সেখান থেকে লাশটি আনতে পারছেন না।

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার সবুজ শ্যামল  ছায়া ঢাকা  ছোট গ্রামে দুর্গাপুর সবুজের বাড়ি জীবিকার । তিনি একই গ্রামের মৃত আমছর আলী ও পারুল বেগম দম্পতির ছোট ছেলে। প্রায় দুই বছর আগে দুবাই শহরের পাড়ি জমান সবুজ। সেখানে তিনি শ্রমিকের কাজ করতেন। চলতি বছরের ২২ আগস্ট নিজের ভাড়া বাসার সামনে দুর্বৃত্তের অস্ত্রের আঘাতে তিনি খুন হন বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২২ আগস্ট সন্ধ্যায় সেখানকার এক প্রবাসীর সঙ্গে টাকার লেনদেন নিয়ে সবুজের কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে সবুজকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন ওই ব্যক্তি। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন সবুজ। পরে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সেখানকার একটি হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। এখনো সেখানেই পড়ে আছে লাশটি। এ ঘটনায় সেখানকার থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছে। এ মামলায় ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ।

সবুজের বড় ভাই সুলতান মিজি বলেন, তাঁর ভাইয়ের লাশ আনার জন্য দুই দেশের দূতাবাসে যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু সেখানকার মামলা মীমাংসা না হওয়ার পাশাপাশি নানা প্রক্রিয়াগত ও আইনগত জটিলতায় লাশটি আনতে দেরি হচ্ছে। তাঁর পরিবারের সদস্যরা লাশটির অপেক্ষায় হাঁপিয়ে উঠছেন। তাঁর মা, সবুজের স্ত্রী ও শিশুপুত্রকে কিছুতেই সান্ত্বনা দেওয়া না। লাশটি দ্রুত আনার ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি।

সবুজের স্ত্রী রিভা আক্তার (২৫) বলেন, তাঁদের শিশু সন্তানটি বারবার বাবার কথা জানতে চায়। কিন্তু ছেলেটির প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছেন না। সামনে অন্ধকার দেখছেন। স্বামী হত্যার বিচার দাবি করে লাশটি দ্রুত বাড়িতে আনার ব্যবস্থা করতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

 




পটুয়াখালীতে এলজিইডি প্রকল্প থেমে জনদুর্ভোগ

পটুয়াখালী থেকে মো: রিপোর্টার — উপকূলীয় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় যে উন্নয়ন কাজগুলো নেওয়া হয়, তাদের অধিকাংশই দীর্ঘদিন ধরে অসম্পূর্ণ ও স্থগিত থাকায় স্থানীয় জনগণকে কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে। করমজাতলা সড়ক থেকে বহালগাছিয়ার ড্রেনেজ, গলাচিপার ছোনখোলা, কলাপাড়ার বালিয়াতলী ও মির্জাগঞ্জের চরখালিসহ একাধিক স্থানে কাজ থেমে আছে; রাস্তায় ধুলোবালু ও কাদা, ভাঙ্গা সেতুর পাশে নৌকা পারাপার—এ সকল দৃশ্য এখন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এলজিইডির অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট ২২টি প্রকল্প অগ্রগতি বন্ধ বা খুব ধীরগতিতে চলছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে দুটি প্রকল্প ছাড়া অনেকে মাঝপথে থেমে গেছে। মোট প্রকল্প ব্যয় ছিল প্রায় ৭৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। ২০২১ থেকে ২০২৩ অর্থবছরে ঠিকাদারি কাজগুলি ইফতি ইটিসিএল নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বরাদ্দ দেয়া হয়। ওই প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার মিরাজুল ইসলাম—যার নাম স্থানীয়ভাবে ও প্রশাসনিক স্তরে আলোচিত। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, একাধিপত্যের কারণে ওই ঠিকাদারের নেওয়া প্রকল্প থেকে যে আটকসাপোর্ট বা লেনদেন হয়েছে, তার ফলেই কাজ সম্পন্ন হয়নি।

এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এই রাস্তায় চলতে গেলে আমাদের নিজেরাই মাটি ফেলে নিতে হয়। এক বছর ধরে ঠিকাদারের দেখা নেই। খুব কষ্টে আছি আমরা।” অন্য একজন গৃহিণী আসমা আক্তার বলেন, “খোয়ার মধ্যে হাঁটতে গিয়ে জুতা নষ্ট হয়, মাসে তিন জোড়া জুতা লাগে—গরিব মানুষ কই পাবে এত টাকা? আমাদের কষ্ট দেখার কেউ নেই।” অনেকে সরাসরি অভিযোগ করছেন যে ঠিকাদার কাজের অর্ধেক করেও পুরো টাকা তুলেছে এবং ধীরে ধীরে দায়িত্ব ছেড়ে যাচ্ছে।

অপরদিকে এলজিইডির পটুয়াখালী নির্বাহী প্রকৌশলী মো: হোসেন আলী মীর সাংবাদিকদের জানান, “ইফতি ইটিসিএল-এর ২২টি প্রকল্পের গড়ে অগ্রগতি প্রায় ৫০ শতাংশ হলেও ঠিকাদার অনুপস্থিত থাকায় কাজ থেমে আছে। স্থানীয় ঠিকাদাররাও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কাজ সকল শর্তে চালিয়ে যেতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে; নির্দেশনা মেলায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, যেসব প্রকল্প অর্ধway অবস্থায় আছে সেগুলো দ্রুত সমাধান না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরো বাড়বে।

এলজিইডির তালিকা অনুযায়ী বরাদ্দকৃত ২২টি প্রকল্পের মধ্যে সদর উপজেলায় ১২টি, গলাচিপায় ৩টি, মির্জাগঞ্জে ৩টি, কলাপাড়ায় ২টি, দুমকিতে ১টি ও রাঙ্গাবালীতে ১টি প্রকল্প রয়েছে। এদের মধ্যে ৭টি প্রকল্পের আওতায় দক্ষিণাঞ্চলের আয়রন ব্রিজ পুনর্নির্মাণ বা পুনর্বাসন কার্যক্রম রয়েছে; তবে কাজের গড় অগ্রগতি ৫০ শতাংশ ছোঁয়নি। এলজিইডির অভ্যন্তরীণ যাচাইয়ে কিছু প্রকল্পে অস্বাভাবিক অগ্রগতির হিসাব বা দস্তাবেজের অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে—যা তদন্তের দাবি করছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা বলছেন, অসমাপ্ত সড়ক ও ভাঙা ব্রিজগুলোর কারণে নিত্যপণ্যের পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ঝুঁকিতে আসে এবং জরুরি সেবাও প্রভাবিত হচ্ছে। এক ব্যবসায়ী জানান, “রাস্তায় কাদায় গাড়ি আটকে যায়, সময় নষ্ট হয়; পরিবহন খরচ বেড়ে যাচ্ছে—এগুলো যেভাবে চলতে থাকবে জনগণের উপকার হবে না।”

জেলার সাধারণ মানুষের একাংশ প্রশাসন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দ্রুত হস্তক্ষেপ চাইলেও অন্যরা দাবি করেন—কেবল স্থানীয় ঠিকাদারি পরিবর্তন করলেই হবে না, প্রকল্পগুলোর তদারকি ও আর্থিক হিসাব-নিকাশে যথাযথ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। এলজিইডি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা উচ্চ তলায় বিষয়টি উত্থাপন করেছেন; প্রয়োজনীয় নির্দেশনা মেলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অপরদিকে রাজনৈতিক ও সামাজিক পর্যায়ে এই ধরনের কাজের দীর্ঘস্থায়ী স্থগিতাদেশ ও অনিয়ম নিয়ে বেশ মুখোশহীন আলোচনাও শুরু হয়েছে। সাবধানতামূলকভাবে সংশ্লিষ্টরা অনুরোধ করেছেন—শতকরা অভিযোগ ও স্থানীয় অসন্তোষের মাঝেও প্রশাসনিক তদন্ত-প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়া প্রয়োজন, যাতে প্রকল্প পুনরায় ধারাবাহিকভাবে শুরু করা যায় এবং জনগণের দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কলাপাড়ায় গণহত্যা ও ধ্বংসের বিরুদ্ধে সাইকেল র‍্যালি

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পরিবেশ সংরক্ষণ, ন্যায়বিচার, কর্মসংস্থান, গণতন্ত্র এবং শান্তিপূর্ণ জীবনের আহ্বান জানিয়ে একটি সাইকেল র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে “গণহত্যা, ধ্বংস এবং বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে অবস্থান নাও” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আমরা কলাপাড়াবাসী’ যৌথভাবে এ র‍্যালির আয়োজন করে।

শহরের হেলিপ্যাড মাঠ থেকে র‍্যালিটি শুরু হয়ে আন্ধারমানিক নদীর তীরবর্তী এলাকা প্রদক্ষিণ করে। পরে শহরের প্রধান সড়ক ঘুরে কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সামনে এসে এটি শেষ হয়। র‍্যালিতে স্কুল ও কলেজের শতাধিক শিক্ষার্থী হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে অংশ নেয়। প্ল্যাকার্ডগুলোতে পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব, মানবিক অধিকার ও শান্তিপূর্ণ বিশ্বের বার্তা তুলে ধরা হয়।

এর আগে হেলিপ্যাড মাঠে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, পৃথিবীকে টিকিয়ে রাখতে হলে পরিবেশ, প্রতিবেশ ও মানবতার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। তারা বিশ্বব্যাপী চলমান গণহত্যা বন্ধ এবং ধ্বংসযজ্ঞ মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন প্রেসক্লাব সভাপতি নেছারউদ্দিন আহমেদ টিপু, সাধারণ সম্পাদক অপ মুখার্জী, পরিবেশকর্মী মেজবাহ উদ্দিন মাননু এবং ‘আমরা কলাপাড়াবাসী’র সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম। বক্তারা বলেন, “একটি টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে শিক্ষার্থীদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। এ ধরনের উদ্যোগ আগামী প্রজন্মকে সঠিক পথে অনুপ্রাণিত করবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গাজায় নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে পুনরায় ভেটো দিল যুক্তরাষ্ট্র

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স: গাজায় যুদ্ধ বিরতি হোক যুক্তরাষ্ট্র তা কখনোই চায়নি আর তাই  জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে উত্থাপন করা ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধবিরতির একটি খসড়া প্রস্তাবে পুনরায় ভেটো দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে ৬ বারের মতো গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ভেটো দিল ওয়াশিংটন।

বৃহস্পতিবারের (১৮ সেপ্টেম্বর)  বৈঠকে উত্থাপিত সর্বশেষ প্রস্তাবটির খসড়ায় গাজায় অবিলম্বে নিঃশর্ত ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির কথা বলা হয়েছিল। সেই সঙ্গে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা থেকে ইসরাইলকে সব ধরণের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং ত্রাণ সরবরাহ করতে দেওয়ার কথাও বলা ছিল। এর বিপরীতে খসড়া প্রস্তাবটিতে গাজায় জিম্মি অবস্থায় থাকা ইসরাইলিদের অবিলম্বে সম্মানজনক মুক্তির শর্তও ছিল।

স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের নির্বাচিত ১০ সদস্যদেশ এ খসড়া প্রস্তাব তুলেছিল। স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র ভেটো দিয়েছে। বাকি ১৪ সদস্য দেশ খসড়া প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দিয়েছে।

গাজায় প্রায় দু বছর ধরে আগ্রাসন চালাচ্ছে ইসরাইল। এ সময়ের মধ্যে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের শর্ত যুক্ত করে নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপিত ছয়টি প্রস্তাবের ভোটাভুটিতে ভেটো দিল ওয়াশিংটন।