বজ্রপাতে প্রাণ গেল ৮ জনের




চাঁদ দেখা গেছে, ঈদুল আজহা ১৭ জুন 




গৌরনদীর ৩৮টি ভোট কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ

বরিশাল অফিস :: ঘূর্ণিঝড় রিমালের কারণে স্থগিত হওয়া জেলার গৌরনদী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা হবে কাল রবিবার (৯ জুন)। ওই উপজেলার একটি পৌরসভাসহ সাতটি ইউনিয়নের ৩৮টি ভোট কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ দাবি করে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে আবেদন করেছেন একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী।

শুক্রবার দুপুরে ওই উপজেলার কাপ-পিরিচ মার্কার চেয়ারম্যান প্রার্থী ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ মনির হোসেনের দায়ের করা আবেদনে জানা গেছে, উপজেলার সর্বমোট ৬৯টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৩৮টি ভোট কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। ওইসব কেন্দ্রগুলো প্রতিদ্বন্ধী মোটরসাইকেল মার্কার চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকরা ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে দখল করার নানা ষড়যন্ত্র করে আসছে।

তাই ভোটগ্রহণের দিন অন্যান্য কেন্দ্রের পাশাপাশি
অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্রে স্থায়ীভাবে বাড়তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েনের দাবি করা হয়।

চেয়ারম্যান প্রার্থী মনির হোসেনের আবেদনে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্রের তালিকার মধ্যে রয়েছে-পৌর এলাকায় ছয়টি, খাঞ্জাপুর ইউনিয়নে ছয়টি, বার্থী ইউনিয়নে ছয়টি, চাঁদশী ইউনিয়নে দুইটি, মাহিলাড়া ইউনিয়নে একটি, বাটাজোর ইউনিয়নে চারটি, নলচিড়া ইউনিয়নে সাতটি ও সরিকল ইউনিয়নে ছয়টি ভোট কেন্দ্র।

উল্লেখ্য, গৌরনদী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে দুইজন, পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুইজন ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। নির্বাচন শুরুর প্রাক্কালে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ওইসময় একজন ইউপি চেয়ারম্যানকে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করা হয়। পরবর্তীতে একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া প্রায় প্রতিদিন এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে অপর প্রার্থীর কর্মীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। যেকারণে নির্বাচনের শুরু থেকে অদ্যবর্ধি দেশব্যাপী আলোচিত গৌরনদী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন।




নিখোঁজ হাফেজ তাজিনের ৫০ দিনেও সন্ধান মেলেনি

*পাচারের আশঙ্কা

বরিশাল অফিস :: বরিশাল নগরীর সিএন্ডবি রোডের কাজিপাড়া এলাকা থেকে রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজের ৫০ দিন পরেও হাফেজ তাজিন মোহাম্মদ মুস্তাকিমের সন্ধান মেলেনি। ছেলের সন্ধান না পেয়ে তার মা এখন পাগল প্রায়।

শিশু হাফেজকে অপহরন করা হয়েছে নাকি পাচারকারী চক্রের সদস্যরা তুলে নিয়েছে এমনই শঙ্কা বিরাজ করছে নিখোঁজ তাজিনের মা সাহিদা আরবীর কাছে। ছেলের সন্ধান পেতে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাজিনের মা।

শুক্রবার দুপুরে নিখোঁজ তাজিনের মা জানান, গত ২০ এপ্রিল সকাল নয়টার দিকে নগরীর কাজিপাড়ার বাসা থেকে পাশ্ববর্তী দোকানে ডিম ক্রয় করতে বের হয়ে নিখোঁজ হয় হাফেজ তাজিন মোহাম্মদ মুস্তাকিম। পরবর্তীতে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করেও তাজিনের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় গত ২৪ মে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (যার নম্বর ১৪৬৫) করা হয়েছে।

 




বাবর-শাদাবের ব্যাটে পাকিস্তানের লড়াকু পুঁজি




চাঁদ দেখা গেছে, সৌদিতে ঈদুল আজহা ১৬ জুন




১৫ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ




বাজেট বরাদ্দের বিভিন্ন দাবিতে বরিশালে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের বিক্ষোভ সমাবেশ

বরিশাল অফিস :: নারীর গৃহস্থালী কাজের আর্থিক মূল্য রাষ্ট্রীয়ভাবে নিরূপন ও স্বীকৃতি, সরকারিভাবে ডে-কেয়ার সেন্টার, কর্মজীবি নারী হোস্টেল নির্মাণ এবং নারীর স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাজেট বরাদ্দের দাবিতে সমাবেশ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ( ৬ জুন) বিকালে ৪ টায় সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের আয়োজনে বরিশালের অশ্বিনী কুমার হলচত্বরে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে একটি মিছিলযোগে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে অর্থমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি মাফিয়া বেগম। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়ক ডাঃ মনীষা চক্রবর্ত্তী, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম বরিশাল জেলা শাখার সহ-সম্পাদক শম্পা ঘোষ, অর্থ সম্পাদক সালমা নাসরিন, বরিশাল রিক্সা-ভ্যান চালক-শ্রমিক ইউনিয়ন বরিশাল জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বরিশাল মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক সুজন আহমেদ। সমাবেশ পরিচালনা করেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম বরিশাল জেলা শাখার সদস্য শিবানী শিকদার।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন,‘পৃথিবীতে এমন কোন কাজ নেই যার ফলাফল নেই। কাজ সেটা ছোট হোক বা বড় হোক তার প্রভাব পড়বেই। কিন্তু এমন অনেক কাজ আছে যে কাজের ফলাফল ছাড়া দৈনন্দিন জীবন অচল হয়ে পড়ে। মানুষের শারীরিক, মানসিক, সাংস্কৃতিক জীবন বিকশিত হওয়া তো দূরের কথা টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়ে কিন্তু সে কাজ হলো এমন ধরণের কাজ যার কোন স্বীকৃতি নেই, যে কাজের মর্যাদা নেই এমনকি যে কাজকে তাচ্ছিল্য করা হয় সবসময় আর যারা এই কাজ করেন তাদের কোন পারিশ্রমিক নেই। এই স্বীকৃতিবিহীন, মর্যাদাবিহীন, মজুরীবিহীন কাজের নাম গৃহস্থালি কাজ। এইসব কাজের ৮০ ভাগের বেশি করেন নারীরা। উদয়াস্ত ক্লান্তিকর এই গৃহস্থালি কাজ ছাড়া সমাজ ও পরিবার টিকে থাকা অসম্ভব।

নারীর কাজের অর্থনৈতিক অবদান প্রধানত তিন ভাগে বিভক্ত। প্রথমতঃ মজুরীর বিনিময়ে কাজ এবং টাকা উপার্জনের জন্য স্বনিয়োজিত কাজ, যা জিডিপির হিসাবে যুক্ত হয়। দ্বিতীয়তঃ নারীর মজুরীবিহীন কিছু পারিবারিক কাজ যেমন হাঁস, মুরগী, গরু, ছাগল পালন করে বিক্রি করা ইত্যাদি, এর আর্থিক মুল্য জিডিপিতে যুক্ত হয়। তৃতীয়তঃ নারীর গৃহস্থালি কাজ, যার বাজার মুল্য বা বিনিময় মুল্য নেই, যা বাজারজাত করা যায় না তা জিডিপিতে যুক্ত হয় না এমন কি শ্রম শক্তি হিসেবেও গণ্য হয় না।

পরিবারে, সমাজে, রাষ্ট্রে নারীর গৃহস্থালি কাজের স্বীকৃতি নেই বলে পরিবারে কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে গৃহিনী নারীদের অংশগ্রহণ তার স্বামী বা পরিবারের অন্য সদস্যরা খুব একটা গ্রহণ করেন না। অর্থাৎ সংসারে নারীদের দায়িত্ব যত আছে অধিকার সে পরিমানে নেই। বিশ্বের অনেক দেশেই বিবাহ বিচ্ছেদের পর স্বামী-স্ত্রীর মাঝে সমান সম্পত্তি ভাগ করার আইন আছে। অর্থাৎ যদি ২০ বছর সংসার করার পর কোন স্বামী-স্ত্রীর বিবাহ বিচ্ছেদ হয় তাহলে এই ২০ বছরে সৃষ্ট মোট সম্পত্তি সমান সমান ভাগ হবে। কিন্তু আমাদের দেশের বাস্তবতা হলো সংসার গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নারীর শারীরিক-মানসিক শ্রম থাকা সত্তে¡ও নারীরা স্বামীর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদের পর সম্পত্তির প্রায় কোন অংশই পান না। ফলে গৃহিনীরা অসহায় হয়ে পড়েন। অনেক সময় আর্থিক নিশ্চিয়তা নেই বলে অনেকে অত্যাচারিত হয়েও স্বামীর সাথে থাকতে বাধ্য হন। অথচ বিয়ের পর ঐ সংসারের যা কিছু সম্পদ-সম্পত্তি অর্জিত হয়েছে গৃহিনী নারীরও সেখানে পরিপূরক ভূমিকা আছে। গৃহস্থালি কাজের আর্থিক মূল্য নিরূপণ ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি থাকলে পরিবারের ও সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিরও পরিবর্তন হতো। পারিবারিক নির্যাতনও কমতো।’


নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ‘বাজেট শুধু অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নয়, বাজেটের মাধ্যমে সরকারের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গীও প্রতিফলিত হয়। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীর অগ্রযাত্রার সাথে দেশের এগিয়ে যাওয়াও যুক্ত। অথচ আমাদের দেশে প্রতি বছর যে জেন্ডার বাজেট হয় তা জাতীয় বাজেটের মাত্র ১ শতাংশের মতো যা মূলত বিভিন্ন ভাতা প্রদানেই সীমাবদ্ধ। ভাতাগুলোর পরিমাণও খুব সামান্য। যেসব কারণে নারীরা কর্মক্ষেত্রে আসতে পারেন না বা কর্মক্ষেত্র থেকে ঝড়ে পড়েন, ঐসব বাধাগুলো দূর করার কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার জন্য বাজেটে তেমন কোন বরাদ্দ থাকে না। সরকারি উদ্যোগে উপজেলায় উপজেলায় ডে-কেয়ার সেন্টার ও কর্মজীবি নারী হোস্টেল নির্মাণের জন্য বাজেট বরাদ্দ করলে অনেক নারী কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হতে পারে। নারীবান্ধব, স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ পাবলিক টয়লেট নির্মাণ, মাতৃসদনে পর্যাপ্ত চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য খুব বেশি বাজেট বরাদ্দ লাগে না। কিন্তু এগুলোতে সরকারের মনোযোগ খুব কম।’

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ‘সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম মনে করে নারীর সম অধিকার নিশ্চিত করা এবং পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে সমাজে ভূমিকা রাখার ক্ষেত্রে যেসকল প্রতিবন্ধকতা তা দূর করার কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের এবং সেসকল ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখতে হবে। পরিবারে, সমাজে ও রাষ্ট্রে নারীর শ্রমের অবদানের স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে।’




বরিশালে ৯২ কেজি আফ্রিকান মাগুর জব্দ, জরিমানা

বরিশাল অফিস :: বরিশালের হিজলায় ৯২ কেজি রাক্ষুসে হিংস্র আফ্রিকান মাগুর জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি আহরণ অযোগ্য এমন প্রায় ২০০ কেজি মাগুর বিনষ্ট ও চাষের সঙ্গে জড়িত একজনকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার (৫ জুন) বিকেলে হিজলা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক এ জরিমানা করেন।

বৃহষ্পতিবার (৬ জুন) সকালে হিজলা উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, বুধবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হিজলা উপজেলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের বান্দের বাজারে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তর যৌথ অভিযান চালায়। অভিযানে জীব বৈচিত্র্য ও দেশীয় প্রজাতির মাছের জন্য হুমকি স্বরূপ রাক্ষুসে হিংস্র আফ্রিকান মাগুর মাছ বিক্রি করার সময় ৩৬ কেজি আফ্রিকান মাগুর জব্দ করা হয়।

পরবর্তীতে এই সূত্রের ভিত্তিতে খুন্না গোবিন্দপুর এলাকার মোঃ. মোতাহার কবিরাজের একটি পুকুরে সেচ দিয়ে ৫৬ কেজি আফ্রিকান মাগুর মাছ জব্দ করা হয়। যা ওই এলাকার দুটি এতিমখানা ও মাদরাসায় বিতরণ করা হয়। এছাড়া পুকুরে ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে প্রায় ২০০ কেজি আফ্রিকান মাগুর বিনষ্ট করা হয়।

পরে অভিযুক্ত মো. মোতাহার কবিরাজকে মৎস্য সংরক্ষণ ও সুরক্ষা আইন অনুযায়ী তিন হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।




বাজেটে যেসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে