গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, সাম্প্রতিক অভ্যুত্থানের সুযোগ নিয়ে একটি রাজনৈতিক দল উগ্রপন্থার দিকে ঝুঁকতে চাইছে। তারা আন্দোলনের সুযোগকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পরিকল্পনা করছে।
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বরিশাল নগরীর সদর রোডে অশ্বিনী কুমার টাউন হলে গণসংহতি আন্দোলনের দ্বিতীয় জেলা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের বরিশাল জেলা সমন্বয়কারী দেওয়ান আব্দুর রশিদ নীলু।
জোনায়েদ সাকি বলেন, “যে কেউ যদি আবার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে চায়, জনগণ তা মেনে নেবে না। অধিকার ও মানবিক মর্যাদা রক্ষায় আমাদের সবাইকে সংগঠিত হতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, অভ্যুত্থানের পর থেকেই গণসংহতি আন্দোলন জোর দিয়ে বলছে, এ দেশের গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে বিচার সংস্কার ও সুষ্ঠু নির্বাচন অপরিহার্য। যারা হত্যা ও ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল, তাদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রসঙ্গে সাকি বলেন, “আমরা ঐকমত্য চাই। আগামী জনপ্রতিনিধিরা যেন এই ঐকমত্য বাস্তবায়নে বাধ্য থাকে তার নিশ্চয়তা তৈরি করতে হবে। সংসদে বসে সংস্কার কার্যকর করার জন্য টেকসই গ্যারান্টি প্রয়োজন।”
তিনি অভিযোগ করেন, পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি, দেশি-বিদেশি দোসর ও ভারতীয় আধিপত্যবাদীরা এ অভ্যুত্থান ভিন্ন পথে নিতে চক্রান্ত করছে। তাই রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা বাচ্চু ভূঁইয়া, জেলা সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান মিরাজ, কৃষক মজুর সংহতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম, যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সুজন এবং ছাত্র ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা রহমান বিথী।
দিনব্যাপী সম্মেলন শেষে গণসংহতি আন্দোলনের বরিশাল জেলা শাখার নতুন কমিটি ঘোষণা করেন দেওয়ান আব্দুর রশিদ নীলু। পরে জোনায়েদ সাকির নেতৃত্বে নগরীর সদর রোডে একটি বর্ণাঢ্য মিছিল বের করা হয়, যা শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫