ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতির জন্য এবার যে শর্ত দিলেন পুতিন




শিমুল-তানভীর-শিলাস্তির পর বাবুর দায় স্বীকার




বরিশালে নিখোঁজের একদিন পর লাশ উদ্ধার

বরিশাল অফিস :: নিখোঁজের একদিন পর শুক্রবার  পুকুর থেকে রাজমিস্ত্রি আলমগীর হোসেন সরদারের (৪৭) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের স্ত্রী শেফালী বেগমের অভিযোগ জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরধরে তার (শেফালী) আপন দেবর পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। ঘটনাটি জেলার গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের আধুনা গ্রামের।

নিহত আলমগীর ওই গ্রামের মৃত আলী হোসেন সরদারের ছেলে। পুলিশ নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছেন।

শেফালী বেগম অভিযোগ করে বলেন, জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে আমার আপন দেবর সাহাবুদ্দিন সরদারের সাথে আমাদের চরম বিরোধ চলে আসছে। এনিয়ে একাধিকবার আমার স্বামীকে হত্যার হমকি দেওয়া হয়। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার বিকেলে আমার স্বামীর সাথে তুমুল বাগ্বিতন্ডায় জড়িয়ে পরে সাহাবুদ্দিন ও তার স্ত্রী ঝুমুর বেগম। ওইসময় আমার স্বামীকে হত্যা না করে ঘরে ফিরবেনা বলে সাহাবুদ্দিন হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়।

শেফালী বেগম আরও বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে আমার স্বামী পাশ্ববর্তী চন্দ্রহার বাজার থেকে বাড়িতে না ফেরায় বিভিন্নস্থানে খোজাখুজি করেও তার কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। শুক্রবার সকালে প্রতিবেশী বাচ্চু সরদার তাদের পুকুরের মধ্যে লাশ ভাসতে দেখে থানা পুলিশকে খবর দেয়। শেফালী বেগমের অভিযোগ, তার স্বামীকে হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলা হয়েছে।

বরিশাল গৌরনদী মডেল থানার ওসি মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 




জিজেইউএস সম্মাননা পেলেন কবি আমেনা ফাহিম

 

বরিশাল অফিস :: ভোলার দৌলতখান উপজেলার চারগুণী জনকে সম্মানিত করেছে গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা – জেজেইউএস । সংস্হাটির নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন মুহিন স্বাক্ষরিত এই সম্মাননা স্মারক, সনদ ও নগদ অর্থসম্মানী সম্প্রতি দৌলতখান জেজেইউএস মিলনায়তনে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেয়া হয়েছে নির্বাচিত চার গুণীজনের হাতে । উপজেলার শিল্প সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে মূল্যবান ভূমিকার জন্য এই জেজেইউএস সম্মাননা ২০২৪ প্রদান করা হয়। জাতীয় কবিতা পরিষদ ভোলার সদস্য ও দৌলতখান উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক কবি আমেনা ফাহিম এই চারজনের একজন।

আমেনা ফাহিম একাধারে একজন কবি, গীতিকার, ছড়াকার, গল্পকার ও বাচিক শিল্পী। তিনি পেশায় বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের গর্বিত একজন শিক্ষক। বাংলাদেশেের বৃহত্তম দ্বীপজেলা ভোলার দৌলতখান উপজেলার সন্তান কবি আমেনা ফাহিমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম এবং মা জাকিয়া বেগম।
তিন বোন দুই ভাই সহ মোট পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে তিনি প্রথম সন্তান। ছোটবেলা থেকেই সংস্কৃতিপ্রেমী পরিবারে তার বেড়ে ওঠা। মা বাবা দু’জনেই তাকে সকল কাজে উৎসাহ উদ্দীপনা যুগিয়েছেন।


দৌলতখান মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে, দৌলতখান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন ২০০৪ সালে। ভোলার দৌলতখান সরকারি আবি আবদুল্লাহ কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন ২০০৬ সালে । এইচএসসি পাশের পর মামা মোশাররফ হোসেন সেলিমের কাছে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্যে বাড়ি থেকে চলে যান চট্রগ্রাম। আমেনা ফাহিম এর জীবনের সফলতায় তার মামা সেলিম এর অবদান তিনি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। চট্রগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ থেকে অনার্স করে ঢাকা ইডেন কলেজ থেকে মাষ্টার্স সম্পন্ন করেন আমেনা ফাহিম। পরে বিএড ও ডিপিএড প্রশিক্ষণও গ্রহণ করেন। ২০১৪ সালে তিনি তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের অধীনে আইসিটি ট্রেনিং কোর্স সম্পন্ন করে সার্টিফিকেট অর্জন করেন। চাকুরির পূর্বে তিনি ঢাকায় সেল এন্ড কর্নেল নামক একটি সফটওয়্যার কম্পানিতে প্রায় দুবছর কন্টেন্ট ডেভলপার পদে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে দক্ষতা ও সুনামের সাথে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।

তিনি করোনা কালীন সময়ে অনলাইন পাঠদানের জন্য করোনা যোদ্ধা শিক্ষক সম্মাননা পান শিক্ষার আলো ডট কম সংগঠন থেকে। শিক্ষক বাতায়নের একজন নিবেদিত শিক্ষক। মুক্তপাঠ এর বিভিন্ন কোর্সে অংশগ্রহণ করে সার্টিফিকেট অর্জন করেছেন। এরকম দেশ বিদেশের বিভিন্ন সংগঠন থেকে অসংখ্য ট্রেনিং গ্রহন করেছেন এবং সার্টিফিকেট অর্জন করেছেন তিনি। শিক্ষক বাতায়ন ও শিক্ষক সংস্কৃতি আয়োজিত যৌথ অনুষ্ঠানে তিনি সেরা আবৃত্তিশিল্পী হিসেবে সম্মাননা পান। ভোলা পিটিআইতে ডিপিএড প্রশিক্ষণ কালীন সময়ে তিনি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে নজরুল সঙ্গীতে প্রথম স্হান, নৃত্যে প্রথম স্থান এবং আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন। এছাড়াও তিনি বিটিভির একজন নিয়মিত গীতিকার। বাংলাদেশ টেলিভিশন বিটিভিতে প্রচারিত তার প্রথম গান রুপকথার গল্প ভীষণ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২২ এ প্রকাশিত হয়েছে আমেনা ফাহিম-এর প্রথম একক কাব্যগ্রন্থ “গোধূলীর আত্মকথন।” বইটিতে ৪৭ টি কবিতা রয়েছে। কবিতায় প্রকৃতি, প্রেম, দেশাত্মবোধ, সমসাময়িক এবং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে রচিত লেখাগুলো স্থান পেয়েছে। ইতিমধ্যে বইটি পাঠক মহলে স্থান করে নিয়েছে। কলকাতা বইমেলা ২০২৪ প্রকাশিত হয়েছে দ্বিতীয় একক ধারাবাহিক কাব্যগ্রন্থ অন্তদর্শন। একুশে বইমেলা ২০২৪ ছোটদের সময় প্রকাশনি থেকে প্রকাশিত হয়েছে শিশুতোষ ছড়ার বই “ঙ গেলো ব্যাঙের বাড়ি।

আমেনা ফাহিম এর লেখা অন্যান্য কাব্যগুলো হলো- বঙ্গবন্ধু একটি মানচিত্র, আমি সেই মহাকাল, নারী তুমি রক্তাক্ত সেই পতাকা, একটা দ্রোহের কবিতা লিখলাম, আমিও মানুষ..।




কত জিম্মি বেঁচে আছে কেউ জানে না: হামাস




গ্রুপপর্বেই বিদায় নিউজিল্যান্ডের, সুপার এইটে আফগানিস্তান




আজ টিভিতে যা দেখবেন




চন্দ্রদ্বীপ নিউজে সংবাদ প্রচারের পর আপন ঠিকানা পেলেন সেই হালিমা

বরিশাল অফিস :: পিরোজপুরের নেছারাবাদে ৪০ বছর কেটেছে তবুও কথা রাখেনি জনপ্রতিনিধিরা শিরোনামে চন্দ্রদ্বীপ নিউজে সংবাদ প্রকাশের পরে হালিমা বেগমের বাড়িতে খাদ্য সহায়তা নিয়ে হাজির হন নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান। দিয়েছেন ঘর তৈরি করে দেওয়ার আশ্বাস।

প্রায় ৪০ বছর যাবৎ এই ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছেন হালিমা বেগম। তার স্বামী একে একে তিনটি বিয়ে করায় সংসার করা হয়নি তার। বৃদ্ধ বয়সে একা থাকেন তিনি। তার সংসারে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকায় নিঃসন্তান হালিমা বেগমের জীবনে কষ্টের শেষ নেই। অন্যের বাড়ি পেটে ভাতে কাজ করে সংসার চালান তিনি। যেদিন কাজ করতে পারেন না সেদিন অনাহারে অর্ধাহারে থাকতে হয় তার।

গত শুক্রবার(৭ জুন) চন্দ্রদ্বীপ নিউজে প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। এরপর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান ওই বৃদ্ধার ঘরের খোঁজখবর নিতে নেছারাবাদ উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন।

তাৎক্ষণিক ইউএনও মো. মনিরুজ্জামান ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান ওই বৃদ্ধার বাড়িটি পরিদর্শন করে তার ঘরটি বাসযোগ্য করার উদ্যোগ নেন।

হালিমা বেগম জানান, খাদ্য সহায়তা ও নতুন ঘরের আশ্বাস পেয়ে আমি অনেক খুশি। এখন শীত কিংবা বর্ষাতে আর কষ্ট করতে হবে না। কখনও ভাবিনি আমার থাকার জন্য নতুন করে দেয়া হবে।

নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান চন্দ্রদ্বীপ নিউজকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে প্রকাশিত খবরটি জেলা প্রশাসকের নজরে আসলে স্যার ঘরটি পরিদর্শন করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন। তাকে বসবাসের উপযুক্ত টিনের ঘর করে দেওয়া হবে। এ ছাড়াও হালিমা বেগম যেন সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা ঠিকমতো পায় তা নিশ্চিত করা হবে।




বরগুনায় ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে আদালতে মামলা

বরিশাল অফিস :: বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলায় দশম শ্রেণির এক মাদরাসা ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে আদালতে মামলা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) বরগুনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল আদালতে এ মামলাটি করা হয়। পাঁচ বখাটে অপহরণ করে বলে অভিযোগে পাওয়া যায়। এর আগে মঙ্গলবার রাতে অপহরনের এ ঘটনা ঘটে আমতলী উপজেলার পুজাখোলা গ্রামে।

আদালতে অপহরণ মামলাটি হয়েছে বখাটে মিরাজ ফরাজী (১৯), ইমরান (২৫) ও মো: হেলালসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে।

আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ রফিকুল ইসলাম এ মামলাটি আমলে নিয়ে আমতলী থানার ওসিকে এজাহার হিসেবে গন্য করতে নির্দেশও দিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরগুনার আমতলী উপজেলার পুজাখোলা গ্রামের দশম শ্রেণিতে মাদরাসার এক ছাত্রীতে বখাটে মিরাজ ফরাজী দীর্ঘদিন ধরে উত্যাক্ত করে আসছে। গত মঙ্গলবার রাতে ছাত্রীটি প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে ঘরের বাইরে বের হয়। এ সময় ওঁৎ পেতে থাকা বখাটে মিরাজ ফরাজী তার সহযোগী ইমরান ও হেলালসহ পাঁচজন ওই ছাত্রীকে মুখ চেপে ধরে অপহরণ করে নিয়ে যায়। গত তিন দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ অপহৃতাকে উদ্ধার করতে পারেনি। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার অপহৃতার বাবা মিরাজ ফরাজীকে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের নামে বরগুনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে অপহরণ মামলা করেছে। আদালতের বিচারক মো: রফিকুল ইসলাম মামলাটি গ্রহনণ করে আমতলী থানার ওসিকে এজাহার হিসেবে গন্য করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার বাদি বলেন, ‘আমার মেয়েকে বখাটে মিরাজ ফরাজী বেশ কয়েকদিন ধরে উত্যাক্ত করে আসছে। আমার মেয়ে বখাটে মিরাজ ফরাজীর প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় অপহরণ করে নিয়েছে। আমি আমার মেয়েকে উদ্ধারসহ অপরাধীদের শাস্তি দাবি করছি।

মামলার বাদি পক্ষের আইনজীবী আব্দুল ওয়াসী মতিন বলেন, আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে আমতলী থানার ওসিকে এজাহার হিসেবে গন্য করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি (তদন্ত) আমির সেরনিয়াবাদ বলেন, আদালতের আদেশের নথিপত্র এখনো হাতে পাইনি।আমরা আদেশ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




বরিশালের ৮২ হাটে বেচাকেনা জমজমাট হবে শুক্র-শনিবার

বরিশাল অফিস :: পবিত্র ঈদুল আজহার সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে পশুর হাটগুলোয় ক্রেতা-বিক্রেতাদের সমাগম বাড়ছে। তবে শুক্র ও শনিবার বরিশাল জেলার হাটগুলো বেশি জমজমাট হওয়ার পাশাপাশি বেচাকেনাও বাড়বে বলে জানিয়েছেন ইজারাদাররা।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) বেশ কয়েকটি হাট ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। হাটগুলোয় আসা ক্রেতার জানিয়েছেন, গতবছরের তুলনায় এবারে পশুর দাম বেশি। তাই সাধ্যের মধ্যে পছন্দের পশু কিনতে এক হাট থেকে অন্য হাটে ছুটছেন তারা। যদিও অল্প লাভে কোরবানির পশু বিক্রির কথা বলছেন ব্যবসায়ীরা। তবে পশু খাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে লালন-পালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় গরুর দাম কিছুটা বেড়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন খামারিরা।

সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের হাট-বাজার শাখা সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবারে মোট ৮২টি কোরবানির পশুর হাট বসেছে। এরমধ্যে জেলার ১০টি উপজেলায় স্থায়ী ২৫টি, অস্থায়ী ৫৩টি এবং বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় স্থায়ী ১টি ও অস্থায়ী ৩টি হাট বসেছে।

আর বরিশাল বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছরে বিভাগের ছয় জেলায় মোট কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৪ লাখ ৩২ হাজার ৬১১টি। তবে বিভাগের ২৬ হাজার ৫৭৮ জন খামারির কাছে মজুদ রয়েছে ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৪৫৪টি। ফলে চাহিদার পরেও উদ্বৃত্ত থাকবে ১৬ হাজার ৮৪৩টি পশু।

যেখানে মোট হিসেবের মধ্যে বরিশাল জেলায় কোরবানির পশুর প্রয়োজন ১ লাখ ১২ হাজার ৯৪৭টি, আর মজুদ রয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৫৭টি। সব মিলিয়ে বিভাগের মোট মজুদের মধ্যে কোরবানি যোগ্য পশুর মধ্যে ২ লাখ ১০ হাজার ৬৪২টি ষাঁড়, ৬৭ হাজার ৬৬৪টি বদল, ৩৮ হাজার ৩১৭টি গাভী, ৯ হাজার ৭৯২ মহিষ, ১ লাখ ১০ হাজার ৯৪৯টি ছাগল, ১২ হাজার ৩৫টি ভেড়া এবং অন্যান্য পশু রয়েছে ৫৫টি।

আর এই পরিসংখ্যানে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী কোরবানির পরও বিভাগে প্রায় ১৭ হাজার কোরবানি যোগ্য পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। তবে নির্দিষ্ট পশুর প্রতি ঝোঁক থাকলে চাপ বাড়বে সেদিকে, সেক্ষেত্রে জোগান দিতে না পারলেও ওই পশুর দাম আরও বাড়বে।

তবে নির্দিষ্ট করে গরুর প্রতি ক্রেতাদের ঝোঁক থাকায়, বিগত সময়ের মতো এবারও বাগেরহাট, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর থেকেও বরিশালের হাটগুলো গরু আসছে। বরিশাল নগরের বাঘিয়া ঝাউতলা হাটে গরু উঠেছে। এই হাটেও কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা থেকে বেশি গরু এসেছে। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত এই হাটে ১৫-২০টি গরু বিক্রি করেছে বলে জানিয়েছেন ইজারাদার। তবে শুক্রবার থেকে চাঁদ রাত পর্যন্ত চলা এই হাটে পশুর সংখ্যা বাড়বে। একই অবস্থা থাকবে জেলার ১০টি উপজেলার ৭৮টি কোরবানির পশুর হাটের অধিকাংশের।

হাটগুলোর ইজারাদাররা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত যারা হাটে আসছেন তাদের মধ্যে বেশিরভাগেই ছোট বা মাঝারি আকারের গরু খুঁজছেন। গত বছর যে সাইজের গরুর দাম নেওয়া হয়েছিল সর্বোচ্চ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। এবার সেই গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে দেড়লাখ টাকার ওপরে। কিন্তু বেশির ভাগ ক্রেতাই ৫০ থেকে ৮০ হাজার টাকার মধ্যে গরু খুঁজছেন।

এদিকে পণ্যের দাম ও গরু পালনে খরচ বেড়েছে বলে জানান ব্যবসায়ী জুয়েল হোসেন। তিনি বলেন, গোখাদ্যের দাম অনেক বেড়েছে। গরু লালন-পালনে খরচ বেশি হচ্ছে। পরিবহন ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়েছে। ন্যায্য দাম না পেলে আমাদের লোকসান হবে।

বরিশালের এমইপি অ্যাগ্রোর ম্যানেজার রাফিউর রহমান ওমি জানিয়েছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও ডলার সংকটসহ নানা অজুহাতে গোখাদ্যের দাম বেড়েছে কয়েক গুণ। পশুর ওষুধ থেকে শুরু করে ভুসি, ক্যাটল বুস্টার, গমসহ গোখাদ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় পশুপালনেও খরচ বেড়েছে কয়েক গুণ।

সব কিছুর পরও আল্লাহকে খুশি করার জন্য কোরবানিতে ক্রেতাদের ঠকানোর কথা বলছেন না কেউ। আর এসব কিছুর পরও বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. মো. লুৎফর রহমান জানিয়েছেন, খামারিদের কাছে পশুর পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। ফলে সংকটের সুযোগ নেই।

এদিকে বরিশাল মেট্রোপলিটনের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আলী আশরাফ ভূঞা জানান, ইজারাদারদের নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, স্বেচ্ছাসেবক ও নৈশ প্রহরী রাখাসহ পশুর হাটে অবশ্যই সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে নিরাপত্তা বাড়ানোর বিষয়ে বলা হয়েছে। ক্রেতাদের কাছ থেকে সরকার বা ইজারা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত খাজনার বেশি আদায় করা যাবে না। আর্থিক লেনদেনের সময় প্রয়োজনে পুলিশের সহযোগিতা নিতে পারেন। পশুর হাটে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়া হবে।