নৌপথে কাঙ্খিত যাত্রীর আকাল,সড়ক পথে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

বরিশাল অফিস :: ঈদ উল আজহাকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে বরিশালে ঘরমুখী জনস্রোত শুরু হয়েছে।

শনিবার রাতের শেষ প্রহর থেকে বরিশাল-ফরিদপুর-ঢাকা জাতীয় মহাসড়ক সহ ফরিদপুর হয়ে উত্তরবঙ্গমুখী সবগুলো মহাসড়কেই যানবাহনের দীর্ঘ লইনে ট্রাফিক ব্যবস্থা প্রায়শই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।

তবে ঐতিহ্যবাহী বরিশালের নৌপথে সেই চিরচেনা দৃশ্য আর নেই। শুক্রবার সন্ধ্যায় নিয়মিত ট্রিপের অতিরিক্ত কয়েকটি বেসরকারী নৌযান ছাড়াও প্রায় ৩ বছর পরে বিআইডব্লিউটিসি’র ‘ঈদ স্পেশার সার্ভিস’র জাহাজ ঢাকা থেকে বরিশালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করলেও যাত্রীদের তেমন দেখা মেলেনি।

বেসরকারী নৌযান মালিকরা বছরজুড়ে দুটি ঈদে ব্যবসার যে আশায় ছিলেন,পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে তা এখনো অনুপস্থিত।

অপরদিকে, অপ্রশস্ত বরিশাল-ফরিদপুর জাতীয় মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আর যান চলাচলে ধীর গতির কারনে অনেক বাড়তি সময় ব্যায়ের পরেও গত দুটি বছরের মত বরিশাল ও সন্নিহিত এলাকার মানুষ এবারো সড়ক থেকেই বেছে নিচ্ছেন। এবারো ঈদের আগে পরে অন্তত ১০ লাখ মানুষ বরিশাল অঞ্চলে যাতায়াত করবে বলে আশা করছেন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা।

তবে এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সড়ক পথে বাড়তি ভাড়া অদায়েরও সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ঈদকে সামনে রেখে ঢাকার সাথে বরিশালের সড়ক পথে রুট পারমিটবিহীন যানবাহন চলাচলেরও অভিযোগ রয়েছে।

পদ্মা সেতু চালুর পূবর্বর্তি যুগের পর যুগ ধরে বরিশালের নৌপথ ছিল রমরমা বানিজ্যের এক প্রধান ক্ষেত্র। এমনকি এখন পর্যন্ত এ অঞ্চলে প্রধান বিনিয়োগ রয়েছে নৌপথেই। বিভিন্ন বানিজ্যিক ব্যাংক ও ব্যক্তির বরিশালের নৌবানিজ্যে বিনিয়োগের পরিমান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। প্রবাদ আছে বরিশাল অঞ্চলের মানুষের জীবনের প্রায় অর্ধেক সময় কেটেছে নৌপথে। লিফট সংযোজিত অত্যাধুনিক বিলাসবহুল বহুতল নৌযানের পথিকৃত বরিশালই।

বিশাল যানজট পেরিয়ে সদরঘাটে পৌঁছানো সহ ঘাট শ্রমিক ও ইজারাদারদের অনৈতিক কর্মকান্ড সহ নানা বিড়ম্বনায় এ অঞ্চলের মানুষের নৌপথে ভ্রমণের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে পদ্মা সেতু চালুর পরে যাত্রীদের একটি বড় অংশ নৌপথ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। এমনকি পদ্মা সেতু চালুর আগে বরিশাল-ঢাকা-বরিশাল রুটের নৌযানে একটু জায়গা পাওয়া সহ ‘সোনার হরিণ’ একটি কেবিনের টিকিট এতদিন মহা সৌভাগ্য মনে করতেন যাত্রীরা।

পদ্মা সেতু চালুর পরে এখন তা অতীত। এতদিন সাধারন যাত্রীরা নৌযানের পেছনে ছুটলেও এখন বরিশাল ও ঢাকা নদী বন্দরে নৌযান সমূহ যাত্রীর অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। এমনকি বরিশাল-ঢাকা নৌপথে রুট পারমিটধারী ২৯টি নৌযানের অন্তত ১৫টির কেন হদিস নেই। যার অনেকগুলোই ইতোমধ্যে স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রী হয়ে গেছে। বছর কয়েক আগেও ঈদ ও কোরবানির আগে পরের অন্তত ৮ দিন ১৫টি করে বেসরকারী নৌযান প্রতিদিন ডাবল ট্রিপে যাত্রী পরিবহন করলেও বৃহস্পতি ও শুক্রবার ঢাকা-বরিশাল রুটে ১০টির বেশী লঞ্চ চলেনি। বিআডব্লিউটিএ এবং নৌযান মালিক-শ্রমিকদের মতে রোববার পর্যন্ত ঢাকা থেকে এবং আগামী বুধবারের পরে বরিশালহ সন্নিহিত এলাকা থেকে কর্মস্থলমুখী ফিরতি যাত্রায় ভীড় থাকছে নৌপথে। এবারো যাত্রীদের নৌপথমুখী রাখতে বরিশাল-ঢাকা-বরিশাল নৌযানে যাত্রী ভাড়া বৃদ্ধি করেনি নৌযান মালিকরা।

এদিকে, দেশের ৮ নম্বর বরিশাল-ফরিদপুর-ঢাকা জাতীয় মহাসড়কটিতে পদ্মা সেতু চালু হবার পরে ক্ষমতার ৩ গুনেরও বেশী যানবাহন চলছে। পদ্মা সেতু চালুর পরে ১৮-২৪ ফুট প্রশস্ত এ মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা দৈনিক গড়ে ১৮ হাজারে উন্নীত হয়েছে। যা ৬ লেনের ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের প্রায় সমান বলে সড়ক অধিদপ্তর ও হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে।

ঈদকে সামনে রেখে শুক্রবার থেকে যানবাহনের সংখ্যা ৪ গুনে উন্নীত হওয়ায় সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার বরিশাল-ফরিদপুর-ঢাকা জাতীয় মহাসড়কের ভাঙ্গা-বরিশাল অংশের ৯১ কিলোমিটার অতিক্রম করতেই ৩ থেকে ৪ ঘন্টারও বেশী সময় লাগছে। ফলে নারী ও শিশু সহ সব যাত্রীর দুর্ভোগ সব সীমা ছাড়িয়েছে। এ সড়ক পথে জেলা পুলিশের পাশাপাশি হাইওয়ে পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নও নিয়োগ করা হয়েছে শুক্রবার সকাল থেকে। কিন্তু নৌপথে এখনা কাঙ্খিত যাত্রী নেই।

তবে গত দুবছরের খরা কাটিয়ে আসন্ন ঈদ উল আজহায় রাজধানী থেকে বরিশালের নৌপথে মাত্র দুদিন নিরাপদ যাত্রী পরিবহন করছে রাষ্ট্রীয় জাহাজ চলাচল প্রতিষ্ঠান-বিআইডব্লিউটিসি। তবে চট্টগ্রাম-বরিশাল নৌপথটি বন্ধ রয়েছে গত প্রায় ১৩ বছর। ফলে ঝড় ঝঞ্ঝার মৌসুমে এ অঞ্চলের যাত্রীদের ঘরে ফিরতে দুর্ভোগের সাথে ঝুঁকিও বাড়ছে। কিন্তু এ রুটের জন্য ৫টি নতুন নৌযান সংগ্রহ ও পুনর্বাসনে সরকারী কোষাগার থেকে শতাধিক কোটি টাকা ব্যায় হয়েছে গত কুড়ি বছরে।

এদিকে,বরিশালে ঈদ উল আজহা উপলক্ষে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা প্রশাসনের মহাসড়কে অভিযানে ১৫;জুন শনিবার ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বরিশাল জেলার বিভিন্ন অংশে অতিরিক্ত গতিতে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, ফিটনেসবিহীন গাড়ী বন্ধসহ সড়ক নিরাপত্তায় ব্যবস্থা গ্রহণে জেলা প্রশাসক বরিশাল শহিদুল ইসলাম এর নির্দেশে গৌরনদী, উজিরপুর ও বরিশাল সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার ভূমিবৃন্দ মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় তারা স্পিডোমিটার দিয়ে গাড়ির গতিসীমা পরীক্ষা করেন। দূরপাল্লার গাড়িগুলোকে মহাসড়কে গতিসীমা মেনে চলতে সতর্ক করা হয়।

রুটপারমিট বিহীন গাড়ি, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রভৃতি অপরাধে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর বিধান মোতাবেক আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। যাত্রী ও সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা প্রশাসন বরিশালের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো: জিহাদুল কবির বলেন, মালিক সমিতি এবং শ্রমিক ইউনিয়নের সাথে মিটিং হয়েছে। আমরা তাদের বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছি। কোন বাসে অতিরিক্ত যাত্রী ও নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অধিক ভাড়া নেওয়ার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে আমরা ভালোভাবেই মনিটরিং করতেছি। যদি কোন পরিবহনের বিরুদ্ধে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অধিক ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠে আমরা সাথে সাথেই ব্যবস্থা নিব।

বরিশাল জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম বলেন,ঈদুল আযহা কেন্দ্র করে ঢাকা থেকে অনেক মানুষ বরিশালে আসবে। বিশেষ করে এ সময় যাত্রীদের চাপ কেন্দ্র করে কোন ফিটনেসবিহীন গাড়ি। যে গাড়িগুলো যাত্রীদের জন্য নিরাপদ নয় এ ধরনের গাড়ি যেন মহাসড়কে চলাচল করতে না পারে ও যাত্রীদের কাছ থেকে জিম্মি করে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা না নিতে পারে সে জন্য আমাদের জেলা প্রশাসনের এক্সক্লুসিভ ম্যাজিস্ট্রেটের টিম কাজ করছে । আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি নিরাপদ ঈদ যাত্রা দেওয়ার জন্য বদ্ধপরিকর।




বরিশালে ঈদ উল আজহা উপলক্ষে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা প্রশাসনের মহাসড়কে অভিযান

বরিশাল অফিস :: ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বরিশাল জেলার বিভিন্ন অংশে অতিরিক্ত গতিতে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, ফিটনেসবিহীন গাড়ী বন্ধসহ সড়ক নিরাপত্তায় ব্যবস্থা গ্রহণে বরিশাল জেলার বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলাম এর নির্দেশনায় ঢাকা বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী, উজিরপুর ও বরিশাল সদর উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে মোবাইল কোর্ট পরিচলানা করা হয়।

এ সময় তারা স্পিডোমিটার দিয়ে গাড়ির গতিসীমা পরীক্ষা করেন। দূরপাল্লার গাড়িগুলোকে মহাসড়কে গতিসীমা মেনে চলতে সতর্ক করা হয়। রুটপারমিট বিহীন গাড়ি, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রভৃতি অপরাধে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর বিধান মোতাবেক ৭টি মামলায় ৩৩,৫০০/- টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। যাত্রী ও সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা প্রশাসন বরিশালের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।




নিখোঁজের তিন দিন পর পায়রা নদী থেকে বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে নিখোঁজ হওয়ার ৩ দিন পর পায়রা নদী থেকে খাদিজা বেগম (৬০) নামে এক বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (১৫ জুন) দুপুর ২টার দিকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় জেলেরা নদীতে মাছ ধরতে গেলে পায়রা নদীর লেবুখালী ইউনিয়নের আলগির চরে কচুরিপানার মধ্যে লাশটি দেখতে পেয়ে দুমকি থানা পুলিশকে অবগত করলে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে শেষ দিকে জমে উঠেছে কোরবানী পশুর হাট

নিহত খাদিজা বেগম পটুয়াখালী সদর উপজেলার ২নম্বর বদরপুর ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আইয়ুব আলী খানের স্ত্রী।

তিনি গত ৩ দিন আগে বাড়ি থেকে পার্শ্ববর্তী দুমকি উপজেলায় ভাইয়ের ছেলের কাছে যাওয়ার সময় নিখোঁজ হন।

জানা যায় খাদিজা বেগম সুস্থ এবং স্বাভাবিক একজন মানুষ ছিলেন। গত ১২ জুন (বুধবার) পার্শ্ববর্তী দুমকি উপজেলার উদ্দেশ্যে রওনা হন। তারপর থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে কি কারণে বা কীভাবে নিখোঁজ হয়েছে তার কারণ জানা যায়নি। পরবর্তীতে আত্মীয়স্বজনরা নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি ফেসবুকে দিলে অনেকেই জানতে পারেন।




পটুয়াখালীতে শেষ দিকে জমে উঠেছে কোরবানী পশুর হাট

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে জমে উঠেছে কোরবানী পশুর হাট। জেলার ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে জেলা শহরের হাট গুলোতেও এখন ক্রেতা বিক্রেতাদের উপচে পরা ভিড়। তবে গত কয়েকদিন হাটে বেচা বিক্রি কম হলেও শনিবার থেকেই মূলত কোরবানী পশুর মূল বিক্রি শুরু হবে বলে জানান হাট সংশ্লিষ্টরা।

পটুয়াখালী সহ দক্ষিণ অঞ্চলের কোরবানী উপযোগী করে যে সব গবাদী পশু লালন পালন করা হয় তার বড় একটি অংশ গৃরস্ত বাড়িতেই লালন পালন করা হয়। ফলে খামারে লালন পালন করা গরুর থেকে এই গরুর চাহিদা একটু বেশি থাকে। এ কারনে বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে অনেকে সরাসরি মালিকের কাছ থেকে গরু ক্রয় করতে দেখা গেছে। তবে শুক্রবার থেকে অধিকাংশ গরুর মালিক তাদের পশুগুলো হাটে তুলতে শুরু করেন।

পটুয়াখালী হেতালিয়া এলাকার খামারি ও পটুয়াখালী সদর উপজেলা ডেইরি ফার্মাস এসোসিয়েশনের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এবার আমি আমার খামারে মোট ৫টি গরু মোটাতাজা করণ করেছি। এগুলো সব আমার নিজস্ব খামারের গরু। তবে গরুর খাবারের যে দাম তাতে খরচ অনেক বেশি হয়। এর পরও যেহেতু খামারে উৎপাদিত বাছুর, সে কারনে সেগুলোকেই লালন পালন করে কোরবান তে বিক্রি উপযোগী করে প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে বাজারে এখনও পুরোদমে বিক্রি শুরু হয়নি। অনেকেই গরুর দাম দর করছেন, যেহেতু এখনও কোরবানীর ১ দিন বাকী আছে,হয়তো আজ (শনি – রবিবার) অধিকাংশ গরু বিক্রি হবে। ’

পটুয়াখালী হেতালিয়া বাঁধঘাট পশুর হাটে গরু কিনতে আশা ক্রেতা বাদশা মৃধা জানান, কোরবানীর ১দিন বাকী থাকায় এখনও বিক্রেতারা গরুর দাম ছাড়ছে না। এ কারনে গরু কেনা সম্ভব হচ্ছে না। তবে বাজারে বিভিন্ন সাইজের গরু আছে। সমস্যা হচ্ছে দুই দিন আগে গরু কিনলে তা লালন পালন করা এবং রাখা একটা বড় সমস্যা, এই কারনে শেষ দিনে গরু কিনতে হবে।

এদিকে গত কয়েক মাস থেকেই তিব্র দাবদাহ এবং গরমের কারনে গবাদী পশু নিয়ে কিছুটা বিপাকে পরেন খামারিরা। এমন পরিস্থিতিতে এই আবহাওয়ায় হাঁটে গরুর প্রতি বাড়তি নজর দেয়ার কথা বলছেন প্রানী সম্পদ বিভাগ। তবে প্রতিটিন হাটেই প্রাণী সম্পদ বিভাগের মেডিকেল টিম কাজ করছে করছে বলে জানান তারা।

আরো পড়ুন : ঈদের লম্বা ছুটিতে পর্যটক বরনে প্রস্তুত কুয়াকাটা

বিগত বছর গুলোর মতো এ বছরেও পটুয়াখালী জেলায় উৎপাদিত গরু ছাগল দিয়ে জেলার স্থানীয়দের কোরবানীর চাহিদা মিটিয়ে বাহিরের জেলায় সরবরাহ করতে পারবেন বলে দাবী জেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের।

পটুয়াখালী জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মোঃ ফলজুল হক সরদার জানান, পটুয়াখালী জেলায় এবার কোরবানীর জন্য ১২৬৬৭৬ গবাদী প্রাণী লালন পালন করেছেন ৬০৯০ জন খামারি। তবে জেলার জেলায় কোরবানী উপযোগী পশুর চাহিদা রয়েছে ১২৩২১০ টি। এ ক্ষেত্রে ৩৪৬৬ টি গবাদী প্রাণী উদ্বৃত্ত রয়েছে ,যা দিয়ে অন্য জেলার চাহিদাও মেটানো সম্ভব হবে।

এবার পটুয়াখালী জেলায় মোট ২৭ টি পশুর হাটে গবাদী পশু বিক্রি হচ্ছে। হাট গুলোতে প্রাণী সম্পদ বিভাগের মেডিকেল টিমের পাশপাশি জেলা পুলিশের নির্দিষ্ট টিম কাজ করছে। এসব পুলিশ ক্যাম্পে জাল টাকা সনাক্ত করন সহ বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে।




ঈদের লম্বা ছুটিতে পর্যটক বরনে প্রস্তুত কুয়াকাটা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও মুসলমানদের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা উদযাপন উপলক্ষে লম্বা ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটক বরণ করতে প্রস্তুত সাগর কন্যা কুয়াকাটা। টানা ছুটিতে ভ্রমণ পিপাসুরা সমুদ্র সৈকতে ছুটে আসবেন বলে প্রত্যাশা পর্যটন ব্যবসায়ীদের। কিন্তু কুয়াকাটার আবাসিক হোটেল ও রিসোর্ট গুলোতে এখন পর্যন্ত নেই অগ্রিম বুকিং।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন আশা করছি ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠবে কুয়াকাটা সৈকত।

এদিকে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় বাড়ানো হয়েছে পুলিশের নজরদারি, থাকবেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। জোরদার করা হয়েছে উদ্ধার কার্যক্রম।

শনিবার বিভিন্ন বিলাসবহুল হোটেল, রিসোর্ট,ও বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পর্যটক বরণে পুরোপুরি প্রস্তুতি নিয়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। কিন্তু এখন পর্যন্ত আশানুরূপ বুকিং না থাকায় কিছুটা হতাশায় ভুগছেন তারা। তবে ঈদের পরে পর্যটক আসবে বলেই বিশ্বাস করছেন তারা ।যারা ঘুরতে আসবেন, তাদের জন্য পর্যটন এলাকাগুলো আরও আরামদায়ক ও মনোরম করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন পর্যটকদের সেবা দেওয়া ১৬টি পেশার ব্যবসায়ী ও কর্মীরা।

ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা, সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা এবং নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আমরা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছি। তবে আশানুরূপ অগ্রিম বুকিং না পাওয়ায় কিছুটা হতাশায় রয়েছেন অনেক ব্যবসায়ীরা। ঘূর্ণিঝড় রেমাল এবং অতিরিক্ত তাপদাহের প্রভাবে এ বছর আশানুরূপ পর্যটক আসেনি কুয়াকাটায়। বর্ষার আগে ঈদকে কেন্দ্র করে পর্যটক আসবে কুয়াকাটায় এটাই ছিল আমাদের আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু এখন পর্যন্ত সবার চোখে মুখে শুধু হতাশা।

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা(টোয়াক) জয়েন্ট সেক্রেটারি আবুল হোসেন রাজু বলেন,বর্তমানে হোটেল-মোটেলগুলো ধুয়ে মুছে একবারে পরিপাটি করা হয়েছে। তবে তেমন কোন পর্যটক না থাকায় সৈকত দীর্ঘদিন ফাঁকা, পুরো এলাকা ঝকঝক করছে। বর্ষার শুরুতে সৈকতে উঁচু উঁচু ঢেউ,এ দৃশ্য নজর কাড়বে সব বয়সী মানুষের। এসব কারণে ঈদের ছুটিতে ভ্রমণ পিপাসুদের আগমন ঘটবে এমনটাই সবার আশা।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশন এর সাধারণত সম্পাদক মোঃ মোতালেব শরীফ বলেন, প্রতিবছর এইসময় আমাদের অধিকাংশ হোটেল এবং রিসোর্ট গুলোর রুম বুকিং হয়ে যায়। কিন্তু এ বছর এখন পর্যন্ত তেমন কোন বুকিং নেই। তবে এখন পর্যন্ত আমাদের হোটেলের ৫০ শতাংশ রুম বুকিং হয়েছে। আশা করছি কুয়াকাটা সব হোটেল গুলোতেই বুকিং বাড়বে এবং ঈদ পরবর্তী সময়ে পর্যটকে মুখরিত থাকবে কুয়াকাটা। তবে সব মিলিয়ে ৩০ শতাংশ রুম বুকিং হয়েছে কুয়াকাটায়।

আরো পড়ুন : নেপালের বিদায়ে যেমন হলো বাংলাদেশের সুপার এইট সমীকরণ

সী বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রবিউল ইসলাম জানান, ঈদের ছুটিতে বাড়তি পর্যটক আগমনের সম্ভাবনা মাথায় রেখে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত তৎপরতার পাশাপাশি তিনজন অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট, স্কাউটের প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক ও সৈকতে রেসকিউ টিম প্রস্তুত থাকবে। বাড়তি ভাড়া আদায় প্রতিরোধ ও হয়রানি বন্ধে নজরদারি করা হবে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং সেবা দেয়ার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তায় সার্বিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। লেম্বুরবন থেকে রামনাবাদ চ্যানেল পর্যন্ত বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকবে ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা। পর্যটকদের সেবায় জল ও স্থলপথে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।




হিজবুল্লাহর রকেট হামলায় ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে বিশাল আগুন




জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বহিষ্কারের কথা ভাবছে ইসরায়েল

 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বহিষ্কারের কথা ভাবছে ইসরায়েল। জাতিসংঘে ইসরায়েলের বিশেষ দূত গিলাদ এরডান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সম্প্রতি ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় নিরপরাধ শিশুদের ওপর হামলা ও হাজার হাজার শিশুর মৃত্যুর কারণে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে ‘অপরাধী’ দেশের তালিকায় যুক্ত করেছে জাতিসংঘ।

সে সময়ই ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানান, এই পদক্ষেপের কারণে জাতিসংঘের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং জাতিসংঘকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ইসরায়েল জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বহিষ্কারের কথা চিন্তা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসরায়েলের একটি রেডিও চ্যানেলকে গিলাদ এরডান বলেন, কিছুদিনের মধ্যেই ইসরায়েল তার ভূখণ্ড থেকে জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বহিষ্কারের বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের দেশটি থেকে প্রত্যারের এবং ইসরায়েলের ভালো-মন্দ বিবেচনা করার সময় এসে গেছে।

এদিকে গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মিদের মুক্তির পরিকল্পনায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনার প্রস্তার দিয়েছে হামাস। এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন হামাসের উদ্দেশে বলেছেন, দরকষাকষি বন্ধের সময় এসেছে। কাতারের রাজধানী দোহায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, কিছু পরিবর্তন প্রস্তাব নিয়ে কাজ করা গেলেও অন্যগুলো নিয়ে কাজের সুযোগ নেই, তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং আলোচনার মধ্যস্থতাকারী কাতার ও মিশর এই চুক্তিটির জন্য চেষ্টা করে যাবে।

হামাস গত মঙ্গলবার বলেছে, তারা এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক তবে তারা গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীকে পুরোপুরি প্রত্যাহার এবং একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির ওপর জোর দিয়েছে।

গাজার পরিস্থিতি দিন দিন আরও সংকটময় হয়ে উঠছে। যতই দিন যাচ্ছে সেখানে খাবার-পানির সংকটে দিশেহারা হয়ে উঠছে নিরীহ ফিলিস্তিনিরা। এমনকি শিশুদের মুখে তুলে দেওয়ার মতো খাবারের জোগানও দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজা হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজায় ২৫০ দিন ধরে চলা যুদ্ধে ১৫ হাজার ৬৯৪ জন শিশু নিহত হয়েছে এবং ১৭ হাজার শিশু তাদের বাবা-মাকে হারিয়ে এতিম হয়ে গেছে।

এদিকে গাজায় খাদ্য সংকটের বিপর্যয় সম্পর্কে সতর্ক করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস। যুদ্ধবিধ্বস্ত ওই অঞ্চলে পাঁচ বছরের কম বয়সী আট হাজার শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে বলে জানানো হয়েছে।

গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চলে কর্মরত এক সরকারি কর্মকর্তা আল জাজিরাকে বলেন, সেখানে অধিকাংশ খাদ্যপণ্য ফুরিয়ে যাওয়ায় ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি জাতিসংঘ সমর্থিত একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গাজাযুদ্ধের প্রথম দিকেই ইসরায়েল ও হামাস যুদ্ধাপরাধ করেছে। এতে বলা হয়েছে, শুধু যুদ্ধাপরাধ নয়, মানবতাবিরোধী অপরাধও করেছে ইসরায়েল। কারণ তাদের হামলায় বেসামরিক অসংখ্য মানুষ নিহত হয়েছেন।

 




টিভিতে যেসব খেলা দেখবেন আজ




সুনেত্রা চাপা অভিমান নিয়ে চলে গেছেন : অঞ্জন




বিশ্বকাপ থেকে পাকিস্তানের বিদায়, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস