ঢাকা-১৫ এ শফিকুরের মনোনয়ন বৈধ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-১৫ সংসদীয় আসনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এর মাধ্যমে এই আসনে নির্বাচনী দৌড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেন তিনি।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে ঢাকার মোট ২০টি সংসদীয় আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়। ওই যাচাই-বাছাইয়ের ধারাবাহিকতায় ঢাকা-১৫ আসনের প্রার্থী হিসেবে ডা. শফিকুর রহমানের দাখিল করা মনোনয়নপত্র পরীক্ষা করে তা বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, ডা. শফিকুর রহমানের হলফনামা, ব্যক্তিগত তথ্য, সম্পদের বিবরণসহ সংশ্লিষ্ট সব নথিপত্র বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ে কোথাও কোনো অসংগতি বা আইনগত ত্রুটি পাওয়া যায়নি। ফলে নির্বাচন আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী তার মনোনয়নপত্র গ্রহণে কোনো ধরনের বাধা নেই বলে সিদ্ধান্ত আসে।

এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনে জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধি দল ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষে ঢাকা-১৫ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়। তখন থেকেই তার মনোনয়ন বৈধতা নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। যাচাই-বাছাই শেষে সেই আলোচনার অবসান হলো।

নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী, রোববার (৪ জানুয়ারি) দেশের সব সংসদীয় আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর কোনো প্রার্থীর মনোনয়ন নিয়ে আপত্তি থাকলে আগামী ৫ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করা যাবে। আপিল নিষ্পত্তি শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেই নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে ডা. শফিকুর রহমানের অংশগ্রহণ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ইতোমধ্যে নির্বাচনী প্রস্তুতি ও কৌশল নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে বলেও জানা গেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বগুড়া-৬ এ তারেকের সবুজ সংকেত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে করে এই আসনের নির্বাচনী মাঠে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন তিনি।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টা ২৫ মিনিটের দিকে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমান তারেক রহমানের দাখিল করা মনোনয়নপত্র পর্যালোচনা শেষে তা বৈধ বলে ঘোষণা দেন। যাচাই-বাছাইয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক থাকায় কোনো আপত্তি ওঠেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

একই দিনে একই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেলের মনোনয়নপত্রও বৈধ ঘোষণা করা হয়। ফলে বগুড়া-৬ আসনে বড় দুই রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ হওয়ায় নির্বাচনী প্রতিযোগিতা আরও জোরালো হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তবে সব প্রার্থীর ক্ষেত্রে ফল একরকম হয়নি। এই আসনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মনোনীত প্রার্থী দিলরুবা নূরীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয় সূত্র জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল না করায় নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী তার মনোনয়ন প্রাথমিকভাবে বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে বগুড়া-৬ আসনে কোন কোন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ এবং কোনগুলো বাতিল হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। এ ঘোষণার পর থেকেই এলাকায় নির্বাচনী আলোচনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

এদিকে মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার খবরে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। তারা বলছেন, বগুড়া-৬ আসনে তারেক রহমানের মনোনয়ন বৈধ হওয়া নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন গতি আনবে। অন্যদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জামায়াত আমির ও তারেক রহমানের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত

চন্দ্রদ্বীপনিউজ :বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।

এর আগে ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে জামায়াতের প্রতিনিধি দল সদ্যপ্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং তার রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।

বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন,

বেগম জিয়া গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও নাগরিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আজীবন ভূমিকা রেখেছেন।

ইতিহাসে তিনি বিরল সম্মান নিয়ে বিদায় নিয়েছেন, যা তার প্রাপ্য ছিল।

জাতির জন্য অবদান রাখলে সবার জন্যই এমন সম্মান অর্জনের সুযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আগামীর রাজনীতি ও সরকার গঠন প্রসঙ্গে  জানতে চাওয়া হলে ,  জামায়াত আমির বলেন, দেশে একটি সুন্দর ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে জাতীয় নির্বাচনের পর এবং সরকার গঠনের আগে সবাই একসঙ্গে কাজ করতে পারে কি না, সে বিষয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, নির্বাচনের পর শপথ গ্রহণের আগেই আবারও বৈঠকে বসার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।

নির্বাচন-পরবর্তী রাষ্ট্র গঠন ও জাতীয় ঐক্যের লক্ষ্যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশ গঠনে বৃহত্তর ঐক্যের বার্তা দেন।

নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন যেন নির্বিঘ্ন, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হয়—এটাই তাদের প্রত্যাশা। একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।




জনস্রোতে শেষ বিদায়

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে এই জানাজা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক শোকাবহ ও স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকল।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টা ৩ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা এলাকায় খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আশপাশের এলাকায় শোকার্ত মানুষের ঢল নামে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জনসমাগম আরও বাড়তে থাকে এবং পুরো এলাকা পরিণত হয় শোকের জনসমুদ্রে।

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আবদুল মালেক জানাজায় ইমামতি করেন। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এছাড়াও সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং কূটনৈতিক ব্যক্তিত্বরা জানাজায় অংশ নেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে পরিচিত খালেদা জিয়াকে শেষ বিদায় জানাতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ঢাকায় ছুটে আসেন। শুধু রাজনৈতিক নেতাকর্মী নয়, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষও এই জানাজায় অংশ নিয়ে প্রিয় নেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। অনেকের চোখে ছিল অশ্রু, মুখে ছিল গভীর শোক আর ভালোবাসার প্রকাশ।

জানাজা শেষে বেগম খালেদা জিয়াকে তার স্বামী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হবে। এ সময় পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে।

এর আগে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুতে সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে। একই সঙ্গে বুধবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। বিএনপিও দলীয়ভাবে সাত দিনের শোক কর্মসূচি পালন করছে।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, সংগ্রাম ও নেতৃত্ব আজ স্মরণ করছেন সর্বস্তরের মানুষ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শেষবারের মতো ‘ফিরোজায়’ নেওয়া হচ্ছে খালেদা জিয়ার মরদেহ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ আজ বুধবার সকাল ৯টার একটু আগে বাংলাদেশের পতাকায় মোড়ানো একটি গাড়িতে করে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে বের করে  তাঁর বাসভবন ‘ফিরোজায়’নেওয়া হচ্ছে । সেখানে তাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাবেন স্বজন ও দলীয় নেতা কর্মীরা।

পরে তাঁকে জানাজার জন্য নেওয়া হবে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে।

বুধবার বেলা ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাঁকে তাঁর স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।




গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় খালেদা জিয়ার ভূমিকা অনস্বীকার্য: শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার অবদান ছিল অপরিসীম।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে পাঠানো এক শোকবার্তায় এসব কথা বলা হয়। নিষিদ্ধ রাজনৈতিক কার্যক্রমের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ওই বার্তায় শেখ হাসিনা বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর দুঃখ ও শোক প্রকাশ করেন।

শোকবার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তাঁর অবদান ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় জীবনে খালেদা জিয়ার ভূমিকা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তাঁর মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং বিএনপির নেতৃত্বে এক বড় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।

শেখ হাসিনা মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বলেন, আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন বেগম খালেদা জিয়াকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।

এছাড়া শোকবার্তায় তিনি খালেদা জিয়ার পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। বিশেষ করে তাঁর ছেলে তারেক রহমান ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণের শক্তি দান করার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মঙ্গলবার ভোর ৬টায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দায় শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের: আইন উপদেষ্টা

বিএনপির চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ড. আসিফ নজরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মাধ্যমে দেওয়া রায়ের কারণে দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকতে হয়েছে। তিনি দাবি করেন, প্রহসনমূলক মামলার মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠিয়ে অমানবিক মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার করা হয়েছে।

আইন উপদেষ্টা আরও বলেন, যে মামলাগুলোতে খালেদা জিয়াকে সাজা দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাজানো। এসব মামলার পেছনে ন্যায়বিচারের কোনো প্রতিফলন ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ড. আসিফ নজরুল তার বক্তব্যে বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর জন্য ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার সরকারের পূর্ণ দায় রয়েছে।” তিনি এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ইতিহাসের সামনে সত্য উদঘাটনের দাবি জানান।

এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এক প্রতীকী নেতৃত্ব, যাকে দমন করতে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




এক নজরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া

বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী নেতা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনা, আন্দোলন-সংগ্রাম ও নানা রাজনৈতিক সংকট—সব মিলিয়ে তাঁর জীবন ছিল ঘটনাবহুল।


ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন

বেগম খালেদা জিয়ার পুরো নাম খালেদা খানম পুতুল, যিনি ইতিহাসে পরিচিত খালেদা জিয়া নামে। তাঁর জন্ম ১৫ আগস্ট ১৯৪৫ সালে (কিছু সূত্রে ১৯৪৬ সাল উল্লেখ করা হয়)। জন্মস্থান ভারতের জলপাইগুড়ি জেলা হলেও তাঁর পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলায়

তিনি জন্মগ্রহণ করেন ইস্কান্দার মজুমদারতৈয়বা মজুমদার দম্পতির ঘরে। শিক্ষাজীবনে তিনি দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন সম্পন্ন করেন এবং পরে সুরেন্দ্রনাথ কলেজ, দিনাজপুরে অধ্যয়ন করেন।

১৯৬০ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়। জিয়াউর রহমান পরবর্তীতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন।


ফার্স্ট লেডি হিসেবে দায়িত্ব

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকাকালে ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের ফার্স্ট লেডি। এই সময়েই তিনি ধীরে ধীরে জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে পরিচিত হয়ে ওঠেন।


রাজনৈতিক জীবনের সূচনা ও নেতৃত্ব

১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়া সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হন।
১৯৮৪ সালের ১০ মে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন এবং দীর্ঘ সময় ধরে দলটির নেতৃত্ব দিয়ে আসেন।

স্বৈরশাসক জেনারেল এরশাদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে গঠিত সাত-দলীয় জোট প্রায় নয় বছর ধরে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে টানা আন্দোলন চালায়, যা শেষ পর্যন্ত এরশাদ সরকারের পতনে ভূমিকা রাখে।


প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিন দফা দায়িত্ব

বেগম খালেদা জিয়া তিন দফায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন—

  • প্রথম মেয়াদ (১৯৯১–১৯৯৬):
    এই মেয়াদে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী।
  • দ্বিতীয় মেয়াদ (১৯৯৬):
    এই মেয়াদ ছিল স্বল্পকালীন।
  • তৃতীয় মেয়াদ (২০০১–২০০৬):
    এ সময় তিনি পূর্ণ মেয়াদে সরকার পরিচালনা করেন।

মামলা, কারাবাস ও মুক্তি

পরবর্তী সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতি মামলা হয় এবং তিনি বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হন।
২০১৮ সালে তিনি কারাবন্দি হন।

পরবর্তীতে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকার নির্বাহী আদেশে তাঁর সাজা সাময়িকভাবে স্থগিত করে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেয়। শর্তগুলোর মধ্যে ছিল—

  • বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ
  • দেশের বাইরে না যাওয়া
  • রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত না হওয়া

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর রাষ্ট্রপতির নির্বাহী আদেশে তাঁর দণ্ড মওকুফ করা হয় এবং তিনি পূর্ণ মুক্তি লাভ করেন।


সর্বশেষ অবস্থা

২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকাল ৬টায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন
বিএনপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে জানানো হয়, ফজরের নামাজের পরপরই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আর নেই

বঙ্গবন্ধু-কন্যা ও আওয়ামী লীগ নেত্রী শায়েস্তা ভুলি নয়—এবার সত্য: বিএনপি চেয়ারপারসন ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মারা গেছেন। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে দীর্ঘ অসুস্থতার কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেছেন বলে জানানো হয়েছে।

খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়; তিনি ছিলেন দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং দুই দফায় দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর বয়স ছিল প্রায় ৮০ বছর।

বিএনপি চেয়ারপারসনের এই মৃত্যুর বিষয়টি দলের অফিসিয়াল পক্ষ থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে এবং “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন” উল্লেখ করে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে। �

জানা গেছে, বেগম খালেদা জিয়া গত বেশ কিছু সময় ধরে নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন এবং নভেম্বরে তিনি চিকিৎসার জন্য ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় লাইফ সাপোর্ট সহ উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।

এ উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর রাজনৈতিক জীবন ও বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে অগ্রণী ভূমিকা স্মরণ করা হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



নির্বাচনে না থাকার ঘোষণা আসিফ মাহমুদের

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ জানান, তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপির মুখপাত্র হিসেবে যুক্ত হয়েছেন। এ সময় তিনি বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদদের যে স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা, তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই আমি এনসিপিতে যোগ দিয়েছি। এই নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, সংসদে একজন ব্যক্তি হিসেবে যাওয়ার চেয়ে জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বহু সহযোদ্ধাকে সংসদে পৌঁছাতে সহায়তা করাই তার কাছে বড় সাফল্য। তার ভাষায়, “আমার একার সংসদে যাওয়ার চেয়ে আন্দোলনের সহযোদ্ধাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে কাজ করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”

আসিফ মাহমুদ আরও জানান, দল থেকে তাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবেন। তিনি বলেন, “এনসিপির প্রতিটি প্রার্থীকে বিজয়ী করতে আমি মাঠে কাজ করব। একই সঙ্গে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতেও ভূমিকা রাখব।”

উল্লেখ্য, এর আগে ঢাকা-১০ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন আসিফ মাহমুদ। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেননি। তার এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫