গভীর রাতে পাহাড় ধসে ঘুমন্ত স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু

বরিশাল অফিস :: কক্সবাজারের সদর উপজেলায় গভীর রাতে পাহাড় ধসে ঘুমন্ত অবস্থায় স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ জুন) রাত ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- পুলিশ লাইন বাদশা ঘোনা এলাকার কেন্দ্রীয় মসজিদের মোয়াজ্জেম আনোয়ার হোসেন ও তার সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মাইমুনা আক্তার।

ঝিলংঝা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান বলেন, ভারী বৃষ্টির মধ্যে রাত ৩টার দিকে পাহাড় ধসে ঘুমন্ত অবস্থায় মাটি চাপা পড়েন আনোয়ার ও তার স্ত্রী। পরে স্থানীয়রা মাটি সরিয়ে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি রফিকুজ্জামান। তিনি বলেন, রাতে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাহাড় ধসে এক দম্পতির মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।




আলভারেজ-লাউতারোর গোলে জয় দিয়ে কোপা শুরু আর্জেন্টিনার




‘শূন্য জীবন আর কত! মা-বাবা আমাকে মাফ করে দিও’ স্ট্যাটাস দিয়ে বরিশালে যুবকের আত্মহত্যা

বরিশাল অফিস :: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘শূন্য জীবন আর কত! মা-বাবা আমাকে মাফ করে দিও’এমন স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন সদ্য পাস করা ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার সামিউল নামে এক যুবক।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) ভোরে বরিশাল নগরীর আমিরকুটির এলাকার কাজী মঞ্জিলে এ ঘটনা ঘটে। মৃত সামিউল আমিরকুটির এলাকার স্বপন কাজীর ছেলে। তিনি চলতি বছর বরিশাল পলিটেকনিক ইনিস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেছেন।

সামিউলের বড় ভাই বলেন, বৃহস্পতিবার ভোররাতে ফজরের নামাজ পড়তে যাই। এসে দেখি দোতালায় আমাদের চিলেকোঠায় গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলছে সামিউল।

বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ওসি এটিএম আরিচুল হক বলেন, আমির কুটির এলাকায় একটি আত্মহননের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।




বাংলাদেশ ও আর্জেন্টিনার খেলাসহ আজ যা দেখবেন




২৩৫ কোটি টাকার মালিক শাকিব খান, দাবি ভারতীয় গণমাধ্যমের 




অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ




পটুয়াখালী, বরগুনায় বিষধর রাসেলস ভাইপার সাপের আতঙ্ক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: মঙ্গলবার ভোরে ওজু করতে বাড়ির পুকুরঘাটে গিয়েছিলেন বরগুনার আমতলীর আঙ্গুলকাটা গ্রামের রেজিমন বিবি (৫০)। সে সময় কোনো একটি বিষধর সাপ দংশন করে তাকে। এতে ১০ মিনিটের মধ্যেই অজ্ঞান হয়ে যান তিনি। স্বজনরা দ্রুত তাকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রেজিমন বিবিকে ঠিক কোন সাপে কামড়েছিল তা ঘটনার আকস্মিকতা ও অল্প আলোর কারণে বুঝতে পারেননি তিনি। তবে কামড়ের পর দ্রুত মৃত্যুর কারণে তার স্বজন ও প্রতিবেশীদের ধারণা হয় যে সাপটি ছিল রাসেল ভাইপার।

পরে এমন ধারণাই আতঙ্ক হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে আঙ্গুলকাটা গ্রামসহ পুরো গুলিশখালী ইউনিয়নের বাসিন্দাদের ভেতর। এখন এই ইউনিয়নে সন্ধ্যার পর রাস্তায় লোক চলাচল কমে গেছে। যারা বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন তাদের হাতে থাকছে লাঠি ও টর্চ।

তীব্র বিষধর রাসেলস ভাইপার স্থানীয়ভাবে চন্দ্রবোড়া ও উলুবোড়া নামেও পরিচিতি। সাপটি দেখতে অনেকটা অজগরের বাচ্চার মতো। ব্রিটিশ শাসনামলে ভারতে কাজ করতে এসেছিলেন স্কটিস সার্জন প্যাট্রিক রাসেল। ১৭৯৬ সালে তিনি এই সাপ সম্পর্কে গবেষণা করেন। তার নাম অনুসারে এই সাপের নামকরণ করা হয়।

বাংলাদেশে ২০০২ সালে প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থাগুলোর আন্তর্জাতিক জোট আইইউসিএন রাসেলস ভাইপারকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে। সাপটি মূলত শুষ্ক অঞ্চলের; বিশেষ করে বরেন্দ্র এলাকার বাসিন্দা হলেও এখন উপকূলীয় এলাকার কয়েকটি জেলাসহ অন্তত ৩৫টি জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা। আর প্রায়ই এসব এলাকা থেকে রাসেলস ভাইপারের কামড়ে মৃত্যুর খবর আসছে। ফলে সাপটি নিয়ে জনপরিসরে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি সেই পরিমাণ ভয় ও আতঙ্কও তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার সাপের কামড়ে মারা যাওয়া রেজিমন বিবি আঙ্গুলকাটা গ্রামের আরশেদ আলীর স্ত্রী।

আরশেদ আলী বলেন, ‘কামড় দেওয়ার খুব অল্প সময়ের মধ্যে মৃত্যু হওয়ায় আমরা ধারণা করছি সাপটি ছিল রাসেলস ভাইপার।’

এ সম্পর্কে এলাকাবাসীরও একইরকম ধারণা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

একই গ্রামের আরেক বাসিন্দা রিয়াজ উদ্দিনের ভাষ্য, সাপের কামড়ে রেজিমন বেগমের মৃত্যুর পর তাদের গ্রামসহ পুরো ইউনিয়নে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সন্ধ্যার পর গ্রামের লোকজন তেমন একটা ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না।

আরো পড়ুন : ভূতুড়ে কৃষি ঋণের ফাঁদে পটুয়াখালীর মৃতরা

স্থানীয় বাসিন্দারা এমনও ধারণা করছেন যে, ঘূর্ণিঝড় রিমালের কারণে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে ভেসে এসে রাসেলস ভাইপার এই এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদেরও অভিমত, রাসেলস ভাইপার দক্ষ সাঁতারু এবং পদ্মা অববাহিকা ধরে কচুরিপানায় ভেসে এর বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার রেকর্ড আছে।

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. চিন্ময় হাওলাদারের সঙ্গে। তিনি বলেন, এমনিতেই বর্ষা মৌসুমে সাপের উপদ্রব বাড়ে। তাই এ সময়টিতে সবাইকে সাবধানে চলাফেরা করতে পরামর্শ দেন তিনি।

রাসেলস ভাইপারের সাপের কামড়ে শরীরের দংশিত অংশে বিষ ছড়িয়ে অঙ্গহানি, ক্রমাগত রক্তপাত, রক্ত জমাট বাঁধা, স্নায়ু বৈকল্য, চোখ ভারী হয়ে আসা, পক্ষাঘাত এবং কিডনি ও ফুসফুসের ক্ষতিসহ বিভিন্ন শারীরিক উপসর্গ দিতে পারে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না পেলে মৃত্যু হয়।

এই প্রজাতির সাপের কামড়ের কিছুক্ষণ পরই দংশিত স্থানে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। ব্যথার পাশাপাশি জায়গাটি দ্রুত ফুলে যায় এবং ঘণ্টাখানেকের মধ্যে কাছাকাছি আরও কয়েকটি অংশ আলাদাভাবে ফুলে যায়। আবার সাপটিকে অনেকে অজগরের বাচ্চা ভেবেও ভুল করে। এমন ভুলেই রাসেলস ভাইপারের কামড়ে ফরিদপুরে এক সাপুড়ের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে।

সাপের কামড়ে রেজিমন বেগমের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হবে।




ভূতুড়ে কৃষি ঋণের ফাঁদে পটুয়াখালীর মৃতরা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বাউফলে স্বাধীনতার আগে মারা যাওয়া পাঁচজনসহ মোট ছয়জন মৃত ব্যক্তিকে ঋণ দিয়েছে ব্যাংক। মৃত ব্যক্তিদের নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে ২০১৪-১৫ সালে ব্যাংক থেকে বিভিন্ন অঙ্কের ঋণ উত্তোলন করা হয়েছে আবার কারও কারও নামে রয়েছে একাধিক ঋণ।

পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলায় বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের কেশবপুর শাখায় এমন ঘটনা ঘটেছে।

ঋণ গ্রহীতা ব্যক্তিদের সবার বাড়ি উপজেলার সূর্য্যমনি ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ও তাদের স্বজনেরা কৃষি ব্যাংকের কেশবপুর শাখায় যোগাযোগ করলে কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করছেন বলে জানা গেছে।

ব্যাংক ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৪ সালের ১১ডিসেম্বর কৃষি ব্যাংকের কেশবপুর শাখার কার্যক্রম শুরু হয়।
ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাউফলের সূর্য্যমনি ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের কেতাব উদ্দিন হাওলাদারের ৩ ছেলে জবেদ আলী, হজরত আলী ও রহম আলী ২০১৪ সালে ওই শাখা থেকে কৃষি ঋণ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে জবেদ আলীর নামে ২৫ ও ৩০ হাজার টাকার দুটি, হজরত আলীর নামে ৪৫ হাজার ও রহম আলীর নামে ৫০ হাজার টাকার ঋণ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু জবেদ আলী ১৯৬০, হজরত আলী ১৯৬৫ ও রহম আলী ১৯৬৬ সালে মারা যান।

জবেদ আলীর ছেলের ঘরের নাতনি মোমেলা বেগম বলেন, তিনি তার দাদাকে দেখেননি। ২০১৪ সালে দাদার নামে ঋণ নেওয়া হয়েছে তাও তারা জানেন না।

হজরত আলী হাওলাদারের ছেলের ঘরের নাতি মো. ফকরুল ইসলাম (৫৭) বলেন, আমার ৩ দাদার নামে লোন। আমি জন্মের পরে তাদের দেখি নাই। ২০২০ সালে ব্যাংক থেকে নোটিশ আসার পরে আমরা লোন সম্পর্কে অবহিত হই। এরপর বারবার কৃষি ব্যাংকে যোগাযোগ করে প্রতিকার চাইলেও ম্যানেজাররা কোনো প্রতিকার করে নাই।

কালিকাপুর গ্রামের আহম্মদ আলী হাওলাদারের ছেলে মো. জয়নাল হাওলাদার মারা যান ১৯৬৯ সালে। তার নামে ২০১৪ সালে ৪০ হাজার টাকার কৃষি ঋণ তোলা হয়েছে।

জয়নালের ছেলে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মো. আবুল বাশার (৬৪) বলেন, তার বাবার মৃত্যুর সময় ব্যাংকের শাখাই ছিল না। ঋণ পরিশোধের নোটিশ পেয়ে জানতে পারেন, বাবার নামে ২০১৪ সালে ঋণ তোলা হয়েছে।

অপর ঋণ গ্রহীতা জয়নাল আবেদীন হাওলাদারের ছেলে আসাল উদ্দিন হাওলাদার (৮০) বলেন, আমার বাবা মারা গেছেন ৭০/৮০ বছর আগে আমার বয়সও ৮০ বছর। সেই বাবার নামে একটা লোন, এই লোন তো আমরা নিই নাই, লোন সম্পর্কে কিছু জানি না। একি আজব ঘটনা।

আরো পড়ুন : বাউফলে চুরির অভিযোগে ২ যুবক গ্রেফতার

কালিকাপুর গ্রামের মো. বাবুল মৃধা (৪৪) ঢাকায় থাকেন। তিনি কোনো দিন কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ নেননি। তার নামে কেশবপুর শাখা থেকে ২০১৪ সালে ১৭ হাজার ঋণ উত্তোলন করা হয়েছে। তার ছোট ভাই ফারুক হোসেন মৃধার (৪২) নামে ৭৫ ও ১৭ হাজার টাকার দুটি ঋণ উত্তোলন করা হয়েছে।

আবদুল করিম মৃধা নামের এক ব্যক্তির নামে ৩৫ হাজার টাকার ঋণ উত্তোলন দেখানো হয়েছে। গ্রাম কালিকাপুর উল্লেখ করা হলেও তার বাবার নাম উল্লেখ করা হয়েছে রুস্তম আলী মৃধা। অথচ এ নামের কাউকে কালিকাপুর গ্রামে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

অপরদিকে একই এলাকার মৃত আব্দুল ছত্তার মৃধার ছেলে বাবুল মৃধার নামে রয়েছে ১৭ হাজার টাকার ঋণ। বাবুল মৃধার স্ত্রী হামিদা বেগম জানান, তার স্বামী কৃষি ব্যাংক থেকে কোনো ঋণ গ্রহণ করেননি। তবে ঋণের জন্য আবেদন করেছিলেন। তারপর একদিন ঋণ পাশ হয়েছে জেনে ব্যাংকে গেলে ব্যাংক থেকে জানানো হয় আজকে টাকা পাবেন না। এরপর আর কখনো কৃষি ব্যাংকে যাননি এবং কোনো টাকা নেননি।

২০১৪ সালে কেশবপুর শাখার মাঠ কর্মকর্তা ছিলেন মো. শফিউর রহমান। পাঁচ বছর আগে তিনি অবসরে চলে গেছেন। তাঁর দাবি, তিনি কোনো মৃত ব্যক্তি কিংবা নামে-বেনামে কারও ঠিকানা ব্যবহার করে ঋণ দেওয়ার সুপারিশ করেননি।

এ প্রসঙ্গে উপজেলার সূর্য্যমনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন বাচ্চু বলেন, যাদের নামে লোন নেওয়া হয়েছে বলে জেনেছি তারা ৫০/৬০/৭০ বছর আগে মারা গেছেন। একটা চক্র এই কাজ করছে জানিয়ে লোন নেওয়ার ঘটনাকে তিনি মিথ্যা, বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে মনে করেন।

কৃষি ব্যাংকের কেশবপুর শাখার বর্তমান ব্যবস্থাপক হুসাইন মো. তাইফ আলম জানান, গত সপ্তাহে (মঙ্গলবার) ৪/৫ জন লোক এসে তাকে বিষয়টি জানান। তারা ২০২০ সালে ঋণ পরিশোধের নোটিশ পেয়েছেন। এরপর খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ঋণগুলো ২০১৪-১৫ সালে অনুমোদন করা হয়েছে। এরপর তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা বিষয়টি খুবই গুরুত্ব সহকারে দেখছেন এবং বিষয়টি এখন তদন্তাধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি ব্যাংকের বিভাগীয় মহা ব্যবস্থাপক গোলাম মাহবুব বলেন, মৃত ব্যক্তির নামে লোন মঞ্জুর হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছি, তদন্ত রিপোর্ট পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




বরিশালে সাবেক ছাত্রলীগ নেতার নির্দেশে বন্ধ হাসপাতালের সংস্কারকাজ

বরিশাল অফিস ::  বরিশাল নগরীর ১০০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের সংস্কারকাজ বন্ধ করে দিয়েছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আরিফুর রহমান অপু। ছাদ ভাঙার পর তিনি কাজ বন্ধ করে দেন। এতে হাসপাতালের ভেতর বৃষ্টির পানি জমে গেছে। শিশু ওয়ার্ডে গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে রোগী ভর্তি করা হচ্ছে না।

হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, অপু হাসপাতাল সংস্কারের কাজটি করতে চেয়েছিলেন। অন্য ঠিকাদার কাজ পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ১২ জুন দলবলসহ এসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন। পরদিন হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনে দুটি এবং প্রধান ফটকে ঈদ শুভেচ্ছার ব্যানার টানিয়ে দেন।

দুটি ব্যানারের একটিতে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম এমপি এবং অপরটিতে সিটি মেয়র আবুল খায়ের আবদুল্লাহর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যানারে অপু নিজের পরিচয় লেখেন, ‘আওয়ামী যুবলীগ বরিশাল মহানগর, সাবেক ছাত্রনেতা, আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল আইন মহাবিদ্যালয়, সাবেক ম্যাগাজিন সম্পাদক বাকসু (বিএম কলেজ ছাত্র সংসদ)।’ তবে মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক নিজামুল ইসলাম নিজাম বলেন, ‘আরিফুর রহমান অপু যুবলীগের কেউ নন। সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা নিজেদের যুবলীগ নেতা দাবি করছেন।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অপু প্রতিমন্ত্রী ও সিটি মেয়রের অনুসারী। হাসপাতালের অদূরে শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল আইন মহাবিদ্যালয় সংলগ্ন তাঁর বাসা। গত ৯ জানুয়ারি রাতে আইন মহাবিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালে শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন ও অধ্যক্ষ মোস্তফা জামানকে মারধর করে আলোচনায় আসেন অপু।

জেনারেল হাসপাতালের ‘লাল বিল্ডিং’ নামে পরিচিতি শতবর্ষী ভবন ও আন্তঃবিভাগ হাসপাতাল ভবনের ছাদের সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে মাসখানেক আগে। প্রশাসনিক ভবনের কাজ গণপূর্ত অধিদপ্তর ও হাসপাতাল ভবনের কাজ ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের অধীনে বাস্তবায়ন হচ্ছে।

হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক জেলা সিভিল সার্জন ডা. মারিয়া হাসান জানান, ঈদের দু’দিন আগে অপু এসে ঠিকাদারকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। তাঁর দাবি, দরপত্রের বিধি অনুযায়ী কাজ হচ্ছে না। অপুর চাপে ঠিকাদার মো. শফিক ও আ. মান্নান কাজ বন্ধ করে দেন। এর আগে হাসপাতাল ভবনের ছাদের একাংশ ভেঙে ফেলা হয়। এখন বৃষ্টির পানি ভবনের ভেতরে যাচ্ছে।’ গতকাল থেকে শিশু ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, ‘কেউ একজন সংস্কারকাজ বন্ধ রাখতে বলেছেন। এতে রোগী ভর্তি ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে ৬০-৭০ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন।’

প্রশাসনিক ভবনের কাজের ঠিকাদার আব্দুল মান্নান বলেন, ‘লোকজন এসে শ্রমিকদের কাজ করতে নিষেধ করে গেছে। তাই কাজ বন্ধ।’ গণপূর্তের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ওবায়েদুল হক জানান, জরুরি মেরামত হিসেবে সংস্কারকাজ চলছিল। কাজ শেষে মন্ত্রণালয়ে বিল পাঠানো হবে।

এ বিষয়ে আরিফুর রহমান অপু বলেন, ‘এলাকার ছেলে হয়েও কাজটি পাইনি। কাজ পাওয়া ঠিকাদার নিম্নমানের রড-সিমেন্ট ব্যবহার করছেন। তাই কাজ বন্ধ রেখে নির্বাহী প্রকৌশলীকে ঘটনাস্থলে আসতে বলেছি। কিন্তু নির্বাহী প্রকৌশলী আসছেন না।’ ব্যানার ঝুলানো প্রসঙ্গে বলেন, ‘ছোট ভাইয়েরা লাগিয়েছে। ব্যানার খুলে ফেলব।’




সাপের ছোবলে ১০ মিনিটেই গৃহবধূর মৃত্যু, রাসেলস ভাইপার আতঙ্ক!

বরিশাল অফিস :: বরগুনার আমতলীতে বিষধর সাপের ছোবলে রেজিমোন (৫০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।

বৃস্থপতিবার (২০  জুন) সকালে উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের মধ্য আঙ্গুলকাটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রেজিমোন আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের আর্শ্বেদ আলী হাওলাদারের স্ত্রী।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ফজরের নামাজ পড়ার উদ্দেশে বাড়ির পুকুরের ঘাটে ওজু করতে যান রেজমোন। এ সময় তার পায়ে সাপে ছোবল দেয়। তার চিৎকারে বাড়িতে থাকা স্বজনরা এগিয়ে এসে দেখতে পান রেজিমোন মাটিতে গরাগরি খাচ্ছেন এবং তার পায়ে সাপে কাটার চিহ্ন রয়েছে। মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে তিনি অজ্ঞান হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। স্বজনরা তাকে তাৎক্ষণিক পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত্যু ঘোষণা করেন।

আমতলী থানার ওসি কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, সাপের ছোবলে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে শুনেছি। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হবে।

এ ঘটনার পর থেকেই গুলিশাখালী ইউনিয়নের সর্বত্র এখন রাসেলস ভাইপার সাপের আতঙ্ক বিরাজ করছে। অতি অল্প সময়ে ওই গৃহবধূর মৃত্যু হওয়ায় গ্রামবাসীর ধারণা রাসেলস ভাইপার সাপের ছোবলেই তার মৃত্যু হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাতের পরে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে দেখা মিলছে বিষাক্ত রাসেলস ভাইপার সাপের। বিষধর ওই সাপ সম্পর্কে গ্রামেরর মানুষের মধ্যে কোনো ধারণা নেই বললেই চলে।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. চিন্ময় হাওলাদার বলেন, এ সময় একটু সাপের আতঙ্ক বেশি থাকে। তাই সবাইকে সাবধানে চলাফেরা করতে হবে।