পটুয়াখালীতে কৃষকের জালে আটকা পড়লো রাসেলস ভাইপার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এক কৃষকের জালে আটকা পড়েছে ৫ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি রাসেলস ভাইপার সাপ।

সোমবার (২৪ জুন) বেলা ১১ টায় কলাপাড়া উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নের বৌলতলী গ্রামের নুর হাওলাদার রাড়ির পুকুরে পাতা জালে সাপটি আটকা পড়ে। পরে ওই কৃষক সাপটি লাঠি দিয়ে আঘাত করে আহত অবস্থায় প্লাস্টিকের বড় কৌটায় জীবিত সংরক্ষণ করেন। এসময় সাপটিকে এক নজর দেখতে ভিড় জমায় ওই এলাকার উৎসুক জনতা।

কৃষক নুর হাওলাদার জানান, সাপটি আমাদের জালে আটকা পড়লে আমার স্ত্রী প্রথমে দেখে। পরে আমাকে জানালে আমি এটি উদ্ধারের চেষ্টা করি। এ সময় আমার স্ত্রীর কথায় সাপটির উপর লাঠি দিয়ে বেশ কয়েকটি আঘাত করি। তবে এটি এখনো জীবিত অবস্থায় আছে। এটিকে আমি একটি প্লাস্টিকের কৌটায় সংরক্ষণ করেছি। তবে বন বিভাগ বা কেউ সুস্থ করে এটিকে বনে অবমুক্ত করে দিতে চাইলে তাকে দিয়ে দিবো।

সাপটি দেখতে আশা নয়াকাটা গ্রামের শাহিন চৌকিদার জানান, এই প্রথমবারের মতো রাসেলস ভাইপার সাপ স্বচোখে দেখলাম। এর আগে ইউটিউব এবং ফেসবুকে ব্যাপক এই সাপের ছবি দেখেছি।

তারিকাটা গ্রামের ইউসুফ ভূইয়া জানান, আমি রাসেলস ভাইপার সাপ ধরা পড়েছে শুনে এখানে দেখতে আসলাম। সাপটি দেখতে সুন্দর হলেও এটি তীব্র বিষধর সাপ। আমার মতো এখানে শত শত মানুষ সাপটিকে এক নজর দেখতে এসেছে। তবে সাপটিকে মারা ঠিক হয়নি। এটা অনেকটা আহত, বাঁচানো যায় কিনা সন্দেহ রয়েছে। সাপটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বনে অবমুক্তের অনুরোধ জানাচ্ছি।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ৫জন বীরঙ্গণাকে সংবধর্না ও সম্মাননা প্রদান

অ্যানিমেল লাভারস অফ পটুয়াখালীর কলাপাড়া টিমের সদস্য বায়জিদ মুন্সী জানান, আমাদের একটি টিম ঘটনাস্থল যাচ্ছে। সাপটি উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বন বিভাগকে হস্তান্তর করবো।

তিনি আরও জানান, সবাইকে সাপ দেখে আতঙ্কিত না হয়ে আমাদের খবর দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। সর্পদংশনের শিকার হলে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করছি৷ এছাড়া সাপ ধরার রেস্কিউ টিমের সদস্যদের খবর দিলেও হবে। সাপ আসলে আমাদের জীব বৈচিত্র্যের জন্য অনেক উপকারী বন্ধু। যা খাদ্য শৃঙ্খলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।




পটুয়াখালীতে ৫জন বীরঙ্গণাকে সংবধর্না ও সম্মাননা প্রদান

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে জীবিত ৫ জন বীরঙ্গণাকে সংবধর্না ও সম্মাননা প্রদান করেছে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা চেষ্টা। মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদান রাখায় তাদের এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

সোমবার (২৪ জুন) সকালে পটুয়াখালী এলজিইডি মিলনায়তনে আয়োজিত সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চেষ্টার প্রেসিডেন্ট লায়লা নাজনীন হারুন।

আরো পড়ুন : বসত ঘরে দেখা মিলল রাসেলস ভাইপার – আতঙ্কে গলাচিপাবাসী

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ লতিফ হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বাদল ব্যানার্জী।

এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা আলেয়া বেগম, জামিলা বেগম, রিজিয়া বেগম, হাজেরা বেগম ও ছৈতুন বেগমকে উত্তরীয় পরিধান করান চেষ্টার সদস্যরা। উপহার হিসেবে তাদেরকে শাড়ি ও গাভী প্রদান করা হয়। এসব উপহার পেয়ে খুশি বীরাঙ্গনাগন।




হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও যুদ্ধ চলবে : নেতানিয়াহু




অ্যান্টিগায় নীরবতা নামিয়ে সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা




জায়েদ খানের সঙ্গে অভিনয় করতে চান টয়া




টিভিতে আজকের যত খেলা




ভোট চেয়ে দলীয় পদ হারালেন  ইসলামী আন্দোলন এর জয়েন্ট সেক্রেটারি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: দলীয় নির্দেশনা উপেক্ষা করে কলাপাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে একজন প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে দলীয় পদ হারিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা জয়েন্ট সেক্রেটারি ও ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা হেদায়েত উল্লাহ জিহাদী।

মঙ্গলবার (১৮ জুন) প্রেরিত ইসলামী আন্দোলনের জেলা সেক্রেটারি স্বাক্ষরিত এক অব্যাহতিপত্রের মাধ্যমে তাকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।

এর আগে ৪ জুন কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল তাকে।

অব্যাহতিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, হেদায়েত উল্লাহ জিহাদী ইসলামী আন্দোলন পটুয়াখালী জেলা শাখার ২০২৩-২৪ সেশনের জয়েন্ট সেক্রেটারিসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। এ সত্ত্বেও সদ্য অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের আমীরের কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করে কলাপাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে একজন প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেন তিনি। এ ব্যাপারে জেলা কমিটি তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলে তার জবাবে তিনি মিথ্যার আশ্রয় নেন এবং সন্তোষজনক জবাব প্রদানে ব্যর্থ হয়েছেন।

আরো পড়ুন : বসত ঘরে দেখা মিলল রাসেলস ভাইপার – আতঙ্কে গলাচিপাবাসী

নির্বাচনে প্রচারণা ও ভোট চাওয়ার বিষয় জানতে চাইলে হেদায়েত উল্লাহ জিহাদী বলেন, এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে জনগণকে নির্দিষ্ট একজন প্রার্থীকে ভোট দিতে বলেছি। তবে ষড়যন্ত্র করে আমাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয় ইসলামী আন্দোলনের পটুয়াখালী জেলা সেক্রেটারি মাওলানা নজরুল ইসলাম বলেন, দলীয় নির্দেশনা উপেক্ষা করে নির্বাচনে প্রচারণা ও ভোট চাওয়ার বিষয়ে সত্যতার প্রমাণ পাওয়ায় তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

মাওলানা হেদায়েত উল্লাহ জিহাদী গত বছরের ১৬ মার্চ অনুষ্ঠিত কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং দলের জেলা জয়েন্ট সেক্রেটারির দায়িত্বে ছিলেন।




বসত ঘরে দেখা মিলল রাসেলস ভাইপার – আতঙ্কে গলাচিপাবাসী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর গলাচিপায় বসত ঘরে ভয়ংকর বিষধর রাসেলস ভাইপার দেখে আতঙ্কে প্রহর গুণছে এলাকাবাসী। আর এই খবর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে উপজেলার সব ইউনিয়ন ও পৌরসভায়। ফলে সবার মুখে এখন একটাই কথা রাসেলস ভাইপার থেকে কীভাবে বাঁচা যায়।

গত শুক্রবার গলাচিপা পৌর শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ড গার্লস স্কুল রোডে মন্টু বালার বাসায় রাসেলস ভাইপার সাপ দেখতে পেয়ে ভয়ে ডাক চিৎকার দিলে এলাকাবাসী সাপটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলে। এ সময় স্থানীয়রা সাপটিকে মাটিচাপা দেন। এতে আতঙ্কিত হয়ে ঘরের বাহিরে অবস্থান করছেন এলাকার লোকজন। পরে স্থানীয়রা সাপটির ছবি তুলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে শনাক্ত করে যে সাপটি বিষাক্ত রাসেলস ভাইপার। বিশ্বের ভয়ংকর সাপের মধ্যে রাসেলস ভাইপার অন্যতম। আগে থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, ফিলিপাই, ভারত, নেপাল, ভুটানসহ বাংলাদেশের কিছু কিছু অঞ্চলে দেখে গেলেও বর্তমানে বাংলাদেশের সর্বত্র এর বিস্তার লাভ করে। এই সাপের কামড়ে শরীরের দংশিত অংশে বিষ ছড়িয়ে অঙ্গহানি, ক্রমাগত রক্তপাত, রক্ত জমাট বাঁধা, স্নায়ু বৈকল্য, চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়া, পক্ষাঘাত ও কিডনির ক্ষতিসহ বিভিন্ন ধরনের শারীরিক উপসর্গ দেখা দেয়। যার ফলে এই সাপে কামড়ালে অল্প সময়ের মধ্যে মানুষ মারা যাওয়া সম্ভাবনা থাকে।

এ বিষয়ে গলাচিপা বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, রাসেলস ভাইপার সাপ লোকালয়ে সাধারণত খুব কমই দেখা যায়। বন্যার পানিতে ভেসে আসতে পারে এই সাপ। বাচ্চা দেওয়ার কারণে হয়তো ওই সাপটি লোকালয়ে চলে এসেছে। তবে সবাইকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।




দশমিনায় দালালে জিম্মি ক্রেতাদের নাভিশ্বাস – হাত বদলেই মাছের দাম দ্বিগুণ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ও দালাল চক্রে জিম্মি নদী তীরবর্তী দশমিনা উপজেলার হাজার হাজার ক্রেতার চড়া দামে মাছ কিনতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠছে। শক্তিশালী সিন্ডিকেট ও বাজার ইজারাদারদের পকেট কাটার কৌশলে অসহায় আত্মসমর্পণ ক্রেতাদের। উপজেলা সদরের মাছ ব্যবসায়ীদের স্বেচ্ছাচারিতা আর অসদাচরণ এবং অপমান-অপদস্ত হওয়ার কারণে আত্মসম্মানের ভয়ে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না সাধারণ ক্রেতারা। রাজধানী ঢাকার চেয়ে তুলনামূলক নদী তীরবর্তী এলাকায় মাছের এমন চড়া দাম হতবাক করেছে সবাইকে। অন্যদিকে বাজার তদারকির দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতায় হতভম্ব সবাই।

সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলা সদরের মাছ বাজার থেকে কাটাখালী জেলে পল্লির দূরত্ব ৩ কিলোমিটার। এ ৩ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে দালালের হাত ধরে উপজেলা সদরে মাছ এলে তার দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে যায়। আর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদীতে মাছ শিকার করা জেলেরা পানির দামে মাছ বিক্রি করেন ৩ শ্রেণির পাইকারের কাছে।

এরপর আবার আড়তদারদের দাদনের কাছে জিম্মি জেলেদের ভাগ্য বন্দি রয়ে যায় ওই দাদনের খাতায়। দীর্ঘ বছর জেলে পেশায় থেকেও ভাগ্য বদল দূরের কথা, ঋণের বোঝা নিয়ে মারা যেতে হয় জেলেদের।

অন্যদিকে বরিশাল বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে দরিদ্রতম এ উপজেলার মানুষের কাছে মাছ-ভাত দিন দিন যেন বিলাসিতায় পরিণত হচ্ছে।

আরো পড়ুন : জামিন বেরিয়েই বিচারকের নামে বেফাঁস মন্তব্য বাউফলের আলোচিত ইউপি চেয়ারম্যানের

দশমিনা সদরের মাছ বাজার ঘুরে দেখা যায়, মোটামুটি সামান্য একটু বড় সাইজের চিংড়ি ৮০০ থেকে ১২০০, জাটকা ১২০০, মাঝারি ১৬০০, পোয়া ৮০০ ও তপুসি (ছুড়ড়া) ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে চাষ করা পাঙাশ আড়াইশ আর তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা বা তার বেশি দরে।

কাটাখালী জেলে পল্লিতে গিয়ে কথা হয় মো. আব্দুর রাজ্জাক খাঁ, জয়নাল সিকদার ও মো. মিজানুর রহমান হাওলাদারের সঙ্গে।
তারা জানান, মোটামুটি সামান্য একটু বড় সাইজের চিংড়ি ৫০০, জাটকা ৬০০, পোয়া ৪০০ ও তপুসি (ছুড়ড়া) ৩০০ টাকা কেজি দরে দালাল, খুচরা বিক্রেতা আর আড়তদারদের কাছে বিক্রি করছেন তারা। অন্যদিকে চাষ করা পাঙাশ আর তেলাপিয়া ১২০ টাকা কেজি পাইকারি বিক্রি হচ্ছে।
তারা আরও জানান, ‘জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাছ ধরে আমরা ন্যায্য দাম পাই না। অথচ দালালরা জেলেদের থেকে মাছ কিনে তা প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি করছেন। এর মধ্যে আড়তদাররা প্রতিকেজি মাছ ওজনের চেয়ে ১০০ গ্রাম বেশি নিয়ে এক কেজির দাম দিচ্ছেন।’

মো. আকবর নামে এক ক্রেতার দাবি, বাজার তদারকি আর দশমিনা মাছ বাজারে গড়ে ওঠা একাধিক সিন্ডেকেটের কারণে মাছের বাজার চড়া। সবচেয়ে দরিদ্রতম উপজেলায় মাছের বাজার এমন চড়া হওয়ায় গরিবের পাঙাশ আর তেলাপিয়াই একমাত্র ভরসা। জেলেদের সরাসরি বাজারে মাছ বিক্রির সুযোগ না থাকায় হাত বদলেই মাছের দাম দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে।

পটুয়াখালী ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. শাহ শোয়াইব মিয়া বলেন, দশমিনায় যখন অভিযান পরিচালনা করা হবে, তখন বিক্রেতাদের চড়া দামে মাছ বিক্রি না করার জন্য সতর্ক করা হবে।




ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটিতে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলা