নেতানিয়াহুকে সতর্কবার্তা ইসরায়েলি দুর্নীতি দমন সংস্থার




আফগানদের বিপক্ষে যেমন হতে পারে বাংলাদেশের একাদশ




৩ চিকিৎসক দিয়ে চলছে আড়াই লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা

বরিশাল অফিস :: জেলার আমতলী উপজেলায় ৫০ শয্যার হাসপাতালে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ ৩১টি পদের মধ্যে মাত্র তিনজন চিকিৎসক রয়েছে। ২৮টি চিকিৎসকের পদ শূন্য থাকায় উপজেলায় আড়াই লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আমতলী উপজেলা সদরে ৫০ শয্যায় হাসপাতাল একটি, কুকুয়া ইউনিয়নের আজিমপুর বাজারে ১০ শয্যার হাসপাতাল একটি এবং আঠারগাছিয়া ইউনিয়নের গাজীপুর বাজারে ও গুলিশাখালী ইউনিয়নের গুলিশাখালী বাজারে একটি করে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। এসব হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ মোট ৩১ জন ডাক্তারের পদ রয়েছে। এর মধ্যে একজন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, একজন জুনিয়র কনসালটেন্ট সার্জন, একজন জুনিয়র মেডিসিন কনসালটেন্ট, একজন গাইনি কনসালটেন্ট, একজন ডেন্টাল সার্জন, একজন অঞ্জানবিদ, জুনিয়র কনসালটেন্ট নাক, কান, গলা, চোখ ও চর্ম রোগের প্রতিটি পদের জন্য মোট ছয়জন, একজন আরএমও ও দুইজন মেডিকেল অফিসার থাকার কথা।

বর্তমানে ৩১ জন চিকিৎসকের মধ্যে দুইজন মেডিকেল অফিসার ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আছেন আর বাকী ২৮টি চিকিৎসকের পদ দীর্ঘ দিন খালি রয়েছে। দুইজন মেডিকেল অফিসার গুলিশাখালী উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও হলদিয়া ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের দুইজন চিকিৎসক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি ভিত্তিতে আনা হয়েছে প্রেষণে।

আমতলী হাসপাতালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৯ ফেব্রুয়ারি সকালে ডা. ফায়জুর রহমান নামে একজন আবাসিক মেডিকেল অফিসার যোগদান করেন। যোগদানের পর ওই দিন বিকেল থেকেই এখন পর্যন্ত কর্মস্থলে তিনি অনুপস্থিত রয়েছেন। কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কারণ জানতে চেয়ে তাকে দু’দফা কারণ দর্শাও নোটিশ দেওয়াসহ তার বেতন ভাতা বন্ধ রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে তার মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অফিসিয়াল ও প্রশাসনিক কাজের জন্য সব সময় ব্যস্ত থাকেন। এ অবস্থায় দুইজন মেডিকেল অফিসার দিয়ে ৫০ শয্যায় হাসপাতালের বহি:বিভাগ, আন্ত:বিভাগ ও জরুরি বিভাগ চালানো মোটেই সম্ভব নয়। এ অবস্থায় অনেক রোগী চিকিৎসাসেবা না পেয়ে আমতলী হাসপাতালে এসে ফেরত যাচ্ছেন।

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে রাব্বি গত বৃহস্পতিবার দুপুরে এসেছিলেন আমতলী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে। কিন্তু চিকিৎসক সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবা না পেয়ে চলে যান পটুয়াখালী জেলারেল হাসপাতালে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, আগের মত হাসপাতালে এখন আর তেমন রোগী নেই। বহি:বিভাগের অধিকাংশ চিকিৎসকের রুম তালাবদ্ধ। রোগীরা এসে ঘুরে ফিরে আবার চলে যাচ্ছে। এসময় কথা হয় হলদিয়া থেকে আসা রুশিয়া নামের ষাটোর্ধ্ব এক রোগীর সঙ্গে তিনি জানান, ‘শরীর খাউজায় (চুলকায়) এইর লইগ্যা আইছিলাম ডাক্তার দেহাইতে। হুনলাম এহানে কোনো ডাক্তার নাই। মোরা গরীব মানুষ মোগো হগল জায়গায় মরণ দশা। টাহা নাই এহন কই যামু ডাক্তার দেহাইতে’।

এদিকে কুকুয়ার আজিমপুর বাজারে ১০ শয্যার হাসপাতাল, গাজীপুর ও গুলিশাখালী উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে কোনো চিকিৎসক না থাকায় চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

অন্যদিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিসংখ্যানবিদ, ক্যাশিয়ার, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, কার্ডিওগ্রাফার, স্টোর কিপার, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, কম্পাউন্ডারসহ দ্বিতীয় শ্রেণির ৯০টি পদের মধ্যে ৬০টি পদ এবং তৃতীয় শ্রেণির ওয়ার্ডবয়, আয়া, মালী, বাবুর্চি নিরাপত্তা প্রহরী এবং পরিচ্ছন্নকর্মীসহ ৩৩ পদের মধ্যে ১৯টি পদ প্রায় ৩ বছর ধরে খালি রয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে এসব পদ খালি থাকায় হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপত্তায় মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। অন্যান্য পদের কর্মচারী না থাকায় হাসপাতালের প্রশাসনিক কাজেও মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. চিন্ময় হাওলাদার জানান, চিকিৎসক সংকটের কথা জানিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে এবং জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসক চাওয়া হয়েছে। চিকিৎসক পাওয়া গেলে আশা করি এ সংকট থাকবে না।

বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. প্রদীপ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, আমতলী হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটের কথা স্বাস্থ্য মহাপরিচালককে জানানো হয়েছে এবং জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসক চাওয়া হয়েছে।




ভোলা নৌ থানায় ওসির রুমেই পুলিশ কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ

বরিশাল অফিস :: ভোলা সদর উপজেলা নৌ-থানা পুলিশের ওসির রুমেই পুলিশের এক কর্মকর্তা পিস্তলের গুলিতে বিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় সর্বত্র চলছে আলোচনা ও সমালোচনা। উপজেলার পূর্ব ইলিশা নৌ-থানার মধ্যে নিজের পিস্তল থেকে বের হওয়া গুলিতে আহত হন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. মোক্তার হোসেন মিঞা (৪৫)।

তিনি বরিশাল শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে তিনি এখনো শঙ্কামুক্ত নন। তার পেটের সামনে দিয়ে ঢুকে, পেছন দিয়ে বের হয়ে গুলি হাতে লেগেছে। শেবাচিম হাসপাতালে টানা ৫ ঘন্টা তার অস্ত্রোপচার হয়। অস্ত্রোপচার শেষে চিকিৎসক জানিয়েছেন এখনো মোক্তার হোসেন মিঞা শঙ্কামুক্ত নন।

সোমবার ১ টায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নৌ-পুলিশের বরিশাল অঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. কাফিল উদ্দিন। তিনি জানান, মোক্তার হোসেন মিঞা গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর প্রথমে তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাৎক্ষণিক তাকে বরিশাল শেরে-বাংলা (শেবাচিম) হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। রাত ৯ টার দিকে গুলিবিদ্ধ স্থানে তার অস্ত্রোপচার শুরু হয়। প্রায় ৫ ঘন্টা অস্ত্রোপচার শেষে রাত ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে অপারেশন থিয়েটার থেকে বের করা হয়। এরপর তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) রাখা হয়। এখনো তার জ্ঞান ফেরেনি। চিকিৎসক জানিয়েছে, তিনি এখনো শঙ্কামুক্ত নন। সকালে তাকে আরও ৫টি টেস্ট দেওয়া হয়েছে। এখন সেই পরীক্ষাগুলো করানো হচ্ছে।

পুলিশের এ কর্মকর্তা আরো জানান, মোক্তার হোসেন মিঞাসহ আরও দুই পুলিশ কনস্টেবলের ডিউটি পড়েছে চট্টগ্রামের কাপ্তাই লেকে। এটি নিয়মিত ডিউটি। নৌ-পুলিশকে মাঝেমধ্যে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় গিয়ে ডিউটি করতে হয়। কয়েকদিন ডিউটি করে তিনি সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে পুনরায় ইলিশা নৌ-থানায় চলে আসার কথা ছিল। তারই ধারাবাহিকতায় রোববার বিকেলে তিনিসহ তার সঙ্গীয় ফোর্স কাপ্তাইয়ের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময় নিজেদের নামে ইস্যুকৃত অস্ত্র বুঝে নেয়। মোক্তার হোসেন মিঞার অস্ত্রটি ছিল তারাশ ৯ এমএম পিস্তল। টেবিল থেকে অস্ত্রটি নেওয়ার সময় ট্রিগারে হাত লেগে একটি মিস ফায়ার হয়ে যায়। গুলিটি তার পেটের ডান পাশ দিয়ে ঢুকে, কোমড়ের কাছাকাছি বাম পাশ হয়ে পেছন দিয়ে বের হয়ে যায়। এতে তার পেটের মধ্যে ক্ষত সৃষ্টি হয়। যেহেতু গুলিটি এক পাশ দিয়ে ঢুকে, আরেক পাশ দিয়ে বের হয়েছে। সেহেতু বিষয়টি খুবই জটিল।

চিকিৎসক বলছে, এখনো তাকে শঙ্কামুক্ত বলা সম্ভব না। বাকিটা আল্লাহর হাতে। ডিউটি সংক্রান্ত কোনো বিরোধ নিয়ে থানার ওসি অথবা অন্য কারো সঙ্গে মনোমালিন্যর জেরে এ ঘটনা ঘটেছে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। এটি একটি মিস ফায়ার। এছাড়া অন্য কিছু না। যে পিস্তল থেকে গুলি বের হয়েছে, সেটি কেন লোড করা ছিল, জানতে চাইলে কফিল উদ্দিন বলেন, পিস্তলটি লোড কিভাবে-কেন হয়েছে, তা ঠিক এ মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। সেফটি লক করা থাকলে ট্রিগারে ভুলবশত চাপ পড়লেও গুলি বের হয়ে আসবে না। তারপরও আসলে ঘটনাটি কিভাবে ঘটল-কেন ঘটল এটি তদন্তের বিষয়। এ ঘটনায় অবশ্যই তদন্ত হবে। তদন্ত শেষে আপনার এসব প্রশ্নের উত্তর দেয়া যাবে।

উল্লেখ, গতকাল রোববার বিকেল ৪টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা নৌ-থানার মধ্যে নিজের নামে ইস্যু করা তারাশ পিস্তল থেকে গুলিবিদ্ধ হন ওই থানায় কর্মরত পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মোক্তার হোসেন মিঞা। তিনি দুইবছর ধরে ওই থানায় কর্মরত। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাই।




গৌরনদীতে ট্রাকচাপায় ভ্যানচালক ও মাছ ব্যবসায়ী নিহত

বরিশাল অফিস :: ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর এলাকায় সোমবার সকালে বরিশালগামী ট্রাক চাপায় ভ্যানচালক ও মাছ ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। ট্রাকটি আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় হাইওয়ে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে ।

বরিশাল গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রসুল জানান, গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের সাকোকাঠি গ্রামের মৃত চিত্ত রঞ্জন দাসের পুত্র বাটাজোর বন্দরের মাছ ব্যবসায়ী বরুন চন্দ্র দাস (৫০) সোমবার ভোরে ভ্যানযোগে মাছ নিয়ে বাজারে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বাটাজোর নামক স্থানে পৌছলে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বরিশালগামী একটি ট্রাক ভ্যানি কে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই মাছ ব্যবসায়ী বরুন চন্দ্র দাস (৫০) ও ভ্যানচালক বাবুগঞ্জ উপজেলার আগরপুর গ্রামের মৃত সিরাজ উদ্দিন প্যাদার ছেলে আয়নাল প্যাদা (৬০) নিহত হন।

খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রসুল বলেন, পুলিশ ট্রাকটি আটক করেছে। এ ঘটনায় হাইওয়ে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে ।




শেবাচিম হাসপাতাল পরিচালকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

বরিশাল অফিস :: সরকারি সম্পত্তি থেকে এক অসহায় পরিবারকে উচ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের বিরুদ্ধে। সোমবার দুপুরে নগরীর সদর রোডে মানববন্ধন করে ভুক্তভোগী পরিবার।

ভুক্তভোগী পরিবারটি জানায়, ২০১৬ সালে ভূমিহীন হিসেবে খাস জমির আবেদন করেও পাননি তারা। পরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পিছনের কর্নকাঠি এলাকার খাস জমিতে একটি ঘর করেন। কিন্তু ২০২১ সালে ওই জমির ১৯০ শতাংশ ক্রয় করেছেন দাবি করে পুলিশ দিয়ে শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক সাইফুল ইসলাম উচ্ছেদ করেন তাদের।

পুলিশ দিয়ে হয়রানির পাশাপাশি ফাঁড়িতে ডেকে নিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর রাখা হয়। এরপর থেকে ভাড়া বাসায় থাকেন তারা। সর্বশেষ গত ২৩ জুন ভুক্তভোগী সবুজ তার বৃদ্ধ মাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে যায়। কিন্তু তাকে ভর্তি না রেখে ফিরিয়ে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এসব ঘটনায় সাইফুল ইসলামের বিচারের দাবি করেন তারা। তবে এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি অভিযুক্ত পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলামের।




প্রাণ ফিরেছে লঞ্চে: ঈদের এক সপ্তাহ পরও ফাঁকা নেই ডেক ও কেবিন

বরিশাল অফিস :: পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে প্রাণ ফিরেছে বরিশাল-ঢাকা নৌ বন্দরে। ঈদের প্রায় এক সপ্তাহ পরও ফাঁকা নেই কোনো লঞ্চের ডেক ও কেবিন। এমনকি আগামী ২৮-২৯ জুন পর্যন্ত অগ্রীম বুকিং হয়েছে সব লঞ্চের কেবিন।

সোমবার (২৪ জুন) বিকেলে বরিশাল নৌবন্দর ঘুরে ৮টি লঞ্চ ঢাকার পথে যাত্রার জন্য প্রস্তুত পাওয়া গেছে। পারাবত, সুন্দরবন, অ্যাডভেঞ্চার, মানামিসহ ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকে ৮ থেকে ১২টি লঞ্চ নিয়মিত চলাচল করছে বলে জানান বিআইডব্লিউটিএ’র বরিশালের কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক।

তিনি জানান, ঢাকা থেকেও বরিশালের উদ্দেশ্যে ৮ টি লঞ্চ ছেড়ে আসবে। এই মুহূর্তে মোট ১৬টি লঞ্চ রোটেশন করা হয়েছে। প্রয়োজনে এ সংখ্যা আরো বাড়বে। তবে ঢাকা অংশে যাত্রীচাপ তুলনামূলক অনেক কম। তাই সেখানে লঞ্চ কম রাখা হয়েছে। এর আগে ১ জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত বরিশাল নৌ বন্দর থেকে ২টি করে মোট চারটি লঞ্চ রোটেশন করা হয়েছিল। কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে ঢাকা সদরঘাটে চাপ বাড়তে শুরু করায় গত ১৫ জুন শুক্রবার থেকে ১০টি থেকে ২০টি লঞ্চ রোটেশন করা হয়। ১৬ জুন থেকে এ সংখ্যা আরো বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানান আব্দুর রাজ্জাক।

এদিকে ঈদের পাঁচ-ছয় দিন পরেও টিকেট কাউন্টারগুলো ঘুরে জানা যায়, আগামী ২৭ জুন পর্যন্ত কোনো লঞ্চেই কেবিন ও সোফা ফাঁকা নেই। সুন্দরবন নেভিগেশন কোম্পানির পরিচালক মো. আকতার হোসেন জানান, বরিশাল রুটে তিনটি, ঝালকাঠি দুটি ও পটুয়াখালী দুটি মোট সাতটি সুন্দরবন কোম্পানির লঞ্চ ঈদ উপলক্ষে চলাচল করছে। একটিতেও ২৯ জুন পর্যন্ত কোনো কেবিন ফাঁকা নেই।

সোমবার সন্ধ্যার আগেই বরিশাল ঘাটে থাকা ৮টি লঞ্চেরই ডেক পরিপূর্ণ চোখে পড়ে। দুএকটিতে কিছুটা বিছানা পাতার সুযোগ থাকলেও কেবিন ও সোফা প্রায় সবই ফাঁকা ছিলো।

এ সময় চরকাউয়া এলাকার যাত্রী মনিরুল ইসলাম বলেন, লঞ্চ মালিক কর্তৃপক্ষ ভাড়াটা ৩০০ টাকায় সীমাবদ্ধ রাখলে তাদের যাত্রীর অভাব হবে না।

যদিও অ্যাডভেঞ্চার লঞ্চের সুপারভাইজার বেলাল হোসেন বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে সরকার নির্ধারিত ভাড়া সাড়ে চারশত টাকা। আমরা তার চেয়েও কম নিচ্ছি। কিন্তু কেবিন বেশিরভাগ ফাঁকা থাকলে আমাদের চলাচল অসম্ভব।

শুভরাজ এর মালিকপক্ষের প্রতিনিধি ও সহকারী সুপারভাইজার আব্দুর রাজ্জাক জানালেন, পদ্মা সেতুর কারণে গত এক বছর ধরেই লঞ্চে যাত্রী শূন্যতা চলছে। অবস্থা এমন হয়েছে যে গত প্রায় তিনমাস ধরে মালিক সমিতি ও বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা বৈঠকে রোটেশন করে দুটি করে লঞ্চ চালু রাখতে বাধ্য হয়েছেন।

একই কথা বললেন মানামি সুপারভাইজার শাহদাত হোসেন শুভ। তিনি বলেন, তেলের দাম না কমালে আগামীতে হয়তো অনেক লঞ্চ ব্যবসা গুটিয়ে নেবে। প্রতিটি ট্রিপে একটি লঞ্চের চার লাখ টাকা তেল বাবদ বরাদ্দ রাখতে হয় বলে জানান তিনি।

এ সময় লঞ্চ মালিক সমিতির সহসভাপতি ও সুন্দরবন শিপিং এর চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা লোন আছে, শ্রমিকদের বেতন, রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, সবমিলিয়ে প্রচণ্ড ক্ষতির মুখে আছে লঞ্চ ব্যবসা। ঈদ উপলক্ষে কিছুটা অবস্থায় পরিবর্তন ঘটলেও তা শুধু সবমিলিয়ে এক কি দুই সপ্তাহ। এরপর কি হবে?

রিন্টু আরো বলেন, এভাবে রোটেশন করে করে কতদিন চলা সম্ভব? এই ঈদ-পার্বণে আগে যেখানে ৩০-৪০টি লঞ্চ প্রতিযোগিতা দিত, সেখানে এখন সর্বোচ্চ ৭-৮টি থেকে ১৬টি লঞ্চ চলাচল করে। এ থেকেই লঞ্চ ব্যবসার ভবিষ্যৎ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তেলের দাম কমার পাশাপাশি সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন সুন্দরবন নামের ১৫-২০টি লঞ্চের এই মালিক।

বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমোডর আরিফ আহমেদ মোস্তফা জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে নৌ যান চলাচলে কোনো বাধানিষেধ রাখা হয়নি। রুট পারমিট আছে এমন সব লঞ্চই ঈদ উপলক্ষে চলাচল করতে পারছে এবং করছেও।




ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে পাল্টাপাল্টি মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দুমকীতে সরকারি জনতা কলেজে সদ্যঘোষিত ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে পাল্টাপাল্টি আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ জুন) সকাল ১০টার দিকে সদ্যঘোষিত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অস্বীকৃতি জানিয়ে সহ সভাপতি মোঃ আবু সাইদ হাওলাদার ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান সুধা’র নেতৃত্বে কলেজ ক্যাম্পাস থেকে একটি আনন্দ মিছিল বের হয়ে উপজেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ক্যাম্পাসে এসে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

অপরদিকে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ কমিটির সভাপতি সানাউল্লাহ হিরা ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ মঈন সিকদারের নেতৃত্বে আরেকটি আনন্দ মিছিল উপজেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ক্যাম্পাসে এসে মিষ্টি বিতরণ করে।

এ কমিটিকে সাধুবাদ জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাধারন সম্পাদক শাহ জাহান আকন সেলিম, শ্রীরামপুর ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি মোঃ নাসির উদ্দিন মৃধা, সাধারণ সম্পাদক মোঃ খলিলুর রহমান খান, দুমকী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ সহিদুল আলম হাওলাদার, সাধারন সম্পাদক রাকিব হোসেন মৃধা প্রমুখ।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে কৃষকের জালে আটকা পড়লো রাসেলস ভাইপার

জানতে চাইলে পটুয়াখালী জেলা শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ তানভীর হাসান আরিফ বলেন, স্বঘোষিত পরিষদের কোন ভিত্তি নেই। যেখানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক সহ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এ কমিটিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

পটুয়াখালী জেলা শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, গভীর যাচাই বাছাই করে এ কমিটি দেয়া হয়েছে। সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ডে যদি কেউ লিপ্ত হয় তবে সে দায় তাকেই নিতে হবে।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ জুন সানাউল্লাহ হিরাকে সভাপতি ও মো: মঈন সিকদারকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে আগামী ১ বছরের জন্য সরকারি জনতা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করে পটুয়াখালী জেলা শাখা ছাত্রলীগ।




বাউফলে খাল দখলমুক্ত না করেই ফিরে গেলেন ম্যাজিস্ট্রেট

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কেশবপুর বাজার খাল দখলমুক্ত না করেই ফিরে গেলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (২৪ জুন) অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কেশবপুর ডিগ্রী কলেজ সংলগ্ন বাজার খালটি দখল করে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী দোকানঘর নির্মাণ করেন। ওই প্রভাবশালীদের একাধিকবার নোটিশ দেওয়ার পরও অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় সোমবার উচ্ছেদ অভিযান চালায় পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের একটি টিম। উচ্ছেদ অভিযানের নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছেনমং রাখাইন। তিনি বুল ডোজার দিয়ে ৭টি স্থাপনা গুড়িয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত রহস্যজনক কারণে খালের উপর থাকা দুইটি দোকান উচ্ছেদ না করেই তিনি পটুয়াখালী ফিরে যান। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে কৃষকের জালে আটকা পড়লো রাসেলস ভাইপার

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কলেজের এক শিক্ষক বলেন, খালটির পাশে থাকা ৭টি স্থাপনা গুড়িয়ে দেওয়া হল। অথচ খালের উপরে থাকা মাইনুল তালুকদার ও রিপন তালুকদারের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়নি। এটা কেমন বিচার হল? নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর এভাবে পক্ষপাতিত্ব করার ঠিক হয়নি। দ্রুত ওই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে খালটি দখলমুক্ত করার দাবি করেন তিনি।

এ ব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছেনমং রাখাইন বলেন, শিগগিরই আবার ওই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।




সাপে কাটা রোগীকে অভয় দিন, নড়াচড়া করতে দেবেন না

 

 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  দেশে রাসেলস ভাইপারসহ বিভিন্ন সাপের প্রকোপ, অ্যান্টিভেনম ইনজেকশনের প্রয়োজনীয়তা, প্রাপ্তি ও প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে  কথা বলেন টক্সিকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের সভাপতি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক এবং মেডিসিনের অধ্যাপক ডা. এম এ ফয়েজ। বিশেষ এ সাক্ষাৎকার।

প্রশ্ন: রাসেলস ভাইপার নিয়ে জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। আপনি দীর্ঘদিন সর্প দংশন ও প্রতিকার নিয়ে জনসচেতনতা তৈরি এবং গবেষণামূলক কাজ করছেন। সম্প্রতি সারাদেশে সাপের কাটা নিয়ে যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে, এ বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?

উত্তর: রাসেলস ভাইপার নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিবেদন, তথ্য-উপাত্ত আমার চোখেও পড়েছে। এ সাপ সম্পর্কে কিছু কিছু তথ্য সঠিক, আবার কিছু বিভ্রান্তিমূলক তথ্যও ছড়িয়ে পড়ছে।

রাসেলস ভাইপার সাপটি নতুন কোনো সাপ নয়। যারা কৃষিকাজ, বাগানবাড়ি কিংবা মাছ ধরাসহ বিভিন্ন পেশায় জড়িত তাদের কাছে এ সাপটি চন্দ্রবোড়া/উলুবোড়া নামে পরিচিত। বিগত বছরগুলোতেও এ সাপের দংশনে দুর্ভাগ্যবশত বেশ কিছু সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত কিংবা মারা গেছেন। তবে এটা ঠিক অন্য বছরের তুলনায় এ বছর রাসেলস ভাইপারে দংশনের কথা বেশি শোনা যাচ্ছে।

প্রশ্ন: কোন সাপের দংশনে রোগীর মৃত্যু হচ্ছে তা নির্ণয়ের ব্যবস্থা কি আমাদের রয়েছে? তাছাড়া দেশে কোন কোন অঞ্চলে সাপের প্রকোপ বেশি রয়েছে?

উত্তর: আমাদের দেশে সাপ সংক্রান্ত সেই অর্থে বড় কোনো জরিপ নেই অর্থাৎ দেশে মোট কয় ধরনের সাপ রয়েছে, কোন সাপ কোথায় আছে, কোন মানুষকে কোন সাপ দংশন করেছে সেটি নিশ্চিত করে বলা যায় না।

তবে সর্বশেষ ২০২২ সালে পরিচালিত জাতীয় জরিপ অনুসারে দেশে প্রতি বছর সাপের কামড়ে আনুমানিক ৪ লাখ মানুষ আক্রান্ত হন ও দুর্ভাগ্যবশত প্রায় সাড়ে ৭ হাজার মানুষ মৃত্যবরণ করেন।

দেশের সর্বত্রই কমবেশি সাপ থাকলেও জাতীয় জরিপ অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি সাপে কাটার ঘটনা খুলনা ও বরিশাল বিভাগে। এরপর রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় সাপের দংশন বেশি হয়।

প্রশ্ন: তাহলে চিকিৎসা কীভাবে দেওয়া হচ্ছে? রাসেলস ভাইপার দংশন করেছে কি না তা কীভাবে নিশ্চিত হওয়া যাবে

উত্তর: শুধু রাসেলস ভাইপারই নয়, যে কোনো ধরনের বিষাক্ত সাপের দংশনে কেউ আক্রান্ত হয়েছেন কি না তা চিকিৎসক উপসর্গ দেখে সিদ্ধান্ত নেন। তবে রাসেলস ভাইপার দংশনে বিষক্রিয়া উপসর্গের সঙ্গে চিকিৎসকরা ২০ ডব্লিউ বি. সি. টি (২০ মিনিট হোল ব্লাড ক্লটিং টেস্ট) নামক এক ধরনের রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে বিষক্রিয়া হয়েছে কি না সিদ্ধান্ত নেন।

বিষাক্ত রাসেলস ভাইপার দংশন করলে রক্ত জমাট বাঁধায় ব্যাঘাত ঘটে এবং ২০ ডব্লিউ বি. সি. টি পজিটিভ আসে অর্থাৎ রাসেলস ভাইপার দংশন করেছে মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া যায়। এ পরীক্ষায় উন্নত যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয় না। উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা এটি সহজেই শনাক্ত করতে পারেন।

প্রশ্ন: আমাদের দেশে অ্যান্টিভেনম ইনজেকশনের সহজলভ্যতা ও দাম কেমন? এছাড়া রাসেলস ভাইপার দংশনের জন্য কি পৃথক কোনো ইনজেকশন ব্যবহার করতে হয়?

উত্তর: আমাদের দেশে যে অ্যান্টিভেনমটি ব্যবহৃত হয় এটি চার প্রজাতির সাপের বিষ থেকে তৈরি হয়। সাপগুলো হলো কোবরা, ক্রেইট, এস এ ডব্লিউ স্কেইলড ভাইপার এবং রাসেলস ভাইপার।

বাংলাদেশে যে কোনো বিষাক্ত সাপের দংশনে (কোবরা, ক্রেইট এবং রাসেলস ভাইপার) ভারতের মতো একই ইনজেকশন ব্যবহৃত হয়। রাসেলস ভাইপার দংশনের চিকিৎসার জন্য পৃথক ইনজেকশন এখন নেই।

দেশে যে অ্যান্টিভেনম সরকারিভাবে কেনা হচ্ছে, তার এক ডোজের (১০ ভায়াল) ইনজেকশনের দাম প্রায় ১৪ হাজার টাকা। কয়েক বছর আগেও এ ইনজেকশনের দাম ছিল ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। ফলে একজন সাপে কাটা রোগীর ইনজেকশনের জন্য সরকারের ১৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়, যা সরকারিভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে।

উপজেলা, জেলা ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চাহিদা অনুসারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি (এনসিডিসি) ও ই.ডি.সি.এল (এসেনশিয়াল ড্রাগ কোম্পানি লিমিটেড) এর মাধ্যমে অ্যান্টিভেনম কেনা হয়।

প্রশ্ন: সাপে কাটা থেকে বাঁচতে সতর্কতামূলক কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে?

উত্তর: সাপের দংশন থেকে বাঁচতে সরকারিভাবে মার্চ ও এপ্রিল থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করতে হবে। বিশেষ করে বর্ষাকালে সাপ আশ্রয়ের খোঁজে বাসা-বাড়িতে ঢুকে পড়ে। তবে আশার কথা হলো সব সাপই কিন্তু বিষধর নয়। দেশে সর্প দংশনের মাত্র ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বিষধর সাপের দংশন।

সাপের কামড় থেকে বাঁচতে অন্যতম উপায় হচ্ছে সাবধানে হাঁটা (আলো, লাঠি ও বুট জুতা ব্যবহার), চৌকি-মশারি (খাটের ওপরে মশারি ব্যবহার করে শোয়া), মেঝেতে না শোয়া, বসতবাড়ি, প্রাণী ও খাবার সামগ্রী উন্মুক্ত না রাখা। কারণ এসব ওদের আকর্ষণ করে। ফলে সাপ ঢুকতে পারে।

এছাড়া বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখা, শস্য পাহারা ও মাছ ধরায় সাবধানতা, স্তূপাকৃত ও জমাকৃত সামগ্রী সাবধানে নাড়াচাড়া করা ও গর্তে হাত দেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

প্রশ্ন: সাপ কামড়ালে জরুরি প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা ও নিয়মাবলি কী কী?

উত্তর: সাপে কাটা রোগীকে অভয় দিয়ে আশ্বস্ত করতে হবে। পায়ে দংশন করলে বসে যেতে হবে, হাঁটা যাবে না। হাতে দংশন করলে হাত নাড়াচাড়া করা যাবে না। যত দ্রুত সম্ভব দংশিত অঙ্গ থেকে আংটি, চুড়ি, তাবিজ ও তাগা খুলে ফেলতে হবে।

দংশিত অঙ্গ হাড় ভেঙে গেলে যেভাবে স্প্লিন্টের সাহায্যে নড়াচড়া প্রতিরোধ করা হয় সেভাবে কাপড় ও কাঠ বা বাঁশের কঞ্চি দিয়ে পেঁচিয়ে নিতে হবে, যাতে গিঁরা নড়াচড়া না করে। গিঁরা নড়াচড়ায় মাংসপেশির সংকোচনের ফলে বিষ দ্রুত রক্তের মাধ্যমে শরীরে ছড়িয়ে গিয়ে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

তাছাড়া দংশিত স্থানে রক্তক্ষরণ হতে থাকলে চাপ দিয়ে ধরে রাখতে হবে। যথাসম্ভব দ্রুত মোটরযানে রোগীকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

রোগীকে যাত্রাপথে একপাশে কাত করে রাখতে হবে। যদি শ্বাস-প্রশ্বাস না থাকে তাহলে মুখে বায়ু ঢোকার নল ব্যবহার করতে হবে, প্রয়োজন হলে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা করতে হবে।

সাপ মারবেন না। সাপ প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করে ও মানুষের উপকার করে। তবে কেউ সাপ মেরে থাকলে শনাক্তকরণের জন্য সাপটি হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারেন।

প্রশ্ন: বিষধর সাপে কাটার লক্ষণগুলো কী কী?

উত্তর: দংশিত স্থান দ্রুত ফুলে যাওয়া, ফোসকা পড়া, চামড়ার রং পরিবর্তন, কালচে হওয়া, ব্যথা, পচন ধরা, ক্রমাগত রক্তপাত, ঘুম ঘুম ভাব, চোখের উপরের পাতা ভারী হওয়া বা বুজে আসা, চক্ষু গোলক নড়াচড়া করতে না পারা, ঝাপসা দেখা বা একটি জিনিসকে দুটি দেখা, জিহ্বা জড়িয়ে আসা, কথা বলতে অসুবিধা হওয়া, ঢোক গিলতে অসুবিধা হওয়া, খাওয়ার সময় নাক দিয়ে পানি আসা, হাঁটতে অসুবিধা হওয়া, হাত ও পা অবশ হওয়া, ঘাড় দুর্বল হওয়া, কালো রঙের প্রস্রাব হওয়া ও প্রস্রাব কমে যাওয়া।

প্রশ্ন: কাউকে সাপে কাটলে পরে কী কী করা উচিত নয়?

উত্তর: দংশিত অঙ্গে কোনো রকম গিঁট না দেওয়া, দংশিত স্থানে কাঁটাছেঁড়া না করা, সুঁই না ফুটানো বা কোনো প্রলেপ না দেওয়া, ওঝা বা বৈদ্য দিয়ে চিকিৎসা ও ঝাড়ফুঁক করে সময়ক্ষেপণ না করা, হাসপাতালে নেওয়ার পথে রোগীর কথা বলতে অসুবিধা হলে, নাকে কথা বললে কিংবা মুখ থেকে লালা ঝরলে রোগীকে কিছু খেতে না দেওয়া, দংশিত স্থানে রাসায়নিক পদার্থ, অ্যালকোহল জাতীয় কিছু না দেওয়া, তেল, ঘি, মরিচ ও গাছ-গাছালির রস ইত্যাদি খাইয়ে বমি করানোর চেষ্টা না করা, ব্যথা উপশমের জন্য অ্যাসপিরিন না দেওয়া