দুমকিতে ছাত্রলীগের ৩ নেতাকে অব্যাহতি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার সরকারি জনতা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের ৩ নেতাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান আরিফ বুধবার রাতে এক যৌথ প্রেস বিবৃতিতে এ তথ্য জানান।

অব্যাহতি পাওয়া নেতারা হলেন- সরকারি জনতা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আবু সাইদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান মৃধা ও সাংগঠনিক সম্পাদক আবু নাঈম।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সংগঠনবিরোধী, শৃঙ্খলা-পরিপন্থী, অপরাধমূলক এবং সংগঠনের মর্যাদা ক্ষুন্ন হয় এমন কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযাগে তাদের দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হলো।

অভিযোগ আছে, বুধবার দুপুরে ওই ৩ নেতার নেতৃত্বে জনতা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সানাউল্লা হিরা ও সাধারণ সম্পাদক মঈন শিকদারসহ দলীয় নেতাদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় জনতা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কমপক্ষে পাঁচ কর্মী আহত হয়।

আহত আবু মুছা (১৯), আরাফাত (১৯), ইমরান (১৮), সাইফুল (১৯), শাকিল (১৯) ও শুভকে (২২) উদ্ধার করে দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটে।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে সাপের খামার করে বিপাকে রাজ্জাক

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, চলতি শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয় নিয়ে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সানাউল্লা হিরা ও সাধারণ সম্পাদক মঈন সিকদার বুধবার দুপুরে অধ্যক্ষের অফিসে আলোচনা করতে যান। এসময় পদবঞ্চিত নেতা আবু সাইদের নেতৃত্ব ১৫-২০ জনের একটি দল অধ্যক্ষের অফিসে ঢুকে ছাত্রলীগ নেতাদের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ কলেজ ক্যাম্পাসে পৌঁছলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সহিদুল ইসলাম বলেন, ছাত্রলীগে উশৃঙ্খলতার স্থান নেই।

অব্যাহতিপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।




বাউফলে নদী থেকে অজ্ঞাত বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী বাউফলের তেতুলিয়া নদীর তীরে অজ্ঞাত এক বৃদ্ধার (৭৫) লাশ উদ্ধার করেছে নৌ-ফাঁড়ির পুলিশ।

আজ বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরওয়াডেল ৯ নং ওয়ার্ড খানকা বাজারের কাছ থেকে এ লাশ উদ্ধার করা হয়।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে সাপের খামার করে বিপাকে রাজ্জাক

স্থানীয়রা দুপুর ১২ টার দিকে নদীতে লাশ ভাসতে দেখে কালাইয়া নৌ-ফাঁড়ির পুলিশকে খবর দিলে তারা বিকাল সাড়ে৪ টার সময় লাশ উদ্ধার করেন।

বাউফল থানার ওসি শোনিত কুমার গায়ের বলেন, সুরাতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য লাশ পটুয়াখালী মর্গে পাঠিয়েছেন।




পটুয়াখালীতে সাপের খামার করে বিপাকে রাজ্জাক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: সাপের খামার করে বিপাকে পটুয়াখালীর রাজ্জাক। ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে পটুয়াখালীর আব্দুল রাজ্জাকের বাংলাদেশ স্নেকস ভেনম (Bangladesh snakes venom) নামের বিষধর সাপের খামারটি।

এই খামারের প্রায় ২৫০টি বিষধর সাপের মৃত্যু হয়েছে। তবে খামারটির সরকারি অনুমোদন না থাকায় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার সহযোগিতার সুযোগ নেই বলে জানা গেছে।

আব্দুল রাজ্জাক বিশ্বাস ২০০০ সালে পটুয়াখালী জেলার সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের নন্দিপাড়া গ্রামে তার নিজ বাড়ির পাশে একটি কিং কোবরা সাপ এবং ২৪টি ডিম নিয়ে গড়ে তোলেন বিষধর সাপের খামার। পরিকল্পনা ছিল সরকারি অনুমোদন পেলে সাপের বিষ সংগ্রহ করে তা বিক্রি করে হবেন দেশ সেরা উদ্যোক্তা। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন অধরাই রয়ে গেল।

বর্তমানে কিং কোবরা, পাইথন, পঙ্খীরাজ, কালকুলিন, সাদা গোমা, কেউটে, দাঁড়াশ, বাসুয়া, পদ্ম গোমা, বিষঝুড়ি ও গোঁড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় দেড় শতাধিক বিষধর সাপ রয়েছে রাজ্জাক বিশ্বাসের খামারে।

আরো পড়ুন : দুমকী জনতা কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে সংঘর্ষ – আহত-৫

নন্দিপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন, রাজ্জাক বিশ্বাস ভাই ২৩ থেকে ২৪ বছর পর্যন্ত সাপের খামার লইয়া কষ্ট করতে আছে। এই বইন্নায় আমাগো এলাকায় কোমর পর্যন্ত পানি উঠছিল, আর এই পানিতে ভাইয়ের কয়েকশ সাপ মারা গেছে। ভাই খুব কষ্ট পাইছে।

একই এলাকার হায়দার বিশ্বাস বলেন, রাজ্জাক ভাই এই সাপের খামার কইরা নিজের আর বাপের টাহা পয়সা সব শেষ করছে। এহন বাপের থুইয়া যাওয়া জমি বন্ধক দিছে। সরকার যদি এই মুহূর্তে তারে একটু সাহায্য করতো তাহলে হয়তো রাজ্জাক বিশ্বাস আবারও ঘুইরা দাঁড়াইতে পারতো।

এ বিষয়ে রাজ্জাক বিশ্বাস বলেন, অনেক স্বপ্ন নিয়ে এই সাপের খামারটি এই পর্যন্ত নিয়ে এসেছি। সাপের খামারটি টিকিয়ে রাখতে গিয়ে আজ আমি নিঃস্ব। কিছুদিন আগে আমার একমাত্র ছেলেটা মারা যায়, ছেলের মৃত্যু কথা শুনে আমার আব্বাও মৃত্যুবরণ করলেন। ছেলে আর বাবার মৃত্যুর এক মাস পর আমার মা মারা গেলেন। স্বজনদের হারানো শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই রেমালের কারণে পানি উঠে আমার খামারের প্রায় আড়াইশ সাপ মরে গেল। আমি শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখেছি, কিছুই করতে পারিনি।

পটুয়াখালী উপকূলীয় বনবিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক তারিকুল ইসলাম বলেন, যেহেতু রাজ্জাক বিশ্বাস অবৈধভাবে সাপের খামারটি পরিচালনা করছে, তাই তাকে সরকারি সহযোগিতার কোনো সুযোগ নেই। গত বছরের ১১ এপ্রিল বন্যপ্রাণি অপরাধ দমন ইউনিট ও উপকূলীয় বন বিভাগের কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত হয়ে খামারটি বন্ধ করে সাপ বনে ছেড়ে দেওয়ার জন্য একটি নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। যেহেতু খামারটি এখনও চলমান আছে তাই এটিকে বন্ধের জন্য আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।




পবিপ্রবিসাসের উপদেষ্টা হলেন আনিসুর রহমান

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:: পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির একমাত্র সংগঠন পবিপ্রবিসাস এর এক কার্যকরী সভায় সকলের সম্মতিক্রমে এবং গঠনতন্ত্রের ধারা ৯(৪) মোতাবেক বুধবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আনিসুর রহমানকে উপদেষ্টা মনোনয়ন করা হয়।

উল্লেখ্য যে আনিসুর রহমানের নিয়োগের মধ্যে দিয়ে এই প্রথম পবিপ্রবির শিক্ষকদের বাইরে সাবেক কোনো শিক্ষার্থী উক্ত পদে মনোনীত হন এবং পূর্বে আনিসুর রহমান পবিপ্রবিসাসের সাবেক ও প্রথম সভাপতি হিসেবে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই নিষ্ঠার পুরষ্কার স্বরুপ তাকে পবিপ্রবিসাসের উপদেষ্টা হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয়।

আরো পড়ুন : দুমকী জনতা কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে সংঘর্ষ – আহত-৫

ইতিপূর্বে প্রধান উপদেষ্টা সহ চারজন উপদেষ্টার সমন্বয়ে পবিপ্রবিসাসের উপদেষ্টা প্যানেল কার্যকর ছিল। বর্তমানে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হলেন পাঁচজন।

এ ব্যাপারে আনিসুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সাংবাদিক সমিতি তার সবচেয়ে আপন সংগঠন। তাই সাংবাদিক সমিতির পক্ষ থেকে তাকে মনোনীত করায় তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং পবিপ্রবিসাসের সাবেক এই সভাপতি বিশ্বাস করেন পুর্বের ন্যায় নতুন দায়িত্বেও তিনি তারা পেশাদারিত্ব বজায় রাখবেন।




কাজ শেষ না হতেই দেবে গেল ৩০ লাখ টাকার সেতুর ৪ পিলার

বরিশাল অফিস :: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বেলকা ইউনিয়নের বেলকা খেয়াঘাট এলাকা তিস্তার শাখা নদীর ওপর নির্মাণাধীন একটি কাঠের সেতুর অংশ দেবে গেছে। সেতুটির মাঝখানের চারটি সিসি পিলার দেবে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে সেতু পারাপার হচ্ছে দুটি ইউনিয়নের মানুষ।

সম্প্রতি নির্মাণাধীন সেতুর মাঝখানের চারটি সিসি পিলার দেবে গেছে এমন খবরে জেলাজুড়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নির্মাণাধীন একটি সেতু নির্মাণের পূর্বেই কীভাবে দেবে যায় এমন প্রশ্ন এখন সচেতন মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সেতুর ওপর দিয়ে লোকজন চলাচল করছেন। তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হচ্ছেন। শিশুরা সেতু থেকে লাফিয়ে নদীতে পড়ে গোসল করছে। নদীতে স্রোত বাড়লেই সেতুটি আরো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর গাফিলতির কারণেই সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই মাঝখানের অংশ দেবে গেছে।

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় লোকজন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের বেলকা ঘাট থেকে নৌকাযোগে নদী পারাপার হতেন। দুই পাশের ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগের মাধ্যম ছিল একমাত্র নৌকা। স্থানীয় জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বেলকা ঘাট এলাকায় একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করে এলজিইডি। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অর্থায়নে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় এটি বাস্তবায়ন করে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের আগস্ট মাসে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৩ সালের মে মাসে শেষ হওয়ার কথা। ২০০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৬ মিটার প্রস্থের সেতুটি নির্মাণে ৩০ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে এই টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজের দায়িত্ব পায় গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছানা এন্টারপ্রাইজ।

এ পর্যন্ত সেতুর নির্মাণকাজ প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। সিসি পিলারের ওপর দুই পাশে ঢালাই দেওয়া হয়। সেতুর পাটাতনে সিমেন্টের স্ল্যাবের পরিবর্তে কাঠ দেওয়া হয়েছে। সেতুর দুই পাশে নিরাপত্তামূলক প্রাচীর দেওয়া হয়নি। প্রায় চার ফুট উচ্চতার পিলার দেওয়া আছে। এ অবস্থায় সেতুর ওপর দিয়ে স্থানীয় লোকজন যাতায়াত শুরু করেন। শুধু তাই না সাইকেল ও রিকশাও সেতুটি দিয়ে পারাপার হতে থাকে।

বেলকা এলাকার বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, আগে এখানে কোনো সেতু ছিল না। নৌকা দিয়ে পার হতে হতো। এতে সাধারণের দুর্ভোগ পোহাতে হতো। এবার একটি কাঠের সেতু নির্মিত হচ্ছে দেখে খুশি হয়েছিলাম। এখন দেখছি, নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই তা দেবে পড়েছে।

ভেল্কা ইউনিয়নের অন্য এক বাসিন্দা শাহেদ মিয়া বলেন, দুটি ইউনিয়নের যোগাযোগের একমাত্র ভরসা এই সেতু। নির্মাণ হওয়ার পূর্বে চারটি পিলার দেবে যাওয়ায় আমরা শঙ্কিত এই ব্রিজটি আসলে কতদিন দাঁড়িয়ে থাকবে! আমি এলাকাবাসীর পক্ষে ঠিকাদার এবং উপজেলা প্রকৌশলীসহ এই ব্রিজের সংশ্লিষ্ট যারা আছেন তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছানা এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী ছানা মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

বেলকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিলুল্যাহ বলেন, সেতুর কাজ সম্পন্ন হলে স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে। তাই কাজটি শেষ করতে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগকে বারবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি, তার আগেই সেতুটি দেবে যাওয়ায় স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ আরো বেড়ে গেল।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল মান্নাফ বলেন, সেতু দেবে যাওয়ার কথা শুনেছি। পিলার দেবে যাওয়ায় চলাচল এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তাই সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, লোকমুখে বিষয়টি শুনেছি। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।




আমতলীতে ঝুকিঁপূর্ণ ১৯ আয়রণ ব্রিজ

বরিশাল অফিস :: বরগুনার আমতলীর হলদিয়া ইউনিয়নের ১৯ ব্রিজ ঝুঁকিপূর্ণ দিয়ে লক্ষাধিক মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করছেন। যে কোনো সময় ঘটে যেতে পারে হলদিয়া হাট ব্রিজের মত বড় ধরনের দূর্ঘটনা।

বৃহস্পতিবার (২৭জুন) হলদিয়া হাট আয়রন ব্রিজ ধ্বসে মাইক্রোবাসসহ খালে পরে ৯ জন মারা যায়। এঘটনায় এলাকায় চলছে শোকের মাতম। ঝুকিঁপূর্ণ ১৯ আয়রন ব্রিজ নিয়ে আতংকগ্রস্থ হয়ে পড়েছে হলদিয়ার সাধারন মানুষ।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কয়েক বছর আগে থেকেই আয়রন ব্রিজগুলোতে দেখা দিয়েছে ফাটল। ভীমগুলোতে ধরেছে মরিচা। ব্রিজ নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। সেতুগুলোর অনেক জায়গায় দুই পাশের রেলিং ভেঙে গেছে। তবে বিকল্প উপায় না থাকায় ঝুঁকি ও আতঙ্ক নিয়েই ব্রিজ দিয়ে লক্ষাধিক মানুষ ও ভারী যানবাহন চলাচল করছে।

এই আয়রন ব্রিজগুলো হালকা যান প্রকল্পের আওতায় ২০০২ থেকে ২০০৬ সালে নির্মাণ করা হয়।দ্রুত সময়ের মধ্যে আয়রন ব্রিজগুলো দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া এবং নতুন ভাবে ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

আয়রন ব্রিজগুলো হলো- হলদিয়া হাট ব্রিজ, রাড়ী বাড়ির ব্রিজ, আউয়াল নগর ব্রিজ, বাহাদুর তালুকদার বাড়ী সংলগ্ন ব্রিজ, মুসল্লী বাড়ির ব্রিজ, গাজীপুর কাঁঠালিয়া সংযোগ ব্রিজ, সোনাগাজা ব্রিজ, আলতাফ তালুকদার বাড়ী ব্রিজ, ৬ নম্বর ওয়ার্ড সিকদার বাড়ি সংলগ্ন ব্রিজ, দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া রাহিমিয়া দাখিল মাদ্রাসা সংলগ্ন ব্রিজ, টেপুরার মল্লিক বাড়ির সামনের ব্রিজ, জেবিসনের হাট মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন ব্রিজ, মোল্লাবাড়ী সংলগ্ন ব্রীজ, পূর্বচিলা আশিখার খালের ব্রিজ, কাপালির স্লুইজ সংলগ্ন ব্রিজ, কালু বিশ্বাস বাড়ি সংলগ্ন ব্রিজ, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জেন্নাত মিয়ার বাড়ি সংলগ্ন ব্রিজ, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ-পশ্চিম সোনা উঠা ব্রিজ, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হুমায়ুন আকন বাড়ি সংলগ্ন ব্রিজ, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হারুন মেম্বর বাড়ি সংলগ্ন ব্রিজ, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে মেলকার বাড়ী সংলগ্ন ব্রিজ। এই ব্রিজ গুলোর মধ্যে মোল্লা বাড়ির ব্রিজ, জেবিসনের হাট মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন ব্রিজ, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জেন্নাত মিয়ার বাড়ী সংলগ্ন ব্রিজ, টেপুরার মল্লিক বাড়ির সামনের ব্রিজ গুলো ধ্বসে পড়ে গেছে। এসব এলাকার জনসাধারনের চলাচলে ভোগান্তির কোনো শেষ নেই।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে আয়রন ব্রিজগুলো বেহাল থাকায় ঝুঁকি নিয়েই ওই ইউনিয়নের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রী, সাধারণ লোকজন চলাচল করছেন।

আমতলীর হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান মিন্টু মল্লিক বলেন, দ্রুত এই ব্রিজগুলো সংস্কার বা নতুন ব্রিজ নির্মান করা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। তিনি অল্প সময়ের মধ্যে নতুন ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানান।

আমতলীর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজগুলো সরিয়ে গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হবে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.আশরাফুল আলম বলেন, দ্রুততম সময় নতুন ব্রিজ নির্মান করা হবে।




রেণু ধরায় ধ্বংস হচ্ছে বহুপ্রজাতির মাছের পোনা

বরগুনার আমতলী-তালতলীসহ উপকুলীয় এলাকায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চলছে গলদা-বাগদা চিংড়ির রেণু সংগ্রহ। এই রেণু সংগ্রহ করতে গিয়ে ধ্বংস করা হচ্ছে প্রায় বিভিন্ন মাছ ও জলজ প্রাণীর পোনা।

বৃহস্পতিবার সরেজমিন দেখা গেছে, নিষিদ্ধ মশারি জাল দিয়ে জেলেরা চিংড়ি রেণু আহরণ করছেন। সেগুলো কম দামে কিনে স্থানীয় ব্যাপারীরা দ্বিগুণ দামে বিক্রি করছে আমতলী উপজেলা সহ পার্শ্ববর্তী তালতলী কলাপাড়া , মহিপুর কুয়াকাটা আললিপুরের বিভিন্ন চিংড়ি ঘের মালিকদের কাছে। রেণু সংগ্রহের কাজটি অবৈধ হলেও জীবিকার তাগিদে প্রকাশ্যেই চলছে এ কাজ।

পায়রা নদীতে মশারী নেট জাল দিয়ে মাছ ধরতে দেখা যায় বছরের মে থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত। মাছের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় পোনা ধরার ক্ষেত্রে সরকারি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।পায়রা নদীর তীরবর্তী গ্রাম যেমন আঙ্গুলকাটা, ঘটখালী, বৈঠাকাটা, ফেরিঘাট, বাইল্লাতলী, তেুললবাড়িয়া, আন্দার মানিকসহ বিভিন্ন নদীতীরবর্তী গ্রাম গুলিতে প্রতিদিনই রেনু চিংড়ি পোনা আহরণ করা হচ্ছে। শতশত মানুষ চিংড়ি পোনা আহরণ করে এই সময়ে তাদের জীবিকা নির্বাহ করছে।

দেখা যায়, পোনা আহরনকারীরা বাগদা-গলদা চিংড়ির রেণু সংগ্রহ করে অন্য মাছের রেণু ও জলজ প্রাণী ফেলে দিচ্ছে। স্থানীয় ঘের মালিকরা এদের কাছ রেনু পোনা সরবরাহ করছে।

জব্বার মিয়া নামের একজন পোনাআহরকারী জানান, চিংড়ির রেণু সংগ্রহ করার সময় কোরাল, কাঁকড়া, চিরিং, বাইলা, তফসে, বাটা, চাপিলা, ফাইলসে, টেংরা, পোমা,কাঁচকিসহ অনেক প্রজাতির পোনাও ওঠে আসে। তারা শুধু চিংড়ি পোনা রেখে বাকিগুলো ফেলে দেন।

সহিদ মিয়া নামের একজন পোনা আহরনকারী জানান, প্রতিটি চিংড়ির পোনার জন্য তারা ভালো দাম পান। কিন্তু অন্য মাছের পোনা বিক্রি হয় না তাই ফেলে দেই না হলে সাইজ একটু বড় হলে কাচকী মাছ হিসেবে বাজারে বিক্রি করে দেই। ছোট ছোট ঘের যারা করে তারা এই পোনা সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। একটি গলদা বা বাগদা চিংড়ির রেণু সংগ্রহ করতে গিয়ে অন্য অনেক প্রজাতির মাছের পোনা ধ্বংস হয়ে যায়। এর সাথে ধ্বংস হয় অন্যান্য জলজ জীবের পোনা বা রেণুও।

এব্যাপারে আমতলী উপজলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এস এম মাহমুদুর রহমান বলেন, রেনু পোনা ধরা ও পরিবহন করা আইনগত অপরাধ।উপজেলা মৎস্য অফিস এ বিষয় তৎপর রয়েছ। সরেজমিন পাওয়া গেল আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।




ঘুরে আসুন নান্দনিক ‘পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’

বরিশাল অফিস :: আমাদের দেশ বাংলাদেশ। এ দেশ যে কত সুন্দর তা না দেখলে বোঝা যাবে না। আজকে আমরা ঘুরে আসবো পটুয়াখালির দুমকির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

ছায়া ঘেরা শান্ত সুনিবিড় গ্রামের সৌম পরিবেশে ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ম (পবিপ্রবি) ক্যাম্পাস এক অনিন্দ্য সুন্দর জায়গা। যা ভ্রমণপিয়াসুদের আনন্দ দিয়ে যাচ্ছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন লেক, লেকের মধ্যে নান্দনিক বাংলোঘর ও কারুকার্যে গড়া সেতু। মৎস্য গবেষণার কয়েকটি প্রকল্প রয়েছে এ লেকে।

লেকের চারপাশ বৃক্ষ শোভিত। পরিচ্ছন্ন পাড়ে রয়েছে বসার সুন্দর ব্যবস্থা।

বিকেলে যখন শ্বেত শুভ্র রাজ হংস-হংসী এ লেকে ভেসে বেড়ায় তখন সৃষ্টি হয় মনোমুগ্ধকর এক অপরূপ দৃশ্যের। এছাড়া এ ক্যাম্পাসে রয়েছে পদ্ম পুকুরসহ বেশ কটি পুকুর, ক্যাম্পাসজুড়ে রয়েছে দেশি-বিদেশি নানা ফুল ও বৃক্ষের সমাহার।

প্রশাসনিক ভবনের সম্মুখে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের দৃষ্টিনন্দন শৈল্পিক ভাস্কর্য ‘জয় বাংলা’। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ৭ বীর শ্রেষ্ঠের আবক্ষ ভাস্কর্য। এছাড়া শহীদ মিনার ও আরও কয়েকটি মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য।

পূর্ব ক্যাম্পাসে বিস্তৃত কৃষি ফার্ম, গবেষণাগার, এম কেরামত আলী হল এবং সৃজনী বিদ্যানিকেতনের ক্যাম্পাসসহ সমগ্র ক্যাম্পাসের প্রতিটি সড়ক ও হল নান্দনিকভাবে সাজানো। যা প্রতিনিয়ত দর্শনার্থীদের আনন্দ দিয়ে যাচ্ছে।




এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের খেয়া ভাড়া মওকুফ করলেন হিজলার ইউএনও

বরিশাল অফিস :: এইচএসসি, আলিম এবং এইচএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষা আগামী ৩০ জুন থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।

বুধবার পরীক্ষার্থীদের খেয়া ভাড়া মওকুফ করারর ঘোষণা দিয়েছেন বরিশালের হিজলা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।

এইচএসসি, আলিম এবং এইচএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষা আগামী ৩০ জুন থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।

বুধবার পরীক্ষার্থীদের খেয়া ভাড়া মওকুফ করারর ঘোষণা দিয়েছেন বরিশালের হিজলা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। এক নোটিশের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন, ৩০ জুন হতে হিজলা উপজেলায় (১) কাউরিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র (২) আফসার উদ্দিন ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে (৩) সরকারি সংহতি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভেন্যুতে যথারীতি এইচ.এস.সি, এইচ.এস.সি (বিএম ও ভোকেশনাল) এবং আলিম পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

উক্ত পরীক্ষা উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের খেয়া পারাপারে ভাড়া মওকুফ করা হলো। এই নির্দেশনার ব্যত্যয় হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই উদ্যোগের জন্য জাহাঙ্গীর হোসেনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।
বরিশাল বোর্ডের আওতায় এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় গোটা বরিশাল বিভাগের ৩৪১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬৬ হাজার ৫৬২ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে।

এক নোটিশের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন, ৩০ জুন হতে হিজলা উপজেলায় (১) কাউরিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র (২) আফসার উদ্দিন ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে (৩) সরকারি সংহতি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভেন্যুতে যথারীতি এইচ.এস.সি, এইচ.এস.সি (বিএম ও ভোকেশনাল) এবং আলিম পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

উক্ত পরীক্ষা উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের খেয়া পারাপারে ভাড়া মওকুফ করা হলো। এই নির্দেশনার ব্যত্যয় হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই উদ্যোগের জন্য জাহাঙ্গীর হোসেনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।
বরিশাল বোর্ডের আওতায় এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় গোটা বরিশাল বিভাগের ৩৪১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬৬ হাজার ৫৬২ জন পর ক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে।




জিরো টলারেন্স নীতি: তবু লাগামহীন দুর্নীতি, আ.লীগে অস্বস্তি

বরিশাল অফিস :: টানা চতুর্থ মেয়াদে সরকার গঠনের আগে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যে নির্বাচনি ইশতেহার দিয়েছিলো, তাতে গুরুত্ব পেয়েছিলো ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি’। জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নের পর ‘স্মার্ট বাংলাদেশে’র অগ্রযাত্রায় দুর্নীতিকেই এখন মূল প্রতিবন্ধকতা হিসেবে মনে করছেন দলের নেতারা।

সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে দায়িতত্বশীল কর্মকর্তাদের দুর্নীতির খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ হতে থাকায় বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। তারা বলছেন, দুর্নীতি সরকারের সব অর্জন ম্লান করে দিচ্ছে। জিরো টলারেন্স নীতির পরেও দুর্নীতি দমন করতে পারেনি বা দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। এখনই বিশেষ ব্যবস্থা নিয়ে দুর্নীতির এই বিস্তার রোধ করা না গেলে হিমশৈলের ধাক্কায় দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির সলিলসমাধি হবে।

সম্প্রতি সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের দুর্নীতি। এই পুলিশ প্রধানের সম্পত্তি নিয়ে প্রায় দুই মাস ধরে অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূতভাবে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের প্রমাণও পেয়েছে। এসব কারণে বেনজির আহমেদ ও তার পরিবারের সম্পত্তি জব্দ এবং ব্যাংক একাউন্ট জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। দুদক বলছে, এখনও তার সম্পদের অনুসন্ধান চলছে। বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির খোঁজ মেলা নিয়ে আলোচনা থামতে না থামতেই আবার শুরু হয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের খবর।

অন্যদিকে, দুর্নীতি নিয়ে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত ইস্যু জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কমিশনার (শুল্ক ও আবগারি) এবং ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনালের প্রেসিডেন্ট ড. মতিউর রহমানের বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচার। এই বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে দেশের ব্যাংকিং খাত লোপোটের খবর।

সরকারের দায়িত্বশীলদের লাগামহীন দুর্নীতি, অবৈধভাবে বিপুল সম্পদ অর্জনের বিষয়গুলো ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ পাওয়ায় সরকারের সমালাচনায় মুখর বিএনপি। বিষয়টিকে ভালো চোখে দেখছেন না আওয়ামী লীগের নেতারাও। তারা বলছেন, যে বিএনপি পাঁচবার দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ান বানিয়েছে, তারাও এখন দুর্নীতি নিয়ে কথা বলে! যেখানে আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে আজ বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিত করিয়েছে। বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে এখন অন্যভাবে দেখা হয়, সেখানে সরকারের বিভিন্ন সেক্টরের দুর্নীতিবাজদের জন্য ঢালাওভাবে সরকারের সমালোচনা করা হচ্ছে। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সরকারকে আরও কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সংসদ সদস্য বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘‘দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সরকারি বা বেসরকারি যে কোনো দলের বা সংস্থার হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠিন পদক্ষেপ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিকে বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিতে হবে। ঋণ খেলাপি, অর্থপাচারকারী, ব্যাংক লুটেরা, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সিন্ডিকেট যারা করে তাদের চিহ্নিত করতে হবে। তাদের তালিকা প্রণয়ন করে জাতির সামনে উপস্থাপন করা প্রয়োজন।’’

বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে এই দুষ্টচক্র, সর্বগ্রাসী, স্বার্থন্বেষী চক্রের হাত থেকে দেশের জনগণকে রক্ষা করতে হবে বলেও মত দেন আওয়ামী লীগের এ নেতা।

আওয়ামী লীগ মনে করে, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জাতির নৈতিক উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় হল দুর্নীতি। দুর্নীতির কারণে দেশের সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ইস্পিত লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয় না। কেবল আইন প্রয়োগ ও শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে দুর্নীতি দমন করা সম্ভব নয়, তার জন্য প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স এবং কেউ দুর্নীতি করে ছাড় পাবে না জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদক আছে। দুদক সম্পূর্ণ স্বাধীন। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান জিরো টলারেন্স। এক্ষেত্রে তিনি অটল।’

তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি যেই করুক, এক্ষেত্রে সরকারের জিরো টলারেন্স। দুদকের দুর্নীতির তদন্ত করার অধিকার রয়েছে এবং এখানে সরকার তাদের স্বাধীনতায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না।’

জিরো টলারেন্স নীতির পরেও দুর্নীতি দমন বা নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘দুর্নীতি সরকারের সব অর্জন ম্লান করে দিচ্ছে। সরকারি কর্মচারীদের দফায় দফায় বেতন বাড়ানো হয়েছে। তাদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে। তারপরও কেন দুর্নীতি হবে?’

তিনি বলেন, ‘এরকম হাজার হাজার মতিউর আছেন। দফায় দফায় বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। তারপরও দুর্নীতি কমানো সম্ভব হয়নি। দুর্নীতির বিধিবিধানকে বরং আরও নমনীয় ও শিথিল করে দেওয়া হয়েছে। নামমাত্র দণ্ড দিয়ে তাদের চাকরিতে বহাল রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে।’

দুর্নীতির বিরুদ্ধে যা আছে আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহারে: আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহারে ৩.২ এর ‘সুশাসন’ অধ্যায়ের ‘চ’ ধারায় বলা হয়েছে, জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে সমাজ তথা রাষ্ট্র থেকে দুর্নীতির মুলোৎপাটন করা হবে।এতে অঙ্গীকার করা হয়েছে,

১. দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্নীতি মোকাবিলায় কার্যকর পন্থা ও উপায় নির্বাচনপূর্বক তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

২. জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জন, ঘুষ, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি, পেশিশক্তির দৌরাত্ম্য ও দুর্বৃত্তায়ন নির্মূলে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ চলমান থাকবে।

৩. প্রশাসনে দুর্নীতি নিরোধের জন্য ভূমি প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, আদালত, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবাসহ সকল ক্ষেত্রে সূচিত তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ করা হবে।

৪. শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী মনোভাব গড়ে তোলার জন্য পাঠ্যক্রমে দুর্নীতির কুফল ও দুর্নীতি রোধে করণীয় বিষয়ে অধ্যায় সংযোজন করা হবে।

রাজনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের জিরো টলারেন্স নীতি দুর্নীতির মাত্রা ক্রমহ্রাসমান থাকলেও সম্প্রতি তা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। দুর্নীতি রুখে দেওয়া না গেলে উন্নত ও সমৃদ্ধ যে আগামীর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা হচ্ছে, তা সুদূর পরাভূত হবে।

তারা বলছেন, জাতীয় পর্যায়ে রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হলে তাদের গ্রেপ্তারে অনুমতি নেওয়া লাগে না। কিন্তু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে একই ধরনের মামলা হলে তাকে গ্রেপ্তারে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতি নিতে হয়। সরকারি কর্মচারী আইন-২০১৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতি করতে উৎসাহিত করেছে। এই আইনের কারণে দুর্নীতি দমন কমিশন তাদের আইনের আওতায় আনতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এটা কার্যত অপরাধী সুরক্ষা আইন হিসাবে বিবেচিত। আইনটি পুনর্বিবেচনার দবি তুলেছেন তারা।

দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে প্রথমে ভোগের রাস্তা বন্ধ করতে হবে জানিয়ে বিশেজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচনের আগে রাজনীতিবিদদের হলফনামা দিতে হয়, সব সম্পদের বিবরণ দিতে হয়। কিন্তু সরকারি কর্মকর্তাদের হলফনামা দিতে হয় না। চাকরিতে নিয়োগের সময় হলফনামা বাধ্যতামূলক এবং প্রতি পাঁচ বছর পর বা পদোন্নতির সময় হলফনামা দিতে হলে তার সম্পত্তির পরিমাণ জাতি জানতে পারবে।

সরকারের বিভিন্ন সেক্টরের দুর্নীতিবাজদের কঠোর সমালোচনা করে লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন বলেন, ‘সব পলিটিশিয়ানরা নাকি দুর্নীতি করে। আর উনারা সব কিছু ঠিক করেন, অন্য কিছু করেন না। বাড়ি-গাড়ি করে দেশে-বিদেশে, বেগমপাড়ায়, আর কোন কোন পাড়ায় বাড়ি করে, সুইস ব্যাংকে টাকা রাখে। আজকে দোষ কিন্তু আমাদেরই, পলিটিশিয়ানদের।’

এনবিআরের আলোচিত কর্মকর্তা মতিউর রহমানের মতো আরও কোনো মতিউর রহমান আছেন কি না, তা সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে খুঁজে বের করার আহ্বান জানান সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

তিনি বলেন, ‘বিশেষ কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তখন তার সংস্থা, গোষ্ঠী বা অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে দুর্নীতিবাজের পক্ষে সাফাই বক্তৃতা, বিবৃতি দেয়, যা প্রকারান্তরে ওই বিশেষ ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের দায় সংস্থাগুলো নেয়। পুরো সংস্থার ওপর চলে আসে এ দায়। এখান থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।’

১৪ দলীয় জোটের শরিক নেতা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘এখনই বিশেষ ব্যবস্থা নিয়ে দুর্নীতির এই বিস্তার রোধ করা না গেলে হিমশৈলের ধাক্কায় দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির সলিলসমাধি হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির আমলে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে পাঁচ-পাঁচ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। দেশ এখন সে কলঙ্ক থেকে মুক্ত হলেও এখনো শীর্ষ দশের মধ্যে রয়েছে। বরং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির যে চিত্র সম্প্রতি বেরিয়ে আসছে, তা দেশের ভাবমূর্তি কেবল নয়, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জনমনে অনাস্থা সৃষ্টি করছে।’