আজ ঢাকায় বিএনপির সমাবেশ, আওয়ামী লীগের পাল্টা কর্মসূচি

বরিশাল অফিস :: খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ঢাকায় শান্তিপূর্ণ বড় সমাবেশ করার প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি। আজ শনিবার ( ২৯ জুন) বেলা তিনটায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই সমাবেশ হবে। প্রায় আট মাস পর দলীয় প্রধানের মুক্তির দাবিতে বিএনপি এ কর্মসূচি নিয়েছে। সমাবেশে ঢাকা মহানগর ও জেলা ছাড়াও আশপাশের জেলা থেকেও নেতা-কর্মীরা যোগ দেবেন বলে বিএনপি সূ্ত্রে জানা গেছে।

এ দিকে একই সময়ে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগ পাল্টা কর্মসূচি দিয়েছে। দলের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তারা শনিবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে দলীয় কার্যালয়ের সামনে আলোচনা সভা করবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এতে প্রধান অতিথি থাকবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগ হঠাৎ করেই শুক্রবার বিকেলে আলোচনা সভার কর্মসূচি ঘোষণা করে। প্রতিষ্ঠার প্লাটিনাম জুবিলি উপলক্ষে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হলেও এ বিষয়ে আগে থেকে কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না বলে দলীয় সূত্র জানা গেছে।

বিএনপি খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে গত বুধবার তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে। এর মধ্যে ঢাকায় আজ শনিবার সমাবেশ ছাড়াও আগামী ১ জুলাই সব মহানগর ও ৩ জুলাই সব জেলায় সমাবেশ হবে। দলটির এ কর্মসূচি ঘোষণার দুই দিন পর আওয়ামী লীগ বরাবরের মতো আবারও পাল্টা কর্মসূচির ঘোষণা দিল।




গৌরনদীতে পান বরজে দুর্বৃত্তদের হানা, ক্ষতি ২ লাখ টাকা

বরিশাল অফিস :: বরিশালের গৌরনদী উপজেলার উত্তর চাঁদশী গ্রামের পান চাষির পান বরজে হানা দিয়ে ফের পানের লতা কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

এতে বরজ মালিকের কমপক্ষে দুই লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

শুক্রবার (২৮ জুন) সকালে পানচাষি মানিক ভদ্র জানান, চাঁদশী বাজারের উত্তর পার্শ্বে ১৫ শতক জমি লিজ নিয়ে ৮৯ খানা পানের বরজ নির্মাণ করে পান চাষ আসছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা পান বরজে প্রবেশ করে সমস্ত লতা কেটে দিয়েছে। একমাত্র আয়ের উৎস হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পান চাষি চরম বিপাকে পড়েছেন।

গৌরনদী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, গত ৪ জুন চাঁদশী বাজারের উত্তর পার্শ্বে ৩০ শতক জমির ১১০ খানা পানের বরজের সমস্ত লতা কেটে দিয়েছিলো দুর্বৃত্তরা।




পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ম ইউনিট বন্ধ, বেড়েছে লোডশেডিং

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পটুয়াখালীর পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

গত ২৪ জুন বিকেল থেকে ১ম ইউনিটটি বন্ধ করা হয়। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে এই ইউনিটটি আবারও চালু করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎকেন্দ্র সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওই ইউনিট বন্ধ হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের লোডশেডিংয়ের পরিমাণ বেড়েছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা।

পটুয়াখালীর পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র ২০২০ সাল থেকে জাতীয় গ্রিডে ৬৬০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। এই কেন্দ্রের দুটি ইউনিট থেকে মোট ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছে।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে মানববন্ধন

তবে গত ২৪ জুন বিকেলে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্লান্টের ১ম ইউনিট বন্ধ করা হয়। ফলে বর্তমানে ৬৬০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।

পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্লান্ট ম্যানেজার শাহ আবদুল মাওলা বলেন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কাজটি সম্পন্ন করে দ্রুত সময়ের মধ্যেই বন্ধ ইউনিটটিও চালু করা হবে। আশা করছি আগামী ২ জুলাই পুরো দমে বন্ধ ইউনিটটি চালু করা সম্ভব হবে।

এদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই ছন্দ পতনের ফলে পটুয়াখালীসহ দক্ষিণ অঞ্চলের লোডশেডিং বেড়েছে। এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান। আর সব থেকে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছে কুয়াকাটা পর্যটন এলাকার প্রতিষ্ঠানগুলো।

কুয়াকাটা ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রুম্মান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, এখন বিদ্যুতের ভোগান্তি সহনীয় মাত্রা অতিক্রম করেছে। প্রতিদিন চার থেকে পাঁচবার লোডশেডিং হচ্ছে এবং দীর্ঘসময় পর বিদ্যুৎ আসছে। এই দীর্ঘ সময় তো জেনারেটর দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব নয়। পর্যটকরা বিরক্ত হচ্ছেন। সমস্যা সমাধানে সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক হওয়া প্রয়োজন।

এর আগে কয়লা সংকটে ২০২৩ সালের ৫ জুন দেশের বৃহৎ এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এর ঠিক ২০ দিন পর আবারও উৎপাদন শুরু হয়। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পুরোপুরি সচল রাখতে প্রতিদিন ১২ হাজার টনের বেশি কয়লার প্রয়োজন হয়ে থাকে। যা পুরোটাই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।




HSC exam: Coaching Centers are closed from today

Barishal office :: All coaching centers in the country will be closed from 29 June to 11 August (44 days) due to the 2024 Higher Secondary Certificate (HSC) and equivalent examinations.

Education Minister Mohibul Hasan Chowdhury (5 June) said that all coaching centers will remain closed from June 29 to August 11 as the Higher Secondary Certificate (HSC) and equivalent examinations are going to start on June 30.

“The decision was taken to conduct the examinations in a fair and orderly manner in an environment free from rumors of question paper leaks,” he said.

The current year’s HSC exam routine was released on 2 April.

According to the routine, HSC written exams will begin on 30 June with Bangla first paper exams and will continue till 11 August. The examination will start from 10 am to 1 pm every day.

Practical exams will be held from 12 August to 21 August, according to the routine.




বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সংকটে বরিশালের শেবাচিম

বরিশাল অফিস ::  অর্থোপেডিক্স, মেডিসিন আর জরুরি বিভাগে রোগীর চাপে হিমশিম ডাক্তার ও নার্স। ১০০০ বেডের বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) এই মুহূর্তে প্রায় ২৫০০ রোগী ভর্তি আছে। অথচ এই রোগীদের চিকিৎসা সেবায় রয়েছেন মাত্র ৮৭ জন চিকিৎসক।

তার ওপর ১০টি লিফটের ছয়টি অকেজো, নেই উন্নত পরীক্ষা নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি। যা আছে তাও নষ্ট, নয়তো অকেজো। এখানে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই এবং পর্যাপ্ত অত্যাধুনিক সরঞ্জামের অভাব স্বীকার করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে শুক্রবার (২৭ জুন) বরিশালের ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম) ঘুরে দেখা গেছে অস্থির ও অমানবিক কিছু চিত্র।

প্রবেশ পথের জরুরি বিভাগে রোগীর ছটফটানি ও শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের ছুটোছুটি বলে দেয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়া তারা কতটা অসহায় এখানে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন খয়রাবাদ এলাকায় সড়ক দূর্ঘটনার শিকার আহত দুজনকে নিয়ে আসা সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক আসলাম জানান, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাদের সিএনজিতে তুলে দিয়েছেন। বলেছেন হাসপাতালে পৌঁছে দিতে। এখানে এসে জরুরি বিভাগে যোগাযোগ করে তাদের সম্পর্কে জানানোর পরও আধাঘন্টা হয়ে গেছে কেউ আসেনি। নিজেই স্ট্রেচারে করে ভিতরে রেখে আসলাম এখন। স্ট্রেচারও দিতে রাজী নয় তারা। পরে হাসপাতালের একজন কর্মী অবস্থা দেখে দ্রুত স্ট্রেচার নিয়ে সাহায্য করেন। তবে ইন্টার্ন চিকিৎসক ছাড়া কাউকে দেখা যায়নি জরুরি বিভাগে।

সড়ক দূর্ঘটনায় আহত দুজনের একজনকে অর্থোপেডিক্স ও একজনকে ৫ নং ওয়ার্ডে মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানালেন দায়িত্বরত ইন্টার্ন চিকিৎসক। তাদের দেখানো পথে পুরাতন ভবনের সিঁড়ি বেয়ে তৃতীয় তলার অর্থোপেডিক্স বিভাগে এসে দেখা গেল, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অপেক্ষা চলছে। বড় ডাক্তার না আসলে রোগীর অবস্থা নিয়ে কিছু বলতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। তারা জানালেন, তাদের স্যার আসার অপেক্ষা করছেন তারা।

একই অবস্থা দেখা গেল নতুন ভবনের মেডিসিন বিভাগেও। বিছানা না পেয়ে ফ্লোরে রোগীদের জায়গা দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। এই মূহুর্তে ১৩৭৬ জন রোগী ভর্তি আছে বলে জানালেন হাসপাতালের তথ্য কর্মকর্তা মাসুম ও এমি।

এমি বলেন, এই হিসাব ২৬ জুন সকাল আটটা থেকে ২৭ জুন সকাল আটটা পর্যন্ত। এখন বেলা ১টায় যে রোগী এসেছেন, সে হিসাব আগামীকাল পাবেন। তবে আনুমানিক ৭০০ জন হবে।

এমি ও মাসুমের দেয়া তথ্য অনুযায়ী এই মূহুর্তে শেবাচিমে রোগী ভর্তি প্রায় ২৫০০ জন। স্বাভাবিক কারণেই বেড সংকট তৈরি হয়েছে। ফ্লোরে রেখে হলেও চিকিৎসা সুবিধা দেয়ার চেষ্টা করছেন এখানের ডাক্তাররা।

এদিকে গত বছর জানুয়ারিতে শেবাচিম থেকে একযোগে আট চিকিৎসককে বদলি করার পর আজ পর্যন্ত কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আসেনি শেবাচিমে। মাত্র ছয়জন প্রফেসর, ৮৭ জন এসিসট্যান্ট দিয়ে চলছে চিকিৎসা সেবা। বিষয়টি জানিয়ে সয়ং হাসপাতাল পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেছেন, ৫০০ শয্যার চিকিৎসা ব্যবস্থা দিয়ে চলছে এই হাসপাতাল। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ৪০টি পদই শূন্য এখানে। ১২৯ জন সহকারী প্রফেসর এর দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ২৯ জন। এই হাসপাতালে তীব্র চিকিৎসক সংকট চলছে। ২০২৩ সালের জানুয়ারীতে এখান থেকে আটজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বদলি হয়েছে। এরপর আর নতুন কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পায়নি এই হাসপাতাল।

তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের সব উপজেলার রোগীই এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। এমনকি ফরিদপুর, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জের রোগীও পাবেন এখানে। একটি এমআরআই মেশিন ও ক্যান্সার চিকিৎসার উপকরণ খুবই জরুরি প্রয়োজন আমাদের।

পরিচালক সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, হাসপাতালের ম্যানেজিং কমিটির পরিবর্তন ঘটেছে। বরিশাল ৫ আসনের সংসদ সদস্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এখন সভাপতি মনোনীত হয়েছেন। ২৮ জুন তিনি হাসপাতালের সমস্যা ও প্রয়োজন নিয়ে নগরবাসীর সাথে সরাসরি মতবিনিময় ও পরামর্শ করবেন। আশাকরি দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী এই হাসপাতালের পরিবেশ পুনরায় এশিয়ার অন্যতম চিকিৎসা সেবাকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে।




বরগুনায় হস্তান্তরের আগেই ‘জলে’ ৭ কোটি টাকার সড়ক

বরিশাল অফিস :: বরগুনার পাথরঘাটায় হস্তান্তরের আগেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে একটি সড়ক। সামান্য বৃষ্টিতেই ইতিমধ্যে ওই সড়কের দুই পাশের পিচঢালাই ভাঙতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। শুরু থেকে তাঁরা প্রতিবাদ করেছেন। কিন্তু কাজ হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চার কিলোমিটারের সড়কটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭ কোটি টাকা। ঠিকাদারকে রাস্তা ঠিক করে দিতে হবে। না হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে হরিণঘাটা ইকোপার্কের আগে জাফরের দোকান নামক স্থান পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার সড়কের কাজ শেষ হয়েছে তিন মাস আগে। এর মধ্যে বিভিন্ন স্থান থেকে রাস্তার পিচঢালাই উঠে ইট-সুরকি সরে গিয়ে রাস্তা ভেঙে গেছে। এতে করে ওই এলাকায় যানবাহন চলাচল করতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সড়ক প্রশস্তকরণ ও মজবুতকরণের জন্য ২০২২-২৩ অর্থবছরে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় ৬ কোটি ৭২ লাখ ৬৯ হাজার ৫২৫ টাকা। কাজটি ই-টেন্ডারের মাধ্যমে পটুয়াখালীর আবুল কালাম আজাদ নামের এক ঠিকাদার পান। সাব-কন্ট্রাক্টে কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয় বরগুনার দুই ঠিকাদার শাহিন ও শহিদুল ইসলাম মৃধাকে।

এই সড়কের কাজের শুরু থেকেই নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিলেন স্থানীয়রা। তবে এলাকার কিছু প্রভাবশালীর চাপে তাঁরা কিছু করতে পারেননি। তাঁদের এই অনিয়মের কারণে এখন ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক জাতীয় দলের ফুটবলার মজিবুর রহমান কালু বলেন, ‘দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রাস্তাটি নতুন করে হতে দেখে অনেকেই ভেবেছিল, এই বুঝি কষ্টের দিন শেষ। কিন্তু এ কী হলো রাস্তাটির। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে রাস্তার দুই পাশ ক্ষয়ে ক্ষয়ে পড়তে আরম্ভ করেছে। এবার কষ্ট যেন আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে।’

এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদারের প্রধান সাব-কন্ট্রাক্টর মোহাম্মদ শাহিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সাড়া মেলেনি। তবে সাব-কন্ট্রাক্টর শহিদুল ইসলাম বলেন, শিডিউল মেনেই সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘আমাদের কাছে এখনো কাজ বুঝিয়ে দেননি ঠিকাদার। তবে রাস্তার পাশে পর্যাপ্ত মাটি না দেওয়ায় দুই পাশ ভেঙে গেছে।’ তিনি জানান, হস্তান্তরের আগপর্যন্ত রাস্তার সব দায়ভার ঠিকাদারের। তাঁরা রাস্তার ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা নাদিরা জানান, ‘সড়ক নির্মাণে অনিয়মের বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলা প্রকৌশলীকে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত না করা পর্যন্ত ঠিকাদারকে বিল পরিশোধ না করতে বলা হয়েছে।’




মেঘনায় অবাধে চলছে চিংড়ির রেণু নিধন

বরিশাল অফিস :: ভোলায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মেঘনা নদী থেকে অবাধে গলদা ও বাগদার রেণু নিধন করছেন জেলেরা। জেলার বোরহানউদ্দিন, দৌলতখান, তজুমদ্দিন, লালমোহন, চরফ্যাশন উপজেলায় নদী ও ডুবোচর থেকে এসব রেণু আহরণ চলছে।

মশারি জাল, বিহিন্দীসহ বিভিন্ন ধরনের জাল দিয়ে চিংড়ির রেণু আহরণের সময় অন্য মাছের পোনাও ধ্বংস হচ্ছে। এসব রেণু ড্রাম ও পাতিলে ভরে একটি প্রভাবশালী চক্র খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে আসছে।

অভিযোগ উঠেছে, রেণু রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সদস্যদের যোগসাজশে জেলেরা এসব রেণু আহরণ করছেন। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁরা বলছেন, রেণু সংরক্ষণে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ভোলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, একটি রেণু আহরণের জন্য অন্য প্রজাতির ৯ থেকে ১২টি পোনা ধ্বংস হয়। এ ছাড়া ২০০ প্রজাতির মাছ ও বিভিন্ন প্রকার জলজ প্রাণীর খাদ্যকণা ধ্বংস হয়। যে কারণে মেঘনা নদীতে অন্য প্রজাতির মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব দিনে দিনে বাড়ছে। এসব বিবেচনায় নিয়ে ২০০১ সালে সরকার বাগদা ও গলদার রেণু আহরণ ও সংরক্ষণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

ভোলার বিভিন্ন উপজেলার মেঘনা নদীর পাড় ঘুরে দেখা গেছে, অন্তত ৯-১০ হাজার শিশু-কিশোরসহ নারী-পুরুষ রাতদিন মেঘনা ও মেঘনার ডুবোচরের বিভিন্ন স্থান থেকে গলদা ও বাগদার রেণু ধরছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলেদের অভিযোগ, বোরহানউদ্দিন, দৌলতখান, ভোলা সদর, তজুমদ্দিন, লালমোহন ও চরফ্যাশনের প্রভাবশালীরা এই রেণু ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন। প্রভাবশালী ও আড়তদাররা দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে অভাবগ্রস্ত লোকজনকে দিয়ে রেণু আহরণ করাচ্ছেন।

সম্প্রতি মেঘনার তীরবর্তী বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, অসংখ্য মানুষ রেণু শিকারের সঙ্গে শত শত প্রজাতির মাছ নিধন করছেন।

জানতে চাইলে রেণু সংগ্রহকারী একাধিক জেলে জানান, তাঁরা অবাধে রেণু সংগ্রহ করলেও কেউ বাধা দিচ্ছে না। স্থানীয় প্রশাসনকে ১৫ দিন বা এক মাস পরপর টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে শাস্তির মুখে পড়তে হয়। জেলেরা প্রতি হাজার রেণু ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি করেন। তবে এর বাজারমূল্য ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা বলে তাঁরা জানান।

রেণু আহরণের ঘাটগুলোর মধ্যে রয়েছে বোরহানউদ্দিন উপজেলার হাকিমুদ্দিন ঘাট, মৃজাকালু মাছঘাট, স্লুইসগেট ঘাট, নবাব মিয়ার হাটঘাট, আলীমুদ্দিন ঘাট ও বাংলাবাজার ঘাট; তজুমদ্দিনের সোনাপুর স্লুইসঘাট, তজুমদ্দিন মাছঘাট; লালমোহনের কাটাখালী ঘাট, মঙ্গল সিকদার ঘাট, বাতির খাল ঘাট; চরফ্যাশনের বেতুয়া ঘাট, চরফ্যাশন বড় স্লুইসঘাট (বেতুয়া) ও দক্ষিণ আইচা পাঁচ কপাট ঘাট।

জেলেরা জানান, প্রতিবার জাল ফেলে সাত থেকে আটটি রেণু পেলেও তার সঙ্গে উঠে আসছে শত শত প্রজাতির অসংখ্য মাছের পোনা। চিংড়ির পোনা আলাদা করে ড্রাম, মাটির পাত্র, বালতি, কলস ও অন্যান্য পাত্রে জিইয়ে রাখলেও অন্য প্রজাতির মাছের পোনাগুলো ডাঙায় অথবা চরে ফেলে দেওয়ায় সেগুলো মারা যাচ্ছে। এ ছাড়া মেঘনার বেড়িবাঁধের ওপর চরফ্যাশন, লালমোহন তজুমদ্দিন, বোরহানউদ্দিন, দৌলতখান উপজেলার সীমানার মধ্যে কয়েক শ রেণু কেনার অস্থায়ী অবৈধ আড়ত দেখা গেছে। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, কতিপয় প্রভাবশালী দালাল জেলেদের একপ্রকার জোরপূর্বক বিহিন্দী জাল, মশারি জাল ও কারেন্ট জাল দিয়ে রেণু নিধন করাচ্ছেন। ট্রলারে করে প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত লালমোহনের গজারিয়া খালগোড়া, নাজিপুর লঞ্চঘাট, দেবীর চর এলাকা দিয়ে রেণু পাচার হয়।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ দেব বলেন, ‘আমরা দৌলতখানে অভিযান অব্যাহত রেখেছি। এ ছাড়া বোরহানউদ্দিন, লালমোহন, তজুমদ্দিন, চরফ্যাশনে কঠোর অভিযান চালানো হবে। তবে আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে কিছু জানা নেই।’

জেলা কোস্ট গার্ডের দক্ষিণ জোনের গণমাধ্যম কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল হারুন-অর-রশীদ বলেন, ‘অবৈধভাবে গলদা ও বাগদার অভিযান চলমান রয়েছে। আমাদের কেউ টাকা নেওয়ার সঙ্গে জড়িত নন। তবে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বরিশাল অঞ্চলের নৌ পুলিশ সুপার কফিল উদ্দিন বলেন, ‘রেণু আহরণ বন্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে নৌ পুলিশের কেউ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




শেবাচিম হাসপাতালের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার দাবি

বরিশাল অফিস :: বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ। তারা অভিযোগ করেন, ডাক্তার, স্টাফ, দালাল ও হাসপাতালে রোগী আনা-নেওয়া করা অ্যাম্বুলেন্স চালকদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের কাছে সাধারণ মানুষ জিম্মি। তারা অবিলম্বে এই সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার দাবি তোলেন।

শুক্রবার রাত ৮টার দিকে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবা কমিটির নতুন সভাপতি ও পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব:) জাহিদ ফারুক শামীমের সঙ্গে নগরীর সর্বস্তরের মানুষের উন্মুক্ত সভায় এই দাবি তুলে ধরা হয়।

এ সময় অনেকে এই অবস্থা থেকে উত্তরণে হাসপাতাল পরিচালনায় সেনাবাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

শেবাচিম ও জেনারেল হাসপাতালে বিকল যন্ত্রে নাকাল রোগীরাশেবাচিম ও জেনারেল হাসপাতালে বিকল যন্ত্রে নাকাল রোগীরাবক্তারা আরও বলেন, হাসপাতালের আইসিইউ ও ডায়ালাইসিস-এর উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে হবে। ট্রলিতে রোগী আনা নেওয়ার ক্ষেত্রে স্টাফদের টাকা নেওয়া বন্ধ করতে হবে। হাসপাতালের নিরাপত্তার স্বার্থে পর্যাপ্ত আনসার সদস্য নিয়োগ করতে হবে।

সভায় বক্তব্য দেন এনজিও সংগঠক কাজী জাহাঙ্গির, জাসদ নেতা আব্দুল হাই মাহবুব, বাসদ সদস্যসচিব মনীষা চক্রবর্তী, বর্ষীয়ান তপন চক্রবর্তী, মানবাধিকার সংগঠক ডা. হাবিবুর রহমান, বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়্যারম্যন প্রফেসর মোহাম্মদ ইউনুস প্রমুখ।

ওই সভায় পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব:) জাহিদ ফারুক শামীম বলেন, এটি কোনো উৎসব মুখর অনুষ্ঠান নয়। আপনারা জানেন আমাকে শেবাচিম এবং বরিশাল সদর হাসপাতালের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মনোনয়ন করা হয়েছে। আমি রাজনীতিতে আসার পরে চেষ্টা করেছি বরিশালের মানুষের যাতে সেবা করতে পারি। ২০০৮ সাল থেকে ২০২৪ সালে এসে গত ২৩ জুন আল্লাহ দোয়া কবুল করেছেন। আমি মনে করি হাসপাতালের সেবা প্রদানের মাধ্যমে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের সেবা করতে পারব।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউনুস আলি সিদ্দিকী, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম, বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. মারিয়া হাসান, মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) মো. আলী আশরাফ ভূঞা, অ্যাডভোকেট কেবিএস আহমদ কবির প্রমুখ।




সচল হয়েছে সাবমেরিন ক্যাবল, ফের মিলবে দ্রুতগতির ইন্টারনেট




কুয়াকাটায় দেড় কেজি ওজনের কাঁকড়া, ১৫০০ টাকায় বিক্রি

বরিশাল অফিস :: পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় দেড় কেজি ওজনের একটি কাঁকড়া ধরা পড়েছে। পরে এটি ১৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) দুপুরে আন্ধারমানিক নদীতে এক জেলের জালে এই কাঁকড়া ধরা পড়ে। সন্ধ্যায় লেম্বুরবনের সাদ্দাম বাবুর্চির ফ্রায়ের দোকানে বিক্রির উদ্দেশ্যে তোলা হয়।

সাদ্দাম বাবুর্চি বলেন, ‘বিকেলে আন্ধারমানিক নদীতে এক জেলের জালে এই কাঁকড়া ধরা পড়ে। জেলের কাছ থেকে তিনি ১৫০০ টাকা দিয়ে কাঁকড়া কিনে রাখেন। রাতে পর্যটকদের দেখে পছন্দ হওয়ায় ২২০০ টাকা দিয়ে কেনার পর তাদের ফ্রাই করে বিক্রি করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এত বড় কাঁকড়া এবারই প্রথম তার দোকানে তিনি বিক্রি করেছেন।’