বরিশালের চিকিৎসা সমস্যা হাসপাতালকে দালাল ও সিন্ডিকেট মুক্ত করার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর

বরিশাল অফিস  :: বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে দালাল ও সিন্ডিকেট মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন বরিশাল ৫ আসনের সংসদ সদস্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কর্ণেল অবঃ জাহিদ ফারুক শামীম। ২৮ জুন শুক্রবার রাতে  জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত নাগরিক মতবিনিময় সভায় তিনি এই ঘোষণা দেয়ার পাশাপাশি হাসপাতালের বিদ্যমান চিকিৎসা সমস্যা নিয়ে নাগরিকদের দেয়া বিভিন্ন পরামর্শ  অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণেরও প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় আগামী তিনমাসের মধ্যে পুনরায় মতবিনিময় সভার মাধ্যমে কাজের অগ্রগতি ও ছয়মাসের মধ্যে তা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক।
গত ১৩ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করেছেন। দায়িত্ব পাওয়া মাত্রই তিনি দুটি হাসপাতালের বিদ্যমান চিকিৎসা সমস্যা নিয়ে নাগরিক মতবিনিময় সভার আহ্বান জানান। তার এই আহ্বানে মুগ্ধ ও বিস্মিত বরিশালবাসী দলমত নির্বিশেষে ছুটে আসেন শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে। শুধু বরিশাল নয়, বিভাগের ছয় জেলা থেকেই সাধারণ মানুষ ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের কাছে  আলোচিত হয়ে ওঠে জাহিদ ফারুকের এই আহ্বান। কেননা এরকম কিছু বরিশালের জন্য এটাই প্রথম ঘটনা । ১৯৬৪ সালে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রতিষ্ঠার পর অসংখ্য সভাপতি দায়িত্ব পালন করছেন এই হাসপাতালে। কোনোদিন কেউ এমন কিছু করেননি বলে স্পষ্ট মুগ্ধতা প্রকাশ করেন আগত ব্যক্তিবর্গের অনেকেই। যে কারণে  শুক্রবার বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত নাগরিক মতবিনিময় সভায় সাধারণ জনগণ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপচে পরা ভিড় চোখে পড়ে।  এমনকি মিলনায়তনে স্থানসংকুলানের অভাব দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত জায়গা না পেয়ে বাহিরে অপেক্ষমান ছিলেন অনেকে।
শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ সাইফুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে এ সময় দুটি হাসপাতালের বিদ্যমান চিকিৎসা সমস্যা নিয়ে মতবিনিময় করেন বরিশালের আইনজীবী, রাজনৈতিক, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ। ব্যবসায়ী সমাজ ছাড়াও হাসপাতালের নার্স ও ডাক্তাররাও তুলে ধরেন তাদের সমস্যা। আলোচনায় উঠে আসে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও এম্বুলেন্সসহ নানাবিধ সমস্যা। গুরুত্ব পায় দালাল চক্রের দৌরাত্ম এবং এম্বুলেন্স সিন্ডিকেট।  আলোচনায় অংশ নেন জাসদ নেতা সাইফুর রহমান মিরন সিনিয়র আইনজীবী তপন কুমার চক্রবর্তী,  নগর চিন্তাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক কাজী মিজানুর রহমান, বাসদ নেত্রী ডাঃ মনীষা চক্রবর্তী, উন্নয়ন সংস্থার প্রধান  কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন, মহিলা পরিষদের সভাপতি পুষ্পা চক্রবর্তী, চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান মুন্না, সাংবাদিক নেতা এসএম জাকির,  সাংবাদিক সোহাগ হাসান সহ আরো অনেকে মতবিনিময় করছেন।
এ সময় ডাঃ মনীষা হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যার পাশাপাশি রেডিওথেরাপি মেশিন, এমআরআই মেশিন এবং অভিজ্ঞ চিকিৎসক না থাকা নিয়ে কথা বলেন।
কাজী মিজানুর রহমান পুরো হাসপাতালের অভ্যন্তরে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, কর্মীদের ইউনিফর্ম ব্যবহার এবং পরিচালকের দায়িত্বে সামরিক বাহিনীর লোক নিয়োগের প্রস্তাব করেন।  হাসপাতালে নিরাপত্তা প্রহরী ও দর্শনার্থীদের সাউন্ড সিস্টেম ও ইন্টারকমের আওতায় আনার প্রস্তাব করেন হাসপাতালের একজন চিকিৎসক ডাঃ সৌরভ। সাংবাদিক নেতা এসএম জাকির ডায়ালাইসিস ও আইসিইউ সমস্যা নিয়ে কথা বলেন। তুলে ধরেন এম্বুলেন্স সিন্ডিকেট ও হাসপাতালের ৩০০ গজের ভিতর কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টার না থাকার বিষয়টি।
সকলের বক্তব্য শোনার পাশাপাশি সমস্যাগুলো লিখিত নোট গ্রহন করেন দুটি হাসপাতালের নতুন সভাপতি এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম এমপি।
তিনি সবাইকে আশ্বস্ত করেন এবং বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে বরিশালের দুটি হাসপাতালের চিকিৎসা ও সেবার মানে অনেক পরিবর্তন ঘটবে। আমি মনে করি বরিশালের  মানুষের সেবা করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থান এই হাসপাতাল। তাই এই দুটি হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে আমার অন্যতম দায়িত্ব। আমি এখানে কথা দিলাম, আগামী তিনমাসের মধ্যে আপনারা এই পরিবর্তন দেখতে পাবেন।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, প্রতি তিনমাস পর পর আমাদের এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং ছয়মাসের মধ্যে কাজের উন্নতি দৃশ্যমান হবে ইনশাআল্লাহ।
সভাপতি ডাঃ সাইফুল ইসলাম ছাড়াও এসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান তমাল পারভেজ, সিভিল সার্জন  ডাঃ মারিয়া হাসান, উপপুলিশ কমিশনার আলী আশরাফ ভুইয়াসহ আরো অনেকে।



পটুয়াখালীতে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে মানববন্ধন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে কলাপাড়া নাগরিক উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৯ জুন) সকাল ১১টায় শহীদ সুরেন্দ্র মোহন চৌধুরী সড়কের মনোহরী পট্টিতে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন নাগরিক উদ্যোগ আহবায়ক কমরেড নাসির তালুকদার।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ফজলুর রহমান সিকদার, ধানখালী ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মো. জিসান আলমগীর সহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

মানববন্ধনে বক্তারা কলাপাড়ায় বিদুৎতের নানা অনিয়মের প্রতিবাদ জানিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতের দাবি জানান।

আরো পড়ুন : পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ম ইউনিট বন্ধ, বেড়েছে লোডশেডিং

এসময় তারা বলেন, তাপবিদ্যুতের জন্য কলাপাড়ার মানুষ বাড়িঘর, মসজিদ, মন্দীর, গোরস্থান সবকিছু দিয়ে তারা বাস্তহারা হয়েছে। তাই এখান থেকে উৎপাদিত বিদ্যু সরাসরি কলাপাড়াবাসিকে দিয়ে অন্যত্র বিতরণ করতে হবে।
এছাড়াও চলমান এই পরিস্থিতির উন্নতি না হলে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত না করলে লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা দেন তারা।




পাথরঘাটায় অগুনে ৪ দোকান পুড়ে ছাই

বরিশাল অফিস :: বরগুনার পাথরঘাটায় অগুনেণ্ডে চারটি দোকান ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। কিভাবে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে তা জানা যায়নি। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে পাথরঘাটা পৌর শহরের উকিল পট্টিতে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

জানা গেছে, পাথরঘাটা উপজেলা চেয়ারম্যান এনামুল হোসাইন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রোকনুজ্জামান খান, ওসি মো: আল মামুন তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে আসেন।

পাথরঘাটা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম কাকন বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে তথ্য পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় এবং স্থানীয় জনগণ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলেও চারটি দোকান পুড়ে গেছে। এছাড়া ভেতরে আবাসিক ভবনে কিছু সংখ্যক মানুষ আটকা পড়েছিল তাদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। মালের ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও মানুষের কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে উদ্ধারকর্মীরা আগুন নেভাতে গিয়ে কয়েকজন আহত হয়েছে।

তিনি আরো জানান, পাশে একটি বিল্ডিং থাকাতে আগুন বেশি দূর যেতে পারেনি। যদি বিল্ডিং না থাকতো তাহলে পৌর শহরের অধিকাংশ দোকানপাট পুড়ে যেত।

পাথরঘাটা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে তদন্ত চলছে। এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।




ভোলায় ঘরে পালিত হরিণ শাবকের শেষ ঠিকানা কোথায়?

বরিশাল অফিস :: ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার বন বিভাগের বিএম (বোটম্যান) নুরুউল্ল্যাহর ঘরে সন্তান মমতায় বেড়ে ওঠা হরিণ শাবকের বয়স ৫ মাস ২ দিন। নাম রাখা হয় শশী। এটি লোকালয়ে ঘুরে বেড়াতে অভ্যস্ত। ভাতের মার, ভাত, মুরি, চানাচুর, বিস্কুট, চা, দুধ সবই খেতে পছন্দ তার। লতাপাতাও খায়। এলাকার শিশুদের সঙ্গে ছুটোছুটিতে তার সখ্যতাও রয়েছে।

প্রশ্ন দেখা দিয়েছে শশীর শেষ ঠিকানা কোথায় হবে?’ বন বিভাগ শশীকে বনে মুক্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দু-একদিনের মধ্যে বনে ছেড়ে দেওয়া হবে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

এদিকে প্রাণী বিশেষজ্ঞ জেলা সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা দেবাশীষ কুমার কুণ্ডু জানান, হরিণ বন্যপ্রাণী হলেও এটি পোষ্য। যেহেতু বাচ্চা হরিণটি লোকালয়ে বেড়ে উঠেছে তাই এটিকে বনে অবমুক্ত না করে সাফারি পার্ক বা চিড়িয়াখানা এমন প্রতিষ্ঠানে দেওয়া যেতে পারে।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক জানান, নিয়ম অনুযায়ী বনের প্রাণী পাওয়া গেলে তাকে বনে অবমুক্ত করতে হয়। যেহেতু হরিণ শাবকটি লোকালয়ের পরিবেশে মানিয়ে চলছে। তাই এ নিয়ে তাদের নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।




গৌরনদী পৌরসভাও হাতছাড়া হলো আবুল হাসানাতের

বরিশাল অফিস :: উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের পরে গৌরনদী পৌরসভার মেয়রও হাতছাড়া হয়েছে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ্র অনুসারীর। গৌরনদী পৌরসভার মেয়র নির্বাচনে হাসানাতের প্রকাশ্যে সমর্থন পাওয়ার পরেও মেয়র পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এইচএম জয়নাল আবেদীন বিপুল ভোটে হেরেছেন। তার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন সরকারি গৌরনদী কলেজের সাবেক জিএস মো. আলাউদ্দিন ভূঁইয়া।

ঘোষিত ফলাফলে নারিকেল গাছ প্রতীকের আলাউদ্দিন ভূঁইয়া পেয়েছেন ১০ হাজার ৫৪৪ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ্ সমর্থিত জয়নাল আবেদীন মোবাইল ফোন প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৪ হাজার ৭৮৬ ভোট। এ ছাড়া নির্বাচনে অংশ নেওয়া অপর দুই মেয়র প্রার্থীর মধ্যে চামচ প্রতীকের সিকদার সফিকুর রহমান রেজাউল পেয়েছেন ৪৬৬ ভোট এবং জগ প্রতীকের মো. মফিচুর রহমান রিপন পেয়েছেন ২২৪ ভোট।

উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈকত গুহ পিকলু বলেন, ‘গৌরনদীর সন্ত্রাস ও রাজনৈতিক কর্তৃত্ববাদের প্রতিবাদের সব স্তরের মানুষ উপজেলা নির্বাচনে হারিচকে (মো. হারিছুর রহমান) বাদ দিয়ে মনিরকে বিজয়ী করেছেন। একই ভাবে হাসানাত ভাই সমর্থিত প্রার্থী জয়নাল আবেদীনের ঘাড়ে হারিচ চেপে বসায় জয়নালকেও পরাজিত করেছেন সাধারণ মানুষ।’

এর আগে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রথম ধাপে উপজেলা পরিষদের আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ্ সমর্থিত প্রার্থী মনিরুল ইসলাম সদর উপজেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামানত হারিয়েছেন। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে মুলাদি থেকে তার সমর্থিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তরিকুল ইসলাম মিঠু পরাজিত হয়েছেন।

আসনের আগৈলঝড়া থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবদুর রইস সেরনিয়াবাত এবং গৌরনদী থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারিছুর রহমান হারিচ বিপুল ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন। চতুর্থ দফায় বাবুগঞ্জ থেকে সর্দার খালিদ হোসেন স্বপন আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর সমর্থন নিয়ে ভোটে পরাজিত হন। এতে করে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ্ অনেকটা ক্ষুণ্ন হয়েছেন। পাশাপাশি ওই সব পরাজিত নেতাদের প্রভাবও কমেছে। একের পর এক উপজেলা নির্বাচনে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ সমর্থিত প্রার্থীদের পরাজয়ের কারণে বর্ষীয়ান এই নেতার প্রভাবও অনেকটা কমবে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেন, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে যে ভুল ছিল, তার খেসারত তিনি দিয়েছেন। এত দিন নৌকা প্রতীক নিয়ে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নির্বাচনি বৈতরণী পার করেছেন তিনি। উপজেলা নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থীদের পরাজয়ের পরে হাসানাত আবদুল্লাহর শেষ ভরসা ছিল গৌরনদীর পৌরসভা মেয়র নিয়ে। কিন্তু সেটিও তার হাতছাড়া হয়েছে। এতে করে উপজেলায় তার যে প্রভাব ছিল তা অনেকটা স্তিমিত হবে। দলীয় বিভাজনও দীর্ঘ হবে।

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস বলেন, ‘উপজেলা ও গৌরনদী পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের মধ্যে কোনো ধরনের বিভাজন হওয়ার সুযোগ নেই। নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় নেতা-কর্মীরা পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। এ নিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে হয়তো মান-অভিমান হয়েছে। তবে বরিশালে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবক আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। এতে দলের কোনো ক্ষতি হবে না।’




বরিশালে গাঁজাসহ ৪ কারবারি আটক

বরিশাল অফিস :; জেলায় পৃথক অভিযান চালিয়ে সাত কেজি গাঁজাসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৮ জুন) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেল।

জানানো হয়, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল বরিশাল নদী বন্দর এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় ঝালকাঠি জেলার নলছিটি পৌরসভার ভাংগা দেউলা এলাকার মো. ওহিদুল ইসলাম ওরফে বাদল (৬২) ও মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর থানাধীন উত্তর কোলাপাড়া এলাকার আম্বিয়া খাতুনকে (৬০) দুই কেজি গাঁজাসহ আটক করা হয়।

অপরদিকে এর আগে অপর এক অভিযানে পাঁচ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মিডিয়া সেল জানায়, নগরের বৈদ্যপাড়া ও গোরস্তান রোড এলাকায় পৃথক দুইটি বাসায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বরগুনা জেলার বামনা থানাধীন হোগলপাতি এলাকার মো. মেহেদি হাসান (২৯) ও বরিশালের মুলাদী পৌর এলাকার তেরচর এলাকার মোসা. জোসনা বেগমকে (৩৮) আটক করা হয়। তাদের কাছে থেকে ৫ কেজি ১০০ গ্রাম গাঁজা, মাদক বিক্রির ১৩ হাজার টাকা, একটি মোটরসাইকেল ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. ছগির হোসেন জানান, উভয় অভিযানের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করা হয়েছে। এছাড়া অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে বরিশাল নগরের কাশিপুর এলাকার বাসিন্দা ও মাদক কারবারি হেলাল বয়াতি ওরফে হেলাল ভাণ্ডারি পালিয়ে গেছেন।




প্যারাগুয়েকে উড়িয়ে জয়ে ফিরল ব্রাজিল

বরিশাল  অফিস :: ম্যাচের ৩০ মিনিটে পেনাল্টির বাঁশি বাজালেন রেফারি। পেনাল্টি নিলেন ব্রাজিলের লুকাস পাকেতা।
গোল করতে ব্যার্থ হলেন তিনি। হতাশায় ভেঙে পড়ল ব্রাজিল সমর্থকরা। তবে নাটকীয়তার তখনও ঢের বাকি। প্রথমার্ধেই ৩-০ গোলে এগিয়ে গেলো সেলেসাওরা। প্যারাগুয়ে প্রতিরোধ গড়তে চেষ্টা করলেও তা ধোপে টেকেনি। ব্রাজিল জয় পেয়েছে ৪-১ গোলে।

কোপা আমেরিকায় নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল ব্রাজিল। যুক্তরাষ্ট্রের আলিগান্ট স্টেডিয়ামে শুরুতেদুই দল লড়াই করলো সমান ভাবে। দুই দলই বেশ কিছু গোলের সুযোগ তৈরি করলেও এগিয়ে যেতে পারছিল না। ৩০ মিনিটে বক্সের মধ্যে আন্দ্রেস কুবাসের হ্যান্ডবলের কারণে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। তবে টা কাজে লাগাতে পারেননি ব্রাজিলের পাকেতা।

তবে ৪ মিনিট পরেই দলকে এগিয়ে নেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। পাকেতার যোগান দেয়া বলে বক্সের মাজ থেকে ডান পায়ের জোরালো শটে দলকে এগিয়ে নেন তিনি।

এরপর প্রথমার্ধের বাকিটা সময় আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে ব্রাজিল। যার ধারাবাহিকতায় ৪৩ মিনিটে সাভিনহোর গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ব্রাজিল।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে দুই দলের ফুটবলাররা। হলুদ কার্ড দেখেন দুই দলের দুই ফুটবলার ওয়েন্ডেল (ব্রাজিল) এবং বলবিনা ( প্যারাগুয়ে)। খেলা শুরু হতেই দলের ব্যবধান ৩-০ করেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। প্যারাগুয়ের ফুটবলার ওমর আলদেরেতের ভুলে গোলে হজম করতে হয় তার দলকে। নিজের ভুল মেনে নিয়ে জিভে কামড় দিয়ে হাত তুলে ক্ষমা চেয়ে নেন তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করেন তিনি। ৪৮ মিনিটে সতীর্থের যোগান দেয়া বলে বক্সের বাইরে থেকে বা পায়ের বুলেট শটে বটম কর্নারে জাল কাপান আলদেরেতে (৩-১)।

দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলের বিপক্ষে বক্সের বাইরে থেকে আক্রমণ করে আগাতে চাইছিল প্যারাগুয়ে। বার বারই দূরপাল্লার শটে ব্রাজিলের রক্ষণের পরীক্ষা নিচ্ছিলেন তারা। তবে ৬৩ মিনিটে আবারও পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। আবার আর গোল করতে ভুল করেননি পাকেতা।

৬৩ মিনিটে ম্যাথিয়াস ভিলাসন্তির বক্সের ভেতর হ্যান্ডবল হলে দ্বিতীয় পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। প্রথমবার গোল করতে না পারলেও এইবার প্যারাগুয়ের গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে দলকে এগিয়ে দেন পাকেতা (৪-১)। ৮৭ মিনিটে প্যারাগুয়ে ব্রাজিলের জালে বল জড়ালেও অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়।

এই জয়ে ডি গ্রুপে দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকলো ব্রাজিল। ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষ আছে কলম্বিয়া। দুই ম্যাচে দুই হার নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকলো প্যারাগুয়ে।




রাজার কন্যার অন্ধত্ব ঘোচাতে দিঘি খনন, দেখে আসবেন যেভাবে

বরিশাল অফিস :: প্রতিদিন হাজারো মানুষের সুখ-দুঃখ কিংবা অবসরের সঙ্গী হয় এই দিঘি। কেউ পাড়ে বসে জমিয়ে দিয়েছে আড্ডা, কেউ বড়শির শিকারে একের পর এক তুলে আনছেন বড় বড় মাছ, কেউ বা শরীর চর্চায় ব্যস্ত। দিঘির শীতল পানিতে নিজেকে চুবিয়ে রাখতেও এই দিঘি অনন্য। বলা হচ্ছে ফেনী শহরের ‘মধ্যমণি’ রাজাঝির দিঘির কথা। যেটির আছে সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং লোকমুখে প্রচলিত নানা মিথ।

রাজাঝির দিঘি ফেনীর কয়েকশ’ বছরের ঐতিহ্য। জেলার জিরো পয়েন্টে ও ফেনী ট্রাংক রোডের সংযোগস্থলে এটি অবস্থিত। এ দিঘিটি ফেনীর শতবর্ষের ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থানের একটি। এত বছরেও দিঘির স্বচ্ছ জল রূপ-সৌন্দর্য্য আজও কিছুটা ধরে রেখেছে।

জনশ্রুতি আছে, ত্রিপুরা মহারাজের একজন রাজার কন্যার অন্ধত্ব দূর করার মানসে এ দিঘি খনন করেন। স্থানীয় ভাষায় কন্যাকে ঝি বলা হয় তাই দিঘিটির নামকরণ করা হয় ‘রাজাঝির দিঘি’। ফেনী অঞ্চলের মানুষ কন্যাকে আঞ্চলিক ভাষায় ঝি বলে থাকে। ফলে দিঘিটি খননের পর থেকেই রাজাঝির দিঘি বা রাজনন্দিনীর দিঘি নামে পরিচিত হয়ে উঠে।

ফেনীর প্রথম মহকুমা প্রকাশক কবি নবীন চন্দ্র সেন তার ফেনীর কথা বইতে (১৮৭৬) লিখেছেন, শোনা যায়, ফেনীর এই দিঘির জল এত চমৎকার ছিল যে, জনৈক ব্যক্তির পরিবার ম্যালেরিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে কঙ্কালসার হয়েছিলেন, এবং এই দিঘির জল পান করে আরোগ্য লাভ করেছিল। ফেনীর বিভিন্ন গ্রামের ও ট্রাংক রোডের শত শত মানুষ এই দিঘির জল পান করিত। উহা ফেনীর জীবন ও শোভা, এমন বলিলেও হয়।

১৮৭৫ সালে ফেনী মহকুমা প্রতিষ্ঠিত হলে তার সদর দফতর গড়ে তোলা হয় এই রাজাঝির দিঘির পাড়ে। তবে ১৯৮৪ সালে ফেনী জেলা হওয়ার পর অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়। তবে কিছু ভবন এখনও পরিত্যক্ত হিসেবে পড়ে রয়েছে। দিঘির পাড়ে বর্তমানে ফেনী সদর থানা, ফেনী কোর্ট মসজিদ, অফিসার্স ক্লাব, ফেনী রিপোর্টাস ক্লাব, জেলা পরিষদ পরিচালিত শিশু পার্কসহ ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন রয়েছে।

জনসাধারণের বিনোদন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে চলাফেরার সুবিধার জন্য রাজাঝির দিঘির দুই পাশে কার্পেটিং রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। দিঘির পাড়ের নিচে চলাফেরার সুবিধার জন্য রাস্তা, দিঘিতে নামার জন্য উন্নতমানের সিঁড়ি, মাঝে মাঝে খালি জায়গায় বৃক্ষ রোপণ, বসার জন্য বেঞ্চ স্থাপনসহ পর্যাপ্ত লাইটিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

দিঘির জল যাতে সবাই স্পর্শ করতে পারে, সেইজন্য তিন পাশে পাঁচটি সিঁড়ি হয়েছে। দিঘিতে ময়লা আবর্জনা যাতে বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে গড়িয়ে পড়তে না পারে তার জন্য চারপাশ উঁচু করা হয়েছে। বর্তমানে দিঘির পানি পানের ও ব্যবহারের উপযোগী।

কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী যেকোনো পরিবহণের বাসে ফেনীর মহিপাল যাওয়া যায়। তবে স্টার লাইন পরিবহণ সবচেয়ে ভালো। মহিপাল বাস ষ্ট্যান্ড থেকে রিকশা বা সিএনজি ভাড়া করে রাজাঝির দিঘি পৌঁছাতে পারবেন। এছাড়া চট্টগ্রামগামী ট্রেনে ফেনী রেলওয়ে স্টেশনে এসে একইভাবে রাজাঝির দিঘি দেখতে যেতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন

ফেনী শহরের অবস্থিত আবাসিক হোটেলের মধ্যে বেস্ট ইন হোটেল, হোটেল মিড নাইট এবং হোটেল গাজী ইন্টারন্যাশনাল অন্যতম। এছাড়া অনুমতি নিয়ে ফেনী সার্কিট হাউস, ফেনী জেলা পরিষদ ডাকবাংলো, এলজিইডি রেস্ট হাউস, পানি উন্নয়ন বোর্ডের রেস্ট হাউস এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির রেস্ট হাউসে রাত্রিযাপন করতে পারবেন।




কুয়েতে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ৩০ জুনের পর সাঁড়াশি অভিযান

বরিশাল অফিস :: ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি বা দেশ ত্যাগ করার সময়সীমা দুই সপ্তাহ বাড়ানোর পরেও যারা এখনো অবৈধ হিসেবে অবস্থান করছে তাদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালাবে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সর্বস্তরের নিরাপত্তা বাহিনী। অবৈধ অভিবাসীদের ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি বা দেশ ত্যাগ করার সময়সীমা শেষ হচ্ছে আগামী রোববার (৩০ জুন)।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শেখ ফাহাদ ইউসুফ সৌদ আল-এর নির্দেশে সুরক্ষা, আবাসিক বিষয়ের তদন্ত, অপরাধ তদন্ত, উদ্ধার এবং বিশেষ পরিষেবা অধিদফতর এ অভিযান পরিচালনা করবে।

ব্যাপক নিরাপত্তা অভিযানের লক্ষ্য হল রেসিডেন্সি আইন লঙ্ঘনকারীদের নির্মূল করা; এমনকি যারা খামার, চালা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে আছেন। যারা এই লঙ্ঘনকারীদের আশ্রয় দেয় তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, অবৈধ অভিবাসীদের রাখার জন্য চারটি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। সেগুলো হলো- নির্বাসন কারাগার, সুলাইবিয়া কারাগার কমপ্লেক্সে কিশোর কল্যাণ বিভাগের ভবন, আবাসন বিভাগ এবং জাতিসংঘের রাউন্ডঅবাউট (পূর্বে আল-আজহাম) বরাবর রেসিডেন্সি ইনভেস্টিগেশন জেনারেল ডিপার্টমেন্ট ভবনে আটক বিভাগ ভবন।

এসব স্থানে প্রায় তিন হাজার ৫০০ জনকে রাখা যাবে। তবে এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হল তাদের ভ্রমণ নথি সংগ্রহ করার জন্য তাদের দূতাবাসগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা। এদিকে, একটি প্রেস বিবৃতিতে, মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিষয়ক সহকারী আন্ডার সেক্রেটারি মেজর জেনারেল আবদুল্লাহ সাফাহ আল-মুল্লা, যিনি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে মাঠের প্রচারণার প্রধান ছিলেন, সম্প্রতি জননিরাপত্তা বিষয়ক সহকারী আন্ডার সেক্রেটারি মেজর এর সঙ্গ একটি সমন্বয় বৈঠক করেছেন। বৈঠকে জেনারেল হামাদ আল-মুনাইফিয়ান এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সেক্টরের কর্মকর্তারা মন্ত্রীর নির্দেশনা জানান।

তারা রেসিডেন্সি অ্যাফেয়ার্স জেনারেল ডিপার্টমেন্টে এই ধরনের সংশোধনের জন্য আইন লঙ্ঘনকারীদের অবস্থা সংশোধন করার প্রচেষ্টা, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা প্রবাসীদের জন্য সব ধরনের আরামের অব্যাহত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং নিরাপত্তা পদ্ধতি সম্পূর্ণ করার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। তারা আইন লঙ্ঘনকারীদের গ্রেফতার করার জন্য বিভিন্ন গভর্নরেটে নিরাপত্তা এবং পরিদর্শন প্রচারাভিযান চালানোর বিষয়ে আলোচনা করেছেন। বৈঠকে, আল-মুল্লা মাঠ নিরাপত্তা খাতগুলোর সম্পূর্ণ সতর্কতা এবং প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছিলেন, পাশাপাশি আইনটি কঠোরভাবে প্রয়োগ করার জন্য তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টার উপর জোর দিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, আগামী দুই বছরের মধ্যে অবৈধ অভিবাসি মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। তারই অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।




দুটি লোহার ব্রিজ নেই হয়ে যাওয়ার গল্প, একটি এখন বাঁশের সাঁকো

বরিশাল অফিস :: পিরোজপুরের নাজিরপুরে দীর্ঘা ইউনিয়নের শহীদ জননী কলেজ থেকে ঘোষকাঠী রাস্তায় থাকা দুটি লোহার ব্রিজের একটিও নেই। একটিতে রাস্তা তৈরির জন্য বক্স কালভার্ট ও অন্যটিতে স্থানীয়দের সহায়তায় বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে।

ওই দুটি লোহার ব্রিজের একটির অবস্থান ছিল এ রাস্তাটির সলেমান শিকদারের বাড়ি সংলগ্ন চালিতাবড়ি খালের উপর। অপরটি ছিল ভূমি অফিসের পিছনে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দুটি ব্রিজেরই লোহার মালামাল খুলে নিয়ে গেছেন একজন ইউপি সদস্য। এ ব্যাপারে তারা উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগও করেছেন।

স্থানীয়দের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘা ইউনিয়েনের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রাজিব শিকদার এই দুটি ব্রিজের মালামাল খুলে নিয়ে যান। পরে ওই মালামালের কিছু অংশ বিক্রি করেন আর বাকী অংশ বাড়িতে রেখে দেন।

স্থানীয়রা জানান, ওই ইউপি সদস্য ব্রিজের ১০-১২ টনের বেশি লোহার মালামাল প্রকাশ্যে খুলে নিয়েছেন। স্থানীয়রা তখন এ কাজে বাধা দিলেও বিষয়টি চেয়ারম্যান জানেন বলে ইউপি সদস্য তাদের জানান।

সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, ওই রাস্তার দুটি লোহার ব্রিজের একটিও নেই। একটিতে রাস্তা তৈরির জন্য বক্স কালভার্ট ও অন্যটিতে সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। ইউপি সদস্যের বাড়ির সামনের উঠানে ব্রিজের লোহার দুটি পিলার ফেলে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় লুৎফর শিকদার জানান, চালিতাবাড়ির খালের উপর গার্ডার ব্রিজ তৈরির করে দেওয়ার কথা বলে গত ১৪ জুন ইউপি সদস্য লোহার ব্রিজটি ভেঙে নিয়ে যান।

স্থানীয় কদম আলী শিকদার নামে আরেকজন জানান, ব্রিজটি ভেঙে নেওয়ার পর সাধারণ মানুষের চলাচলে সমস্যা হওয়ায় স্থানীয়দের সহায়তায় সেখানে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে।

তবে দীর্ঘা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশুতোষ বেপারী জানান, বিষয়টি তিনি জানেন না। আর এই বিষয়ে তার কাছে কেউ অভিযোগ করেননি। উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন মিয়া বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য রাজীব শিকদার এ অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, তাকে ফাঁসাতে এমন মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে।