বরিশালে অ্যাস্ট্রো-অলিম্পিয়াডের বাছাই পর্ব ১২ জুলাই

বরিশাল অফিস :;:  জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়কে বাংলাদেশে জনপ্রিয় করার জন্য আগামী ১২ জুলাই বরিশালে অনুষ্ঠিত হবে ১৯তম অ্যাস্ট্রো-অলিম্পিয়াড ২০২৪ এর বাছাই পর্ব। বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল এসোসিয়েশনের আয়োজনে ও প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব, বরিশালের ব্যবস্থাপনায় এই প্রতিযোগিতায় ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী স্কুল এবং কলেজ পর্যায়ের ছাত্র/ছাত্রীরা অংশ নিতে পারবে।

জাহানারা ইসরাইল স্কুল এন্ড কলেজ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে বরিশাল বিভাগের ২’শ শিক্ষার্থী। তাদের থেকে ৪০ জনকে বাছাই করা হবে। এর মধ্যে ২০ জন সিনিয়র গ্রুপ এবং ২০ জন জুনিয়র গ্রুপে থাকবে।

শনিবার (২৯ জুন) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব, বরিশালের সভাপতি অধ্যাপক মো. মফিজুর রহমান লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি আরো জানান, প্রাথমিক বাছাই পর্বে উত্তীর্ণদের নিয়ে আগামী ৩ আগস্ট ২০২৪ তারিখে ঢাকায় আয়োজন করা হবে ‘এপেক্স অ্যাস্ট্রো-অলিম্পিয়াড’ জাতীয় পর্ব। জাতীয় পর্ব থেকে সিনিয়র গ্রুপের ১৫ জন এবং জুনিয়র গ্রুপের ১৫ জনসহ মোট ৩০ জনকে নিয়ে ২১-২৪ আগস্ট ২০২৪ তারিখে ৪ দিনের আবাসিক ক্যাম্প এবং চূড়ান্ত বাছাই করা হবে। আবাসিক ক্যাম্প থেকে নির্বাচিত ৫ জন প্রতিযোগী আসন্ন ২৮তম আন্তর্জাতিক অ্যাস্ট্রো-অলিম্পিয়াড-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে। প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব, বরিশালের সাধারণ সম্পাদক এলর্বাট রিপন বল্লভ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এপেক্স অ্যাস্ট্রো-অলিম্পিয়াড বরিশাল বিভাগীয় আয়োজক কমিটির সমন্বয়ক সাংবাদিক সাঈদ পান্থ।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব, বরিশালের উপদেষ্টা এসএম শেলী, জাহানারা ইসরাইল স্কুল এন্ড কলেজের প্রিন্সিপাল সত্যজিৎ রায়, সেলিনা আক্তার হেনাসহ প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের সদস্যবৃন্দ।




পি‌রোজপুরে এসআই প‌রিচ‌য়ে ৮ বি‌য়ে!

বরিশাল অফিস :: পড়াশুনায় চতুর্থ‌ শ্রেণি পাশ। কিন্তু প‌রিচয় দেন পু‌লি‌শের এসআই গো‌য়েন্দা (ডি‌বি)! আবার মা‌ঝে মা‌ঝে ডিএস‌বি প‌রিচয় দি‌য়ে প্রথ‌মে প্রেমের ফাঁদে ফে‌লে বি‌য়ে ক‌রে লু‌টে নেয় টাকা, স্বর্ণসহ মূল‌্যবান সামগ্রী।

এভা‌বেই প‌রিচয় দি‌য়ে সম্প্রতি ৮তম বি‌য়ে করে‌ন ম‌নির ওর‌ফে এসআই আমিনুল ইসলাম না‌মের এক প্রতারক। প্রতারক ম‌নির পি‌রোজপুর জেলার না‌জিরপুর উপ‌জেলার ৫ নম্বর শাখারিকাঠী ইউনিয়নের ঘোপের খাল গ্রামের ময়ূর শে‌খের ছেলে।

জানা যায়, প্রতারক ম‌নির সম্প্রতি রো‌কেয়া আক্তার দীনা (৪৮) নামের এক ম‌হিলার সা‌থে দুই বছর ধ‌রে ভুয়া পু‌লিশের এসআই প‌রিচয় দি‌য়ে প্রেমের সম্প‌র্ক তৈরি ক‌রে ৮তম বিবাহ ক‌রে।

দিনার বর্তমান বা‌ড়ি ঢাকার শ‌্যামপুর থানার ধোলাইপাড় এলাকার যু‌ক্তিবাদী মস‌জিদ-সংলগ্ন এলাকার নিজস্ব বাড়ি দিনা ভিলা ৫৮/ক। মূলত দিনা গোপালগঞ্জ জেলার টুংগীপাড়া উপ‌জেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের মরহুম আব্দুল মোতা‌লেব শেখের মে‌য়ে। দিনার পূ‌র্বের স্বামী মরহুম আলমগীর হোসেন, তি‌নি ক‌রোনাকালীন সময় মৃত্যুবরণ ক‌রেন। তার বা‌ড়ি ঢাকার বিক্রমপুর এলাকায়।

ভুক্ত‌ভোগী দিনা জানান, আমি ২০ বছর কুয়েত ছিলাম। করোনোর সময় দেশে আসি। দেশে আসার কিছুদিন পর আমার স্বামী মারা যায়। আমার পাঁচ মেয়ে বিবাহ দিয়ে আমি অভিভাবকহীন হয়ে পড়ি । তখন মেয়েদের সাথে আলোচনা করে একাকীত্ব দূর করতে আগের পরিচিত প্রতারক (এসআই আমিনুল ইসলাম) ওর‌ফে মনিরকে বিয়ে করি। বিয়ের পর থেকেই মনির নানা সময় নানাভাবে আমার কাছ থেকে নগদ অর্থ ব‌্যবহৃত স্বর্ণ তিন ভ‌রি, আমার বাড়ির দলিল, বিয়ের কাবিননামাসহ মোট পাঁচ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন।

গত ২৫ জুন আমাকে আমার মালামাল, টাকা ও স্বর্ণ নিয়ে নাজিরপুর আসতে বললে আমি চলে আসি। সেদিন রাতে আমার ওপর নির্মম অত্যাচার চালায়। মারধর করে রাতে আমাকে রাস্তায় ফেলে রাখে। স্থানীয়রা হাসপাতালে ভর্তি করে রেখে যায়। এক ভ্যানচালকের মাধ্যমে মনিরের বাড়ির খোঁজ পেয়ে এখানে আসি। আমার সাথে প্রতারণা ও নির্যাতনের বিচার চাই।

মনিরের বাবা মো: ময়ুর শেখ ছেলের কু-কৃতির কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনিও বিচার চান এমন প্রতারক ছেলের।
ছেলের বিয়ে সম্পর্কে তিনি জানান, প্রথম স্ত্রী দুই সন্তানসহ ঢাকায় কাজ করেন। এভাবে একে একে আটজন স্ত্রীর আছে মনিরের। মনির ছোট বেলা থেকে দুরন্ত প্রকৃতির লোক। এবার যদি ছেলে মনির ভালো না হয় এলাকাবাসীদের নিয়ে নিজে জেলে দিয়ে আসবেন।

পি‌রোজপুরে না‌জিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: শাহ আলম হাওলাদার জানান, এখনো কোনো অভিযোগ পাই নাই, পে‌লে আইনগত ব‌্যবস্থা গ্রহণ করব।




শেবাচিম হাসপাতালে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শ্রমিকের মৃত্যু

বরিশাল অফিস :: বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের নির্মাণাধীন একটি ভবনে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আরিফুর রহমান (২২) নামের এক শ্রমিক মারা গেছেন। শনিবার (২৯ জুন) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আরিফুর কুড়িগ্রামের কচাকাটা থানার মাদারগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা রবিউল শেখের ছেলে।

জানা গেছে, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পাশে ইমেজিং ও ডায়াগনস্টিকের জন্য চারতলা নির্মাণাধীন ভবনের ওয়েল্ডিং হেলপার হিসেবে কাজ করতেন আরিফুর রহমান। আজ শনিবার বিকেলে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গুরুতর আহত হন তিনি। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিচুল হক বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। নিহতের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। তারা এলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




আঙ্গা‌রিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম‌্যা‌নের বাড়ি থে‌কে সরকারি চাল জব্দ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দুমকী উপ‌জেলার আঙ্গা‌রিয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম‌্যান ‌সৈয়দ গোলাম মর্তুজা শুক্কুর মিয়ার বাড়ি থে‌কে প্রায় সা‌ড়ে ১৭টন সরকারি ‌ভি‌জিএফের চাল জব্দ ক‌রা হয়ে‌ছে।

শনিবার (২৯ জুন) রাত সা‌ড়ে ১০টার দিকে দুমকী থানা পু‌লি‌শের সহায়তায় উপ‌জেলা নির্বা‌হী অফিসার মো.শা‌হিন অভিযান পরিচালনা করে এ চাল জব্দ ক‌রেন।

অভিযান শেষে তি‌নি জানান, ৫০‌ কে‌জি ক‌রে প্রায় ৩৫০ বস্তাতে চাল রয়েছে। এ চাল সরকারি গোডাউন ছাড়া কোনো ব‌্যক্তিগত বাসা বাড়ি‌তে রাখার কোনো নিয়ম নাই। এটি অপরাধ। এ ব‌্যাপা‌রে প্রয়োজনীয় ব‌্যবস্থা নেয়া হবে।

আরো পড়ুন : গলাচিপায় ভাইরাল হওয়া ময়লার পুকুর পরিষ্কার করলো বিডি ক্লিন

তি‌নি আরও বলেন, সংবাদ পে‌য়ে সা‌থে সা‌থে আমরা ঘটনাস্থ‌লে এসে এ চাল জব্দ করেছি। এর আগে সেখা‌নে দুমকী থানা পু‌লিশ ও স্থানীয় লোকজন উপ‌ন্থিত হয়।

জানা গেছে, ঘটনার সময় চেয়ারম‌্যান গোলাম মর্তুজা বাড়ি‌তে ছি‌লেন না। তার ব‌্যবহৃত ফোন‌টি বন্ধ র‌য়ে‌ছে। ত‌বে রাত ১১টার দি‌কে উপ‌জেলা নির্বা‌হী অফিসার জানিয়েছেন, চেয়ারম‌্যান‌কে খবর দেয়া হ‌য়ে‌ছে, তিনি আস‌বেন।




গলাচিপায় ভাইরাল হওয়া ময়লার পুকুর পরিষ্কার করলো বিডি ক্লিন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সেই পুকুরের ময়লার স্তূপ পরিষ্কার করেছে বিডিক্লিন সদস্যরা।

গলাচিপা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের হোটেল আল মামুন এর পশ্চিম পাশের পুকুরটি পরিষ্কার করে “বিডি ক্লিন” নামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা।

এ সময় গলাচিপা পৌরসভার গাড়ি ব্যবহার করে ময়লা অপসারণ করা হয়েছে।

পুকুর পরিষ্কার কার্যক্রমে অংশ গ্রহন করেছে প্রিতম, সজিব, মাহফুজ, রিয়ান, টুম্পা, বিথি সহ ৫০ জন স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন গলাচিপা উপজেলা নব নিবার্চিত চেয়ারম্যান ওয়ানা মার্জিয়া নিতু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মহিউদ্দিন আল হেলাল, ভাইস চেয়ারম্যান ফরিদ আহসান কচিন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জহিরুন নবী, এম এম আসাদুজ্জামান আরিফ, প্রধান শিক্ষক রেদওয়ান তালাল প্রমূখ।

গলাচিপা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সহকারী শিক্ষক খবির হোসেন জানান, এই ওয়ার্ডে আমার বাসা। পুকুরের এত ময়লা পরিস্কার করতে আমাকে বলা হলেও আমি নামতাম না। তবে বিডি ক্লিন এর সদস্যদের উদ্দ্যোগে আনন্দ উৎসবমুখর পরিবেশে তারা কাজ করছে। এরা অভিনন্দন পাওয়ার যোগ্য। এখানে একটি ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করলে ভালো হবে। স্থানীয়রা ময়লা আবর্জনা না ফেললে মশামাছি, রোগ জীবানু আর ছড়াবে না।

আরো পড়ুন : মির্জাগঞ্জে পায়রার ভাঙ্গনের মুখে প্রাথমিক বিদ্যালয়

স্থানীয় বাসিন্দা সৌরভ জানান, এখানে একাধিক প্রতিষ্ঠান ও অর্ধশতাধিক বাসা রয়েছে । পুকুরটি পরিস্কার হওয়ায় আমরা অত্যন্ত খুশি এবং ইউএনও মহোদয়কে কি দিয়ে ধন্যবাদ জানাব ভাষা খুজে পাচ্ছি না।

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মহিউদ্দিন আল হেলাল জানান, বিষয়টি ভাইরালের পর বিডি ক্লিন এর সহযোগিতায় আমরা পুকুরটি পরিষ্কার করেছি। এরকম আরও অনেক জায়গা আছে যেগুলো পরিষ্কার করা উচিত। জনগনের পক্ষ থেকে ময়লা উৎপাদন কমানো না হয় এবং যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা বন্ধ না হয়, তাহলে এই একদিনের উদ্যোগ কোনো কাজে আসবে না। মানুষের প্রতি একটাই আহ্বান, ছোট ছোট যুবকরা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, কিভাবে ময়লা পরিষ্কার করতে হয়। আমাদের জঞ্জাল, আমাদেরই দায়বদ্ধতা। আবার ময়লা ফেলার
আগে বিবেচনা করবেন যে এটা পরিষ্কার করা ফকতটা কষ্টকর।




মির্জাগঞ্জে পায়রার ভাঙ্গনের মুখে প্রাথমিক বিদ্যালয়

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: মির্জাগঞ্জের পিপঁড়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পায়রার ভাঙ্গনের কবলে পড়ায় অন্যত্র সরিয়ে নেয়ায় ব্যপারে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গত ২৪ জুন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরের প্রতিষ্ঠান প্রধানের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিদ্যালয় ভবনটি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার রক্ষা ও পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য এবং বিদ্যালয়টি অন্যত্র স্থানান্তরে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনারকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট্য কমিটি গঠন করা হয়।

সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে বিদ্যালয়ের ভবন পায়রা নদী গর্ভে চলে গেলে স্থানীয় দ্বন্দ্ব ও জমি নিয়ে জটিলতা দেখা দিলে গত চার বছর পর্যন্ত বিদ্যালয়ের পাঁকা ভবন নির্মিত ব্যহত হওয়ার জটিলতা দেখা দেয়। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পায়রা নদীর বেড়িবাঁধের পাশে তিন কক্ষ বিশিষ্ট্য একটি টিনশেড ঘরে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা।

এছাড়া পায়রা নদী তীরবর্তী একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভাঙ্গনের ঝুকিঁর মধ্যে রয়েছে। বর্তমানে টিনশেড ঘরটিও যেকোনো সময় নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে মনে করেন প্রধান শিক্ষক। পায়রা নদী থেকে বিদ্যালয়টি ছয় থেকে সাত ফুট ফুট দূরে রয়েছে। বিদ্যালয়ের নেই কোনো বিদুৎ ব্যবস্থা। এতে শিক্ষার্থীরা জিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থায় পিছিয়ে রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের পিপঁড়াখালী গ্রামে বিদ্যালয়টি ১৯২৬ সালে প্রতিষ্টা করা হলে তা ১৯৮৮ সালে এডিপির মাধ্যমে পাকা ভবন নির্মাণ করা হয় এবং ২০১৮ সালে পায়রা নদীতে বিলীন হয়ে যায় ভবনটি। এ বিদ্যালয়ে সাতজন শিক্ষককের স্থানে প্রধান শিক্ষকসহ কর্মরত আছেন তিনজন শিক্ষক। প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়সহ অফিসের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। দুইজন শিক্ষক দিয়ে চলছে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৪১ জন। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্টালগ্নের সময়ে পূর্বদিকে প্রায় দেড় কিলোমিটার জমি এবং মানুষের বসতঘড় ছিল। কিন্তু পায়রা নদীতে আস্তে আস্তে সব বিলীন হয়ে গেছে। পায়রা নদীর তীরবর্তী এবং দুর্গম এলাকা বিধায় কোনো শিক্ষক এখানে আসতে চায় না।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে সমবায়ের ৮০ লাখ টাকা ঋণের চেক বিতরণ

শিক্ষার্থীরা বলেন, সব সময়ে ভয়ে ভয়ে ক্লাশ করতে হয়। কখন যেন নদীতে বিলীন হয়ে যায় বিদ্যালয়টি। সম্প্রতি বিদ্যালয়ের সামনে পায়রা নদীর পাড় হঠাৎ করে ভেঙে যায়। বেশি কষ্ট হয় বর্ষার সময়ে তখন চলাচল করাই দায় হয়ে যায়। নেই খেলার মাঠ। আমাদের এখানে একটি বিদ্যালয় ভবন নির্মান হলে সকল শিক্ষার্থীরা উপকৃত হতো।

অভিভাবকরা বলেন, পায়রায় ভাঙ্গনের কারণে জমিজমা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে এখানকার বহু পরিবার। নদীতে মাছ ধরে ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনা ও আমাদের জীবন চলে। ছেলে-মেয়েকে বিদ্যালয়ে পাঠিয়েও ভয়ে থাকতে হয়। এখানে একটি ভবন নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার মান বাড়বে এবং নদী তীরবর্তী মানুষ ঝড়ের সময়ে আশ্রয় নিতেও পারবে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু সুজিৎ মজুমদার বলেন, বিদ্যালয়টি পায়রার ভাঙ্গনে গত ২০১৮ সালে ভেঙে যায়। এরপর ছোট্ট একটি টিনশেড ঘরে চলে শিক্ষা কার্যক্রম। স্থানীয় কিছু জটিলতা ও বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের জন্য জমি নিয়ে জটিলিতা দেখা দেয়ায় নতুন ভবন নির্মাণ হয়নি। ঘূর্ণিঝড় রেমালে পর পায়রা নদীর ভাঙ্গন আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। এদিকে পায়রার ভাঙ্গনের কারণে পিপঁড়াখালী বাজারসহ গ্রামটি সম্পূর্ন নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়াও এই নদী ভাঙ্গনের কারণে এ এলাকার বহু লোক তাদের ভিটাবাড়ি ও জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: রিয়াজুল হক বলেন, বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে চলে যাওয়ার পরে নতুন ভবন বরাদ্ধ হয়েছিল। স্থানীয় জটিলতার কারণে ভবন নির্মান হয়নি। বরাদ্ধ এলেই বিদ্যালয়ের কাজ শুরু হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: তরিকুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়টি ভাঙ্গনের মুখে পড়ায় ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সকলকে বিদ্যালয়টি সুবিধাজনক স্থানে স্থানান্তর ও দ্রুত মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে এবং পাশের একটি মাদরাসায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম চলমান থাকবে। পরে সুবিধাজনক জমি পাওয়া গেলে সেখানে বিদ্যালয়টি পূনঃস্থাপনের ব্যবস্থা করা হবে।




পটুয়াখালীতে সমবায়ের ৮০ লাখ টাকা ঋণের চেক বিতরণ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: জন্মের পর প্রধান ও একমাত্র খাদ্য হিসেবে মাতৃদুগ্ধ গ্রহন করে বেঁচে থাকে মানব শিশুরা। পাশাপাশি গরুর দুধ মানুষের জন্য পুষ্টিকর ও সুষম খাবার। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এই পুষ্টিকর দুধের চাহিদা। তাই এই দুধের ঘাটতি পূরনে সরকার নানান পদক্ষেপ নিচ্ছে। দুধের ঘাটতি পূরনে সরকার ‘সমবায়ে গড়ছি দেশ, স্মার্ট হবে বাংলাদেশ’, এ স্লোগান নিয়ে ‘দুগ্ধ ঘাটতি উপজেলায় দুগ্ধ সমবায়ের কার্যক্রম সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের আওতায় তৃণমূল পর্যায়ে সুবিধাভোগীদেরকে গাভী পালনে দিচ্ছে স্বল্প সুদে ঋণের চেক বিতরণ করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় পটুয়াখালী সদর উপজেলায় জৈনকাঠি ইউনিয়ন দুগ্ধ সমবায় লিমিটেড ও কালিকাপুর ইউনিয়ন দুগ্ধ সমবায় সমিতির ৫০ জন সদস্যকে দুইটি করে ফ্রিজিয়ান জাতের বকনা গাভী কেনার জন্য প্রত্যেককে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করে ৮০ লাখ টাকার ঋণের চেক বিতরণ করা হয়।

শনিবার (২৯ জুন) পটুয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদের মধুমতি হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ডাঃ সঞ্জীব দাসের সভাপতিত্বে ঋণের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সুবিধাভোগীদের মাঝে ঋণের চেক বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক নূর কুতুবুল আলম।

এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সমবায় অধিদফতর ঢাকার প্রকল্প পরিচালক তোফায়েল আহম্মদ, জেলা সমবায় অফিসার সুস্মিতা গোলদার।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সদর উপজেলা সমবায় অফিসার হারুন-অর-রশিদ।

উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজসেবা অফিসার জহিরুল ইসলাম, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইদ হাসান, কালিকাপুর ইউপি চেয়ারম্যান সালমা জাহান, উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের সহকারী পরিদর্শক সুশান্ত কুমার দাস, জেলা সমবায় কার্যালয়ের সহকারী নিবন্ধক কামরুজ্জামান।

আরো পড়ুন : লঘুচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল – গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি

সুবিধাভোগীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন কালিকাপুর দুগ্ধ সমবায় সমিতির সদস্য নিজামুল হক।

উল্লেখ্য, পরবর্তীতে গাভী গরু কেনার পর খাদ্য বাবদ প্রত্যেক সুবিধাভোগীকে আরো ৪০ হাজার টাকা করে প্রদান করা হবে বলে জানান উপজেলা সমবায় অফিসার হারুন অর রশিদ।

তিনি আরো বলেন, প্রদত্ত দুই লাখ টাকা ঋণ গ্রেস পিরিয়ড বা এক বছর পর ৩০ মাসের মধ্যে ৩০ কিস্তিতে দুধ বিক্রি করে ঋণের টাকা পরিশোধ করবে সুবিধা ভোগীরা। ফ্রিজিয়ান জাতের গাভী গরু দিনে প্রায় ২০ থেকে ৩০ লিটার দুধ দিবে বলেও জানান তিনি। এ ঋনের চেক পেয়ে খুশী সুবিধাভোগীরা।

প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক বলেন, দুগ্ধ ঘাটতি উপজেলায় দুগ্ধ সমবায়ের কার্যক্রম সম্প্রসারন” প্রকল্পের আওতায় তৃণমূল পর্যায়ে গাভী পালনে দুধের উৎপাদন বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং নারীর ক্ষমতায়ন হবে এবং স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মানে বিশাল ভূমিকা রাখবে।




ইরান: মধ্যপন্থী পেজেশকিয়ানে রান-অফে গড়াল প্রেসিডেন্ট নির্বাচন




১৩ বছরের অপেক্ষা শেষে ভারতের ঘরে বিশ্বকাপ 




এইচএস‌সি পরীক্ষার্থী‌দের কে‌ন্দ্রে মোমবা‌তি-দেশলাই আনার নির্দেশ