রাঙ্গাবালিতে সাইক্লোন শেল্টারের দেড় বছরের কাজ শেষ হয়নি ৪ বছরেও

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বিচ্ছিন্ন উপজেলা রাঙ্গাবালীতে দুর্যোগ মোকাবেলায় সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণের কাজ চার বছরেও শেষ হয়নি। প্রকল্প নির্মাণ শুরুর ১৮ মাসে কাজ হস্তান্তরের কথা থাকলেও ঠিকাদারের গাফিলতি আর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অবহেলায় চার বছর পার হলেও প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি।

এ ছাড়া সাইক্লোন শেল্টারটি নির্মাণে রয়েছে নানা অনিয়মের অভিযোগ। উপজেলার কাজীরহাওলা মোহসেনিয়া দাখিল মাদরাসা কাম সাইক্লোন শেল্টারের চিত্র এমন।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে ২০২০-২১ অর্থ বছরে ৩ কোটি ৯৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকা প্রকল্প ব্যয়ে ১৮ মাসের মেয়াদে সাইক্লোন শেল্টারটি নির্মাণ কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনুচ অ্যান্ড ব্রাদার্স। কাগজে কলমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনুচ অ্যান্ড ব্রাদার্স হলেও তাদের কাছ থেকে নিয়ে চুক্তিতে কাজ করছেন মাঈদুল ইসলাম শাওন নামের আরেক ঠিকাদার। এ নিয়ে স্থানীয়রা শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছিল। কাজিরহাওলার বাসিন্দারা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আর কাজের মানের আপত্তি জানাতে কয়েকবার পটুয়াখালী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয়ে যান। কিন্তু তদারকি প্রতিষ্ঠান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

কাজীরহাওলা মোহসেনিয়া দাখিল মাদরাসার সুপারিনটেন্ড আব্দুল বারেক বলেন, ঠিকাদার কাজ দেরিতে শুরু করেছে। এজন্য কাজ শেষ করতেও দেরি হচ্ছে। আমরা এখনো জরাজীর্ণ টিনশেডেই ক্লাস করাচ্ছি।

আরো পড়ুন : কুয়াকাটায় প্রকাশ্যে মাছ শিকার ও বিক্রি নিয়ে কোটি টাকার বাণিজ্য

মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আমির হোসেন মল্লিক বলেন, মাদ্রাসার নির্মাণ কাজ এখনো চলছে। আমরা ভবন বুঝে পেলে শিক্ষার্থীদের সুবিধা হবে। পাশাপাশি যেহেতু এটি একটি সাইক্লোন শেল্টার। ঝড়-বন্যায় নিরাপদ একটি আশ্রয় হবে আমাদের।

নির্মাণ কাজে বিলম্ব হওয়ার প্রশ্নে মাঈদুল ইসলাম শাওন বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রকল্প হওয়ায় প্রকল্পটিতে পুরাতন রেট ধরা হয়েছে। বর্তমানে রড, সিমেন্টের দাম বেড়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে পরিবহন খরচ। শ্রমিক মজুরিও বেড়েছে। যে কারণে নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়নে বেগ পেতে হয়েছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি কাজ শেষ করে হস্তান্তর করার।

পটুয়াখালী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মোশফিকুর রহমান বলেন, নির্মাণ স্থান রিমোট এলাকায় হওয়ায় একটু সমস্যা হতে পারে। তবুও চেষ্টা করছি প্রকল্পটি হস্তান্তরের জন্য। ভবনের ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ। আশা করছি দুই মাস পরেই হস্তান্তর করবে।

ভবন নির্মাণে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, কিছুদিনের মধ্যে আমরা ভবন পরিদর্শনে যাব। যদি কোনো অনিয়ম ধরা পরে তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




ববিতে স্নাতক প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু ২৮ জুলাই

বরিশাল অফিস :: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হবে আগামী ২৮শে জুলাই।

শনিবার (২৯ জুন) বিকাল ৪টায় অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৮৪তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ সভায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ৬টি অনুষদের অধীন ২৫টি বিভাগে আসন সংখ্যা মোট ১৫৭০ টি। এর বাইরে কোটায় আসন সংখ্যা ১২৬টি। এদিকে শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে ৩০ জুলাই।

 




গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির কোনো খবর নেই, বলছে হামাস




কুয়াকাটায় প্রকাশ্যে মাছ শিকার ও বিক্রি নিয়ে কোটি টাকার বাণিজ্য

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বঙ্গোপসাগরে সব ধরনের মাছ শিকারে ৬৫ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও পটুয়াখালী সংলগ্ন সাগরের চিত্র একেবারের ভিন্ন। জেলার উপকূলজুড়ে প্রকাশ্যেই চলছে মাছ শিকার। অভিযোগ উঠেছে, মৎস্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করেই সমুদ্রসংলগ্ন বাজারগুলোয় প্রকাশে চলছে সামুদ্রিক মাছের বিকিকিনি। আর এজন্য জেলেদের গুনতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের অর্থ। এতে সাগরে মাছের উৎপাদন ও মজুত বৃদ্ধিতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

পটুয়াখালী-কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতসংলগ্ন কুয়াকাটা পৌরভবনের বিপরীতে অবস্থিত কুয়াকাটার প্রধান মাছ বাজার, যা স্থানীয়ভাবে মেয়র বাজার নামে পরিচিতি। এ বাজারে সাগর থেকে শিকার করা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ডাকের মাধ্যমে পাইকারি বিক্রি হয়।

গত ২৮ জুন এবং ২৯ জুন এই মার্কেট ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সরকারি নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও সকাল থেকেই ভ্যান-অটোরিকশায় ককশিট আর পস্নাস্টিকের ড্রামভর্তি করে আসতে থাকে বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ। এর মধ্যে লইট্যা এবং তুলার ডাডি মাছই বেশি। এ ছাড়া রূপচাঁদা, বৈরাগী, কোড়াল, রামসোসসহ অন্য মাছও দেখা যায়। ইলিশ মাছ তুলনামূলক কম।

মাছ বাজারে ঢুকতেই বিভিন্ন পাইকারি দোকানে মাছের ডাক হতে দেখা যায়। পাইকাররা দাম বলে তা কিনে নিচ্ছেন। এ বাজারে সকাল থেকে রাত ৯-১০টা পর্যন্ত নিয়মিত মাছ বিক্রি হলেও দুপুরের পর থেকে মাছগুলো রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। ককশিটে বরফ দিয়ে পেটি প্রস্তুতের পর ট্রাক এবং বাসে পাঠানো হয় মাছের পেটিগুলো।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে মাছ ধরা, বিক্রি ও পরিবহণ প্রক্রিয়া নিরাপদ করতে নির্দিষ্ট একটি চক্রকে দিতে হয় কোটি টাকা। জেলে, মাছ ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের গুনতে হয় এ বিপুল পরিমাণ অর্থ।

কুয়াকাটা মেয়র বাজারের মাছ ব্যবসায়ী মো. নূর জামাল গাজী এ প্রক্রিয়া সমন্বয় করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যবসায়ীর মালিকানাধীন মেসার্স গাজী ফিশ থেকে এসব নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এবার প্রতিটি ট্রলার থেকে প্রতি ট্রিপে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা করে নিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ড সদস্যদের ম্যানেজ করার দায়িত্বও রয়েছে তার।

এ বিষয় জানতে চাইলে অভিযুক্ত মো. নূর জামাল গাজী বলেন, ‘কাউকে কোনো টাকা দিই না, চুরি করে মাছ ধরি, চুরি করে মাছ বেচি।’
কিন্তুু নিজের কাছে সাংবাদিকসহ সবার তালিকা থাকার কথা স্বীকার করেন তিনি।

আরো পড়ুন : দশমিনায় একই পরিবারের ৫ জনকে অজ্ঞান করে স্বর্ণালঙ্কার ও অর্থলুট

বিস্ময়কর হলেও সত্য, কুয়াকাটার মতো একটি পর্যটন এলাকায় যখন প্রকাশ্যে মাছ শিকার ও বিক্রি চলছে তখনও পুরো বিষয়টি উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার কাছে অজানা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘সার্র্বক্ষণিক তো আমাদের পক্ষে পাহারা দেওয়া সম্ভব নয়। সাগরে কোস্টগার্ড আছে, নৌপুলিশ আছে, নৌবাহিনীর সদস্যরা আছেন। সবাই আমরা কাজ করছি। এরপরও গত কয়েকদিন আবহাওয়া কিছুটা খারাপ এ কারণে হয়তো এমনটি হয়েছে। আমি আজ আবারও বিষয়টি দেখছি।’

তবে মৎস্য বিভাগের সঙ্গে মাছ ব্যবসায়ী নূর জামালের কোনো যোগাযোগ নেই এবং তাকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না বলে জানান এই কর্মকর্তা।

এদিকে এসব বিষয়ে নিজের দপ্তরের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযান সফল করতে আমরা আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করব।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইলিশের প্রজনন মৌসুম, জাটকা সংরক্ষণ, সাগরে ৬৫ দিন মাছ শিকার বন্ধসহ সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকাকালে নির্বিঘ্নে মাছ শিকার, বিক্রি ও পরিবহণ করতে কলাপাড়া উপজেলায় গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী চক্র। প্রতি মৌসুমে জেলে ও মৎস্য ব্যসায়ীদের কাছ থেকে সব পক্ষকে ম্যানেজ করতে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা চাঁদা তোলা হয় বলে একাধিক সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেছেন।

এ প্রসঙ্গে কুয়াকাটা নৌ-পুলিশের অফিসার ইনচার্জ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞায় নৌ-পুলিশের কোনো কাজ নেই। সাগরে মাছ ধরা বন্ধে কোস্টগার্ড কাজ করবে, আর মাছ বিক্রি কিংবা পরিবহণে মৎস্য বিভাগ অভিযান পরিচালনা করবে, এটা তাদের দায়িত্ব।’

জানতে চাইলে নিজামপুর কোস্টগার্ড স্টেশন থেকে জানানো হয়, ‘৬৫ দিনের অবরোধ কর্মসূচি সফল করতে তারা নিয়মিত সচেতন করার পাশপাশি সাগরে অভিযান পরিচালনা করছেন। আর নিয়মিত মাছ ধরা ও বিক্রির বিষয়ে তাদের কাছে তথ্য নেই।




দশমিনায় একই পরিবারের ৫ জনকে অজ্ঞান করে স্বর্ণালঙ্কার ও অর্থলুট

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দশমিনায় রাতের খাবারের সাথে ওষুধ মিশিয়ে একই পরিবাররে পাঁচজনকে অজ্ঞান করে তিন লাখ টাকা ও ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্ককার লুট করে নিয়েছে অজ্ঞান পার্টি।

গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের মধ্য আউলিয়াপুর সেরাজ হাওলাদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

আরো পড়ুন : আঙ্গা‌রিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম‌্যা‌নের বাড়ি থে‌কে সরকারি চাল জব্দ

অজ্ঞান অবস্থায় আলমগীর হাওলাদার, শাহনাজ বগেম, সাথী আক্তার, মানসুর হাওলাদার ও মাহিন হাওলাদারকে শুক্রবার সকাল ৭টায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এ বিষয়ে দশমিনা থানার ওসি নুরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে আর অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




ঝালকাঠিতে এন্টিভেনম না পেয়ে রোগী মৃত্যুর অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন

বরিশাল অফিস ::  ঝালকাঠির আমুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এন্টিভেনম না পেয়ে মো. সেলিম আকন (৬০) নামে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ এন্টিভেনম থাকার পরেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা দেয়নি। এ অবস্থায় এ ঘটনা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ঝালকাঠি সিভিল সার্জন অফিস।

শনিবার (২৯ জুন) ঝালকাঠির সিভিল সার্জন ডা. এইচ এম জহিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ঝালকাঠী জেলাধীন কাঠালিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ‘ডাক্তারের অবহেলায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে সেলিম আকন নামক এক ব্যাক্তির মৃত্যু’ শীর্ষক সংবাদ বিভিন্ন সংবাদপত্র ও সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এ ঘটনায় প্রকৃত তথ্য সরেজমিনে জরুরি ভিত্তিকে অনুসন্ধানের জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হলো। একইসঙ্গে আগামী দুই কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন, নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. শিউলী পারভীন (সভাপতি), ঝালকাঠি সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. সিয়াম আহসান (সদস্য) ও ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান (সদস্য সচিব)।

এর আগে ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় সাপের কামড়ে মো. সেলিম আকন (৬০) নামে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকালে উপজেলার তালতলা বাজারের দোকানে তাকে সাপ কামড় দেয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আমুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে অ্যান্টিভেনম থাকা সত্ত্বেও তা না দেওয়ার অভিযোগ ওঠে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে। চিকিৎসকের অবহেলায় সেলিমের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনরা।

নিহতের পরিবার জানায়, শনিবার সকালে উপজেলার তালতলা বাজারের সেলিম আকনের মুদি দোকানে ঢুকে পড়ে একটি বিষধর সাপ। সাপটি তাঁর হাতে কামড় দেয়। এ সময় সেলিম নিজেই উপস্থিত লোকজনকে তাকে সাপে কামড় দিয়েছে বলে জানান। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলার আমুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

স্বজনদের অভিযোগ, কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, তাদের কাছে অ্যান্টিভেনম রাখার স্টোররুমের চাবি নেই, তাই তারা চিকিৎসা দিতে পারছেন না। ঘণ্টাখানেক পর রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পথে সেলিমের মৃত্যু হয়। মৃত সেলিম আকন উপজেলার পূর্ব বাঁশবুনিয়া গ্রামের আব্দুস সাত্তার আকনের ছেলে।

নিহত সেলিমের ভাইয়ের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন জসিম অভিযোগ করেন, সাপে কামড় দেওয়ার পর তারা রোগীকে নিয়ে আমুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। তখন তাঁরা চাচাকে টেবিলের ওপর ফেলে রেখেছিল। জিজ্ঞেস করলে চিকিৎসকরা বলেন, রক্ত পরীক্ষা হচ্ছে, আপনারা অপেক্ষা করুন। কিছুক্ষণ পর চিকিৎসকরা জানান, বিষাক্ত সাপে কেটেছে, এখানে কোনো চিকিৎসা হবে না। রোগেকে বরিশালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

তাদের পরামর্শে অ্যাম্বুল্যান্সে বরিশাল যাওয়ার পথে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ফোন করে ফিরে আসতে বলে। আবারও ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, দশটি ইনজেকশন একসঙ্গে পুশ করতে হবে, তাদের কাছে আছে আটটি। স্টোরের চাবি নাই, তাই ভ্যাকসিন পুশ করতে পারবেন না। তখন আবার বরিশালের উদ্দেশে রওনা হলে পথেই তার চাচা মারা যান।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাপস কুমার জানান, সাপে কামড়ানো রোগীকে ভ্যাকসিন পুশ করার জন্য রোগীর নিকটতম স্বজনের নিদাবিপত্রে স্বাক্ষর করার বিধান রয়েছে। সেলিমের পক্ষে কেউ স্বাক্ষর না করায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে এন্টিভেনম পুশ করতে পারেননি। স্বজনরাই আগ্রহী হয়ে তাকে বরিশাল নিয়ে গেছে।




ভোলায় অলস পড়ে আছে প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন

বরিশাল অফিস :: ভোলায় মাত্র তিন কিলোমিটার সড়কের পাশের গাছের ডালপালার কারণে চালু করা যাচ্ছে না প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অত্যাধুনিক স্ট্যান্ডার্ড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন। এক বছর আগে এ সঞ্চালন লাইনের নির্মাণকাজ শেষ হলেও বর্তমানে অলস পড়ে আছে।

অন্যদিকে ১৯৮৪ সালে নির্মিত ৪০ বছরের পুরাতন লাইন দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে গিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ ও গ্রাহকদের। সামান্য বৃষ্টি-বাদলেই পুরাতন লাইনের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দুর্বল লাইনের কারণে প্রয়োজনীয় লোড নিতে না পারায় দিতে হচ্ছে লোডশেডিং। চলমান বিদ্যুৎ বিভ্রাট থেকে গ্রাহকদের মুক্তির জন্য অলস পড়ে থাকা নতুন লাইনটি জরুরি ভিত্তিতে সচল করার দাবি গ্রাহকদের।

ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাস টার্মিনাল থেকে মাদরাসা বাজার পর্যন্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের তারগুলো গাছের ডালপালার সঙ্গে সাপের মতো পেঁচিয়ে রয়েছে। অনেক স্থানে বিদ্যুতের খাম্বাগুলো ঢেকে গেছে রাস্তার পাশের গাছে।

ভোলার বোরহানউদ্দিন বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জেলা সদরে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য এক বছর আগে প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৩ কেবির ধারণ ক্ষমতার ৪২ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন প্রস্তুত করে বিদ্যুৎ বিভাগ। অত্যাধুনিক স্ট্যান্ডার্ড লাইনে ৪০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোড নিতে পারবে। বর্তমানে এ লাইনের প্রায় ৩৯ কিলোমিটার বিদ্যুৎ সরবরাহের উপযোগী অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু জেলা সদরের বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাস টার্মিনাল থেকে মাদরাসা বাজার পর্যন্ত তিন কিলোমিটার সঞ্চালন লাইনের তার গাছের ডালপালায় জড়িয়ে থাকায় লাইনটি চালু করা যাচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে ৪০ বছরের পুরনো লাইনে বোরহানউদ্দিন থেকে বিদ্যুৎ আনতে হচ্ছে।

আলী নগর মাদরাসা বাজার এলাকার গ্রাহক শামসুদ্দিন বলেন, সামান্য বাতাস হলে গাছের ডাল ভেঙে পড়ে তারে। এই সুযোগে তখন বিদ্যুৎ নিয়ে যায়। এতে ঘরে থাকতে অনেক কষ্ট হয়। আমরা দিনের পর দিন বিদ্যুৎ বঞ্চিত হচ্ছি। আমরা আশাকরি দ্রুত গাছগুলো অপসারণ করে বিদ্যুতের সমস্যার নিরসন করবে বন বিভাগ।

গ্রাহক মাইনুল এহসান বলেন, আমাদের দ্বীপ, আমাদের গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, সেই বিদ্যুৎ প্রথম দিকে ভালো সেবা পেয়েছি। আজকে এক বছর ধরে আমারা বিদ্যুতের নানা সমস্যায় রয়েছি। সামান্য বাতাস হলে বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছি। বিদ্যুতের লাইনগুলো গাছের ভিতর দিয়ে যাওয়ার কারণে সামান্য বাতাস হলে বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করে দেয়। এতে করে আমরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাই না। তাই দ্রুত বিদ্যুৎ লাইনের সমস্যা সমাধানের জন্য গাছগুলো দ্রুত অপসারণের দাবি জানাই।

এদিকে অত্যাধুনিক এ সঞ্চালন লাইনটি চালু না হওয়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে না বিদ্যুৎ বিভাগ। আকাশে মেঘ জমলে বা সামান্য বিজলি চমকালেই পুরনো লাইনটি অচল হয়ে জেলা সদর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পুরনো লাইনে নেয়া যাচ্ছে না প্রয়োজনীয় লোডও। এতে বেড়েছে লোডশেডিং ও আর বিদ্যুতের যাওয়া আসা অতিষ্ঠ জেলা সদরের অর্ধ-লক্ষাধিক গ্রাহক।

চলমান তাপদাহের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বয়স্ক রোগী ও শিশুদের। বিদ্যুতের এমন দুরবস্থার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহক। লোকসান গুনতে হচ্ছে বিদ্যুৎ নির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর। তাই দুর্ভোগ লাগবে জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন এসব গ্রাহকরা।

বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা ওজোপাডিকো নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউসুফ জানিয়েছেন, আমাদের রেন্টাল ৩৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্যান্ট বন্ধ হওয়ার কারণে বোরহানউদ্দিন থেকে বিদ্যুৎ নিচ্ছি। তবে লাইন পুরনো হওয়ার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তাই নতুন একটি লাইন টানা হয়েছে। সেই লাইনটি বীর শ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাস টার্মিনাল থেকে মাদরাসা বাজার পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার বন বিভাগের গাছের কারণে চালু করতে পারছি না। এই গাছগুলো দ্রুত অপসারণ করা গেলে ভোলা শহরে বিদ্যুৎ সমস্যা কিছুটা হলেও লাগব করা যাবে।

এ বিষয়ে ভোলার উপকূলীয় বন বিভাগের কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, বন বিভাগ ওই গাছগুলো অপসারণের জন্য টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রির সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুত গাছগুলো অপসারণের জন্য ঠিকাদারকে বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে জেলা সদরের সাড়ে ৩৪ মেগাওয়াট রেন্টাল বিদ্যুৎ প্লান্টটি বিকল হওয়ার পর ৪২ কিলোমিটার দূরের বোরহানউদ্দিন বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জেলা সদরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।




ববিতে আর্থিক অনিয়ম: ২ বছরেও তদন্তের অগ্রগতি নেই

বরিশাল অফিস :: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ভবিষ্যৎ তহবিলের স্থায়ী আমানতে সুদের হারের (এফডিআর) অর্থ উত্তোলনের ও জমায় অনিয়ম বিষয়ক একটি তদন্ত গত প্রায় দুই বছর ধরে স্থবির। এর মধ্যে একবার তদন্ত কমিটির প্রধানের পরিবর্তন হয়েছে।

পরে দায়িত্ব পাওয়া তদন্ত কমিটির প্রধানও এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতির খবর দিতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, আদৌ ববির ভবিষ্যৎ তহবিলের এফডিআরের অর্থ উত্তোলনের ও জমার অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত আলোর মুখ দেখবে কিনা?

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ তহবিলের এফডিআরের অর্থ উত্তোলনের ও জমার অনিয়ম বিষয়ে তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। তৎকালীন অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. মুহসিন উদ্দীন সাক্ষরিত ওই কমিটিতে গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. শফিউল আলমকে প্রধান করে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুজন চন্দ্র পালকে সদস্য সচিব ও ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল বাতেন চৌধুরীকে সদস্য করা হয়।

তবে কয়েকমাস পর কমিটির প্রধান পদ থেকে গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. শফিউল আলম অব্যাহতি নিলে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. তারিকুল হককে প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। চলতি বছরের জুন মাস অবদি ওই কমিটি কোনো ধরনের তদন্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দাখিল করেনি।

অভিযোগ উঠেছে, সাবেক উপাচার্যের অনাগ্রহে কমিটি হলেও তদন্ত অগ্রসর হয়নি। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ দপ্তরের প্রভাবশালী কর্মকর্তাসহ নানান জনের চাপও রয়েছে কমিটির ওপর।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিলের (জিপিএফ) জন্য বেতন থেকে কর্তনকৃত টাকা অর্থ দপ্তরের হাত ধরে বিভিন্ন ব্যাংকে মুনাফার জন্য রাখা হয়। যা নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে নিয়মানুযায়ী লভ্যাংশসহ নিয়মিতো উত্তোলন এবং সেই টাকা জমার কাজটি অর্থ দপ্তরের হাত ধরে হয়ে থাকে। তবে মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও সেই টাকা নিয়মিত ব্যাংকগুলো থেকে উত্তোলন করে জমার কাজটিতে অনিয়ম পায় কর্তৃপক্ষ। যে অনিয়মের ফলে লাভের অংশ কমাসহ নানান ঘাপলা দেখা দেয় এবং এতে বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারকে ভর্তুকি দেয়ার সম্ভাবনাও দেখা দেয়। আর এ কারণেই বিষয়টি তদন্তের দিকে ধাবিত হয়।

এর বাইরে আবার বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক নানা ব্যাংক জড়িত। সেইসাথে বরিশাল শহরেও অনেক ব্যাংকের শাখা রয়েছে। তবে সেসকল জায়গায় টাকা না রেখে অন্য উপজেলায় ব্যাংকের শাখায় বেশ কিছু টাকা রাখা নিয়েও নানান প্রশ্ন উঠেছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে। আবার সহকর্মীর স্বজনদের চাকরির সুবাদেও একটি ব্যাংকে আরও বেশ কিছু টাকা রাখা এবং নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হলে নতুন করে সেই টাকা জমা না দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে অর্থ দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার ওপর।

তবে এ বিষয়ে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম হয়নি বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ বিভাগের উপ-পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) সুব্রত কুমার বাহাদুর। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হচ্ছেন উপাচার্য। তার নির্দেশনা ছাড়া এখানে কোনো কাজ হয়নি। এমনকি কোন কোন ব্যাংকে কীভাবে টাকা রাখলে বেশি মুনাফা পাওয়া যাবে তাও সর্বোচ্চ বিচার-বিশ্লেষণ করা হয়, তারপর রাখা হয়। আর এ সকল বিষয়ে শুধু তিনিই নন অর্থ দপ্তরের অনেকেই অবগত থাকেন। এছাড়া তার হাত ধরেই এ টাকার এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ মুনাফা এসেছে বলেও দাবি করেন উপ-পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) সুব্রত কুমার বাহাদুর।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ তহবিলের এফডিআরের অর্থ উত্তোলনের ও জমার অনিয়ম বিষয়ক তদন্ত কমিটির বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত আমি কিছু জানি না। কারণ কোনো কমিটি আমার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাননি। আর কমিটির ওপর চাপ প্রয়োগের চেষ্টার অভিযোগও ভিত্তিহীন।

যদিও কি কারণে গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. শফিউল আলম তদন্ত কমিটি থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন, সে বিস্তারিত জানা যায়নি। তবে পরবর্তীতে কমিটির প্রধান হওয়া ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. তারিকুল হক জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত তদন্তের বিষয়ে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই ঠিকই, তবে কোনো চাপেও নেই তারা।

অপরদিকে কমিটির সদস্য ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল বাতেন চৌধুরীও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে চাননি। তিনি বিষয়টি ভালোভাবে জেনে পরবর্তীতে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন।

বর্তমান রেজিস্ট্রার মো. মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি তার এবং বর্তমান উপাচার্যের দায়িত্বকালীন সময়ে হয়নি। তাই তিনি বিস্তারিত জানেন না। তবে কাগজপত্র ঘেঁটে যেটুকু জানতে পেরেছেন, তাতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ তহবিলের এফডিআরের অর্থ উত্তোলনের ও জমার অনিয়ম বিষয়ক তদন্ত কমিটির প্রধান অব্যাহতি নিয়েছিলেন এবং এর কিছুদিন পরে গত বছরের ২০ নভেম্বর ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. তারিকুল হককে কমিটির প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, এ পর্যন্ত কমিটি কোনো তদন্ত প্রতিবেদন দেননি, সেটি ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. তারিকুল হকের সাথে কথা বলেও জেনেছেন। তবে কেন তারা তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং দাখিল করছেন না সে বিষয়ে কিছু জানাননি। যেহেতু বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি, তাই বর্তমান উপাচার্য মহোদয়কে অবহিত করবো এবং পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

বিষয়টি নিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভুঁইয়া আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দিতে চাননি। তবে, বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলেছেন।




আইসিসি টি-২০:গল্পটা চ্যাম্পিয়নদের

বরিশাল অফিস :: মহেন্দ্র সিং ধোনির পর কেউই শিরোপা জিততে পারছিলেন না। বারবার সেমি অথবা ফাইনালে হার নিয়ে মাঠ ছাড়া। অবশেষে অপেক্ষার অবসান। সেই সঙ্গে দিয়ে গেল জীবনের রুঢ় বাস্তবতার শিক্ষা ও কিছু গল্প।

রোহিত শর্মা। বিশ্বকাপের ঠিক আগেই আইপিএলে হারালেন মুম্বাইয়ের অধিনায়কত্ব। ব্যাটে আশানুরূপ রান নেই। তবে কি অধিনায়ক হিসেবে তিনি শেষ? সেই উত্তরটা আজ ফাইনালেই দিয়ে দিলেন। ক্রিকেটকে কেন ক্যাপ্টেন্স গেম বলা হয়, তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ রোহিতের আজকের সব কার্যক্রম।

বিরাট কোহলি। আইপিএলে রান পেলেও বিশ্বকাপের শুরু থেকে ব্যর্থ। একেরপর এক ম্যাচ গেছে, অল্প রানে আউট হয়েছেন। চারদিকে সমালোচনার বাণ। অবশেষে ফাইনালে, দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে খেললেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস।

রিশাভ পান্ট? তার তো বেঁচেই থাকার কথা না। বেঁচে থাকা যদি অলৌকিক হয়, তার পায়ে হাটা আরো বড় অবিশ্বাস্য ব্যাপার। অথচ সেই মানুষটাই বিশ্বজয়ের আসরে দেখালেন পাগলাটে সব শটের বাহার। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রাখলেন প্রয়োজনীয় অবদান।

হার্দিক পান্ডিয়ার কথা আলাদাভাবে বলতেই হয়। স্ত্রীর কাছে প্রতারিত হলেন। আইপিএলে অধিনায়কত্ব পেলেন ঠিকই কিন্তু পারিবারিক অশান্তির ফলে দল ও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স যারপরনাই বাজে। বিশ্বকাপের আগে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় থাকা মানুষই ফাইনালে ভারতকে ম্যাচে ফিরিয়েছেন। ফিরে আসার গল্পের অন্যতম বড় নায়ক তো তিনিই।

জাসপ্রিত বুমরাহ তো ম্যাজিশিয়ান। আমার কাছে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় তিনিই। অবিশ্বাস্যভাবে প্রতিটি ম্যাচে পারফর্ম করে গেছেন। ভারতের চিট কোড হিসেবে দলের সবচেয়ে বড় ইমপ্যাক্ট খেলোয়াড় তিনি।

সূর্যকুমার যাদব তো ফাইনাল ওভারের প্রথম বলে ক্যাচ নেননি। নিয়েছেন ভারতের ১১ বছরের অপেক্ষার শিরোপা। ফিল্ডিং যে কীভাবে একটা ম্যাচকে বদলে দিতে পারে তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ তিনিই।

এভাবে প্রত্যেককে নিয়ে ছোটবড় গল্প লেখা যাবে। আক্সার প্যাটেল থেকে শুরু করে শিভম দুবে, রবীন্দ্র জাদেজা বা আর্শদীপ সিং… ভারতের প্রতিটি ক্রিকেটারই একেকটা চ্যাম্পিয়ন। শিরোপা জেতার যোগ্য দল তাদের চেয়ে আর কে আছে?

ক্রিকেটকে অনেকেই জীবনের সঙ্গে তুলনা করেন। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রের শিক্ষা পাওয়া যায় একটা ক্রিকেট ম্যাচ থেকে। হারার আগে যারা হারতে জানে না, জয়টা হয় তাদেরই। যার উদাহরণ আজকের ম্যাচ!

অভিনন্দন ভারত।




সাইবার অপরাধের শীর্ষে সোশ্যাল মিডিয়া হ্যাকিং, বাড়ছে পর্নোগ্রাফি

বরিশাল অফিস :: দেশে ব্যাপক হারে বেড়েছে সাইবার অপরাধ। দেশের মোট অপরাধের ১১.৮৫ শতাংশই এখন সাইবার অপরাধ। আর এ অপরাধগুলোর আক্রান্তদের মধ্যে ৫৯ শতাংশই নারী।

‘সিক্যাফ সাইবার অপরাধপ্রবণতা-২০২৪’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ তালিকায় শীর্ষে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইন অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং, যা মোট অপরাধের ২১ দশমিক ৬৫ শতাংশ। ভুক্তভোগীদের ৭৮ দশমিক ৭৮ শতাংশের বয়স ১৮-৩০ বছরের মধ্যে।

শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন (সিক্যাফ) আয়োজিত এক সেমিনারে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ সাইবার অপরাধপ্রবণতা-২০২৪’ প্রতিবেদনে এ গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়।

গবেষণায় ২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত ১৩২ জন ভুক্তভোগীর সাক্ষাৎকার নিয়ে সাইবার অপরাধ বিশ্লেষণ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৫ বছরের মধ্যে গত বছর দেশে সাইবার জগতে পর্নোগ্রাফি অপরাধ প্রবণতা বেড়েছে। ভুক্তভোগীদের ১১ দশমিক ৩৫ শতাংশ এ ধরনের অপরাধে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের ওপর সাইবার আক্রমণের হার কমে ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে ৪৭ দশমিক ৭২ শতাংশ সামাজিক মর্যাদাহানী, ৪০ দশমিক ১৫ শতাংশ আর্থিক ক্ষতির শিকার এবং প্রায় সবাই মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে গেছেন। এদের মধ্যে মাত্র ১২ শতাংশ আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৮১ দশমিক ২৫ শতাংশ সাধারণ ডায়েরি এবং ১৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ লিখিত অভিযোগ করেছেন। তবে ৮৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভুক্তভোগীই জানিয়েছেন তারা সন্তুষ্ট হতে পারেননি।

জরিপে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, যারা জালিয়াতির শিকার হয়েছেন তাদের বেশিরভাগই শিক্ষিত। ৪০ দশমিক ৯ শতাংশ উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেছেন, ২১ দশমিক ২১ শতাংশ স্নাতক ডিগ্রিধারী, ১৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ মাধ্যমিক শিক্ষা এবং ১২ দশমিক ৮৭ শতাংশ মাধ্যমিকের নিচে রয়েছেন।

এতে দেখা গেছে, অপরাধের ধরনে বহুমাত্রিকতা যুক্ত হচ্ছে। যার প্রভাবে প্রতিবেদনে ‘অন্যান্য’ ধরনের অপরাধ বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে। এক বছরে এই হার প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৮৫ শতাংশে।

প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা বে কিছু স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী সুপারিশ করেছেন। যার মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারে ‘দেখা মাত্রই ক্লিক নয়, যাচাই ছাড়া শেয়ার নয়’- এই চর্চা অব্যাহত রাখা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কড়া নজরদারি সুনিশ্চিত করা, নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষায় জোর দেওয়া এবং সুরক্ষা লঙ্ঘন হলে তা শনাক্তে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিশ্চিত করার কথা বলে হয়েছে।