গলাচিপায় অর্থনৈতিক শুমারিতে অগ্রাধিকার পায়নি বেকার যুবরা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর গলাচিপায় অর্থনৈতিক শুমারি -২০২৪ জনবল নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার ১২ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভাকে চারটি জোনে বিভক্ত করে সম্প্রতি তালিকাকারী নিয়োগ দিয়েছে উপজেলা পরিসংখ্যান অফিস।

যার ৩ দিনের প্রশিক্ষন ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে তালিকাকারীদের জন্য নাস্তা ও খাবার বাবদ বরাদ্দের টাকা বন্টন নিয়ে অনিয়ম পাওয়া গেছে।

জানা যায়, শিক্ষিত বেকার যুব / যুব মহিলাদের ও বিগত দিনে বিভিন্ন শুমারির কাজে অভিজ্ঞ দক্ষ জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়ার বিধান রয়েছে।

তবে গলাচিপা উপজেলায় চিত্র তার উল্টো। এখানে যুবদের বঞ্চিত করে বেসরকারি চাকরি জীবী, এনজিও কর্মী, অনভিজ্ঞ, স্বামী-স্ত্রী, মধ্যে বয়সী পুরুষ ও নারীদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসের পরিসংখ্যান সহকারী (অ. দা.) ও নিয়োগ বোর্ডের সদস্য সচিব সোহাগ ভূইয়া স্বজনপ্রীতি করে তার পছন্দের লোক দিয়ে তালিকা প্রস্তুত করে তালিকাকারী নিয়োগ দিয়েছে।

যা নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে থেকে শুরু করে জনমনে। এদিকে সোহাগ ভূইয়া জোন ১ এর জোনাল অফিসার পদে দ্বায়িত্বে রয়েছে।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্সের নতুন কমিটির শপথ গ্রহন অনুষ্ঠিত

জনবল নিয়োগটি বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ না করে গোপনে পরিসংখ্যান অফিস হতে জনশুমারির তালিকা থেকে এবং পছন্দের লোক ফোন করে আনা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গুলো ঘুরে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারী অধিকাংশ মধ্যে বয়সী পুরুষ ও মহিলাদের অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।

এছাড়া প্রশিক্ষণে তালিকাকারীদের জন্য নাস্তা ও দুপুরের খাবার বাবদ বরাদ্দ ৩০০ টাকা যা ভ্যাট বাদে ২৬১ টাকা।

সেখানে ১৭৫ টাকার নাস্তা ও খাবার দেয়া হয়েছে। একই চিত্র সব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ফলে খাবারের মান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

এ নিয়ে কথা হয় নিয়োগ বঞ্চিত ভাইভায় অংশগ্রহণকারী একাধিক প্রার্থীর সাথে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানায়, জনশুমারী সহ বিভিন্ন শুমারীতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের।

এ সূত্রে পরিসংখ্যান অফিস থেকে তাদের ফোন করে ডাকা হয়। পরে ভাইভায় অংশগ্রহণ করানো হয় তাদের। কিন্তু অভিজ্ঞতা থাকা স্বত্বেও নিয়োগ না দিয়ে সোহাগ ভূইয়া তার পছন্দমত তালিকা সাজিয়ে নিয়োগ দিয়েছে।

সেখানে স্বামী – স্ত্রী, চাকুরি জীবী নিয়োগ পেয়েছে। এমনকি তারা অভিযোগ করে বলেন, অনেকে ভাইভা না দিয়েও নিয়োগ পেয়েছে যা প্রশ্নবিদ্ধ।

সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের স্থানীয় যুবদের নিয়োগ না দিয়ে অন্য ইউনিয়নের লোক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বঞ্চিতদের অভিযোগ নিয়োগের অনিয়ম ধামাচাপা দেওয়ার জন্যই নিয়োগ প্রাপ্তদের তালিকা ওয়েবসাইটে বা অন্য কোথাও প্রকাশ হয়নি।

তাই এ বিষয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন। সরকারের পদক্ষেপ থাকলেও বাস্তবে বেকার সমস্যা সমাধান হচ্ছে না অথচ কাজে যুবদের অগ্রাধিকারেই কমতে পারে বেকারত্ব।

এ বিষয়ে সোহাগ ভূইয়া অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, সকল কিছু নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে।

তবে খাবারে ১৭৫ টাকা ব্যয় করার কথা তিনি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আনুষঙ্গিক অন্যান্য খরচ বহন করতে বাকি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

সহকারী পরিসংখ্যান কর্মকর্তা ও উপজেলা সমন্বয়কারী মো. মাসুদ বলেন, অর্থনৈতিক শুমারিতে শিক্ষিত বেকার যুবদের নিয়োগে অগ্রাধিকার থাকলেও অন্যান্যরাও নিয়োগ পেয়েছে। তবে যেসব অভিযোগ উঠেছে প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল বলেন, নিয়োগে কোন অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।




পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্সের নতুন কমিটির শপথ গ্রহন অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী জেলার ব্যবসায়ীদের অন্যতম বৃহত্তম সংগঠন দি-পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এর ২০২৪-২০২৬ ইং দুই বছর মেয়াদের পরিচালনা পর্ষদের নতুন কমিটির শপথ গ্রহন ও দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১ জুলাই) বেলা ১১ টায় দি-পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি মিলনায়তনে চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির পর্ষদের গঠিত নতুন কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আযাদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান খান ও সহ-সভাপতি মো.মিজানুল আলম স্বপন মৃধাসহ ২১ জন পরিচালক সদস্যকে শপথ গ্রহন অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন চেম্বারের নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ভিপি আব্দুল মান্নান।

আরো পড়ুন : বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রস্তুত ‘পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র

এ সময় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট মো. হাফিজুর রহমান, পৌরসভার মেয়র মহিউদ্দিন আহম্মেদ, নবনির্বাচিত সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম সোয়েব। কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন চেম্বারের নবনির্বাচিত সভাপতি আবুল কালাম আযাদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান খান ও সহ-সভাপতি মো.মিজানুল আলম স্বপন মৃধা। নির্বাচন বোর্ডের সদস্য জিএম জাফর কিরনের সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন চেম্বারের পরিচালক সদস্য মো. রেজাউল করিম।

অন্যান্য নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের ১৮ জন সদস্যরা হলেন যথাক্রমে- মো. রিয়াজ মৃধা, একেএম খায়রুল আহসান খায়ের, খন্দকার নুরুল ইসলাম সেলিম, খায়রুন্নাহার লাকি, শিবু লাল দাস, মো. হেলাল উদ্দিন, মো. ফারুক মৃধা, দেলোয়ার হোসেন আকন, সঞ্জয় কর্মকার, মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাপ্পি, আরিফুর রহমান সোহাগ, মো. রেজাউল করিম, মো. কাওসার হোসাইন, মো. জামাল হোসেন, আরেফুর রহমান সেলিম, মো. কামরুজ্জামান টিপু, মো. ইমরান হোসেন ও মো. রেজাউল করিম শুভ।




বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রস্তুত ‘পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বিদ্যুৎ উৎপাদনে সর্ম্পূনরুপে প্রস্তুত পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ডিসেম্বরের মধ্যে এ কেন্দ্র থেকে ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সংযুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রীডে। সে লক্ষে চলছে শেষ পর্যায়ের কাজ। এটি বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের জন্য এটি মাইলফলক বলে মনে করছেন প্রকল্পের কর্মকর্তারা।

২০১৯ সালে চীনের রাষ্ট্রয়ত্ব প্রতিষ্ঠান নোরিনকো ইন্টারন্যাশনাল পাওয়ার কোম্পানী লিমিটেড এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রয়ত্ব প্রতিষ্ঠান রুরাল পাওয়ার কোম্পানী লিমিটেডের যৌথ বিনিয়োগে পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মান কাজ শুরু হয়। পটুয়াখালীর ধানখালী ইউনিয়নের লোন্দা গ্রামে ৯১৫ একর জমির উপর ২৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ধরে নির্মান কাজ শুরু করা হয়।

করোনাসহ নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে টারবাইন, চুল্লি, কোল স্টোর, স্টিল স্টাকচার, বয়লার ও জেনারেটর বসানোর কাজ।

আরো পড়ুন : বাবার দেয়া মসজিদের জমি রক্ষার প্রতিবাদ করায় হয়রানিসহ মামলা

দ্রুত গতিতে চলছে কনষ্ট্রাকশন ও রংয়ের কাজ। ৪ হাজার বাঙ্গালী ও দেড় হাজার চীনা শ্রমিক নির্মান কাজ করছেন। ইতোমধ্যে বয়লারে ফায়ারিংও করা হয়েছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে বিদুৎ উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত এ পাওয়ার প্লান্ট। সুইচিং স্টেশনের কাজও ৯২ ভাগ শেষ।

বর্তমানে শেষ পর্যায়ের টেস্টিং ও কমিশনিংয়ের কাজ চলমান রয়েছে। জুলাই মাসে ব্যাক ফিড পাওয়ার পেলে সেপ্টেম্বরের প্রথম ইউনিট থেকে ৬৬০ মেগাওয়াট ও ডিসেম্বরে দ্বিতীয় ইউনিট থেকে আরও ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে সংযুক্ত করতে চায় প্রকল্পটি।

এ প্রকল্প থেকে জাতীয় গ্রীডে বিদ্যুৎ যোগ হলে লোড শেডিং অনেকটা কমবে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।




বাবার দেয়া মসজিদের জমি রক্ষার প্রতিবাদ করায় হয়রানিসহ মামলা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: মসজিদের জমি দখলের প্রতিবাদ করায় উল্টো হয়রাানিসহ চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পটুয়াখালীর মো. মাসুদুজ্জামান কাজল।

রোববার (৩০ জুলাই) পটুয়াখালী প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে মামলা থেকে প্রতিকার চেয়ে এই অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মাসুদুজ্জামান কাজল জানান, পটুয়াখালী পৌর শহরের আরামবাগ এলাকায় মসজিদ নির্মাণের জন্য সাড়ে ১০ শতাংশ জমি দান করেন তার বাবা আলহাজ্ব আব্দুল মজিদ মিয়া। ১৯৮৫ সালে ওই জমির উপর আরামবাগ বাইতুল রেদোয়ান জামে মসজিদ নির্মাণ করা হয়। ২০২৩ সালে ঐ মসজিদের নির্মানাধীন টয়লেট নিজেদের দাবি করে জমি দখলের পায়তারা করেন প্রতিবেশী গাজী সাঈদ ও তার জামাতা আবু সালেহ।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে বঙ্গোপসাগর উত্তাল – ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত

পরে জমি দখলে বাধা দিয়ে ঘটনার প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষ চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা করে তাকে হয়রানি করছে। এর মধ্যে এক‌টি মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামি বা মস‌জিদ ক‌মি‌টির কা‌রো সঙ্গে কথ‌া না ব‌লেই তদন্ত প্রতি‌বেদন দি‌য়ে‌ছে।

ভুক্ত‌ভো‌গি কাজ‌ল আ‌রও জানান, বিষয়‌টির সমাধা‌নের জন‌্য স্থানীয় রাজ‌নৈ‌তিক নেতৃবৃন্দ, গণ্যমান্য ব‌্যক্তিরা একা‌ধিকবার সা‌লিশ বৈঠ‌কের আ‌য়োজন কর‌লেও ক্ষমতা এবং টাকার জো‌রে প্রতিপক্ষরা বার বার পার পে‌য়ে যায়। এসব বিষয় নি‌য়ে লি‌খিত ভা‌বে জেলা প্রশাস‌কের কা‌ছে আবেদন কর‌লেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়‌নি।

একাধিক মামলায় গ্রেফতারের ভ‌য়ে প‌রিবার-প‌রিজন নি‌য়ে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে কাজলের। সেই সঙ্গে প্রতিপক্ষ থেকে আসছে একের পর এক হুমকি দেয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

এ বিষয়ে জানার জন্য প্রতিপক্ষ আবু সালেহর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।




ফেসবুক আইডি হ্যাক করে বঙ্গবন্ধু ও ইউএনওকে নিয়ে কটূক্তি, বিপাকে যুবক

বরিশাল অফিস :: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক আইডি হ্যাক করে প্রতারক চক্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বরগুনার আমতলীর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুহাম্মদ আশরাফুল আলমকে নিয়ে কটুক্তি করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এতে বিপাকে পড়েছেন মো: সজল নামে এক যুবক। প্রশাসনের কাছে প্রতারক হ্যাকার চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন সজল।

সোমবার (১ জুলাই) ঢাকার তেজগাঁও থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি।

জানা গেছে, ২০১৬ সালে আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের গোজখালী গ্রামের বারেক মৃধার ছেলে সজল এলএস আতিক হাসান সজল নামের একটি ফেসবুক আইডি খোলেন। গত দেড় বছর আগে ওই আইডি প্রতারক হ্যাকার চক্র হ্যাক করে। এরপর থেকে ওই আইডি স্বজল ব্যবহার করছেন না। কিন্তু গত ২৮ জুন আমতলী নিউজ নামের একটি পেইজে হ্যাকার চক্র ওই আইডি ব্যবহার করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলমের নামে কটূক্তি করা হয়। ওই হ্যাকার চক্র সজলকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানি করতেই এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে। তবে বর্তমানে ওই আইডি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

মো: সজল বলেন, ‘হ্যাকার চক্র গত দেড় বছর আগে আমার (Ls Atik Hasan Sajol) আইডি হ্যাক করে নিয়ে যায়। ওই থেকে আমি ওই আইডি ব্যবহার করছি না। কিন্তু গত ২৮ জুন ওই আইডি ব্যবহার করে আমতলী নিউজ নামের একটি পেইজে আমার ছবি ব্যবহার করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলমের নামে কটূক্তি করেছে। আমি এর সম্পর্কে কিছুই জানি না। যারা আমার হ্যাক হওয়া আইডি ব্যবহার করে কটূক্তি করেছে আমি তাদের শাস্তি দাবি করছি।’

আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, ‘অভিযোগ পেলে অনুসন্ধান করে হ্যাকারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, ‘সজলকে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি ওই আইডি ব্যবহার করছেন না। তাহলে যারা আইডি হ্যাক করে কটূক্তি করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’




বরগুনায় জোয়ারের পানিতে ভেসে এলো মৃত ‘তিমি

বরিশাল অফিস ::  উপকূলীয় জেলা বরগুনার সংরক্ষিত বনে জোয়ারের পানিতে ভেসে এসেছে বিশালাকৃতির একটি মৃত ‘তিমি’। সোমবার (১ জুলাই) বিকেলে সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের ছোনবুনিয়া চরে মৃত তিমিটি দেখতে পায় স্থানীয় লোকজন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, জোয়ারের পানি নেমে গেলে সংরক্ষিত বনের চর থেকে মৃত তিমিটি দৃশ্যমান হয়। তিমির মুখের দিকের অংশ পচে গন্ধ ছড়াচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে কোনো কারণে মৃত্যুর পর সাগরে ভাসতে ভাসতে এটি উপকূলীয় জেলা বরগুনায় চলে এসেছে। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, বন বিভাগ, প্রাণী সম্পদ ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আসছেন। এদিকে সংরক্ষিত চরে বিশাল তিমি ভেসে আসার খবরে দেখতে ভিড় করছে সাধারণ লোকজন।

আমতলী-তালতলী ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ ও টেংরাগিরি সুরক্ষা কমিটির সমন্বায়ক আরিফুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, মৃত তিমি মাছটি দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে করে আশপাশের এলাকা দূষিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মাছটির হাড় সংরক্ষণ করে মাংস মাটিতে পুঁতে ফেলা সম্ভব।

বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শামীম মিঞা বলেন, পায়রা নদীর তীরবর্তী ছোনবুনিয়ার চড়ে অর্ধ গলিত তিমি মাছের দেহ ভেসে এসেছে। কোন কারণে এটি মারা গেছে এবং বিস্তারিত তথ্যের জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে মৃত তিমিটি পচে দুর্গন্ধ ছড়াতে পারে। তাই এটিকে গর্ত করে মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে।




আগৈলঝাড়ার চেঙ্গুটিয়া খালের সেতুতে ফাটল, ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার

বরিশাল অফিস :; বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার চেঙ্গুটিয়া খালের ওপর গার্ডার সেতুতে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

এমনকি সেতুর নিচের মূল কাঠামোর একটি ভিম বাঁকা হওয়ায় সেতুটি হেলে পড়েছে। যে কোনো সময় ওই সেতু ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

উপজেলা এলজিইডি বিভাগকে বিষয় জানানোর পরেও তারা এখনও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের চেঙ্গুটিয়া বাজার থেকে কাজির গ্রামে যাওয়ার জন্য খালের ওপর এক যুগের বেশি সময় আগে এলজিইডি বিভাগ থেকে একটি গার্ডার সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। ওই সেতু নির্মাণের সময় সঠিকভাবে উপজেলা এলজিইডি বিভাগ থেকে তদারকি না করার কারণে কাজের মান নিম্নমানের হয়েছিল। এ কারণে সেতু নির্মাণের সাত বছর পরেই সেতুর বিভিন্ন স্থানে গর্ত ও ফাটল দেখা দেয়। ওই গর্ত ও ফাটলের স্থান একাধিকবার সংস্কার করার কয়েকদিন পর আবার ওই স্থানে গর্ত হয়ে যায়। এমনকি বর্তমানে সেতুর নিচের মূল কাঠামোর একটি ভিম বাঁকা হয়ে সেতুটি হেলে পড়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ ওই সেতু দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষার্থীসহ শতশত মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এ বিষয়টি উপজেলা এলজিইডি বিভাগকে একাধিকবার জানানোর পরেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

ওই সেতু দিয়ে চলাচলকারী সুমন সরদার নামে এক পথচারী বলেন, এ ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে আমাদের প্রতিদিন সমস্যায় পড়তে হয়। রাতে চলাচল করতে গিয়ে গর্তে পড়ে অনেকেই দুঘর্টনার শিকার হচ্ছেন। চলাচলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের।

এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি বিভাগের প্রকৌশলী রবীন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বাংলানিউজকে বলেন, সেতুটির ব্যাপারে আমাদের জানা নেই। এখন আমরা জানলাম। লোক পাঠিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




শ্রেণিকক্ষ থেকে শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

বরিশাল অফিস :: ঝালকাঠি সরকারি হরচন্দ্র বালিকা বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষ থেকে আফিয়া আক্তার (১৪) নামে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর গলায় ফাঁস দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১ জুলাই) বেলা ১টার দিকে বিদ্যালয়ের এক কক্ষ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মহিতুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন।

নিহত ওই শিক্ষার্থী ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাভারামচন্দ্রপুর গ্রামের শিক্ষক আমির হোসেনের মেয়ে ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিতুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়ের একটি কক্ষ থেকে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ওই শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার কারণ জানা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে




বরগুনায় স্বামীর পুরুষাঙ্গ কর্তন, স্ত্রী আটক

বরিশাল অফিস ::  বরগুনার আমতলীতে দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামী জাহিদুল ঘরামীর (২৮) পুরুষাঙ্গ কর্তন করার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্ত্রী নাসরিন বেগমকে (২০) আটক করেছে পুলিশ।

স্বজনরা আহতকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে। রোববার (৩০ জুন) দিবাগত গভীর রাতে আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের উত্তর ডালাচারা গ্রামে ঘটনা ঘটে । এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের উত্তর ডালাচারা গ্রামের আবুল কালাম আজাদ (কালাই) ঘরামীর ছেলে জাহিদুল ঘরামীর সঙ্গে পটুয়াখালীর গেরাখালী গ্রামের মজিবর মাদবরের মেয়ে নাসরিন বেগমের বিয়ে হয়। তাদের একটি ৭ মাসের ছেলে সন্তান রয়েছে।

বিয়ের পর থেকে জাহিদুল এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সর্ম্পক গড়ে তোলে। গত জানুয়ারি মাসে গোপনে ওই নারীকে তিনি বিয়ে করেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। স্বামী জাহিদুল প্রথম স্ত্রীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে মেনে নিতে চাপ দেয়। এতে রাজি না হয়নি নাসরিন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্বামী জাহিদুল স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন।

রোববার গভীর রাতে নাসরিন বেগম ধারাল দা দিয়ে পুরুষাঙ্গ কর্তন করেন। এ সময় জাহিদুলের চিৎকারে স্বজনরা ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পায়। পরে তারা জাহিদুলকে বরিশাল সেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

খবর পেয়ে আমতলী থানা পুলিশ রাতেই স্ত্রী নাসরিনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করেছে।

জাহিদুলের বাবা আবুল কালাম আজাদ (কালাই) ঘরামী বলেন, আমার ছেলের এই করুণ পরিণতির জন্য ছেলের বউ নাসরিন দায়ী। আমি এ ঘটনায় শাস্তি দাবি করছি।

স্ত্রী নাসরিন বেগমের অভিযোগ, আমার স্বামীর গত ৬ মাস আগে গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। ওই দ্বিতীয় স্ত্রীকে মেনে নিতে আমাকে চাপ প্রয়োগ করছিল। আমি মেনে না নেওয়ায় আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাচন করেছে।

আমতলী থানার ওসি কাজী সাখওয়াত হোসেন তপু বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে স্ত্রী নাসরিনকে রাতেই আটক করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।




বরিশালে ঘাট দখল নিয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া

বরিশাল অফিস :: বরিশালে সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ ও বর্তমান মেয়র খোকন সেরনিয়াবাত অনুসারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আজ সোমবার (১ জুলাই) বেলা ১টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত একতলা লঞ্চঘাট ও বালুর ঘাট দখল নিয়ে এই ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এই ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় লঞ্চঘাট এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। ঘাট দখল নেয়া ও বাধা দেওয়া প্রশ্নে উভয় পক্ষই ধারালো অস্ত্র লাঠিসোটা ব্যবহার করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে লঞ্চঘাটে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, চলতি বছর বরিশালের একতলা লঞ্চঘাট ও বালুর ঘাটের ইজারা পায় সাবেক মেয়র সাদেক আবদুল্লাহর অনুসারীরা। সাবেক ইজারাদার বর্তমান মেয়র আবুল খায়ের আবদুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতের অনুসারীরা ঘাটের দখল ছাড়তে রাজি না হওয়ায় এই ঘটনা ঘটেছে।

মেসার্স হাসিব এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. হাসিবুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি নিয়ম মাফিক দরপত্র আহ্বান করলে আমি সর্বোচ্চ দরদাতা হয়েছি। তবে ঘাটের দখল ছাড়ছে না বর্তমান মেয়রের অনুসারীরা।

মো. হাসিবুল ইসলাম বিআইডব্লিউটিএর বরিশাল পোর্ট অফিসার আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, ‘আব্দুর রাজ্জাকের সহযোগিতায় মাসিক ১০ হাজার টাকা সরকারি ফান্ডে দিয়ে অবৈধভাবে কোটেশন করে ঘাট চালাচ্ছেন বর্তমান মেয়র আবুল খায়ের আবদুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতের অনুসারী অরুণ হাওলাদার ও খান হাবিব। আমি বৈধ ইজারাদার হয়েও ঘাটে যেতে পারছি না। বিষয়টি আমি প্রশাসনের সব মহলে জানালেও কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না তারা। এমনকি পোর্ট অফিসার আব্দুর রাজ্জাক আমাদের ঘাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও বর্তমান মেয়র আবুল খায়ের আবদুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতের অনুসারীরা আমাকে অবরুদ্ধ করে রাখে।’

বর্তমান মেয়রের অনুসারী মির্জা আবুয়াল হোসেন অরুণ বলেন, ‘ঘাটের ইজারা আমাদের প্রতিপক্ষ পেয়েছে ঠিক। তবে আমরা হাইকোর্টে রিট করেছি।’

অরুণ আরও বলেন, ‘আমরা তাদের সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছি। তবে সমঝোতা বৈঠকে আসেনি তারা।’ এ বিষয়ে নৌবন্দরের পোর্ট অফিসার আব্দুর রাজ্জাক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম আরিচুল হক বলেন, লঞ্চঘাটে দখল নিয়ে দুই পক্ষের উত্তেজনার খবর পেয়ে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও জানান তিনি।