বরিশালে দেবী দুর্গাকে বরণে প্রস্তুত, ৬৪০ মণ্ডপে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

বরিশালে প্রতিমা শিল্পীরা দেবী দুর্গাকে বরণে প্রস্তুত করতে শেষ মুহূর্তের কাজ শেষ করছেন। প্রতিমাকে রংতুলিতে সাজানো এবং আলোকসজ্জা, সাজসজ্জার কাজ প্রায় সম্পন্ন।
বরিশাল নগরীর নতুন বাজার শ্রীশ্রী শংকর মঠ পূজামণ্ডপে প্রতি বছরের মতো এবারও বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিমা তৈরি থেকে শুরু করে মণ্ডপের ভেতর-বাইরের সাজসজ্জা—সবক্ষেত্রেই নতুনত্ব আনার চেষ্টা করছেন আয়োজকরা। মণ্ডপ চত্বরের পুকুরজুড়ে দৃষ্টিনন্দন সাজসজ্জা চলছে।
শুধু শংকর মঠ নয়, বরিশাল মহানগরী ও জেলার মোট ৬৪০টি মণ্ডপে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। রোববার মহালয়ার দিনে বেশিরভাগ মণ্ডপে প্রতিমার সাজসজ্জা ও রঙের কাজ শেষ হয়েছে। আজকের মধ্যে বাকি কাজও সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন মৃৎশিল্পীরা।
আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বোধন পূজা দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ২৮ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠী, ২৯ সেপ্টেম্বর সপ্তমী, ৩০ সেপ্টেম্বর মহাষ্টমী, ১ অক্টোবর নবমী এবং ২ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাবেন।
শংকর মঠ পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি লিমন সাহা কানু জানিয়েছেন, প্রতি বছরের মতো এবারও জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন হচ্ছে। অষ্টমীর দিনে দেশের শান্তিকামনায় বিশেষ প্রার্থনা ও অঞ্জলি প্রদান করা হবে। এদিন ২৫ থেকে ৩০ হাজার ভক্তের মাঝে প্রসাদ বিতরণের প্রস্তুতিও চলছে।
বরিশাল মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ভানু লাল দে বলেন, এবারের আয়োজন গত বছরের চেয়েও জমকালো হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। কমিটির পক্ষ থেকেও ৫টি পর্যবেক্ষক টিম গঠন করা হয়েছে।
বরিশাল মহানগরীতে এবারের দুর্গোৎসবে ৪৭টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ৪০টি সার্বজনীন ও ৭টি পারিবারিক। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও মণ্ডপ সংখ্যা:
- সদর: ২২টি
- আগৈলঝাড়া: ১৬১টি
- উজিরপুর: ১২০টি
- গৌরনদী: ৮৪টি
- বাকেরগঞ্জ: ৭৪টি
- বানারীপাড়া: ৫৯টি
- মেহেন্দিগঞ্জ: ২৪টি
- বাবুগঞ্জ: ২৪টি
- মুলাদী: ১২টি
- হিজলা: ১৫টি
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মানিক মুখার্জি জানিয়েছেন, গ্রাম পর্যায়ের মণ্ডপগুলোতেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর দাবি রয়েছে। এবারের দুর্গোৎসব সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে উদযাপিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
নির্বিঘ্ন উৎসবের জন্য প্রশাসন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। নগরীর প্রবেশদ্বার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং গোয়েন্দা পুলিশের ৭টি বিশেষ টিম টহল দেবে। ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, র্যাব ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। মণ্ডপ কমিটিগুলোও স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করবে। পূজা ও বিসর্জন ঘিরে শৃঙ্খলা রক্ষায় কড়াকড়ি থাকবে এবং মদ্যপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫








