গলাচিপায় ফ্যান ছিঁড়ে শিক্ষার্থী গুরুতর আহত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর গলাচিপায় বুধবার মাথায় শ্রেণিকক্ষের সিলিং ফ্যান ছিঁড়ে পড়ে প্রিয়াংকা পাল নামে এক ছাত্রী গুরুতর আহত হয়েছে। তাৎক্ষণিক ওই ছাত্রীকে গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এতে তার মাথায় ৫/৬টি সেলাই দেওয়া হয়েছে বলে হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, প্রিয়াংকা গলাচিপা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। ঘটনার সময় বিদ্যালয়ের একটি জরাজীর্ণ কক্ষে ১৮ জন ছাত্রী পরীক্ষা দিচ্ছিল। এ সময় ফ্যান ছিঁড়ে নিচে পড়ে। তখন প্রিয়াংকার পাশে থাকা এক শিক্ষার্থী তাকে ধাক্কা দেয়। তাই সরাসরি মাথার ওপর না পড়ে কানের কাছে ফ্যানের পাখা লাগলে প্রিয়াংকা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। দুই বছর আগেও একই ভবনে আরেক ছাত্রী এভাবে আহত হয়েছিল বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান।

আরো পড়ুন : রাঙ্গাবালীতে গৃহবধূকে মারধর করায় আদালতে মামলা

ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আলমগীর হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, গলাচিপা হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে প্রিয়াংকাকে বাসায় নেওয়া হয়েছে। সব চিকিৎসা খরচ স্কুল কর্তৃপক্ষ বহন করেছে।




নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত




সন্ধ্যার মধ্যে যেসব অঞ্চলে ঝড় বয়ে যেতে পারে




বাউবির শুক্রবারের পরীক্ষা স্থগিত




টিভিতে আজ খেলা




যুক্তরাজ্যে নির্বাচন আজ, ভরাডুবির শঙ্কায় সুনাকের দল




রাঙ্গাবালীতে গৃহবধূকে মারধর করায় আদালতে মামলা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে গৃহবধূকে মারধর করায় গলাচিপা বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে নির্যাতিত গৃহবধূ আনিকা বেগম (২০)। যার সিআর মামলা নং- ৪৭৮/২০২৪।

আনিকা বেগম হচ্ছেন উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড মনিপাড়া গ্রামের মো. রবিউলের স্ত্রী। আসামীরা হলেন মো. রবিউল (২৩), মোসা. হাওয়া বেগম (৪৫), মো. শামিম পালোয়ান (৩০) এবং মো. ছিদ্দিক গাজী (৫০)।

মামলা সূত্রে ও আনিকা বেগম জানান, মো. রবিউল ও তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন প্রায় সময়ই তার কাছে যৌতুক দাবী করে এবং মারধর করে। আমার বাবার কাছ থেকে যৌতুক এনে না দিলে আমাকে আমার স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন মিলে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে।

আরো পড়ুন : কুয়াকাটা রেলপথ তৈরিতে চীনের বিনিয়োগ চায় সরকার

গত ২১ জুন শুক্রবার সকাল ১০ টার দিকে আমার স্বামী পুনরায় আমার বাবার কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা যৌতুক এনে দিতে বলে। আমার বাবা একজন কৃষক এবং গরিব মানুষ হওয়ায় টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করায় আমার স্বামী আমার শ্বশুর, শাশুড়ী আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে আমার স্বামীকে নিয়ে আমাকে মেরে ঘর থেকে বের করে দেয়। আমি বাধ্য হয়ে আমার পিতার বাড়িতে চলে আসি।

আমার স্বামী প্রায় সময়ই নেশা করে ঘরে আসে এবং মোবাইলে পরকিয়া করে। এ বিষয়ে আমি আমার শ্বশুর, শাশুড়ীর কাছে বললে তারা আমার কথায় কোন কর্ণপাত করে না। এ বিষয়ে আনিকা বেগম ০১/০৭/২০২৪ ইং তারিখে আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনের ০৩ ধারায় মামলা করলে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে মো. রবিউলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেন। আসামী মো. রবিউল স্বেচ্ছায় আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত ৭ দিনের অন্তবর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন।




কুয়াকাটা রেলপথ তৈরিতে চীনের বিনিয়োগ চায় সরকার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পর্যন্ত রেলপথ এবং ঢাকার গাবতলী থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত মেট্রো রেল চলাচলে ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন-২ নির্মাণ করতে চায় বাংলাদেশ। এর জন্য প্রয়োজন প্রায় এক লাখ দুই হাজার ৬৩৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৭৭ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ হিসেবে পেতে চায় সরকার।

দুটি প্রকল্পে চীনের কাছ থেকে বিনিয়োগের প্রত্যাশা করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৮ থেকে ১১ জুলাইয়ের মধ্যে চীন সফরে যেতে পারেন। ওই সফরে বেশ কিছু যুগান্তকারী বাণিজ্যিক চুক্তি হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরে এমআরটি লাইন-২ ছাড়াও ফরিদপুর-বরিশাল এবং বরিশাল-কুয়াকাটা চারলেন সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের জন্য চীনা অর্থায়ন চাওয়া হতে পারে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণ থেকে প্রায় ৩০ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা বা ২.৫৭৯ বিলিয়ন ডলার (প্রতি ডলার ১১৭ টাকা হিসাবে) জোগানের প্রস্তাব রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরে ৩০-৩৫টি ছোট আকারের সেতু এবং দুর্যোগকালীন অবকাঠামো নির্মাণের জন্য অর্থায়নের ঘোষণা দিতে পারে চীন। পাশাপাশি চীনের সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়েও একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। এছাড়া উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়া সংক্রান্ত বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের সঙ্গে একটি সমঝোতাও সই হওয়ার কথা রয়েছে।

বিনিয়োগ নিয়ে চীনা মন্ত্রীর আগ্রহ
গত সোমবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ জিয়ানশাও। সাক্ষাতের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে দুই দেশের মধ্যে কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষর ও সমঝোতা স্মারক সই হবে বলে আশা করছি, যা দুই দেশের সম্পর্কের মাইলফলক হতে পারে। আর প্রধানমন্ত্রী ৮ থেকে ১১ জুলাইয়ের মধ্যে চীন সফর করবেন বলে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এই সফরের আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি সমন্বয় সভা হবে। এই সভায় ঠিক করা হবে কোন কোন এজেন্ডা নিয়ে চীন সফরে আলোচনা ও ঋণচুক্তি হবে।

হাছান মাহমুদ বলেন, চীনের বিনিয়োগ যেন আরও আসে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। চীনা মন্ত্রী এ দেশে আরও বিনিয়োগের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

ভাঙ্গা-বরিশাল-কুয়াকাটা রেলপথ ফরিদপুরের ভাঙ্গা রেলওয়ে জংশন থেকে বরিশাল হয়ে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পর্যন্ত ৩৬৯ দশমিক ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ সিঙ্গেল লাইন রেলপথ নির্মাণ করা হবে। এ রেলপথ নির্মাণে প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪১ হাজার ৭৯৮ কোটি টাকা। যার মধ্যে বৈদেশিক ঋণ প্রায় ৩২ হাজার ১৯৯ কোটি ৯৪ লাখ, বাকি টাকা দেশীয় অর্থায়নে প্রভিশন রাখা হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ খাতে সরকারি অর্থ ব্যয় করা হবে।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ৮ বছরের শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকার ও মারধরের অভিযোগ

‘ভাঙ্গা জংশন (ফরিদপুর) থেকে বরিশাল হয়ে পায়রা বন্দর ও কুয়াকাটা পর্যন্ত ব্রডগেজ (বিজি) রেললাইন নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রেলপথ নির্মাণের জন্য সমীক্ষা খাতে ৪৯ কোটি টাকা সরকারি অর্থ ব্যয় হয়েছে। রেলপথ নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হয়েছে ২০২২ সালের জুনে। এরপর থেকেই বৈদেশিক ঋণের সন্ধান করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। কিন্তু বৈদেশিক ঋণের উৎস এখনো খুঁজে পায়নি ইআরডি। ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এক ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। চীনা অর্থায়ন পাওয়ার জন্য বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলমান। চীনা ঋণ পেতে রেলপথ মন্ত্রণালয় ইআরডিকে আবারও অনুরোধ করবে বলে জানা গেছে।

প্রকল্পের মূল কাজ রেললাইনের মোট দৈর্ঘ্য বা রুট লাইন হবে ২১৪ দশমিক ৯১ কিলোমিটার, এর মধ্যে মেইন লাইন ১৯০ দশমিক ১১ কিলোমিটার ও ব্র্যাঞ্চ লাইন ২৪ দশমিক ৮০ কিলোমিটার। তবে ট্র্যাকের মোট দৈর্ঘ্য হবে ৩৬৯ দশমিক ৪০ কিলোমিটার। এর মধ্যে মেইন লাইন ২১৪ দশমিক ৯১ কিলোমিটার ও লুপ লাইন ১৫৪ দশমিক ৪৯ কিলোমিটার। রেলপথে এমব্যাংকমেন্টের দৈর্ঘ্য হবে ১৬৮ দশমিক ৮৮ কিলোমিটার। ৪৪০টি বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা হবে, এর মোট দৈর্ঘ্য হবে ৪ দশমিক ৪৩ কিলোমিটার।

১০টি মেজর ব্রিজ নির্মাণ করা হবে, এর মোট দৈর্ঘ্য হবে ৪ দশমিক ৮৬ কিলোমিটার। মেজর সেতুগুলোর উভয় প্রান্তে ৩৬ দশমিক ৭৪ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ নির্মাণ করা হবে। কুমার, কালিগঙ্গা, শিকারপুর, আমতলী, কীর্তনখোলা, পায়রা, পটুয়াখালী, আন্ধারমানিক, টিয়াখালী, খাপরা ভাঙা নদীর ওপর দিয়ে উড়াল রেলপথ নির্মিত হবে।

পুরো রেলপথে থাকবে ১৯টি নান্দনিক স্টেশন
পুরো রেললাইনে ১৯টি নান্দনিক স্টেশন ভবন নির্মাণ করা হবে। স্থানগুলো হলো- ভাঙ্গা জংশন, বরইতলা, টেকেরহাট, মাদারীপুর, কালকিনি, গৌরনদী, উজিরপুর, বরিশাল এয়ারপোর্ট, বরিশাল, দপদপিয়া, বাকেরগঞ্জ, বদরপুর, পটুয়াখালী, কাকুয়া, আমতলী, পায়রা পোর্ট, পায়রা পোর্ট ইয়ার্ড, লেমুপাড়া ও কুয়াকাটা।

বাংলাদেশ রেলওয়ে জানায়, প্রকল্পের বাস্তবায়ন মেয়াদ ধরা হয়েছে সাত বছর। এর মধ্যে দেড় বছর ধরে টেন্ডারিং, ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন কাজ করা হবে। সাড়ে চার বছর ধরে প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) শেখ সাকিল উদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ভাঙ্গা থেকে বরিশাল ও কুয়াকাটা পর্যন্ত দীর্ঘ একটি রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) তৈরি করেছি। বিশাল রেলপথটি নির্মাণের জন্য আমরা এখনো কোনো উন্নয়ন সহযোগী খুঁজে পাইনি। সামনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর রয়েছে। আমরা এই প্রকল্পে যাতে চীনের বিনিয়োগ পেতে পারি সেই জন্য ইআরডিকে অনুরোধ জানাবো।




পটুয়াখালীতে ৮ বছরের শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকার ও মারধরের অভিযোগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে এক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জড়িত জেলা শহরের দারুল কুরআন মাদ্রাসার শিক্ষক মাহাদুল হাসানকে অভিযুক্ত করে পটুয়াখালী নারী ও শিশু দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন শিশুর পিতা।

এছাড়াও মামলায় প্রতিষ্ঠানপ্রধান আহমদ কবিরকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে এসব ঘটনায় মুখ না খুলতে ভুক্তভোগীর পরিবারকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন একটি মহল।

এমন অভিযোগে বুধবার বেলা ১১টায় পটুয়াখালী প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন ভিকটিমের বাবা।

আরো পড়ুন : কলাপাড়ায় কৃষকের জালে ধরা পড়ল ভয়ংকর রাসেলস ভাইপার

সংবাদ সম্মেলনে শিশুটির বাবা বলেন, গত ৯ জুন দারুল কুরআন মাদ্রাসার শিক্ষক মাহাদুল হাসান তার ছেলেকে প্রতিষ্ঠানের তৃতীয়তলায় একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌন নিপীড়নের জন্য জবরদস্তি করেন। এ সময় শিশুটি আপত্তি করলে শিক্ষক মাহাদুল হাসান শিশুকে মারধর করেন। পরে বিষয়টি প্রধান শিক্ষক আহম্মদ কবিরকে জানালে তিনি বিষয়টি গোপন রাখতে হুমকি-ধমকি দিয়ে ভিকটিমকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে পরিবার ভিকটিমকে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করান এবং ১ জুলাই দুই শিক্ষককে অভিযুক্ত করে আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেন।

এ প্রসঙ্গে সদর থানার ওসি মো. জসীম বলেন, আদালতের নির্দেশনা পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




বরগুনায় ভেসে আসা সেই তিমিটি মাটিচাপা দিয়েছে বনবিভাগ

বরিশাল অফিস ::  বরগুনার পায়রা নদীর তীরে ভেসে আসা মাথাবিহীন বিশাল আকৃতির তিমিটিকে মাটিচাপা দিয়েছে বনবিভাগ। মঙ্গলবার (২ জুলাই) সন্ধ্যার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের পায়রা নদীর তীরে ছোনবুনিয়া নামাক এলাকার সংরক্ষিত বনের মধ্যে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে।

তবে তিমিসহ বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক বড় মাছের মৃত্যুর কারণ হিসেবে পরিবেশ বিপর্যয়কেই দুষছেন বরগুনার বিভিন্ন সংগঠনের পরিবেশবাদীরা।

এর আগে সোমবার (২ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের ওই সংরক্ষিত বনে ভেসে আসা ২৫ ফুট দীর্ঘ তিমিটি দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দা।

এর আগে সরেজমিনে ছোনবুনিয়ার সংরক্ষিত বন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভেসে আসা তিমিটি বনের মধ্যে গাছের ফাঁকে আটকে আছে। অবস্থা দেখে ধারণা করা যায় দীর্ঘদিন আগেই গভীর সমুদ্রে তিমিটির মৃত্যু হয়েছে। পরে ভাসতে ভাসতে বরগুনার পায়রা নদীর তীরে ছোনবুনিয়া নামক এলাকার সংরক্ষিত বনে প্রবেশ করে গাছের মধ্যে আটকে যায় অর্ধগলিত তিমি মাছটি। একে তো বিশাল আকৃতির এ মাছটির মাথার অংশ নেই অপরদিকে পচে গিয়ে পেট ফেটে ভেতরের বিভিন্ন অংশ বাইরে বের হয়ে আসে। এছাড়া মাছটির পচা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে এলাকাজুড়ে। আর এ কারণেই দ্রুত মাটিচাপা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন বন বিভাগের দায়িত্বরত কর্মকর্তা।

সংরক্ষিত বনে ভেসে আসা তিমি মাছটি দেখতে এসে ছোনবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা তৈয়ব আলী  বলেন, আমার বয়সে এতবড় মাছ আর কোনো সময় দেখিনি। মাছটিকে এখন মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে।

একই এলাকার আরেক বাসিন্দা সবুজ গাজী বলেন, গতকালকে বিকেল ৩টার দিকে বনের মধ্যে তিমি মাছটি দেখতে পাই। তবে মাথা না থাকায় তিমি নাকি অন্য কোনো মাছ তা প্রথমে আমরা বুঝতে পারিনি। পরে বন বিভাগকে জানালে তারা এসে মাছটি বেঁধে রেখে মঙ্গলবার সকালে এসে মাটিচাপা দেওয়ার কাজ শুরু করেন।

বাংলাদেশের বিভিন্ন উপকূলে গত কয়েক বছরে সমুদ্র থেকে ভেসে এসেছে অসংখ্য তিমি ও ডলফিনের মরদেহ। বিশেষ করে সাগর তীরে এসব মৃত মাছের সংখ্যা বেশি দেখা গেলেও এখন বিভিন্ন নদীর তীরেও ভেসে আসার ঘটনা ঘটছে। এ বিষয়ে ওয়াটার কিপার্স বাংলাদেশের বরগুনা জেলা শাখার সমন্বায়ক মুশফিক আরিফ বলেন, বরগুনায় এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো মৃত তিমি ভেসে এসেছে। তালতলীর জয়ালভাঙা ও নলবুনীয়া নামক এলাকায় এর আগে দুটি মৃত তিমি এসেছিল। সম্প্রতি অনেক বেশি তিমির পাশাপাশি ডলফিনসহ অন্য মাছও মরে উপকূলে ভেসে আসতে দেখা যায়। এর কারণ হিসেবে আমরা অনেকটাই ধারণা করি পরিবেশের বিপর্যয়।

বরগুনার আমতলী ও তালতলী উপজেলার ওয়াটার কিপার্স বাংলাদেশ ও টেংরাগিরি সুরক্ষা কমিটির সমন্বয়ক আরিফুর রহমান  বলেন, বরগুনায় যে মাছটি ভেসে এসেছে এটি বড় কোনো জাহাজের সঙ্গে আঘাত লাগার পরে মরে গিয়ে ভেসে নদীর তীরে আসতে পারে। তবে এটি সংরক্ষণ করা গেলে এর হাড়সহ বিভিন্ন অংশই অনেক মূল্যবান।

বরগুনায় ভেসে আসা তিমি মাছটি কোন প্রজাতির এবং কি কারণে মারা যেতে পারে এ বিষয়ে সামুদ্রিক তিমি সহ বিভিন্ন মাছের গবেষণায় কাজ করা ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন সোসাইটি নামের একটি সংগঠনের মেরিন কনজারভেশন টিমের ফিল্ড কোঅর্ডিনেটর জি এম মাসুম বিল্লাহ  বলেন, পচে যাওয়ার কারণে এটি কোন প্রজাতির তিমি তা এখনো বোঝা যায়নি। তবে আমরা ধারণা করি এটি বেলিন প্রজাতির তিমি। আমরা তিমিকে মাছ বললেও সাধারণত তিমি স্তন্যপায়ী প্রাণী। এরা পানির নিচে থেকে নিশ্বাস নিতে পানির উপরে চলে আসে বাচ্চাদেরকেও ঠেলে উপরে উঠিয়ে দেয়, তা নাহলে এরা মারা যাবে। তবে কি কারণে ভেসে আসা তিমিটি মারা গেছে তার সঠিক কারণ জানতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এর ময়নাতদন্ত করতে হবে। আমরা শুধু একটু নমুনা সংগ্রহ করে কোন প্রজাতির তিমি তা জানার চেষ্টা করব।

মাটিচাপা দেওয়ার বিষয়ে দায়িত্বে থাকা বনবিভাগের বাবুগঞ্জ ক্যাম্পের বিট কর্মকর্তা মনির হোসেন বলেন, ভেসে আসা মাছটিকে আমরা তিমি মাছ হিসেবে শনাক্ত করেছি। তবে কি কারণে মাছটির মৃত্যু হয়েছে তা জানতে পারিনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে খবর পেয়ে গতকালকেই আমরা এখানে এসেছি। তবে ওই সময়ে জোয়ারের পানি থাকায় আমরা কিছুই করতে পারিনি। মাছটি পচে দুর্গন্ধ ছাড়ানোর কারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে মাটিচাপা দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।