কলাপাড়ায় সবজিতে আগুন – মাছে নাভিশ্বাস

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কাঁচাবাজারে নাভিশ্বাস ক্রেতাদের। হাতের নাগালে বেগুন, শসা,আলু, পটল, ঢেঁড়শ, মিষ্টি কুমড়া, লাউসহ সব রকম সবজির দাম দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে কাঁচাবাজারের পাশাপাশি মাছ মাংস দুধ ডিমের দামও। এতে নিম্ন আয়ের মানুষের যেন বেঁচে থাকাই দায় হয়ে পড়েছে। অনেকে হাটে এসে কাঁচাবাজার না করেই খালি ব্যাগ হাতে নিয়ে বাড়ি ফেরত চলে যাচ্ছেন। আবার কেউ বাধ্য হয়ে বেশি দামেই বাজার করে নিয়ে যাচ্ছেন বাড়িতে।
তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, নিয়মিত বাজার মনিটরিং না করায় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সবকিছুর দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।
সরজমিন দেখা যায়, কলাপাড়া পৌরসভার কাঁচা বাজারে সবজির দাম শুনতেই নাভিশ্বাস উঠছে ক্রেতাদের। বাজারে করলা ১শ’ টাকা কেজি, ঢেঁড়শ ৯০ টাকা, বেগুন ৯০ টাকা, আলু ৬০ টাকা, ঝিঙে ১শ’ টাকা, পটল ৫০ টাকা, পেঁপে ৫০ টাকা, শসা ১শ’ টাকা, জালি কুমড়া ৭০ টাকা, পিয়াজ ১শ’ টাকা, আদা ২৮০ টাকা, রসুন ২২০ টাকা, কাঁচামরিচ ৩২০ টাকা, কচু ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, পুঁইশাক ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে রুই মাছ ৩শ’ টাকা, পাঙ্গাশ ২২০ টাকা, কাতলা মাছ ৩৫০ টাকা, সিলভারকাপ মাছ ৩শ’ টাকা, টেংরা মাছ ৬শ’ টাকা, চিংড়ী মাছ ৬-৮শ’ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে কলাপাড়া বাজারে। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের মানুষের বেঁচে থাকাই দায় হয়ে পড়েছে।
আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে অতিভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, মৎস্য ও কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষতি
বাজার করতে আসা নিম্নআয়ের মানুষ মো. শাহিদুল ইসলাম জানান, তিনি বাজার করতে এসে তরকারির দাম শুনে হতাশ হয়ে বাজার না করে খালি ব্যাগ নিয়ে বাড়িতে ফেরত যাচ্ছেন। তিনি সারাদিনে কাজ করে পারিশ্রমিক পান মাত্র ৬শ’ টাকা। আর বাজারে এক কেজি বেগুনের দাম ৮০ টাকা, পাঙ্গাশ মাছের দাম ২২০ টাকা।
বাজার করতে আসা মো. বাবুল চৌকিদার বলেন, মাছের বাজারে গিয়ে হাফ কেজি চিংড়ি মাছ কিনেছি ৩৫০ টাকা দিয়ে, এক কেজি আলু কিনেছি ৬০ টাকা দিয়ে। যেভাবে দিন দিন তরি তরকারির দাম বাড়ছে তাতে মানুষের বাজার করে খাওয়া দায় হয়ে পড়েছে।
মো. আলমগীর নামের ব্যবসায়ী জানান, তারা পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে মাল কিনে খুচরা দামে বিক্রি করছেন। তাদের কাছে পাইকারি বাজারে বেগুনের দাম ধরা হচ্ছে ৮০ টাকা আর সেই বেগুন খুচরা বাজারে বিক্রি করছি ৮৫-৯০ টাকা দরে। পাইকারি বাজারে দাম বেশি হওয়ায় তারা বেশি দামে মাল কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।








