২ গাভি দিয়ে শুরু, এখন দিনে শতাধিক লিটার দুধ উৎপাদন করছেন ২২ গরুর মালিক

ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাবখান বাজারের মো. রেজাউল করীম ছোটবেলা থেকে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। শুরু করেছিলেন মাত্র দুটি গাভি থেকে, এখন তার খামারে রয়েছে ২২টি গরু, যেগুলোর মধ্যে ১৫টি গাভি থেকে প্রতিদিন শতাধিক লিটার দুধ উৎপন্ন হয়। প্রতি লিটার দুধ বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। খামারের পরিচর্যার জন্য ৩ জন শ্রমিক নিয়োজিত।
রেজাউল জানান, প্রাথমিকভাবে পরিবার ও শ্রমিকদের সাহায্যে সাতক্ষীরার দুটি গাভি এনে শুরু করেন। পরে আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়ে আরও চারটি গাভি কিনে খামার সম্প্রসারণ করেন। বর্তমানে খামারে ফ্রিজিয়ান ও জার্সি জাতের গাভি ও বাছুর রয়েছে। উৎপাদিত দুধ থেকে মিষ্টিজাত পণ্য তৈরি করে স্থানীয় দোকানে ও বাইরের বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।
গোকষ্ঠ খাদ্য জোগানোর জন্য তিনি ৫.৫ বিঘা জমিতে ঘাস চাষ করেন এবং খড়-কুটো সংরক্ষণ করেন। খামারের পরিচর্যার জন্য ৩ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন, যাদের মাসিক বেতন ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে ১৪ লাখ টাকারও বেশি দামে গরু বিক্রি করেছেন।
রেজাউল জানিয়েছেন, গরুর মল-মূত্র সংগ্রহ করে বায়োগ্যাস প্লান্টে ব্যবহার করছেন এবং প্রতিদিনের জ্বালানি হিসেবে কাজে লাগাচ্ছেন। ১৯৯৮ সালে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা নিজেই করতে পারেন। প্রয়োজন হলে সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে উন্নত চিকিৎসা করান।
সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের চিকিৎসক মিজানুর রহমান বলেন, “রেজাউল করীম খামারিদের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ। আমরা সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছি।”
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফারুক হোসেন বলেন, “দেশে নতুন খামার সৃষ্টি ও উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে আমরা সমর্থন দিচ্ছি। রেজাউল করীম সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন।”
জেলা প্রশাসক আশরাফুর রহমান বলেন, “সুস্থ প্রাণি থাকলে দুধ, মাংস ও ডিমের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ও খামারিদের স্বাবলম্বিতা সম্ভব। সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫









